Engr Mohammad Enamul Huq

Engr Mohammad Enamul Huq -BSC Engg./BUET/1966. Retd. Member BTTB in 2000. Writer of CHANDROMASH. Now a public Figure in Bd

১৯৮৬ সালে OIC এর ফেকাহ একাডেমীর সিদ্ধান্ত কি ছিল?১৯৮৬ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে OIC এর ৫৭ সদস্য দেশের গ্র্যান্ড মুফত...
09/12/2026

১৯৮৬ সালে OIC এর ফেকাহ একাডেমীর সিদ্ধান্ত কি ছিল?

১৯৮৬ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে OIC এর ৫৭ সদস্য দেশের গ্র্যান্ড মুফতী, মুফতী, শাইখ ইসলামীক স্কলার এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ইসলামী ফেকাহ একাডেমীর সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ দুইটা সিদ্ধান্ত নীচে দেওয়া হলোঃ-

প্রথমঃ যদি কোন এক দেশে নতুন চাঁদ উদয় প্রমানিত হয়, তবে বিশ্বের সকল মুসলিমকে অবশ্যই ইহা মেনে চলতে হবে। চাঁদের উদয় স্থলের ভিন্নতা গ্রহনীয় নয়। কারন সওম শুরু এবং শেষ করার বিধান বিশ্বজনীন।

দ্বিতীয়ঃ (চান্দ্রমাসের প্রথম দিন নির্ধারনের জন্য) নতুন চাঁদ দেখাকে গ্রহন করা বাধ্যতামূলক। তবে "মোহাম্মদ (সাঃ) এর বানী ও বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা"-কে বিবেচনায় রেখে যে কেউ জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব এবং মানমন্দিরের সহায়তা নিতে পারে। সিদ্ধান্তের মূল কপির সত্যায়িত অনুবাদের ফটো কপি নীচে কমেন্ট বক্সে সংযুক্ত করা হলঃ

মন্তব্য-১: প্রথম সিদ্ধান্ত বলে দিচ্ছে যে, সওম/ঈদ বিশ্বজনীন এবাদত। তাই বিশ্বের কোথাও নতুন চাঁদ দেখার খবর পাওয়া গেলে মুসলিম উম্মাহ একই তারিখে সওম/ঈদ পালন করবে। চাঁদের উদয় স্কুলের ভিন্নতা গ্রহনীয় নয়।

মন্তব্য-২: দ্বিতীয় সিন্ধান্তে বলা হয়েছে যে, (মাসের শুরু নির্ধারনের জন্য) নতুন চাঁদ দেখাকে গ্রহন করা বাধ্যতামূলক। তবে কোরআন- হাদীসের বক্তব্য এবং বিজ্ঞানের বাস্তবতার সাথে মিল রেখে (অর্থাৎ জ্ঞানের চোখে নবচন্দ্র দর্শন নিশ্চিত করে) জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী ক্যালেন্ডার তৈরী করা যাবে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে "উম্ম আল-কুরা হিজরী ক্যালেন্ডার" তৈরী করা হয়।

মন্তব্য-৩: পরবর্তিতে আমেরিকার FCNA ২০১৮ সালে একই পদ্ধতিতে ইসলামী ক্যালেন্ডার তৈরী করেছে। এই দুই ক্যালেন্ডারের মধ্যে আমি উল্লেখযোগ্য কোন পার্থক্য খুজে পাইনি। অতএব যেকোনটা অনুসরন করে মুসলিম উম্মাহ বিশ্বব্যাপী একই তারিখে ও বারে সওম/ঈদ পালন করতে পারে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এই ব্যবস্থা সম্পূর্ন ভাবে গ্রহনযোগ্য।

সূর্য, চন্দ্র এবং পৃথিবী সম্পর্কে পাঠকের জন্য কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া যাবে কিনা?অংশ-১ঃ অবশ্যই দেওয়া যাবে। নীচে একে একে...
09/10/2026

সূর্য, চন্দ্র এবং পৃথিবী সম্পর্কে পাঠকের জন্য কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া যাবে কিনা?

অংশ-১ঃ অবশ্যই দেওয়া যাবে। নীচে একে একে সূর্য, পৃথিবী এবং চন্দ্রের কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য পরিবেশন করা হলঃ

ক) সূর্য একটা অগ্নিকুন্ডলীসম উজ্জ্বল গোল ভাষমান তারকা বা নক্ষত্র যা শূন্যে মধ্যাকর্ষন শক্তির সাহায্যে নিজ কক্ষপথে আল্লাহ কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত নিয়মে সদা বিচরনশীল আছে। তবে আমাদের দৃষ্টিতে সূর্যকে স্থির মনে হয়। সূর্যের চারিদিকে ঘুর্নায়মান ৮টা গ্রহ আছে। পৃথিবী তারমধ্যে একটা।

১) সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব Ds = ৯,৩৬,০৮,০০০ মাইল
২) সূর্যের ব্যাসার্ধ Rs = ৪,৩২,২৮৮ মাইল
৩) সূর্যের পরিধি Cs = ২৭,২০,৯৮৪ মাইল
৪) সূর্যের ওজন Ws = ১.৯৮৯x১০**৩০ কিলো,

খ) পৃথিবী একটা আলোহীন গোলাকার জড় পদার্থ বিশিষ্ট ভাষমান গ্রহ যা শুন্যে মধ্যাকর্ষন শক্তির সাহায্যে নিজ কক্ষপথে আল্লাহ কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত নিয়মে সার্বক্ষনিক ভাবে সূর্যের চারিদিকে বিচরনশীল আছে। একই সাথে পৃথিবী নিজ অক্ষ বা মেরুদন্ডের চারিদিকে লাটিমের মত ঘুরপাক খেয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে দিবা রাত্রি বানাচ্ছে। পৃথিবীর নিজস্ব কোন আলো নেই। সূর্যের প্রতিফলিত আলোর কারনে সকল প্রানী বেঁচে আছে। পৃথিবীর চারিদিকে একমাত্র ঘূর্নায়মান উপগ্রহের নাম হচ্ছে চাঁদ।

১) পৃথিবী হতে সূর্যের দূরত্ব (ds) = ৯,৩৬,০৮,০০০ মাইল
২) পৃথিবী হতে চন্দ্রের দূরত্ব (dm) =
২,৩৮,৯০০"
৩) পৃথিবীর ব্যাসার্ধ (rw) =৩,৯৬০"
৪) পৃথিবীর পরিধি(cw) =২৪,৯০২
৫) পৃথিবীর কক্ষ পথের দূরত্ব (ow) = ৫৮,৪০,০০,০০০
৬) পৃথিবীর গতি প্রতি দিনে (vwd) =
১৫,৯৮,৮৭৮
৭) ঘন্টায় পৃথিবীর গতিবেগ (vwh) =
৬৬,৬২০
৮) পৃথিবীর ওজন (ww) = ৫.৯৭২০১০**২৪ কিলো,

গ) চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ যা মধ্যাকর্ষন শক্তির কারনে পৃথিবীর চারিদিকে নিজ কক্ষপথে প্রতি মাসে একবার ঘুরে এসে চান্দ্রমাস বানায়। চাঁদ শুন্যে ভাসমান একটা গোলাকার জড় পদার্থ যার নিজস্বা কোন আলো নেই। তবে সূর্যের প্রতিফলিত আলোর কারনে আমরা প্রতিদিন তার বিভিন্ন রুপ দেখতে পাই।

১) পৃথিবী হতে চাঁদের দূরত্ব (de) = ২,৩৮,৯০০ মাইল
২) চাঁদের ব্যাসার্ধ (rm) = ১,০৮০
৩) চাঁদের পরিধি (cm) = ৬,৭৮৬
৪) চাঁদের কক্ষপথের দূরত্ব
(om) = ১৫,০০,২৯২
৫) চাঁদের গড় দৈনিক গতিবেগ (vmd) = ৫০,৮৫৭
৬) ঘন্টায় চাঁদের গতিবেগ
(vmh)= ২,১২০
৭) চাঁদের ওজন (wm) = ৭.৩৫x১০**২২ কিলো।

মন্তব্যঃ মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে নিজ কক্ষপথে ঘন্টায় ২,১২০ মাইল বেগে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, আমরা যেই পৃথিবী পৃষ্ঠে বাস করি এবং চলাফেরা করি সেই পৃথিবী চাঁদকে সঙ্গে নিয়ে ঘন্টায় ৬৬, ৬২০ মাইল বেগে সূর্যের চারিদিকে নিজ কক্ষপথে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়াচ্ছে। অধিকক্ত পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর ২৪ ঘন্টায় একটা চক্কর খালে অথচ আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি কতই মেহেরবান।

অংশ-২ঃ উপরের সবগুলো তথ্যই দেওয়া হয়েছে পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। এবার এই তিন বস্তুর তা বিশ্লেষণ প্রদানের চেষ্টা করা হবে, ইংশাআল্লাহ।

# সূর্যঃ
১) আকার = গোলাকার।

২) কি দিয়ে গঠিত = বাষ্প জাতীয় অগ্নিকুন্ডলী দিয়ে গঠিত।

৩) উষ্ণতা = ৯,৯৩০ ডিগ্রী ফারেনহাইট পৃষ্ঠে। ২৮০ লক্ষ ভিতরে।

৪) আলোকচ্ছটা = নিজস্ব প্রখর আলো চারিদিকে বিকিরন করে।

৫) বড়ত্ব = পৃথিবী হতে প্রায় ১৩ লক্ষগুন বড়।

৬) পরিচিতি = তারকা বা নক্ষত্র।

৭) অবস্থান = পৃথিবী হতে মনে হয় সূর্য স্থীর। আসলে সূর্যও নিজ কক্ষপথে ঘোরে। সূর্যের চাইতেও নে
কোটি গুন বড় নক্ষত্র আছে।

# পৃথিবী:
১) আকার = গোলাকার।

২) কি দিয়ে গঠিত = প্রধানতঃ মাটি, পাথর, ধাতব পদার্থ, পানি, গ্যাস
কোমিকেল পদার্থ দিয়ে গঠিত যার কেন্দ্রে জলন্ত লাভাও আছে।

৩) উষ্ণতা = গড়ে ৭০ ডিগ্রী।
৪) আলো = নিজস্ব কোন আলো নেই। সূর্যের কাছ থেকে আলো পায়।

৫) বড়ত্ব = চাঁদের তুলনায় ৩.৭০ গুন বড়।
৬) পরিচিতি = গ্রহ।
৭) অবস্থান = সূর্যের চারিদিকে মধ্যাকর্ষন শক্তির কারনে নিজস্ব
কক্ষপথে সদা বিচরনশীল।

# চাঁদঃ
১) আকার = গোলাকার।
২) কি দিয়ে গঠিত = শুষ্ক ও কঠিন পাথর দিয়ে গঠিত।
৩) উষ্ণতা = ২৬০ ডিগ্রী ফারেনহাইট।
৪) আলো = নিজস্ব কোন আলো নেই। সূর্য থেকে আলো পায়।

৫) বড়ত্ব = পৃথিবীর তুলনায় ৩.৭০ গুন ছেট।
৬) পরিচিতি = উপগ্রহ।
৭) অবস্থান = মধ্যাকর্ষন শক্তির সাহায্যে পৃথিবীর চারিদিকে নিজস্ব কক্ষপথে পরিভ্রমনরত।

আংশ-৩: জরুরী কিছু বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা ও বিশ্লেষন প্রদান করা হল।

১। "চাঁদ" = আরবীতে "ক্বমার" এবং ইংরেজীতে MOON বলা হয়। এই উপগ্রহটা শক্ত পাথরের একটা গোলাকার বস্তু মাত্র। এই বস্তু কখনো বাড়ে না এবং কমেও না। এই গোলকের নিজস্ব কোন আলো নেই। চাঁদ নামক গোল পাথরটা আল্লাহ তা'আলার হুকুমে পৃথিবীর চারিদিকে নিজ কক্ষপথে প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে।

২। চাঁদ দেখা = এই কথার অর্থ হচ্ছে চাঁদের গোল পাথরের বস্তুটাকে দেখা। কোরআন এবং হাদীসের কোথাও চাঁদের গোলক দেখার কথা বলা হয়নি। তাই এমন কথা বলার কোন অর্থ হতে পারে না। তথাপি বাংলাদেশের অধিকাংশ আলেম "চাঁদ দেখে রোজা রাখ, চাঁদ দেখে ঈদ কর" এমন অবান্তর কথা বলে মানুষকে বোকা বানিয়ে থাকেন।

৩। "নতুন চাঁদ" = আরবিতে "হেলাল" = ইংরেজীতে New Moon. চাঁদ নামক গোলক পাথরের উপর সূর্যের প্রতিফলিত আলো যা অমাবস্যার পর পৃথিবী হতে প্রথম দেখা যায় তাকে "নতুন চাঁদ' বলা হয়। জ্যোতিষবিদ্যায় এর নাম হচ্ছে "প্রথমা" অর্থাৎ চাঁদের উপর পড়া প্রথম আলো। দ্বিতীয় দিনের বর্ধিত আলোর নাম হচ্ছে দ্বিতীয়া। এই ভাবে তৃতীয় দিনে তৃতীয়া পরে চতুর্থী, পশ্চমী ইত্যাদি হিসাব করা হয়।

৪। "চান্দ্রমাস" = আরবীতে "আসশাহরু" = ইংরেজীতে Lunar Month. চাঁদ নামক গোলাকার বস্তুর উপর সূর্য হতে আসা প্রতিফলিত আলো অমাবস্যার পর ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে পূর্নিমা হয় এবং পরে কমতে কমতে অমাবস্যাতে এসে শেষ হয়। প্রতিফলিত আলোর বাড়া-কমা দিয়েই চান্দ্রমাসের সৃষ্টি হয়। প্রথম দিনের আলো অর্থাৎ "নতুন চাঁদ" বা প্রথমা দিয়েই চান্দ্রমাসের হিসাব শুরু করা হয়। এই ভাবে ২৯/৩০ দিনে একটা চান্দ্রমাস এবং ১২ মাসে চান্দ্রবর্ষ বা হিজরী সন গননা করা হয়।

৫। "নতুন চাঁদের হিসাব' পবিত্র কোরআন ১২টা নতুন চাঁদ দিয়ে ১২মাস শুরু করতে বলেছে (২:১৮৯)। এই ভাবে চান্দ্রমাস হিসাব এবং চান্দ্রবর্ষ গননা করে হিজরী ক্যালেন্ডার তৈরী করে তা দিয়ে নতুন চাঁদের সাথে সম্পর্কিত সকল এবাদত করার কথা কোরআনের অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমে বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে খালী চোখে নতুন চাঁদ দেখার কথা একবারও বলা হয়নি; বরং বার বার হিসাবের কথাই বলা হয়েছে। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের সাহায্যে জ্ঞানের চোখে নতুন চাঁদ দেখাকে নিশ্চিত করে চান্দ্রমাস শুরু করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সেই মোতাবেক ১৯৯৯ সালে সৌদিআরবের উম্ম আল-কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগন ১৪২০-১৪৫০=৩০ হিজরী সনের জন্য হিজরী ক্যালেন্ডার তৈরী করে দিয়েছেন। অতএব মুসলিম উম্মাহ তা অনুসরন করে বিশ্বব্যাপী একই তারিখে ও বারে সওম/ঈদ পালন করতে পারে।

৬। "নতুন চাঁদ দেখা"= কঠিন পাথরের গোলকার চাঁদের উপর সূর্যের প্রতিফলিত প্রথম দিনের আলোকেই বলা হয় "নতুন চাঁদ"। যখন পবিত্র
কোরআনের কথা মত হিসাব করা সম্ভব ছিল না তখন রাসুল (সাঃ)
উম্মতদেরকে বিভিন্ন কাওলী হাদীসের মাধ্যমে নতুন চাঁদ খালি চোখে দেখে চান্দ্রমাস শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারন ফরজ রোজা ত্যাগ করা যায় না। বর্তমানে কোরআনের হুকুম মোতাবেক বিশ্বহিজরী ক্যালেন্ডার পাওয়ার পর "নতুন চাঁদ দেখার" কোনই প্রয়োজন নেই। তারপরও যদি কেউ দেখে সওম/ঈদ করতে চান তবে শরীয়তের হুকুম (কোরআনের হুকুম) লঙ্ঘন করা হবে।

৭। "আসবাকুর রুইয়া"= অর্থ হচ্ছে- দেখার মধ্যে যেটা সবার আগে।

পবিত্র কোরআন নতুন চাঁদের হিসাব করে চান্দ্রপঞ্জীকা (২:১৮৯) দিয়ে সওম/ঈদ করতে বলেছে। কিন্তু ১৪০০ বৎসর আগে হিসাব করা সম্ভব ছিল না বিধায় ক্বাওলী হাদীসে নতুন চাঁদ দেখার কথা বলা হয়েছে। নতুন চাঁদ দেখা নিয়েও নিশ্চয়তা পাওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু ফরজ রোজাতো ছাড়া যাবে না। তাই প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া নিয়ে বিতর্ক না করে "আসবাকুর রুইয়া" অর্থাৎ দেখার মধ্যে যেটা সর্বপ্রথম সেটা দিয়েই মাস শুরু করতে হয়েছে। সূত্রঃ সহীহ মুসলিম-২৪১৯ (তাও)। কথায় বলে ওজরের কোন মাসআলা নেই। অবস্থা বুঝে তখন এমন ব্যবস্থাই নিতে হয়েছে। বর্তমানে সেই অবস্থা অনুপস্থিত বিধায় হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরন করে সওম/ঈদ পালন করতে হবে।

মুসলিম উম্মাহর অংশ হয়েও বিভেদ করা যাবে কিনা? (৩:১০৩)উত্তর: এক কথায় এর উত্তর হচ্ছে- যাবেনা। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হল...
09/09/2026

মুসলিম উম্মাহর অংশ হয়েও বিভেদ করা যাবে কিনা? (৩:১০৩)

উত্তর: এক কথায় এর উত্তর হচ্ছে- যাবেনা। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হলে সুরা আলে-ইমরানের আয়াত-১০৩ (অংশ) এর উদৃতি দিতে হয়। এই আয়াতাংশে বলা হয়েছে-

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ؟

বাংলা উচ্চারনঃ "ওয়া'তাচিমু বিহাবলিল্লাহি জামীয়াওঁ ওালা তাফারাক্কু" (৩:১০৩)।

অর্থঃ 'এবং তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে (দ্বীনকে/কোরআনকে) দলবদ্ধ হয়ে দৃঢ় ভাবে ধারন কর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না'।

এই কথা থেকে পরিষ্কার ভাবে বুঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা ইমানদার মুসলমানদেরকে হুকুম করেছেন তারা যেন দলবদ্ধ হয়ে তাঁর দেওয়া কিতাব ও ইসলাম ধর্মকে সম্মিলিত ভাবে শক্ত হাতে ধারন করে, এবং তাথেকে যেন পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। এখানে একত্র হওয়া বা দলবদ্ধ হওয়া মানে মুসলিম উম্মাহ হিসেবে একতাবদ্ধ হয়ে থাকাকেই বুঝানো হয়েছে। অতএব মুসলিম উম্মাহকে ছেড়ে আলাদা পরিচয়ে কোন মুসলিম আল্লাহর দেওয়া সত্য ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। সকল মুসলিমের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকা ফরজ এটা আল্লাহরই নির্দেশ। অতএব মুসলিম উম্মাহর অংশ হয়ে তার মধ্যে বিভেদ করা যাবে না। বরং মুসলিম উম্মাহর বন্ধন যত মজবুত হবে তত শীঘ্রই আল্লাহর দ্বীন বিশ্বের মধ্যে বিজয় লাভ করবে।

এই আয়াতের মধ্যে এমন কথাও বলা আছে যে- "ফাআচবাহতুম বিনি'মাতিহি ইখওয়ানা'। অর্থঃ ফলে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেছ। মুসলিম উম্মাহর সকল সদস্য পরস্পর ভাই ভাই। এক ভাই ব্যথা পেলে পুরো উম্মাহই ব্যথা অনুভব করবে। তার অর্থ হচ্ছে বিশ্বের সকল মুসলিম একাত্ব হয়ে সকল কাজ করবে। প্রশ্ন হতে পারে হুকুম দেবে কে? হুকুমতো আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল দিয়ে রেখেছেন। তাই কোরআন ও হাদীস অনুযায়ী আমাদেরকে পরিচালিত হতে হবে। সারাবিশ্ব এক খেলাফতের অধিনে আসার অপেক্ষায় বসে থাকা যাবে না। এটা দ্বায়িত্ব এড়াবার জন্য খোঁড়া যুক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমরা যে এক উম্মাহ তা প্রমান করে, যখন রাসুল (সাঃ) কে কেউ ব্যঙ্গ করে তখন বিশ্বের সকল মুসলিম প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে। অতএব সকল ধর্মীয় বিধান অনুসরনে আমদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এতকিছু বলার পর বুঝতে বাকি থাকার কথা না যে, বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ বিশ্বব্যাপী একই তারিখে ও বারে সওম/ঈদ পালন করবে। 'একই দিনে এক ভাই ঈদ করবে আর অন্য ভাই সওম রাখবে'- এমন যদি হয় তবে উম্মাহর মধ্যে ফাটল ধরে যাবে। নানা ওজরের কারনে অতিতে যেটা সম্ভব ছিল না, সেটা এখন অবশ্যই সম্ভব। অতএব পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়ে আমাদেরকে হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরন করতে হবে। দেশে দেশে আলাদা হয়ে সওম/ঈদ পালন করা যাবে না। ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে বর্তমানে ইসলামী শরীয়ার বিধান বলে মেনে নিতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলছেন নতুন চাঁদ দিয়ে মাস ও বছরের হিসাব কর; সেখানে রাসুল (সাঃ) নতুন চাঁদ দেখতে বললেন কেন?উত্তরঃ এই প্রশ্নের...
09/08/2026

আল্লাহ তায়ালা বলছেন নতুন চাঁদ দিয়ে মাস ও বছরের হিসাব কর; সেখানে রাসুল (সাঃ) নতুন চাঁদ দেখতে বললেন কেন?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অনেক কথা বলতে হবে। তবুও সংক্ষেপে ব্যখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। পবিত্র কোরআনে সুরা আত-তাওবা আয়াত-৩৬ এ বলা হয়েছে ১২ মাসে বছর গননা করতে হবে। আবার সুরা আল-বাকারার আয়াত-১৮৯ তে বলা হয়েছে- হে মানবজাতি তোমরা ১২টা নতুন চাঁদ দিয়ে ১২ মাস শুরু কর। আবার সুরা আর-রাহমানের আয়াত-৫ এ বলা হয়েছে যে, সূর্য ও চন্দ্র (আল্লাহর দেওয়া) হিসাব মত চলে বা ভ্রমন করে। এই সকল আয়াতে বর্ণিত নতুন চাঁদের হিসাব আনুযায়ী ১২ মাসে বছর গননা করতে হবে। এটাই হচ্ছে আল্লার দেওয়া হুকুম মোতাবেক হিজরী ক্যালেন্ডার। আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য আয়াতে আরও বলেছেন যে, এই সকল আয়াত বা নিদর্শন বা হুকুম আমি জ্ঞানী জাতির জন্য দিয়েছি।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সময়ে মানুষ বিজ্ঞান জানত না। তাই তাদের পক্ষে এই ধরনের হিসাব করা কখনো সম্ভব ছিল না। তবে সুরা আত-তাওবার আয়াত-৩৬ এর বিস্তারিত ব্যখ্যা থেকে বুঝা যায় যে, অমাবশ্যার পর নতুন চাঁদ (চাঁদের উপর সূর্যের প্রতিফলিত প্রথম আলো) শুরু হয়ে প্রতিদিন তার অবয়ব বাড়তে বাড়তে মধ্যমাসে পূর্ণিমা হয় এবং তারপর কমতে কমতে মাসের শেষে অমাবশ্যার সাথে মিশে যায়। এই ভাবে চাঁদের আলো বিভিন্ন মন্জীল পার হয়ে প্রতিমাসে একটা করে চান্দ্রমাস বানায়। এর ভিত্তিতে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশে সাহাবীগন চান্দ্রমাস গননা শুরু করেন। যেহেতু হিসাব করা সম্ভব নয় সেহেতু প্রথম দেখা চাঁদের আলো দিয়েই মাস শুরু করতে হয়েছে। তা নাহলে রমজান মাসের ফরয রোজা তাঁদের পক্ষে রাখা সম্ভব ছিল না। ব্যপারটা ছিল পানি না পেলে তায়াম্মুম করার মতো।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা হিসাবের সাহায্যে ১২টা নতুন চাঁদ দিয়ে ১২ মাস শুরু করতে বলেছেন (২:১৮৯)। হিসাব করা সম্ভব ছিলনা বিধায় রাসুল (সাঃ) হাদীসে নতুন চাঁদ দেখে সওম/ঈদ পালন করতে বলেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই নতুন চাঁদের কথা বলা আছে। শুধু ওজরের কারনে হিসাবের স্থলে দেখার কথা বলতে হয়েছে। এটা ছিল রাসুল (সাঃ) এর কাওলী হাদীসের হুকুম। প্রকৃত নতুন চাঁদ কখন এবং কোথায় প্রথম দেখা যাবে সেটা নিয়ে তিনি কখনো চিন্তা গবেষনায় নিমজ্জিত হননি। তাই বলে রাসুল (সাঃ) তা জানতেন না বা বুঝতেন না এমন কথা মোটেও বলা যাবে না। কারন পবিত্র কোরআনে এমন কোন কথাই নেই যা তিনি জানতেন না বা বুঝতেন না।

হাদীসে নতুন চাঁদ দেখার কথা বলা থাকলেও রাসুল(সাঃ) মদীনায় 'আসবাকুর রুইয়া বা প্রথম দেখা চাঁদের আলো দিয়ে মাস শুরু করে সওম/ঈদ পালন করেছেন। কারন তৎকালে কোরআনে বলা নির্দেশ মোতাবেক হিসাব করে নতুন চাঁদ দিয়ে মাস শুরু করা কিম্বা নতুন চাঁদ দেখে সওম/ঈদ পালন করাও সম্ভব ছিল না। তাই বলে ফরজ রোজা পালন করাতো বাদ দেওয়া যায় না। অগত্যা সম্ভব সর্বোত্তম ব্যবস্থাটা তিনি সাহাবীদেরকে অনুসরন করতে বলেছেন। আর সেটা হচ্ছে মদীনার আকাশ সীমায় প্রথম যেই চাঁদের আলো দেখা যাবে সেটা দিয়েই চান্দ্রমাস শুরু করতে হবে। সেই চাঁদ দিয়েই সওম শুরু করতে হবে এবং ঈদ পালন করতে হবে। এটা ছিল রাসুল (সাঃ) এর ফেলী হাদীসের কথা।

হাদীসের বর্ণনায় এসেছে যে, একবার নতুন চাঁদ দেখার পর তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়, কেউ বলে দুই দিনের আবার কেউ বলে তিন দিনের পুরাতন চাঁদ। তারপর ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন যে, রাসুল (সাঃ) যেই দিন রাতে নতুন চাঁদ দেখতেন ঐ দিনেরই তারিখ ধরতেন। সুতরাং নতুন চাঁদ সেই রাতেই উঠেছে যেই রাতে তোমরা দেখেছ। সূত্রঃ হাদীস সহীহ মুসলিম-২৪১৯ (তাও)।

আবার রাসুল (সাঃ) সীমানার বাহির থেকে নতুন চাঁদের স্বাক্ষ্য পেলে তা গ্রহন করতেন। যদি কখনো মদীনায় নতুন চাঁদ না দেখার পর বাহির থেকে বিশ্বস্ত সূত্রে নতুন চাঁদের স্বাক্ষী পাওয়া যেত সেটা তিনি গ্রহন করেছেন।

একক স্বাক্ষীঃ সহীহ সুনান আততিরমিজী-৬৮৮ (ইফা), ইবনে মাজা-১৬৫২ (ইফা) ও

তিরমিজী-৬৯১ (তাও)। এবং

একাধিক স্বাক্ষীঃ সহীহ সুনান আননাসাঈ-১৫৫৭ (তাও), আবু দাউদ-১১৫৭, ২৩৪১ (তাও), সুনানে ইবনে মাজাহ-১৬৫৩ (তাও)।

এই সকল ঘটনা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান করে যে, অতীতে সীমানার বাহির থেকে নতুন চাঁদের স্বাক্ষ্য না পেলে ওজরের কারনে সীমানার মধ্যে দেখা নতুন চাঁদ কিম্বা প্রথম দেখা চাঁদ দিয়ে সওম/ঈদ পালন করা জায়েজ ছিল। আর সীমানার বাহির থেকে নতুন চাঁদের স্বাক্ষ্য পেলে তা গ্রহন করা অত্যাবশ্যক ছিল। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে যেহেতু এখন নতুন চাঁদের খবর তাৎক্ষনিক ভাবে পাওয়া যাচ্ছে সেহেতু বর্তমানে দেশে দেশে চাঁদ দেখে সওম/ঈদ পালন বৈধ হবে না।

পানি না পেলে যেমন তায়াম্মুম করতে হয়, সেইরকম ভাবে হিসাব করা অসম্ভব ছিল বিধায় রাসুল (সাঃ) এই সর্বোত্তম ব্যবস্থা অনুসরন করতে বলেছেন। রাসুল (সাঃ) এর এই কাজকে কোরআন বিরোধী মনে করার কোনই সুযোগ নেই। বরং আল্লাহর হুকুম সর্বোত্তম উপায়ে কি ভাবে প্রতিপালন করা যায় সেই লক্ষে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেখিয়ে গেছেন।

তিনি নিজে ছিলেন উম্মী বা নীরক্ষর এবং বলেছেন যে, আমরা উম্মী জাতি আমরা লিখিতে জানি না এবং হিসাবও রাখিতে জানি না। তারপর বলেছেন, ৩০/২৯ দিনে মাস হয়। সূত্রঃ সহীহ বুখারী- ১৭৮৯ (ইফা)। এই হাদীস বলে দেয় যে, যখন কোরআনের হুকুম মোতাবেক হিসাবের মাধ্যমে নতুন চাঁদের সাহায্যে হিজরী ক্যালেন্ডার বানানো যাবে তখন সেটা অনুসরন করে সওম/ঈদ পালন করতে হবে। ১৯৯৯ সালের পর থেকে উম্ম আল-কুরা হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরন করে সওম/ঈদ পালন করা সবার জন্য অবশ্য করনীয় কর্তব্য মনে করতে হবে।

বর্তমানে হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করাই কি সর্বোত্তম পন্থা?পৃথিবীর কোথাও থেকে নবচন্দ্রের স্বাক্ষী নিতে গেলে ৯০% একমত আর ব...
09/07/2026

বর্তমানে হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করাই কি সর্বোত্তম পন্থা?

পৃথিবীর কোথাও থেকে নবচন্দ্রের স্বাক্ষী নিতে গেলে ৯০% একমত আর বাকী গুলোতে দ্বিমত পাওয় যায়। সর্বত্র ঐক্যমত পাওয়া সম্ভব নয়। অতএব কোরআনের কথামত জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের মাধ্যমে জ্ঞানের চোখে নবচন্দ্র দর্শনের সাহায্যে তৈরী করা বিশ্বহিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে বিশ্বব্যাপী একই তারিখে ও বারে মুসলিম উম্মাহকে সওম/ঈদ পালন করতে হবে। কারন সেই ক্ষেত্রে পশ্চিম গোলার্ধে দেখা নবচন্দ্রকেই ভিত্তি ধরা হয়। পৃথিবীতে একাধিক বিশ্বহিজরী ক্যালেন্ডার বা চান্দ্রপঞ্জীকা আছে। তন্মধ্যে সৌদিআরবের "উম্ম আল-কুরা হিজরী ক্যালেন্ডার" এবং আমেরিকার "ইসলামিক ক্যালেন্ডার" এর মধ্যে ২০৭৫ সাল পর্যন্ত সওম ও ঈদের তারিখের মধ্যে আমি কোন তফাৎ পাইনি। তাই এর যেকোন একটাকে অনুসরন করা যেতে পারে।

অতএব মুসলিম বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরীকৃত 'উম্ম আল-কুরা হিজরী ক্যালেন্ডার" অনুসরণ করে ২০০০ সাল থেকে সকল দেশে সওম/ঈদ সহ সকল ধর্মীয় কাজ করা অবশ্য করনীয় কর্তব্য হয়ে গেছে। যারা এটা অমান্য করবেন তারা সুরা আররাহমানের আয়াত-৫ এর প্রথম অর্ধের মানলেন আর শেষ অর্ধেক মানলেন না। তাই আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন- 'তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ অবিশ্বাস কর"! (২:৮৫)। তারপর বলা হয়েছে- "এরাই তারা যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়াকে গ্রহন করে নিয়েছে (২:৮৬)। এতে করে প্রকারান্তরে আল্লাহ তা'আলার কোরআনকেই অমান্য করা হবে।

অতএব বর্তমানে হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরন করে সওম/ঈদ পালন করাই সর্বোত্তম পন্থা। কারন খালি চোখে নতুন চাঁদ দেখায় ভুল হতে পারে কিন্তু হিসাবের মাধ্যমে জ্ঞানের চোখে নবচন্দ্র দর্শনে ভুল হবার সম্ভাবনা মোটেও নেই। গুগলে "umm al-qura calendar" লিখে সার্চ দিলেও হিজরী ক্যালেন্ডার এসে যাবে। সেটা দেখে তারিখ জেনে নিলেই হল। নিজের হাতে মোবাইল ফোন থাকতে হিজরী ক্যালেন্ডার নেই বলার সুযোগ কোথায়?

আমি এই পুস্তকের পর্ব-৫০ এ ২০৪৫ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত আগামী ২২ বৎসরের জন্য হিজরী ক্যালেন্ডার দিয়ে দিয়েছি। আশাকরি এই হিজরী ক্যালেন্ডার দেখে সবাই আগামী ২২ বৎসর সময়মত নিশ্চিন্তে সওম ও ঈদ পালন করতে পারবেন। অতএব আল্লাহর দেওয়া কোন্ কোন নিয়ামতকে আমরা অস্বীকার করব?

বিঃ দ্রঃ = অনেক মোবাইল এ্যাপ আছে যা ইনষ্টল করে নিলে মুঠোফোনেই হিজরী ক্যালেন্ডার পাওয়া যাবে। শুধু umm al-qura calendar এর সাথে এ্যাপটাতে তারিখ এডজাষ্ট করে নিতে হবে। তাহলে ইংরেজী তারিখের সাথে আরবী তারিখও মোবাইলে পাওয়া যাবে। তখন নতুন চাঁদ দেখা দূরে থাক হিজরী ক্যালেন্ডার দেখাও লাগবে না, ইনশাআল্লাহ। আমার মোবাইলে চার বৎসর আগেই তা করা হয়েছে।

কোরআন বলছে শরীয়ত সম্মত না হলে সরকার প্রধানের হুকুমও মানা যাবে না- এর ব্যাখ্যা কি? (৪:৫৯)অনেকে বলে থাকেন যে, সরকার প্রধান...
09/06/2026

কোরআন বলছে শরীয়ত সম্মত না হলে সরকার প্রধানের হুকুমও মানা যাবে না- এর ব্যাখ্যা কি? (৪:৫৯)

অনেকে বলে থাকেন যে, সরকার প্রধান যেই দিন ঘোষনা দেবে সেই দিনই সকলকে সওম/ঈদ পালন করতে হবে। যেই সরকার প্রধান আল্লাহর আইনে দেশ শাসন করেন সেই সরকার প্রধানের হুকুম মানতে কোরআনে বলা হয়েছে; অন্যথায় নয়। এই বিবেচনায় সকল অমুসলিম সরকার (১৩৮) প্রধানতো বাদই এমন কি বাকি ৫৭টা মুসলিম দেশের মধ্যে সাউদিআরব, ইরান ও মালদ্বীপ ছাড়া অবশিষ্ট ৫৪টাই বাদ পড়ে যায়। তাহলে কার ঘোষনা মানব আমরা?

আবার পৃথিবীর ১৯৫-৫৭= ১৩৮টা অমুসলিম দেশের সকল সরকার প্রধানগন সওম/ঈদের কোন ঘোষনা দিতে বাধ্য নন। তাদেরকে এমনটা করতেও দেখা যায় না। তাহলে ঐ সব দেশে যেসকল মুসলমান বাস করে তারা কার হুকুমে সওম/ঈদ পালন করবে? উত্তর হচ্ছে, মুসলিম উম্মাহর দুই জনের স্বাক্ষ্য নিয়েই তারা সওম/ঈদ পালন করবে। সূত্রঃ হাদীস সহীহ সুনান আন নাসাঈ-২১১৬ (তাও)। তবে এখন হিজরী ক্যালেন্ডার এসে গেছে। সেটা অনুসরন করলে আর কোন সমস্যাই থাকবে না।

এই প্রসঙ্গে সুরা আন নিসায় বলা হয়েছে- 'হে ঈমানদারগনা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা হুকুমদাতা তাদের। তারপর যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় (অর্থাৎ শরিয়ত মোতাবেক না হয়) তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যার্পন কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হযে থাক। আর এটাই কল্যানকর এবং পরিনতির দিক দিয়ে উত্তম' (৪:৫৯)।

উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ ও রাসুলের বিধানের বাইরে বা শরীয়তের বিধানের বাইরে গেলে কোন হুকুমদাতার (সরকার প্রধান বা বিচারকের) হুকুম না মেনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে, যদি আমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাকি। এটাই কল্যানকর ও পরিনতির দিক দিয়ে উত্তম। এখানে শরীয়তের বিধান বলতে উপরোক্ত হাদীসে বলা দুই জন ইমানদার মুসলমানের স্বাক্ষ্য অথবা হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরনকে বুঝতে হবে।

অথচ এই দেশের অধিকাংশ আলেম এই আয়াতের প্রথম অংশ বলেন কিন্তু শেষ অংশ বলেন না, অর্থাৎ গোপন করেন। কারন, সেটা বললে তাদের কথা বাতিল হয়ে যাবে। এই ভাবে আমাদের দেশের আলেমগন পবিত্র কোরআনের অপব্যখ্যা করে সরকার প্রধানকে ভুল সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য করছেন। এখানে ভুল সিদ্ধান্তের অর্থ হচ্ছে- ১) দেশের আকাশ সীমায় পুরাতন চাঁদ দেখে সওম/ঈদ পালন করা, ২) দেশের সিমানার বাহির থেকে স্বাক্ষ্য গ্রহন না করা এবং ৩) হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরন করে সওম/ঈদ পালন না করা। একাধারে এতগুলো ভুল করা অবশ্যই এক বিরাট দুঃখজনক ব্যাপার। জানিনা জনগন কি ভাবে তা মেনে নিচ্ছেন!

আমার ভুলের বোঝা কেউ বইবে না; আল্লাহর আজাবও কাউকে ছাড়বে না- বিষয়টা বুঝিয়ে বলবেন কি?সাধারণ মানুষ মনে করে যে, তাদের সওম/ঈদ ...
09/05/2026

আমার ভুলের বোঝা কেউ বইবে না; আল্লাহর আজাবও কাউকে ছাড়বে না- বিষয়টা বুঝিয়ে বলবেন কি?

সাধারণ মানুষ মনে করে যে, তাদের সওম/ঈদ পালনের ক্ষেত্রে যদি কোনও ভুল হয় তবে, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সরকার এর জন্য দায়ী থাকবে। এটা একটা ভুল ও মহা মিথ্যা অজুহাত। কারণ, আল্লাহ সুরা আল মুদাসসিরের ৭৪:৩৮ আয়াতে বলে রেখেছেন- 'প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে'। সূরা বনী ইসরাঈলের ১৭:১৫ আয়াতে বলা হয়েছে- 'কেউ কারও বোঝা বহন করবে না'। সুরা বাকারার ২:৪৮ আয়াতে আরও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে- 'আর সেই

দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না: কারও কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণও নেওয়া হবে না এবং কোন রকম সাহায্যও পাবে না'।

অতএব শেষ বিচারের দিনে কেউ কাউকে সাহায্য করতে আসবে না। তাই বলতে হচ্ছে যে, যারা এই ভুল পরামর্শ দিচ্ছেন অথবা অনুসরণ করছেন তাদের কেউই আল্লাহর বলা দোজখের আজাব থেকে রেহাই পাবেন না। তাই সকলের প্রতি অনুরোধ করছি দয়া করে "চাঁদ দেখে রোজা রাখ, চাঁদ দেখে ঈদ কর"- এই মিথ্যা হাদীস দিয়ে এই দেশের জনগনকে আর ধোকা দেবেন না।

চান্দ্রমাসে পূর্ণিমা কখন হয়?পূর্ণিমা চান্দ্রমাসের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। তাই পূর্ণিমা ১৪/১৫ তারিখে হলে মাস হয় ২৯/৩০ ...
09/03/2026

চান্দ্রমাসে পূর্ণিমা কখন হয়?

পূর্ণিমা চান্দ্রমাসের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। তাই পূর্ণিমা ১৪/১৫ তারিখে হলে মাস হয় ২৯/৩০ দিনে। এটা কোরআন, সহীহ হাদীস এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের কথা। সারা বিশ্বের মানুষ খালি চোখে পূর্ণিমা দেখতে পায়। তাছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টানরা সঠিকভাবে চান্দ্রমাস গণনার মাধ্যমে পূর্ণিমার দিন তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে থাকে। অথচ বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী মাস শুরুর ১/২ দিন পরে মাস গননা শুরু করে। ফলে দেরীতে শুরু করায় তাদের হিসাবে মাসের ১২/১৩ তারিখে পূর্ণিমা হয়ে যায়। এইভাবে ২৫/২৬ দিনে মাস শেষ হবার কথা। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিজেদের তহবিল থেকে ৪ দিন যোগ করে ২৯/৩০ দিনে মাস পুরা করে। এমন অদ্ভুত হিসাব বলে দেয় যে, বাংলাদেশ চান্দ্রমাস গণনায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করছে।

এই ভুলের আরেকটা সম্ভাব্য কারন হচ্ছে যে, বাংলাদেশের আলেম সমাজ মনে করে ইসলামী চান্দ্রমাস অন্যদের চাইতে আলাদা। তাই পার্থক্য থাকতেই পারে। আমি সবিনয়ে বলব যে, চাঁদ কোন ধর্ম চিনে চলাচল করে না। সে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলে। আপনারা যদি হিসাবে ভুল করেন সেটাতো আপনাদের দোষ, চাঁদের দোষ নয়। এমন কি যেই আল্লাহ চাঁদকে চালান সেই আল্লাহরও দোষ নয়। নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক। তাই আবারো অনুরোধ করছি আল্লাহকে অপরাধী বানাবেন না। নিজেদের ভুল সংশোধন করুন। মানুষ এমন পাগলামি বুঝেও কিছু বলছে না। এমন শুভঙ্করের ফাঁকি ধরার মতো কেউ কি এই দেশে জন্ম নেয় নি? তারপরও নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উম্ম আল-কুরা হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলে এমন ভুল কখনো হবে না।

দিন ও রাত কি ভাবে হয় তা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা যায় কিনা?উত্তরঃ এই সহজ কথাটা অধিকাংশ মানুষ সহজে বুঝে না। ফলে বেশীর ভাগ মানু...
09/02/2026

দিন ও রাত কি ভাবে হয় তা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা যায় কিনা?

উত্তরঃ এই সহজ কথাটা অধিকাংশ মানুষ সহজে বুঝে না। ফলে বেশীর ভাগ মানুষ একই দিনে (তারিখে ও বারে) ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিশ্বব্যাপী সওম/ঈদ পালনকে অসম্ভব মনে করেন।

১) প্রথমতঃ তাঁরা জানেন ১২ ঘন্টায় দিন আর ১২ ঘন্টায় রাত হয়। অতএব ১২ ঘন্টা সময়ে সারা বিশ্বে সওম/ঈদ সম্ভব হতে পারে না।

২) দ্বিতীয়তঃ তাঁরা জানেন বাংলাদেশে যখন দিন আমেরিকায় তখন রাত। তাই ১২ ঘন্টার মধ্যে সারা
বিশ্বে সওম/ঈদ কখনো সম্ভব নয়।

৩) তাঁরা জেনেও বুঝতে চান না যে, দিন ও রাত মিলে ২৪ ঘন্টা দিয়ে একটা দিন (তারিখ ও বার) হয়। কিন্তু ১২ ঘন্টা দিয়ে একটা তারিখ ও বার হয় না বা হতে পারে না।

৪) পৃথিবী যেহেতু গোল সেহেতু ১২ ঘন্টার দিন আর ১২ ঘন্টার রাত একটার পর আরেকটা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে। এটাকে বলা হয় পৃথিবীর আহ্নিক গতি।

৫) ফলে পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে IDL থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে সেই উদয় সারা পৃথিবী ঘুরতে থাকে। এই ভাবে সেই সূর্যোদয় সকল দেশ ঘুরে ২৪ ঘন্টা পরে পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তের পরে IDL এ এসে শেষ হয়। এই ভাবে সকল দেশ সূর্যোদয় পায়। একই ভাবে সকল দেশ সূর্যাস্তও পায়। অর্থাৎ সকল দেশ ১২ ঘন্টার দিন এবং ১২ ঘন্টার রাত মিলে ২৪ ঘন্টার পুরা একটা তারিখ ও বার পায়। তাই দিন কথাটা শুনলে মানুষ দ্বিধা দন্দে পড়ে যায়, মনে খটকা লাগে। কিন্তু তারিখ বললে সমস্যা হয় না।

৬) এই ভাবে সকল দেশ একই তারিখে ও বারে বিশ্বব্যাপী সওম/ঈদ পালন করতে পারে। উপরে যা বলা হল তা দিন ও রাত কি ভাবে হয় তার ভাষাগত ব্যখ্যা। এবার ২৪ ঘন্টায় রাত ও দিন কিভাবে হয় ছবি দিয়ে তা হাতে কলমে শেখানোর চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। সাথে পৃথিবী যে ৩৬৫ দিনে সূর্যের চারিদিক ঘুরে এসে এক সৌরবৎসর বানায় তাও বুঝে ফেলা যাবে খুব সহজে। প্রথমটার নাম হচ্ছে পৃথিবীর আহ্নিক গতি আর দ্বিতীয়টার নাম হচ্ছে পৃথিবীর বার্ষিক গতি। বিষয়টা খুবই সহজ ও খুবই মজার। আগে যদি না জেনে থাকেন তবে বিষয়টা হবে চিরদিন মনে রাখার মত একটা ব্যাপার।( এবার নীচের ছবিটা দেখুন।কমেন্ট বক্সে👎) রাতের বেলা একটা অন্ধকার কামরার মাঝখানে তিন ফুট উচা একটা গোল টেবিলের উপর একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখুন। আপাততঃ এটাই হচ্ছে আপনার জন্য সূর্য। আপনি নিজেকে মনে করবেন পৃথিবী। এখন আপনি টেবিলের চারিদিকে এক চক্কর ঘুরে আসুন। আপনার সময় লেগেছে সম্ভবত এক মিনিট। কিন্তু সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর এই এক চক্কর ঘুরে আসতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন। এই পুরো চক্করটার নামই হচ্ছে পৃথিবীর বার্ষিক গতি। কি খুব সহজ মনে হয় না?

এবার পৃথিবীর আহ্নিক গতির কথা বলব। আপনি রুমের কোন এক যায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়ান। তারপর দাড়ানো অবস্থায় লাটিম যেভাবে ঘোরে আপনিও আস্তে আস্তে সেভাবে ঘুরতে থাকেন। হাটবেন

না কিন্তু। এই এক চক্কর ঘুরার সময় আপনি একবার আস্তে আস্তে বাতির আলো দেখতে পাবেন। বাতির দিকে পুরোপুরি মুখ করার পর সেই বাতির আলো আস্তে আস্ত চলে যেতে থাকবে। তারপর আলো চলে যাবে এবং অন্ধকার এসে যাবে। কিছুক্ষন পর অন্ধকার চলে গিয়ে আলোর আভা দেখতে পাবেন। এই আলোর আভা হচ্ছে সূর্যোদয় তারপর দিনের দুপুর পেরিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসবে সূর্যাস্ত। আলোকময় সময়টা হচ্ছে দিন আর অন্ধকার সময়টা হচ্ছে রাত। এই ভাবে ১২ ঘন্টায় দিবা ও ১২ ঘন্টায় রাত্রি বানিয়ে পৃথিবীটা প্রতিদিন ২৪ ঘন্টায় নিজ অক্ষের (মেরু দন্ডের) উপর চক্কর খেতে থাকে। এটার নামই হচ্ছে পৃথিবীর আহ্নিক গতি। আশাকরি বিষয়টা খুব সহজেই বুঝে ফেলেছেন।

বর্তমানে যারা স্থানীয় ভাবে সওম/ঈদ পালন করেন, তারা কি ভুল করেন?উত্তর: অতীতে যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে তেমন কিছুই ছিল না ত...
09/01/2026

বর্তমানে যারা স্থানীয় ভাবে সওম/ঈদ পালন করেন, তারা কি ভুল করেন?

উত্তর: অতীতে যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে তেমন কিছুই ছিল না তখন প্রকৃত নতুন চাঁদের সংবাদ পাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই ওজরের কারনে দেশে দেশে বা আন্চলিক ভাবে প্রথম দেখাকে নতুন চাঁদ মনে করে সওম/ঈদ পালন করতে হয়েছে। সেই সময়ের মেয়াদ ৬১০ সাল থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ধরা যায়। তারপর সেই অবস্থা বিরাজ করছে না। কারন মুহূর্তের মধ্যে সেটেল্লাইটের মাধ্যমে নতুন চাঁদ দেখার খবর সারাবিশ্বে প্রচার হয়ে যায়। তাই অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগে স্থানীয় ভাবে দ্বিতীয়া বা তৃতীয়ার চাঁদ দেখে সওম/ঈদ পালন করার প্রশ্নই আসে না। যারা এটা করবেন তাদের সওম/ঈদ পালন অতি অবশ্যই ভুল হবে। তাই কোরআন এবং হাদীসকে উপেক্ষা করে এবং শরীয়তের বিধিবিধানকে লঙ্ঘন করে এমন তাগুতি কাজ করা মহাপাপ হিসেবে গন্য হবে এতে কোনই সন্দেহ নেই।

Address

Blaine
Plymouth, MN

Telephone

+17633137581

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Engr Mohammad Enamul Huq posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Engr Mohammad Enamul Huq:

Shortcuts

Share