07/24/2023
আল্লাহ তা’আলা কি মানুষের সাথে কথা বলেন?
=============================
এ দুনিয়াতে আল্লাহ তা’আলার সাথে সরাসরি ও সামনা সামনি কথা বলা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। স্বয়ং মুসা (আ:)ও সামনাসামনি কথা শোনেননি বরং যবনিকার অন্তরাল থেকে আওয়াজ শুনেছেন মাত্র।
সূরা শুরা: ৪২:৫১ আয়াতে বলা হয়েছে যে:
কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন ওহীর (প্রত্যাদেশ) মাধ্যম ব্যতিরেকে, অন্তরাল ব্যতিরেকে অথবা কোন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে; আর তখন আল্লাহ যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে অহী (প্রত্যাদেশ) করেন;[1] নিঃসন্দেহে তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।
[সূরা শুরা: ৪২:৫১]
ব্যাখ্যা:
[1] এই আয়াতে অহীর তিনটি প্রকারের কথা বর্ণিত হয়েছে।
প্রথমঃ
অন্তরে কোন কথা প্রক্ষিপ্ত করা (ঢুকিয়ে দেওয়া) অথবা স্বপ্নে বলে দেওয়া এই প্রত্যয়ের সাথে যে, তা আল্লাহরই পক্ষ হতে।
দ্বিতীয়ঃ
অদৃশ্য থেকে সরাসরি কথা বলা। যেমন, মূসা (আঃ)-এর সাথে তুর পাহাড়ে বলা হয়েছিল।
তৃতীয়ঃ
ফিরিশতার মাধ্যমে স্বীয় অহী প্রেরণ করা। যেমন,
জিবরীল (আঃ) অহী নিয়ে আগমন করতেন এবং নবীদেরকে শুনাতেন।
[তাফসীরে আহসানুল বায়ান (ফাইযী)]
নীচের অংশটুকু অন্যস্থান থেকে সংগৃহিত:
মানুষের সাথে আল্লাহ তা’আলার কথা বলার ৩টি মাত্র উপায় আছে।
১ম উপায়: –وَحْيًا - অর্থাৎ কোন বিষয় অন্তরে জাগ্রত করে দেওয়া। এটা জাগ্রত অবস্থাতেও হতে পারে আবার নিদ্রাবস্থায় স্বপ্নের আকারেও হতে পারে। এ ব্যাপারে অনেক হাদিস রয়েছে।
২য় উপায়:-- أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ --অর্থাৎ জাগ্রত অবস্থায় যবনিকার অন্তরাল থেকে কোন কথা শোনা। মুসা (আ:) তুর পর্বতে এভাবেই আল্লাহ তা’আলার কথা শুনেছিলেন। কিন্তু তিনি আল্লাহ তা’আলার সাক্ষাত লাভ করেননি।
৩য় উপায়:--أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا --অর্থাৎ জিব্রাঈল (আ:) প্রমুখ কোন ফেরেশতাকে কালাম দিয়ে প্রেরণ করা এবং নবীকে তার পাঠ করে শোনানো। এটাই ছিল সাধারণ পন্থা।
আলোচ্য আয়াতে বর্ণিত এ নীতি দুনিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দুনিয়াতে কোন মানুষ আল্লাহ তা’আলার সাথে সামনা সামনি কথা বলতে পারে না।
মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
“আর কোন মানুষের পক্ষে এমনটি হওয়া সম্ভবপর নয় যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তবে তিনি মানুষের সাথে ইলহাম বা পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন। অথবা (সে জন্য) তিনি কোন দূত প্রেরণ করেন, অতঃপর সে দূত আল্লাহ যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেন [সূরা শুরা: ৪২:৫১]।"
***মাওলানা মুহাম্মদ শফীঃ প্রাগুক্ত; পৃঃ ১২২৬।
উপরের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,
মহান আল্লাহ মানুষের সাথে মোট তিনভাবে কথা বলেনঃ
১) ওহী অর্থাৎ গোপন পন্থায় ইলহাম বা স্বপ্নের মাধ্যমে।
এ প্রক্রিয়ায় তিনি নবী-রাসূল ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন।
২) পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন।
৩) রাসূল তথা ফেরেশ্তা প্রেরণের মাধ্যমে কথা বলেন।
মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী উপরের আয়াতের ব্যাখ্যায় এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
***মাওলানা মুহাম্মদ শফীঃ প্রাগুক্ত; পৃঃ ১২২২।
=========
আল্লাহ কি মানুষের সাথে-
কোন মাধ্যম ছাড়া সরাসরি কথা বলেন?
=======================
স্ববিরোধিতার অভিযোগঃ
আল্লাহ কি কারো সাথে সরাসরি কথা বলেন? না (Quran 42:51) এবং হ্যাঁ (Quran 53:11, 2:259, 2:36, 4:164) !
জবাবঃ
সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো নিচে উল্লেখ করা হল।
[১]
“ কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়।” [1]
[২]
“ রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে। তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে? নিশ্চয় সে তাঁকে আরেকবার দেখেছিল। সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটে, ” [2]
“তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরনের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে-সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল-আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।” [3]
“অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে।” [4]
“এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন।” [5]
সুরা শুরার আলোচ্য আয়াতটি (শুরা ৪২:৫১) ইহুদিদের এক হঠকারী দাবির প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছিল। বাগাভী ও কুরতুবী প্রমুখ লিখেছেন যে, ইহুদিরা রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কে বলল, “আমরা আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি না। কেননা আপনি মুসা(আ) এর ন্যায় আল্লাহ তা’আলাকে দেখেন না এবং তাঁর সাথে সামনাসামনি কথাবার্তাও বলেন না।”
রাসুলুল্লাহ(ﷺ) বললেন, এ কথা সত্য নয় যে মুসা(আ) আল্লাহ তা’আলাকে দেখেছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এর সারমর্ম এই যে, এ দুনিয়াতে আল্লাহ তা’আলার সাথে সরাসরি ও সামনা সামনি কথা বলা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। স্বয়ং মুসা(আ)ও সামনাসামনি কথা শোনেননি বরং যবনিকার অন্তরাল থেকে আওয়াজ শুনেছেন মাত্র।
এ আয়াতে আরো বলা হয়েছে যে, মানুষের সাথে আল্লাহ তা’আলার কথা বলার ৩টি মাত্র উপায় আছে।..
এক –وَحْيًا - অর্থাৎ কোন বিষয় অন্তরে জাগ্রত করে দেওয়া। এটা জাগ্রত অবস্থাতেও হতে পারে আবার নিদ্রাবস্থায় স্বপ্নের আকারেও হতে পারে। এ ব্যাপারে অনেক হাদিস রয়েছে।..
২য় উপায়-- أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ --অর্থাৎ জাগ্রত অবস্থায় যবনিকার অন্তরাল থেকে কোন কথা শোনা। মুসা(আ) তুর পর্বতে এভাবেই আল্লাহ তা’আলার কথা শুনেছিলেন। কিন্তু তিনি আল্লাহ তা’আলার সাক্ষাত লাভ করেননি।..
৩য় উপায়--أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا --অর্থাৎ জিব্রাঈল(আ) প্রমুখ কোন ফেরেশতাকে কালাম দিয়ে প্রেরণ করা এবং নবীকে তার পাঠ করে শোনানো। এটাই ছিল সাধারণ পন্থা।.. ... ...
আলোচ্য আয়াতে বর্ণিত এ নীতি দুনিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দুনিয়াতে কোন মানুষ আল্লাহ তা’আলার সাথে সামনা সামনি কথা বলতে পারে না। [6]
সহীহ হাদিসে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ(ﷺ) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ(রা)কে বলেন, “আল্লাহ পর্দার অন্তরাল ছাড়া কারো সাথে কথা বলেননি, কিন্তু তোমার পিতার সাথে তিনি সামনা সামনি হয়ে কথা বলেছেন।” (তিরমিযি ৮/৩৬০) আব্দুল্লাহ(রা) উহুদের যুদ্ধে কাফিরদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, এটা ছিল আলমে বারযাখের কথা আর এই আয়াতে (শুরা ৪২:৫১) যে কালামের কথা বলা হয়েছে তা হল ভূ-পৃষ্ঠের উপরের কালাম। [7]
সুরা নাজমে আল্লাহর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর সরাসরি/সামনাসামনি দেখা হবার বা কথা বলবার কোন বিবরণ নেই।
সুরা নাজম ৫৩:১১-১৪ আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় জামি’ তিরমিযিতে একটি হাদিস আছে।
মাসরূক(র) আয়িশা(রা)কে জিজ্ঞেস করেনঃ “হে উম্মুল মু’মিনীন! মুহাম্মাদ(ﷺ) কি তাঁর মহিমান্বিত রবকে দেখেছেন?”
উত্তরে আয়িশা(রা) বলেনঃ “সুবহানাল্লাহ! তোমার কথা শুনে আমার শরীরের রোম খাড়া হয়ে গেছে!”
আমি[মাসরূক(র)] বললামঃ তাহলে—“নিশ্চয়ই সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে” (সুরা নাজম ৫৩:১৮) এ আয়াতের কী অর্থ করবেন?
তিনি[আয়িশা(রা)] বললেনঃ জেনে রেখো যে এই ৩টি কথা তোমাকে বলে, সে মিথ্যা বলে।–
১। যে তোমাকে বলে যে মুহাম্মাদ(ﷺ) তাঁর রবকে দেখেছেন সে মিথ্যা বলে।
২।যে বলে যে রাসুল(ﷺ) ওহীর কোন অংশ গোপন করেছেন সে মিথ্যা বলেছে। এবং
৩।যে বলে তিনি ঐ ৫টি বিষয় জানতেন যা একমাত্র আল্লাহ জানেন। অতঃপর তিনি পাঠ করেন---
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।” (সুরা লুকমান, ৩৪নং আয়াত)
এরপর তিনি বলেন, “তবে হ্যাঁ, তিনি জিব্রাঈল(আ)কে তাঁর আসল আকৃতিতে ২ বার দেখেছেন। একবার তিনি দেখেছেন সিদরাতুল মুনতাহায় এবং অন্যবার দেখেছেন মক্কার ‘আযইয়াদ’এ। যখন জিব্রাঈল(আ) আগমন করেন তখন তাঁর ৬০০ ডানা দিগন্ত বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে ছিল।”
(তিরমিযি ৯/১৬৭)
এ প্রসঙ্গে আর একটি হাদিস রয়েছে---
“আবু যার(রা) বলেছেনঃ আমি রাসুল(ﷺ)কে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন?”
তিনি বললেনঃ “আমি কিভাবে দেখব, তিনি তো নুর।””
(মুসলিম ১/১৬১) [8]
অতএব সুরা নাজমে রাসুলুল্লাহ(ﷺ) আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি কিংবা সরাসরি কথা বলেননি। আলোচ্য আয়াতে জিব্রাঈল(আ)কে সরাসরি দেখার কথা বলা হয়েছে।
মুফাসসিরগণের মতে সুরা বাকারাহ ২:২৫৯ নং আয়াতে উজাইরের কথা বলা হয়েছে। সেখানেও এই কথোপকথন সামনাসামনি বা সরাসরি ছিল না। ইবন কাসির(র) আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করেছেনঃ
“...অতঃপর যখন ফুঁ দিয়ে সারা দেহে আত্মা প্রবেশ করানো হয় তখন আল্লাহ তা’আলা মালাক(ফেরেশতা) এর মাধ্যমে তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ كَمْ لَبِثْتَ ۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۖ “তুমি কতদিন ধরে এভাবে(মরে) ছিলে?”
