10/15/2026
বেলুড় মঠের
🌷 প্রথম দুর্গাপূজা :🌺
🙏🌺১৯০১ খ্রীষ্টাব্দে শ্রীশ্রীদুর্গাপূজার🌺 চার পাঁচ দিন পূর্বে রাজা মহারাজ (স্বামী ব্রহ্মানন্দ) মঠে গঙ্গার তীরে বসিয়া সহসা দেখিলেন, যেন মা দুর্গা দক্ষিণেশ্বরের দিক হইতে গঙ্গাবক্ষে চলিয়া মঠের বিল্বতলায় গিয়া উঠিলেন।_
এই সময়ে কলিকাতা হইতে স্বামীজী নৌকা করিয়া মঠে আসিয়াই জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘রাজা (স্বামী ব্রহ্মানন্দ) কোথায়?’ মহারাজকে দেখিতে পাইয়াই বলিলেন, ‘এবার প্রতিমা এনে মঠে দুর্গাপূজা করতে হবে, সব আয়োজন করো।’ মহারাজ বলিলেন, ‘তোমাকে দুদিন পরে কথা দেবো এখন প্রতিমা পাওয়া যায় কিনা দেখতে হবে, সময় একেবারে সংক্ষেপ, দুদিন সময় দাও।'
স্বামীজী তাঁহাকে তখন বলিলেন তিনি ভাবচক্ষে দেখিয়াছেন যে মঠে দুর্গোৎসব হইতেছে এবং প্রতিমায় মার পূজা হইতেছে। মহারাজও তাঁহাকে তাঁহার নিজ দর্শনের কথা সবিস্তারে বলিলেন। মঠে ইহা শুনিয়া হৈ-চৈ পড়িয়া গেল।
🙏ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলালকে মহারাজ প্রতিমার সন্ধানে কলকাতায় কুমারটুলীতে পাঠাইলেন। আশ্চর্যের বিষয় কৃষ্ণলাল তথায় গিয়া দেখিলেন যে, একটি মাত্র সুন্দর প্রতিমা তৈয়ারি হইয়া রহিয়াছে। তিনি কারিগরকে জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলেন যে, যিনি উহা তাহাকে নির্মাণ করিতে দিয়াছিলেন তিনি কোন কারণে তখন পর্যন্ত ইহা লইতে পারেন নাই। কৃষ্ণলাল জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘তুমি এই প্রতিমাটি কি আমাদিগকে দিতে পারো? কারিগর বলিলো, ‘কাল আপনাকে বলব।’ ইহা শুনিয়া কৃষ্ণলাল মহারাজও স্বামীজীকে সমুদায় বৃত্তান্ত বলিলেন। *স্বামীজী কৃষ্ণলালকে বলিলেন, ‘যেমন করেই হোক প্রতিমাখানি নিয়ে আসবে।' আশ্চর্যের বিষয় যিনি ফরমাশ দিয়াছিলেন তিনি প্রতিমা লইতে আসিলেন না। প্রতিমা পাওয়া যাইবে শুনিয়া স্বামীজী রাজা মহারাজকে সমুদয় আয়োজন ও ব্যবস্থা করিতে বলিলেন।🙏
🙏পূজ্যপাদ প্রেমানন্দ স্বামী (বাবুলাল মহারাজ) ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলালকে লইয়া কলিকাতায় সর্বাগ্রে শ্রীশ্রীমার নিকট গিয়া তাঁহার অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। তিনি সানন্দচিত্তে অনুমতি দিলেন। প্রেমানন্দ উক্ত প্রতিমার বায়না দিয়া কথাবার্তা স্থির করিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মহারাজ যথাবিধি পূজার আয়োজন ও প্রচুর দ্রব্য-সম্ভারের ব্যবস্থা করিয়া ফেলিলেন।
(‘স্বামী ব্রহ্মানন্দ’ : উদ্বোধন-কার্যালয় প্রকাশিত)।
(তথ্যসূত্র- শ্রীমা ও বেলুড় মঠের দুর্গাপূজা- স্বামী দেবেন্দ্রানন্দ- পৃষ্ঠা ১৭-১৮)।