07/08/2023
মতুয়া সাহিত্য সমাজ, বাংলাদেশ এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক 'ঢাকা আন্তর্জাতিক মতুয়া সাহিত্য সম্মেলনে' এ সংগঠন এবার 'মতুয়া সাহিত্যিক সনদ' দিতে যাচ্ছে দেশের সকল মতুয়া সাহিত্যিকদের। সেখানে আমরা জানতে পেরেছি, মতুয়া সাহিত্যিক সনদ যারা পেতে যাচ্ছেন, আয়োজকদের বিশেষ বিশেষ কয়েকজনের সুপারিশে তাদের মধ্যে রয়েছেন নড়াইলে মতুয়াদের বিভ্রান্ত করতে 'বুদ্ধ হরিগুরুচাঁদ আম্বেদকর সঙ্ঘ' নামের সংগঠন গড়ার প্রধান দুই প্রকাশ্য নায়ক, ওই সংগঠনের সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে বিকাশ রঞ্জন আসবা( এর মূল পিতৃপ্রদত্ত নাম বিকাশ রঞ্জন রায়) ও রমেশ চণ্ডাল অসুর( মূল পিতৃপ্রদত্ত নাম রমেশ চন্দ্র অধিকারী, শ্রীশ্রী গুরুচাঁদের সুবিখ্যাত চণ্ডালত্ব মোচন আন্দোলনের সফলতাকে ইনি উপহাস করতে নিজ নামেই 'চণ্ডাল' লাগিয়েছেন।)
আমরা স্পষ্ট করতে চাই, এই দুই ব্যক্তি শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ অনুমোদিত শ্রীশ্রীহরিলীলামৃতকে মানেন না। তারা প্রকাশ্যে সভা, সেমিনারে, ব্যক্তিগত আলাপে বলেন, "শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের লীলা বা অলৌকিকতার নামে এখানে মিথ্যা গালগল্প লেখা হয়েছে। শ্রীশ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর কখনোই মৃত মানুষের জীবন দান, মৃত গরুর জীবন দানের মত আজগুবি লীলা করেননি; এ গ্রন্থে উল্লেখিত হরিচাঁদের বিভিন্ন রূপধারণের কাহিনীও মিথ্যা বানোয়াট। ঠাকুরের যেসব ভক্তদের অলৌকিক কাহিনী এ গ্রন্থে আছে তাও বানোয়াট। এগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত আবার লিখতে হবে।" এছাড়া তারা আরো বলেন," বৌদ্ধবাদ ও মতুয়াবাদে কোনই পার্থক্য নেই; বৌদ্ধ ধর্মই মূলত আমাদের স্বধর্ম "।
তাদের এই বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের পক্ষে বাংলাদেশে তারা বেশ কিছু অনুসারীও ইতিমধ্যে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তৈরী করতে পেরেছেন। মতুয়া সমাজে এদের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আমরা সকলকে এদের বিষয়টি অনুধাবন করতে উল্লেখ করতে চাই, এদের এক একান্ত অনুসারী মৃদুল কান্তি বিশ্বাস নামের যুবক এর আগে 'শ্রীশ্রীহরিগুরুচাঁদ মতুয়া মিশন' প্রদত্ত ' মতুয়ারত্ন' পদক নকল করে নিজের নামে করেছে। সে নানাজনের কাছে মেসেঞ্জারে এটি প্রদর্শন করছে। এমন কি নানা মিডিয়ায়ও এটি ফলাও করে প্রচার করছে। কেউ তাকে মতুয়া বিরোধী বললেই সে এটি দেখায়।
এহেন মতাদর্শী ব্যক্তিদের এবার 'মতুয়া সাহিত্য সমাজ, বাংলাদেশ' এর ন্যায় সর্ব মতুয়াজন স্বীকৃত আদর্শিক সংগঠন 'ঢাকা আন্তর্জাতিক মতুয়া সাহিত্য সম্মেলন-২০২৩' এর মত একটি বৃহৎ প্লাটফর্মে এনে ' মতুয়া সাহিত্যিক সনদ' দিলে তা সংগঠনের নীতি আদর্শকে জনমনে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে ও এই প্রাপ্তি ওই বিপদগামী ব্যক্তিদেরকে সমাজে আরো বিপদগামী দুর্ধর্ষ হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
আমরা মতুয়া সাহিত্য সমাজ, বাংলাদেশকে অনুরোধ জানাবো, অবিলম্বে ওই বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম সংগঠন থেকে বিযুক্ত করা হোক ও তাদের 'মতুয়া সাহিত্যিক সনদ' প্রদানের অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক।
বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মতুয়া সাহিত্য সমাজ, বাংলাদেশ- এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা আন্তর্জাতিক মতুয়া সাহিত্য সম্মেলন- এর নেতৃস্থানীয় আয়োজকমণ্ডলীকে স্বনির্বন্ধ আহ্বান জানাচ্ছি। জয় হরিচাঁদ।
( এই পোস্টটি কপি করে সকলকে নিজ নিজ আইডিতে পোস্ট করার অনুরোধ জানাচ্ছি।)