উত্তরে তিনি বলেনঃ “এখনও তো একদিন পুরা হয়নি।” ... ” [9]
দুনিয়াতে মানুষের সাথে আল্লাহ তা’আলার বাক্যালাপের মাধ্যম হিসাবে ফেরেশতাগণের কথা পূর্বে সুরা শুরার ৫১ নং আয়াতের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সুরা বাকারাহ ২:৩৬ নং আয়াতে আদম(আ) এর উদ্যেশ্যে আল্লাহ তা’আলার আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে এই কথোপকথনের স্বরূপ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। এটি যদি সরাসরিও হয়ে থাকে সেটিও সুরা শুরার ৫১নং আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কেননা আদম(আ)এর সাথে আল্লাহ তা’আলা যে কথা বলেছেন তা দুনিয়াতে নয় বরং জান্নাতে। সুরা শুরার ৫১নং আয়াতটি ভূপৃষ্ঠে মানূষের সাথে বাক্যালাপের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। সুরা বাকারাহর ৩৮ নং আয়াতে এটাও বলা হয়েছে যে পৃথিবীতে নেমে যাবার পর আল্লাহর নিকট থেকে হেদায়েত তথা ওহী পৌঁছাবে।
সুরা নিসা ৪:১৬৪ নং আয়াতে মুসা(আ) এর সঙ্গে আল্লাহ তা’আলার কথোপকথনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই কথোপকথনের ব্যাপারে পূর্বেই সুরা শুরার ৪২:৫১ নং আয়াতের আলোচনায় আলোকপাত করা হয়েছে। মুসা(আ) আল্লাহর সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলেননি বরং যবনিকার অন্তরাল থেকে আওয়াজ শুনেছেন।
উপসংহারে বলা যায় যে—আল্লাহ তা’আলা ভূপৃষ্ঠে মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি বা সরাসরি কথা বলেন না যা সুরা শুরার ৫১ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনের অন্যান্য আয়াতগুলোর তথ্যের সাথে এই আয়াতের তথ্যের কোন বিরোধ বা বৈপরিত্য নেই।
তথ্যসূত্রঃ
[1] আল কুরআন, শুরা ৪২:৫১
[2] আল কুরআন, নাজম ৫৩:১১-১৪
[3] আল কুরআন, বাকারাহ ২:২৫৯
[4] আল কুরআন, বাকারাহ ২:৩৬
[5] আল কুরআন, নিসা ৪:১৬৪
[6] তাফসির মা’আরিফুল কুরআন(বিস্তারিত), সুরা শুরার ৫১ নং আয়াতের তাফসির, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৭০১-৭০২
[7] তাফসির ইবন কাসির ৭ম খণ্ড(হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী), সুরা শুরার ৫১নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৫৮০
[8] তাফসির ইবন কাসির, সুরা নাজমের ১১-১৮ নং আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য
[9] তাফসির ইবন কাসির ১ম খণ্ড (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী), সুরা বাকারাহর ২৫৯ নং আয়াতের তাফসির, পৃষ্ঠা ৬৫৫
***********
-মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার -এর লেখা থেকে সংগৃহিত।
সূত্রঃ
https://response-to-anti-islam.com/.../%E0%A6%86%E0%A6.../95
===
আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ)-কে স্বপ্নে দেখা:
==========================
শুরুতেই জানা আবশ্যক যে,
যারা আল্লাহকে দেখা বা স্বপ্নে দেখার দাবী করবে বা বলবে তারা কাফির।
আর যারা তাদেরকে কাফির বলাতে সন্দেহ বা আপত্তি করবে তারাও কাফির এবং দাজ্জালের উত্তরসূরী।
***********************************
আল্লাহ তা‘আলাকে চর্মচক্ষে দেখা সম্ভব নয়:
===========================
মূসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলাকে সরাসরি দেখার জন্য আবেদন করলে মহান আল্লাহ তাকে বলেছিলেনঃ
"তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে (সরাসরি) পারবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও সেটি যদি স্ব-স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে, তা হলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে। অতঃপর যখন তাঁর প্রভু পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, তখন তিনি সেটাকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।"
***সূরা আরাফঃ আয়াতঃ ৭:১৪৩।
কুরআনের উপরের আয়াত দ্বারা প্রমানীত হয় যে,
এ দুনিয়াতে থাকাবস্থায় বা বিচার দিবসের(পরকালের) পূর্বে আল্লাহ তা‘আলাকে চর্মচক্ষে দেখা কোন নবী-রাসূল ও মুমিনদের পক্ষে সম্ভব নয়।
দুনিয়াতে মূসা (আঃ) এবং আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে আল্লাহ তা‘আলাকে সরাসরি দেখা সম্ভব হয়নি।
তাই আল্লাহ তা‘আলাকে স্বচক্ষে দেখা অন্য কারও পক্ষেই আদৌ সম্ভব হবে না।
যদি কেউ এমন দাবী করে তাহলে সে হবে একজন বড় মিথ্যূক, কাফের এবং অমুসলিম।
এ ব্যাপারে অধিকাংশ ইমাম একমত।
আল্লাহ তা‘আলাকে চর্মচক্ষে দেখা সম্ভব নয়।
এই বিষয়ে কুরআনে বর্ণিত আয়াত সমূহঃ
মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
"তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি। (পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।"
***সূরা আরাফঃ আয়াতঃ ৭:১৪৩-১৪৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"দৃষ্টি সমূহ তাঁকে পেতে পারে না, অবশ্য তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে পারেন; তিনি অত্যন্ত সুক্ষদর্শী, সুবিজ্ঞ।"
***সূরা আনআমঃ ৬:১০৩।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে ও পশ্চাতে আছে এবং তারা তাকে জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করতে পারে না। "
***সূরা ত্বোয়াহাঃ আয়াতঃ ২০:১১০।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"কোন মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ওহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা তিনি কোন দূত প্রেরণ করবেন, অতঃপর আল্লাহ যা চান, সে তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাময়।"
***সূরা আশ-শুরাঃ আয়াতঃ ৪২:৫১।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"তারা তথায় যা চাইবে, তাই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।"
***সূরা ক্বাফঃ আয়াতঃ ৫০:৩৫।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"তিনি সেই ফেরেশতাকে (জিবরাইলকে) প্রকাশ্য দিগন্তে দেখেছেন।"
***সূরা তাকভীরঃ আয়াতঃ ৮১:২৩।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"উর্ধ্ব দিগন্তে। অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল। তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন। রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে। তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে? নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটে।"
***সূরা নাজমঃ আয়াতঃ ৫৩:৭-১৪।
*সূরা নাজমের আয়াত সমূহে জিবরাইলকে স্ব-আকৃতিে বা শরীরে দুইবার দেখার কথা বলা হয়েছে।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তার পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।"
***সূরা কিয়ামাহঃ আয়াতঃ ৭৫:২২-২৩।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"কখনও না, তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।"
***সূরা তাতফীফঃ আয়াতঃ ৮৩:১৫।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
"তার সমতুল্য কেউ নেই।"
***সূরা ইখলাসঃ আয়াতঃ ১১২:৪।
মহান আল্লাহ নবী-রাসুল তথা মুমিনদের সাথে মোট তিনভাবে কথা বলেনঃ
১) অহি অর্থাৎ গোপন পন্থায় ইলহাম বা স্বপ্নের মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় তিনি নবী-রাসূল ও মুমিনদের সাথে কথা বলেন।
২) পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন।
৩) নবী-রাসূলদের কাছে ফেরেশতা প্রেরণের মাধ্যমে কথা বলেন।
যেহেতু, আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সাথে উপরের তিন অবস্থার মাধ্যমে কথা বলে থাকেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই এ-কথা প্রমানীত হয় যে, মি‘রাজের রজনীতে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে পর্দার অন্তরাল থেকেই (সিদরাতুল মুন্তাহা ও আরশে আযীমের মাঝখানের কোন এক যায়গায়) কথা বলেছিলেন।
আল্লাহ ভাল জানেন।
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেছেনঃ
একদা পূর্ণিমার রাতে নবী (সাঃ) আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি বললেন, অবশ্যই তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে কিয়ামতের দিন দেখতে পাবে, যেমন এই চাঁদটিকে তোমরা দেখছ এবং একে দেখতে তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছ না।
***সহীহ বুখারীঃ ১০ম খন্ড, ৬৯৩০।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেনঃ
'যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মদ (সাঃ) স্বীয় প্রতিপালককে দেখেছেন, অবশ্যই সে মিথ্যা বলল। কেননা মহান আল্লাহ্ বলছেন, চক্ষুরাজি কখনো তাঁকে দেখতে পায় না। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মদ (সাঃ) গায়েব জানেন, অবশ্য সেও মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন, গায়েব জানেন একমাত্র আল্লাহ্।'
***সহীহ বুখারীঃ ১০ম খন্ড, ৬৮৭৬।
************************************
যারা রাসূল (সাঃ)-কে কারা স্বপ্নে দেখতে পারেন:
===============================
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে কেবল তারাই দেখতে পারেন যারা ঈমান ও ‘আমলে সালেহ'- এর আমলে বা গুণে গুণান্বিত।
যারা হক্ব পথের অনুসারী (১০০% আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ পালনকারী) কেবল তাঁরাই রাসূল'কে স্বপ্নে দেখতে পারেন।
কিন্তু যারা ঐ দলভুক্ত নয়, তাদের স্বপ্নে দেখার বিষয়টি সত্য হতেও পারে, আবার মিথ্যাও হতে পারে।
কারন,
শয়তানের চক্রান্তের মাধ্যমে একজন কাফিরের দ্বারাও অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে, যেমন তা হয়ে থাকে একজন সত্যবাদীর জন্য কারামত স্বরূপ।
তবে, উভয়ের মাঝে পার্থক্য অর্জিত হবে কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণের উপর ভিত্তি করে। যিনি কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী হবেন, তাঁর স্বপ্ন সত্য হবে।
আর যিনি কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী হবেন না, তার স্বপ্ন মিথ্যা হবে।
***ফাতহূল বারীঃ ১২:৩৮৫।
উপরে বর্ণিত অবস্থার আলোকে বলা যায় যে, কোন দিন আল্লাহ ও তার রাসুলকে জাগ্রত অবস্থায় দেখাতো দূরের কথা, কখনো স্বপ্নে দেখারও কথা নয়। তা ছাড়া আল্লাহ তা‘আলাকে জাগ্রত অবস্থায় পৃথিবীতে থাকাকালে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'ও দেখেন নাই। মি‘রাজের রাতে আরশে আযীম ও সিদরাতুল মুনতাহা-এর মধ্যবর্তী কোন এক স্থানে আল্লাহর সাথে রাসুল (সাঃ) একান্তে কথা-বার্তা হওয়ার সময় তিনি কি আল্লাহ তা‘আলাকে স্বচক্ষে দেখেছিলেন? এ নিয়ে মুসলিম মনীষীদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কারও মতে স্বচক্ষে দেখেছেন। তবে, অধিকাংশ মনীষীদের মতে স্বচক্ষে দেখেন নাই। বরং অন্তর চক্ষু দিয়ে দেখেছিলেন।এবং পর্দার অন্তরাল থেকেই উভয়ের মাঝে কথা-বার্তা হয়েছিল। পবিত্র কুরআন দ্বারা এ কথারই সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
“আর কোন মানুষের পক্ষে এমনটি হওয়া সম্ভবপর নয় যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তবে তিনি মানুষের সাথে ইলহাম বা পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন। অথবা (সে জন্য) তিনি কোন দূত প্রেরণ করেন, অতঃপর সে দূত আল্লাহ যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে পৌঁছে দেন [সূরা শুরা: ৪২:৫১]।"
***মাওলানা মুহাম্মদ শফীঃ প্রাগুক্ত; পৃঃ ১২২৬।
উপরের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহ মানুষের সাথে মোট তিনভাবে কথা বলেনঃ
১) ওহী অর্থাৎ গোপন পন্থায় ইলহাম বা স্বপ্নের মাধ্যমে।
এ প্রক্রিয়ায় তিনি নবী-রাসূল ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন।
২) পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলেন।
৩) রাসূল তথা ফেরেশ্তা প্রেরণের মাধ্যমে কথা বলেন।
মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী‘ও উপরের আয়াতের ব্যাখ্যায় এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
***মাওলানা মুহাম্মদ শফীঃ প্রাগুক্ত; পৃঃ ১২২২।
যারা রাসূল (সাঃ)-কে জাগ্রত অবস্থায় দেখার কথা বলে তারা আসলে শয়তানকেই দেখে।
একটি সন্দেহযূক্ত হাদিসে এসেছে যেঃ
“রাসূলুল্লাহ-(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-কে যারা স্বপ্নে দেখে তারা তাঁকে জাগ্রত অবস্থায়ও দেখতে পাবে।”
***বুখারী, প্রাগুক্ত; কিতাবুর রু’য়া, বাব নং ১০, হাদীসঃ ৬৫৯২, ৬/২৫৬৭; ইবনে হাজার ‘আসক্বালানী, ফাতহুল বারীঃ ১২/৩৮৩; মুসলিম, প্রাগুক্ত; কিতাবুর রু’য়া, হাদীসঃ ২২৬৬, ৪/১৭৭৫।
এই মর্মে উপরের হাদীসটি বর্ণিত হয়ে থাকলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর মুখ নিঃসৃত মূল বাণীটি কী, সে বিষয় নিয়ে এ হাদীসের বর্ণনাকারীদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।
ইমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় বর্ণনাকারীগণ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেনঃ
“যে আমাকে স্বপ্নে দেখবে, সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে, অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখলো।"
ইমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় সন্দেহ প্রকাশ করে বলা হয়েছেঃ
“আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখতে পাবে অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থার মতই দেখলো”এ কথা বর্ণিত হয়েছে।"
ইমাম ইসমাঈলী উক্ত কথার বদলে বলেছেনঃ
'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল বাণী যদি “সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখলো” এমনটি হয়, তা হলে এ হাদীস নিয়ে কোন জটিলতা নেই। তা না হয়ে যদি রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল বাণী “সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে” হয়ে থাকে, তা হলে এ হাদীসের সঠিক অর্থ কী হবে, এ নিয়ে মনীষীগণ বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেছেনঃ
যদি রাসূলুল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)- এর মূল বাণী হয় “সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখবে”- তা হলে এ বাক্যটি তাঁদের মতে একটি জটিল বাক্য। এর সমাধানে তারা মোট ছয়টি মতামত ব্যক্ত করেছেন।
সংক্ষিপ্তাকারে নীচে বর্ণিত হলোঃ
১) এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- একটি উপমা স্বরূপ বলেছেন।
অর্থাৎ -যে তাঁকে স্বপ্নে দেখবে, তার এ দেখাটি তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় দেখার মতই হবে।
২) যে এমনটি দেখবে সে জাগ্রত হয়ে তার এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা যথাযথভাবে দেখতে পাবে।
৩) এ হাদীসটি তাঁর সমসাময়িক লোকদের সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ- তাঁর (রাসুল) সময়কার যে ব্যক্তি তাঁকে না দেখে ইসলাম গ্রহণ করার পর এমন স্বপ্ন দেখবে, সে তাঁকে তাঁর জীবদ্দশায় কিছু দিন পরে হলেও দেখতে পারে।
৪) যে ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখবে সে রাসূলের আয়নাতে তাঁকে দেখতে পাবে। যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাদিঃ) দেখেছিলেন।
৫) যে এমনটি দেখবে, সে কিয়ামতের দিন তাঁকে (রাসুল) বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সাথে দেখতে পাবে।
৬) যে এমনটি দেখবে, সে বাস্তবে তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় দেখতে পাবে।
তবে, এ অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তব কিছু সমস্যা রয়েছে যা তা গ্রহণের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে থাকে।
***ফাতহূল বারীঃ ইবনে হাজার আসক্বালানীঃ ১২/৩৮৫।
হাদীসবিদ ইবনে হাজার ‘আসক্বালানী উক্ত বাহ্যিক অর্থকে একটি জটিল ও অবিশ্বাস্য অর্থ বলে মন্তব্য করেছেন।
এক দল সালেহীন থেকে বর্ণিত হয়েছে যেঃ
তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখার পর পুনরায় তারা তাঁকে জাগ্রত অবস্থায়ও দেখেছেন।
কিছু বিষয় সম্পর্কে তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাও করেছেন এবং জিজ্ঞাসার ফলাফলও সঠিক ভাবে পেয়েছেন।
ইবনে হাজার এ কথা উল্লেখ করে বলেছেনঃ তাদের এ দাবী যদি সত্য হয়, তাহলে তা একটি জটিল বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।
কারন, এতে তারা সাহাবী হওয়ার মর্যাদা পাবেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা এভাবে রাসূলকে দেখেছে বলে দাবী করবে, তারাও সাহাবী হওয়ার মর্যাদা পাবে।
অপর পক্ষে, এমনও কিছু মনীষী রয়েছেন, যাঁরা রাসূলকে স্বপ্নে দেখেছেন বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় দেখার কথা বলেননি।
সে জন্য যারা রাসূলকে জাগ্রত দেখার কথা বলেন তাদের কথাকে বাহ্যিক অর্থে গ্রহণ করলে তা একটি জটিল অর্থ বলেই প্রতীয়মান হয়।
***ফাতহূল বারীঃ ইবনে হাজার আসক্বালানীঃ ১২/৩৮৫।
মন্তব্যঃ
রাসূল (সাঃ)-কে জাগ্রত অবস্থায় দেখার দাবীদার মিথ্যূক।
কারন, যে ব্যক্তি মারা যায় সে আর দুনিয়াতে ফিরে আসার প্রশ্নই আসে না।
আর মৃত ব্যক্তির দুনিয়াবী বিষয়ে কোন কিছুই করার জ্ঞান থাকে না।
মৃতরা নিজের জন্যই কিছু করার ক্ষমতা রাখেনা।
আমলে সালেহ ব্যক্তি ছাড়া রুহানী মাধ্যমে রাসুল (সাঃ)-কে স্বপ্নে দেখা আদৌ সম্ভব নয়।
*ফাতহূল বারী; ইবনে হাজার আসক্বালানীর বর্ণনাগুলো অনেক আগে কোন একজন দ্বীনি ভাই থেকে সংগৃহিত।
দ্বীনি ভাইটির নাম আমার সঠিকভাবে স্মরণে না আসায় তার নাম এখানে উল্লেখ করতে পারলাম না।
অনুরোধঃ
রাসুল (সাঃ)-কে স্বপ্নে দেখার বিষয়ে যদি কারও কাছে উপযুক্ত দলিল থাকে তাহলে মেহেরবানী করে মন্তব্য করবেন।
[অসমাপ্ত]