Sunnah Seekers সুন্নাহ অন্বেষণকারী

Sunnah Seekers সুন্নাহ অন্বেষণকারী Sharing the teachings of the Prophet Muhammad (PBUH), embracing the Sunnah, spreading knowledge of Islamic Lifestyle, History and Hadit.

Join us on the Journey to live by faith and truth.

05/13/2026

শখের নারী বিয়ে নয়,
সুখের নারী বেছে লও।
দ্বীনদার যার চরিত্র ভালো,
সুন্নাহ মতে ঘরটা গড়ো।

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়… তুমি দ্বীনদার নারীকে প্রাধান্য দাও।”
— সহীহ বুখারী, মুসলিম

05/05/2026

রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মুসলিম যখনই কোনো দোয়া করে, আল্লাহ তাকে তিনটির একটি অবশ্যই দেন—তা হয় দ্রুত কবুল হয়, নয়তো তার জন্য আখিরাতে জমা রাখা হয়, অথবা তার কোনো বিপদ দূর করে দেওয়া হয়।”
(মুসনাদ আহমাদ)

04/28/2026
04/22/2026

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের অন্তর জাগ্রত করতেন যেভাবে

মানুষকে সৎ পথে আনা এবং আল্লাহর আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করা ছিল নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি এমনভাবে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতেন, যাতে তাদের অন্তরে ঈমান জাগ্রত হয় এবং তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেক আমলের দিকে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

পবিত্র কুরআনের মতোই নবী (সাঃ) মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য পুরস্কারের কথা উল্লেখ করতেন—দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই। তিনি মানুষকে জান্নাতের সুসংবাদ দিতেন এবং সফলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদেরকে সৎ কাজের প্রতি আকৃষ্ট করতেন।

একবার এক বেদুঈন নবী (সাঃ)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, এমন কী আমল আছে যার মাধ্যমে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। উত্তরে নবী (সাঃ) বললেন: আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না, সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং রমজানের রোজা রাখো। এই সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি জানিয়ে দিলেন যে, ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলো মেনে চললেই জান্নাত লাভ সম্ভব।

তিনি আরও বলেছেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো, সফল হবে।” এখানে সফলতা শুধু আখিরাতেই নয়, বরং দুনিয়াতেও কল্যাণ ও শান্তির প্রতীক।

জান্নাতের বর্ণনার মাধ্যমে নবী (সাঃ) সাহাবীদের জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। বদরের যুদ্ধে তিনি বলেছিলেন: “এমন জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাও যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান।” এই অনুপ্রেরণায় উমাইর ইবনুল হুমাম (রাঃ) এতটাই উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন যে, তিনি দ্রুত যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং শাহাদাত বরণ করেন।

নবী (সাঃ) মানুষের আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর জন্যও উৎসাহ দিতেন। তিনি আবু যর (রাঃ)-কে বলেছিলেন, মানুষের কাছে কিছু চাইবে না—এমনকি তোমার চাবুক পড়ে গেলেও নিজেই তা তুলে নেবে। এর বিনিময়ে তিনি তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন।

শুধু আখিরাত নয়, দুনিয়ার পুরস্কারের মাধ্যমেও তিনি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন। যেমন তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার জীবিকা বৃদ্ধি ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ভালো কাজের ফল দুনিয়াতেও পাওয়া যায়।

এছাড়া, অদৃশ্য পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিনি সাহাবীদের অনুপ্রাণিত করতেন। খায়বারের যুদ্ধে তিনি ঘোষণা দেন যে, পতাকা এমন একজনকে দেওয়া হবে যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন। এই ঘোষণায় সাহাবীদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়, এবং শেষ পর্যন্ত আলী (রাঃ) সেই সম্মান লাভ করেন।

সবশেষে বলা যায়, নবী করীম (সাঃ) মানুষের মনোবিজ্ঞান বুঝে এমনভাবে দাওয়াত দিতেন, যা তাদের অন্তরকে স্পর্শ করত। কখনো জান্নাতের সুসংবাদ, কখনো দুনিয়ার কল্যাণ, আবার কখনো আল্লাহর ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি—এই সবকিছুর মাধ্যমে তিনি মানুষকে সৎ পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করতেন।

04/21/2026

সূরা আল-ইখলাস: তাওহীদের সংক্ষিপ্ত ও পরিপূর্ণ ঘোষণা

সূরা আল-ইখলাস পবিত্র কুরআনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটি ইসলামের মূল ভিত্তি—তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ব—সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত ঘোষণা প্রদান করে। “ইখলাস” শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা ও খাঁটিত্ব, অর্থাৎ এমন বিশ্বাস যেখানে কোনো প্রকার শিরক বা ভ্রান্ত ধারণার মিশ্রণ নেই।

এই সূরায় আল্লাহ বলেন: “বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ, যাঁকে সকলে খোঁজে। তিনি কাউকে জন্ম দেন না এবং তাঁরও জন্ম হয়নি। আর তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই।” এই কয়েকটি আয়াতের মধ্যেই আল্লাহ তাঁর সত্তা ও গুণাবলীর এমন বর্ণনা দিয়েছেন, যা ইসলামী আকীদার মূল সারাংশ বহন করে।

এই সূরাটি নাজিল হওয়ার পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আল্লাহর বংশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। এর উত্তরে আল্লাহ এই সূরাটি নাজিল করেন, যাতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আল্লাহ এক, তাঁর কোনো বংশধারা নেই এবং তিনি সৃষ্টির মতো নন।

“আল্লাহুস-সামাদ” অর্থ হলো—সমস্ত সৃষ্টিজগৎ যার ওপর নির্ভরশীল এবং যিনি কারো ওপর নির্ভরশীল নন। তিনি সর্বশক্তিমান, পূর্ণাঙ্গ এবং সকল প্রয়োজন পূরণকারী। তিনি খান না, পান করেন না, এবং তিনি কারো সাহায্যের মুখাপেক্ষী নন।

এই সূরায় বলা হয়েছে যে, আল্লাহ কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। এর মাধ্যমে সকল ভ্রান্ত ধারণা—যেমন মুশরিকদের ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা বলা, ইহুদিদের উযাইরকে আল্লাহর পুত্র বলা, এবং খ্রিস্টানদের ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলা—সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বলা হয়েছে যে, আল্লাহর কোনো সমকক্ষ নেই। অর্থাৎ, তাঁর মতো কেউ নেই, তিনি কারো সাথে তুলনীয় নন এবং তিনি এককভাবে সৃষ্টিকর্তা ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।

সূরা আল-ইখলাসের ফজিলতও অত্যন্ত মহান। সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য। এর অর্থ হলো, এর বিষয়বস্তু এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটি কুরআনের একটি বড় অংশের সারাংশ বহন করে।

তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, তিনবার সূরা ইখলাস পড়া পুরো কুরআন পড়ার বিকল্প নয়; বরং এটি সওয়াবের দিক থেকে একটি বিশেষ মর্যাদা নির্দেশ করে।

এই সূরাটি আমাদেরকে শেখায় যে, আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাশালী, এবং তিনি সকল প্রকার অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। তাই একজন মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো এই বিশ্বাসকে হৃদয়ে ধারণ করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন ঘটানো

04/20/2026

ছোট পাপ, অনুকরণ ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে মানুষের চরিত্র গঠন ও নৈতিক উন্নতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোট হোক বা বড়—প্রতিটি কাজেরই প্রভাব রয়েছে মানুষের ঈমান ও আমলের উপর। অনেকেই মনে করে ছোট পাপ করলে তেমন কোনো ক্ষতি নেই, কিন্তু বাস্তবতা হলো, ছোট পাপ বারবার করতে থাকলে তা ধীরে ধীরে বড় পাপে পরিণত হয়। তাই ছোট পাপকেও হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। ধারাবাহিকভাবে ছোট পাপে লিপ্ত থাকা মানুষের অন্তরকে কঠিন করে ফেলে এবং তাকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

এ কারণে ইসলামে সতর্ক করা হয়েছে যে, ছোট পাপকে অবহেলা করা উচিত নয়। বরং তা থেকে দ্রুত তাওবা করা এবং নিজেকে সংশোধন করা জরুরি। কারণ একটি ছোট ভুলও যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিতে পারে।

অন্যদিকে, অনুকরণ বা নকল করার বিষয়টিও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা। বিশেষ করে এমন অনুকরণ যা মানুষের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পরিচয়কে পরিবর্তন করে দেয়, তা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। বেদুঈনদের অনুকরণ করা—যদি তা তাদের অজ্ঞতা, কঠোরতা বা ইসলামের পরিপন্থী আচরণ অনুসরণের ক্ষেত্রে হয়—তাহলে তা হারাম বা নিষিদ্ধ বলে গণ্য হয়।

ইসলাম মানুষকে তার নিজস্ব মর্যাদা ও পরিচয় বজায় রাখতে শেখায়। অন্যের খারাপ অভ্যাস বা বৈশিষ্ট্য অনুসরণ না করে, বরং উত্তম চরিত্র ও নৈতিকতা গ্রহণ করাই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।

সবশেষে বলা যায়, ছোট পাপকে অবহেলা না করা এবং খারাপ অনুকরণ থেকে নিজেকে দূরে রাখা—এ দুটি বিষয়ই একজন মুসলিমের ঈমান রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

04/19/2026

আবু লাহাবের পরিণতি: অহংকার ও শত্রুতার ভয়াবহ শিক্ষা

পবিত্র কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরায় আবু লাহাবের পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য এক গভীর শিক্ষার উৎস। আবু লাহাব ছিলেন নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচা, কিন্তু তিনি ইসলামের অন্যতম কঠোর বিরোধী ছিলেন। তার আসল নাম ছিল আব্দুল উযযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, এবং তার উজ্জ্বল চেহারার কারণে তাকে “আবু লাহাব” নামে ডাকা হতো।

এই সূরায় আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, “আবু লাহাবের হাত ধ্বংস হোক, এবং সে ধ্বংসপ্রাপ্ত।” এখানে “হাত” বলতে তার পুরো সত্তা এবং তার সকল কর্মকে বোঝানো হয়েছে। প্রথম ধ্বংসের উল্লেখটি একটি দোয়া বা অভিশাপ—যেন সে ব্যর্থ হয় এবং তার সব প্রচেষ্টা বিফলে যায়। আর দ্বিতীয়বার ধ্বংসের উল্লেখটি বাস্তবতার বর্ণনা—যে সে ইতোমধ্যেই ধ্বংসের পথে রয়েছে।

আবু লাহাব নবী (সা.)-এর প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করত। তিনি রাসূলকে অপমান করতেন, তাঁর দাওয়াতকে অস্বীকার করতেন এবং মানুষকে ইসলামের পথ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতেন। তার এই শত্রুতা কেবল ব্যক্তিগত ছিল না, বরং সে সক্রিয়ভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত।

আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তার ধন-সম্পদ এবং সন্তানরা তাকে কোনো উপকার করতে পারবে না। সে মনে করত তার সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদা তাকে রক্ষা করবে, কিন্তু কুরআন জানিয়ে দিয়েছে—কিয়ামতের দিনে এগুলোর কোনো মূল্য নেই।

শুধু আবু লাহাবই নয়, তার স্ত্রীও তার এই শত্রুতায় সহযোগিতা করেছিল। তাকে “জ্বালানি কাঠের বাহক” বলা হয়েছে, কারণ সে নবী (সা.)-এর পথে কাঁটা বিছিয়ে দিত এবং কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করত। কিয়ামতের দিন তাকে জাহান্নামে একইভাবে শাস্তি দেওয়া হবে—তার গলায় থাকবে আগুনের দড়ি।

এই ঘটনা আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা বহন করে। আল্লাহর রাসূলের বিরোধিতা করা, সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো—এসবের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। দুনিয়ার কোনো সম্পদ বা ক্ষমতা মানুষকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে না।

এছাড়া, এই সূরাটি একটি অলৌকিক নিদর্শনও বটে। কারণ যখন এটি নাজিল হয়, তখন আবু লাহাব ও তার স্ত্রী জীবিত ছিল। তবুও আল্লাহ পূর্বেই ঘোষণা করেন যে তারা জাহান্নামে যাবে, এবং ইতিহাস সাক্ষী—তারা কখনো ইসলাম গ্রহণ করেনি।

সুতরাং, আবু লাহাবের ঘটনা আমাদেরকে সতর্ক করে দেয়—অহংকার, সত্যের বিরোধিতা এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আর সত্যকে গ্রহণ করা ও আল্লাহর পথে চলাই হলো সফলতার একমাত্র পথ।

04/18/2026

একটি বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার কারণে শাস্তির শিক্ষা

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
এক মহিলাকে একটি বিড়ালকে আটকে রাখার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বন্দী করে রেখেছিল, কিন্তু তাকে খাবার বা পানি দেয়নি এবং তাকে মুক্তও করেনি যাতে সে নিজে থেকে জীবিকা সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বিড়ালটি মারা যায় এবং এই কারণে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। (সহীহ বুখারী)

এই হাদিসের মাধ্যমে ইসলাম প্রাণীদের প্রতি দয়া ও দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছে। কারণ আল্লাহ তাআলা সব জীবকেই জীবন ও অধিকার দিয়েছেন, এবং তাদের প্রতি অন্যায় করা নিষিদ্ধ।

হাদিসের ব্যাখ্যা
“একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি” বলতে বোঝানো হয়েছে যে, একটি ছোট প্রাণীর অধিকার নষ্ট করার কারণেও বড় শাস্তি হতে পারে।
এখানে “ক্ষতিকর প্রাণী” বলতে উপদ্রব সৃষ্টিকারী জীব বোঝানো হয়েছে, তবে সেগুলোর ক্ষেত্রেও ন্যায় ও নিয়ম মেনে আচরণ করতে হবে।

এই মহিলা বিড়ালটিকে বন্দী করে রেখেছিল, কিন্তু তার খাবার-পানির ব্যবস্থা করেনি এবং তাকে মুক্তও করেনি। ফলে প্রাণীটি অনাহারে মারা যায়। এই কারণে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেন।

হাদিসের শিক্ষা
এই হাদিস থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই—

প্রথমত, প্রাণীর প্রতি দয়া করা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া বা অনাহারে রাখা গুনাহ।

দ্বিতীয়ত, কেউ যদি কোনো প্রাণী পালন করে, তবে তার খাবার ও পানির দায়িত্ব তার উপর বর্তায়। অন্যথায় তাকে হয় তা মুক্ত করে দিতে হবে অথবা সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে।

তৃতীয়ত, ছোট পাপকেও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ অবহেলিত ছোট পাপ বড় শাস্তির কারণ হতে পারে।

চতুর্থত, ইসলাম প্রাণীদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কোনো প্রাণীকে অকারণে কষ্ট দেওয়া, আটকে রাখা বা নির্যাতন করা নিষিদ্ধ।

উপসংহার
এই হাদিসটি আমাদের শেখায় যে ইসলাম দয়া ও ন্যায়ের ধর্ম। শুধু মানুষের প্রতিই নয়, বরং প্রাণীদের প্রতিও দয়া করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সব জীবের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করা।

04/17/2026

নারী-পুরুষের অনুকরণ সম্পর্কে ইসলামের কঠোর সতর্কতা ও হাদিসের শিক্ষা
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন পুরুষদের উপর অভিশাপ দিয়েছেন যারা নারীদের অনুকরণ করে এবং এমন নারীদের উপরও অভিশাপ দিয়েছেন যারা পুরুষদের অনুকরণ করে। এই হাদিসটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত।

অভিশপ্ত শব্দের অর্থ হলো আল্লাহর রহমত থেকে দূরে বিতাড়িত হওয়া। অর্থাৎ যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের অনুকরণ করে, তাদের জন্য এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা। এই অনুকরণ পোশাক, সাজসজ্জা, কথা-বার্তা, চালচলন ও আচরণের মধ্যে হতে পারে।

এই হাদিসে একটি মৌলিক নীতির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পুরুষ ও নারীকে পৃথক স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য পৃথক ভূমিকা নির্ধারণ করেছেন। এই স্বাভাবিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যাওয়া সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের স্বাভাবিক পরিচয় ও ভূমিকার মধ্যে থাকা।

এই হাদিস থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়।

প্রথমত, পুরুষের জন্য নারীদের অনুকরণ করা এবং নারীর জন্য পুরুষদের অনুকরণ করা হারাম। কারণ এটি আল্লাহর নির্ধারিত ফিতরাহর পরিপন্থী। এই অনুকরণ যদি পোশাক, চেহারা বা আচরণে হয়, তবুও তা নিষিদ্ধ।

দ্বিতীয়ত, বিপরীত লিঙ্গের অনুকরণ বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন কথা বলার ধরন, পোশাক, চলাফেরা বা বাহ্যিক রূপে। এমনকি কেউ যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু করে, তাও নিষিদ্ধ, তবে ইচ্ছাকৃত অনুকরণের তুলনায় এর গুনাহ কম।

তৃতীয়ত, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি অভিশাপ দেওয়া জায়েজ নয়। বরং সাধারণভাবে বলা যায় যে, যে ব্যক্তি এই কাজ করে সে অভিশপ্ত। একই সাথে তাকে সুন্দরভাবে উপদেশ দেওয়া উচিত।

পুরুষ ও নারীর মধ্যে যেসব বিষয় সাধারণ, সেগুলো উভয়ের জন্যই বৈধ। কিন্তু কিছু বিষয় শুধু পুরুষদের জন্য নির্ধারিত, যেমন নির্দিষ্ট পোশাক, আচরণ বা কিছু কাজ। আবার কিছু বিষয় শুধু নারীদের জন্য নির্ধারিত, যেমন নির্দিষ্ট অলংকার ও পোশাক।

বিপরীত লিঙ্গের অনুকরণ নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, এটি আল্লাহ প্রদত্ত স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে। পুরুষদের নারীদের মতো হয়ে যাওয়া বা নারীদের পুরুষদের মতো হয়ে যাওয়া সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে।

বর্তমান সময়ে এর কিছু উদাহরণ দেখা যায়। যেমন পুরুষদের মেকআপ ব্যবহার করা, নারীদের পুরুষদের পোশাক পরা, কিংবা অভিনয়ে বিপরীত লিঙ্গের চরিত্র গ্রহণ করা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো কাজ।

সবশেষে বলা যায়, ইসলাম পুরুষ ও নারীর স্বাভাবিক পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করতে চায়। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের স্বভাব অনুযায়ী চলা এবং বিপরীত লিঙ্গের অনুকরণ থেকে বিরত থাকা।

04/16/2026

শপথ ও প্রতিজ্ঞার বিধান, প্রকারভেদ ও কাফফারা ইসলামী দৃষ্টিতে

শপথের সংজ্ঞা
আরবি শব্দ ‘আইমান’ হলো ‘ইয়ামিন’-এর বহুবচন। এর অর্থ শপথ, শক্তি এবং আশীর্বাদ। শপথকে ‘ইয়ামিন’ বলা হয়, কারণ মানুষ শপথ করার সময় একে অপরের ডান হাত ধরত।

ইসলামী পরিভাষায়, আল্লাহর নাম বা তাঁর কোনো গুণ উল্লেখ করে কোনো বিষয়কে নিশ্চিতভাবে সমর্থন করাকে শপথ বলা হয়।

কুরআন, সুন্নাহ এবং আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী শপথ করা জায়েজ।

আল্লাহ বলেন যে অর্থহীন শপথের জন্য দোষারোপ করা হবে না, তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শপথ ভঙ্গের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কেউ শপথ করার পর তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পায়, তাহলে সে উত্তম কাজটি করবে এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা আদায় করবে।

ইবনে কুদামাহ বলেছেন, উম্মাহ একমত যে শপথ করা জায়েজ এবং এর বিধানসমূহ প্রমাণিত।

শপথ সংক্রান্ত বিধান
মূল নীতি হলো শপথ করা জায়েজ।

যদি শপথের উদ্দেশ্য সত্য প্রতিষ্ঠা করা বা অন্যায় প্রতিরোধ করা হয়, তাহলে তা বাধ্যতামূলক।

যদি কোনো ভালো কাজ এর উপর নির্ভর করে, তাহলে তা মুস্তাহাব।

অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্রয়-বিক্রয়ে শপথ করা মাকরুহ।

মিথ্যা শপথ বা হারাম কাজ করার শপথ হারাম।

শপথের বিভাগ
বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে শপথ তিন প্রকার।

প্রথম প্রকার হলো অর্থহীন শপথ।
এটি এমন শপথ যা অনিচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারিত হয়, যেমন “আল্লাহর কসম না” বা “আল্লাহর কসম হ্যাঁ”।
এই ধরনের শপথের জন্য কোনো কাফফারা নেই এবং কোনো গুনাহ হয় না।

দ্বিতীয় প্রকার হলো এমন শপথ যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়, যাকে আল-ইয়ামিন আল-গামুস বলা হয়।
এটি অতীতের কোনো বিষয় সম্পর্কে জেনে-শুনে মিথ্যা শপথ করা।
এটি বড় গুনাহ এবং এর জন্য তাওবা করা ও মানুষের হক আদায় করা জরুরি।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বড় গুনাহের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, হত্যা এবং মিথ্যা শপথ।

তৃতীয় প্রকার হলো বাধ্যতামূলক শপথ।
এটি ভবিষ্যতের কোনো কাজ করার বা না করার শপথ।
এটি পালন করতে হবে, অথবা ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে।

শপথ ভঙ্গের কাফফারা
শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা আদায় করতে হয়। কাফফারা হলো ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু কাজ করা।

কাফফারার পদ্ধতি হলো

দশজন দরিদ্রকে খাবার খাওয়ানো
অথবা তাদের পোশাক প্রদান করা
অথবা একজন দাস মুক্ত করা

যদি কেউ এগুলোর কোনোটি করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তাকে তিন দিন রোজা রাখতে হবে।

যদি কেউ প্রথম তিনটির যেকোনোটি করতে সক্ষম হয়, তাহলে রোজা রাখার বিকল্প গ্রহণ করা যাবে না।

পরপর তিন দিন রোজা রাখা উত্তম।

শপথ ভঙ্গের সময়
শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়।

শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা দেওয়া জায়েজ, আবার পরে দেওয়াও জায়েজ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কেউ শপথ করার পর দেখে অন্য কিছু উত্তম, তাহলে সে উত্তম কাজটি করবে এবং কাফফারা আদায় করবে।

শপথ ভঙ্গের বিধান
শপথ ভঙ্গের বিধান শপথের বিষয় অনুযায়ী ভিন্ন হয়।

যদি কেউ মাকরুহ কাজ করার বা ভালো কাজ না করার শপথ করে, তাহলে শপথ ভঙ্গ করা উত্তম।

যদি কেউ ফরজ কাজ না করার শপথ করে, তাহলে শপথ ভঙ্গ করা বাধ্যতামূলক এবং কাফফারা দিতে হবে।

যদি কেউ কোনো হালাল কাজ করার বা না করার শপথ করে, তাহলে তা ভঙ্গ করা জায়েজ, তবে কাফফারা দিতে হবে।

আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করা জায়েজ নয়। যেমন

নবীর কসম
পিতার কসম
কারো জীবনের কসম
কবরের কসম
সম্মানের কসম

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করে, সে শিরক করেছে।

তিনি আরও বলেছেন, যার শপথ করতে হয় সে যেন আল্লাহর নামেই শপথ করে, নতুবা চুপ থাকে।

ইবনে মাসউদ বলেছেন, আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করার চেয়ে অন্য কিছুর নামে সত্য শপথ করা বেশি গুরুতর।

শপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা ইসলামে নিয়ন্ত্রিতভাবে অনুমোদিত। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে শপথ করা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং শপথ করলে তা রক্ষা করা উচিত। আর যদি ভঙ্গ করা হয়, তাহলে শরীয়তের নির্দেশ অনুযায়ী কাফফারা আদায় করতে হবে।

Address

7610 Street
Miami, FL

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sunnah Seekers সুন্নাহ অন্বেষণকারী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Featured

Share