Bangladesh Buddhist Vihara Of New York

Bangladesh Buddhist Vihara Of New York This is Non Profit Organization. This organization operates on the donations of donors.

In this organization, worship, Meditation, thoughts, moral education of young children are given.

Today became an Novice-Shramenara, Son of  “Supta Chakmas” done Bithashok Chakma into BBVNY by Vishuddha Bangsha Thero o...
07/02/2026

Today became an Novice-Shramenara, Son of “Supta Chakmas” done Bithashok Chakma into BBVNY by Vishuddha Bangsha Thero on 9:30am NY-USA.

আশ্বাস-প্রশ্বাস বায়ুরূপ আনাপান ভাবনার উপকারীতা 🙏শ্রদ্ধেয় ভিক্খু- পঞ্ঞাদীপ🙏আনাপান ভাবনা করলে ৩টি মিথ্যাদৃষ্টি ছিন্ন হয়। ম...
06/20/2026

আশ্বাস-প্রশ্বাস বায়ুরূপ আনাপান ভাবনার উপকারীতা

🙏শ্রদ্ধেয় ভিক্খু- পঞ্ঞাদীপ🙏

আনাপান ভাবনা করলে ৩টি মিথ্যাদৃষ্টি ছিন্ন হয়। মিথ্যাদৃষ্টিকে ছিন্ন করতে গেলে সবল বিদর্শনই যথেষ্ট, সবল বিদর্শন দুঃখ নিরোধ নির্বাণে পৌঁছে দেয়।

দৃষ্টিকে আনাপান ভাবনা কিরুপে ছিন্ন করে? নাকের ডগাকে স্পর্শ করে প্রবেশ করার বায়ুরূপ ব্যয় বা বিলয় হয়। নাকের ডগাকে স্পর্শ করে বাহির হওয়ার বায়ুরূপও ব্যয় হয়। ব্যয় হওয়া প্রতিটি আশ্বাস-প্রশ্বাস বায়ুরূপকে ভাবনা করলে নামরূপ সমষ্টিকে নিত্য ধারনা করা শাশ্বত দৃষ্টি ছিন্ন হয়।

নাকের ডগায় স্পর্শ বাতাসটা- বায়ুরূপ, জানার চিত্তটা- নাম। এগুলোকে কেবল রূপ-নাম বলে জানা।

আশ্বাস-প্রশ্বাস নাকের ডগা বায়ুরূপ, জানার চিত্তটা নাম। কেবল রূপনাম বা নামরূপ (দেহমন) বলে জানলে সে, আমি, তুমি, পুরুষ, স্ত্রী, সত্ত্বা, আত্ম, আত্মা, ব্যক্তি বলে মনে করা ধারনা করে আসার দৃষ্টিভ্রম সক্কাযদিট্ঠি (আমি আমার আমিত্ব দৃষ্টি) ছিন্ন হয়।

আশ্বাস বায়ুরূপ প্রবেশের পর ব্যয় হয়ে গেলে আরেক নতুন প্রশ্বাস বায়ু জায়গা করে নেয় পরে সেটিও ব্যয় হয়ে যায় ক্ষণভঙ্গু বলে জানলে উচ্ছেদদৃষ্টি ছিন্ন হয়।

রূপনাম একেকটি পরপর উৎপন্ন হয়, ব্যয় হয়। একটি ব্যয় হয়ে গেলে নতুন আরেকটি জায়গা করে নিয়ে ধর্মত পর্যায়ক্রমে উদয়ব্যয় হয়ে থাকে। কারণ নামরূপ+বিপাক নামরূপ সমষ্টি উদয়ব্যয় হয়ে থাকে বলে জানার জ্ঞান হলে বিচিকিচ্ছা দূর হয়।

তাই আনাপান ভাবনা অত্যন্ত মহোপকারী। কিরুপে ভাবনা করবো হতাশা না হওয়া। সবসময় নিজের সাথে থাকা আনাপান ভাবনা করে যাওয়া।

দাঁড়ান, উপবেশন, শয়ন ও পায়চারি এ চার ঈর্যাপদেও মাত্রা মতে আনাপান ভাবনা করা যায়। এ ছাড়া সাড়া শরীরে যে সমষ্টি রূপনাম উৎপন্ন হয় সবগুলোকেও ভাবনা করা। নামরূপ যতবার উদয় হয় ততবার জন্মান্তর অবিশ্বাস, কর্ম অবিশ্বাস উচ্ছেদদৃষ্টি ছিন্ন হয়। যতবার ব্যয় বা বিলয়কে জানা হবে ততবার নিত্য ধারনা শাশ্বতদৃষ্টি ছিন্ন হয়।

যখন যেটি উৎপন্ন হয় সেটিকে উৎপন্ন ক্ষণমুহুর্তে জেনে নেওয়া। জানবার মত বিষয় না থাকলে পুনরায় নাকের ডগায় আনাপানকে ভাবনা করা। পূর্বে উৎপন্নটা ভাবনার বিষয়, পরের জানাটা মার্গজ্ঞান। পরেরটাকে যতবার জেনে জেনে থাকবে ততবার পূর্বের নামরূপকে উদয়ব্যয়, অনিত্য, দুঃখ, অনাত্ম লক্ষণ দর্শন করে নেওয়া এতে লক্ষণ দর্শন পরিপক্ক হয় এতে লোকোত্তর প্রজ্ঞা উদয় হলে অনন্তর বিরাগ জ্ঞান উদয়ের মাঝে চার আর্যসত্য জ্ঞান উপলব্ধি হবে। অর্থাৎ...

* এ নামরূপই উদয়-ব্যয় দুঃখ আর্যসত্য। * নামরূপ দুঃখের কারণ এ তৃষ্ণা ক্ষয়প্রাপ্ত বা প্রহাণ আর্যসত্য। * নামরূপ দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য। * মার্গ ব্রহ্মচর্যের আর্য অষ্টাঙ্গিক কাজ পরিসমাপ্ত (কৃত করণীয়)কে বেদতব্বো বিঞ্ঞূহি'তি।

সবার অন্তিম হিত সুখ মঙ্গল হোক।

সর্বজনীন মৈত্রী কীভাবে অনুশীলন ও প্রসারিত করবেন?সুমনপাল ভিক্ষুপ্রতিদিন খুব ভোরে একা ও নীরবে বসে, চোখ বন্ধ করে এই কামনা ক...
06/13/2026

সর্বজনীন মৈত্রী কীভাবে অনুশীলন ও প্রসারিত করবেন?
সুমনপাল ভিক্ষু

প্রতিদিন খুব ভোরে একা ও নীরবে বসে, চোখ বন্ধ করে এই কামনা করুন:
আমি যেন কেবল অসীম মৈত্রী, করুণা ও সদিচ্ছাই ছড়িয়ে দিই এবং তা লাভ করি!
আমি এবং অস্তিত্বের ৩১টি স্তরে বিদ্যমান সকল প্রাণী যেন অসীম মৈত্রী, করুণা ও প্রকৃত সদিচ্ছার প্রকৃত কল্যাণ লাভ করি! কামলোক, রূপলোক ও অরূপলোকে অবস্থানরত আমি এবং সকল প্রাণী যেন এই চমৎকার ও অনন্ত মৈত্রী, করুণা ও সদিচ্ছা গড়ে তুলি ও তা অনুভব করি! সামনে, ডানে, পেছনে, বামে, নিচে ও উপরে—সর্বত্র আমি এবং সকল প্রাণী যেন মহান ও সীমাহীন মৈত্রী, করুণা ও সদিচ্ছা গড়ে তুলি ও তা উপলব্ধি করি! এই শহর, দেশ ও মহাবিশ্বের আমি এবং সকল প্রাণী যেন সর্বদা এই অপরিমেয় মৈত্রী, করুণা ও সৌহার্দ্য সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন ও গভীরভাবে মনোযোগী থাকি! এই শহর, দেশ ও মহাবিশ্বের আমি এবং সকল প্রাণী যেন এই মহৎ ও অনন্ত মৈত্রী, করুণা ও সদিচ্ছার প্রতিটি খুঁটিনাটি ও সূক্ষ্ম দিক অনুধাবন করি! এই শহর, দেশ ও মহাবিশ্বের আমি এবং সকল প্রাণী যেন অফুরন্ত মৈত্রী, করুণা ও সদিচ্ছার অনুশীলনে উৎসাহী প্রচেষ্টা চালাই! এই শহর, দেশ ও মহাবিশ্বের আমি এবং সকল প্রাণী যেন এই অকথনীয় মৈত্রী, করুণা ও সদিচ্ছার মধ্যে পরম আনন্দ ও উল্লাস খুঁজে পাই! এই শহর, দেশ ও মহাবিশ্বের আমি এবং সকল প্রাণী যেন শান্ত, নীরব ও স্থির অনন্ত মৈত্রীর প্রশান্তি গড়ে তুলি! এই শহর, দেশ ও মহাবিশ্বের আমি এবং সকল প্রাণী যেন সীমাহীন মৈত্রীর একাগ্র ও নিবিষ্ট চিত্তাবস্থা লাভ করি! এই শহর, দেশ ও মহাবিশ্বের আমি এবং সকল প্রাণী যেন সীমাহীন মৈত্রীর অবিচল ও প্রশান্ত ভারসাম্যে অবস্থান করি! হ্যাঁ! এটি প্রিন্ট করে নিন এবং প্রতিটি অবস্থায় গভীরভাবে অবস্থান করুন; এতে প্রায় ২৫-৪৫ মিনিট সময় নিন। মন্তব্য: সর্বজনীন মৈত্রী হলো প্রথম অসীম অবস্থা বা 'অপ্পমঞ্ঞা' (Appamaññā); এটি ধীরে ধীরে ঘৃণা, ক্রোধ, বিরক্তি, ক্ষোভ, বিরোধিতা, একগুঁয়েমি, মানসিক অনমনীয়তা এবং এগুলোর সঙ্গে যুক্ত যেকোনো দুঃখবোধকে হ্রাস করে। সর্বজনীন মৈত্রী-ভাবনার মাধ্যমে চিত্তের মুক্তি (মেত্তা-চেতো-বিমুত্তি)—যেকোনো পার্থিব দান বা লাভের মাধ্যমে অর্জিত পুণ্যের চেয়েও ষোল গুণেরও বেশি মূল্যবান... বোধি-অঙ্গসমূহের (সপ্ত বোধিঙ্গ) সঙ্গে এর সংযোগ পরবর্তীতে অরূপ-ধ্যান লাভের পথ প্রশস্ত করে...
আপনি আপনার ইচ্ছামতো আসতে পারেন, তবে যাত্রাপথে আপনাকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে...।

মৈত্রীই সর্বজনীন!

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে কীভাবে একজন প্রকৃত ও সত্যনিষ্ঠ বৌদ্ধ হওয়া যায়?সুমনপাল ভিক্ষু'উপোসথ' (জুন) মাসের পূর...
06/08/2026

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে কীভাবে একজন প্রকৃত ও সত্যনিষ্ঠ বৌদ্ধ হওয়া যায়?
সুমনপাল ভিক্ষু

'উপোসথ' (জুন) মাসের পূর্ণিমা তিথি। শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোকের পুত্র অরহৎ মহিন্দ এই দ্বীপটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তন করেছিলেন। তাই পোয়া তিথিতে সাধারণ ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি ভক্তরা মিহিনতালে এবং দেশের প্রাচীন পবিত্র রাজধানী শহর অনুরাধাপুরে সমবেত হন। কারণ, এখানেই অরহৎ মহিন্দ তৎকালীন শাসক রাজা দেবনাম্পিয় তিস্স এবং তাঁর রাজসভাকে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন। এর মাধ্যমেই এমন এক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল যা শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে আদি থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করে। অরহৎ মহিন্দ সেখানে আগমন করেন এবং রাজার বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা করেন। স্থানটি হলো শ্রীলঙ্কার মিহিনতালে, যেখানে মহিন্দ থেরের গুহাটি অবস্থিত।

থেরবাদ বৌদ্ধধর্মে 'পোসন পোয়া' দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ: একজন অরহৎ ও একজন রাজার সাক্ষাৎ; পোসনের সাংস্কৃতিক দিক; এক নতুন সভ্যতার উন্মেষ; এবং শ্রীলঙ্কায় 'ত্রিরত্ন'-এর (বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘ) প্রবর্তন।

এই ধরণের উপোসথ ব্রত পালনের দিনগুলোতে:
একজন সাধারণ বৌদ্ধ অনুসারী 'ত্রিশরণ' গ্রহণ এবং 'পঞ্চশীল' পালনের জন্য এভাবে প্রস্তুত হন: স্নান ও ক্ষৌরকর্ম সম্পন্ন করে, পরিচ্ছন্ন সাদা বস্ত্র পরিধান করে এবং খালি পায়ে, বুদ্ধমূর্তি-সম্বলিত কোনো পবিত্র স্থানে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসেন। এরপর প্রথমে তিনবার এমনভাবে প্রণাম করেন যাতে পা, হাত, কনুই, হাঁটু ও মাথা মেঝে স্পর্শ করে। তারপর বুকের সামনে দু-হাত জোড় করে উচ্চৈঃস্বরে অথচ শান্ত ও স্থির কণ্ঠে মুখস্থ থাকা এই বাক্যগুলো উচ্চারণ করেন:

যতদিন এই জীবন বিদ্যমান থাকবে:
আমি বুদ্ধের শরণ গ্রহণ করছি। আমি ধর্মের শরণ গ্রহণ করছি। আমি সংঘের শরণ গ্রহণ করছি। আমি দ্বিতীয়বার বুদ্ধের শরণ গ্রহণ করছি। আমি দ্বিতীয়বার ধর্মের শরণ গ্রহণ করছি। আমি দ্বিতীয়বার সংঘের শরণ গ্রহণ করছি। আমি তৃতীয়বার বুদ্ধের শরণ গ্রহণ করছি। আমি তৃতীয়বার ধর্মের শরণ গ্রহণ করছি। আমি আজীবন এই ত্রিরত্নের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি বজায় রাখব! আমি এই পাঁচটি প্রশিক্ষণ-নিয়ম মেনে চলতে ও পালন করতে সম্মত হচ্ছি: আমি সকল প্রকার প্রাণহানি বা হত্যা থেকে বিরত থাকার নিয়মটি গ্রহণ করছি। আমি সকল প্রকার চুরি বা পরস্বহরণ থেকে বিরত থাকার নিয়মটি গ্রহণ করছি। আমি সকল প্রকার যৌন অসদাচরণ বা অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার নিয়মটি গ্রহণ করছি। আমি সকল প্রকার অসততা বা মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার নিয়মটি গ্রহণ করছি। আমি সকল প্রকার মদ্যপান ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার নিয়মটি গ্রহণ করছি। যতদিন আমার জীবন থাকবে, ততদিন আমি এই পাঁচটি নীতি বা শীল দ্বারা সুরক্ষিত থাকব।

মানুষ এই পবিত্র ব্রতগুলোকে নিজের চোখ কিংবা সন্তানের চেয়েও অধিক যত্নসহকারে রক্ষা করে; কারণ কোনো বিশাল সেনাবাহিনীও আপনাকে এবং অন্য সকল প্রাণীকে যতটা না সুরক্ষা দিতে পারে, তার চেয়ে অনেক বেশি সুরক্ষা দেয় এই নীতিগুলো! এই পৃথিবীতে একজন মানুষ যা কিছু প্রদান করতে পারে, তার মধ্যে এগুলিই হলো সর্বোত্তম উপহার! এটিই হলো নির্বাণ—সেই অবিনশ্বর বা মৃত্যুহীন অবস্থার—পথে যাত্রার প্রকৃত সূচনা। এটি শান্তি, মুক্তি ও পরম আনন্দের সেই আর্য বা মহৎ পথ; যার সূচনা হয় নৈতিকতা বা শীল পালনের মাধ্যমে, ধর্ম-অধ্যয়ন বা শিক্ষার দ্বারা যার বিকাশ ঘটে এবং ধ্যান-অনুশীলনের মাধ্যমে যা পূর্ণতা লাভ করে।

নচ্চ-গীত-বাদিত-বিসূক-দস্সন- মালা-গন্ধ-বিলেপন-ধারণ-মন্ডন-বিভূসনটঠান বেরমণী সিকখাপদং সমাদিযামি। লিখেছেন- মুনা বড়ুয়া চৌধুরী...
06/06/2026

নচ্চ-গীত-বাদিত-বিসূক-দস্সন- মালা-গন্ধ-বিলেপন-ধারণ-মন্ডন-বিভূসনটঠান বেরমণী সিকখাপদং সমাদিযামি।

লিখেছেন- মুনা বড়ুয়া চৌধুরী
==================
সপ্তম শীলের ব্যাখ্যাঃ

নচ্চ মানে কি? নাচ।আমি নাচ দেখতে পারবো না।আর নিজে নাচ করতে পারবো না।দেখলে শীল ভঙ্গ হয়ে যাবে।অনেকে উপোসথ শীল নিয়ে টিভিতে নাচ দেখে।

গীত মানে কি?গান।গান শুনতে পারবো না।গান গাইতে ও পারবো না।আমি এখানে নিজে থেকে কিছু বলছি না,আপনারা যেটা শীল গ্রহণ করেছেন এর পালি গুলোকে বাংলায় বলতেছি।

বাদিত মানে কি? বাজনা।নিজে বাজনা করতে পারবো না।বাজনা শুনতে পারবো না।একটা কথা আছে ঐদিকে মাইকে বাজনা শোনা যাচ্ছে আমি এখানে।এখন কি আমি উপোসথ শীল নিয়ে মাইক বন্ধ করে দাও বলতে পারবো?পারবো না।আমি যদি ঐ গানটা ইচ্ছাকৃত ভাবে শুনি তাহলে আমার শীল ভঙ্গ হবে।আমার মনটা সেদিকে না দিয়ে গান শোনার ইচ্ছে না করে আমার মত করে আমি স্মৃতিযুক্ত থাকবো।তাহলে আমার শীল ভঙ্গ হবে না। ঐখানে হাজার গান গাইলেও শীল ভঙ্গ হবে না।

বিসূকদস্সন জিনিসটা কি?এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিসূকদস্সন হচ্ছে যে জিনিস দেখলে চিত্তের মধ্যে কামনা উৎপন্ন হয়।যেমনঃ একটা নারী।একটা পুরুষের ছবি, পুরুষের দিকে মুখটি বা একটা পুরুষ, একটা নারীর দিকে বা একটা নারীর ছবি বা নারীর মুখটির দিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখি তাহলে এটা বিসূকদস্সন হয়।যেমনঃ আপনি যদি আপনার স্বামীর রুমে থাকেন। স্বাভাবিক ভাবে আসতে পারে।যে কারণে সেই রুমে আপনারা সহবাস করেন,পুরুষ হোক স্ত্রী হোক উপোসথ শীলের দিন প্রয়োজনে আলাদা রুমে থাকবেন।কারণ আপনার স্বামী পাশে থাকলে বা আপনার স্ত্রী পাশে থাকলে বা উপরে নীচে থাকলে ও কামনা চিত্ত উৎপন্ন হতে পারে। যেহেতু আপনারা বৈধ স্বামী স্ত্রী। আজকের জন্য আপনার কোন স্বামী নাই,স্ত্রী নাই।আপনারা আজ ব্রহ্মচারী।তাই আজকের জন্য আপনাদের আলাদা রুমে থাকা দরকার।না হলে বিসূকদস্সন শীলে আঘাত আসবে।শীল ভঙ্গ হবে।

মালা কি?এই যে হাতের মধ্যে সবাই উপোসথ শীল নিয়েছেন,কিন্তু অনেকের হাতে চুরি আছে,স্বর্ণের অলংকার আছে।ব্রহ্মচারীরা কোন প্রকার স্বর্ণালংকার ধারণ করতে পারে না।তাহলে মালা মানে, গলার মালা,হাতের মালা।

ঐ যে ভিক্ষুরা হাতের মধ্যে ঘড়ি দিতে পারে না কেন?
ভান্তেরা তো হাতে ঘড়ি দিতে পারতো তাই না।কোন ভিক্ষুর হাতে কি ঘড়ি দেখেছেন?এই ঘড়িটা ও মালার মধ্যে পড়ে বলে ভান্তেরা হাতের মধ্যে ঘড়ি দিতে পারে না। অনেক সময় কোমরের মধ্যে রাখে কিন্তু হাতে েয় না।কারণ এটাও মালার অন্তর্গত। তাহলে বুঝতে হবে যেহেতু ব্রহ্মচার্যের শীলে অষ্টশীলের মধ্যে মালা রয়েছে তার মানে কোন কিছু ঐদিন পরিধান করা যাবে না।

হাতে অনেকে বলে স্বামীর মঙ্গলের জন্য আমরা এটা ধারণ করি।স্বামীর মঙ্গল কি?আপনার কাছে তো আজকে কোন স্বামী নাই।১ দিনের জন্য আপনি স্বামীকে বর্জন করেছেন।স্বামী থেকে অনুমতি নিয়ে অষ্টশীল গ্রহণ করবো।আপনার সাথে আজকে কামভোগ করতে পারবো না।তার মানে আজকে আপনার কাছে স্বামী নাই।আর আপনাদের কাছে কোন স্ত্রী নাই।আজকে আপনারা ২৪ ঘন্টার জন্য স্ত্রীর থেকে বিদায় নিয়েছেন। যেহেতু স্বামী নাই তাহলে স্বামীর মঙ্গলের জন্য আজকে এটা পরিধান করবো না।

বুদ্ধ মঙ্গল সূত্রের মধ্যে ৩৮ প্রকার মঙ্গলের কথা বলেছেন।এই ৩৮ প্রকার মঙ্গলের মধ্যে এটা কি আছে?হাতে চুরি পড়লে স্বামীর মঙ্গল হবে।মঙ্গল সূত্রের মধ্যে এটা কোথাও নাই।হাতের মধ্যে শঙ্খ পড়লে,চুরি পড়লে স্বামীর মঙ্গল হবে।বুদ্ধ একথা কোথাও বলেছেন? বলে নি।তাহলে যেটা বুদ্ধ বলে নি সেটাকে আমরা মিথ্যাদৃষ্টি বা মিথ্যাধারণা বলি।মঙ্গল সূত্রের মধ্যে ৩৮ টা মঙ্গল দেশনা করেছেন দেবমানবের কল্যাণের জন্য। ভান্তের সামনে অধিষ্ঠান করছি,ভান্তে আমি মালা ধারণ করবো না।তাই প্রথমে বলেছি উপোসথ শীল নিয়ে আলোচনা করলে অনেকে রাগ করে। কারণ তাদের সাথে মিলে না বলে।

গন্ধ মানে কি?গন্ধ মানে সুগন্ধি দ্রব্য যেগুলো সেন্ট জাতীয়,আজকে যেহেতু আমি ব্রহ্মচারী সেহেতু আজকে এটা ব্যবহার করতে পারে না। তার মানে আমি আজকে সেন্ট জাতীয় কিছু ব্যবহার করব না।

বিলেপন মানে কি?লেপনী জাতীয় সুগন্ধি। স্নো,পাউডার,এমনকি সুগন্ধি সাবান পর্যন্ত আজকে ব্যবহার নিষিদ্ধ। যেমনঃএকসময় ভিক্ষুরা বুদ্ধের সময়কালে সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করত।তখন চূর্ণ ছিলো।সাবান ছিলো না।চূর্ণ দিয়ে ভিক্ষুরা,দায়কেরা স্নান করতো।এটা ব্যবহার করতো।ভিক্ষুরা ও সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন। যখন বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করলেন, বুদ্ধ বললেন হে ভিক্ষুগণ আজ থেকে তোমরা সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে না।তখন পাত্র দুর্গন্ধ হয়ে যেত।বুদ্ধকে জানালেন।তখন বুদ্ধ বললেন পাত্র ধৌত কাজে সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে।তবে শরীরের মধ্যে সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে না।তাহলে যেখানে বুদ্ধ সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন সেখানে কিছু বলা লাগে না।আজকে আপনারা ব্রহ্মচারী আপনার শীল আর আমার শীলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ব্রহ্মচার্য শীল একেই।শ্রামণের যে,ভিক্ষুদের সেই আপনার অষ্টশীলেও ব্রহ্মচারী। শুধু স্থায়ীত্বের মধ্যে পার্থক্য আছে। আর ভিক্ষুশীলের মধ্যে আর এক্সট্রা কিছু সংযোজন শীল আছে।আপনি বা আমি আমরা তিন নম্বর শীলে সমান।তাহলে এগুলো উপোসথ শীল দিবসে, উপোসথ শীল গ্রহণ করলে এগুলো ব্যবহার করা যায় না।

ধারণ-মন্ডন মানে কি?
যেমন কয়েকদিন আগে কয়েকজন পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করল ভান্তে,আমরা অষ্টশীল গ্রহণ করেছি কিন্তু আজকে আমাদের তো আজকে ডিউটি আছে।ডিউটি করতে হবে।আমাদের তো অস্ত্র নিতে হয়।কিন্তু আমি বলেছি এতে অষ্টশীল হবে না।কারণ কোন ব্রহ্মচার্য এটা নিতে পারে না।অস্ত্রটা তুমি কেনো নিলে,কেনো অস্ত্রটা ধারণ করলে,নিশ্চয়ই এখন যদি শত্রুপক্ষ এসে তোমাকে আক্রমণ করে তাহলে তুমি গুলি করবে।গুলি চালাতে হবে বাধ্যতামূলক।তাহলে এই অস্ত্র ধারণটা কোন ব্রহ্মচারী করতে পারে না।অস্ত্র বলতে শুধু বন্দুক নয়।যে কোন প্রাণী হত্যার জন্য, যেমন জাল,একটা মাছের ছাঁই, একটা তলোয়ার প্রাণীহত্যা বা খুন করার জন্য এ জাতীয় অস্ত্র ব্রহ্মচারীরা খুন করার চেতনায় ধারণ করলে বা প্রাণী হত্যা করার চেতনায় ধারণ করলেও ব্রহ্মচার্য শীলে আঘাত হয়।তাই এদেরকে বলছি যেদিন ডিউটি থাকে না,তোমরা সেদিন অষ্টশীল গ্রহণ করো।তাহলে সেদিন তোমাদের শীল ভঙ্গ হবে না। তাহলে এভাবে আমাদের বিচার করে করে চলতে হবে।এগুলো ধারণ করতে পারবো না।মন্ডন করা মানে মারতে পারবো না।

বিভূসনটঠান মানে কি?ভূসন শব্দের অর্থ পোশাক,গৃহীসুলভ কোন পোশাক ব্রহ্মচারীরা পরিধান করতে পারে না।অষ্টশীল নিলে সাদা পোশাক পড়তে হয়।আজকে আপনারা গৃহী নয়।আজকে আপনারা ব্রহ্মচারী। যেহেতু ব্রহ্মচারী সেহেতু ব্রহ্মচার্যের পোশাক পড়তে হবে।যেমন বুদ্ধের উপাসক উপাসিকা ছিলো তারা সাদা পোশাক পরিধান করে।এখনো বার্মা, থ্যাইল্যন্ড,কম্বোডিয়া, শ্রীলংকা তারা বিহারে গেলে বিহারের জন্য আলাদা পোশাক রাখে।তারা অষ্টশীলের জন্যই তো প্রধান, বিহারের জন্য আলাদা পোশাক রাখে।যে কোন সময় বিহারে যাওয়ার সময় চিন্তা করলে তারা সাদা ড্রেসটা পরিধান করে।

আমরা তীর্থ যাত্রায় বুদ্ধগয়ায় দেখতে পাই তারা বোধিপালন্কে সাদা ড্রেস ছাড়া আসে না।তারা যখন রুমে যায় ড্রেসটা পরিবর্তন করে ধুয়ে শুকোতে দেয়।অষ্টশীল নিলে বা বিহারে তাদের জন্য সাদা পোশাক বাধ্যতামূলক।

এবার আপনি নিজে বুঝার চেষ্টা করুন আপনার শীল কতটুকু বিশুদ্ধ আছে।

প্রজ্ঞান্দ্রিয় ভান্তের দেশনা থেকে সংগ্রহ

অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার অনুশীলন কীভাবে করবেনসুমনপাল ভিক্ষুপ্রতিদিন খুব ভোরে, যখন একা ও নিস্তব্ধ হয়ে বসে থাকবেন—চোখ ...
06/02/2026

অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার অনুশীলন কীভাবে করবেন
সুমনপাল ভিক্ষু

প্রতিদিন খুব ভোরে, যখন একা ও নিস্তব্ধ হয়ে বসে থাকবেন—চোখ বন্ধ করে মনে মনে এই প্রার্থনা করুন: আমি যেন কেবল অফুরন্ত এবং পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসই বিকিরণ করি ও তার সাক্ষাৎ লাভ করি! আমি এবং অস্তিত্বের ৩১টি স্তরে বিদ্যমান সকল প্রকার জীব যেন অন্যের মঙ্গলে উদ্ভূত অফুরন্ত পারস্পরিক আনন্দের মাঝেই একমাত্র প্রকৃত উদযাপন ও পরম উল্লাস খুঁজে পাই এবং তা বিকশিত করতে পারি! আমি এবং কামলোক, রূপলোক ও অরূপলোকের সকল জীব যেন এই উদার, অসীম এবং পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসের বিকাশ ঘটাতে পারি ও তার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারি! আমার সামনে, ডানে, পেছনে, বামে—নিচে এবং উপরে বিদ্যমান সকল জীব যেন এই মুক্তহস্ত, ভাগ করে নেওয়ার মতো এবং পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসের বিকাশ ঘটাতে পারে ও তা অনুভব করতে পারে! এই নগর, দেশ, গ্রহ এবং সমগ্র মহাবিশ্বের অন্তর্গত আমি ও সকল জীব যেন সর্বদা—এই তৃপ্তিদায়ক ও পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাস সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন ও গভীর মনোযোগী থাকতে পারি! এই তৃপ্ত ও পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসের প্রতিটি খুঁটিনাটি ও প্রতিটি দিক যেন আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারি! এই নিবেদিত ও পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসের অনুশীলনে আমরা যেন পূর্ণ উৎসাহের সাথে প্রচেষ্টা নিয়োগ করতে পারি! এই উচ্ছ্বসিত ও পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসের মাঝে আমরা যেন পরম আবেশময় ও হর্ষোৎফুল্ল আনন্দ উপভোগ করতে পারি! এই নিস্তব্ধ ও সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসের প্রশান্তিতে আমরা যেন বাকরুদ্ধ হয়ে যেতে পারি! এই প্রকৃত ও পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসের প্রভাবে আমরা যেন একাগ্রচিত্ত ও একমুখী ধ্যানে নিমগ্ন হতে পারি! এই বিশুদ্ধ ও পারস্পরিক আনন্দদায়ক উল্লাসের মাঝে আমরা যেন এক অবিচল সমচিত্ততা নিয়ে অবস্থান করতে পারি... হ্যাঁ! ঠিক যেন এমনই হয়; কারণ পারস্পরিক আনন্দই হলো 'তৃপ্তি' নামক রত্নটির মূল উৎস!

গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য: 'পারস্পরিক আনন্দ' (Mutual Joy) হলো তৃতীয় অসীম মানসিক অবস্থা বা 'অপ্রমাণ্য' (Appamaññā): এই মানসিক অবস্থাটি ধীরে ধীরে সকল ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, অধিকারবোধজনিত আসক্তি, কৃপণতা, লোভ, কার্পণ্য এবং এই সকল অবস্থার সাথে সম্পর্কিত যাবতীয় দুঃখ-কষ্টকে প্রশমিত করে দেয়। পারস্পরিক আনন্দের মূল কারণ হলো—আপনার নিজের সন্তানের কিংবা কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুর সাফল্যে মন থেকে আনন্দিত হওয়া। পরবর্তীতে, এই একই আনন্দকে আপনি আপনার প্রিয়জন, নিরপেক্ষ ব্যক্তি এবং এমনকি আপনার প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন সকল জীবের দিকেও প্রসারিত বা বিকিরণ করতে পারেন। সুতরাং, পারস্পরিক আনন্দই হলো সকল প্রকার তৃপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ 'সন্তোষ' বা 'তৃপ্তি'-র প্রত্যক্ষ কারণ...,আর এর ঠিক বিপরীতভাবে, পারস্পরিক আনন্দের অভাবই হলো সকল প্রকার অতৃপ্ত ও অসন্তুষ্ট মানসিক অবস্থার প্রত্যক্ষ কারণ...। 'বোধিলাভের সপ্ত অঙ্গ' -এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই পারস্পরিক আনন্দই পরবর্তীতে 'অরূপ ঝান' (formless jhāna) বা অরূপ ধ্যানের স্তরে উপনীত হওয়ার পথ তৈরি করে দেয়..., সকল বিষয়েই আনন্দিত হোন—আর বিশেষ করে অন্য কোনো জীবের সাফল্যে মন খুলে আনন্দ প্রকাশ করুন! দেখবেন, তখন আপনার অন্তরে এক গভীর ও প্রশান্তিময় স্বস্তি জেগে উঠবে!

05/29/2026

Saturday Dhamma School
Bangladesh Buddhist vihara of New York

বুদ্ধগয়ার মহাবোধি বৃক্ষের গুরুত্বজানার জন্য পড়া👇ড. বরসম্বোধি ভিক্ষুআপনারা অনেকেই তথাগত বুদ্ধের জ্ঞানস্থলী মহাতীর্থ বুদ্...
05/24/2026

বুদ্ধগয়ার মহাবোধি বৃক্ষের গুরুত্ব

জানার জন্য পড়া👇

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

আপনারা অনেকেই তথাগত বুদ্ধের জ্ঞানস্থলী মহাতীর্থ বুদ্ধগয়ায় তীর্থ দর্শন করতে গিয়েছেন এবং সেখানে মহাবোধি বৃক্ষ দর্শন, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও পূজাও করেছেন। আজকে মহাবোধি বৃক্ষ সম্বন্ধে এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করব।

আপনারা সকলে VIP (Very important person) শব্দের সাথে পরিচিত আছেন। যার অর্থ হল গুরুত্বপূর্ণ ব‍্যক্তি। বুদ্ধগয়ার মহাবোধি বৃক্ষ হল বিশ্বের অগণিত বৃক্ষ সমূহের মধ‍্যে VIT অর্থাৎ very important tree বা পৃথিবীর সবচেয়ে মহত্বপূর্ণ, শ্রদ্ধেয়, সম্মানিত ও দর্শনীয় বৃক্ষ।

২০২৫ সাল হতে মহাবোধি বৃক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ, স্বাস্থ‍্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন‍্য প্রতিবছর ষোল লক্ষ রূপী খরচ হবে। পূর্বে ইহার রক্ষণাবেক্ষণের জন‍্য ব‍্যয় করা হতো পাঁচ লক্ষ রুপী। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনস্থ Forest Research Institute (FRI) এর সাথে বুদ্ধগয়া টেম্পল মেনেজমেন্ট কমিটির (BTMC) চুক্তি করে মহাবোধি বৃক্ষ তাঁদেরকে দেখাশুনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্বে বন গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞেরা প্রতি তিনমাস পর পর একবার এসে দেখাশুনা ও পরীক্ষা করতেন। এখন বছরের যে কোনো সময় আহ্বান করলে বা প্রয়োজন হলে আসার সমজোতা হয়েছে। বন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই মহাবোধিবৃক্ষের চারিদিকে পাথরের রেলিং বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে, যাতে মহাবোধি বৃক্ষকে সর্ব সাধারণের স্পর্শ হতে দূরে রাখা যায় এবং মহাবোধি বৃক্ষকে দীর্ঘজীবি করা যায়। বিস্তীর্ণ শাখা-প্রশাখা সমূহকে রক্ষা করার জন‍্য সেখানে ১২টি মোটা, ভারী ও উচ্চতা বিশিষ্ট লোহার ঠেস (Suport) দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দৃশ‍্যমান মহাবোধি বৃক্ষটি বৃটিশ পুরাতত্বিদ এবং ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের (ASI) প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সজান্ডার কানিংহাম (১৮১৪-১৮৯৩) কর্তৃক শ্রীলঙ্কার অনুরাধাপুর হতে এনে তিনি ১৮৮০ খৃষ্টাব্দে ইহা পূর্বের স্থানে রোপন করেছিলেন। সম্রাট অসোকের শাসনকালে তাঁরই কন‍্যা রাজকুমারী অরহত সঙ্ঘমিত্রা মহাথেরী মূল বোধিবৃক্ষের একটি শাখা শ্রীলঙ্কা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সে শাখাটি শ্রীলঙ্কার তৎকালীন রাজধানী অনুরাধাপুরে রাজা দেবানমপ্রিয় প্রিয়তিষ‍্যের দ্বারা রোপন করা হয়েছিল। সে বৃক্ষেরই একটি শাখা আবার বুদ্ধগয়ায় মূল স্থানে রোপন করার জন‍্য আলেক্সজান্ডার কানিংহাম এনেছিলেন। কেননা ১৮৭৬ সালে বুদ্ধগয়ার মহাবোধি বৃক্ষের চতুর্থ প্রজন্মের বৃক্ষটি প্রাকৃতিক ঝড়-তুফানে সমূল উপড়ে পড়ে গিয়েছিল। এখন এ মহাবোধি বৃক্ষের সুরক্ষায় বিহার সরকারের পুলিশ এবং সেনাদল চব্বিশ ঘন্টা কর্মরত থাকেন। তিন শতাধিক সেনা ও পুলিশ মহাবোধি মহাবিহার ও মহাবোধি বৃক্ষের সুরক্ষায় দিনরাত্রি পাহারায় রয়েছেন।

হয়তো আপনারা মনে করতে পারেন যে, একটি বৃক্ষের সুরক্ষায় ফি বছর ১৬ লক্ষ রুপী কেনো খরচ করা হচ্ছে এবং তিন শতাধিক সুরক্ষা কর্মী কেনো নিযুক্ত আছেন? কারণ আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, ইহা কোনো মামুলি বা সাধারণ বৃক্ষ নয়। ইহা হল VIT অর্থাৎ very important tree. সরকারী হিসাব মতে গড়ে প্রতিবছর ছয় লক্ষ লোক এ মহাবোধি বৃক্ষকে দেশ-বিদেশ হতে শ্রদ্ধা, সম্মান, পূজা ও দর্শন করতে এসে থাকেন। দেড় লক্ষেরও বেশী লোক বিদেশ হতে এসে থাকেন। অন‍্য কোনো বৃক্ষকে দর্শন করতে এত লোক আসেন কি? বা অন‍্য কোনো বৃক্ষের সুরক্ষায় এত সংখ‍্যক সুরক্ষাকর্মী মোতায়েন থাকেন কি? বা এত বিশাল অঙ্কের অর্থব‍্যয় হয় কি?

মহাবোধি বৃক্ষের দর্শনার্থীদের কাছ হতে মহাবোধি মহাবিহার পরিচালনা কমিটির বার্ষিক আয় হয়েছে ২০১৯-২০ সালে আয়কর বিভাগের রিপোর্ট অনুসারে ৯,২৩,১১,৩৬১ রুপী (নয় কোটি তেইশ লক্ষ এগার হাজার তিনশত একষট্টি রুপী)। ২০১৪ সালের পূর্বে ইহার বার্ষিক আয় একশত কোটিরও উপরে ছিল। তখন দুর্নীতিবাজ কমিটির লোকেরা সরকারকে আয়কর প্রদান না করায় আয়কর বিভাগ নোটিশ দিয়ে বিদেশী অনুদান গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল এবং মহাবিহারকে আশি লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। সেজন্য‍ বিদেশী অনুদান বৈধভাবে নিতে না পারায় আয়ের স্রোত একেবারে কমে গিয়েছিল। সম্প্রতি জরিমানা পরিশোধ করে আবার বিদেশী অনুদান গ্রহণের অনুমতি আনা হয়েছে।

বর্তমান মহাবোধি বৃক্ষটি হল মূল বৃক্ষ হতে পঞ্চম প্রজন্ম। প্রথম বৃক্ষটি ছিল তথাগত বুদ্ধের সময়ের অর্থাৎ খৃষ্টপূর্ব ষষ্ট অব্দের, যার নীচে তথাগত ধ‍্যান করে সম্বোধি লাভ করেছিলেন। ইতিহাসে উল্লিখিত হয়েছে যে, সম্রাট অসোকের অন‍্যতমা মহীষী তিষ‍্যরক্ষিতার প্রয়াসে বিদ্বেষভাবাপন্ন হয়ে মূল বা প্রথম প্রজন্মের বৃক্ষটি কর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু শিকড় হতে উচ্ছেদ করতে পারেননি। পরে মূল হতে অঙ্কুর উদ্গম হয়ে আবার বৃক্ষটি মহীরুহ আকার ধারণ করেছিল। তা ছিল দ্বিতীয় প্রজন্ম। বুদ্ধের সময় হতে সম্রাট অসোক পর্যন্ত ছিল প্রথম প্রজন্মের বৃক্ষটি। এরপর হতে শুঙ্গবংশের শাসক পুষ‍্যমিত্র শুঙ্গ পর্যন্ত ছিল দ্বিতীয় প্রজন্ম। পুষ‍্যমিত্র শুঙ্গ ছিলেন কট্টর ব্রাহ্মণ‍্যবাদী শাসক। পাটলীপুত্র হতে শিয়ালকোট পর্যন্ত বৌদ্ধ বিহার, চৈত‍্য ও বৌদ্ধ স্থাপনা সমূহ আগুনে পুড়ে ধ্বংস করতে এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে গলা কেটে হত‍্যা করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বুদ্ধগয়ার মহাবোধি বৃক্ষও কর্তন করে নষ্ট করতে প্রয়াস করেছেন। সেবারও মাটির নীচে শিকড় থাকায় আবার অঙ্কুরোদ্গম হয়ে বৃক্ষটি শাখা-প্রশাখায় বিস্তার লাভ করেছিল। ইহা ছিল তৃতীয় প্রজন্মের মহাবোধি বৃক্ষ।

অত:পর সপ্তম শতাব্দীর বঙ্গের গৌড় রাজ শশাঙ্ক ছিলেন আরেক ঘোর বৌদ্ধ বিদ্বেষী ব্রাহ্মণ‍্য শাসক। তিনিও অনেক বৌদ্ধ সঙ্ঘারাম ও বৌদ্ধ স্থাপত‍্য আগুনে পুড়েছিলেন এবং বুদ্ধগয়া মহাবোধি বৃক্ষকেও তিনি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও মহাবোধিবৃক্ষ ধ্বংস করতে সম্পূর্ণ সফল হননি। শিকড় হতে পুনরায় বৃক্ষটি গজিয়ে উঠে মহীরুহ আকার ধারণ করেছিল। ইহা ছিল চতুর্থ প্রজন্ম। চতুর্থ প্রজন্মের এ মহাবোধি বৃক্ষটিই দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার পর ১৮৭৬ সালে প্রাকৃতিক ঝড়ের কবলে পড়ে সমূল উপড়ে পড়েছিল। তা আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অবশেষে বুদ্ধগয়া মহাবোধি মহাবিহারকে বৌদ্ধ তীর্থ সনাক্ত করে খোদাই করতে এসে বৃটিশ প্রত্নতত্ববিদ লর্ড আলেকজান্ডার কানিংহাম মহাবোধিবৃক্ষ না দেখে মর্মাহত হন এবং তিনি ১৮৮০ সালে শ্রীলঙ্কা গিয়ে অনুরাধাপুর হতে মহাথেরী সঙ্ঘমিত্রা কর্তৃক প্রদত্ত মহাবোধিবৃক্ষ, যা বুদ্ধগয়ার মূল বৃক্ষ হতে নেওয়া হয়েছিল খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় অব্দে, সে বৃক্ষেরই একটি শাখা এনে আবার পূর্বস্থানে রোপন করেছিলেন। ইহা হল বুদ্ধগয়ায় পঞ্চম মহাবোধিবৃক্ষ, যা এখন দৃশ‍্যমান।

