03/27/2026
ভ্রান্তির পথে মুসলিম নেতৃত্বঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ।
স্বাধীন-সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১৯৭১ এর যুদ্ধ, ৭৫ ও ৮১ এর ক্যু, ৯০ এর স্বৈরাচার খেদানো সংগ্রাম এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর স্বৈরাচার/ফ্যাসিষ্ট বিতাড়ন,২০২৬ সালের নির্বাচনের পরও বাংলাদেশে শান্তির নমুনা কি তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আজ পর্যন্ত প্রচলিত বিধান বা নীতিমালা দিয়ে মানুষের শান্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। জাতীকে ক্ষুধা, দারিদ্রতা, চুরি, ডাকাতি, খুন,গুম, অরাজকতা,নিরাপত্তাহীনতা,একদলীয় স্বৈরাচারী দুঃশাসনের নিষ্পেষণ ছাড়া শান্তি দিতে পারেনি।
তাহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় কি?
আসলে মহান আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামী বিধানের বিপরীতে মানব রচিত বিধান দিয়ে পৃথিবীর কোন কোন দেশে বাহ্যিক দৃষ্টিতে শান্তির দেশ মনে হলেও প্রকৃত অর্থে সেখানেও কোন শান্তি নেই। আর আখেরাতে শান্তির তো প্রস্নই ওঠে না। পক্ষান্তরে যে সব দেশে মোটামুটিভাবে ইসলামী বিধান চালু আছে সেখানে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশী শান্তি বজায় আছে। আর আখেরাতে মুক্তি ও শান্তির সম্ভাবনা তো আছেই। এই কারনে মানব রচিত বিধি-বিধানে বাংলাদেশের মানুষকে দুনিয়ায় শান্তি দিতে পারেনি,পাচ্ছে না, যার সাক্ষী আমরা নিজেরাই। আর আখেরাতেও মুক্তি মিলবে বলে মনে হয় না। তাহলে কিসে,কোথায়, কিভাবে দেশে শান্তি সহ আখেরাতে মুক্তির সম্ভাবনা ও গ্যারান্টি আছে তা জানা যাক। মহান আল্লাহতায়ালা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে চিন্তা ও কর্মের স্বাধীনতা দিয়েছেন। এই স্বাধীনতা কোন খাতে কিভাবে প্রয়োগ করলে পার্থিব শান্তি ও পরকালীন মুক্তি পাওয়া যাবে তাও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। যেমন-এরশাদ হয়েছে-“নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, নামাজ প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং জাকাত দান করেছে, তাদের জন্য তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না” সুরা বাকারা-২৭৭। “ মুমিন পুরুষ ও নারীরা হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ হ’তে নিষেধ করে, আর ছালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলে, এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় সম্মানিত ও মহাজ্ঞানী” সুরা- তওবা-৭১।
সুতারং দেখা যাচ্ছে যে, ঈমানদার-মুমিন বান্দা বান্দিরা পরস্পরে বন্ধুর মতো মিলে-মিশে দল বদ্ধভাবে জীবন চালাবে আর মানুষদেরকে-
সৎ কাজের আদেশ দেবে,
অসৎ কাজের নিষেধ করবে,
সালাত কায়েম করবে,
যাকাত কায়েম করবে
এবং সার্বিকভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলবে।
তাহলেই এসব লোকের প্রতি মহান আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন তথা দুনিয়ায় কল্যাণ ও আখেরাতে জান্নাত নামক নেয়ামত দান করবেন। মহান আল্লাহ করুণা করলে তাদের আর কি কিছু লাগে? কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ মহান আল্লাহর ঐ বিধান ব্যক্তি,পরিবার,সমাজ বা রাষ্ট্রীয় জীবনে অনুসরন বা প্রয়োগ করছে না। ফলে এ জনপদের মানব প্রকৃতি হয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাচারী ও উচ্ছৃঙ্খল। নীতি-নৈতিকতা পরিত্যক্ত হয়ে অসততা,শঠতা, প্রতারণা,দুর্নীতি,গাজুয়ারি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অসভ্যতা ইত্যাদি সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে । রাজনৈতিক জুলুম, অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিক ভেদাভেদ, সাংস্কৃতিক নোংরামি ও অশ্লীলতা,সব ধরনের পাপ-পংকিলতা এবং মানবাধিকারের দলন মানুষের জীবন থেকে শান্তি কেড়ে নিচ্ছে। শান্তির নিশ্চয়তা একমাত্র ইসলাম তথা আল্লাহই দিতে পারেন। সঙ্গত কারনে যে কোন জনপদের বিভিন্ন স্তরের মুসলিম দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ আল-কুরআনে ৪টি মৌলিক কর্মসূচীর নির্দেশনা দিয়েছেন যেমন - “এরা (ঈমানদারা) এমন সব লোক যাদেরকে আমি যদি যমীনে কর্তৃত্ব/ক্ষমতা দান করি, তাহলে এরা সালাত কায়েম করবে, যাকাত কায়েম করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজের নিষেধ করবে, আর সমস্থ বিষয়ের পরিনাম আল্লাহর আয়ত্তে”-সুরা হাজ্জ – ৪১। কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা পেলে যে কাজ/কর্মসূচী পালন করা ফরজ, তা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই ঐ ৪টি কাজের বাস্তব চর্চা থাকার অবশ্যই আবশ্যকতা রয়েছে। তা না হলে ক্ষমতায় যেয়ে উক্ত কাজ বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। বাংলাদেশে ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কত দল-বেদলের অসংখ্য নেতা-নেত্রী এই যমীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলেন।কিন্তু ক্ষমতা পেয়ে কেউই মহান আল্লাহর নির্দেশিত উক্ত ৪টি ফরজ দায়িত্ব বা কর্মসূচী পালন বা বাস্তবায়ন করেননি বা করার চেষ্টাও করেননি।এমন কি কোন ইসলামি দলেরও গঠনতন্ত্র বা মেন্যুফেসটুতেও ঐ শাশ্বত ৪ কর্মসূচীর বালাই নেই। ফলে বাংলাদেশে শান্তির সুবাতাস আজও অধরায় রয়ে গেল।
তবে আশার আলো দেখাতে '' বাংলাদেশ দ্বীন ইসলাম'' নামে একটা ইসলামিক দাওয়াতী সংগঠন ব্যক্তি,পরিবার ও সামাজ পর্যায়ে, মানবতার কল্যাণে মহান আল্লাহর নির্দেশিত ঐ ৪টি ফরজ কাজের প্রায়োগিক চর্চা ও দাওয়াতী কাজ করে যাচ্ছে। সুতারং আসুন বাংলাদেশ দ্বীন ইসলাম এর সাথে যুক্ত হয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশিত উক্ত ৪টি কাজের অনুশীলন ও দাওয়ার কাজ করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ বলেছেন ‘’তোমরা কল্যাণমূলক ও খোদাভীরুতার কাজে পরস্পর সহযোগী হও, মন্দ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে পরস্পরের সহযোগী হয়ো না। ‘’ -সূরা মায়েদা: ২ । আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।
''বাংলাদেশ দ্বীন ইসলাম'' সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কমেন্টে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন।