Engr Mohammad Enamul Huq

Engr Mohammad Enamul Huq -BSC Engg./BUET/1966. Retd. Member BTTB in 2000. Writer of CHANDROMASH. Now a public Figure in Bd

হাদিস-৯ঃ শামেলা হাদিস- ২২৯। সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ- ২২৯ (ইফা) ও মিশকাতুল মাসাবীহ- ২৫৭ (তাপ্র)। রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ "আমি শ...
06/03/2026

হাদিস-৯ঃ শামেলা হাদিস- ২২৯। সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ- ২২৯ (ইফা) ও মিশকাতুল মাসাবীহ- ২৫৭ (তাপ্র)। রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ "আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হযেছি"।

حَدَّثَنَا بِشر بن هلال الصوافُ، حَدَّثَنَا داود بن الزَّبْرِقانِ، عَن بَكْرِ بْن حُنَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرو ، قَالَ خَرَجَ رَسُولَ الله - صلى الله عليه وسلم - ذاتَ يَوْمٍ مِنْ بَعْضِ حُجَرِهِ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بحلقتين إحْدَاهُمَا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَدْعُونَ الله والأخرَى يَتَعَلَّمُونَ وَيُعْلَمُونَ فقال النبي - صلى الله عليه وسلم - " كُل على خَيْرٍ هَؤُلَاءِ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنِ وَيَدْعُونَ اللَّهَ فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ وَإِنْ شَاءَ مَنعَهُمْ وهؤلاء يَتَعَلَّمُونَ وَيُعَلِّمُونَ وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا فَجَلَسَ مَعَهُم

সূত্রঃ হাদিস সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ- ২২৯ (ইফা), মিশকাতুল মাসাবীহ- ২৫৭ (তাপ্র)।

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক হুজরা থেকে বের হয়ে এসে মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন সেখানে দুটি সমাবেশ চলছিল। একটি সমাবেশে লোকজন কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকরে মশগুল ছিল এবং অপর সমাবেশে লোকজন শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদানে রত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সকলেই কল্যাণকর তৎপরতায় রত আছে। এই সমাবেশের লোকজন কুরআন তিলাওয়াত করছে এবং আল্লাহর নিকট দুআ করছে। তিনি চাইলে তাদের দান করতেও পারেন আবার চাইলে নাও দিতে পারেন। অন্যদিকে এই সমাবেশের লোকেরা শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদানে রত আছে। আর আমি শিক্ষক হিসাবেই প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর তিনি এদের সমাবেশে বসলেন।

মন্তব্যঃ রাসুল (সাঃ) (যখানে বলেছেন যে, আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি, সেখানে কোনো খাঁটি উম্মত তাঁর কথা ও কাজকে অমান্য করে নিজের আন্দাজ মতন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। কিন্তু এক বেদুঈনের স্বাক্ষী এবং কাফেলার স্বাক্ষীদেরকে দূরত্ব নিয়ে রাসুল (সাঃ) যেখানে কোন প্রশ্ন করেননি, সেখানে আমরা কোন ভাবেই দূরের এবং কাছের প্রশ্ন তুলতে পারি না। অথচ কুরাইবের হাদিসের উপর ভিত্তি করে কতিপয় মোহাদ্দিস সহ বায়তুল মোকাররমের বর্তমান খতীব মুফতী আব্দুল মালেক দূরত্ব বেশীর অজুহাত দেখিয়ে দেশে দেশে চাঁদ দেখে দেশে দেশে রোজা/ঈদ পালনের ফতোয়া দিয়ে আসছেন। আমার ধারনা আপনারাও একই কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশ্নঃ আমরা রাসুল (সাঃ) কে শিক্ষক মানতে পারছি না কেন?

হাদিস-১০: সহিহ মুসলিম-১৪৬৯।

"রসুলুল্লাহ (সাঃ) যা করেছেন, আমাদেরকে তাই করতে হবে"।

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا شُعْبَةً عَن يَزِيدَ بْنِ حُمَيْرٍ، عَن حبيب بن عُبَيْدٍ، عَن جبير بن نفير ، قَالَ خَرَجْتُ مع شرحبيل بن السمط إلَى قَرْيَةٍ عَلَى رَأْسِ سَبْعَة عشر أو ثمانية عشر ميلاً فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ . فَقُلَتْ لَهُ فَقَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ صَلَّى بذي الحليفة ركعتين فَقُلْتُ لَهُ فَقَالَ إِنَّمَا أَفْعَلْ كَمَا

رَأَيْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُ .

বাংলা অনুবাদঃ জুবায়ের ইবনু নুফায়র (রহঃ) থেকে বর্নিত- তিনি বলেন, আমি শুরাহবীল ইবনু আস সিমন্ব (রাঃ)-এর সাথে সতের বা আঠার মাইল দূরবর্তী এক গ্রামে গেলাম। তিনি সেখানে (চার রাক'আতের পরিবর্তে) দু' রাক'আত সলাত আদায় করলেন। আমি তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেলনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যা করতে দেখেছি তাই করে থাকি। (ই.ফা. ১৪৫৪, ই.সে ১৪৬৩)

মন্তব্যঃ এই সহিহ হাদিসে একজন সাহাবী সরাসরি বলে দিচ্ছেন যে, "আমি রাসল (সাঃ) কে যা করতে দেখেছি তাই করে থাকি”। অতএব এক বেদুঈনের স্বাক্ষী এবং কাফেলার স্বাক্ষীদেরকে দূরত্ব নিয়ে যেহেতু রাসুল (সাঃ) কোনই প্রশ্ন করেননি, সেহেতু এই হাদিসের আলোকে আমরাও কোন প্রশ্ন তুলতে পারি না। তিনি যা করেছেন আমাদেরকেও তাই করতে হবে। অর্থাৎ সৌদি আরব বা অন্য কোন পশ্চিমা দেশের নীশ্চিত স্বাক্ষ্য পেলে তা গ্রহন করতে হবে, দূরত্বের প্রশ্ন করা যাবে না। আমাদের জন্য এটাই রাসুল (সাঃ) এর শিক্ষা, যেটা বাংলাদেশে মানা হয় না। তবে বর্তমানে যেহেতু কোরআনে বলা হিসাব অনুযায়ী তৈরী করা "উম্মুল কুরা হিজরী ক্যালেন্ডার" পাওয়া যাচ্ছে, সেহেতু সেটা দেখে মাস শুরু করা যায়। তাহলে মাস শুরু নিয়ে পৃথিবীর কোথাও কোন বিশৃংখলাই থাকবে না, ইনশাআল্লাহ।

নিবেদকঃ ইন্জিঃ মোহাম্মদ এনামুল হক।
প্রাক্তন মহাপরিচালক, টেলিযোগাযোগ ষ্টাফ কলেজ, গাজীপুর। মহাসচিব, হিজরী ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ। লেখক, দুই যুগের গবেষক এবং সমাজ সংস্কারক। হোয়াটসআপ নম্বর: +17633137581
ইমেইলঃ [email protected]

হাদিস-৮: যেই কোন দেশের ২ জনের স্বাক্ষী = সহিহ সুনান আন নাসায়ী-২১১৬ ও সুনান আবু দাউদ-২৩১৯।عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَ...
05/22/2026

হাদিস-৮: যেই কোন দেশের ২ জনের স্বাক্ষী = সহিহ সুনান আন নাসায়ী-২১১৬ ও সুনান আবু দাউদ-২৩১৯।

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ خَطَبَ النَّاسَ فِي الْيَوْمِ الَّذي يُشَكٍّ فِيهِ، فَقَالَ: أَلا إِنِّي جَالَسْتْ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَاءَلْتُهُمْ، وَإِنَّهُمْ حَدْتُونِي أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «صُومُوا لِرُؤيَتِهِ، وَأَقْطَرُوا لِرُؤيَتِهِ، وَاتَّسُكُوا لَهَا فَإِنْ غُمْ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا ثَلَاثِينَ، فَإِن شهد شاهِدَانِ فَصُومُوا، وَأَفْطِرُوا »

সূত্রঃ সহিহ হাদিস সুনান আননাসায়ী-২১১৬ (আহা), সুনান আননাসায়ী-২১২০ (ইফা), সুনানে আবু দাউদ-২৩১৯ (ইফা), সহীহুল জামে-৩৮১১ এবং ইরউয়াউল গালীল-৯০৯।

অনুবাদঃ আব্দুর রহমান ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রমযান বা শা'বান মাসের সন্দেহযুক্ত দিনে লোকদের উদ্দেশ্য করে বললেনঃ শুন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের সাথে বসা ছিলাম। আমি তাদের প্রশ্ন করলে তাঁরা আমার কাছে বর্ননা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা হেলাল দেখে সওম (রোযা) পালন কর এবং হেলাল দেখে সওম (রোযা) ভঙ্গ কর আর হেলাল দেখেই কুরবানী কর। তবে হ্যাঁ, (শা'বান মাসের ২৯ তারিখে) যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তোমরা মাসের ৩০ দিন পূর্ণ করে নেবে। তবে দু'জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে তোমরা সওম (রোযা) পালন করবে এবং ভঙ্গ করবে।

মন্তব্য-১: এই সহিহ হাদিসের মূল বক্তব্যের সাথে অন্যান্য হাদিসের মিল আছে। তবে শেষের লাইনের বক্তব্যটা কিন্তু আলাদা। সেটা হলঃ তবে দু'জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে তোমরা সওম (রোযা) পালন করবে এবং ভঙ্গ করবে। এখানে স্বাক্ষ্য পেলে গ্রহন করার কথা পরিষ্কার ভাষায় বর্ননা করা হয়েছে। তবে আগের হাদিসগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী একক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য নেওয়া বৈধ ধরা হতো, কিন্তু এই হাদিসে নির্দিষ্ট করে দুইজন স্বাক্ষীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এসব কথা উপেক্ষা করার মতো নয়।

মন্তব্য-২: স্বাক্ষ্য পেলে গ্রহন করার কথা একমাত্র সহিহ বুখারী-১৯০৬ তে পাওয়া যায় না। এটা ছাড়া বাকী সকল হাদিস, বিশেষ করে এক বেদুঈনের স্বাক্ষী, কাফেলার স্বাক্ষী এবং উপরে বলা হাদিসে দুই জনের স্বাক্ষীর কথা নির্দিষ্ট করে বলা আছে। তাই স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য উপেক্ষা করে ফতোয়া দেওয়া কখনো যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।

মন্তব্য-৩ঃ সকল হাদিসেই "হেলাল" বা "নতুন চাঁদ" দেখা অথবা স্বাক্ষ্য পাওয়ার কথা পরিস্কার ভাবে বলা আছে। আপনার ফতোয়ায় বলা শুধু "চাঁদ” দেখার কথা কোন হাদিসেই পাওয়া যায় না। "হেলাল” এবং "কমার" এর দুইটা আলাদা অস্তিত্ব কোরআন এবং হাদিসে স্বীকৃত। কিন্তু আপনার চিঠিতে "হেলাল"কে "চাঁদ” বলে তা অস্বীকার করা হয়েছে। তাই আমার বিশেষ অনুরোধ, দয়াকরে ফতোয়ার ভাষা কোরআন ও হাদিসের আলোকে সংশোধন করুন। আর "হেলাল" দেখা এবং "হেলাল” এর স্বাক্ষ্য গ্রহন করাকে আমলে নিয়ে ফতোয়া প্রদান করুন।

মন্তব্য-৪: তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, হাদিসে বলা এইসব কথা বিবেচনা করেই OIC ১৯৮৬ সালে দুটো সিদ্ধান্তেই গ্লোবাল রোজা/ঈদ পালনের কথা বলেছিল। কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রের কেউ কেউ সম্মেলনে দস্তখতকারী হওয়া সত্বেও পরে দ্বীমত পোষন করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভাজনের সৃষ্টি করে রেখেছেন। বাংলাদেশও তার মধ্যে পড়ে। এর চাইতে দুঃখের বিষয় আর কি হতে পারে?

(ইচ্ছা করলে আপনিও ১৪টা পর্ব সংরক্ষন করতে পারেন)

হাদিস-৭ঃ কাফেলার স্বাক্ষী শামিলা হাদিস সুনান আন নাসায়ী-১৫৫৭, সুনান আবু দাউদ-১১৫৭ ও সুনান ইবনু মাজাহ-১৬৫৩। হাদিস সহীহ।حَد...
05/17/2026

হাদিস-৭ঃ কাফেলার স্বাক্ষী শামিলা হাদিস সুনান আন নাসায়ী-১৫৫৭, সুনান আবু দাউদ-১১৫৭ ও সুনান ইবনু মাজাহ-১৬৫৩। হাদিস সহীহ।

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَن جعفر بن أبي وَحْشِيَّة، عن أبي عمير بن أنس، عَنْ عُمُومَةٍ، لَهُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ رَكْبًا جَاءُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَشْهَدُونَ أَنَّهُمْ رَأَوا الهلالَ بِالْأَمْسِ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يُفْطِرُوا

وَإِذَا أَصْبَحُوا أَنْ يَعْدُوا إِلَى مُصَلاهُمْ .

বাংলাদেশের সূত্রঃ সহীহ সুনান আননাসায়ী-১৫৫৭ (আহা), আবু দাউদ-১১৫৭, ২৩৪১ (আহা), সুনান ইবনে মাজাহ-১৬৫৩ (আহা)।

অনুবাদঃ একদা নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে (৩০তম রোজার দিন) একদল আরোহী (কাফেলা) এসে সাক্ষ্য দিলো যে, গতকাল তারা (ঈদের) হেলাল দেখেছে। তিনি লোকদেরকে রোজা ভঙ্গ করার এবং পরদিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

মন্তব্য-১: এই হাদিসে রাসুল (সাঃ) উম্মতের শিক্ষার জন্য স্বাক্ষীদেরকে জেনে বুঝে দূরত্বের ব্যাপারে কোনই প্রশ্ন করেননি। কারন তিনি অবশ্যই জানতেন যে, সংবাদ পাওয়া দূরত্বের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল। এটা বর্তমানে আমরা ভালকরেই জানি ও বুঝি। যেমন, বর্তমানে আমেরিকা থেকে এক মিনিটে আমরা টেলিফোনে খবর পেয়ে যাই। অথচ যোগাযোগহীন পাঁচ মাইল দূরত্ব হতে খবর পেতে আধাদিন সময়ও লেগে যেতে পারে। তাই নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, রাসুল (সাঃ) উম্মতদেকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দূরত্বের কথা জিজ্ঞেস করেননি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে, এই যুগের অতিরিক্ত বেশী বুদ্ধিমান (?) কিছু উম্মত না বুঝে দূরত্বের প্রশ্ন তুলে রাসুল (সাঃ) কে বিবেকহীন, নালায়েক এবং কম বুদ্ধিমান সাব্যস্ত করে উম্মাহকে বিপথগামী করতে সামর্থ হয়েছেন। ফলে কম দূরত্ব হলে তারা স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন, আর বেশী দূরত্ব হলে গ্রহন করেন না !? # এতেকরে নীচের দুইটা সহিহ হাদিসকে অমান্য করা হয়ে যায়:-

১) নবী (সাঃ) বলেছেন, "আমাকে শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।" (দেখুন হাদিস-৯ সংযুক্ত) এবং

২) "নবী (সাঃ) যা করেছেন, আমাদেরকেও অনুরুপ তাই করতে হবে"। (দেখুন হাদিস-১০ সংযুক্ত)।

এই ভুল বাংলাদেশেও করা হচ্ছে। আশাকরি, আপনাদের সুবিবেচনা প্রসুত কারনে প্রদত্ব ফতোয়ার সংশোধনী পেলে এই ভুল আর হবে না।

মন্তব্য-২: এর ভিত্তিতে বেশী দূরত্বের কারন দেখিয়ে বাংলাদেশের মুফতীগনও সৌদিআরবের নতুন চাঁদের স্বাক্ষ্য গ্রহন না করে একদিন পরে পুরাতন চাঁদ দেখে রমজান মাস শুরু করেন। ফলে প্রথম রোজা ছুটে যায় এবং শেষেরটা হারাম রোজা হয়ে যায়। অথচ বাংলাদেশ রাত সাড় নয়টায় সৌদিআরব থেকে নতুন চাঁদের খবর পেয়ে ভোর রাতে সাহরী খেয়ে পরের দিন অনায়াসেই প্রথম ফরজ রোজা ধরতে পারে। "রোজা শুরু করা চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল"- এই কথাতো হাদিসে নেই। আপনারা সেটা কোথায় পেয়েছেন- দয়াকরে জানিয়ে বাধিত করবেন।

(ইচ্ছা করলে আপনিও ১৪টা পর্ব সংরক্ষন করতে পারেন)

05/15/2026

বিশ্বব‍্যাপী একই তারিখে ও বারে চান্দ্রমাস শুরু নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব-২৯

হাদিস-৬ঃ এক বেদুইনের স্বাক্ষী জামিয়া আত তিরমিজী-৬৮৮, সুনান ইবনু মাজাহ-১৬৫২। উভয় হাদিসই জয়ীফ।حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِ...
05/13/2026

হাদিস-৬ঃ এক বেদুইনের স্বাক্ষী জামিয়া আত তিরমিজী-৬৮৮, সুনান ইবনু মাজাহ-১৬৫২। উভয় হাদিসই জয়ীফ।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن الصباح، حدثنا الوليد بن أبي ثور، عَنْ سِمَاكِ، عَنْ عِكْرِمَةً، عن ابن عباس، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الهلال . قَالَ " أَتَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " يَا بِلالُ أَذْنَ فِي النَّاسِ أَنْ يَصُومُوا غَدًا " .

বাংলাদেশের সূত্রঃ সুনান আততিরমিজী-৬৯১ (আহা)।

অনুবাদঃ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, কোন এক বেদুঈন ব্যক্তি নবীর (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট এসে বলল, আমি (রামজানের) হেলাল দেখেছি। তিনি বললেন তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই? সে বলল, হ্যাঁ। তুমি কি আরো সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা'আলার রাসূল? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ হে বিলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও তারা যেন আগামীকাল হতে রোজা রাখে।

মন্তব্য-১ঃ উপরের হাদীসটা জয়ীফ। কিন্তু বর্ননাকারী যেহেতু একজন উচুমানের বিশ্বস্থ সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাঃ) তাই সবাই এই যয়ীফ হাদীসটাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন। আমরাও হাদীসটার উপর গুরুত্বারোপ করতে পারি।

মন্তব্য-২ঃ এই হাদিসে রাসুল (সাঃ) উম্মতের শিক্ষার জন্য স্বাক্ষীকে জেনে বুঝে দূরত্বের ব্যাপারে কোনই প্রশ্ন করেননি। কারন তিনি অবশ্যই জানতেন যে, সংবাদ পাওয়া দূরত্বের উপর নির্ভর করে না, বরং যোগাযোগের মাধ্যমের উপর নির্ভর করে। এটা বর্তমানে আমরা ভালকরেই জানি ও বুঝি। যেমন, বর্তমানে আমেরিকা থেকে এক মিনিটে আমরা টেলিফোনে খবর পেয়ে যাই। অথচ যোগাযোগহীন পাঁচ মাইল দূরত্ব হতে খবর পেতে আধাদিন সময়ও লেগে যেতে পারে। তাই নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, রাসুল (সাঃ) উম্মতদেকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দূরত্বের কথা জিজ্ঞেস করেননি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে, এই যুগের অতিরিক্ত বেশী বুদ্ধিমান (?) কিছু উম্মত না বুঝে দূরত্বের প্রশ্ন তুলে রাসুল (সাঃ) কে বিবেকহীন, নালায়েক এবং কম বুদ্ধিমান সাব্যস্ত করে উম্মাহকে বিপথগামী করতে সামর্থ হয়েছেন। ফলে কম দূরত্ব হলে তারা স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন, আর বেশী দূরত্ব হলে গ্রহন করেন না!?

# এতেকরে নীচের দুইটা সহিহ হাদিসকে অমান্য করা হয়ে যায়:-
১) নবী (সাঃ) বলেছেন, "আমাকে শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।"
(হাদিস- ৯ সংযুক্ত)

এবং ২) "নবী (সাঃ) যা করেছেন, আমাদেরকেও অনুরুপ তাই করতে হবে"। (হাদিস-১০ সংযুক্ত)। এই ভুল বাংলাদেশেও করা হচ্ছে। আশাকরি, আপনাদের সুবিবেচনা প্রসুত কারনে প্রদত্ব ফতোয়ার সংশোধনী পেলে এই ভুল আর হবে না।

মন্তব্য-৩ঃ এর ভিত্তিতে বেশী দূরত্বের কারন দেখিয়ে বাংলাদেশের মুফতিগনও সৌদিআরবের নতুন চাঁদের স্বাক্ষ্য গ্রহন না করে একদিন পরে পুরাতন চাঁদ দেখে রমজান মাস শুরু করেন। ফলে প্রথম রোজা ছুটে যায় এবং শেষেরটা হারাম রোজা হয়ে যায়। অথচ বাংলাদেশ রাত সাড়ে নয়টায় সৌদিআরব থেকে নতুন চাঁদের খবর পেয়ে ভোর রাতে সাহরী খেয়ে পরের দিন অনায়াসেই প্রথম ফরজ রোজা ধরতে পারে। "রোজা শুরু করা চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল"- এই কথাতো হাদিসে নেই, আপনারা সেটা কোথায় পেয়েছেন- দয়াকরে জানিয়ে বাধিত করবেন।

হাদিস-৫: আমরা উম্মী জাতি (লিখিতে জানি না, হিসাবও রাখিতে জানিনা)= শামেলা হাদীস সহীহ বুখারী-১৯১৩ ও মিশকাত-১৯৭১।إِنَّا أُمّ...
05/09/2026

হাদিস-৫: আমরা উম্মী জাতি (লিখিতে জানি না, হিসাবও রাখিতে জানিনা)= শামেলা হাদীস সহীহ বুখারী-১৯১৩ ও মিশকাত-১৯৭১।
إِنَّا أُمَّةً أميةً لا تَكْتُبُ وَلا تَحْسَبُ الشهر هكذا وهكذا يعني مرة تسعة وعشرينَ وَمَرةً ثلاثين .
বাংলাদেশের সূত্রঃ সহীহ বুখারী-১৭৯২ (ইফা), বুখারী-১৯১৩ (আহা), সুনানে আবু দাউদ-২৩১৯ (আহা) এবং মিশকাত-১৯৭১ (আহা)।

অনুবাদঃ নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমরা উম্মী জাতি। আমরা লিখি না বা লিখিতে জানি না এবং হিসাবও করি না বা হিসাব করিতেও জানি না। মাস হয় এই এই এইতে অর্থাৎ আঙ্গুলের ইশারায় ৩০/২৯ দিনে।

মন্তব্য-১: এই সহীহ হাদীসে রাসুল (সাঃ) নিজে ঘোষণা দিচ্ছেন যে, আমরা "নীরক্ষর জাতি" তাই আমরা লিখিতে জানি না এবং হিসাব করিতেও জানি না। ফলে কোরআনে বলা হেলালের হিসাব করে মাস শুরু করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই অক্ষমতার কারনে (ওজর) রাসুল (সাঃ) তাঁর উম্মতদেরকে স্থানীয় ভাবে হেলাল বা নতুন চাঁদ দেখেই মাস শুরু করতে বলেছেন। কারন ফরজ রোজা কোন ভাবেই ত্যাগ করা সম্ভব ছিল না। এটাকে পানির অভাবে তায়াম্মুম করার সাথে তুলনা করা যায়।

মন্তব্য-২ঃ অতএব বলা যায় যে, যখন কোরআনের কথা মতন হিসাবের সাহায্যে (হিজরী ক্যালেন্ডার বানিয়ে) মাস শুরু করা যাবে তখন হেলাল দেখে মাস শুরু করা যাবে না। ২০০০ সাল থেকে কোরআনের হিসাব অনুযায়ী বানানো "উম্মুল কুরা হিজরী ক্যালেন্ডার" পাওয়া যাচ্ছে বিধায় এখন "নীরক্ষর জাতি" এর মতন হেলাল বা নতুন চাঁদ দেখে মাস শুরু করা ঠিক হবে না। এটাকে ঘড়ির মতন আল্লাহ তায়ালার অপার নিয়ামত মনে করতে হবে। কারন আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য সহজতা চান, কঠিনতা চান না। (সুরাহ বাক্কারা, আয়াত-১৮৫)।

মন্তব্য-৩: সুরাহ বাকারার আয়াত-১৮৯ এর প্রথমাংশে বলা হয়েছেঃক) "হে নবী! লোকেরা আপনাকে ১২টা নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। আপনি বলুন এই ১২টা নতুন চাঁদ ১২ মাসের আরম্ভকারী সকল মানুষের জন্য এবং হজ্জের তারিখ নির্ধারনের জন্য"। খ) সংক্ষেপেঃ হে মানবজাতি, তোমরা (হিসাবের সাহায্যে) ১২টা নতুন চাঁদ দিয়ে ১২টা মাস শুরু করো এবং এইভাবে হজ্জের তারিখ নির্ধারন করো।

# উপরোক্ত আয়াতে হিসাবের কথা না বলা থাকলেও বহু আয়াতে বার বার হিসাবের কথা বলা হয়েছে। কারন কোরআনে বলা নতুন চাঁদ অমাবস্যার মাঝখানে কনজাংশন থেকে শুরু হয়। সেটা খালী চোখে কখনো দেখা যায় না। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের সাহায্যে জ্ঞানের চোখে দেখা ছাড়া অন্য কোন উপায়ে দেখা সম্ভব নয়। তাছাড়া নতুন চাঁদের বয়সের হিসাব সর্বদা কনজাংশন থেকেই ধরা হয়ে থাকে। যেসকল আয়াতে হিসাবের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ- ৫৫:৫ + ৬:৯৬ + ১০:৫ + ১৩:২ + ১৭:১২ + ২৪:৪৪ + ৩৬:৩১ + ১৮:২৫। সুরা কাহাফের আয়াত-২৫ এর মধ্যে বলা হয়েছে যে: ৩০০ সৌর বৎসর = ৩০৯ হিজরী বৎসর। জ্ঞানীরা ছাড়া অন্য কারও পক্ষে এই রহস্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আমি হিসাব করে এই কথা ১০০% প্রমান করে দিতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য-৪: উপরে উল্লেখিত সুরাহ বাকারার আয়াত-১৮৯ এর প্রথমাংশের তাফসীর পৃথিবীর কোন মোফাসীরই আজ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ভাবে বলতে পারেননি। এই কথা আপনাদের পক্ষে বিশ্বাস করা অসম্ভব হবারই কথা। কারন আমি ইন্জিনীয়ারিং পড়া মানুষ মাদ্রাসায় না পড়ে কোরআনের রহস্য উদ্ঘাটন করলাম কিভাবে? তবে আল্লাহর নামে কছম করে আমি ১০০% নিশ্চিত হয়ে বলছি- এর সকল কৃতিত্ব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার, আমার না। পুরো রহস্যের অংশ বিশেষ জানালাম। যদি কেউ একিনের সাথে আরও কিছু জানতে চান আমি জানাতে চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। তবে সময় পাব কিনা জানি না। এখন এই মহাদেশের মোফাসীরদের গল্প শুনুন। পাক-ভারত-বাংলাদেশের মুফাস্সীরের কেউই আল্লাহ তায়ালার বলা "আহিল্লাহ" কে বহুবচন মানতে রাজী হননি। তাঁরা "আহিল্লাহ" এর অর্থ কেউ করেছেন "নতুন চাঁদ", কেউ করেছেন "চাঁদ" আবার কেউ করেছেন "চাঁদের বাড়া-কমা" (তাফহীমুল কুরআন)?!? আমার প্রশ্ন, আল্লাহ তায়ালার বহুবচনকে তাঁরা একবচন সাব্যস্থ করলেন কোন অধিকারে!?

মন্তব্য-৫: সুরাহ বাক্কারার আয়াত-১৮৯ এর প্রথমাংশের শেষে বলা শব্দ "মাওয়াক্বীতু" এর অনুবাদ পৃথিবীর কোন তাফসীরকারকই সুনির্দিষ্টভাবে করতে পারেননি। না বুঝার কারনে তাঁরা সবাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এমন সব ব্যাখ্যা লিখে রেখেছেন যেটা রয়ে গেছে রহস্যাবৃক্ত। ১২টা নতুন চাঁদ দিয়ে ১২টা মাস শুরু করার কথা কেউ বুঝতেই পারেননি; হিসাবের কথা বুঝাতো অনেক দূরের কথা। অথচ মাস শুরু নিয়ে কোরআনের এই হুকুমের কথাটা রাসুল (সাঃ) ঠিকই জানতেন। তাই তিনি এই হাদিসে "উম্মী জাতির” কথা দিয়ে কোরআনের হিসাব না জানার বিষয়টা উম্মতকে বলে গেছেন। অথচ এতদিনেও কেউ এই রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।

মন্তব্য-৬: আল্লাহ তায়ালার অপার মেহেরবানীতে আমার মতন নালায়েক বান্দা সেই অসাধ্য সাধন করেছে। যেহেতু আল্লাহ তায়ালার বানীটা পবিত্র কোরআনে বিদ্যমান ছিল, কিন্তু আজপর্যন্ত কেউ সেটা উপলব্ধি করতে পারেননি, সেহেতু আমার এই পাওয়াকে ইংরেজীতে Discovery এবং বাংলাতে আবিষ্কার বলা ছাড়া কোন উপায় নেই। তবে কেউ যদি অন্য কোন তাফসীরে আমার মতন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেখাতে পারেন তাহলে আমার দাবী প্রত্যাহার করে নেব, ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য-৭: এই আবিষ্কারের ফলে কোরআনের কথা অনুযায়ী ১২টা নতুন চাঁদ দিয়ে হিসাবের মাধ্যমে ১২টা চান্দ্রমাস শুরু করতে হবে। আর সেই কাজটা ১৯৯৯ সালে সৌদিআরবের বিজ্ঞানীগন "উম্মুল কুরা হিজরী ক্যালেন্ডর" তৈরীর মাধ্যমে অনেকাংশে করে ফেলেছেন। অতএব বর্তমানে মুসলিম উম্মাহকে এই ক্যালেন্ডারের তারিখ দেখে বিশ্বব্যাপী একই তারিখে ও বারে রমজান মাস শুরু করতে হবে। তারপর সুরাহ বাকারার আয়াত- ১৮৭ এর মধ্যখানে বলা নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন রোজা রাখতে হবে এবং বেলা দুপুরের আগে ঈদের সলাত আদায় করতে হবে। নাফরমান ছাড়া কোন বান্দাই আল্লাহ তায়ালার এমন অপার নেয়ামতকে অস্বীকার করতে পারে না।

05/07/2026
হাদিস-৪ঃ যেখানে যখন হেলাল বা নতুন চাঁদ দেখা যেতো সেখানে তখন মাস শুরু করা হতো (আসবাকুর রুইযা)। শামেলা হাদীস সহীহ মুসলিম-২...
05/06/2026

হাদিস-৪ঃ যেখানে যখন হেলাল বা নতুন চাঁদ দেখা যেতো সেখানে তখন মাস শুরু করা হতো (আসবাকুর রুইযা)। শামেলা হাদীস সহীহ মুসলিম-২৪১৯।

عن أبي البختري، قَالَ خَرَجْنَا العُمْرَةِ فَلَمَّا نَزَلْنا بِبَطْنِ نَخْلَة - قَالَ - تَرَاعَيْنَا الهلال فقَالَ بَعْضَ الْقَوْمِ هُوَ ابْنُ ثَلَاثَ ، وَقَالَ بَعْضَ الْقَوْمِ هُوَ ابْن لَيْلَتَيْنِ قَالَ فَلَقِينَا ابْن عَباسِ فَقُلْنَا إِنَّا رَأَيْنَا الهلال فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ هُوَ ابْنُ ثَلَاثَ وَقَالَ بَعْضَ الْقَوْمِ هُوَ ابْنُ لَيْلَتَيْن ، فَقَالَ أَي لَيْلَةٍ رَأَيْتُمُوهُ قَالَ فَقُلْنَا لَيْلَةً كَذَا وَكَذَا ، فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ مَدَّهُ

للرُّؤْيَةِ فَهُوَ لِلَّيْلَةَ رَأَيْتُمُوهُ "

বাংলাদেশের সূত্রঃ সহীহ মুসলিম-২৪১৯ (আহা)।
অনুবাদঃ আবুল বাখতারী (রহঃ) থেকে বর্নীতঃ তিনি বলেন, একবার আমরা 'উমরাহ করার জন্য বের হলাম। যখন আমরা (মাক্কাহ ও তায়িফের মাঝামাঝি অবস্থিত) "বাম্বনে নাখলাহ" নামক স্থানে অবতরণ করলাম সকলে মিলে হেলাল দেখতে লাগলাম। লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, এটা তো তিন দিনের হেলাল, আবার কেউ বলল দু'দিনের। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আমরা ইবুন 'আব্বাস (রা:)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমরা হেলাল দেখেছি। কিন্তু লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে, এ তো দু'দিনের হেলাল আবার কেউ কেউ বলেছে এতো তিন দিনের হেলাল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন রাতে দেখেছো? আমরা বললাম, অমুক দিল,অমুক রাতে। তিনি বললেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেদিন রাতে হেলাল দেখতেন ঐ দিনেরই তারিখ ধরতেন। সুতরাং হেলাল সে রাতেই উঠেছে যে রাতে তোমরা দেখেছো।

মন্তব্য-১ঃ যেথানে যখন হেলাল বা নতুন চাঁদ দেখা যেতো সেখানে তখন মাস শুরু করা হতো (আসবাকুর রুইয়া)। এই হাদিসের মাধ্যমে সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর বরাত দিয়ে এই কথাটাই বলেছেন। কুরাইব এর হাদিসটাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হযেছে মাত্র। যোগাযোগের অভাবে তখনকার জন্য এটাই সঠিক নিয়ম ছিল। দুইটা হাদিস একই কথা প্রমান করে। বর্তমানে সিরিযা ও মদীনা একই দিনে মাস শুরু করছে। কুরাইবের হাদিস নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। আমি আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করতে চাই- সিরিয়া এবং মদীনার আলেমদেরকে অবজ্ঞা করা কি আমাদের উচিৎ হচ্ছে? নিজের মতকে বড় না জেনে কোরআন এবং হাদিসের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে আসনাদের কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত পাব বলে আশা করছি।

(ইচ্ছা করলে আপনিও ১৪টা পর্ব সংরক্ষন করতে পারেন)

॥ আসমানী বিধানের কাছে আত্মসমর্পনের নামই হচ্ছে ইসলাম ॥১। পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্যের চলাচলের সঠিক হিসাব দেশবিদেশের আলেমগন জা...
05/04/2026

॥ আসমানী বিধানের কাছে আত্মসমর্পনের নামই হচ্ছে ইসলাম ॥

১। পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্যের চলাচলের সঠিক হিসাব দেশবিদেশের আলেমগন জানেন না, জানার কথাও নয়। কারন তাঁদের সিলেবাসে বিজ্ঞান পড়ানো হয় না। এটা তাঁদের দোষ নয় বরং না জানার ফলে অক্ষমতা। কিন্তু এই অক্ষমতা দিয়ে যখন তাঁরা আল্লাহর দেওয়া আসমানি বিধানকে অমান‍্য করার মতন ভুল কাজ করে ফেলেন - তখনতো আর চোখ বন্ধ করে থাকা যায় না।

২। এই একটা কারনে পৃথিবীর ৫৭টা মুসলিম দেশের মধ্যে মাত্র ৩টা দেশ আফগানিস্থান, মালি ও নাইজার কনজাংশনের আগেই হেলাল (?) দেখে ১৯-৩-২৬ তারিখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন এবং ১৯-৩-২৬ তারিখে হেলাল দেখে নাই বিধায় মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও বাংলাদেশের আলেমগন ২১-৩-২৬ তারিখে ঈদ পালন করেছেন। আর পুর্ব পশ্চিম মিলে বাকী সকল দেশের মুসলিমগন হেলাল দেখে অথবা হিজরী ক‍্যালেন্ডার দেখে ২০-৩-২৬ তারিখে ঈদুল ফিতর পালন করেছেন। এই বিভাজন শতকরা হিসাবে ১.৫০%, ৯৭% ও ১.৫০% হয়।

৩। উপরের তথ‍্য বলে দিচ্ছে যে, আগে ও পিছে মিলে ৩% মুসলিম দেশ আল্লাহ তায়ালার আসমানী বিধান অমান‍্য করেছেন। তার মানে তাঁরা ভুল হিসাবের কারনে ঈদ পালনে ভুল করেছেন। এই একটা ঘটনা যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে, ২০-৩-২৬ তারিখে ঈদুল ফিতর পালন করাটাই সন্দেহাতিত ভাবে সঠিক ছিল। বিশ্বহিজরী ক‍্যালেন্ডারে এই ২০-৩-২৬ তারিখটাই ঈদুল ফিতরের তারিখ লেখা আছে। এরপর আসমানে টেলিস্কোপ মেরে “নতুন চাঁদ” বা “চাঁদ” দেখার প্রয়োজনীয়তা থাকল কোথায়? একই ভাবে তথ‍্য নিলে দেখা যাবে যে, বিশ্বের ৯০% দেশ ২০-৩-২৬ তারিখে ঈদুল ফিতর পালন করেছে। বাকীরা ভুল করেছে।

৪। জ‍্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব বলছে প্রতি চান্দ্রমাসের ১৪ তারিখ সন্ধ‍্যায় পূর্নীমা হবে। পূর্নীমা দেখলেও এই কথার প্রমান পাওয়া যাবে। প্রকৃতপক্ষে এটাই হচ্ছে চাঁদকে বেঁধে দেওয়া আল্লাহ তায়ালার বিধান। পৃথিবীর কোন শক্তি এটাকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু বাংলাদেশের হুজুরগন বুঝের অভাবে আল্লাহ তায়ালার এই বিধান অমান‍্য করেই চলেছেন। তাঁরা না বুঝেই নির্দিধায় বলে দিচ্ছেন যে, আমরা বিজ্ঞান মানি না। কাজের বেলায়ও তাঁদের এই অবাধ‍্যতার প্রমান পাওয়া যায়, যেটা কোন ভাবেই কাম‍্য হতে পারে না। অথচ বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত সকল সুযোগ সুবিধাগুলো তাঁরা দিন রাত উপভোগ করে জীবনকে ধ‍ন‍্য করছে!? এমন দোমুখো নীতি কি কোন ইমানদারের লক্ষণ হতে পারে?

৫। তাঁরা বাংলাদেশের আকাশ সীমায় চাঁদ দেখা গেলেই কেবল মাস শুরু করেন, অন‍্যথায় নয়। ফলে সৌদিআরব যেই দিন সন্ধ‍্যায় “নতুন চাঁদ” দেখার ঘোষনা দেয়, বাংলাদেশ তার পরের দিন সন্ধ‍্যায় “পুরাতন চাঁদ” দেখে মাস শুরু করে। পার্থক‍্য এতটুকুন, সৌদিআরব দেখে “হেলাল” আর বাংলাদেশ দেখে “ক্বমার”। কোনো হাদিসেই “ক্বমার” দেখার কথা নেই; আছে “হেলাল” দেখার কথা। তাঁদের ভুলটা ঠিক এখানেই, যা সহজেই সংশোধন করা সম্ভব। শুধু সদিচ্ছা থাকার প্রয়োজন, আর কিছুই না। এটাতো গেল মাসের হিসাব নিয়ে ১দিনের ব‍্যবধানের কথা। অবিশ্বাস‍্য হলেও সত‍্য- বাংলাদেশের আলেমগন চলতি যিলক্বাদ মাস শুরু করেছেন ২দিন পরে!? শুধুমাত্র না বুঝার কারনেই তাঁরা আল্লাহ তায়ালার আসমানী বিধানকে এমন ভাবে উপেক্ষা করতে পারছেন। বুঝলে কখনো এটা করতেন না।

৬। আন্তর্জাতিক হিজরী ক‍্যালেন্ডারে যেখানে প্রতি মাসের ১৪ তারিখ রাতে পূর্নীমা হয়, সেখানে বাংলাদেশের ক‍্যালেন্ডারে প্রতি মাসের ১৩ তারিখ রাতে অর্থাৎ ১দিন আগে পূর্নীমা হয়। একদিন পরে মাস শুরু করার কারনেই কিন্তু ১দিন আগে পূর্নীমা হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিষ্কার বুঝা গেল যে, বাংলাদেশে চান্দ্রমাসের হিসাব ভুল হচ্ছে। বাহির থেকে হেলাল দেখার সংবাদ নিয়ে বাংলাদেশে মাস শুরু করলেও কিন্তু ১৪ তারিখেই পূর্নীমা হতো এবং এই সমস‍্যার সমাধানও হয়ে যেতো।

৭। ভুলের কারনটাও বলে দেওয়া যায়। সকল উম্মতকে (মুসলিম উম্মাহকে) “তোমরা” কথা দিয়ে বলা মারফু হাদিসের হুকুম হচ্ছেঃ
ক) হেলাল দেখে মাস শুরু করতে হবে। অথবা
খ) হেলাল দেখার স্বাক্ষ‍্য পেলে মাস শুরু করতে হবে। আর
গ) উপরের কোনোটা না পেলে মাস ৩০ দিন পুরা করতে হবে।

মন্তব‍্যঃ পুর্বগোলার্ধে অবস্থিত বিধায় বাংলাদেশ, সূর্যাস্তের এলাকা পশ্চিমের কোনো দেশের আগে কখনো “হেলাল” দেখতে পাবে না। অতএব বাংলাদেশকে অবস‍্যই সৌদিআরব সহ পশ্চিমা যেকোন দেশ থেকে “হেলাল” দেখার স্বাক্ষ‍্য নিয়েই মাস শুরু করতে হবে। তাহলে ১দিন আগেই মাস শুরু হয়ে যেতো, ১৪ তারিখে পূর্নীমাও হতো এবং চাঁদের হিসাবেও আর ভুল হতো না। উপরের মারফু হাদিসের হুকুমের খ)তে এই কথাই বলা হয়েছে। হুজুরগন হাদিসের এই হুকুম মেনে নিলেই সব সমস‍্যার সমাধান হয়ে যাবে। একই সাথে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর মনের আশাও পূরন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

৮। উপরে বলা বক্তব‍্য থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, বর্তমানে কোন দেশেই আর “নতুন চাঁদ” বা “চাঁদ” দেখার আর প্রয়োজন নেই। তাই “উম্মুল ক্বুরা আন্তর্জাতিক হিজরী ক‍্যালেন্ডার” দেখে মুসলিম উম্মাহ একই তারিখে ও বারে মাস শুরু করে রোজা/ঈদ পালন করতে পারে। এটা করা হলে বিশ্বব‍্যাপী রোজা/ঈদ নিয়ে কোন বিশৃংখলাই আর অবশিষ্ট থাকবে না- সমূলে উৎপাটিত হয়ে যাবে। প্রকৃত অর্থে পবিত্র কোরআন এবং হাদিস এই কথাই বলে। সমস‍্যা একটাই - সেটা হলো বুঝের অভাব, আর কিছুই না।

৯। শেষ কথাঃ আশাকরি বাংলাদেশের সর্বস্তরের শ্রদ্ধেয় আলেমগন নীরপেক্ষ দৃষ্টিতে আমার এই শরয়ী বক্তব‍্য বিবেচনা করবেন। আসল কথা হলঃ এটা কোনো হারজিতের বিষয়ই নয়, বরং শুধু শরীয়ত মোতাবেক সঠিকটা জানা, বুঝা ও মানার বিষয়। এক আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারন করাই এখন সময়ের দাবী। নিশ্চয়ই এতে আল্লাহ তায়ালা খুশী হয়ে পুরা দেশটাকে রহমত ও বরকতে ভরপুর করে দেবেন। এই ভাবেই আমরা আন্তর্জাতিক হিজরী ক‍্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২৭শে মে রোজ বুধবারে ছেলে ও বুড়ো সবাই কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে পবিত্র ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ পালন করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বাংলাদেশের মুসলমান ভাইদের সহায় হউন।

নিবেদকঃ ইন্জিঃ মোহাম্মদ এনামুল হক।
মহাসচিবঃ হিজরী ক‍্যালেন্ডার বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ।

কুরাইবের হাদিস-৩ঃ আপনার বলা সহিহ মুসলিম-১০৮৭ এর আরবী মতন এবং সঠিক বাংলা অনুবাদ নীচে দেওয়া হল।  শামিলা হাদিস সহিহ মুসলিম-...
05/03/2026

কুরাইবের হাদিস-৩ঃ আপনার বলা সহিহ মুসলিম-১০৮৭ এর আরবী মতন এবং সঠিক বাংলা অনুবাদ নীচে দেওয়া হল। শামিলা হাদিস সহিহ মুসলিম-২৪১৮, সুনান আন নাসায়ী-২১১১ এবং সুনান আবু দাউদ-২৩২৬।

حدثنا يحيى بن يحيى، ويَحْيَى بن أيوب، وقتيبة، وابن حجر قال يحيي بن يحيى أخبرنا وقال الآخرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ -وهو ابن جعفر - عن محمد - وهو ابن أبي حرملة - عن كريب، أن أم الفضل بنت الحارث بعثه إلى معاوية بالشام قال فقدمت الشام فقضيت حاجتها واستهل على رمضان وأنا بالشام فرأيت الهلال ليلة الجمعة ثم قدمت المدينة في آخر الشهر فسألني عبد الله بن عباس - رضي الله عنهما - ثم ذكر الهلال فقال متى رأيتم الهلال فقلتُ رأيناهُ لَيْلَةُ الْجُمْعَةِ . فَقَالَ أَنتَ

رأيته فقلت نعم وراه النَّاسُ وَصاموا وصام معاوية . فقال لكنا رأيناه ليلة السبت فلا نزال نصوم حتى تكمل ثلاثين أو تراه .

فقُلْتُ أولا تكتفي برؤية معاوية وصيامه فقال لا هكذا أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم . وشكٍّ يَحْيِي بَنْ يَحْيِي فِي تَكْتَفِي

أو تكتفي .

বাংলাদেশের সূত্রঃ সহীহ মুসলিম-২৩৯৫ (ইফা), আবু দাউদ-২৩২৬ (ইফা), তিরমিযী-৬৯১ (ইফা), নাসায়ী-২১১৫ (ইফা), নাসায়ী-২১১১ (আহা)। অনুবাদঃ হারিসের কন্যা উম্মুল ফাযল তাকে সিরিয়ায় মু'আবিয়াহ (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। কুরায়ব বলেন, অতঃপর আমি সিরিয়া পৌঁছে তার প্রয়োজনীয় কাজ সমাপন করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকতেই রমাযান এসে গেল। আমি জুমু'আর রাতে রমাযানের হেলাল দেখতে পেলাম। অতঃপর মাসের শেষদিকে আমি মাদীনায় ফিরে এলাম। 'আবদুল্লাহ ইবুন 'আব্বাস (রাঃ) সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কখন হেলাল দেখেছ? আমি বললাম, আমি তো জুমু'আর রাতেই হেলাল দেখেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজেই কি তা দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারা সওম পালন করেছে। এমনকি মু'আবিয়াহ (রাঃ)ও সওম পালন করেছেন। তিনি বলেন, আমরা তো শনিবার রাতে হেলাল দেখেছি, আমরা পূর্ণ ত্রিশটি সওম রাখব অথবা এর আগে যদি হেলাল দেখতে পাই তাহলে তখন ইফতার করব। আমি বললাম, আপনি কি মু'আবিয়াহ (রাঃ)-এর হেলাল দেখা ও সওম পালন করাকে যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেন-না। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্তব্য-১: উপরের কুরাইবের হাদিস এবং নীচের ক্রমিক-৪ এ বর্ণিত হাদিস সহিহ মুসলিম-২৪১৯ দুইটারই বর্ননাকারী হচ্ছেন প্রখ্যাত সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাঃ) নিজে। দুইটা হাদিসের বক্তব্য একই রকমের। ক্রমিক-৪ এর হাদিসের বক্তব্য অনুযায়ী যোগাযোগের অভাবে যেখানে যখন হেলাল বা নতুন চাঁদ দেখা যেতো, সেখানেই তখন মাস শুরু করা হতো। রাসুল (সাঃ) সেই ভাবেই মাস শুরু করেছেন। এর নাম "আসবাকুর রুইয়া" অর্থাৎ সর্বপ্রথম দেখাকে আমলে নিয়ে মাস শুরু করাই ছিল তখনকার নিয়ম। কুরাইবের হাদিসেও সিরিয়ার দেখা অনুযায়ী মাস শুরু ও শেষ করা হয়েছে এবং মদীনার দেখা অনুযায়ী মাস শুরু ও শেষ করা হয়েছে। যোগাযোগের অভাবে তখনকার জন্য এটাই ছিল সঠিক নিয়ম। তবে বর্তমানে মিনিট সেকেন্ডে খবর পাওয়া যায় বিধায় সিরিয়া ও মদীনা একই দিনে মাস শুরু করে, কুরাইবের হাদিস নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

মন্তব্য-২: অথচ কতিপয় মোহাদ্দিস যেমন- ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিযী এবং ইমাম নাসায়ী তাঁদের হাদিস গ্রন্থে এই কুরাইবের হাদিস বর্ননার আগে কিতাবে লিখে রেখেছেন যে, এটা দেশে দেশে রোজা/ঈদ পালনের হাদিস। এক বেদুঈনের স্বাক্ষীকে (নীচের হাদিস-৬ দ্রষ্টব্য) এবং এক কাফেলার স্বাক্ষীদেরকে (নীচের হাদিস-৭ দ্রষ্টব্য) দূরত্বের ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) কোন প্রশ্ন করেননি বিধায় তাঁরা ধরে নিয়েছেন যে, দূরত্ব কম ছিল বিধায় প্রশ্ন করা হয়নি! এই কারনে বাংলাদেশের জাতিয় মসজিদ বায়তুল মোকাররামের বর্তমান খতীব মুফতী আব্দুল মালেক এই হাদিস দিয়ে দেশে দেশে রোজা/ঈদ পালনের ফতোয়া দিয়ে থাকেন!? তাই বাংলাদেশের সরকারও সৌদিআরব বা পশ্চিমের কোন দেশের স্বাক্ষ্য গ্রহন না করে নিজ দেশের সীমানায় পুরাতন চাঁদ দেখে মাস শুরু করে এবং সেই ভাবে রোজা/ঈদও পালন করে। এতে করে মানুষের প্রথম রোজা ছুটে যায় এবং শেষটা হারাম রোযা হয়ে যায়।

মন্তব্য-৩: অথচ এক বেদুঈন এবং কাফেলার হাদিসে রাসুল (সাঃ) তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জেনে ও বুঝে সাক্ষীদেরকে তাদের দূরত্ব সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করেননি। (নীচের হাদিস-৬ ও ৭ দ্রষ্টব্য)। কারন, এখানে সংবাদ পাওয়া হচ্ছে মুখ্য বিষয়, দূরত্ব কম বা বেশী মুখ্য বিষয় নয়। রাসুল (সাঃ) জানতেন যে, সংবাদ প্রাপ্তি দূরত্বের উপর নির্ভর করে না, বরং যোগাযোগের মাধ্যমের উপর নির্ভর করে। যেমন, বর্তমানে আমেরিকা থেকে এক মিনিটে টেলিফোনের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকলে পাঁচ মাইল দূর থেকেও খবর পেতে কয়েক ঘন্টা লেগে যেতে পারে। অতএব, যদি আমরা সংবাদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দূরত্বের প্রশ্ন তুলি, তবে নবী (সাঃ)-কে বুদ্ধিহীন, অযোগ্য এবং নির্বোধ বলে গণ্য করা হবে!? নবী (সাঃ)-এর কোনো প্রকৃত উস্মত কখনো কি বলতে পারেন যে, আমরা তাঁর চেয়ে বেশী বুঝি অথবা তিনি অমনোযোগী ছিলেন অথবা দূরত্ব কম থাকার কারণে তিনি প্রশ্নটি করেননি? উত্তর হবে-নিশ্চয়ই না।

মন্তব্য-৪: তাহলে কেন মুহাদ্দিসগন তাদের বইয়ে লিখে রেখেছেন যে, কুরাইবের এই হাদিসটা দেশে দেশে রোজা/ঈদ পালনের হাদিস! বিষয়টাকে তাঁরা সাধারন দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করেছেন। এটাকে ইচ্ছাকৃত ভুল বলা যাবে না, বরং ইজতিহাদী ভুল বলা যায়। মুহাদ্দীসগনের অবদানের কথা বিবেচনা করলে এমন ইজতিহাদী ভুলকেও শরীয়তের দৃষ্টিতে ভুল বলা হয় না। ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে- To err is human. অর্থ: ভুল করা মানুষেরই কাজ। এর সমাধান আমাদেরকেই করতে হবে। তা করতে হলে নীচে বলা সহিহ হাদিস-৯ ও ১০ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সেটা হলোঃ বিশ্বস্ত সূত্রে সংবাদ পেলেই সেটা গ্রহন করতে হবে- দূরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এটাই রাসুল (সাঃ) এর শিক্ষা। বাংলাদেশেও এই ভুলটা করা হয়। আশাকরি, আপনাদের সুবিবেচনা প্রসূত কারনে প্রদত্ব ফতোয়ার সংশোধনী পেলে এই ভুল আর হবে না।

মন্তব্য-৫: বর্তমানে বিশ্বযোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দ্রুত খবর পাওয়া যাচ্ছে বিধায় অতীতের " নীরক্ষর জাতির" মতন "আসবাকুর রুইয়া" অনুসরনযোগ্য নয়। কারন হাদিসের হুকুম অনুযায়ী হেলাল দেখার সংবাদ পেলেও মাস শুরু করা জরুরী। রাসুল (সাঃ) এটা করে দেখিয়ে গেছেন।

এই প্রসঙ্গে দেখুনঃ-
ক) সহিহ বুখারী-১৯০৯ = (হাদিস-২ দ্রষ্টব্য),
খ) এক বেদুঈনের স্বাক্ষী= (নীচের হাদিস-৬ দ্রষ্টব্য)
গ) এক কাফেলার স্বাক্ষী =(নীচের হাদিস-৭ দ্রষ্টব্য)
ঘ) দুই জনের স্বাক্ষী= (নীচের হাদিস-৮ দ্রষ্টব্য)।

Address

Blaine
Plymouth, MN

Telephone

+17633137581

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Engr Mohammad Enamul Huq posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Engr Mohammad Enamul Huq:

Share