বৌদ্ধ পরম্পরায় মহাবোধিবৃক্ষ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, এ বৃক্ষকে শ্রদ্ধা, গৌরব, পূজা ও দর্শন করার জন‍্য স্বয়ং তথাগত বুদ্ধই তাঁর জীবদ্দশায় নির্দেশ করেছেন। এজন‍্য ঐতিহাসিক প্রাচীন সাঁচী স্তূপ, ভারহুত স্তূপ, অমরাবতী স্তূপ সহ অনেক স্থানের বৌদ্ধ শিল্পকলায় মহাবোধিবৃক্ষের ভব‍্য শিল্পাঙ্কন পুরাতত্ববিদেরা আবিস্কার করেছেন। ১৯৫৬ সালে ভারত সরকার কর্তৃক আড়াই হাজারতম বুদ্ধ জয়ন্তী উদযাপন হতে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকার মহাবোধি বৃক্ষের শিল্পাঙ্কন সম্বলিত ডাক টিকেট প্রকাশ করেছে। বিহার সরকারের রাজ‍্য প্রতীকও রয়েছে মহাবোধিবৃক্ষ। সুতরাং মহাবোধি বৃক্ষ হল যথার্থ অর্থেই ভিআইটি, যা একটি অমূল‍্য সম্পদ।

বৌদ্ধ ধর্মীয় বিভিন্ন কিছু জানতে ফলো দিতে পারেন ধন্যবাদ।

Copy-অনিত্য সংসার

কতঞ্ঞুতা কতবেদীমার দেবপুত্রের ৯ প্রকার অস্ত্র নিক্ষেপঃ ১৮-৫-২০২৬ খ্রিঃভদন্ত পঞ্ঞাদীপ মহাথের # # # # # # # # # # # # # # ...
05/19/2026

কতঞ্ঞুতা কতবেদী

মার দেবপুত্রের ৯ প্রকার অস্ত্র নিক্ষেপঃ ১৮-৫-২০২৬ খ্রিঃ

ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ মহাথের
# # # # # # # # # # # # # # # # # #

মারপুত্র চিন্তা করল এই সিদ্ধার্থ রাজপুত্রকে আমি ৯ প্রকার মহাস্ত্র নিক্ষেপ করে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেব।

(১) প্রথমে সে ভয়ংকর ঝড়-তুফান সৃষ্টি করল। তখন পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ দিকের প্রবল বায়ু উঠে পর্বতচূড়া ভেঙে ফেলতে, বন-জঙ্গল ও বৃক্ষ উপড়ে ফেলতে এবং চারদিকের গ্রামগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বোধিসত্ত্বের পুণ্যশক্তি ও মহাতেজের কারণে সেই ঝড় তাঁর নিকটে এসে এমনকি চীবরের কোণাও নড়াতে পারল না।

(২) তখন মার ভাবল- সিদ্ধার্থ নিশ্চয়ই আমার ঝড়াস্ত্রে ধ্বংস হয়ে গেছে কিন্তু তাকিয়ে দেখে বোধিসত্ত্ব দৃঢ় খুঁটির মতো অচঞ্চল বসে আছেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে সে প্রবল জলপ্রবাহে তাঁকে ডুবিয়ে মারার সংকল্প করল। মুহূর্তে কালো মেঘে আকাশ ঢেকে প্রবল বর্ষণ শুরু হলো। কিন্তু সেই জলধারা বোধিসত্ত্বের কাছে এসে তাঁর চীবরের একফোঁটাও ভেজাতে পারল না; বরং তাঁকে এড়িয়ে দূরে সরে গেল।

(৩) এরপর মার চিন্তা করল - আমি এই সিদ্ধার্থকে পাথর বর্ষণে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেব, তখন আকাশ থেকে বিশাল পাথর বর্ষিত হতে লাগল। কিন্তু বোধিসত্ত্বের কাছে এসে সেই পাথরগুলো দেবলোকের ফুলমালা ও পুষ্পস্তবে পরিণত হলো।

(৪) পরে সে ভাবল- এবার বিভিন্ন অস্ত্রে তাঁকে টুকরো টুকরো করে ফেলব, তখন একধারী ও দ্বিধারী বর্শা, তলোয়ারসহ নানা অস্ত্র বর্ষিত হলো। কিন্তু মহাবোধি বৃক্ষমূল আসনে এসে সেগুলো ফুল প্রভৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে পড়ল।

(৫) এরপর মার আবার তাকিয়ে দেখে বোধিসত্ত্ব বজ্রপাহাড়ের মতো অবিচল বসে আছেন। এতে বিস্মিত হয়ে সে জ্বলন্ত অঙ্গারের বর্ষণ করল। কিন্তু সেই অঙ্গারগুলোও বোধিসত্ত্বের নিকটে এসে ফুলে পরিণত হলো।

(৬) তারপর সে উত্তপ্ত ছাই বর্ষণ করল। কিন্তু সেই ছাই বোধিসত্ত্বের পদতলে এসে দেবতাদের চন্দনগুঁড়োয় পরিণত হলো।

(৭) এরপর উত্তপ্ত বালুর বর্ষণ করা হলো। কিন্তু সেই বালুকণাগুলোও বোধিসত্ত্বের পদতলে দেবপুষ্পে পরিণত হলো।

(৮) তারপর মার উত্তপ্ত কাদামাটির বর্ষণ করল। কিন্তু সেই কাদা বোধিসত্ত্বের পদতলে এসে সুগন্ধি চন্দনলেপে রূপ নিল।

(৯) সবশেষে মার ভাবল- আমি এই সিদ্ধার্থকে ভয়ংকর অন্ধকার দিয়ে আতঙ্কিত করে তাড়িয়ে দেব, তখন সে গভীর অন্ধকার সৃষ্টি করল, যা ছিল অমাবস্যা, মেঘাচ্ছন্ন রাত, মধ্যরাত্রি ও গভীর অরণ্যের অন্ধকারের মতো ভয়ঙ্কর। কিন্তু সেই অন্ধকার বোধিসত্ত্বের নিকটে এসে সূর্যালোকে মিলিয়ে যাওয়া আঁধারের মতো বিলীন হয়ে গেল। সবার কল্যাণ হোক।
#কল্যাণ

Address

102-22 87th Avenue
Richmond Hill, NY
11418

Opening Hours

Saturday 9am - 5pm
Sunday 9am - 5pm

Telephone

+13478764009

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Buddhist Vihara Of New York posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Bangladesh Buddhist Vihara Of New York:

Shortcuts

Share