Bangladesh Buddhist Vihara Of New York

Bangladesh Buddhist Vihara Of New York Non Profit Organization

03/05/2026

Punnodan

বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক কর্তৃক আয়োজিত কর্মস্থান গুরু ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ মহাথের মহোদয় পরিচালিত আগামী ২রা আগস্ট হ...
07/30/2025

বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক কর্তৃক আয়োজিত কর্মস্থান গুরু ভদন্ত পঞ্ঞাদীপ মহাথের মহোদয় পরিচালিত আগামী ২রা আগস্ট হতে ১০ই আগস্ট পর্যন্ত যারা দুঃখমুক্তির বীজবপন তথা বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন করতে যাচ্ছেন তাঁদের নামের তালিকা-

২রা আগস্ট সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় প্রবজ্যা অনুষ্ঠান, ভৈষজ্য সংঘদান ও সূত্রপাঠের মাধ্যমে বিদর্শন ভাবনা শুরু হবে l

বিদর্শন ভাবনা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় খণ্ডকালীন ভাবনা ও ৭ ঘটিকায় শ্রদ্ধেয় উ পঞ্ঞাদীপ ভান্তের সদ্ধর্মদেশনা l

১০ আগস্ট অষ্টপরিষ্কার সহ সংঘদানের মাধ্যমে বিদর্শন ভাবনার সমাপনী ও শ্রাবনী পূর্ণিমা উদযাপন l

এছাড়াও যার যার সময় অনুযায়ী বিহারে এসে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে পুণ্যার্জন করার জন্য মৈত্রীপূর্ণ আহ্বান জানাচ্ছি l

২৫৬৯ বুদ্ধবর্ষের বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক-এ বর্ষাবাস অধিষ্ঠানের জন্য ভিক্ষুসংঘকে পুষ্প দিয়ে ফাং l
07/29/2025

২৫৬৯ বুদ্ধবর্ষের বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক-এ বর্ষাবাস অধিষ্ঠানের জন্য ভিক্ষুসংঘকে পুষ্প দিয়ে ফাং l

বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক এর নতুন ভবন দ্বারোৎঘাটন l
07/08/2025

বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক এর নতুন ভবন দ্বারোৎঘাটন l

01/20/2025

কতঞ্ঞূতা কতবেদী

কারা প্রজ্ঞাবান? ADFM, CADC Mizoram northeast India 20-120-2025

U Pannadipa Mahathero

"খেমং এতং মঙ্গল মুত্তমং"- সমস্ত ক্লেশ থেকে মুক্ত হয়ে ভয়মুক্ত শান্তির সুখই উত্তম মঙ্গল।

উগ্গসেন তিনি প্রজ্ঞাবান! অতীত পঞ্চস্কন্ধ, অনাগত পঞ্চস্কন্ধ, বর্তমান ক্ষণমুহুর্তে উৎপন্ন পঞ্চোপাদান স্কন্ধকে ত্যাগ করে জরা ব্যাধি মরণ দুঃখ সহ সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করে।

বুদ্ধের দেশনার শেষান্তে উগ্গসেন বাঁশের খুঁটির উপর স্থির দাঁড়ানো মুহুর্তে প্রতিসম্ভিদা প্রাপ্ত অরহত হয়েছিলেন। তিনি ছন্দাধিপতি, বীর্যাধিপতি সমতার বলে বলিষ্ঠ হয়ে জরা ব্যাধি মরণ দুঃখ সহ সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্ত অহরত্ব মার্গ-ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

পারমী হল সাধুসজ্জনদের কর্ম। সাধুসজ্জন সাধুতা কর্মের দ্বারা নির্বানকে প্রত্যক্ষ করে। সাধুতা সম্যকদৃষ্টি সম্মত কর্ম ব্যতিরেকে নির্বান প্রত্যক্ষ অসম্ভব।

তথাগত সম্যকসম্বুদ্ধ তাঁর ৪ অসংখ্য ১ লক্ষ কল্পকাল পরিপক্ক পারমী সম্ভার থাকা সত্ত্বেও ভাবনানুশীলন ব্যতিরেকে বুদ্ধত্বজ্ঞান লাভ করেননি। আমার পারমী সম্ভার আছে দুঃখমুক্তি এমনিতে হয়ে যাবে এমন অবহেলা করে থাকা উচিত না। সারিপুত্র ভান্তে ১ অসংখ্য ১ লক্ষ কল্পকাল ধরে পারমী সম্ভার পরিপক্ক হলেও অস্সজিত ভান্তের কাছ থেকে যদি দেশনা শ্রবন না করতেন কখনো স্রোতাপন্ন হতেন না। তাঁর পারমী সম্ভার পরিপূর্ণ সত্ত্বেও বুদ্ধের নিকট এসে ১৫দিন ভাবনানুশীলন করতে হয়েছিলেন।

পারমী সম্ভার পরিপক্ক হলেও যথোপযুক্ত কর্ম না করলে অনুরূপ ফল ফলে না। যোগ্য পারমীবান হতে হলে পারমীর অনুসারে উপযুক্ত কর্ম করা উচিত।

বুদ্ধের সদ্ধর্ম শাসন সাক্ষাত, চার আর্যসত্য ধর্মালোর কিরণ দীপ্ত ক্ষণে আর্যসত্য সম্মত ধর্মদেশনা শ্রবন, আর্যসত্যকে স্বয়ং প্রত্যক্ষ করা কর্ম করাটাই প্রজ্ঞাবানের কাজ। সৎকর্ম সম্ভারই তাঁদেরকেই প্রজ্ঞাবান করে।

উগ্গসেনের চার প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান লাভ সংক্ষেপঃ

বুদ্ধের শাসনের চার প্রকার অরহত বিদ্যামান
---------------
→ প্রতিসম্ভিদা লাভী অরহত,
→ ষড়াভিজ্ঞা অরহত,
→ ত্রি-বিদ্যা অরহত,
→ সুক্ষবিদর্শক অরহত।

★ পটিসম্ভিদাপত্ত (প্রতিসম্ভিদা প্রাপ্ত অরহত)
------------
(১) অত্থ পটিসম্ভিদা- যথাফল প্রদান সম্পর্কিত জ্ঞাত জ্ঞান। যথার্থের জ্ঞাত জ্ঞান বা নানা সংস্কারের কারণে দুঃখোৎপন্ন সম্পর্কিত জ্ঞাত জ্ঞান। সংস্কার নিরোধের দুঃখ নিরোধ নির্বাণ সম্পর্কিত জ্ঞাত জ্ঞানকে অর্থ প্রতিসম্ভিদা বলে।

(২) ধম্ম পটিসম্ভিদা- কারণ সম্পর্কিত জ্ঞাত জ্ঞান। দুঃখের কারণ সমুদয় সত্য সম্পর্কিত জ্ঞাত জ্ঞান। দুঃখ নিরোধের উপায় মার্গজ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞাত জ্ঞানকে ধর্ম প্রটিসম্ভিদা বলে।
(৩) নিরুত্তি পটিসম্ভিদা- পালি ব্যাকরণ ভাষার সম্পর্কিত জ্ঞাত জ্ঞান। পালি ভাষা পাঠের শব্দ শ্রবনের মধ্যে শব্দ-বাক্য-উচ্চারণ
গুলো ভুল শুদ্ধ, সঠিক বেঠিক সম্পর্কিত জ্ঞাত জ্ঞানকে নিরুত্তি প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান বলে।

সঠিকঃ অদিন্নাদানা পালি শব্দকে অদিন্ন + আদান সন্ধি বিচ্ছেদ করে। অদিন্ন- কারোর কায়িক, বাচনিকভাবে অদত্ত বস্তুকে। আদান- চুরি করা থেকে। বেরমণি সিক্খা পদং- বিরত থাকার শিক্ষাপদকে। সমাদিযামি- (সং+আদিযামি) উত্তমরূপে পালন করছি।

বেঠিকঃ অদিন্নাদানা এর অদিন্ন- কেউ কায়িক, বাচনিকভাবে অদত্ত বস্তুকে। দানা- দান করার থেকে। বেরমণি সিক্খাপদং- বিরত শিক্ষাপদকে। সমাদিযামি- উত্তমরুপে পালন করছি।

(৪) পটিভান পটিসম্ভিদা- উক্ত ত্রি- প্রতিসম্ভিদা সম্পর্কিত বিশদতর জ্ঞান সহ সু-ব্যাখ্যাত স্বয়ং বেদনীয় চার আর্যসত্য ধর্মকে জ্ঞাত জ্ঞান।

★ ছলভিঞ্ঞা (ষড়াভিজ্ঞা অরহত)
-------------------
(১) ইদ্ধিবিধ অভিঞ্ঞা- নানাবিধ ঋদ্ধি প্রদর্শন অভিজ্ঞান।
(২) দিব্বসোত অভিঞ্ঞা- দূর বা কাছের শব্দ শ্রবনের অভিজ্ঞান।
(৩) পুব্বেনিবাস অভিঞ্ঞা- অতীত বহু জন্মের নিবাস সম্পর্কিত অভিজ্ঞান।
(৪) পরচিত্ত বিজানন অভিঞ্ঞা- অপরের চিত্তকে জানার অভিজ্ঞান।
(৫) দিব্বচক্খু অভিঞ্ঞা- দূর বা কাছের দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞান।
(৬) আসবক্খয অভিঞ্ঞা- ক্লেশ সমুহ থেকে মুক্তির অরহত্ব মার্গ অভিজ্ঞান।

★ তে বিজ্জ (ত্রি-বিদ্যা অরহত)
------

(১) পুব্বেনিবাস বিজ্জা- অতীত বহু জন্মের নিবাস সম্পর্কিত জ্ঞাত বিদ্যা।
(২) দিব্বচক্খু বিজ্জা- দূর বা কাছের দৃশ্য দেখার বিদ্যা।
(৩) আসবক্খয বিজ্জা- ক্লেশ সমুহ থেকে মুক্তির অরহত্ব মার্গ বিদ্যা।

সুক্খ বিপস্সক (সুক্ষ্ম বিদর্শক অরহত)
---------------
এই অরহতগণ অরহত্ব মার্গ উপনীত না হবার পুর্বভাগে ধ্যানের প্রীতি সুখ না থাকার দরুন কেবল বিদর্শন ভাবনা করে অরহত্বফল জ্ঞান প্রাপ্ত হন। তাঁদেরকে
ধ্যানস্তর লাভ বিনে অরহত বা ধ্যান শুষ্ক অরহত বলে।

★ প্রাতিমোক্খ সংবরণ যুগ- অনাগামী ফলস্তর পুদ্গল বিদ্যমান থাকবে।

প্রত্যেকে প্রজ্ঞামার্গ সম্মত আচরণ অনুশীলন করে প্রজ্ঞাবান হতে সক্ষম হোক।।

বডুয়া উপাধি প্রসঙ্গড. বরসম্বোধি ভিক্ষুবঙ্গীয় বৌদ্ধদের মধ্যে অধিকাংশের উপাধি বডুয়া হলেও আরো কয়েকটি উপাধির প্রচলন দেখা যায়...
05/08/2024

বডুয়া উপাধি প্রসঙ্গ

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

বঙ্গীয় বৌদ্ধদের মধ্যে অধিকাংশের উপাধি বডুয়া হলেও আরো কয়েকটি উপাধির প্রচলন দেখা যায়। যেমন-চৌধুরী, তালুকদার, মুৎসুদ্দী, সরকার, সিকদার, সিংহ, হাজারী ইত্যাদি। তবে সংখ্যায় বডুয়া উপাধি ব্যবহারকারী হল সর্বাধিক। অন্যান্য উপাধিগুলোর চেয়ে বডুয়া উপাধিটি হল খুবই প্রাচীন, ইতিহাস সিদ্ধ ও গর্বের। বডুয়া ছাড়া বাকী উপাধিগুলোর কয়েকটা (চৌধুরী, তালুকদার, মুৎসুদ্দী, হাজারী, সরকার প্রভৃতি) তেমন সুপ্রাচীন নয় এবং বডুয়া উপাধির মত সমুজ্জ্বলও নয়। সেগুলি হল উপরস্থ কর্তা ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করে প্রাপ্ত সম্মানের মত বা প্রভূ সেবার পুরস্কারের মত । যার সূচনা হয়েছিল ইংরেজ শাসনকাল হতে। অনেকে নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে অনভিজ্ঞতার কারণে বা সচেতন না থাকার কারণে বডুয়া উপাধির তুলনায় অন্যান্য অভিধা সমূহকে অধিকতর মহান মনে করে এবং তারা নিজেরাও এ উপাধিগুলো ব্যবহার করে গর্বানুভব করে থাকে।

বাস্তবিক পক্ষে বডুয়া অভিধাটি এসেছে পালি ভাষার ‘বজ্জী’ (বৃজি) শব্দ হতে। যার অর্থ হল শ্রেষ্ঠ জাতি। বজ্জী নামে বুদ্ধ কালীন সময়ে প্রাচীন এক সম্প্রদায় ছিল। তাঁদের পৃথক রাজ্য ছিল। তাঁরা ছিলেন গণতান্ত্রিক ( Democracy) শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক। পৃথিবীর প্রথম গণতন্ত্র বজ্জীদের দ্বারাই সৃষ্টি হয়েছে বলে ইতিহাস রয়েছে। ভগবান বুদ্ধও তাঁর সঙ্ঘে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রচলন করেছিলেন। প্রাচীন ভারতের বজ্জীদের কাছ হতেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থারূপে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ অনুসরণ করছে। বজ্জীরা ছিলেন প্রাচীন ভারতের বৈশালীর অধিবাসী। বজ্জীরা সকলে ছিলেন তথাগত বুদ্ধের অনুগামী এবং তাঁরা ছিলেন অতীব সুশৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ, সভ্য ও শিক্ষিত। ভগবান বুদ্ধ বৈশালীতে পঞ্চম ও পঁয়তাল্লিশ বর্ষাবাস অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি অনেক মূলবান ধম্মদেশনা করেছিলেন বৈশালীতে। মহাপরিনির্বাণের ঘোষণাও তিনি বৈশালীতেই করেছিলেন। বজ্জী সম্প্রদায়কে বুদ্ধ দেবতার সাথে তুলনা করেছিলেন। বুদ্ধ যে সপ্ত অপরিহানীয় বা অপরাজেয় ধম্মের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন, সে সপ্ত অপরিহানীয় ধম্মের সবটাই বজ্জীরা নিষ্ঠার সাথে অনুশীলন করতেন। এজন্য তৎকালীন ভারতবর্ষে বজ্জীরা উন্নত, সমৃদ্ধ ও অপরাজেয় জাতির শিরোপা লাভ করেছিলেন। বুদ্ধকালীন ভারতের বজ্জীগণরাজ্য ছিল ষোড়শ মহাজনপদের অন্যতম খ্যাতি প্রাপ্ত জনপদ।

বর্তমানের বডুয়ারা হলেন প্রাচীন বজ্জী বংশেরই বংশধর। বজ্জী হতে ‘বডুয়া’ শব্দ এসেছে। মগধে বৌদ্ধদের উপর আক্রমণের সময় অনেক বৌদ্ধ মাটির (স্থানের) মায়া ত্যাগ করতে না পারায় তাঁরা ব্রাহ্মণ্য দাসত্ব গ্রহণ করে ধম্ম ত্যাগের মাধ্যমে শুদ্রত্বের পর্যায়ে মানবেতর জীবন গ্রহণ করেছিলেন এবং যাঁরা ধম্ম ত্যাগে রাজী হননি, তাঁরা মাটি ত্যাগ করে আসাম হয়ে স্থানান্তর হতে হতে চট্টগ্রামে এসে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছিলেন।

সুতরাং বড়ুয়াদের অতীত ইতিহাস দেখলে প্রমাণিত হয়, ভারতবর্ষে যাঁরা বুদ্ধকালীন সময় হতে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত ও উত্থান-পতনের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন এবং বিভিন্ন স্থান ত্যাগ করে প্রাণান্তেও ধম্ম ত্যাগ করেননি, তাঁদের মধ্যে বডুয়া জাতি হলেন অন্যতম। অতীতে বডুয়াদের পূর্ব পূরুষ বজ্জীরা ছিলেন শাসক গোষ্ঠী, প্রজা বা সেবক গোষ্ঠী নন।

আমাদেরই একটি অংশ ভারতের আসামে ব্রাহ্মণ্য বশ্যতা স্বীকার করে নিলেও তাঁরা কিন্তু নিজেদের ‘বড়ুয়া’ পদবী ত্যাগ করেননি। বর্তমানে তাঁরা ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অনুসারী হলেও তাঁদের গর্বিত পদবী ‘বরুয়া’ টিকিয়ে রেখেছেন।

এদিক দিয়ে বিচার করলে ‘বডুয়া’ পদবী হল অনেক গৌরবের ও সম্মানের। কিন্তু আমাদের এখনকার প্রজন্মের অনেকেই বড়ুয়াদের অতীত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন নয়। এজন্য আমাদের অনেকে ‘বডুয়া’ পদবীর চেয়ে অন্যান্য চৌধুরী, মুৎসুদ্দী, তালুকদার ইত্যাদি অপরের অধীনস্থ বা দাসত্ব সূচক পদবী সমূহ ব্যবহারেই অধিক গর্বিত মনে করে থাকেন।

বঙ্গীয় বৌদ্ধদের গর্বিত সন্তান লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয় হতে এশিয়ার প্রথম ডি. লিট উপাধি প্রাপ্ত ভারততত্ববিধ ড. বেণী মাধব বড়ুয়া (১৮৮৮-১৯৪৮) তিনি তাঁর পারিবারিক ‘তালুকদার’ উপাধি ত্যাগ করে ‘বডুয়া’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। কেননা তিনি ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন ও পারঙ্গম ছিলেন। বডুয়া উপাধি ধারণ করেই তিনি অধিকতর গর্বিত মনে করতেন।

এখন অতীব পরিতাপের সাথে বলতে হয় যে, আমাদের বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই অতীত সম্পর্কে চর্চা করেনা। নিজেরাও পড়াশুনা করেনা এবং বিজ্ঞজনদের থেকে কাছ থেকেও জানার চেষ্টা করেনা। তাই যে যা বলে সেদিকেই শুনে শুনে ধাবিত হয়। নিজেদের অতীত গৌরবের ইতিহাস মুচে অনেক বডুয়া সন্তান এখন ‘মার্মাগ্রী’ লিখতে উৎসাহিত হচ্ছে এক তান্ত্রিক গুরুর ফাঁদে পড়ে। সে তান্ত্রিক গুরু সুকৌশলে বডুযাদের মধ্যে বিভাজন ঘটিয়ে বডুয়া পদবী পর্যন্ত মুচে ফেলার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তাঁর অন্ধ অনুসারীরাও বুদ্ধের প্রশংসিত সুমহান বড়ুয়া (বজ্জী) উপাধি, যা আড়াই হাজার বছরাধিকাল হতে চলে আসছে, তাকে ত্যাগ করতে একটু দ্বিধাবোধ পর্যন্ত করছেনা। কিরকম অন্ধ গুরুভক্তি হলে এবং কিরকম আত্মঘাতী হলে নিজেদের এরকম গর্বিত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মূলোচ্ছেদ করতে পারে, তা ভাবতেও অবাক লাগে! আমাদের মত এরকম ছন্নছাড়া, উদাসীন, পরপদলেহী জনগোষ্ঠী আর আছে কিনা আমার জানা নাই। এগুলি হচ্ছে একটা সম্প্রদায়ের ইতিহাসকে এবং ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্নকেও মুচে ফেলা। কিরকম আত্মঘাতী ও হীনমন্যতা সম্পন্ন জাতি আমরা এতেই প্রমাণিত হয়। আমাদের মনে হয় এরা ভবিষ্যতে নামের আগে আরব্য সংস্কৃতির ‘মো.’ লিখতেও দ্বিধা করবেনা। আলামতে তাই মনে হচ্ছে।

আচার-ব্যবহারে, খাদ্যাভ্যাসে, চলা-ফেরা ও কথাবার্তায় এমনিতেই নিজেদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে ত্যাগ করে আমরা আরব্য সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে রয়েছি। তারা আমাদেরকে প্রায় গ্রাস করে নিয়েছে। নিজেরা এভাবে উদাসীন হলে অবশিষ্টও গ্রাস করতে বেশীদিন আর থাকবেনা।

আয়না অার  কাঁচের মধ্যে পার্থক্য কি জানেন?                           —   আশিন ধর্মপাল৷এক সময় এক ছোট্ট ছেলে তার দাদুর কাছে...
05/08/2024

আয়না অার কাঁচের মধ্যে পার্থক্য কি জানেন?
— আশিন ধর্মপাল৷

এক সময় এক ছোট্ট ছেলে তার দাদুর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করল "দাদু, দাদু, আয়না অার কাঁচের মধ্যে কি পার্থক্য বলতে পার? দুটোই তো পড়লে ভেঙ্গে যায়৷ দুটোইতো খুব ধারালো"

দাদু বলল "হুম দাদু, তুমি ঠিকই বলছে" এই বলে পাশের টেবিলের উপর তুলে রাখা আয়নাটা নিয়ে এসে ছেলেটির মুখের সামনে রখে জিজ্ঞাস করল "এখানটা দেখ দাদু, কি দেখছ?"

ছেলেটি উত্তর দিল "অামার ছবিই দেখতে পাচ্ছি দাদু" "তুমি ঠিক বলেছ, দাদু" বলে বৃদ্ধ লোকটি আয়নাটা সরিয়ে রাখল৷ এবার ছেলেটিকে পাশের জানালায় নিয়ে গেল৷ বলল "এবার এখানটায় দেখতো দাদু৷ কি দেখছে? তোমাকে দেখতে পাচ্ছ?"
"না দাদু, এবার দেখছি বাইরের সবকিছু৷ ঐ যে রাস্তা দিয়ে মানুষজন চলাফেরা করছে৷ আমি বাইরের সবকিছুই দেখতে পাচ্ছি দাদু"

"হ্যাঁ দাদুভাই, তুমি ঠিকই দেখছ" বৃদ্ধ লোকটি বলল৷
ছেলেটি এবার জিজ্ঞাস করল "এসবের অর্থ কি দাদু? আমাকে কেনই বা এসব দেখালে?"

এবার বৃদ্ধ লোকটি বলল "তুমি প্রথমে আয়নায় কি দেখলে?" "কেন, আমার ছবি" উত্তর দিল ছেলেটি৷
"হ্যাঁ, কাঁচের পেছনে যখন ধাতবের প্রলেপ লাগিয়ে দেয় সেই কাঁচে কেবল নিজেকেই দেখা যায়৷

পৃথিবী এমন অনেক মানুষ আছে, যারা ঠিক এই ধাতব লাগানো কাঁচের মতোই৷ যাদের চোখে থাকে ক্ষমতার প্রলেপ লাগানো পর্দা, অহংকারের পর্দা, হিংসার পর্দা, মান-মাৎসর্যের পর্দা, বিনা বিচার বিবেচনা করে অন্ধ বিশ্বাসের পর্দা, কুসংস্কারের পর্দা৷ যার করণে তারা কেবল নিজের প্রতিচ্ছবিই দেখে৷ নিজের ক্ষমতাকেই সর্বোপরি ভাবে৷ নিজের ইচ্ছাকেই সর্বাগ্রে রাখে৷ পৃথিবীকে তাদের ইচ্ছে মতো করতে চায়৷ ধাতব লাগানো কাঁচে যেমন অপর পার্শ দেখা যায় না তেমনি তাদের হিতাহিত জ্ঞানের উপর যখন আত্মস্বার্থের প্রলেপ লেপ্টে যায় তখন পরস্বার্থ পরহিত তাদের দৃষ্টির অন্তরালে ঢেকে যায়৷

আর কিছু মানুষ থাকে ঐ কাঁচের মতো৷ তারা কখনোই নিজেকে দেখে না৷ তারা দেখে বাইরের বৈচিত্র, বাইরে সোন্দর্য্য, বাইরের অনুভূতিই তাদের সব৷ পৃথিবী যখন হাসে তারাও হাসে, যখন পৃথিবী কাঁদে তারাও তার সাথে সাথে কাঁদে৷ তাদের জ্ঞাণে কুচিন্তা, অাত্মস্বার্থকে ভারী হতে দেয় না৷" বলে ছেলেটিকে উপদেশ দিল৷
______________________________
হ্যাঁ, পৃথিবীতে এমন লোকের সংখ্যাই অধিক যারা অায়নার মাধ্যমে বাইরের দৃশ্য দেখার চেষ্টা করেন। যার কারণে বাইরের দৃশ্য প্রতীয়মান না হয়ে বারবার নিজের দৃশ্যই দেখে তারা। আর এজন্যেইতো স্বীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার চেষ্টা করে৷

সময়ের সাথে সাথে আয়নার প্রলেপ যখন ধসতে থাকে ধীরে ধীরে তখন আয়নার অপর পার্শ্বটা দেখতে থাকে৷ জীবনের অায়ু যখন ধীরে ধীরে অস্ত যাওয়ার নিকটে আসে পরের স্বার্থকে ধীরে ধীরে বুঝতে পারে৷ তখনতো অার সময় নেই৷ হাতে যা ছিল সবই গেছে পাকস্থলির মহাসমুদ্রে৷ চাইলেও যে অার পারবে না কিছু করতে পরের স্বার্থে৷

শেষ সময়ে অনুতাপের গ্লানি অার শোক নিয়ে পারী দেয় ঐসব আয়নার মানুষেরা৷

তাই চেষ্টা করুন কাঁচের মানুষ হতে৷ যাতে শুরু থেকেই বাইরের সবকিছু পরিস্কার দৃষ্টিগোচর হয়৷ শুরু থেকেই যাতে ভালমন্দের জ্ঞাণের সঞ্চার হয়৷

আপনার সন্তানদের শিক্ষা দিন কাঁচের মানুষ হতে৷ যাতে সর্ব প্রথম অন্যের দুঃখ দৃষ্টিগোচর হয়৷

.                   "হে ভ্রান্ত পথিক"লিখেছেন ঃ- আশিন ধর্মপাল ভান্তে          একসময় এক ষড়াভিজ্ঞা অর্হৎ নরকাগ্নির তীব্রতা ...
05/07/2024

. "হে ভ্রান্ত পথিক"

লিখেছেন ঃ- আশিন ধর্মপাল ভান্তে
একসময় এক ষড়াভিজ্ঞা অর্হৎ নরকাগ্নির তীব্রতা জ্ঞাতার্থে একশত শৌকতের সমপরিমান ভেজা কাষ্টখণ্ডসমূহকে নরকের একটি দ্বারের নিকট নিয়ে এসে ময়ূর পক্ষীর অক্ষিসম এককণা অগ্নিপিণ্ডকে ঐ ভেজা কাষ্টখণ্ডে নিক্ষেপ করে৷ অার অমনিতেই একশত শৌকতের সমপরিমান ভেজা কাষ্টখণ্ডসমূহ মূহুর্তেই ছাঁই হয়ে যায়৷

বুঝা যায় নরকাগ্নির তীব্রতা অতীব ভয়ঙ্কর এবং দহনতা কল্পনাতীত৷ সেখানে কষ্মিন কালের জন্যও শান্তি বলতে কিছু নেই৷ কেবল দগ্ধতা বিনা৷


অার তাই অপায়বাসীগণ(নরকবাসী) মর্ত্যলোকে মনষ্যকুলে প্রতিসন্ধি নিলে "চতুযেপাযেহি চ বিপ্পমুত্তো" অর্থাৎ চার অপায় হতে বিমুক্ত হওয়ার দৃঢ় প্রয়াস করবে বলে শুভবুদ্ধির উদয় হয়৷
কিন্তু মনুষ্যযোনিতে অাসার পর অপায় হতে মুক্ত হওয়ার যে সংকল্প করেছিল সব ভুলে যায়৷ ভুলে যায় সেখানের তীব্র অসহনীয় বেদনার বিলাপের স্মৃতি, শোকের তীব্র অার্তনাদ৷

বর্তমানের ক্ষণিকের এই সামান্য সুখের কাছে বিভোর হয়ে যায়৷ কিংবা সেই সামান্য সুখের দ্বীপের অাকাঙ্খায় কেউ জ্ঞাণান্বেষনের পেছনে দৌঁড়ায়, কেউ দৌঁড়ায় প্রভুত্বের পেছনে, কেউ বা দাসত্বের পেছনে, কেউ বা পৃথিবীর নিয়মের নাম করে অাবদ্ধ করে সংসারের মায়াজালে নিজেকে৷ তাদের এই দৌঁড়ানোর যে অন্ত নেই৷ চলতে থাকে নিরন্তর হতে নিরন্তর৷ কিন্তু সুখের প্রদ্বীপ পায় না তারা৷ পায় কেবল বিহরের বেদনা, শোকের বিলাপ, অনুতাপের দগ্ধতা, বিচ্ছেদের যন্ত্রনা৷ কিন্তু তারপরও তারা দৌঁড়াতেই থাকবে কেবল এই অাশায় যদি একটুখানি পায়৷ অার তাতেই তারা সন্তুষ্ট৷ ভুলে যায় নরকের অসহনীয় সব স্মৃতি৷

অার ভোলা এই মানুষগুলি পুনুরোদ্যমে শুরু করে অপায়ে যাওয়ার নব নব পথ, নব নব কৌশল৷ বেঁচে থাকার সময় ক্ষণে ক্ষণে, সেকেণ্ডে সেকেণ্ডে কমতে থেকে কমতে যাচ্ছে৷ তার সাথে সাথে বেড়ে চলেছে অপায়ে যাওয়ার পাথেয়৷ মনে হচ্ছে অপায়ে যাওয়ার জন্যই তার এই দ্রুত পাথেয় সংগ্রহ৷

একদিন ঠিক সেই সময়ও এসে যায়৷ কিন্তু সে বুঝতে পারে না৷ না বুঝে না বুঝেই পাড়ি জমায় অপায়ের লৌহ কুণ্ডলিতে৷ পাড়ি জমায় অপায়ের প্রেত যোনিতে৷ শুরু হয় অনুতপ্ততা, শোক, বিলাপ, পরিদেবন৷

স্মরণ করুন অপায়ের নরকাগ্নিতে গদ্ধ হওয়ার তীব্র যন্ত্রনার কথা৷ অার যদি অসমর্থ হন তাহলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন৷

ক্ষণিকের সুখ ত্যাগে অক্ষম ব্যক্তির মহৎ সুখের অাশা করা মূর্খতা৷ পৃথিবীতে কোন কিছুই সহজলভ্য নয়৷ সৎ উপদেশ পাওয়াটাই যেখানে অনেক সুদূর্লভ, সেখানে মহৎ সুখের চিন্তা অনর্থক৷

উপাসকের আচরণড. বরসম্বোধি ভিক্ষুআমরা প্রায় সময় একটা কথা শুনে থাকি যে-‘আপনি আচরি ধম্ম অপরে শিখাও।’  আমরা অপরকে নিজেরা যা শ...
05/07/2024

উপাসকের আচরণ

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

আমরা প্রায় সময় একটা কথা শুনে থাকি যে-‘আপনি আচরি ধম্ম অপরে শিখাও।’ আমরা অপরকে নিজেরা যা শিক্ষা দান করি, তা যদি নিজেরাও সম্যকরূপে আচরণ করতাম, তাহলে তার প্রভাব সমাজে বেশী হত। তৎকালীন সমাজে তথাগত বুদ্ধের শিক্ষা বা উপদেশ সমাজে অধিক প্রভাবশালী হওয়ার অনেক কারণের মধ্যে ইহাও এক অন্যতম কারণ ছিল যে, তিনি নিজে যা চিন্তন, মনন ও আচরণ করতেন, তাহাই তিনি অপরকে অনুসরণ করার জন্য উপদেশ দিতেন। তাঁর কথন এবং আচরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য বা ভিন্নতা ছিলনা। এজন্যও তিনি ‘তথাগত’ নামে অভিহিত হয়েছিলেন।

আমাদের সমাজে অধিকাংশ লোকের আচরণের মধ্যে বৈশাদৃস্যতা দেখা যায়। আমরা সবসময় অন্যদেরকে অনেক ভাল কথা, অনেক ভাল উপদেশ দিয়ে থাকি, কিন্তু তার সিকিভাগও নিজেদের জীবনে অনুসরণ করতে চেষ্টা করিনা। সেজন্য সেগুলি লোকেরাও তেমন আমলে নেননা। তাঁরা গতানুগতিকভাবে এক কান দিয়ে শুনেন এবং অপর কান দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বের করে দেন। বর্তমান সমাজের অধিকাংশের অবস্থা হল ততৈবচ।

তথাগত বুদ্ধ হলেন তার ব্যতিক্রম। তিনি অনর্থক, অহেতুক, ছলনামূলক ও প্রলোভন মূলক কোনো কথা বা উপদেশ প্রদান করতেননা। কটূ হলেও যথাসত্য নির্ভিকভাবে ভাষণ করতেন। যা আত্ম-পর সকলের কল্যাণ ও গঠন মূলক তাই তিনি ব্যক্ত করতেন। পৃথিবীতে শঠতা, প্রতারণা ও মিথ্যা ভাষণকারীর সংখ্যাই অধিক। সেগুলি শুনতে আপাততঃ বেশী মধুর বলেও মনে হয়। তাই এগুলির প্রভাবও অধিক। তথাগত বুদ্ধ কিরকম সত্য ভাষণকারী ছিলেন, সেরকম এক প্রসঙ্গের কথা এখানে উল্লেখ করছি।

এক সময় ভগবান তথাগত বুদ্ধ মগধের রাজধানী রাজগৃহের রাজভীষক জীবক দ্বারা প্রদত্ত জীবকাম্রবনে বিহার করছিলেন। জীবক কুমারভৃত্য তখন ভগবান সান্নিধ্যে গিয়ে যথাভিবাদন করে একান্তে উপবেশন পূর্বক ভগবানের কাছে সবিনয়ে জানতে চাইলেন-

‘ভন্তে! কি রকম করলে উপাসক হওয়া যায়?’

উত্তরে বুদ্ধ তথাগত বললেন-‘জীবক! যখন ব্যক্তি বুদ্ধ, ধম্ম এবং সঙ্ঘের শরণাগত হয়, তখন তাকে উপাসক বলা হয়।’

জীবক আবার তথাগতের নিকট জানতে চাইলেন-‘ ভন্তে!, ভগবান! কি রকম আচরণ করলে উপাসক শীলবান হয়ে থাকেন?’

তথাগত এর জবাবে জীবককে বলেছিলেন-‘জীবক! যখন উপাসক প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার বা অব্রহ্মচর্য, মিথ্যাভাষণ এবং মদ্য, সুরা ইত্যাদি যাবতীয় নেশা দ্রব্য সেবন হতে বিরত থাকে, তখন সে উপাসককে শীলবান বলা হয়।’

রাজ চিকিৎসক জীবক আবার ভগবানকে করজোরে জিজ্ঞাসা করলেন-‘কি রকম হলে উপাসক আত্মহিতে রত থাকেন, পরহিতে নন?

উত্তরে বুদ্ধ বললেন-‘জীবক! যখন উপাসক স্বয়ং শ্রদ্ধা সম্পন্ন হয়ে থাকেন, কিন্তু অন্যদেরকে শ্রদ্ধা সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রেরণা দেননা; স্বয়ং অর্থ-ধম্মের জ্ঞান লাভ করে ধম্মানুসার জীবন ব্যতীত করে থাকেন, কিন্তু অন্যদেরকে সেরকম অর্থ-ধম্মের জ্ঞান লাভ করে ধম্মানুসারে জীবন ব্যতীত করার জন্য কোনো প্রকার প্রেরণা দেননা, তখন তিনি আত্মহিতে রত থাকলেও পরহিতে জীবন ব্যতীত করেননা।’

জীবক পুনরায় বুদ্ধ তথাগতকে প্রশ্ন করলেন-‘ভন্তে! কি রকম আচরণ হলে উপাসক আত্ম-পর উভয় হিতে রত থাকেন?’

এবার উত্তর দিতে গিয়ে বুদ্ধ ব্যক্ত করলেন-‘জীবক! যখন উপাসক স্বয়ংও শ্রদ্ধা সম্পন্ন হয়ে থাকেন এবং অন্যদেরকেও শ্রদ্ধা সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রেরণা দিয়ে থাকেন; স্বয়ংও ত্যাগী হয়ে থাকেন এবং অন্যদেরকেও ত্যাগী হওয়ার জন্য প্রেরণা দিয়ে থাকেন; নিজেও ভিক্ষু সঙ্ঘের দর্শনের কামনা করেন এবং অন্যদেরকেও দর্শনের জন্য প্রেরণা দিয়ে থাকেন; স্বয়ংও সদ্ধম্ম শ্রবণের কামনা করে থাকেন এবং অন্যদেরকেও সদ্ধম্ম শ্রবণের জন্য প্রেরণা দিয়ে থাকেন; স্বয়ংও ধম্মকে ধারণ করে থাকেন এবং অন্যদেরকেও ধম্মকে ধারণের জন্য প্রেরণা দিয়ে থাকেন; স্বয়ংও ধম্ম-মিমাংসা করে থাকেন এবং অন্যদেরকেও ধম্ম মিমাংসার জন্য প্রেরণা দিয়ে থাকেন; স্বয়ংও অর্থ, ধম্মের জ্ঞান লাভ করে ধম্মানুসারে জীবন ব্যতীত করে থাকেন এবং অন্যদেরকেও ধম্মানুসার জীবন ব্যতীত করার জন্য প্রেরণা দিয়ে থাকেন, জীবক! তখনই তাঁর জীবন আত্মহিত এবং পরহিত উভয় দিকে রত হয়ে থাকেন।’

উপরোক্ত আলোচনায় ভগবান তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ রাজভীষক জীবকের প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, একমাত্র ত্রিশরণাপন্ন থাকলেই কেহ উপাসক বা উপাসিকা হয়ে থাকেন; পঞ্চশীল প্রতিপালন করলে শীলবান বা শীলবতী হয়ে থাকেন; উপাসক বা উপাসিকা নিজে শ্রদ্ধাসম্পন্ন, দাতা হলেও, ধম্মানুসার জীবন-যাপন করলেও অন্যদেরকে তদুনুরূপ হওয়ার জন্য যদি প্রেরণা দেননা তাহলে আত্মহিত করতে সক্ষম হলেও তিনি পরহিত করতে সক্ষম নন এবং যিনি ধম্মানুসারে জীবন ব্যতীত করে অন্যদেরকেও তদ্রূপ আচরণ করার পরামর্শ এবং প্রেরণা দিলে তিনিই আত্ম-পর উভয় দিকে হিত সাধন করতে সক্ষম হন।

সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিত হল সবসময় কথায় এবং কাজে সামঞ্জস্য শাখা। তাহাই সমাজে অনুকরণীয় ও দৃষ্টান্ত মূলক আচরণ হতে পারে। বর্তমানে কি ভিক্ষু, কি উপাসক আমাদের অধিকাংশের কথায় এবং আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এজন্য সমাজে এত বিড়ম্বনা, অশান্তি। উপাসক-উপাসিকা, শীলবান-শীলবতী হওয়া খুবই দুর্লভ গুণ।

সুধী, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক- এর সকল দায়ক- দায়িকা, উপাসক- উপাসিকাদেরকে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলা বর্ষবরণ-১৪৩...
03/07/2024

সুধী,
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক- এর সকল দায়ক- দায়িকা, উপাসক- উপাসিকাদেরকে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলা বর্ষবরণ-১৪৩১ প্রতি বছরের ন্যায় বরণ উপলক্ষে আগামী ১০ মার্চ ২০২৪, রবিবার বিকাল ৩.৩০ ঘটিকায় মত বিনিময় ও বিহারের বার্ষিক সাধারণ সভার আহ্বান করা হচ্ছে l

উক্ত বার্ষিক সাধারণ সভায় সকল সভ্যবৃন্দ যথাসময়ে বিহারে উপস্থিত হওয়ার জন্য মৈত্রীপূর্ণ আহ্বান করা যাচ্ছে l

বিষয়-
১. ১লা বৈশাখ, বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩১
২. বিবিধ

আহ্বানে-
মুদিতারত্ন ভিক্ষু
অধ্যক্ষ
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট বিহার অব নিউইয়র্ক

শীঘ্রই কর্তব্য কর্ম করুন, কাল পর্যন্ত বাঁচার নিশ্চয়তা কোথায়!ড. বরসম্বোধি ভিক্ষুআমাদের কর্তব্য কর্ম সমূহ বিলম্ব না করে যথ...
11/22/2023

শীঘ্রই কর্তব্য কর্ম করুন, কাল পর্যন্ত বাঁচার নিশ্চয়তা কোথায়!

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

আমাদের কর্তব্য কর্ম সমূহ বিলম্ব না করে যথাসম্ভব শীঘ্রই করা ভাল। অনেকে কাল করব বা পরে করব বলে অবহেলা করে থাকে। কে জানে কাল সকালেই যে আমার মৃত্যু হবেনা!

জীবনের এখন অনেক শরৎকাল দেখেছি। না জানি, জীবনের বাকী আর কত দিন রয়েছে। যে কয়দিন বাঁচব, তার সদ্ব্যবহার কিভাবে হবে? এভাবেই সজাগ থাকতে হবে। এ সুযোগে ভগবানের কিছু কল্যাণ বাণী মানস পটে জাগ্রত হচ্ছে।

প্রসঙ্গ শ্রাবস্তীর অনাথ পিণ্ডিক শ্রেষ্ঠীর জীবন কালের। রাত্রিকালীন সময়। জেতবনারামে কিছু দেবপুত্র ভগবানের সাথে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন। তাঁরা ভগবানের চরণ বন্দনা করে এক পাশে দাঁড়িয়ে চার পংক্তিতে নিজেদের বিচার প্রকট করেছেন। তাঁরা বলেছিলেন-

‘অচ্চেন্তি কালা, তরযন্তি রত্তিযো,
বযোগুণা অনুপুব্বং জহন্তি॥
এতং ভযং মরণং পেক্খমানো।
পুঞ্ঞানি কযিরাথ সুখাবহানি॥’

অর্থাৎ সময় নিরন্তর প্রবাহিত হচ্ছে। রাতের পর রাত অতিক্রম হচ্ছে। ক্রমশঃ বয়স ক্ষীণ হয়ে আসছে। আসন্ন মৃত্যুর ভয়কে দর্শন করে সুখদায়ক ফল সম্পন্ন পুণ্য কর্ম সম্পাদন করতে অগ্রসর হওয়া কর্তব্য।’

তাঁরা সঠিক কথাই বলেছেন। সত্যিকারভাবে সকাল হচ্ছে, এরপর সন্ধ্যা আসে। এভাবে চলে যাচ্ছে আমাদের বয়স। এ সময়ের মধ্যে আমাদের অমূল্য মানব জীবন যাতে ব্যর্থ না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। আসন্ন মৃত্যুর ভয় হতেই সঠিক পুণ্য কর্মে রত থাকলে অবশ্যই সুখদায়ক ফল লাভ করা সম্ভব হবে। পাপ কর্ম সম্পাদন করলে পরিণামে দুঃখদায়ক ফল ভোগ করতে হবে। পুণ্য কর্ম সম্পাদন করলে সুফল অবশ্যই লাভ হবে। ইহা হল প্রকৃতির অটুট নিয়ম।

সুতরাং, পাপ কর্মের চেয়ে পুণ্য কর্ম বেশী করে সম্পাদন করা উচিত। অকুশলের চেয়ে কুশল সম্পাদন অধিকতর সমীচীন। দুঃখ হতে বাঁচার জন্য এবং সুখের নাগাল পাওয়ার জন্য কুশল কর্ম সম্পাদন প্রয়োজন। কিন্তু সর্বদা পরিবর্তন হতে থাকা সুখ-দুঃখ, দুঃখ-সুখের লোকচক্রে আমরা কত কাল হতে ঘুর্ণিপাক খেতে খেতে আসছি, তা জানা নাই এবং এরূপ সাংসারিক সুখ-দুঃখের ভব হতে ভবান্তরে ভ্রমণ সামনে আরও কত কাল চলবে তাও আমাদের অজানা। ভগবান মহাকারুণিক বুদ্ধ এরূপ ভব সংসরণ হতে সর্বথা বিমুক্ত হওয়ার জন্য সহজ-সরল মার্গ অনুসন্ধান করে দিয়েছেন। বিমুক্তি মার্গকে সবার জন্য সহজভাবে বানিয়ে দিয়েছেন।

ভগবান তথাগত কর্তৃক লোকদেরকে বিমুক্তিদায়িনী বিদর্শন বিদ্যা শিখানো হয়েছে, যা অনুশীলনের দ্বারা ভব মুক্ত হয়ে এরূপ অনিত্যধম্মা লৌকিক সুখ হতে অনেক গুণে শ্রেষ্ঠ নিত্য, শাশ্বত, ‘নিব্বাণং পরমং সুখং’ অর্থাৎ নির্বাণ পরম সুখ লাভ করতে পারে, পরম শান্তি উপলব্দ করা সম্ভব হয়। কিন্তু তা তখনই সম্ভব হবে, যখন লৌকিক সুখের পেছনে অবিরাম ছুটে চলার অভ্যাসে লাগাম টানা যাবে। ভগবান বুদ্ধ নির্দেশিত বিদর্শন ভাবনা সে কাজই করে থাকে। অন্তর্মণের গভীরে রাগ-দ্বেষের সংস্কার সমূহের প্রজনন হতে থাকার স্বভাবকে রোধ করে থাকে বিদর্শন ভাবনা।

বিদর্শন ভাবনা সুখের প্রতি রাগ (আসক্তি) এবং দুঃখের প্রতি দ্বেষের সংস্কারের উৎখনন করে থাকে। অন্ধ প্রতিক্রিয়ার দীর্ঘকালীন স্বভাবের উন্মুলন করে থাকে। যতদিন পর্যন্ত লৌকিক সুখের প্রতি রাগ থাকবে, ততদিন পর্যন্ত লৌকিয় দুঃখের প্রতি দ্বেষও জাগতেই থাকবে এবং এ উভয়ের কারণে লোকচক্র নিরন্তর চলতেই থাকে। লোকচক্র ভগ্ন হলে, তবেই লোকাতীত, ভবাতীত, ইন্দ্রিয়াতীত পরম শান্তির উপলব্দি আসবে। সে কারণে, সে হ্তু প্রত্যয়ে ভগবান মহাকারুণিক বুদ্ধ কল্যাণকারী বিদর্শন বিদ্যা শিখিয়েছেন।

সেদিকে আরও ইঙ্গিত করতে গিয়ে ভগবান বুদ্ধ চার পংক্তির উপরোক্ত গাথা শুনে ইহার চতুর্থ চরণকে পরিবর্তন করে বলেছেন-

‘লোকমিসং পজহে সন্তিপেক্খো।’

অর্থাৎ পরম শান্তিকামী লোকদের উচিত যে, লোকীয় সুখের আকাঙ্খা অবশ্যই ত্যাগ করা।

বিদর্শন ভাবনার গভীর অনুশীলন দ্বারাই লোকীয় সুখের অভীপ্সা ছিন্ন হয়। এরূপ অনুশীলনকারী সাধক-সাধিকাকে আসন্ন মৃত্যুর প্রতি অবশ্যই সজাগতা থাকা প্রয়োজন। বিদর্শন ভাবনাকারীদের মৃত্যুভয় সামান্যমাত্রও থাকা উচিত নয়। যখনই মৃত্যু আসুক না কেন, প্রসন্ন চিত্তে মৃত্যুকে গ্রহণ করার জন্য তৈরী থাকা প্রয়োজন।

বিদর্শন ভাবনাকারী যোগীদেরকে জীবনের কোনো জন্ম-দিবসের ক্ষণে একদৃষ্টি অতীতের দিকে অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত। এখন পর্যন্ত জীবনে যা কিছু ভুল করা হয়েছে, তা যেন ভবিষ্যতে পুণরায় না হয়, তার জন্য পুণঃ দৃঢ় সঙ্কল্প নেওয়া উচিত। যে সমস্ত সৎ কর্ম এখন পর্যন্ত করা হয়েছে, তা শেষ জীবন পর্যন্ত করার জন্য কৃত সঙ্কল্পবদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৎ কর্ম তো মুক্তি প্রদায়ক ভব দুঃখ বিমোচক বিদর্শন সাধনা অনুশীলনই। তা যেন ছিন্ন না হয়। নিরন্তর যেন চলতে থাকে। আজকে যে অনুশীলন, তা যেন কালকের জন্য রাখা না হয়।

ভগবান মহাকারুণিক বুদ্ধের এরূপ কথন সর্বদা কানের মধ্যে গুঞ্জরণ হয়ে থাকে যে-

‘অজ্জেব কিচ্চমাতপ্পং, কো জঞ্ঞা মরণং সুবে।’

তপস্যার কাজ আজই সম্পাদন করো। তা কালকের জন্য বিলম্ব করোনা। কাল সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা কোথায়!

মৃত্যুকে আমন্ত্রণ করার আবশ্যকতা নাই। কিন্তু তা যখন সম্মুখে আসে, তাতে ভয়ভীত হওয়ারও আবশ্যকতা নাই। আমাদেরকে মৃত্যুর জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। সময়ে সময়ে আমাদেরকে মরণানুস্মৃতি ভাবনা করা উচিত। আমি নিজের অনুভব দ্বারা দেখেছি যে, মরণানুস্মৃতি অতীব ফলদায়ক।

এরূপ করতে গিয়ে কখনও কখনও স্বীয় মানসপটে পরীক্ষা করে দেখা উচিত যে, যদি কাল সকালেই মৃত্যু হয়, তাহলে এ জীবনের অন্তিম ক্ষণের অবস্থা কিরূপ হবে? জীবনের কোন্ অভীপ্সা এখনও বাকী আছে, ধম্ম-পুণ্য কর্মের অভীপ্সা থাকলেও তা যথাসম্ভব সম্পাদন করা উচিত। অথবা যে কোন ভাবাবেশের কাজ মনের মধ্যে জাগ্রত হলে তাহলে তৎক্ষণাৎ মরণানুস্মৃতি করে দেখা উচিত যে, যদি পরের দিনই মৃত্যু হয়, তাহলে মনের এ ভাবাবেশ কি ভব ধারায় ভয়াবহ মোড় নেবে? তা চিন্তা করে কোনো ভাবাবেশ জাগ্রত হতেই তা হতে মুক্তির জন্য সজাগ থেকে মরণানুস্মৃতি করা উচিত।

সময়ে সময়ে মৃত্যুর রিহার্সল করলে এক লাভ ইহাও হয় যে, আমরা জানিনা কত জন্মাবধি ভব সংসরণ করতে করতে চলে আসছি। এবার কোনো পুণ্য কর্মের ফলে অমূল্য মনুষ্য জন্ম লাভ হয়েছে এবং শুদ্ধ ধম্মের সংসর্গ হয়েছে। অসার কর্মকাণ্ড এবং নিরর্থক, নিষ্ফল দার্শনিক মান্যতা সমূহ দ্বারা তথা সাম্প্রদায়িক জালের বন্দিদশা হতে মুক্ত, শুদ্ধ ধম্মের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত হয়েছে। তাহলে এর দ্বারা আমার কি লাভ হাসিল হয়েছে? ইহার হিসাব-নিকাশ সামনে চলে আসে। এতে যা ঘাটতি রয়েছে, তা পুরণ করতে উৎসাহ জাগ্রত হয়। মৃত্যু কাল সকালে আসবে, না আরও অনেক শরৎ পরে আসবে তা আমার জানা নাই।

কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকব, অতীব প্রসন্ন চিত্তে স্বীয় পুণ্য পারমিতা সমূহ পুরণ করতে সচেষ্ট থাকব এবং মানব জীবনকে স্বার্থক করব। পরিণাম যা আসার আসুক, যখন আসবে আসুক। তা ধম্মের উপর ছেড়ে দিলাম। নিজের পক্ষ হতে যথাশক্তি এ মহত্বপূর্ণ জীবনের অবশিষ্ট সময়ের উত্তরোত্তর সদ্ব্যবহার করে যাব। এর জন্য ভগবানের প্রেরণাদায়ী এ বাণীর উদ্বোধন সদা সাথে থাকতে হবে-

‘উত্তিট্ঠে নপ্পমজ্জেয্য ধম্মং সুচরিতং চরে।’

অর্থাৎ উঠো! নির্ভুলভাবে উত্তমরূপে ধম্মাচরণে লেগে থাকো এবং ধম্মাচরণেই নিজেকে নিয়োজিত রাখো। পরিণাম সর্বদা মঙ্গলপ্রদ হবে।

Address

102-22 87th Avenue
Richmond Hill, NY
11418

Opening Hours

Saturday 9am - 5pm
Sunday 9am - 5pm

Telephone

+13478764009

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Buddhist Vihara Of New York posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Bangladesh Buddhist Vihara Of New York:

Share