06/03/2026
হাদিস-৯ঃ শামেলা হাদিস- ২২৯। সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ- ২২৯ (ইফা) ও মিশকাতুল মাসাবীহ- ২৫৭ (তাপ্র)। রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ "আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হযেছি"।
حَدَّثَنَا بِشر بن هلال الصوافُ، حَدَّثَنَا داود بن الزَّبْرِقانِ، عَن بَكْرِ بْن حُنَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرو ، قَالَ خَرَجَ رَسُولَ الله - صلى الله عليه وسلم - ذاتَ يَوْمٍ مِنْ بَعْضِ حُجَرِهِ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بحلقتين إحْدَاهُمَا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَدْعُونَ الله والأخرَى يَتَعَلَّمُونَ وَيُعْلَمُونَ فقال النبي - صلى الله عليه وسلم - " كُل على خَيْرٍ هَؤُلَاءِ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنِ وَيَدْعُونَ اللَّهَ فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ وَإِنْ شَاءَ مَنعَهُمْ وهؤلاء يَتَعَلَّمُونَ وَيُعَلِّمُونَ وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا فَجَلَسَ مَعَهُم
সূত্রঃ হাদিস সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ- ২২৯ (ইফা), মিশকাতুল মাসাবীহ- ২৫৭ (তাপ্র)।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক হুজরা থেকে বের হয়ে এসে মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন সেখানে দুটি সমাবেশ চলছিল। একটি সমাবেশে লোকজন কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকরে মশগুল ছিল এবং অপর সমাবেশে লোকজন শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদানে রত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সকলেই কল্যাণকর তৎপরতায় রত আছে। এই সমাবেশের লোকজন কুরআন তিলাওয়াত করছে এবং আল্লাহর নিকট দুআ করছে। তিনি চাইলে তাদের দান করতেও পারেন আবার চাইলে নাও দিতে পারেন। অন্যদিকে এই সমাবেশের লোকেরা শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদানে রত আছে। আর আমি শিক্ষক হিসাবেই প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর তিনি এদের সমাবেশে বসলেন।
মন্তব্যঃ রাসুল (সাঃ) (যখানে বলেছেন যে, আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি, সেখানে কোনো খাঁটি উম্মত তাঁর কথা ও কাজকে অমান্য করে নিজের আন্দাজ মতন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। কিন্তু এক বেদুঈনের স্বাক্ষী এবং কাফেলার স্বাক্ষীদেরকে দূরত্ব নিয়ে রাসুল (সাঃ) যেখানে কোন প্রশ্ন করেননি, সেখানে আমরা কোন ভাবেই দূরের এবং কাছের প্রশ্ন তুলতে পারি না। অথচ কুরাইবের হাদিসের উপর ভিত্তি করে কতিপয় মোহাদ্দিস সহ বায়তুল মোকাররমের বর্তমান খতীব মুফতী আব্দুল মালেক দূরত্ব বেশীর অজুহাত দেখিয়ে দেশে দেশে চাঁদ দেখে দেশে দেশে রোজা/ঈদ পালনের ফতোয়া দিয়ে আসছেন। আমার ধারনা আপনারাও একই কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশ্নঃ আমরা রাসুল (সাঃ) কে শিক্ষক মানতে পারছি না কেন?
হাদিস-১০: সহিহ মুসলিম-১৪৬৯।
"রসুলুল্লাহ (সাঃ) যা করেছেন, আমাদেরকে তাই করতে হবে"।
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا شُعْبَةً عَن يَزِيدَ بْنِ حُمَيْرٍ، عَن حبيب بن عُبَيْدٍ، عَن جبير بن نفير ، قَالَ خَرَجْتُ مع شرحبيل بن السمط إلَى قَرْيَةٍ عَلَى رَأْسِ سَبْعَة عشر أو ثمانية عشر ميلاً فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ . فَقُلَتْ لَهُ فَقَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ صَلَّى بذي الحليفة ركعتين فَقُلْتُ لَهُ فَقَالَ إِنَّمَا أَفْعَلْ كَمَا
رَأَيْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُ .
বাংলা অনুবাদঃ জুবায়ের ইবনু নুফায়র (রহঃ) থেকে বর্নিত- তিনি বলেন, আমি শুরাহবীল ইবনু আস সিমন্ব (রাঃ)-এর সাথে সতের বা আঠার মাইল দূরবর্তী এক গ্রামে গেলাম। তিনি সেখানে (চার রাক'আতের পরিবর্তে) দু' রাক'আত সলাত আদায় করলেন। আমি তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেলনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যা করতে দেখেছি তাই করে থাকি। (ই.ফা. ১৪৫৪, ই.সে ১৪৬৩)
মন্তব্যঃ এই সহিহ হাদিসে একজন সাহাবী সরাসরি বলে দিচ্ছেন যে, "আমি রাসল (সাঃ) কে যা করতে দেখেছি তাই করে থাকি”। অতএব এক বেদুঈনের স্বাক্ষী এবং কাফেলার স্বাক্ষীদেরকে দূরত্ব নিয়ে যেহেতু রাসুল (সাঃ) কোনই প্রশ্ন করেননি, সেহেতু এই হাদিসের আলোকে আমরাও কোন প্রশ্ন তুলতে পারি না। তিনি যা করেছেন আমাদেরকেও তাই করতে হবে। অর্থাৎ সৌদি আরব বা অন্য কোন পশ্চিমা দেশের নীশ্চিত স্বাক্ষ্য পেলে তা গ্রহন করতে হবে, দূরত্বের প্রশ্ন করা যাবে না। আমাদের জন্য এটাই রাসুল (সাঃ) এর শিক্ষা, যেটা বাংলাদেশে মানা হয় না। তবে বর্তমানে যেহেতু কোরআনে বলা হিসাব অনুযায়ী তৈরী করা "উম্মুল কুরা হিজরী ক্যালেন্ডার" পাওয়া যাচ্ছে, সেহেতু সেটা দেখে মাস শুরু করা যায়। তাহলে মাস শুরু নিয়ে পৃথিবীর কোথাও কোন বিশৃংখলাই থাকবে না, ইনশাআল্লাহ।
নিবেদকঃ ইন্জিঃ মোহাম্মদ এনামুল হক।
প্রাক্তন মহাপরিচালক, টেলিযোগাযোগ ষ্টাফ কলেজ, গাজীপুর। মহাসচিব, হিজরী ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ। লেখক, দুই যুগের গবেষক এবং সমাজ সংস্কারক। হোয়াটসআপ নম্বর: +17633137581
ইমেইলঃ [email protected]