Satya Dharma Sampraday

Satya Dharma Sampraday Religious Organisation

06/09/2026

ঈশ্বরের স্বরূপ

বৈজ্ঞানিকের তৃতীয় প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তরের জন্য, তদীয় চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর না দিয়া, অগ্রেই পঞ্চম প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা যাইতেছে। ঈশ্বরের স্বরূপ কি ইহাই বৈজ্ঞানিকের পঞ্চম প্রশ্ন।

ঈশ্বরের স্বরূপ কি? এই প্রশ্নের উত্তর দান করা বড়ই সুকঠিন, এমন কি অসাধ্য বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। কেননা, তিনি যখন অনির্বচনীয়, তখন কিরূপে তাঁহাকে বাক্যদ্বারা প্রকাশ করিব? এজন্য যিনি যখন অনির্ব্বচ্যের বর্ণনা করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন, তিনিই তখন ভ্রমে পতিত হইয়াছেন। সুতরাং এতৎসম্বন্ধে আমিও যাহা বলিব, তাহাও সম্পূর্ণ হইতে পারিবে না। যিনি ঈশ্বর-দর্শন-লাভ করিয়াছেন, তিনিই জানেন যে, ঈশ্বর কিরূপ! আবার অনীৰ্ব্বচনীয়তা-প্রযুক্ত তিনিও যখন বলিতে পারেন না, তখন তদ্ভিন্ন অন্যের তাহা জানিবার সাধ্য নাই। তবে বহুলোকের অনুরোধে বা অদৃষ্টের ঈদৃশ পরিণতি প্রভাবে, অথবা ঈশ্বর প্রেরণায়, যখন এতাদৃশ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করিয়াছি তখন এই বিষয়-সম্বন্ধে যতদূর স্পষ্টরূপে উল্লেখ করিতে পারি, তজ্জন্য সবিশেষ চেষ্টা করিব। ভরসা করি, এই মহত্তম কার্য্যে অনন্ত-মঙ্গলময় জগদীশ্বরের করুণা এবং মহাত্মাদিগের সাহায্য লাভে বঞ্চিত হইব না।

কোনও একটী বিষয়ের স্বরূপ দুই প্রকারে নির্দিষ্ট হইতে পারে। তন্মধ্যে একটিকে অন্বয়ী উপায় অপরটীকে ব্যতিরেকী উপায় কহে। নৈয়ায়িকেরা ঐ দুইটিকে যথাক্রমে সাধ্যহেতু (অন্বয়ী হেতু) ও বৈধ্য হেতু (ব্যতিরেকী হেতু) বলেন। তাঁহাদিগের মতে উদাহরণের সমান ধর্মানুসারে সাধ্যের সাধক-হেতুকে সাধ্যহেতু বা অন্বয়ী-হেতু এবং উদাহরণের বিপরীত ধর্ম অনুসারে সাধ্যের সাধক-হেতুকে বৈধৰ্ম্ম-হেতু বা ব্যতিরেকী হেতু বলে। বর্তমান ইউরোপীয় পণ্ডিতগণের মতেও প্রায় এইরূপ। তাঁহারা বলেন যে, অনুগুণ হেতুদ্বারা সাধ্য সাধিত হইলে উহাকে অন্বয়ী-হেতু বলে এবং বিপরীত হেতুদ্বারা সাধ্য সম্পাদিত হইলে, ঐ হেতুকে বিপরীত হেতু কহে; অর্থাৎ, সাধ্য বস্তু অন্য প্রকার হইলে অসম্ভব হয়, ইহা প্রদর্শন-পূর্ব্বক সাধ্যসাধনের হেতুকে ব্যতিরেকী হেতু শব্দে নির্দেশ করা হয়। প্রত্যেক গৃহেই বায়ু আছে। ইহা একটি প্রতিজ্ঞা বা সাধ্য। এক্ষণে বায়ুর যে যে গুণ পরীক্ষা-সিদ্ধ এবং সর্ব্ববাদি-সম্মত, সেই সকল গুণ-প্রদর্শন-পূর্ব্বক বায়ুর সত্তা সপ্রমাণ করা অন্বয়ী হেতুর কার্য্য এবং বায়ু না থাকিলে যে যে অবস্থা হয়, সে সকল অবস্থা হইতেছে না; ইহা প্রদর্শন-পূর্ব্বক বায়ুর অভাব যে নাই, ইহা প্রমাণ করিয়া, বায়ুর সত্তা সপ্রমাণ করা দ্বিতীয় হেতুর বিষয়। আবার, যে ত্রিভুজের দুই বাহুর উপরে অঙ্কিত সমচতুর্ভুজ হয়,

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

06/08/2026

সহিত লঙ্কাভিমুখে সবেগে যাইতে উদ্যত হইলেন; কিন্তু ইহার মধ্যে সংবাদ পাইলেন যে কাজ 'ফতে' হইয়াছে। আর যাওয়ার প্রয়োজন নাই। ধন্য ধন্য ধন্য!! অবশ্য গুণবান্ মানবের প্রতি ভক্তি করা জীবনের একটী প্রধান কার্য্য। কিন্তু তাই বলিয়া যদি তুমি এক খণ্ড সামান্য প্রস্তরকে হিমালয় জ্ঞান কর, তবে তাহাকে তোমার গুণাদরেচ্ছা না বলিয়া, অতি মূঢ়তাই বলিতে হইবে। জগতে যাঁহারা অত্যুচ্চ কার্য্য সম্পাদন করিয়াছেন বা করিতেছেন, তাহাদিগের প্রতি ভক্তি করা উত্তমই বটে এবং দেবদেবীগণের অস্তিত্বে বিশ্বাস ও তাহাদিগের প্রতি যথোচিত ভক্তি-প্রকাশ অবশ্য-কর্তব্য বটে, কিন্তু তাহা বলিয়া, ঐ সকল ভক্ত ও ঐ সমস্ত দেবদেবী যাঁহার অংশ, তাঁহাকে ঐ সকল রূপে ভাবনা করা, মূর্খতা ভিন্ন বিজ্ঞতার কার্য্য নহে। ইত্যাদি।

অবতার-বাদ-সম্বন্ধে আমাদিগের মন্তব্য পরে প্রদর্শিত হইবে। তবে এস্থলে ইহা অবশ্যই বক্তব্য যে, সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডই যাঁহা হইতে উৎপন্ন হইয়াছে, এবং যিনি সর্ব্বদাই সর্ব্বত্র বিদ্যমান আছেন, তাঁহাকে যে কোনও পদার্থস্থিত বিবেচনা কর না কেন, তাহাতে কোনও দোষ হইতে পারে না। কিন্তু তাদৃশ অধিকারী না হইয়া ঐরূপ বিবেচনা করিলে ঘোরতর পতনাবস্থা ভিন্ন আর কি হইতে পারে? এ বিষয়ের বিস্তৃত বিবরণ সৃষ্টি-প্রকরণের পরে লিপিবদ্ধ করা যাইবে।

এক্ষণে উপস্থিত বিষয়ে বক্তব্য এই পাঠকগণ ধৈর্য্যচ্যুত না হইয়া, ''ঈশ্বরের স্বরূপ” অংশ পাঠ করিলেই এই অংশের সবিশেষ বিবরণ জানিতে পারিবেন। এজন্য বৈজ্ঞানিকের চতুর্থ প্রশ্ন 'ঈশ্বর সগুণ কি নির্গুণ,” ইহার উত্তর অগ্রে না দিয়া তদীয় পঞ্চম প্রশ্ন 'ঈশ্বরের স্বরূপ” অংশের উত্তরই অগ্রে দেওয়া যাইতেছে।

জ্ঞানার্থি পাঠক! এস্থলে সংক্ষেপে ইহা জানিবেন যে, ঈশ্বরকে সাকার বলিলে যে সকল দোষ হয়, নিরাকার বলিলে সে সমস্ত হইতে পারে না। বরঞ্চ, প্রকৃত বিষয়েরই কিয়দংশ বর্ণিত হয়। অতএব জড় প্রকৃতিরা তাঁহাকে সাকার বোধ করিলেও জ্ঞানার্থীদিগের প্রথমাবস্থায় তাঁহাকে নিরাকার বোধ করাই উত্তম ও কর্তব্য। পশ্চাৎ অত্যুন্নত অবস্থায় যেরূপ বোধ হয়, তাহা "ঈশ্বরের স্বরূপ” অংশের টীকায় বর্ণিত হইয়াছে। একারণ, বৈজ্ঞানিকের তৃতীয় প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর পঞ্চম প্রশ্নোত্তরের টীকায় পরে লিপিবদ্ধ করিতে আমাকে বাধ্য হইতে হইয়াছে।

ইতি তত্ত্বজ্ঞানাভিধানে গ্রন্থে উপাসনাখ্যে

প্রথমখণ্ডে উপাস্য-নির্ণয়-নাম-দ্বিতীয়াধ্যায়ে জগদীশ্বরস্য নিরাকারত্বে প্রমাণ-প্রদর্শনো নাম দ্বাদশঃ পরিচ্ছেদঃ।

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

06/07/2026

ইহার উত্তরে বক্তব্য এই যে, কি জ্ঞানী, কি ভক্ত, কি প্রেমিক, ইহারা স্বাবলস্থ্য গুণের পরমোৎকর্ম প্রাপ্ত হইলেই, ঐ সকল গুণের চরমোৎকর্ষ স্থান অর্থাৎ ঈশ্বর নিরীক্ষিত হন। এতদ্বিষয়ে মতান্তর নাই। কিন্তু উক্ত দর্শন-কালে কি ঈশ্বর তোমার-আমার মত পরমাণু-সমুৎপন্ন দেহ ধারণ করেন। যদি বল করেন, তবে ত তিনি ইন্দ্রিয়-গ্রাহ্য হইলেন। কিন্তু যিনি বাঙ্মনসগোচরও নহেন, তিনি বহিরিজিয়-গ্রাহ্য, একথা কি উন্মত্তবৎ নহে। তবে তুমি বলিতে পার যে, ঈশ্বর-দর্শনও স্বীকার করিতেছে, অথচ তাঁহাকে সাকার মানিতেছ না, ইহার কারণ কি? তদুত্তরে বক্তব্য এই যে, ঈশ্বর-দর্শনের সময় ইন্দ্রিয়গণ মনে লীন হয় এবং মন জীবাত্মায় লীন হয়। পরে জীব স্বীয় প্রভুর কৃপায় তদীয় সাক্ষাৎকার লাভ করিয়া মুক্ত হয়। এই সাক্ষাৎকার সময়ে লীনেন্দ্রিয়-মনের জীবাত্মায় লীনতা-নিবন্ধন দর্শন, শ্রবণ, মননাদি সর্বশক্তিই জীবে থাকে। একারণ সে দর্শন এক অনির্বচনীয় দর্শন। সে অ-রূপ-রূপদর্শন যাহার অদৃষ্টে ঘটে, সে ব্যক্তিই তাহা অনুভব করিতে পারে, কিন্তু বলিতে পারে না। এ কারণ ইহা নিশ্চিত যে, সাধারণতঃ যে সকল মূর্তি কল্পনা করা হয়, ঈশ্বর তাহা নহেন। তবে তদীয় সর্বব্যাপিত্ব জন্য সর্বত্রই তৎসত্তা-স্বীকারে কোনও দোষ নাই।
এ বিষয়ে নিরাকার-বাদীরা বলেন যে, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান্ বলিয়া যে, তাঁহাকে রামাদি বলিয়া বিশ্বাস করা কতদূর হাস্যজনক, তাহা বলাই অসম্ভব। ঈশ্বর রাম হইয়া ক্রোধবশে রাক্ষস-কুল নির্মুল করিলেন, স্বীয় পত্নীর জন্য হাহাকার করিয়া বনে বনে ভ্রমণ করিয়া বেড়াইলেন, ভাগ্যে লক্ষ্মণ নামে আর এক ঈশ্বর তাঁহার সঙ্গে ছিলেন, নতুবা সান্ত্বনা কে করিত? আবার, ভরত নামে আর এক ঈশ্বর এই সংবাদ পাইয়া সৈন্য-সংগ্রহ-পূর্ব্বক চতুর্থ-ঈশ্বর শত্রুয়ের
_________________________________
(৪) তথাচ দক্ষ সংহিতায়াম্

বৃত্তিহীনং মনঃ কৃত্বা ক্ষেত্রজ্ঞং পরমাত্মনি।
একীকৃত্য বিমুচ্যেত যোগোহয়ং মুখ্য উচ্যতে।।
বহির্মুখানি সর্ব্বাণি কৃত্বা চাভিমুখানি বৈ।
সর্ব্বঞ্চৈবেন্দ্রিয়গ্রামং মনশ্চাত্মনি যোজয়েৎ।।
সর্ব্বভাব বিনির্মুক্তঃ ক্ষেত্রজ্ঞং ব্রহ্মণি ন্যসেৎ।
এতদ্ব্যানঞ্চ যোগশ্চ শেষাঃ স্যু গ্রন্থ-বিস্তরাঃ।।
অর্থাৎ দক্ষসংহিতায় উক্ত হইয়াছে যে, মনকে বৃত্তিহীন করিয়া জীবাত্মাকে পরমাত্মায় মিলিত করিলে মুক্তি হয়। ইহাই মুখ্য যোগ। বহির্মুখ ইন্দ্রিয়দিগকে অন্তর্মুখ করিয়া সমুদায় ইন্দ্রিয়কে মনে এবং মনকে জীবাত্মায় যোজনা করিবে। এবং সর্ব্ব-ভাব-বিনির্মুক্ত হইয়া জীবাত্মাকে পরমাত্মায় নিক্ষেপ করিবে। ইহাই ধ্যান, ইহাই যোগ, অবশিষ্ট সকল কেবল গ্রন্থবাহুল্য মাত্র।

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

06/06/2026

বঙ্গানুবাদ

ঈশ্বর মনুষ্যোর ন্যায় (স্ত্রীপুরুষসংযোগবং) কাহাকেও জন্ম দেন নাই এবং তিনি মনুষ্যের ন্যায় হন নাই। অর্থাৎ, স্ত্রী-পুরুযোৎপন্ন নহেন। তাঁহার যোড়া কেহ নাই। তিনি একমাত্র নিরাকার জ্যোতিঃ-স্বরূপ।

খৃষ্টান ও যিহুদী ধর্ম্মেও জগদীশ্বরকে নিরাকার বলিয়া নির্দিষ্টি হইয়াছে। জলদিশারোর অস্তিত্ব-বিবারণের শেষ ভাগে তৎসমুদায় লিখিত হইয়াছে। এজন্য এছলে আর পুনরুল্লেখ করা হইল না।

ঈশ্বর যে নিরাকার, তাহা যেমন যুক্তিসিদ্ধ, তেমনই শাস্ত্রসিদ্ধ। কিন্তু সাকার-বাদের অনুকূলে নিম্ন-লিখিত বাক্য-নিচয় লিপিবদ্ধ হইতে পারে।
"যাহার জ্ঞানাভিমান আছে, তিনি সাকার না মানিতেও পারেন। কিন্তু, হে ভক্ত, হে প্রেমিক। তুমি কিছুতেই সাকার না মানিয়া পার না। যখন অভীষ্ট-দর্শনার্থে তোমার অতি মহতী বাসনা জামিবে, যখন তুমি আরাধ্য দেবকে নয়ন-গোচর না করিয়া ধৈর্য্য ধারণ করিতে পারিবে না, প্রত্যুত মুহুর্মুহ: মোহ-প্রাপ্ত হইবে, যখন তোমার নয়ন-যুগল হইতে গঙ্গা-সলিলের ন্যায় বেগে অশ্রুধারা পতিত হইবে, মুখে হাহাকার-শব্দ হইতে থাকিবে, কি করিতেছে, কি না করিতেছে, কিছুরই দিকে লক্ষ্য থাকিবে না, কেবল "হানাথ! হা দেব" বলিয়া ভীমনাদে চীৎকার, ক্রন্দন, ও হস্কার করিতে থাকিবে, তখন কি কেহ তোমাকে বুঝাইতে পারিবে যে, তোমার উপাস্য দেবকে তুমি কখনও দেখিতে পাইবে না? অথবা কেহ ঐরূপ বলিলে কি তুমি তাহার কথা সত্য বলিয়া কখনও গ্রহণ করিবে? কখনই নহে। গুণের মধ্যে ভক্তি ও প্রেম অতি প্রধান, সুতরাং গুণীর মধ্যে ভক্ত ও প্রেমিক শ্রেষ্ঠ, সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা যাহা না মানিয়া পারেন না, তাহা কখনই মিথ্যা হইতে পারে না। অতএব সাকার-বাদ সত্য। সাকার-বাদ সত্য বলিয়া যে নিরাকার-বাদ মিথ্যা, তাহা নহে। তবে বক্তব্য যে, ঈশ্বর নিরাকার ও সর্ব্বশক্তিমান; সুতরাং সর্ব্বশক্তিমত্তা ধর্ম থাকায় তিনি নিরাকার হইয়াও সাকার হইতে পারেন। এ কারণই কোনও কোনও বিজ্ঞ ব্যক্তি বলিয়াছেন যে-

সাকারঞ্চ নিরাকারং
পরিকল্প্য স্তবন্তি যম্।
সততং সর্ব্বশাস্ত্রাণি
তং বন্দে দেবমব্যয়ম্।।
অর্থাৎ, সবর্বশাস্ত্র সতত যাঁহাকে সাকার ও নিরাকার পরিকল্পনা করিয়া স্তব করে সেই অব্যয় দেবকে বন্দনা করি।"

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

06/05/2026

অনাদ্যনন্তং মহতঃ পরং ধ্রুবং নিচায্য তমৃত্যুমুখাৎ প্রমুচ্যতে।।

বঙ্গানুবাদ

অশব্দ, অস্পর্শ যিনি, অরূপ, অব্যয়, অরস, অগন্ধ, নিত্য যেই (দয়াময়) অনাদি, অনন্ত, ধ্রুব, মহতের পর, তাঁরে লভি মৃত্যুমুখ হ'তে মুক্ত নর।।

অপাণিপাদো জবনো গৃহীতা পশ্যত্যচক্ষুঃ'স শূণোত্যকর্ণঃ। স বেত্তি বিশ্বং নহি তস্য বেত্তা তমাহুরগ্র্যাঃ পুরুষং মহান্তম্।।

বঙ্গানুবাদ

অ-কর, তথাপি যিনি করেন গ্রহণ, পদ বিনা যিনি সদা করেন গমন। দর্শন বিহনে যিনি করেন দর্শন, শ্রবণ বিহীন, তবু করেন শ্রবণ। এবিশ্ব সতত যাঁর জ্ঞানের বিষয়, তাঁর জ্ঞাতা কোন লোকে কেহ নাহি রয়।

সুপণ্ডিত সাধু সুধী সদাশয়-চয়, পরম পুরুষ বলি তাঁরে সদা কয়।

এতদ্ভিন্ন "স পর্য্যগাচ্চুক্রমকায় মব্রণ মম্নাবিয়ং শুদ্ধ মপাপ-বিদ্ধম্।” ইত্যাদি শ্রুতিতেও ঈশ্বরের নিরাকারত্বের উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়।

মুসলমান ধর্মেও লিখিত আছে যে, জগদীশ্বর নিরাকার। কোরাণ শরিফ হইতে তাহার প্রমাণ প্রদত্ত হইতেছে।-

ল্যাম ইয়ালিদ, ওয়াল্যাম্ জু উল্যাদ, ওয়াল্যাম্ ইয়াকূল লাহু, কুফু ওয়ান্ আহদ।
_________________________________
(৩) এই স্থলে পাঠান্তর দৃষ্টি হয়। সেই পাঠ ও তাহার বঙ্গানুবাদ পূর্ব্বে লিখিত হইয়াছে।

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

06/04/2026

নিরাকার হইবে, তদ্বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই। ইহার কিঞ্চিৎ আভাস, পূর্ব্বোক্ত দ্বিতীয় প্রমাণে প্রদত্ত হইয়াছে। অতএব, প্রতীয়মান হইতেছে যে, যাহাদিগকে সাকার বলিয়া প্রত্যক্ষ জ্ঞান করা যাইতেছে, তাহাদিগের সমষ্টিও যখন নিরাকার, তখন যিনি প্রত্যক্ষের অতীত তিনি যে নিরাকার, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই। অতএব সপ্রমাণ হইল যে, ঈশ্বর নিরাকার।

চতুর্থ প্রমাণ

ভূমি পঞ্চেন্দ্রিয়-গ্রাহ্য, জল চতুরিন্দ্রিয়-গ্রাহ্য, তেজঃ ইন্দ্রিয়ত্রয় গ্রাহ্য, বায়ু ইন্দ্রিয়-দ্বয়-গ্রাহ্য এবং আকাশ এক ইন্দ্রিয়-গ্রাহ্য। সুতরাং যিনি আকাশেরও অতীত, তিনি কোনও ইন্দ্রিয়ের-গ্রাহ্য নহেন। আর যাহা সাকার, তাহাই ইন্দ্রিয়-গ্রাহ্য। সুতরাং জগদীশ্বর যখন ইন্দ্রিয়-গ্রাহ্য নহেন, তখন তিনি সাকারও নহেন। প্রত্যুত-ঈশ্বর নিরাকার।

পঞ্চমাদি প্রমাণ

এ পর্যন্ত যুক্তি-মূলক প্রমাণই লিখিত হইল। এক্ষণে হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান ও য়িহুদী প্রভৃতি জাতির পবিত্র ধর্মপুস্তক-সমূহেও যে জগদীশ্বরের নিরাকারত্ব বর্ণিত আছে, তাহা প্রদর্শিত হইতেছে।

(৫) মহর্ষি দত্তাত্রেয় পরম জ্ঞানী ছিলেন। এরূপ কথিত আছে যে, ব্রহ্মাদি দেবগণ তাঁহার স্তব করিতেন, একারণ তৎকৃত অবধূত-গীতা হইতে সর্ব্ব প্রথমে জগদীশ্বরের নিরাকারত্বের উক্তি উদ্ধৃত হইতেছে।

নিরাময়ং নিষ্প্রতিমং নিরাকৃতিং

নিরাশ্রয়ং নির্বপুষং নিরাশিষম্। তমীশ মাত্মান মুপৈতি শাশ্বতম্।।

নির্দ্বন্দ্ব নির্মোহ মলুপ্তশক্তিকং

বঙ্গানুবাদ

নিরাকার, নিষ্প্রতিম, যিনি নিরাময়, অশরীর, নিরাশিষ, যিনি নিরাশ্রয়। নির্মোহ, নির্দ্বন্দ্ব যিনি সর্ব্বশক্তিমান্ শাশ্বত সে ঈশে পায় (যত ভাগ্যবান্)।।

শ্রুতি

অশব্দ-মস্পর্শ মরূপমব্যয়ং তথাহরসং নিত্য মগন্ধবচ্চ যৎ।

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

06/03/2026

গ্রন্থের স্থানান্তরে প্রদর্শিত হইয়াছে। অতএব জানা যাইতেছে যে, তুমি তদপেক্ষা সুক্ষ্ম জলে লীন হয়: জল তেজে, তেজঃ বায়ুতে, এবং বায়ু আকাশে লীন হয় । সুতরাং আকাশ যাঁহাতে লীন হয়, তিনি যে আকাশ অপেক্ষাও সূক্ষ্ম, এবং ক্ষিতি, অপ, তেজঃ ও বায়ুময় নহেন, ইহা সহজেই প্রতীয়মান হইতেছে। অতএব ঈশ্বর নিরাকার। কারণ আকাশ যখন নিরাকার, তখন তদপেক্ষাও সুক্ষ্ম যিনি, তিনি অবশ্যই নিরাকার। সাকার-বাদ স্বীকার করিলে ঈশ্বরকে আকাশ অপেক্ষা স্থূল বলিতে হয়। কিন্তু যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনি যে, সৃষ্ট পদার্থ অপেক্ষা স্থুল, এইরূপ উক্তি যে, একান্ত উপহাসের বিষয় তাহা বলাই বাহুল্য। দেখ, সৃষ্টি প্রণালীতে প্রদর্শিত হইয়াছে যে "সূক্ষ্মাৎস্থুলম্” অর্থাৎ, সূক্ষ্ম হইতে স্কুলের উৎপত্তি হইয়াছে। অতএব সপ্রমাণ হইল যে, ঈশ্বর নিরাকার।

দ্বিতীয় প্রমাণ

যতদূর গবেষণা মানব-শক্তিসাধ্য, তাহাতে পরিজ্ঞাত হওয়া যায় যে, ভূমি অপেক্ষা জল-ভাগ অধিক; বায়ু-পরিমাণ ভূমি, জল ও তেজঃ-পরিমাণ অপেক্ষাও অধিক; এবং আকাশ উক্ত চতুষ্টয়ের সমষ্টি অপেক্ষাও অধিক। অতএব যখন ভূমি অপেক্ষা জল, তেজঃ অপেক্ষা বায়ু ও বায়ু অপেক্ষা আকাশ বহুব্যাপী ও বহুপরিমাণ সম্পন্ন, তখন অবশ্যই জল অপেক্ষা তেজও অধিক। নতুবা, ক্রমপূর্ণ জগতে অক্রমতা দোষ হয়। এক্ষণে কোনও স্থানে কিঞ্চিৎ দাহ্যদ্রব্য ও তদপেক্ষা অধিক জল ও তদপেক্ষা বহুপরিমাপে তেজঃ রাখিয়া ভূরি পরিমাণে বায়ু সঞ্চালন কর। দেখিতে পাইবে কিয়ৎকাল মধ্যে ঐ দাহ্য বস্তু, ঐ জল ও ঐ তেজঃ বায়ুতে বিলীন হইবে। ভূমি, জল ও তেজের লয়েই নিরাকার ভাব উপস্থিত হয়। কোনও কোনও অধ্যাত্ম-তত্ত্বানুসন্ধিৎসু বলেন যে, ভূমি ও জলের লয়েই নিরাকার ভাব সংঘটিত হয়। অতএব বিবেচনা করিয়া দেখ যে, যখন দুই তিনটি ভূতসৃষ্টি পর্যন্তও নিরাকার-ভাব ছিল, তখন যিনি সৃষ্টির পুর্ব্বেও বিদ্যমান ছিলেন, অর্থাৎ যিনি সৃষ্টি কর্তা, তিনি যে নিরাকার, তাহাতে আর সন্দেহ কি? অতএব সপ্রমাণ হইল যে, ঈশ্বর নিরাকার।

তৃতীয় প্রমাণ

কোনও ভাঁটার উপরিভাগে সকল বর্ণ (রং) মাখাইয়া উহাকে বেগে বিঘূর্ণিত করিলে, যেমন পূর্ব্বোক্ত কোনও রং দেখিতে পাওয়া যায় না, প্রত্যুত, সকল বর্ণের সমষ্টি শুভ্রবর্ণই নিরীক্ষিত হয়, তদ্রুপ জগতের সাকার পদার্থ সকল, ব্যষ্টিভাবে চিন্তা না করিয়া, সমষ্টিভাবে অনুধ্যান করিলে, ঐ সমষ্টিও যে

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

06/02/2026

"হিতার্থায়" এই পদে 'অর্থ' শব্দের অর্থ নিবৃত্তি। (২) অর্থাৎ, সাধকগণের হিতনিবৃত্তির জন্য (অহিত করিবার নিমিত্ত) অ-রূপের রূপ কল্পিত হইয়াছে। যদি বল, সাধকের অহিত-সাধন কি কখনও শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হইতে পারে? তদুত্তরে তাঁহারা বলেন যে, যে তন্ত্র-শাস্ত্রে বা তদন্তর্গত গ্রন্থ-বিশেষে ঐরূপ উক্তি আছে উহা (তন্ত্র-শাস্ত্র) শাস্ত্রান্তরে মোহন-শাস্ত্র বলিয়া নিদ্দিষ্ট আছে। অর্থাৎ, শিব অসুরদিগকে প্রকৃত-মার্গ-ভ্রষ্ট করিবার নিমিত্ত বিষ্ণুর অনুরোধে উহা রচনা করিয়াছেন, ইহা কথিত আছে। অতএব প্রকৃতপক্ষে হিতার্থায় এই পদের অর্থ "হিত-নিবৃত্তয়ে” অর্থাৎ হিত-নিবৃত্তির জন্য, এ বিষয়ে সন্দেহ নাই।

এ পর্যন্ত যাহা যাহা লিখিত হইল, তৎসমুদায় পাঠ করিলে প্রতীয়মান হইবে যে, জগতের যাবতীয় ঈশ্বরবাদীই ঈশ্বরকে নিরাকার বলিয়া বিশ্বাস করেন। এজন্য ঐ বিষয়ে আর কোনও প্রমাণ নির্দেশ না করিলেও চলিত। কিন্তু যে গ্রন্থ লিখিত হইতেছে, উহার এই অংশ বৈজ্ঞানিক নিরীশ্বরবাদীদিগের হৃদয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রভৃতি পঞ্চ প্রশ্নের উত্তর-দানার্থেই নির্দিষ্ট হইয়াছে। এ কারণ পশ্চাৎ তদ্বিষয়ের উল্লেখ করা যাইতেছে।

ঈশ্বরের নিরাকারত্ব-সম্বন্ধে

প্রথম প্রমাণ

পূর্বে প্রদর্শিত হইয়াছে যে, সূক্ষ্ম হইতে স্কুলের উৎপত্তি এবং স্থূল পদার্থের সূক্ষ্মে লয় হইয়া থাকে। ইহার প্রমাণ এখানে প্রদর্শন অনাবশ্যক। কারণ এই
_______________________________
পরিত্যাগ কর। যদি বল, অনন্ত আশ্রমেয় চিন্ময় পরমেশ্বরের ধ্যান কিরূপে করিব? এজন্যই তাঁহাকে শরীরী কল্পনা করিয়া থাকি। ইহার উত্তরে বক্তব্য এই যে, যতকাল ঈশ্বর দর্শন না হইবে, ততকাল তাঁহার ধ্যান করা অসম্ভব। যদি কল্পিত ধ্যান দ্বারা তাঁহার ধ্যানে শক্তি জন্মিত, তবে ঘাসের অবলম্বনেও আকাশ করগত হইতে পারিত। অতএব যে পর্যন্ত তাঁহার দর্শন লাভ না কর, তৎকাল পর্যন্ত সেই অনন্তগুণময়ের গুণরাশির ধ্যান (চিন্তা) কর। হে ধর্মার্থিন। এতদ্বারা রূপ-ধ্যানের নিস্ফলতা উক্ত হইতেছে না, তবে যাঁহার রূপ নাই, তাঁহার রূপ কল্পনা করিয়া ধ্যান করা যে, একান্ত নিস্ফল, তাহাই কথিত হইতেছে। যদি রূপ-ধ্যানের অবলম্বনে আত্মোন্নতি-সাধন করিতে চাও, তবে যাঁহার প্রসাদে ব্রহ্ম-দর্শন হইবে, এবং যিনি প্রসন্ন না হইলে কোটি জন্মের তপস্যা দ্বারাও কিছুই হইতে পারিবে না, সেই পরমারাধ্য গুরুদেবের ধ্যান কর। তাহাতেই ধ্যান-লভ্য পরমোন্নতি লাভ করিতে পারিবে। ধ্যানের সবিশেষ বিবরণ এই গ্রন্থের সাধনা নামক দ্বিতীয় খণ্ডে দেখ।

(২) অর্থোহ ভিধেয়ে শব্দানাং ধন-কারণ-বস্তুযু। প্রয়োজনে নিবৃত্তৌ চ বিষয়ে চ প্রবর্ত্ততে। ইতি কাতন্ত্র-পঞ্জীধৃত-পাঠঃ। অমরের মতে অর্থ শব্দের অর্থ-অভিধেয়, ধন, বস্তু, প্রয়োজন ও নিবৃত্তি।

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

06/01/2026

"সাকারাহপি নিরাকারা"
"নিরাকারা তারা"...
ইত্যাদি বাক্যই উক্ত বিষয়ের প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

অপিচ, সাকারবাদীরা স্ব-মতের অনুকূল গ্রন্থ রচনা করিতে প্রবৃত্ত হইয়াও যেন ভয়ে ভয়ে সাকার-বাদ স্বীকার করিতেছেন, বলিয়া বোধ হয়। দেখুন, সাকারবাদীরা বলেন যে,-

"সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রূপ-কল্পনা।” (১)

অর্থাৎ, সাধকগণের হিতের নিমিত্ত ব্রহ্মের যে রূপ আছে, ইহা কল্পিত হইয়াছে। অন্যত্র-

"চিন্ময়স্যাপ্রমেয়স্য নির্গুণস্যাশরীরিণঃ। সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণ্যে রূপ

কল্পনা।। (২)

অর্থাৎ, ব্রহ্ম চিন্ময়, অপ্রমেয়, নির্গুণ ও অশরীরী কিন্তু সাধকগণের হিতের নিমিত্ত সেই অশরীরী ব্রহ্মের রূপ কল্পিত হয়।

(১) চিহ্নিত অংশের তাৎপর্য্য এই যে, সাধকেরা প্রথমাবস্থায় নিরাকার ব্রহ্ম ধারণা করিতে পারেন না, এ জন্যই শাস্ত্রকারেরা ব্রহ্মের রূপ না থাকিলেও কল্পনা করিয়াছেন। সুতরাং এরূপ কল্পনাকারীরাও স্বীকার করিতেছেন যে, ব্রহ্মের
রূপ নাই। অর্থাৎ-ঈশ্বর নিরাকার।

(২) চিহ্নিত অংশের মর্ম্ম স্পষ্টই প্রতীয়মান হইতেছে। কারণ, উহাতে প্রথমেই উক্ত হইয়াছে যে, ঈশ্বর চিন্ময় অর্থাৎ জ্ঞানময়। যিনি জ্ঞানময়, তাঁহার যে জড়ীয় রূপ নাই, ইহা বলাই বাহুল্য। দ্বিতীয়তঃ, তিনি অপ্রমেয়, অর্থাৎ তদীয় পরিমাণ করা অসাধ্য। ইহাতেও জড়রূপের অভাব প্রকাশিত হইতেছে। তৃতীয়তঃ, তিনি নির্গুণ ও অশরীরী, এই উক্তিদ্বারা তাঁহার যে শরীর বা আকার নাই, তাহা বিশদভাবে প্রকাশিত হইয়াছে। এ কারণ যিনি জ্ঞানময়, যিনি অপ্রমেয়, যিনি নির্গুণ এবং যিনি অশরীরী তাঁহার ত রূপ নাই, ইহা বলাই বাহুল্য বটে, কিন্তু প্রবেশার্থী সাধকগণের হিতের নিমিত্ত, সেই অশরীরীরও শরীর কল্পিত হইয়াছে।

( ক) সুতরাং এই সকল লেখকও স্পষ্টবাক্যে বলিতেছেন যে, ঈশ্বর নিরাকার। এস্থলে নিরাকারবাদীদিগের মধ্যে কেহ কেহ উপহাস করিয়া বলেন যে,

(ক) ভারতে যে ঐরূপ একটা মত বহু পূর্ব্বাবধি চলিয়া আসিতেছে, তাহা পাঠ করিয়া প্রকৃত সাধকগণ হাস্য না করিয়া পারেন না। ঈশ্বরের রূপ নাই, অথচ তুমি রূপ কল্পনা করিতেছ, কেন? বলিবে যে, তাঁহাকে ধারণা করিবার জন্য। ইহার উত্তরে বক্তব্য এই যে, তুমি হিমালয়ের অপ্রাপ্তি কালে দূর্ব্বাকে হিমালয় ভাবিয়া কি কখনই হিমালয়-জ্ঞান লাভ করিতে পারিবে? কখনই নহে। অধিকন্তু তোমার এই শোচনীয় অবস্থা দর্শন করিয়া প্রকৃত সাধকগণ তোমাকে উন্মত্ত ভিন্ন আর কি বলিবেন? অতএব হে প্রিয় ধৰ্ম্মার্থিন! তুমি এই কল্পনা

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

05/31/2026

তাঁহাকে জিজ্ঞাসা কর, উত্তর পাইবে।" উপস্থিত ব্যাপারে আমার উত্তরও যে ঐরূপ, ইহা এতদ্বিষয়ে জিজ্ঞাসুগণ জানিবেন।

আমরা যে প্রণালীতে জ্ঞান লাভ করি, তাহাতে কতকগুলি জ্ঞান সাকার হইতেও কতকগুলি নিরাকার হইতে লব্ধ হইয়া থাকে। প্রথমে পুষ্পের জ্ঞান, পরে উহার গন্ধের জ্ঞান। পুষ্প সাকার, কিন্তু গন্ধ সাকার নহে। অতএব সাকার জ্ঞান হইতে নিরাকারের জ্ঞান হইতেছে। আবার, তুমি একটা যন্ত্র দেখিলে, পরে উহার সুমধুর ধ্বনি শ্রবণ করিলে। এখানেও দেখ, অগ্রে সাকার-জ্ঞান, পরে নিরাকার-জ্ঞান হইতেছে। পক্ষান্তরে, তোমার ক্ষুধা-বোধ হইল, সুতরাং ক্ষুধা-নিবৃত্তির জন্য মাতৃস্তন্য-পান অথবা অন্য কিছু পান বা আহার করিলে। এখানে অগ্রে নিরাকার ক্ষুধার জ্ঞান, পশ্চাৎ সাকার মাতৃস্তন্যাদির জ্ঞান হইল। এইরূপ বহুস্থলে দেখা যায় যে, অগ্রে নিরাকার জ্ঞান, পরে সাকার জ্ঞান লব্ধ হয়।

এ বিষয়ে- দেবদেব মহাদেব বলিয়াছেন যে,-

সাকারেণ বিনা দেবি
নিরাকারো ন লভ্যতে।
নিরাকারং বিনা দেবি!
সাকারোহপি ন লভ্যতে!!
বীজং বিনা ন বৃক্ষঃ স্যাদ্‌
বিনা বৃক্ষং ন বীজকম্। ইত্যাদি।

অর্থাৎ, হে দেবি! যেমন বীজ ব্যতিরেকে বৃক্ষ হইতে পারে না এবং বৃক্ষ ব্যতীতও বীজ হইতে পারে না, তদ্রুপ সাকার ব্যতীত নিরাকার লব্ধ হয় না এবং নিরাকার ব্যতিরেকেও সাকার লব্ধ হইতে পারেন না।

এ পর্যন্ত যাহা যাহা লিখিত হইল, তৎসমুদায় পাঠে সাকার ও নিরাকার পদার্থের সম্বন্ধ-মাত্র জানা গেল। কিন্তু ইহাতে ঈশ্বর সাকার কিংবা নিরাকার, তাহার উপলব্ধি হইল না।

যে দর্শনশাস্ত্র জ্ঞান-লাভের মূল কারণ, যাহার বিচার-প্রণালী অতি উৎকৃষ্ট এবং যাহার আভাসমাত্র অবলম্বন করিয়া যাবতীয় ধৰ্ম্ম-সম্প্রদায় সংঘটিত হইয়াছে, বলিলেও অত্যুক্তি হয় না; সেই সূক্ষ্ম বিচার-পূর্ণ দর্শনশাস্ত্র মাত্রেই সাকার-বাদ ঘৃণিত ও নিরাকারবাদ সমাদৃত হইয়াছে। আরও দেখ যিনি সাকারবাদ প্রচার করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন, তিনিও নিরাকারবাদ অগ্রাহ্য করেন নাই, প্রত্যুত উন্নত অধিকারীর অবলম্বনীয় বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। আর যাঁহারা প্রকৃত ভক্তির সহিত সাকার-উপাসনায় প্রবৃত্ত হইয়াছেন, তাঁহারাও প্রথমে স্বীয় অভীষ্ট দেব দেবীর আকৃতির নানাবিধ বর্ণনা করিয়াও শেষে "নাম-মাত্র” ঠিক রাখিয়া, নিরাকার-বাদে উপনীত হইয়াছেন। যথা,-

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

Address

Ram Chandra Biswas Street
La Habra Heights, CA

Telephone

+918910521559

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Satya Dharma Sampraday posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Satya Dharma Sampraday:

Share