06/09/2026
ঈশ্বরের স্বরূপ
বৈজ্ঞানিকের তৃতীয় প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তরের জন্য, তদীয় চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর না দিয়া, অগ্রেই পঞ্চম প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা যাইতেছে। ঈশ্বরের স্বরূপ কি ইহাই বৈজ্ঞানিকের পঞ্চম প্রশ্ন।
ঈশ্বরের স্বরূপ কি? এই প্রশ্নের উত্তর দান করা বড়ই সুকঠিন, এমন কি অসাধ্য বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। কেননা, তিনি যখন অনির্বচনীয়, তখন কিরূপে তাঁহাকে বাক্যদ্বারা প্রকাশ করিব? এজন্য যিনি যখন অনির্ব্বচ্যের বর্ণনা করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন, তিনিই তখন ভ্রমে পতিত হইয়াছেন। সুতরাং এতৎসম্বন্ধে আমিও যাহা বলিব, তাহাও সম্পূর্ণ হইতে পারিবে না। যিনি ঈশ্বর-দর্শন-লাভ করিয়াছেন, তিনিই জানেন যে, ঈশ্বর কিরূপ! আবার অনীৰ্ব্বচনীয়তা-প্রযুক্ত তিনিও যখন বলিতে পারেন না, তখন তদ্ভিন্ন অন্যের তাহা জানিবার সাধ্য নাই। তবে বহুলোকের অনুরোধে বা অদৃষ্টের ঈদৃশ পরিণতি প্রভাবে, অথবা ঈশ্বর প্রেরণায়, যখন এতাদৃশ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করিয়াছি তখন এই বিষয়-সম্বন্ধে যতদূর স্পষ্টরূপে উল্লেখ করিতে পারি, তজ্জন্য সবিশেষ চেষ্টা করিব। ভরসা করি, এই মহত্তম কার্য্যে অনন্ত-মঙ্গলময় জগদীশ্বরের করুণা এবং মহাত্মাদিগের সাহায্য লাভে বঞ্চিত হইব না।
কোনও একটী বিষয়ের স্বরূপ দুই প্রকারে নির্দিষ্ট হইতে পারে। তন্মধ্যে একটিকে অন্বয়ী উপায় অপরটীকে ব্যতিরেকী উপায় কহে। নৈয়ায়িকেরা ঐ দুইটিকে যথাক্রমে সাধ্যহেতু (অন্বয়ী হেতু) ও বৈধ্য হেতু (ব্যতিরেকী হেতু) বলেন। তাঁহাদিগের মতে উদাহরণের সমান ধর্মানুসারে সাধ্যের সাধক-হেতুকে সাধ্যহেতু বা অন্বয়ী-হেতু এবং উদাহরণের বিপরীত ধর্ম অনুসারে সাধ্যের সাধক-হেতুকে বৈধৰ্ম্ম-হেতু বা ব্যতিরেকী হেতু বলে। বর্তমান ইউরোপীয় পণ্ডিতগণের মতেও প্রায় এইরূপ। তাঁহারা বলেন যে, অনুগুণ হেতুদ্বারা সাধ্য সাধিত হইলে উহাকে অন্বয়ী-হেতু বলে এবং বিপরীত হেতুদ্বারা সাধ্য সম্পাদিত হইলে, ঐ হেতুকে বিপরীত হেতু কহে; অর্থাৎ, সাধ্য বস্তু অন্য প্রকার হইলে অসম্ভব হয়, ইহা প্রদর্শন-পূর্ব্বক সাধ্যসাধনের হেতুকে ব্যতিরেকী হেতু শব্দে নির্দেশ করা হয়। প্রত্যেক গৃহেই বায়ু আছে। ইহা একটি প্রতিজ্ঞা বা সাধ্য। এক্ষণে বায়ুর যে যে গুণ পরীক্ষা-সিদ্ধ এবং সর্ব্ববাদি-সম্মত, সেই সকল গুণ-প্রদর্শন-পূর্ব্বক বায়ুর সত্তা সপ্রমাণ করা অন্বয়ী হেতুর কার্য্য এবং বায়ু না থাকিলে যে যে অবস্থা হয়, সে সকল অবস্থা হইতেছে না; ইহা প্রদর্শন-পূর্ব্বক বায়ুর অভাব যে নাই, ইহা প্রমাণ করিয়া, বায়ুর সত্তা সপ্রমাণ করা দ্বিতীয় হেতুর বিষয়। আবার, যে ত্রিভুজের দুই বাহুর উপরে অঙ্কিত সমচতুর্ভুজ হয়,
মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল