আসুন শান্তির ছায়াতলে - Come Under the Shade of Peace

আসুন শান্তির ছায়াতলে - Come Under the Shade of Peace Come under the Shade of Peace. Will be posted only Holy Quran, Hadiths of Prophet Muhammad (PBUH) an Name of the Page Owner:
Md Talukder (Shakil Talukder).

This is a Religious Page. Will be posted only Quraan and Hadiths.

যে আয়াত শুনে ইবলিশ কেঁদেছিলঃ=====••••=====••••=====وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُ...
07/28/2023

যে আয়াত শুনে ইবলিশ কেঁদেছিলঃ
=====••••=====••••=====
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّـهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّـهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
“তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে
এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।”
(আলে ইমরান: ১৩৫)
--------------------------------------------
সাবেত আল বুনানী আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, ”যখন নাজিল হল, وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّـهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
তখন শয়তান কেঁদেছে।”
ইবনে মাসঊদ রা. বলেন: ”উক্ত আয়াতটি গুনাহগারদের জন্য দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছু থেকে উত্তম।”
ইবনে সীরীন বলেন: ”আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাঈলের জন্য যেভাবে তাদের গুনাহ সমূহের জন্য বিভিন্ন কাফফারার ব্যবস্থা করেছিলেন তদস্থলে তিনি আমাদের জন্য উক্ত আয়াতটি প্রদান করেছেন।”
(ইবনে কাসীর রহ. উপরোক্ত আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে ইবনে রজব সূত্রে উক্ত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন)

গ্রন্হনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার,
সৌদি আরব।

তাগুত কি? তাগুত কত প্রকার??আল্লাহ তাআ'লা মানুষের প্রতি প্রথম যে আদেশ করেছেন সেটা হচ্ছে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, অর্থাৎ...
07/28/2023

তাগুত কি? তাগুত কত প্রকার??
আল্লাহ তাআ'লা মানুষের প্রতি প্রথম যে আদেশ করেছেন সেটা হচ্ছে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, অর্থাৎ তাওহীদ প্রতিষ্ঠ করা এবং সমস্ত প্রকার তাগুত থেকে বেঁচে থাকার জন্য।
এই কথার দলীল হচ্ছে কুরআনের এই আয়াতঃ
"আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে দূরে থাক"।
সুরা আন-নাহলঃ ৩৬।
*আল্লাহ তাআ'লা এই আদেশ সমস্ত নবী ও তাদের উম্মতকেই করেছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলোঃ
তাগুত কি? তাগুত কারা?
আমরা তাগুত চিনবো কি করে?
ইসলাম শেখা জরুরি। এর জন্য আপনাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হবে, ছোট্ট এই জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেই সময় বের করে সত্যিকারের আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
তাগুতের অনুসরন করা শির্ক ও কুফুরীঃ
তাগুত শব্দ এসেছে “তাগা” যার অর্থ “সীমা লংঘন করা”, আল্লাহ ছাড়া যা কিছুর উপাসনা করা হয় এবং যে এতে রাজি-খুশি থাকে, তাকে তাগুত বলা হয়।
তাগুত এর সংজ্ঞাঃ
১) আল্লাহ ছাড়া যে ব্যক্তির ইবাদত করা হয় আর সে তার ইবাদতে সন্তুষ্ট থাকে, তাকে তাগুত বলা হয়।
২) প্রত্যেক অনুসৃত অথবা আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য বাদ দিয়ে যাদের আনুগত্য করা হয় তাদেরকেও তাগুত বলা হয়। যেমন,
মহান আল্লাহ বলেনঃ
“আমি প্রত্যেক উম্মাত (জাতির) কাছেই রাসুল পাঠিয়েছি, যেন তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাগুত থেকে বেচে থাকে।
সুরা আন-নাহলঃ ৩৬।
তাগুত কত প্রকার?
তাগুত অনেক প্রকারের আছে তার থেকে প্রধান ৫ প্রকার উল্লেখ করা হলোঃ
১) ইবলিশঃ সে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতের দিকে আহব্বান করে।
“হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।
সুরা ইয়াসিনঃ ৬০-৬১।
সুতরাং আল্লাহ ছাড়া যাকিছুর উপাসনা করা হয় এর মূলে রয়েছে ইবলিশ। সেই হচ্ছে সমস্ত শিরকের হোতা।
২) আল্লাহর আইন বিরোধী অত্যাচারী শাসকঃ যে আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করে দেয় এবং মানুষের বানানো শাসনতন্ত্র কায়েম করে। যেমন কেউ যদি বলে, “চোরের শাস্তি হাত কাটা বর্বরতা, হত্যার শাস্তি (কেসাস), জিনার শাস্তি (রজম) বর্তমান যুগে চলবেনা”...
আল্লাহ কি বলেছেন দেখুনঃ
“হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।”
সুরা বাকারাহঃ ১৭৮-১৭৯।
“আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যেঃ যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ করা হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে তাগুতের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা তাগুতকে অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসো-যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে।
সুরা আন-নিসাঃ ৬০-৬১।
“অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম! সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে (নবী সাঃ কে) ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে তা কবুল করে নেবে”।
সুরা আন-নিসাঃ ৬৫।
৩) আল্লাহ যা অবতীর্ন করেছেন (কুরআন+সুন্নাহ) তা বাদ দিয়ে যে বিচারক/শাসক বা নেতাগন অন্য আইন/বিধান/সংবিধান দিয়ে ফয়সালা করে। যেমন কুরান-হাদীস বিরোধী কোনো আইন রায়, কিয়াস, কারো ফতোয়া, অলিদের কথা, পীর মাশায়েখর কথা মানা, সংসদে আইন পাশ করে সমাজে চাপিয়ে দেয়া এবং বিজাতিদের মন গড়া সংবিধান মানা। যেমন আল্লাহ বলেছেনঃ
“যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই কাফের”।
সুরা আল-মায়িদাহঃ ৪৪।
৪) যে “ইলমে গায়েব” বা অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করে সে তাগুত। এদের মাঝে রয়েছে জ্যোতিষী, গণক, রাশি-চক্র ইত্যাদি। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
“তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানেনা। স্থলে ও জলে যা আছে, একমাত্র তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না, কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না, কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে”।
সুরা আনআ’মঃ ৫৯।
৫) আল্লাহ ছড়া যার ইবাদত/পূজা/উপাসনা করা হয়, এবং এতে যে রাজী-খুশি থাকে সে তাগুত। এদের মাঝে রয়েছে সেইন্ট, ঠাকুর, পীর-ফকির, ধর্মীয় গুরু, নেতা ইত্যাদি যাদেরকে পূজা করা হয়। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
“তাদের মধ্যে যে বলে যে, তিনি (আল্লাহ) ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব। আমি জালেমদেরকে এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি”।
সুরা আল-আম্বিয়াঃ ২৯।
মূলঃ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)।
[সংগৃহিত]
===================================
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

গ্রন্থনা: শাইখ আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইবরাহীম আল কার‘আওয়ী

অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সম্পাদনা: ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

এ-কথা জানা প্রয়োজন যে, আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির উপর সর্ব প্রথম যা ফরজ করেছেন তা হচ্ছে তাগুতের সাথে কুফরি এবং আল্লাহর উপর ঈমান।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “আর নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল পাঠিয়েছি এ কথা বলে যে, তোমরা শুধু আল্লাহর উপাসনা কর এবং তাগুতকে পরিত্যাগ কর।” [সূরা আন্‌-নাহল: ৩৬]

তাগুতের সাথে কুফরির ধরণ হলো : আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর উপাসনা (ইবাদত) বাতিল বলে বিশ্বাস করা, তা ত্যাগ করা, ঘৃণা ও অপছন্দ করা, এবং যারা তা করবে তাদের অস্বীকার করা, তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা।

আর আল্লাহর উপর ঈমানের অর্থ হলো : আল্লাহ তা‘আলাই কেবলমাত্র হক উপাস্য ইলাহ, অন্য কেউ নয়— এ-কথা বিশ্বাস করা, আর সবরকম ইবাদতকে নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট করা যাতে এর কোন অংশ অন্য কোন উপাস্যের জন্য নির্দিষ্ট না হয়; আর মুখলিস বা নিষ্ঠাবানদের ভালবাসা, তাদের মাঝে আনুগত্যের সম্পর্ক স্থাপন করা, মুশরিকদের ঘৃণা ও অপছন্দ করা, তাদের শত্রুতা করা।

আর এটাই ইবরাহীম আলাইহিস্‌সালাম এর প্রতিষ্ঠিত দীন বা মিল্লাত, যে ব্যক্তি তার থেকে বিমুখ হবে সে নিজ আত্মাকে বোকা বানাবে, আর এটাই হলো সে আদর্শ (أسوة) বা (Model) যার কথা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বাণীতে বলেছেন : “অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে ইবরাহীম ও তার সাথীদের মাঝে সুন্দর আদর্শ, যখন তারা তাদের জাতিকে বলেছিল: আমরা তোমাদের এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের অপরাপর উপাস্য দেবতাদের থেকে সম্পূর্ণ সম্পর্কমুক্ত, আমরা তোমাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলাম, আর আমাদের ও তোমাদের মাঝে চিরদিনের জন্য শত্রুতা ও ঘৃণার সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে পড়ল, যে পর্যন্ত তোমরা শুধু এক আল্লাহর উপর ঈমান স্থাপন না করছ।” [সূরা আল-মুমতাহিনাঃ ৪]

তাগুত:

শব্দটি ব্যাপক, এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যা কিছুর ইবাদত বা উপাসনা করা হয়, এবং উপাস্য সে উপাসনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এমন সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই কি তা দেবতা, বা নেতা, বা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণের বাইরে অন্য কারো অনুসরণই হোক, ঐসবগুলোকেই তাগুত বলা হবে।

আর এ তাগুত -এর সংখ্যা অত্যধিক; তবে প্রধান-প্রধান তাগুত হলো পাঁচটি :

এক: শয়তান :

যে আল্লাহর ইবাদত থেকে মানুষকে অন্য কিছুর ইবাদতের দিকে আহবান করে।

এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী : “হে আদম-সন্তান, আমি কি তোমাদের থেকে শয়তানের ইবাদত না করার অঙ্গিকার নিই নি? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” [সূরা ইয়াসিন: ৬০]

দুই: আল্লাহর আইন (হুকুম) পরিবর্তনকারী অত্যাচারী শাসক :

এর প্রমাণ আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “আপনি কি তাদের দেখেন নি যারা মনে করে আপনার কাছে এবং আপনার পূর্ববর্তীদের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছে, তারা তাগুতকে বিচারক হিসাবে পেতে আকাঙ্ক্ষা করে অথচ তাদেরকে এর (তাগুতের) সাথে কুফরির নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। আর শয়তান তাদেরকে সহজ সরল পথ থেকে অনেক দুর নিয়ে যেতে চায়।” [সূরা আন্‌নিসাঃ ৬০]

তিন : আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ (আইনের) হুকুমের বিপরীত হুকুম প্রদানকারী :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “আর যারা আল্লাহর অবতীর্ণ আইন অনুসারে বিচার করে না তারা কাফের।” [সূরা আল মায়েদা: ৪৪]

চার : আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন গায়েবের খবর রাখার দাবিদার :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তিনি গায়েবের জ্ঞানে জ্ঞানী, সুতরাং তার অদৃশ্য জ্ঞানকে কারও জন্য প্রকাশ করেন না, তবে যে রাসূল এর ব্যাপারে তিনি সন্তুষ্ট তিনি তাকে তার সম্মুখ ও পশ্চাৎ থেকে হিফাজত করেন।” [সূরা আল-জিন: ২৬, ২৭]

অন্য আয়াতে বলেন : “আর তার কাছেই সমস্ত অদৃষ্ট বস্তুর চাবিকাঠি, এগুলো তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না, তিনি জানেন যা ডাঙ্গায় আছে আর যা সমুদ্রে আছে। যে কোন (গাছের) পাতাই পতিত হয় তিনি তা জানেন, জমিনের অন্ধকারের কোন শস্য বা কোন শুষ্ক বা আর্দ্র বস্তু সবই এক প্রকাশ্য গ্রন্থে সন্নিবেশিত আছে।” [সূরা আল-আন‘আম: ৫৯]

পাঁচ : আল্লাহ ছাড়া যার ইবাদত করা হয় এবং সে এই ইবাদতে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “আর তাদের থেকে যে বলবে- আল্লাহ ব্যতীত আমি উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নাম দ্বারা পরিণাম ফল প্রদান করব, এভাবেই আমি অত্যাচারীদের পরিণাম ফল প্রদান করে থাকি”। [সূরা আল-আন্‌বিয়াঃ ২৯]

মনে রাখা দরকার কোন মানুষ তাগুতের উপর কুফরি ছাড়া ইমানদার হতে পারেনা, আল্লাহ বলেন :“সুতরাং যে তাগুতের সাথে কুফরি করে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনে সে এমন মজবুত রজ্জুকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে যার কোন বিভক্তি বা চিড় নেই, আর আল্লাহ সর্ব শ্রোতা ও সর্ব জ্ঞানী।” [সূরা আল-বাকারা: ২৫৬]

এ আয়াতের পূর্বাংশে আল্লাহ বলেছেন যে, “বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন পথ, ভ্রষ্ট-পথ থেকে স্পষ্ট হয়েছে”। ‘বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন পথ’ বলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দীনকে, আর ‘ভ্রান্ত-পথ’ বলতে আবু জাহলের দীন, আর এর পরবর্তী আয়াতের ‘মজবুত রশি বা রজ্জু’ দ্বারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (বা আল্লাহ ছাড়া হক কোন উপাস্য নেই) এ সাক্ষ্য প্রদানকে বুঝিয়েছেন।

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এ কলেমা কিছু জিনিসকে নিষেধ করে, এবং কিছু বস্তুকে সাব্যস্ত করে, সকল প্রকার ইবাদতকে আল্লাহর ছাড়া অন্যের জন্য হওয়া নিষেধ করে। শুধুমাত্র লা-শরীক আল্লাহর জন্য সকল প্রকার ইবাদতকে নির্দিষ্ট করে।

“আল্লাহর জন্যই সমস্ত শোকর, যার নেয়ামত ও অনুগ্রহেই যাবতীয় ভাল কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে।”
Source:http://www.quraneralo.com/taghut/
===================================

তাগুতের অর্থ এবং প্রধান প্রধান প্রকারসমূহ
জেনে রাখুন! আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া প্রদর্শন করুন আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানের উপর প্রথম যে জিনিসটি ফারয্ করেছেন তা হচ্ছে তাগুতকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা। এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী :

{وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ}

‘‘আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে এ কথা বলে একজন করে রসূল পাঠিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর এবং তাগুত থেকে বিরত থাক।’’ (সূরা আন-নাহল ৩৬)

তাগুতকে অস্বীকার করার ব্যাখ্যা হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর ‘ইবাদাতকে বাতিল ও অন্তঃসারশূন্য বলে বিশ্বাস করা। (শুধু মূর্তি নয় যে অর্থ অনুবাদক সাহেব করেছেন) এটি পরিত্যাগ করা। এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা। যারা আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে অন্য কারোর বা কোন কিছুর ‘ইবাদাত করে তাদের কাফির বলে বিশ্বাস করা এবং তাদেরকে শত্রু জ্ঞান করা। আল্লাহর প্রতি ঈমানের অর্থ হচ্ছে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রকৃত উপাস্য নেই- এ কথায় বিশ্বাস করা। আল্লাহর জন্য সকল প্রকার ‘ইবাদাতকে নিখাদ ও নির্ভেজাল করা। তিনি ছাড়া যত উপাস্য আছে, তাদের ‘ইবাদাতকে অস্বীকার করা, মুখলিস (একনিষ্ঠ ও নির্ভেজাল) লোকদের ভালবাসা এবং তাদের সাথে মৈত্রী স্থাপন করা। মুশরিকদের ঘৃণা করা এবং তাদেরকে শত্রু বলে বিশ্বাস করা এটাই হচ্ছে ইব্রাহীমের ধর্ম। যারা তাথেকে বিমুখ হয়েছে তারা নিজেদেরকে বোকা বানিয়েছে। এ আদর্শ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন :

قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَداً حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللهِ وَحْدَهُ

‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীদের জীবনে এক অনুপম আদর্শ রয়েছে। যখন তারা তাদের জাতির লোকদের বলল, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে তোমরা যার ‘ইবাদাত কর তা থেকে মুক্ত। আমরা তোমাদের অস্বীকার করলাম। আমাদের ও তোমাদের মাঝে সর্বদা শত্রুতা এবং ঘৃণার সূচনা হল, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা একমাত্র আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনো।’’ (সূরা আল-মুমতাহিনাহ ৪)

‘তাগুত’ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে কোন উপাস্যরূপী, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ‘ইবাদাত করা হয় এবং এতে সে সন্তুষ্ট হয় তাকেই ‘তাগুত’ বলা হয়। অনেক তাগুত আছে, তন্মধ্যে প্রধান হচ্ছে পাঁচটি।

প্রথমতঃ শয়তান যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর বা কোন কিছুর ‘ইবাদাত করতে আহবান করে। এর প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহর বাণী :

{أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لاَ تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ}

‘‘হে আদম সন্তান! আমি কি তোমাদের বলে রাখিনি যে, তোমরা শয়তানে ‘ইবাদাত করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।’’ (সূরা ইয়াসীন ৬০)

দ্বিতীয়তঃ আল্লাহর বিধান পরিবর্তনকারী যালিম শাসক। এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী :

{أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلالاً بَعِيداً}

‘‘আপনি কি তাদের দেখেননি যারা ধারণা করে যে, তারা আপনার প্রতি অবতীর্ণ এবং আপনার পূর্বে অবতীর্ণ ওয়াহীর প্রতি ঈমান এনেছে। তারা তাগুতকে বিচারক বলে মানতে চায়। অথচ তাদের সেটিকে অস্বীকার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদের সুদূর ভ্রান্তিতে ফেলতে চায়।’’ (সূরা নিসা ৬০)

তৃতীয়তঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে অন্য কোন বিধান অনুযায়ী শাসন করে- এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী :

{وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ}

‘‘যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী শাসন করল না, তারাই কাফির।’’ (সূরা মায়িদাহ ৪৪)

লক্ষণীয় যে সব শায়খগণ কুরআন হাদীসের অপব্যাখ্যা করে এবং যঈফ, জাল হাদীসের কথা গোপন করছে যা আল্লাহর বিধান নয় এবং সেই বিধান তারা নিসাবের নামে কোটি কোটি মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং তাতেই তারা সন্তুষ্ট, তারা কি তাগুতের উপরোক্ত সংজ্ঞার আওতায় আসে না?

চতুর্থতঃ যে আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে গুপ্ত জ্ঞানের দাবী করে- এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী :

{عَالِمُ الْغَيْبِ فَلا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَداً، إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِن رَّسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا}

‘‘তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। পরন্তু তিনি অদৃশ্য বিষয় কারো কাছে প্রকাশ করেন না, তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত। তখন তিনি তার অগ্রে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন’’। (সূরা জ্বীন ২৬-২৭)

আরো দেখুন, সূরা আল-আন‘আম ৫৯ নং আয়াতে।

পাঠক এই গ্রন্থের ‘ইল্মে গায়িবের প্রসঙ্গ পড়ে দেখুন। যে সমস্ত শায়খ মানুষের মধ্যে গায়িবের জ্ঞান ধারণা করেন এবং জনগণকে তার প্রতি বিশ্বাস করার জন্য গ্রন্থ লিখেছেন এবং মাসজিদ থেকে কুরআনের দারস্ বিদায় দিয়ে তাদের কথিত নিসাব চালু করেছেন যার মধ্যে উক্ত গায়িবের জ্ঞানের কথা ওলী আউলিয়া ও সূফীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে মানুষকে ধারণা দেয়া হয়েছে তারা কি উক্ত তাগুতের আওতায় পড়ে না?

পঞ্চমত : আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে যার ‘ইবাদাত করা হয় এবং সেই উপাস্য ঐ ‘ইবাদাতে সন্তুষ্ট। প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী :

{وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ }

‘‘আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বলে তিনি ছাড়া আমিই মা’বূদ আমি তাকে প্রতিফল হিসাবে জাহান্নাম দিব। এমনিভাবেই আমি অত্যাচারীদের প্রতিফল দেই।’’ (সূরা আম্বিয়া ২৯)

পাঠক জেনে রাখুন, মানুষ তাগুতকে অস্বীকার না করা পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে পারবে না। মহান আল্লাহ বলেন :

{فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لاَ انْفِصَامَ لَهَا وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ}

‘‘যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল সে অবশ্যই সুদৃঢ় হাতলকে ধারণ করল যা ভাঙ্গার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাত।’’ (সূরা বাক্বারাহ ২৫৬)

পাঠক লক্ষ্য করুন শাইখতো طاغوت শব্দের অর্থ মূর্তি করেছেন- বিশ্ব বরেণ্য মুফাস্সিরগণ কি করেছেন।

* ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত আল-কুরআনুল কারীমে উক্ত আয়াতের অনুবাদ করা হয়েছে এভাবে- ‘‘যে তাগুতকে অস্বীকার করবে ও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে সে এমন একটি মজবুত হাতল ধরবে যা কখনও ভাঙ্গবে না।’’ তিনি টীকায় লিখেছেন, তাগুত মানে সীমালঙ্ঘনকারী, দৃষ্কৃতির মূল বস্তু যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

