08/30/2026
১৮০
জাতি-ভেদ নাই, অর্থাৎ বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণই যে কেবল ইহাতে অধিকারী, এমত নহে। মূর্দ্ধাভিষিক্ত ও অন্বষ্ঠ-নামক ব্রাহ্মণগণ, কি ক্ষত্রিয়বর্গ, কি বৈশ্য-সমূহ, কি শূদ্র, কি মহাশূদ্র, কি নিরবসিত শূদ্র, কি অন্যান্য জাতি সকলেই এই উপাসনায় তুল্যরূপে অধিকারী। কেহ কেহ বলেন যে প্রথমে দেব-দেবীগণের উপাসনা করিয়া ভক্তি-সঞ্চয় হইলে, পরে ঈশ্বরোপাসনা বিধেয়। এমতও যুক্তিসিদ্ধ নহে। যদি ভক্তি ও তদ্গুণ-জাত অন্যান্য গুণের বৃদ্ধির নিমিত্ত কল্পিত দেব-দেবীগণের উপাসনার প্রয়োজন বোধ কর, তবে ঐ কল্পিত দেবদেবীগণ-পরিত্যাগ-পূর্বক সাক্ষাৎ দৃশ্যমান দেব দেবীর অর্থাৎ মাতা, পিতা ও গুরুদেবের প্রতি ভক্তি করাই কর্তব্য। কিন্তু সাবধান, কদাচ তাহাদিগকে অনন্ত-স্বরূপের স্থানীয় বোধ করিওনা। স্বভাবের নিয়ম পর্যালোচনা করিলেও বোধ হইবে যে, প্রথমে মাতার, পরে পিতার এবং সর্ব্বশেষে গুরুর প্রতি ভক্তি করিয়াই আমরা ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি করিতে শিক্ষা করিয়া থাকি। যদি দুর্ভাগ্যবশতঃ, স্নেহবারিসেকের অভাবে মাতা পিতার প্রতি ভক্তি করিতে সমর্থ না হও, তবে সর্ব্বপাশবিনির্মুক্ত, নিস্পৃহ গুরুদেবের প্রতি ভক্তি করিয়াও ভক্তিগুণ অর্জন করিতে পার এবং শেষে ঐ ভক্তি-প্রভাবে ঈশ্বর-ভক্তি লাভ করিতেও সমর্থ হও। এ বিষয়ের অন্যান্য অংশ 'ভক্তি' প্রবন্ধে দেখ।
পাপোল্লেখ
পরম পিতার গুণ-কীর্ত্তনের পরে স্বীয় পাপের উল্লেখ করিতে হয়। হে উপাসক। তুমি স্বীয় পাপ অন্যের নিকটে বল, বা না বল, জগদীশ্বরের নিকটে স্বমুখে উল্লেখ করিও, তাহা হইলে দেখিতে পাইবে যে, তখনই তোমার আত্মগ্লানি উপস্থিত হইবে। ঐ আত্মগ্লানি-প্রভাবেই তুমি অগ্নিদগ্ধ স্বর্ণের ন্যায় মলিনতা শূন্য হইতে পারিবে।
পাপোল্লেখের কর্তব্যতা বিস্তৃতরূপে ইতঃপূর্ব্বে উল্লিখিত হইয়াছে। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসু ব্যক্তিগণ আত্মতত্ত্বের উপাসনা নামক এই প্রথম খণ্ডের প্রথমাধ্যায়েই উহা পাঠ করিয়াছেন, এজন্য এস্থলে আর পুনরুল্লেখ করা গেল না।
পাপোল্লেখ-সময়েও গুণকীর্তনে বিরত হইবে না। তৎকালে যেমন পাপোল্লেখ করিবে, অমনই তৎ সঙ্গে সঙ্গে পরমপিতার করুণারাশিরও উল্লেখ করিতে থাকিবে।
গুণকীর্তন-সহকৃত পাপোল্লেখ সম্পাদিত হইলে, যখন আত্মগ্লানি উপস্থিত হইবে, তখন পাপ হইতে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করিবে। আত্মগ্লানি না হইলে
মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল