06/06/2026
নচ্চ-গীত-বাদিত-বিসূক-দস্সন- মালা-গন্ধ-বিলেপন-ধারণ-মন্ডন-বিভূসনটঠান বেরমণী সিকখাপদং সমাদিযামি।
লিখেছেন- মুনা বড়ুয়া চৌধুরী
==================
সপ্তম শীলের ব্যাখ্যাঃ
নচ্চ মানে কি? নাচ।আমি নাচ দেখতে পারবো না।আর নিজে নাচ করতে পারবো না।দেখলে শীল ভঙ্গ হয়ে যাবে।অনেকে উপোসথ শীল নিয়ে টিভিতে নাচ দেখে।
গীত মানে কি?গান।গান শুনতে পারবো না।গান গাইতে ও পারবো না।আমি এখানে নিজে থেকে কিছু বলছি না,আপনারা যেটা শীল গ্রহণ করেছেন এর পালি গুলোকে বাংলায় বলতেছি।
বাদিত মানে কি? বাজনা।নিজে বাজনা করতে পারবো না।বাজনা শুনতে পারবো না।একটা কথা আছে ঐদিকে মাইকে বাজনা শোনা যাচ্ছে আমি এখানে।এখন কি আমি উপোসথ শীল নিয়ে মাইক বন্ধ করে দাও বলতে পারবো?পারবো না।আমি যদি ঐ গানটা ইচ্ছাকৃত ভাবে শুনি তাহলে আমার শীল ভঙ্গ হবে।আমার মনটা সেদিকে না দিয়ে গান শোনার ইচ্ছে না করে আমার মত করে আমি স্মৃতিযুক্ত থাকবো।তাহলে আমার শীল ভঙ্গ হবে না। ঐখানে হাজার গান গাইলেও শীল ভঙ্গ হবে না।
বিসূকদস্সন জিনিসটা কি?এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিসূকদস্সন হচ্ছে যে জিনিস দেখলে চিত্তের মধ্যে কামনা উৎপন্ন হয়।যেমনঃ একটা নারী।একটা পুরুষের ছবি, পুরুষের দিকে মুখটি বা একটা পুরুষ, একটা নারীর দিকে বা একটা নারীর ছবি বা নারীর মুখটির দিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখি তাহলে এটা বিসূকদস্সন হয়।যেমনঃ আপনি যদি আপনার স্বামীর রুমে থাকেন। স্বাভাবিক ভাবে আসতে পারে।যে কারণে সেই রুমে আপনারা সহবাস করেন,পুরুষ হোক স্ত্রী হোক উপোসথ শীলের দিন প্রয়োজনে আলাদা রুমে থাকবেন।কারণ আপনার স্বামী পাশে থাকলে বা আপনার স্ত্রী পাশে থাকলে বা উপরে নীচে থাকলে ও কামনা চিত্ত উৎপন্ন হতে পারে। যেহেতু আপনারা বৈধ স্বামী স্ত্রী। আজকের জন্য আপনার কোন স্বামী নাই,স্ত্রী নাই।আপনারা আজ ব্রহ্মচারী।তাই আজকের জন্য আপনাদের আলাদা রুমে থাকা দরকার।না হলে বিসূকদস্সন শীলে আঘাত আসবে।শীল ভঙ্গ হবে।
মালা কি?এই যে হাতের মধ্যে সবাই উপোসথ শীল নিয়েছেন,কিন্তু অনেকের হাতে চুরি আছে,স্বর্ণের অলংকার আছে।ব্রহ্মচারীরা কোন প্রকার স্বর্ণালংকার ধারণ করতে পারে না।তাহলে মালা মানে, গলার মালা,হাতের মালা।
ঐ যে ভিক্ষুরা হাতের মধ্যে ঘড়ি দিতে পারে না কেন?
ভান্তেরা তো হাতে ঘড়ি দিতে পারতো তাই না।কোন ভিক্ষুর হাতে কি ঘড়ি দেখেছেন?এই ঘড়িটা ও মালার মধ্যে পড়ে বলে ভান্তেরা হাতের মধ্যে ঘড়ি দিতে পারে না। অনেক সময় কোমরের মধ্যে রাখে কিন্তু হাতে েয় না।কারণ এটাও মালার অন্তর্গত। তাহলে বুঝতে হবে যেহেতু ব্রহ্মচার্যের শীলে অষ্টশীলের মধ্যে মালা রয়েছে তার মানে কোন কিছু ঐদিন পরিধান করা যাবে না।
হাতে অনেকে বলে স্বামীর মঙ্গলের জন্য আমরা এটা ধারণ করি।স্বামীর মঙ্গল কি?আপনার কাছে তো আজকে কোন স্বামী নাই।১ দিনের জন্য আপনি স্বামীকে বর্জন করেছেন।স্বামী থেকে অনুমতি নিয়ে অষ্টশীল গ্রহণ করবো।আপনার সাথে আজকে কামভোগ করতে পারবো না।তার মানে আজকে আপনার কাছে স্বামী নাই।আর আপনাদের কাছে কোন স্ত্রী নাই।আজকে আপনারা ২৪ ঘন্টার জন্য স্ত্রীর থেকে বিদায় নিয়েছেন। যেহেতু স্বামী নাই তাহলে স্বামীর মঙ্গলের জন্য আজকে এটা পরিধান করবো না।
বুদ্ধ মঙ্গল সূত্রের মধ্যে ৩৮ প্রকার মঙ্গলের কথা বলেছেন।এই ৩৮ প্রকার মঙ্গলের মধ্যে এটা কি আছে?হাতে চুরি পড়লে স্বামীর মঙ্গল হবে।মঙ্গল সূত্রের মধ্যে এটা কোথাও নাই।হাতের মধ্যে শঙ্খ পড়লে,চুরি পড়লে স্বামীর মঙ্গল হবে।বুদ্ধ একথা কোথাও বলেছেন? বলে নি।তাহলে যেটা বুদ্ধ বলে নি সেটাকে আমরা মিথ্যাদৃষ্টি বা মিথ্যাধারণা বলি।মঙ্গল সূত্রের মধ্যে ৩৮ টা মঙ্গল দেশনা করেছেন দেবমানবের কল্যাণের জন্য। ভান্তের সামনে অধিষ্ঠান করছি,ভান্তে আমি মালা ধারণ করবো না।তাই প্রথমে বলেছি উপোসথ শীল নিয়ে আলোচনা করলে অনেকে রাগ করে। কারণ তাদের সাথে মিলে না বলে।
গন্ধ মানে কি?গন্ধ মানে সুগন্ধি দ্রব্য যেগুলো সেন্ট জাতীয়,আজকে যেহেতু আমি ব্রহ্মচারী সেহেতু আজকে এটা ব্যবহার করতে পারে না। তার মানে আমি আজকে সেন্ট জাতীয় কিছু ব্যবহার করব না।
বিলেপন মানে কি?লেপনী জাতীয় সুগন্ধি। স্নো,পাউডার,এমনকি সুগন্ধি সাবান পর্যন্ত আজকে ব্যবহার নিষিদ্ধ। যেমনঃএকসময় ভিক্ষুরা বুদ্ধের সময়কালে সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করত।তখন চূর্ণ ছিলো।সাবান ছিলো না।চূর্ণ দিয়ে ভিক্ষুরা,দায়কেরা স্নান করতো।এটা ব্যবহার করতো।ভিক্ষুরা ও সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন। যখন বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করলেন, বুদ্ধ বললেন হে ভিক্ষুগণ আজ থেকে তোমরা সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে না।তখন পাত্র দুর্গন্ধ হয়ে যেত।বুদ্ধকে জানালেন।তখন বুদ্ধ বললেন পাত্র ধৌত কাজে সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে।তবে শরীরের মধ্যে সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে না।তাহলে যেখানে বুদ্ধ সুগন্ধি চূর্ণ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন সেখানে কিছু বলা লাগে না।আজকে আপনারা ব্রহ্মচারী আপনার শীল আর আমার শীলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ব্রহ্মচার্য শীল একেই।শ্রামণের যে,ভিক্ষুদের সেই আপনার অষ্টশীলেও ব্রহ্মচারী। শুধু স্থায়ীত্বের মধ্যে পার্থক্য আছে। আর ভিক্ষুশীলের মধ্যে আর এক্সট্রা কিছু সংযোজন শীল আছে।আপনি বা আমি আমরা তিন নম্বর শীলে সমান।তাহলে এগুলো উপোসথ শীল দিবসে, উপোসথ শীল গ্রহণ করলে এগুলো ব্যবহার করা যায় না।
ধারণ-মন্ডন মানে কি?
যেমন কয়েকদিন আগে কয়েকজন পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করল ভান্তে,আমরা অষ্টশীল গ্রহণ করেছি কিন্তু আজকে আমাদের তো আজকে ডিউটি আছে।ডিউটি করতে হবে।আমাদের তো অস্ত্র নিতে হয়।কিন্তু আমি বলেছি এতে অষ্টশীল হবে না।কারণ কোন ব্রহ্মচার্য এটা নিতে পারে না।অস্ত্রটা তুমি কেনো নিলে,কেনো অস্ত্রটা ধারণ করলে,নিশ্চয়ই এখন যদি শত্রুপক্ষ এসে তোমাকে আক্রমণ করে তাহলে তুমি গুলি করবে।গুলি চালাতে হবে বাধ্যতামূলক।তাহলে এই অস্ত্র ধারণটা কোন ব্রহ্মচারী করতে পারে না।অস্ত্র বলতে শুধু বন্দুক নয়।যে কোন প্রাণী হত্যার জন্য, যেমন জাল,একটা মাছের ছাঁই, একটা তলোয়ার প্রাণীহত্যা বা খুন করার জন্য এ জাতীয় অস্ত্র ব্রহ্মচারীরা খুন করার চেতনায় ধারণ করলে বা প্রাণী হত্যা করার চেতনায় ধারণ করলেও ব্রহ্মচার্য শীলে আঘাত হয়।তাই এদেরকে বলছি যেদিন ডিউটি থাকে না,তোমরা সেদিন অষ্টশীল গ্রহণ করো।তাহলে সেদিন তোমাদের শীল ভঙ্গ হবে না। তাহলে এভাবে আমাদের বিচার করে করে চলতে হবে।এগুলো ধারণ করতে পারবো না।মন্ডন করা মানে মারতে পারবো না।
বিভূসনটঠান মানে কি?ভূসন শব্দের অর্থ পোশাক,গৃহীসুলভ কোন পোশাক ব্রহ্মচারীরা পরিধান করতে পারে না।অষ্টশীল নিলে সাদা পোশাক পড়তে হয়।আজকে আপনারা গৃহী নয়।আজকে আপনারা ব্রহ্মচারী। যেহেতু ব্রহ্মচারী সেহেতু ব্রহ্মচার্যের পোশাক পড়তে হবে।যেমন বুদ্ধের উপাসক উপাসিকা ছিলো তারা সাদা পোশাক পরিধান করে।এখনো বার্মা, থ্যাইল্যন্ড,কম্বোডিয়া, শ্রীলংকা তারা বিহারে গেলে বিহারের জন্য আলাদা পোশাক রাখে।তারা অষ্টশীলের জন্যই তো প্রধান, বিহারের জন্য আলাদা পোশাক রাখে।যে কোন সময় বিহারে যাওয়ার সময় চিন্তা করলে তারা সাদা ড্রেসটা পরিধান করে।
আমরা তীর্থ যাত্রায় বুদ্ধগয়ায় দেখতে পাই তারা বোধিপালন্কে সাদা ড্রেস ছাড়া আসে না।তারা যখন রুমে যায় ড্রেসটা পরিবর্তন করে ধুয়ে শুকোতে দেয়।অষ্টশীল নিলে বা বিহারে তাদের জন্য সাদা পোশাক বাধ্যতামূলক।
এবার আপনি নিজে বুঝার চেষ্টা করুন আপনার শীল কতটুকু বিশুদ্ধ আছে।
প্রজ্ঞান্দ্রিয় ভান্তের দেশনা থেকে সংগ্রহ