Satya Dharma Sampraday

Satya Dharma Sampraday Religious Organisation

09/07/2026

ওঁং
কলুষানলদগ্ধানাং শান্তয়েহমৃতবারিভি:।
প্রকাশ্যতে সত্যধর্ম্মো মুক্তয়ে মুক্তিকাঙ্ক্ষিণাম্।।
দিনাঙ্ক : ০৭|০৯|২০২৬

প্রিয় সৎ/সতী ও অন্যান্য প্রিয় আগ্রহী ধর্ম্মার্থীগণ

সত্যধর্ম্ম সম্প্রদায় পরিচালিত মাসিক উৎসব ,২৭|০৯|২৬ যথারীতি মাসের শেষ রবিবার অনুষ্ঠিত হইবে।

আগামী ইং ২৭|০৯/২০২৬ (বাংলা ০৯ই আশ্বিন ১৪৩৩) রবিবার আগড়পাড়া শ্রী জগদীশ ও শিখা বালা , এস.এম. বোস রোড, আগড়পাড়া পিন: ৭০০ ১০৯ গৃহে অনুষ্ঠিত হইবে । উক্ত উৎসবে আপনি ও নিকটস্থ ধর্ম্মার্থীদিগের উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান যাইতেছে।

২৭/০৯/২০২৬ রবিবার সকাল ১০ ঘটিকা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপাসনা হইবে ।

ভবদীয়। ভবদীয়
নিখিল বিশ্বাস সন্তোষ বিশ্বাস
সভাপতি। সম্পাদক

পথনির্দেশ: শিয়ালদহ মেইন লাইনের আগড়পাড়া রেলষ্টৈশন নেমে সোদপূরের দিকে এগিয়ে বাদিকে ২ মিনিট হেটে উৎসব বাড়ি।

09/07/2026

বিজ্ঞাপন

পরমপিতা পরমেশ্বরের শ্রেষ্ঠ সন্তান মহাত্মা গুরুনাথ সেনগুপ্ত, কবিরত্ন প্রণীত শ্রেষ্ঠতম রত্ন তত্ত্বজ্ঞান দ্বিতীয় খণ্ড 'সাধনা' তত্ত্বজ্ঞানেঙ্গুর হিতার্থে পুনরায় প্রকাশিত হল। ইতিপূর্বে এই গ্রন্থ গুরুদেবের প্রধান শিষ্য মহাত্মা নিবারণ চন্দ্র কর্তৃক ১৭ই আষাঢ়, ১৩৩৩ সাল প্রথম সংস্করণ, সত্য-ধৰ্ম্ম সম্প্রদায় হতে তদীয় পুত্র স্বর্গীয় মিহিরনাথ সেনগুপ্ত প্রকাশ করেন। বর্তমান সংস্করণে 'সত্যামৃত' গ্রন্থের শেষে প্রকাশিত 'দেহাবচ্ছিন্ন আত্মার অসীমত্ব' প্রবন্ধ সংযোজিত হল।
সত্য-ধৰ্ম্ম ট্রাস্ট, সত্য-ধৰ্ম্ম প্রচার কেন্দ্র গড়ে তুলেছে, সেই প্রচার কেন্দ্র থেকে এই পুস্তক প্রকাশ করে প্রথম প্রচার শুরু হল।
আজ পরম পিতার শ্রেষ্ঠ সন্তান মহাত্মা গুরুনাথের ১৭০তম শুভজন্ম দিন। এই পুণ্য লগ্নে আরো একবার এই পুস্তক পুনঃ প্রকাশ করে সত্য-ধৰ্ম্ম ট্রাস্ট ও সত্য-ধৰ্ম্ম সম্প্রদায়ের সকল সৎ সতীগণ, আধ্যাত্মিক জগতের শ্রেষ্ঠ সোপান আমাদের পরমারাধ্য গুরুদেবকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। আমাদের অঙ্গীকার আগামী দিনে গুরুদেবের রচিত সমস্ত পাণ্ডুলিপি যা হাতে পাব বা পেয়েছি তা প্রকাশ করব। এই ট্রাস্ট যা গঠিত হয়েছে প্রধানত সত্য-ধৰ্ম্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে, তার অঙ্গ হিসেবে প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচারের জন্য স্কুল নির্মাণ (English Medium/পরে বাংলা মাধ্যমে), দ্বিতীয় প্রয়াস নিরন্তর উপাসনা ও সাধনা করার জন্য উপাসনালয় নির্মাণ, তৃতীয় প্রয়াস নিকটবর্তী অঞ্চল ও সমস্ত মানবাত্মাগণের সেবা করার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র (Hospital) নির্মাণ। সকল সত্য-ধৰ্ম্ম সম্প্রদায়ের সৎ সতীগণের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাই।
ধন্য গুরুদেব! তোমার অপার করুণায় ও সহযোগিতায় সত্য-ধৰ্ম্ম ট্রাস্ট তার যাত্রা শুরু করেছে, তুমি সর্বক্ষণ আমাদের সহায় থেক। সাধক পাখির দুটি ডানা প্রথম উপাসনা, দ্বিতীয় সাধনা। এই পুস্তক সাধনা প্রার্থীকে সাধনায় সাহায্য করবে। এটাই আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।
ধন্য মহাত্মা নিবারণ! ধন্য প্রবর্তক গুরুদেব! তোমার মঙ্গল ইচ্ছায় সাধনা' গ্রন্থ পুনঃ মুদ্রণ সম্ভব হল। তোমাকে কোটি কোটি বার ধন্যবাদ প্রদান করি।
এই পুস্তক প্রকাশ করার জন্য যাঁরা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তন্মেধ্যে শ্রীকাজল দাশগুপ্ত (স্বর্গীয় প্রিয়রঞ্জন দাশগুপ্তের ভাই), শ্রীদেবকুমার সেনগুপ্ত (স্বর্গীয় বিশ্বনাথ সেনগুপ্তের প্রথম পুত্র), শ্রীমতি সুপ্তি সিন্‌হা ও সত্য-ধৰ্ম্ম ট্রাস্ট; তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ প্রদান করি।
মুদ্রাঙ্কনকালে আমাদের অনভিজ্ঞতা নিবন্ধন যা কিছু ভাব-বিপর্যয় সংগঠিত হয়েছে তার জন্য পাঠক-পাঠিকাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।
এই পুস্তক প্রকাশ করার জন্য সরাসরি যাঁরা সাহায্য করেছেন তন্মধ্যে শ্রীঅশোক কুমার দাসকে ধন্যবাদ প্রদান করি।
ওঁং ক্রীং নমঃ
নিবেদনমিতি
শ্রী নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস
চেয়ারম্যান
সত্য-ধৰ্ম্ম ট্রাস্ট
জন্মোৎসব,২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৩
৮ই ডিসেম্বর, ২০১৬,বৃহস্পতিবার

09/06/2026

আমি তোমারি নাথ! আমারি ধন হে তুমি।
তোমার মঙ্গল চরণে পড়ে আছি সদা আমি!
অনন্ত প্রায় এ ব্রহ্মাণ্ড আমারি অভেদভাণ্ড আকাশ, বায়ু, অনল আমি আছি সর্ব্বস্থল কিন্তু তবু তব অন্ত, কেমনে হইব শান্ত,
সকলি তোমার কাণ্ড, এ বিশ্ব সকলি আমি।
কি সলিল কিবা স্থল, এ বর দিয়াছ তুমি।
না পাইনু প্রাণ কান্ত, শ্রান্ত ক্লান্ত এবে আমি।

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

09/05/2026

Tattwagnan Sadhana

জন্মোৎসব, ২০১৬

সত্যধর্ম-সম্প্রদায় হইতে শ্রী মিহির নাথ সেনগুপ্ত কর্তৃক, ১৭ই আষাঢ়, ১৯৩৩, ১ম সংস্করণ প্রকাশিত।

১ম সংস্করণ হইতে সত্য-ধৰ্ম্ম ট্রাস্ট কার্য্য নির্বাহক সমিতির পক্ষে শ্রী নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস, চেয়ারম্যান, কর্তৃক বর্তমান সংস্করণ প্রকাশিত।

মহাত্মা গুরুনাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্র (প্রচার কেন্দ্র) মহাত্মা নিবারণ নগর, পায়রাগাছি (পালপাড়া) পোঃ সলুয়া, থানা-হাবড়া, পিন-৭৪৩ ২৬৩ উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ।

©: সত্য-ধর্ম ট্রাস্ট

Regd. No. IV-19030571 / 32015

Phone: 9432204616, 89105 21559 7278684424

নিবন্ধন অফিস:

ঠিকানা: ১০৭ সুকান্ত পল্লী, পোঃ আগড়পাড়া, কোলকাতা ৭০০ ১০৯

প্রাপ্তিস্থান:-

১। শ্রী নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস

১০৭ সুকান্ত পল্লী, আগড়পাড়া

কলকাতা-৭০০১০৯, ফোন: ৯৪৩২২ ০৪৬১৬, ৮৯১০৫ ২১৫৫৯, ৭২৭৮৬ ৮৪৪২৪
০৩৩-২৫৯ ৫০০৯৮

২। সত্য-ধৰ্ম্ম সম্প্রদায়, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত উৎসব এবং সকল উপাসনা ক্ষেত্র।

মূল্য: ১৫০ টাকা মাত্র

মুদ্রাকর: বিভূতি প্রিন্টিং ওয়ার্কস্, ৩১/১এ নবীনচাঁদ বড়াল লেন কোলকাতা-৭০০০১২
ফোন: ২২১৯৬৮৩৮, ৯৮৮৩১৩৯৬২৩

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

09/04/2026

ওঁং
তত্ত্বজ্ঞান

দ্বিতীয় খণ্ড

সাধনা

সত্যধৰ্ম্ম-প্রকাশক

মহাত্মা গুরুনাথ সেনগুপ্ত কবিরত্ন

কর্তৃক প্রণীত

কলুষানলদগ্ধানাং শান্তয়েহমৃতবারিভিঃ।

প্রকাশ্যতে সত্যধর্ম্মো মুক্তয়ে মুক্তিকাঙিক্ষণাম্।।

: প্রকাশনায়:

সত্য-ধৰ্ম্ম ট্রাস্ট

আগড়পাড়া

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

09/03/2026

১৮৪

দিতে হইলেও গানদ্বারাই প্রায় উত্তর দান করেন, সেই অবস্থাকেই গানময়ী অবস্থা কহে। এতদবস্থাপন্ন সাধক অধিকাংশ সময়ই গান করিয়া থাকেন। স্বর-বোধ বা রাগ-রাগিনী-জ্ঞান, অথবা তাল-বোধ না থাকিলেও তাহার গানের বিরতি হয় না। এই মহতী অবস্থা লাভ করিতে হইলে নিরন্তর স্বর-সংযোগে পরমপিতার গুণকীর্তন করা কর্তব্য। পরে নিরন্তর অনুশীলন-প্রভাবে উক্ত অবস্থা স্বাভাবিক অবস্থার ন্যায় যখন হয়, তখনই প্রকৃতপক্ষে গান-ময়ী অবস্থা ঘটে।

ভাবী-জ্ঞানময়ী অবস্থায় ভবিষ্যতে কি হইবে, তাহা জানা যায়। এই মহীয়সী অবস্থা লাভ করিতে হইলে ভক্তিভরে বহুকাল ধ্যান-নিমগ্ন থাকিতে হয়। এই রূপে বহুদিন গত হইলে, এই দুর্লভ অবস্থা অনায়াসে লব্ধ হয়।

দূরদর্শন-ময়ী অবস্থায় সাধক কোন স্থানে বসিয়া তাহার দূরবর্তীস্থানের বৃত্তান্ত দর্শন করিতে পারেন। এই অবস্থা লাভ করিতে হইলেও প্রথমে প্রগাঢ় ভাবে ধ্যান-নিমগ্ন থাকিতে হয়। ইহার ও ভাবী-জ্ঞানময়ী অবস্থার অন্যান্য সাধনা-বিবরণ, সাধনা নামক দ্বিতীয় খণ্ডের 'গুণসাধনা' প্রকরণে উল্লিখিত হইবে।

প্রেমময়ী অবস্থায় সাধক নিরন্তর প্রেমভাবে পূর্ণ থাকেন। জগদীশ্বরের নাম উচ্চারণ-মাত্র তদীয় গদগদ ভাব, অশ্রুপাত ও রোমাঞ্চাদি লক্ষণ সমূহের উদ্ভব হয়। এই অবস্থাই পূর্ব্বোক্ত অবস্থা-চতুষ্টয়ের মধ্যে সর্ব্বপ্রধান। এই মহিষ্ঠা অবস্থার উৎপত্তি বা প্রাপ্তি একমাত্র প্রেম-সাধনা-প্রভাবেই সংঘটিত হয়। এতদবস্থান্বিত মহাত্মা সাধকের দর্শনে সর্ব্বপাপ-ক্ষয় হয় এবং শত শত কূটতর্কের সদ্যই মীমাংসা হইয়া থাকে। ফলতঃ, এই মহিষ্ঠা, গরিষ্ঠা, সর্ব্বশ্রেষ্ঠা অবস্থার বর্ণনা করা একান্ত অসাধ্য। এই অবস্থায় উপনীত সাধকগণ যেমন স্বয়ং মুক্ত হইতে পারেন, তেমনই অন্যকেও মুক্ত করিতে পারেন। কিন্তু জগতের নিতান্ত দুর্ভাগ্য যে, উক্ত অবস্থাপন্ন সাধকগণ অবিশ্বাসী পাপাত্মাদিগের নিকটে প্রায়ই স্বীয় অবস্থা গোপন করেন। যদি বিশ্বাসের কণামাত্র থাকে, যদি বর্তমান অবস্থায় পাপ হইতে মুক্ত হইতে অভিলাষ থাকে, এবং যদি জন্মজন্মার্জিত পাপ-রাশির, অনলসংযোগে তুলারাশির ন্যায়, ভষ্মী-করণে বাসনা থাকে, তবে ঐরূপ অবস্থাপন্ন সাধককে আত্মসমর্পণ দ্বারা পরম কারুণিক পরমেশ্বরে আত্ম-সমর্পণ-করা, প্রত্যেক মানবেরই যে অবশ্য কর্তব্য, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই।

ওঁং

সমাপ্ত

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

09/02/2026

১৮৩

বরঞ্চ যাঁহারা প্রভাতে ও সায়ংকালে ঐরূপ প্রার্থনা করেন, তাঁহাদিগের পক্ষে উহার কোনও প্রয়োজন লক্ষিত হয় না।

এক্ষণে উপাসনা-পদ্ধতি সংক্ষেপে লিখিত হইতেছে।-

১ম-ধর্ম্মের শ্রেষ্ঠতা-সূচক সঙ্গীত।

২য়-নির্ব্বেদ-জনক সঙ্গীত।

৩য়-মনের প্রতি বা জনের প্রতি সম্ভাবপূর্ণ সঙ্গীত।

প্রকারে) ৪র্থ-গুণকীর্তন (সাধারণ কথায়, স্তবে, বা গানদ্বারা, অথবা ঐ তিন

৫ম-স্বীয় পাপের উল্লেখ ও তজ্জন্য আত্মগ্লানি-ভোগ।

৬ষ্ঠ-পাপ হইতে মুক্তির জন্য প্রার্থনা।

৭ম-গুণের জন্য প্রার্থনা।

৮ম-ধ্যান।

৯ম-দীক্ষা-বীজ-জপ (এস্থলে বক্তব্য এই যে, গুণকীর্ত্তনের পূর্ব্বেও দীক্ষাবীজের অন্ততঃ তিনবার উচ্চারণ অত্যাবশ্যক। এবং ধ্যানের পরে অন্ততঃ বিংশতিবার জপ করা কর্তব্য। কেহ কেহ সহস্র, দশ সহস্র ও লক্ষবারও জপ করিয়া থাকেন)।

১০ম-জগদীশ্বরের কৃপাময়ত্ব সম্বন্ধে স্তব বা গান।

১১শ-জগদীশ্বরের আনন্দময়ত্ব-সম্বন্ধে স্তব বা গান।

১২শ-স্তব বা গান দ্বারা জগদীশ্বরের প্রেমানন্দময়ত্ব সম্বন্ধে উল্লেখ পূর্ব্বক ধন্যবাদ দান।

অবস্থা-চতুষ্টয়

জগদীশ্বরের উপাসনা-সম্বন্ধে এ পর্যন্ত যাহা যাহা বলা হইয়াছে, সাধারণের পক্ষে তৎসমুদায় যথেষ্ট হইলেও অপর একটা বিষয় এস্থলে নির্দেশ করা একান্ত বিধেয়। উচ্চশ্রেণীর সাধকগণের মধ্যে গানময়ী, ভাবি-জ্ঞান-ময়ী, দূরদর্শন-ময়ী, এবং প্রেম-ময়ী-এই চারিটী অবস্থা দৃষ্ট হয়। সুতরাং উচ্চশ্রেণীর সাধক হইতে হইলে উক্ত অবস্থা-চতুষ্টয়ের মধ্যে কোনও একটী বা একাধিক অথবা সমস্তগুলি হওয়া নিতান্ত আবশ্যক। একারণ ঐ অবস্থা-চতুষ্টয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে লিখিত হইল।

যে অবস্থায় সাধক নিরন্তর গুন্ গুন্ করিয়া জগদীশ্বরের গুণরাশি গান করেন, প্রার্থনাই বল, বা গুণকীর্তনই-বল, কিংবা স্বকীয় পাপোল্লেখই বল, সর্ব্বাবস্থায় গান করিয়াই উদ্দেশ্য সাধন করেন, আর কোনও বিষয়ের উত্তর

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

09/01/2026

১৮২

ব্যাপার সুসম্পন্ন করা যাইতে পারে। ইহাদিগের মধ্যে নিষ্পাপ ও স্থিরচিত্ত দিগের পক্ষে ধ্যানই প্রশস্ত। কিন্তু যাহারা পাপী ও চঞ্চলচিত্ত, তাহাদিগের পক্ষে গানই সর্ব্বপ্রধান উপাসনোপায়। তাহাদিগের পক্ষে ধ্যান হইতে গানই প্রকৃষ্ট। এ বিষয়ে শাস্ত্রেও উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। যথা-

ধ্যানাৎ পরতরং জ্ঞানম্ জ্ঞানাৎ পরতরো জপঃ।
জপকোটি-সমং গানম্ গানাৎ পরতরো নহি।।

-অর্থাৎ জ্ঞান ধ্যান হইতে শ্রেষ্ঠ; জপ জ্ঞান হইতে এবং গান কোটি সংখ্যক জপ হইতেও শ্রেষ্ঠ। আর গান হইতে শ্রেষ্ঠতর আর কিছুই নাই।

উল্লিখিত মতের সর্ব্বাংশ আমাদিগের অনুমোদিত ও অভিপ্রেত না হইলেও ইহা নিশ্চিত যে উপাসনা গান-যোগে যেরূপ হয়, এরূপ আর অন্য কিছুতেই হইতে পারে না। এই হেতু-বশতঃ উপাসনা-কালে গান করিবার জন্য মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্যও অনুমতি করিয়াছেন।

প্রাতঃকালে উপাসনা করিতে বসিয়া এই বিশেষ প্রার্থনা করিবে, যে,-

অনন্ত করুণাম্ভোধে যাপয়িতু মিদং দিনম্। তব প্রীতিকরতেন শক্তঃ স্যামিতি কাময়ে।।

অনন্ত করুণা সিন্ধু পারি যেন আমি তব প্রীতিকর ভাবে যাপিতে এদিন, করিয়াছি বাসনা এই জগতের স্বামী নিজগুণে কর দয়া যাচে দীন হীন।

সায়ংকালের বিশেষ প্রার্থনা

অনন্তকরুণাম্ভোধে যাপয়িতু মিমাং নিশাম্। তব প্রীতিকরত্বেন শক্তঃ স্যামিতি কাময়ে।।

অনন্ত করুণা-সিন্ধু যেন আমি পারি, তব প্রীতিকর ভাবে যাপিতে শব্বরী, এদীনে, হে দীননাথ, দিননাথ প্রায়

নিজগুণে কর দয়া যাচি হে তোমায়।

অন্য কোনও সময়ে এরূপ বিশেষ প্রার্থনা না করিলেও চলিতে পারে।

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

08/31/2026

১৮১

পাপমুক্তির নিমিত্ত প্রার্থনা করায় বাধা নাই বটে, কিন্তু উহাতে সবিশেষ ফল হয় না।

স্বীয় পাপের উল্লেখ-সময়ে প্রথমে জ্ঞানকৃত পাপের, পরে অজ্ঞানকৃত পাপের এবং সর্ব্বশেষে পূর্ব্বজন্মার্জিত পাপ হইতে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করিবে। জ্ঞানকৃত পাপের মধ্যে যেগুলি তখন মনে পড়িবে, তৎসমুদায়ের জন্য সর্ব্বাগ্রে প্রার্থনা করা একান্ত কর্তব্য। এস্থলে ইহাও বলা আবশ্যক যে পাপের মূলীভূত কাম-ক্রোধাদি-নিবৃত্তি-নিমিত্তও ঐ সময়ে প্রার্থনা করা বিধেয়।

প্রার্থনা

প্রার্থনার কর্তব্যতা পূর্ব্বে নির্দিষ্ট হইয়াছে। প্রার্থনাকারী যতই একাগ্রচিত্তে ও সাগ্রহ ভাবে প্রার্থনা করিবেন, প্রার্থনীয় বিষয়ের অভাব-জন্য যতই ব্যাকুল হইবেন এবং হৃদয় যতই আর্দ্র হইয়া ঈশ্বরাভিমুখী হইবে, ততই সহজে প্রার্থনা পূর্ণ হইতে পারিবে। একাগ্রচিত্ততা, সাগ্রহ ভাব ও প্রার্থনার প্রগাঢ়তা-নিবন্ধন কত শত মহাপাপী ঘোরতর আত্মগ্লানি-দহনে দগ্ধ হইয়া এক দিবসের মধ্যেও পাপমুক্ত হইয়াছে। এ বিষয়ে দর্শন শাস্ত্রোক্তা পিঙ্গলানাম্নী বারবনিতার সদ্যোমুক্তি পরম দৃষ্টান্ত।

পাপমুক্তির জন্য প্রার্থনা করার পরে যখন পরম পিতার করুণায়, কৃত পাপ হইতে মুক্তিলাভ হয়, এবং মুক্তির ফলস্বরূপ শান্তি বা সুনির্মল আত্মপ্রসাদ উপস্থিত হয়, তখন করুণাময়কে ধন্যবাদ-প্রদান-পূর্ব্বক পুনরায় গুণকীর্ত্তন করিতে হয়। এই বারে যখন হৃদয় আর্দ্র হয় তখন প্রেমাদিগুণের মধ্যে যে গুণটির অভাব প্রতীয়মান হয়, তাহার জন্য প্রার্থনা করা কর্তব্য। একেবারে সকল গুণের জন্য প্রার্থনা করিতেও বাধা নাই। কিন্তু প্রেম কামনাতীত; একারণ, একাসনে একেবারে অন্য গুণের সহিত প্রেমের জন্য প্রার্থনা করা বিধেয় নহে।

নিষ্পাপ মহাত্মারা কোনও কারণে পাপস্পৃষ্ট হইলে একমাত্র গুণকীর্ত্তন দ্বারাই পাপমুক্ত হইতে পারেন। কিন্তু পাপাচরণ-শীলদিগের পক্ষে তাহা অসাধ্য। অতএব তাহারা পূর্ব্বোক্ত নিয়মে গুণকীর্ত্তন ও প্রার্থনা করিবে।

পূর্ব্বে যে পঞ্চবার উপাসনার ব্যবস্থা করা হইয়াছে, তাহা যেন অন্ততঃ ৩ ঘন্টা সময় ব্যাপিনী হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন অন্ততঃ ৩ ঘন্টা সময় ব্যাপিয়া যেন উপাসনা সম্পন্ন হয়।

পূর্ব্বে উল্লিখিত হইয়াছে যে উপাসনা সাধারণ ভাষায় বা স্তোত্র দ্বারা অথবা সঙ্গীত সহযোগে করা যাইতে পারে। অথবা ধ্যান করিয়াও উক্ত মহান্

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

08/30/2026

১৮০

জাতি-ভেদ নাই, অর্থাৎ বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণই যে কেবল ইহাতে অধিকারী, এমত নহে। মূর্দ্ধাভিষিক্ত ও অন্বষ্ঠ-নামক ব্রাহ্মণগণ, কি ক্ষত্রিয়বর্গ, কি বৈশ্য-সমূহ, কি শূদ্র, কি মহাশূদ্র, কি নিরবসিত শূদ্র, কি অন্যান্য জাতি সকলেই এই উপাসনায় তুল্যরূপে অধিকারী। কেহ কেহ বলেন যে প্রথমে দেব-দেবীগণের উপাসনা করিয়া ভক্তি-সঞ্চয় হইলে, পরে ঈশ্বরোপাসনা বিধেয়। এমতও যুক্তিসিদ্ধ নহে। যদি ভক্তি ও তদ্‌গুণ-জাত অন্যান্য গুণের বৃদ্ধির নিমিত্ত কল্পিত দেব-দেবীগণের উপাসনার প্রয়োজন বোধ কর, তবে ঐ কল্পিত দেবদেবীগণ-পরিত্যাগ-পূর্বক সাক্ষাৎ দৃশ্যমান দেব দেবীর অর্থাৎ মাতা, পিতা ও গুরুদেবের প্রতি ভক্তি করাই কর্তব্য। কিন্তু সাবধান, কদাচ তাহাদিগকে অনন্ত-স্বরূপের স্থানীয় বোধ করিওনা। স্বভাবের নিয়ম পর্যালোচনা করিলেও বোধ হইবে যে, প্রথমে মাতার, পরে পিতার এবং সর্ব্বশেষে গুরুর প্রতি ভক্তি করিয়াই আমরা ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি করিতে শিক্ষা করিয়া থাকি। যদি দুর্ভাগ্যবশতঃ, স্নেহবারিসেকের অভাবে মাতা পিতার প্রতি ভক্তি করিতে সমর্থ না হও, তবে সর্ব্বপাশবিনির্মুক্ত, নিস্পৃহ গুরুদেবের প্রতি ভক্তি করিয়াও ভক্তিগুণ অর্জন করিতে পার এবং শেষে ঐ ভক্তি-প্রভাবে ঈশ্বর-ভক্তি লাভ করিতেও সমর্থ হও। এ বিষয়ের অন্যান্য অংশ 'ভক্তি' প্রবন্ধে দেখ।

পাপোল্লেখ

পরম পিতার গুণ-কীর্ত্তনের পরে স্বীয় পাপের উল্লেখ করিতে হয়। হে উপাসক। তুমি স্বীয় পাপ অন্যের নিকটে বল, বা না বল, জগদীশ্বরের নিকটে স্বমুখে উল্লেখ করিও, তাহা হইলে দেখিতে পাইবে যে, তখনই তোমার আত্মগ্লানি উপস্থিত হইবে। ঐ আত্মগ্লানি-প্রভাবেই তুমি অগ্নিদগ্ধ স্বর্ণের ন্যায় মলিনতা শূন্য হইতে পারিবে।

পাপোল্লেখের কর্তব্যতা বিস্তৃতরূপে ইতঃপূর্ব্বে উল্লিখিত হইয়াছে। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসু ব্যক্তিগণ আত্মতত্ত্বের উপাসনা নামক এই প্রথম খণ্ডের প্রথমাধ্যায়েই উহা পাঠ করিয়াছেন, এজন্য এস্থলে আর পুনরুল্লেখ করা গেল না।

পাপোল্লেখ-সময়েও গুণকীর্তনে বিরত হইবে না। তৎকালে যেমন পাপোল্লেখ করিবে, অমনই তৎ সঙ্গে সঙ্গে পরমপিতার করুণারাশিরও উল্লেখ করিতে থাকিবে।

গুণকীর্তন-সহকৃত পাপোল্লেখ সম্পাদিত হইলে, যখন আত্মগ্লানি উপস্থিত হইবে, তখন পাপ হইতে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করিবে। আত্মগ্লানি না হইলে

মহাত্মা গুরুনাথ (১৮৪৭-১৯১৪)
শুভ সকাল

Address

Ram Chandra Biswas Street
La Habra Heights, CA

Telephone

+918910521559

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Satya Dharma Sampraday posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Satya Dharma Sampraday:

Shortcuts

Share