* আশরাফ আলী থানবী (রহ.) লিখেছেন, সুতরাং যে ব্যক্তি শয়তানকে অমান্য করে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে আঁকড়ে ধরল এমন শক্ত কড়া যার কোন প্রকার বিচ্ছিন্নতা নাই।

* আশরাফ আলী থানবীর খলীফা মুফতী সূফী সাহেব মারেফুল কুরআনে এ আয়াতের অনুবাদ লিখেছেন ‘এখন যারা গোমরাহকারী তাগুতদেরকে মানবে না এবং আল্লাহ্তে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাঙ্গবার নয়’।

* সাইয়িদ আবুল ‘আলা মওদূদী (রহ.) এ আয়াতের অনুবাদে লিখেছেন, ‘এখন যে কেউ তাগুতকে অস্বীকার করে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান এনেছে, সে এমন এক শক্তিশালী অবলম্বন ধরেছে, যা কখনও ছিড়ে যাবার নয়। আর তিনি টীকায় লিখেছেন, এখানে তাগুত শব্দটি একবচন হলেও অর্থ বহুবচনের। মানুষ শুধু একটি তাগুতেরই শিকার হয় না, বরং অসংখ্য তাগুত তাকে আক্রমণ করে। যেমন এক তাগুত হল শয়তান, তারা লোভ-লালসা ও কুমন্ত্রণা দিয়ে আক্রমণ করে। আরেক তাগুত নফস্। তারপর ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্র ও সরকার- শাসন যন্ত্রের কর্মচারী, বংশ-গোত্র, যারা প্রত্যেকেই নিজের স্বার্থের দাসত্ব করিয়ে থাকে। এরা সবাই তাগুতের অন্তর্ভুক্ত।

* শব্দার্থে কুরআন মাজীদের অনুবাদক মতিউর রহমান খান লিখেছেন- অতঃপর যে অস্বীকার করবে আল্লাদ্রোহীকে আর যে ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি সে এমন এক রজ্জু ধারণ করল যা কখনও ছিড়ে যাবার নয়।

* সর্বশেষে লক্ষ্য করুন, বিশ্বনন্দিত মুফাস্সিরে হাফিয আল্লামা ইমাদুদ্দ্বীন ইবনু কাসীর (রহ.) এ আয়াতের অর্থ করেছেন, অতএব যে ব্যক্তি শয়তানকে অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে দৃঢ়তর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরল, যা কখনও ছিন্ন হবার নয়।

সম্মানিত পাঠক! লক্ষ্য করুন, আল্লামা ইবনু কাসীর (রহ.) বলেন, طاغوت শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে শয়তান [যা তিনি গ্রহণ করেছেন সূরা ইয়াসীনের ৬০ নং আয়াত এবং ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর কওল থেকে]। তিনি বলেন, ‘উমার (রাযি.)-এর طاغوت অর্থ ‘শয়তান’ নেয়া যথার্থই হয়েছে। কেননা, সব মন্দ কার্যই এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো অজ্ঞতা যুগের লোকদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। যেমন প্রতিমা পূজা, তাদের কাছে অভাব-অভিযোগ পেশ করা এবং বিপদের সময় তাদের নিকট সাহায্য চাওয়া ইত্যাদি- (ইবনু কাসীর ৭১৪ পৃঃ)। এ কিতাবে তাগুতের যে সংজ্ঞা আমরা দিয়েছি তাতে আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে যে কোন উপাস্যরূপী, অনুসরণীয় অনুকরণীয় ব্যক্তি যার ‘ইবাদাত করা হয় এবং এতে সে সন্তুষ্ট হয়, তাকেই তাগুত বলা হয়। উল্লেখ্য মূর্তির পূজা করলে মূর্তি সন্তুষ্ট হয় না। কারণ তার অন্তকরণ নেই এটাতো মানুষের তৈরী। যা শয়তানের প্ররোচনায় সর্বপ্রথম নূহ (‘আ.)-এর যুগে তৈরী হয়। যার মূলত কোন অনুভূতি নেই।

এবার সম্মানিত পাঠকবর্গই বলুন, উক্ত আয়াতের যে অনুবাদ বিশ্বনন্দিত মুফাস্সিরগণ করেছেন তার সাথে অনুবাদকের আদৌ মিল আছে কি? তাছাড়া উক্ত সূরার বিষয়বস্তু, প্রেক্ষাপট এবং আয়াতটির পূর্বাপর বাণী পড়ে দেখুন অনুবাদক সাহেবের অনুবাদকৃত কথার সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে কি না? আর তার অনুবাদ কুরআনের অর্থ বিকৃতির পর্যায়ে পড়ে কি না তাও বিচার করুন এবং ভেবে দেখুন তার এ ধৃষ্টতা অমার্জনীয় অপরাধ কি না?
Source: https://www.hadithbd.com/showqa.php?d=3407

07/27/2023
সরে যাও এমন সংগী থেকে যে তোমাকে কষ্ট দেয়। সৎ সাথীদের সংগী হও সংখ্যা যতই কম হউক না কেন। আর যে কোন বিষয়ে পরামর্শ করো এমন ব...
07/27/2023

সরে যাও এমন সংগী থেকে যে তোমাকে কষ্ট দেয়। সৎ সাথীদের সংগী হও সংখ্যা যতই কম হউক না কেন। আর যে কোন বিষয়ে পরামর্শ করো এমন ব্যক্তিদের সাথে, যারা মহান আল্লাহকে ভয় করে।
[উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাদিঃ); বায়হাকী, শুআবুল ঈমানঃ ৮৯৯৬, ১২/৪৭ পৃঃ]
•••
মহান আল্লাহ বলেনঃ
তোমরা সীমালংঘন করো না। সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা একে অপরকে সহযোগিতা করো। মন্দকর্ম ও সীমালংঘনে পরষ্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিঃশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর।
[মায়েদাঃ ৫:২]
•••
॥সংগৃহীত॥

আল্লাহ তা’আলা কি মানুষের সাথে কথা বলেন?=============================এ দুনিয়াতে আল্লাহ তা’আলার সাথে সরাসরি ও সামনা সামনি ...
07/24/2023

আল্লাহ তা’আলা কি মানুষের সাথে কথা বলেন?
=============================
এ দুনিয়াতে আল্লাহ তা’আলার সাথে সরাসরি ও সামনা সামনি কথা বলা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। স্বয়ং মুসা (আ:)ও সামনাসামনি কথা শোনেননি বরং যবনিকার অন্তরাল থেকে আওয়াজ শুনেছেন মাত্র।
সূরা শুরা: ৪২:৫১ আয়াতে বলা হয়েছে যে:
কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন ওহীর (প্রত্যাদেশ) মাধ্যম ব্যতিরেকে, অন্তরাল ব্যতিরেকে অথবা কোন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে; আর তখন আল্লাহ যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে অহী (প্রত্যাদেশ) করেন;[1] নিঃসন্দেহে তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।
[সূরা শুরা: ৪২:৫১]
ব্যাখ্যা:
[1] এই আয়াতে অহীর তিনটি প্রকারের কথা বর্ণিত হয়েছে।
প্রথমঃ
অন্তরে কোন কথা প্রক্ষিপ্ত করা (ঢুকিয়ে দেওয়া) অথবা স্বপ্নে বলে দেওয়া এই প্রত্যয়ের সাথে যে, তা আল্লাহরই পক্ষ হতে।
দ্বিতীয়ঃ
অদৃশ্য থেকে সরাসরি কথা বলা। যেমন, মূসা (আঃ)-এর সাথে তুর পাহাড়ে বলা হয়েছিল।
তৃতীয়ঃ
ফিরিশতার মাধ্যমে স্বীয় অহী প্রেরণ করা। যেমন,
জিবরীল (আঃ) অহী নিয়ে আগমন করতেন এবং নবীদেরকে শুনাতেন।
[তাফসীরে আহসানুল বায়ান (ফাইযী)]
নীচের অংশটুকু অন্যস্থান থেকে সংগৃহিত:
মানুষের সাথে আল্লাহ তা’আলার কথা বলার ৩টি মাত্র উপায় আছে।
১ম উপায়: –وَحْيًا - অর্থাৎ কোন বিষয় অন্তরে জাগ্রত করে দেওয়া। এটা জাগ্রত অবস্থাতেও হতে পারে আবার নিদ্রাবস্থায় স্বপ্নের আকারেও হতে পারে। এ ব্যাপারে অনেক হাদিস রয়েছে।
২য় উপায়:-- أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ --অর্থাৎ জাগ্রত অবস্থায় যবনিকার অন্তরাল থেকে কোন কথা শোনা। মুসা (আ:) তুর পর্বতে এভাবেই আল্লাহ তা’আলার কথা শুনেছিলেন। কিন্তু তিনি আল্লাহ তা’আলার সাক্ষাত লাভ করেননি।
৩য় উপায়:--أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا --অর্থাৎ জিব্রাঈল (আ:) প্রমুখ কোন ফেরেশতাকে কালাম দিয়ে প্রেরণ করা এবং নবীকে তার পাঠ করে শোনানো। এটাই ছিল সাধারণ পন্থা।
আলোচ্য আয়াতে বর্ণিত এ নীতি দুনিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দুনিয়াতে কোন মানুষ আল্লাহ তা’আলার সাথে সামনা সামনি কথা বলতে পারে না।
মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
“আর কোন মানুষের পক্ষে এমনটি হওয়া সম্ভবপর নয় যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তবে তিনি মানুষের সাথে ইলহাম বা পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন। অথবা (সে জন্য) তিনি কোন দূত প্রেরণ করেন, অতঃপর সে দূত আল্লাহ যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেন [সূরা শুরা: ৪২:৫১]।"
***মাওলানা মুহাম্মদ শফীঃ প্রাগুক্ত; পৃঃ ১২২৬।
উপরের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,
মহান আল্লাহ মানুষের সাথে মোট তিনভাবে কথা বলেনঃ
১) ওহী অর্থাৎ গোপন পন্থায় ইলহাম বা স্বপ্নের মাধ্যমে।
এ প্রক্রিয়ায় তিনি নবী-রাসূল ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন।
২) পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন।
৩) রাসূল তথা ফেরেশ্তা প্রেরণের মাধ্যমে কথা বলেন।
মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী উপরের আয়াতের ব্যাখ্যায় এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
***মাওলানা মুহাম্মদ শফীঃ প্রাগুক্ত; পৃঃ ১২২২।
=========
আল্লাহ কি মানুষের সাথে-
কোন মাধ্যম ছাড়া সরাসরি কথা বলেন?
=======================
স্ববিরোধিতার অভিযোগঃ
আল্লাহ কি কারো সাথে সরাসরি কথা বলেন? না (Quran 42:51) এবং হ্যাঁ (Quran 53:11, 2:259, 2:36, 4:164) !
জবাবঃ
সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো নিচে উল্লেখ করা হল।
[১]
“ কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়।” [1]
[২]
“ রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে। তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে? নিশ্চয় সে তাঁকে আরেকবার দেখেছিল। সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটে, ” [2]
“তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরনের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে-সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল-আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।” [3]
“অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে।” [4]
“এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন।” [5]
সুরা শুরার আলোচ্য আয়াতটি (শুরা ৪২:৫১) ইহুদিদের এক হঠকারী দাবির প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছিল। বাগাভী ও কুরতুবী প্রমুখ লিখেছেন যে, ইহুদিরা রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে বলল, “আমরা আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি না। কেননা আপনি মুসা(আ) এর ন্যায় আল্লাহ তা’আলাকে দেখেন না এবং তাঁর সাথে সামনাসামনি কথাবার্তাও বলেন না।”
রাসুলুল্লাহ(ﷺ) বললেন, এ কথা সত্য নয় যে মুসা(আ) আল্লাহ তা’আলাকে দেখেছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এর সারমর্ম এই যে, এ দুনিয়াতে আল্লাহ তা’আলার সাথে সরাসরি ও সামনা সামনি কথা বলা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। স্বয়ং মুসা(আ)ও সামনাসামনি কথা শোনেননি বরং যবনিকার অন্তরাল থেকে আওয়াজ শুনেছেন মাত্র।
এ আয়াতে আরো বলা হয়েছে যে, মানুষের সাথে আল্লাহ তা’আলার কথা বলার ৩টি মাত্র উপায় আছে।..
এক –وَحْيًا - অর্থাৎ কোন বিষয় অন্তরে জাগ্রত করে দেওয়া। এটা জাগ্রত অবস্থাতেও হতে পারে আবার নিদ্রাবস্থায় স্বপ্নের আকারেও হতে পারে। এ ব্যাপারে অনেক হাদিস রয়েছে।..
২য় উপায়-- أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ --অর্থাৎ জাগ্রত অবস্থায় যবনিকার অন্তরাল থেকে কোন কথা শোনা। মুসা(আ) তুর পর্বতে এভাবেই আল্লাহ তা’আলার কথা শুনেছিলেন। কিন্তু তিনি আল্লাহ তা’আলার সাক্ষাত লাভ করেননি।..
৩য় উপায়--أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا --অর্থাৎ জিব্রাঈল(আ) প্রমুখ কোন ফেরেশতাকে কালাম দিয়ে প্রেরণ করা এবং নবীকে তার পাঠ করে শোনানো। এটাই ছিল সাধারণ পন্থা।.. ... ...
আলোচ্য আয়াতে বর্ণিত এ নীতি দুনিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দুনিয়াতে কোন মানুষ আল্লাহ তা’আলার সাথে সামনা সামনি কথা বলতে পারে না। [6]
সহীহ হাদিসে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ(ﷺ) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ(রা)কে বলেন, “আল্লাহ পর্দার অন্তরাল ছাড়া কারো সাথে কথা বলেননি, কিন্তু তোমার পিতার সাথে তিনি সামনা সামনি হয়ে কথা বলেছেন।” (তিরমিযি ৮/৩৬০) আব্দুল্লাহ(রা) উহুদের যুদ্ধে কাফিরদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, এটা ছিল আলমে বারযাখের কথা আর এই আয়াতে (শুরা ৪২:৫১) যে কালামের কথা বলা হয়েছে তা হল ভূ-পৃষ্ঠের উপরের কালাম। [7]
সুরা নাজমে আল্লাহর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর সরাসরি/সামনাসামনি দেখা হবার বা কথা বলবার কোন বিবরণ নেই।
সুরা নাজম ৫৩:১১-১৪ আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় জামি’ তিরমিযিতে একটি হাদিস আছে।
মাসরূক(র) আয়িশা(রা)কে জিজ্ঞেস করেনঃ “হে উম্মুল মু’মিনীন! মুহাম্মাদ(ﷺ) কি তাঁর মহিমান্বিত রবকে দেখেছেন?”
উত্তরে আয়িশা(রা) বলেনঃ “সুবহানাল্লাহ! তোমার কথা শুনে আমার শরীরের রোম খাড়া হয়ে গেছে!”
আমি[মাসরূক(র)] বললামঃ তাহলে—“নিশ্চয়ই সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে” (সুরা নাজম ৫৩:১৮) এ আয়াতের কী অর্থ করবেন?
তিনি[আয়িশা(রা)] বললেনঃ জেনে রেখো যে এই ৩টি কথা তোমাকে বলে, সে মিথ্যা বলে।–
১। যে তোমাকে বলে যে মুহাম্মাদ(ﷺ) তাঁর রবকে দেখেছেন সে মিথ্যা বলে।
২।যে বলে যে রাসুল(ﷺ) ওহীর কোন অংশ গোপন করেছেন সে মিথ্যা বলেছে। এবং
৩।যে বলে তিনি ঐ ৫টি বিষয় জানতেন যা একমাত্র আল্লাহ জানেন। অতঃপর তিনি পাঠ করেন---
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।” (সুরা লুকমান, ৩৪নং আয়াত)
এরপর তিনি বলেন, “তবে হ্যাঁ, তিনি জিব্রাঈল(আ)কে তাঁর আসল আকৃতিতে ২ বার দেখেছেন। একবার তিনি দেখেছেন সিদরাতুল মুনতাহায় এবং অন্যবার দেখেছেন মক্কার ‘আযইয়াদ’এ। যখন জিব্রাঈল(আ) আগমন করেন তখন তাঁর ৬০০ ডানা দিগন্ত বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে ছিল।”
(তিরমিযি ৯/১৬৭)
এ প্রসঙ্গে আর একটি হাদিস রয়েছে---
“আবু যার(রা) বলেছেনঃ আমি রাসুল(ﷺ)কে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন?”
তিনি বললেনঃ “আমি কিভাবে দেখব, তিনি তো নুর।””
(মুসলিম ১/১৬১) [8]
অতএব সুরা নাজমে রাসুলুল্লাহ(ﷺ) আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি কিংবা সরাসরি কথা বলেননি। আলোচ্য আয়াতে জিব্রাঈল(আ)কে সরাসরি দেখার কথা বলা হয়েছে।
মুফাসসিরগণের মতে সুরা বাকারাহ ২:২৫৯ নং আয়াতে উজাইরের কথা বলা হয়েছে। সেখানেও এই কথোপকথন সামনাসামনি বা সরাসরি ছিল না। ইবন কাসির(র) আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করেছেনঃ
“...অতঃপর যখন ফুঁ দিয়ে সারা দেহে আত্মা প্রবেশ করানো হয় তখন আল্লাহ তা’আলা মালাক(ফেরেশতা) এর মাধ্যমে তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ كَمْ لَبِثْتَ ۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۖ “তুমি কতদিন ধরে এভাবে(মরে) ছিলে?”
উত্তরে তিনি বলেনঃ “এখনও তো একদিন পুরা হয়নি।” ... ” [9]
দুনিয়াতে মানুষের সাথে আল্লাহ তা’আলার বাক্যালাপের মাধ্যম হিসাবে ফেরেশতাগণের কথা পূর্বে সুরা শুরার ৫১ নং আয়াতের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সুরা বাকারাহ ২:৩৬ নং আয়াতে আদম(আ) এর উদ্যেশ্যে আল্লাহ তা’আলার আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে এই কথোপকথনের স্বরূপ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। এটি যদি সরাসরিও হয়ে থাকে সেটিও সুরা শুরার ৫১নং আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কেননা আদম(আ)এর সাথে আল্লাহ তা’আলা যে কথা বলেছেন তা দুনিয়াতে নয় বরং জান্নাতে। সুরা শুরার ৫১নং আয়াতটি ভূপৃষ্ঠে মানূষের সাথে বাক্যালাপের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। সুরা বাকারাহর ৩৮ নং আয়াতে এটাও বলা হয়েছে যে পৃথিবীতে নেমে যাবার পর আল্লাহর নিকট থেকে হেদায়েত তথা ওহী পৌঁছাবে।
সুরা নিসা ৪:১৬৪ নং আয়াতে মুসা(আ) এর সঙ্গে আল্লাহ তা’আলার কথোপকথনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই কথোপকথনের ব্যাপারে পূর্বেই সুরা শুরার ৪২:৫১ নং আয়াতের আলোচনায় আলোকপাত করা হয়েছে। মুসা(আ) আল্লাহর সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলেননি বরং যবনিকার অন্তরাল থেকে আওয়াজ শুনেছেন।
উপসংহারে বলা যায় যে—আল্লাহ তা’আলা ভূপৃষ্ঠে মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি বা সরাসরি কথা বলেন না যা সুরা শুরার ৫১ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনের অন্যান্য আয়াতগুলোর তথ্যের সাথে এই আয়াতের তথ্যের কোন বিরোধ বা বৈপরিত্য নেই।
তথ্যসূত্রঃ
[1] আল কুরআন, শুরা ৪২:৫১
[2] আল কুরআন, নাজম ৫৩:১১-১৪
[3] আল কুরআন, বাকারাহ ২:২৫৯
[4] আল কুরআন, বাকারাহ ২:৩৬
[5] আল কুরআন, নিসা ৪:১৬৪
[6] তাফসির মা’আরিফুল কুরআন(বিস্তারিত), সুরা শুরার ৫১ নং আয়াতের তাফসির, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৭০১-৭০২
[7] তাফসির ইবন কাসির ৭ম খণ্ড(হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী), সুরা শুরার ৫১নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৫৮০
[8] তাফসির ইবন কাসির, সুরা নাজমের ১১-১৮ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য
[9] তাফসির ইবন কাসির ১ম খণ্ড (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী), সুরা বাকারাহর ২৫৯ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৬৫৫
***********
-মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার -এর লেখা থেকে সংগৃহিত।
সূত্রঃ
https://response-to-anti-islam.com/.../%E0%A6%86%E0%A6.../95
===
আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ)-কে স্বপ্নে দেখা:
==========================
শুরুতেই জানা আবশ্যক যে,
যারা আল্লাহকে দেখা বা স্বপ্নে দেখার দাবী করবে বা বলবে তারা কাফির।
আর যারা তাদেরকে কাফির বলাতে সন্দেহ বা আপত্তি করবে তারাও কাফির এবং দাজ্জালের উত্তরসূরী।
***********************************
আল্লাহ তা‘আলাকে চর্মচক্ষে দেখা সম্ভব নয়:
===========================
মূসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলাকে সরাসরি দেখার জন্য আবেদন করলে মহান আল্লাহ তাকে বলেছিলেনঃ
"তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে (সরাসরি) পারবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও সেটি যদি স্ব-স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে, তা হলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে। অতঃপর যখন তাঁর প্রভু পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, তখন তিনি সেটাকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।"
***সূরা আরাফঃ আয়াতঃ ৭:১৪৩।
কুরআনের উপরের আয়াত দ্বারা প্রমানীত হয় যে,
এ দুনিয়াতে থাকাবস্থায় বা বিচার দিবসের(পরকালের) পূর্বে আল্লাহ তা‘আলাকে চর্মচক্ষে দেখা কোন নবী-রাসূল ও মুমিনদের পক্ষে সম্ভব নয়।
দুনিয়াতে মূসা (আঃ) এবং আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে আল্লাহ তা‘আলাকে সরাসরি দেখা সম্ভব হয়নি।
তাই আল্লাহ তা‘আলাকে স্বচক্ষে দেখা অন্য কারও পক্ষেই আদৌ সম্ভব হবে না।
যদি কেউ এমন দাবী করে তাহলে সে হবে একজন বড় মিথ্যূক, কাফের এবং অমুসলিম।
এ ব্যাপারে অধিকাংশ ইমাম একমত।
আল্লাহ তা‘আলাকে চর্মচক্ষে দেখা সম্ভব নয়।
এই বিষয়ে কুরআনে বর্ণিত আয়াত সমূহঃ
মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
"তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি। (পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।"
***সূরা আরাফঃ আয়াতঃ ৭:১৪৩-১৪৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"দৃষ্টি সমূহ তাঁকে পেতে পারে না, অবশ্য তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে পারেন; তিনি অত্যন্ত সুক্ষদর্শী, সুবিজ্ঞ।"
***সূরা আনআমঃ ৬:১০৩।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে ও পশ্চাতে আছে এবং তারা তাকে জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করতে পারে না। "
***সূরা ত্বোয়াহাঃ আয়াতঃ ২০:১১০।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়।"
***সূরা আশ-শুরাঃ আয়াতঃ ৪২:৫১।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"তারা তথায় যা চাইবে, তাই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।"
***সূরা ক্বাফঃ আয়াতঃ ৫০:৩৫।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"তিনি সেই ফেরেশতাকে (জিবরাইলকে) প্রকাশ্য দিগন্তে দেখেছেন।"
***সূরা তাকভীরঃ আয়াতঃ ৮১:২৩।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"উর্ধ্ব দিগন্তে। অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল। তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন। রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে। তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে? নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটে।"
***সূরা নাজমঃ আয়াতঃ ৫৩:৭-১৪।
*সূরা নাজমের আয়াত সমূহে জিবরাইলকে স্ব-আকৃতিে বা শরীরে দুইবার দেখার কথা বলা হয়েছে।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তার পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।"
***সূরা কিয়ামাহঃ আয়াতঃ ৭৫:২২-২৩।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"কখনও না, তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।"
***সূরা তাতফীফঃ আয়াতঃ ৮৩:১৫।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"তার সমতুল্য কেউ নেই।"
***সূরা ইখলাসঃ আয়াতঃ ১১২:৪।
মহান আল্লাহ নবী-রাসুল তথা মুমিনদের সাথে মোট তিনভাবে কথা বলেনঃ
১) অহি অর্থাৎ গোপন পন্থায় ইলহাম বা স্বপ্নের মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় তিনি নবী-রাসূল ও মুমিনদের সাথে কথা বলেন।
২) পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন।
৩) নবী-রাসূলদের কাছে ফেরেশতা প্রেরণের মাধ্যমে কথা বলেন।
যেহেতু, আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সাথে উপরের তিন অবস্থার মাধ্যমে কথা বলে থাকেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই এ-কথা প্রমানীত হয় যে, মি‘রাজের রজনীতে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে পর্দার অন্তরাল থেকেই (সিদরাতুল মুন্তাহা ও আরশে আযীমের মাঝখানের কোন এক যায়গায়) কথা বলেছিলেন।
আল্লাহ ভাল জানেন।
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেছেনঃ
একদা পূর্ণিমার রাতে নবী (সাঃ) আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি বললেন, অবশ্যই তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে, যেমন এই চাঁদটিকে তোমরা দেখছ এবং একে দেখতে তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছ না।
***সহীহ বুখারীঃ ১০ম খন্ড, ৬৯৩০।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেনঃ
'যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মদ (সাঃ) স্বীয় প্রতিপালককে দেখেছেন, অবশ্যই সে মিথ্যা বলল। কেননা মহান আল্লাহ্‌ বলছেন, চক্ষুরাজি কখনো তাঁকে দেখতে পায় না। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মদ (সাঃ) গায়েব জানেন, অবশ্য সেও মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্‌ বলেছেন, গায়েব জানেন একমাত্র আল্লাহ্‌।'
***সহীহ বুখারীঃ ১০ম খন্ড, ৬৮৭৬।
************************************
যারা রাসূল (সাঃ)-কে কারা স্বপ্নে দেখতে পারেন:
===============================
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে কেবল তারাই দেখতে পারেন যারা ঈমান ও ‘আমলে সালেহ'- এর আমলে বা গুণে গুণান্বিত।
যারা হক্ব পথের অনুসারী (১০০% আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ পালনকারী) কেবল তাঁরাই রাসূল'কে স্বপ্নে দেখতে পারেন।
কিন্তু যারা ঐ দলভুক্ত নয়, তাদের স্বপ্নে দেখার বিষয়টি সত্য হতেও পারে, আবার মিথ্যাও হতে পারে।
কারন,
শয়তানের চক্রান্তের মাধ্যমে একজন কাফিরের দ্বারাও অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে, যেমন তা হয়ে থাকে একজন সত্যবাদীর জন্য কারামত স্বরূপ।
তবে, উভয়ের মাঝে পার্থক্য অর্জিত হবে কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণের উপর ভিত্তি করে। যিনি কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী হবেন, তাঁর স্বপ্ন সত্য হবে।
আর যিনি কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী হবেন না, তার স্বপ্ন মিথ্যা হবে।
***ফাতহূল বারীঃ ১২:৩৮৫।
উপরে বর্ণিত অবস্থার আলোকে বলা যায় যে, কোন দিন আল্লাহ ও তার রাসুলকে জাগ্রত অবস্থায় দেখাতো দূরের কথা, কখনো স্বপ্নে দেখারও কথা নয়। তা ছাড়া আল্লাহ তা‘আলাকে জাগ্রত অবস্থায় পৃথিবীতে থাকাকালে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'ও দেখেন নাই। মি‘রাজের রাতে আরশে আযীম ও সিদরাতুল মুনতাহা-এর মধ্যবর্তী কোন এক স্থানে আল্লাহর সাথে রাসুল (সাঃ) একান্তে কথা-বার্তা হওয়ার সময় তিনি কি আল্লাহ তা‘আলাকে স্বচক্ষে দেখেছিলেন? এ নিয়ে মুসলিম মনীষীদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কারও মতে স্বচক্ষে দেখেছেন। তবে, অধিকাংশ মনীষীদের মতে স্বচক্ষে দেখেন নাই। বরং অন্তর চক্ষু দিয়ে দেখেছিলেন।এবং পর্দার অন্তরাল থেকেই উভয়ের মাঝে কথা-বার্তা হয়েছিল। পবিত্র কুরআন দ্বারা এ কথারই সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
“আর কোন মানুষের পক্ষে এমনটি হওয়া সম্ভবপর নয় যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তবে তিনি মানুষের সাথে ইলহাম বা পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন। অথবা (সে জন্য) তিনি কোন দূত প্রেরণ করেন, অতঃপর সে দূত আল্লাহ যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেন [সূরা শুরা: ৪২:৫১]।"
***মাওলানা মুহাম্মদ শফীঃ প্রাগুক্ত; পৃঃ ১২২৬।
উপরের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহ মানুষের সাথে মোট তিনভাবে কথা বলেনঃ
১) ওহী অর্থাৎ গোপন পন্থায় ইলহাম বা স্বপ্নের মাধ্যমে।
এ প্রক্রিয়ায় তিনি নবী-রাসূল ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন।
২) পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন।
৩) রাসূল তথা ফেরেশ্তা প্রেরণের মাধ্যমে কথা বলেন।
মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী‘ও উপরের আয়াতের ব্যাখ্যায় এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
***মাওলানা মুহাম্মদ শফীঃ প্রাগুক্ত; পৃঃ ১২২২।
যারা রাসূল (সাঃ)-কে জাগ্রত অবস্থায় দেখার কথা বলে তারা আসলে শয়তানকেই দেখে।
একটি সন্দেহযূক্ত হাদিসে এসেছে যেঃ
“রাসূলুল্লাহ-(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-কে যারা স্বপ্নে দেখে তারা তাঁকে জাগ্রত অবস্থায়ও দেখতে পাবে।”
***বুখারী, প্রাগুক্ত; কিতাবুর রু’য়া, বাব নং ১০, হাদীসঃ ৬৫৯২, ৬/২৫৬৭; ইবনে হাজার ‘আসক্বালানী, ফাতহুল বারীঃ ১২/৩৮৩; মুসলিম, প্রাগুক্ত; কিতাবুর রু’য়া, হাদীসঃ ২২৬৬, ৪/১৭৭৫।
এই মর্মে উপরের হাদীসটি বর্ণিত হয়ে থাকলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর মুখ নিঃসৃত মূল বাণীটি কী, সে বিষয় নিয়ে এ হাদীসের বর্ণনাকারীদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।
ইমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় বর্ণনাকারীগণ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেনঃ
“যে আমাকে স্বপ্নে দেখবে, সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে, অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখলো।"
ইমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় সন্দেহ প্রকাশ করে বলা হয়েছেঃ
“আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখতে পাবে অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থার মতই দেখলো”এ কথা বর্ণিত হয়েছে।"
ইমাম ইসমাঈলী উক্ত কথার বদলে বলেছেনঃ
'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল বাণী যদি “সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখলো” এমনটি হয়, তা হলে এ হাদীস নিয়ে কোন জটিলতা নেই। তা না হয়ে যদি রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল বাণী “সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে” হয়ে থাকে, তা হলে এ হাদীসের সঠিক অর্থ কী হবে, এ নিয়ে মনীষীগণ বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেছেনঃ
যদি রাসূলুল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)- এর মূল বাণী হয় “সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে”- তা হলে এ বাক্যটি তাঁদের মতে একটি জটিল বাক্য। এর সমাধানে তারা মোট ছয়টি মতামত ব্যক্ত করেছেন।
সংক্ষিপ্তাকারে নীচে বর্ণিত হলোঃ
১) এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- একটি উপমা স্বরূপ বলেছেন।
অর্থাৎ -যে তাঁকে স্বপ্নে দেখবে, তার এ দেখাটি তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় দেখার মতই হবে।
২) যে এমনটি দেখবে সে জাগ্রত হয়ে তার এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা যথাযথভাবে দেখতে পাবে।
৩) এ হাদীসটি তাঁর সমসাময়িক লোকদের সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ- তাঁর (রাসুল) সময়কার যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ইসলাম গ্রহণ করার পর এমন স্বপ্ন দেখবে, সে তাঁকে তাঁর জীবদ্দশায় কিছু দিন পরে হলেও দেখতে পারে।
৪) যে ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখবে সে রাসূলের আয়নাতে তাঁকে দেখতে পাবে। যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাদিঃ) দেখেছিলেন।
৫) যে এমনটি দেখবে, সে কিয়ামতের দিন তাঁকে (রাসুল) বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সাথে দেখতে পাবে।
৬) যে এমনটি দেখবে, সে বাস্তবে তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় দেখতে পাবে।
তবে, এ অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তব কিছু সমস্যা রয়েছে যা তা গ্রহণের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে থাকে।
***ফাতহূল বারীঃ ইবনে হাজার আসক্বালানীঃ ১২/৩৮৫।
হাদীসবিদ ইবনে হাজার ‘আসক্বালানী উক্ত বাহ্যিক অর্থকে একটি জটিল ও অবিশ্বাস্য অর্থ বলে মন্তব্য করেছেন।
এক দল সালেহীন থেকে বর্ণিত হয়েছে যেঃ
তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখার পর পুনরায় তারা তাঁকে জাগ্রত অবস্থায়ও দেখেছেন।
কিছু বিষয় সম্পর্কে তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাও করেছেন এবং জিজ্ঞাসার ফলাফলও সঠিক ভাবে পেয়েছেন।
ইবনে হাজার এ কথা উল্লেখ করে বলেছেনঃ তাদের এ দাবী যদি সত্য হয়, তাহলে তা একটি জটিল বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।
কারন, এতে তারা সাহাবী হওয়ার মর্যাদা পাবেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা এভাবে রাসূলকে দেখেছে বলে দাবী করবে, তারাও সাহাবী হওয়ার মর্যাদা পাবে।
অপর পক্ষে, এমনও কিছু মনীষী রয়েছেন, যাঁরা রাসূলকে স্বপ্নে দেখেছেন বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় দেখার কথা বলেননি।
সে জন্য যারা রাসূলকে জাগ্রত দেখার কথা বলেন তাদের কথাকে বাহ্যিক অর্থে গ্রহণ করলে তা একটি জটিল অর্থ বলেই প্রতীয়মান হয়।
***ফাতহূল বারীঃ ইবনে হাজার আসক্বালানীঃ ১২/৩৮৫।
মন্তব্যঃ
রাসূল (সাঃ)-কে জাগ্রত অবস্থায় দেখার দাবীদার মিথ্যূক।
কারন, যে ব্যক্তি মারা যায় সে আর দুনিয়াতে ফিরে আসার প্রশ্নই আসে না।
আর মৃত ব্যক্তির দুনিয়াবী বিষয়ে কোন কিছুই করার জ্ঞান থাকে না।
মৃতরা নিজের জন্যই কিছু করার ক্ষমতা রাখেনা।
আমলে সালেহ ব্যক্তি ছাড়া রুহানী মাধ্যমে রাসুল (সাঃ)-কে স্বপ্নে দেখা আদৌ সম্ভব নয়।
*ফাতহূল বারী; ইবনে হাজার আসক্বালানীর বর্ণনাগুলো অনেক আগে কোন একজন দ্বীনি ভাই থেকে সংগৃহিত।
দ্বীনি ভাইটির নাম আমার সঠিকভাবে স্মরণে না আসায় তার নাম এখানে উল্লেখ করতে পারলাম না।
অনুরোধঃ
রাসুল (সাঃ)-কে স্বপ্নে দেখার বিষয়ে যদি কারও কাছে উপযুক্ত দলিল থাকে তাহলে মেহেরবানী করে মন্তব্য করবেন।
[অসমাপ্ত]

Address

New York, NY
11373

Telephone

+13476472743

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আসুন শান্তির ছায়াতলে - Come Under the Shade of Peace posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share