02/18/2025
ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতির বুদ্ধ সাসন সেবায় অবদান ঃ (৬ষ্ঠ পর্ব )
***************
আমার গুরুদেব এবং দ্বাদশ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মসেন মহাথেরোর মুখে যতটুকু শুনেছি ; সেই সাথে নিজেও ১৯৭১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রাংকূটের বিস্তীর্ণ জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা ঘুরে ঘুরে যতটুকু প্রতীয়মান হয়েছে ; এই রাংকূট আসলে সুপ্রাচীন জনবসতিপূর্ণ এক এলাকা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক উপন্যাস গ্রন্থ রাজর্ষী এবং হিউয়েন সাঙ এর ভারত ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ দুই পড়লে অনায়াসে রাংকূটের একটি মানচিত্র আঁকা যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল মাবুদ খান, চট্টগ্রামের ইতিহাস নিয়ে মাহবুব আলম প্রমূখ আরো কিছু লেখকের তথ্য সন্ধানে এবং প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্য গবেষক জাতীয় অধ্যাপক ডক্টর এনামূল হক, জাতীয় অধ্যাপক ডক্টর আনিসুজ্জামান সহ অন্যান্যদের দ্বারা আরকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চার উপর লেখা গ্রন্থ গুলোর পাশাপাশি , বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন মহাপরিচালক ডক্টর মুহাম্মদ গফুর প্রমূখদের সরেজমিন তদন্ত রিপোর্ট, এবং আরাকান রাজবংশের ইতিহাস “ ধাঁঈয়া ওয়াদি রাজেয়াইং “ (ধন্যবতী রাজবংশ) নামক গ্রন্থ টি পর্যালোচনা করলে রাংকূট সহ চট্টগ্রামের পুরো দক্ষিণ অঞ্চলের এক প্রমাণ্য ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যাবে । বৃটিশ সার্ভে ( আর এস ) এর তথ্য অনুসারে রাংকূট ছিল আরাকান সম্রাজ্যের সামন্ত রাজ্য “ রম্মওয়াদি” (রম্যবতী)র রাজধানীর রাজভবন ও সেনানিবাস । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই তথ্যটি তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস রাজর্ষীতে ব্যবহার করেছেন । বৃটিশ সরকারও রাংকূট এলাকাটি সেনা ঘাঁটী হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে ব্যবহার করেছিলেন । আর এখন বাংলাদেশ সরকারও তা একই কাজে ব্যবহার করছেন । আরাকান পর্বতমালা থেকে নেমে আসা বাঁকখালি নদীর দক্ষিণ তীরের এই পাহাড়ি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নাম তাই রাজার কুল নামে পরিচিত। এসকল তথ্যের আলোকে আমার লেখা “ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সন্ধানে রাংউ রাংকূট” নামক গ্রন্থটি রচিত হয়েছে।
১৮৬৪ খৃস্টাব্দের পরবর্তী কালে ১৯৮৬ র দিকে পটিয়া উপজেলার বড়ুয়া জাতির তীর্থ উনাইনপুরা গ্রামের সন্তান কোলকাতায় কবিরাজী চিকিৎসা জীবিকায় নিয়োজিত চন্দ্র মোহন বড়ুয়া শ্রীলংকার রামাইয়া নিকায়ের প্রতিষ্ঠাতাগণের সাথে সাক্ষ্যাত হয় ।কোলকাতা হতে তাঁদের পথ নির্দেশক রূপে চন্দ্রমোহনও আকিয়াবে গমণ করেন । তাঁরা গদুভাঙা নদীর তীরবর্তী সংঘরাজ বিহারে উপস্থিত হয়ে ধর্ম বিনয় শিক্ষা করেন এবং সংঘরাজ সারমেধ মহাস্থবিরের নিকটে আমাদের সন্তান চন্দ্র মোহন সহ সবাই ভিক্ষুত্ব বরণ করেন। তখন চন্দ্রমোহনের নামাকরণ হয় পূর্ণাচার । অতঃপর তাঁরা সকলে শ্রীলংকায় গমণ করে রামাঞ নিকায় প্রতিষ্ঠা করেন । শ্রীলংকার গৌরবনীয় এই নিকায় প্রতিষ্ঠাতাদের একজন আমাদের সন্তান ; কতো বড়ো গৌরবনীয় তা আপনি যেকোনো শ্রীলংকাবাসীকে জানালে প্রতিক্রিয়ায় বুঝবেন । ভদন্ত পূর্ণাচার ভিক্ষু(চন্দ্রমোহন), ভদন্ত কৃপাশরণ এই দুই যুগপুরুষের জন্ম ধন্য ঊনাইনপুরাকে তাই আমি বড়ুয়া জাতির তীর্থ বলছি ।
আমি উল্লেখেখিত ঐতিহাসিক তথ্য ২০১৩ খৃস্টাব্দে আমার শ্রীলংকা মিশনের অন্যতম শিক্ষার্থী ডক্টর দেবমিত্রকে ( কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক) সাথে নিয়ে শ্রীলংকার পানাদুরা সদ্ধর্মোদয় পিরিবেনের পাঠাগার থেকে উদ্ধার করেছি । চট্টগ্রাম থেকে ভদন্ত প্রজ্ঞালোক , জ্ঞানীশ্বর, বংশদীপ, উপ সংঘরাজ গুণালংকার, আর্যলংকার, সংঘরাজ পন্ডিত ধর্মাধার,শীলানন্দ ব্রম্মচারী, ডক্টর জিনানন্দ প্রমূখ আমাদের যত সন্তান মহাপন্ডিত উপসেন মহানায়কের সান্নিধ্যে এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেছেন; তাঁদের সবার নাম এই গ্রন্থে উল্লেখ আছে । সেখানের এই ঐতিহাসিক দলিলে চন্দ্রমোহন কে “ চন্দ্রমোহন বরুয়া বেজ্জবরু” মানে বড়ুয়া বৈদ্যবর লিখা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি কোলকাতায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
আমাদের গৌরবনীয় এই সন্তানই বাংলার মাটিতে তৎ গুরু সংঘরাজ সারমেধ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আধুনিক শিক্ষা ও সভ্যতার আলোকে ধর্ম বিনয়ে সুশিক্ষিত এক শক্তিশালী ভিক্ষু সংঘের জন্ম দান করণে মহামুণি পাহাড়তলী এবং কানাইনমাদরি গ্রামে ভিক্ষুদের পালি ভাষা ও ধর্ম বিনয় শিক্ষার আয়োজন করেন । আর সেই সংঘের নাম হয় সংঘরাজ ভিক্ষু সংঘ । এই সংঘের গুণী ভিক্ষুরা বাংলা ভাষায় সমগ্র ত্রিপিটক অনুবাদের দায়িত্ব পালন সহ ভারত বাংলায় একটি আদর্শ বৌদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে কালজয়ী সাফল্য অর্জনে সক্ষম হন । তন্মধ্যে ভদন্ত কৃপাশরণ এশিয়ার প্রথম ডি লিট ডক্টর বেণীমাধব বড়ুয়ার সৃষ্টি , এবং সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে চট্টগ্রামের প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় মহামুনি পালি এ্যংলো হাই স্কুল , কানুনগো পাড়ার স্যার আশুতোষ কলেজ, পটিয়ার রাহাতালী হাইস্কুল , রাঙ্গুনিয়া হাইস্কুল এর জন্মদাতা এই কৃপাশরণ ।রেঙ্গুনে বৌদ্ধ মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংঘ শক্তি পত্রিকা সহ পালি পিটকীয় গ্রন্থের বাংলায় অনুবাদে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগক্তা ভদন্ত প্রজ্ঞালোক, ভদন্ত বংশদীপ, ভদন্ত জ্ঞানীশ্বর, ভদন্ত দার্শনিক বিশুদ্ধানন্দ, ভারতীয় সংঘরাজ পন্ডিত ভদন্ত ধর্মাধার, কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভদন্ত পূর্ণানন্দ স্বামী, ভদন্ত শীলানন্দ ব্রম্মচারী,বেনারস বিশ্ববিদ্যালযের অধ্যাপক ডক্টর অনেমদর্শী , দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর জিনানন্দ , সেবাসদনের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ, পন্ডিত সুগতবংশ , দশম সংঘরাজ পন্ডিত জ্যোতিপাল, বিনয়াচার্য জিনবংশ , পিটকীয় উদানং গ্রন্থের অনুবাদক জ্যোতিপাল,রাজগুরু ধর্মরত্ন, অখিলভারতীয় সংঘনায়ক ভদন্ত আনন্দমিত্র, ভদন্ত গুণালংকার, ভদন্ত রাজগুরু ধর্মরত্ন ,জগজ্জোতি পত্রিকার সম্পাদক কবি গুণালংকার ,খুদ্দক নিকায়ের উদান গ্রন্থ অনুবাদক কবি প্রজ্ঞাজ্যোতি, ভদন্ত সুগতবংশ, দশম সংঘরাজ ভদন্ত জ্যোতিপাল ও ত্রয়োদশ সংঘরাজ ভদন্ত জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরদের লেখনি ও শিক্ষা উন্নয়নে বিশাল অবদান এবং তাঁদের গুরু আরাকানী তাদুমাং পুঁথি নামক বুদ্ধের জীবন গ্রন্থের অনুবাদক ও সমাজ সংস্কারক উপ সংঘরাজ ভদন্ত গুণালংকার অন্যতম।
অপরদিকে বহু সমৃদ্ধ লেখক অনুবাদক ,সাধক ও সমাজ সংস্কারক শিষ্য সংঘের জন্মদাতা মহা সাধক সাধনানন্দ(বন ভান্তে ), বহু গুণী সাধক গবেষক লেখক ও অনুবাদক শিষ্যের জন্মদাতা বিদর্শনাচার্য ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি, জাতীয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সংগঠণ প্রতিষ্ঠান ও বহু শিষ্য প্রশিষ্যের জন্মদাতা , সমগ্র পালি ত্রিপিটক বাংলায় অনুবাদে শত বছরের প্রচেষ্টার সফল সমাপ্ত করণের কর্ণধার ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ সহ বহু সংখ্যক অনুবাদক গবেষক আর ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক ভিক্ষু ব্যক্তিত্বের সৃষ্টি হয় এই সংঘরাজ ভিক্ষু সংঘে।
১৮৬৬ খৃস্টাব্দের দিকে ভদন্ত পূর্ণাচার আরাকানের সংঘরাজ বিহারের পাঠাগার থেকে সন্ধান পেয়েছিলেন রাংউর রাংকূট , চকরিয়ার মানিকপুর, পটিয়ার চক্রশালা ও ঠেগরপুণি সহ সাতকানিয়ার চেঁদিরপুনি চৈত্যের ।
গুরু পূর্ণাচারের নির্দেশেই শিষ্য জগতচন্দ্র স্থবির রামুর স্বনামধন্য জ্ঞাতীপুত্র মতিসিং মহাজনের সহায়তায় এই রাজারকুলের গভীর জঙ্গলে সুপ্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থ রাংকূটের সন্ধান লাভ করেন। ভদন্ত জগৎচন্দ্র মাহাস্থবির আজীবন এই রাংকূটে অতিবাহিত করলেও বিস্তর প্রতিকুলতার শিকার হন প্রভাবশালী জ্ঞাতী মতিসিং মহাজনের মৃত্যুর পর।
দুর্ভাগ্য ক্রমে মতিসিং মহাজনের অনুমতি নিয়ে এক হিন্দু সন্যাসী রাংকূটের একটি জরাজীর্ণ বুদ্ধ মন্দিরে আশ্রয় নেন । মতিসিং মহাজনের মৃত্যুর পর সাধু সুযোগ বুঝে সেখানে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার পর রাংকূটের সকল বুদ্ধ মন্দির দখলের উদ্দেশ্যে রামু থানায় বদলী হয়ে আসা হিন্দু দারোগাকে দিয়ে ভদন্ত জগৎচন্দ্র মহাস্থবির কে রাংকূট থেকে বের করে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। সন্যাসীর এই গোপন পরিকল্পনা জগতচন্দ্র মহাস্থবির জানতে পেরে তিনি রাতের অন্ধকারে বড়মন্দিরে থাকা পাথরের বড় বুদ্ধ মূর্তিটি কোমর বরাবর মাটির গর্তে বসিয়ে উপরে সিমেন্ট ঢালাই করে দেন । উদ্দেশ্য ভদন্তকে রাকূট হতে বহিষ্কার করলেও বুদ্ধ মূর্তিটি যেন সরাতে না পারে। ১৯৭১ এ আমার গুরুদেব ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথেরো আমাকে সেই ঢালাই এর চিহ্নিত প্রদর্শন করেন । তিনি ১৯৬৬ খৃস্টাব্দে রাংকূটে অবস্থান শুরু করার পর রাউজান নোয়াপাড়া হতে মূর্তি নির্মাতা শিল্পী ব্রম্মদত্ত আচার্যকে নিয়ে এসে প্রাচীন সেই পাথরের মূর্তিটির উপরেই নতুন করে সিমেন্ট ঢালাই করে বর্তামান প্রাবন্ত স্নিগ্ধ আভার মনোরম মূর্তিটি নির্মাণ করেন ।
ভদন্ত প্রজ্ঞাজোতি মহাথরো রাংকূটকে নিয়ে এক বিশাল স্বপ্ন দেখতেন । ভদন্তের অগাধ বিশ্বাস ছিল এই রাংকূটের প্রাচীন বেলে পাথরের বড়ো বুদ্ধ মুর্তিটি নিয়ে বুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী আছে । বুদ্ধ বংশ ও ধাতুবংশ নামক ঐতিহাসিক গ্রন্থ দ্বয় এবং আরাকান রাজবংশের ইতিহাস গ্রন্থ “ ধাঈয়াওয়াদি রাজোয়াইং “ নামক গ্রন্থ সহ চট্টগ্রাম সম্পর্কিত প্রায় সব কটি ইতিহাস গ্রন্হ প্রায় সময় তাঁর সম্মুখে টেবিলের উপর থাকতো। তিনি আরো বিশ্বাস করতেন এই রাংকূটে একদিন শত শত ভিক্ষু ধর্ম বিনয় শিক্ষা গবেষণা করবেন ‘ ধ্যান সমাধিতে সমৃদ্ধ হয়ে সমগ্র ভারত বর্ষে অতীতের বৌদ্ধ ভারত আবার ফিরিয়ে আনবেন। তিনি বলতেন এমন একটি বিশাল সংঘারাম প্রতিষ্ঠার আর্থিক যোগান অলৌকিক ভাবেই পাওয়া যাবে । কারণ এই রাংকূটে সেজন্যে অনেক গুপ্তধন বিদ্যমান আছে। তিনি এসকল কথা বলতে বলতে অনেক সময় ভয়ানক আবেগে আমাকে রাংকূটের বড়ো বুদ্ধ মূর্তির পাদদেশে মাথা ঠেকিয়ে শপথ করাতেন ; আমি যেন কখনো রাংকূট ত্যাগ না করি । আমিও গুরুদেবের মুখে মুখে বলতে বাধ্য হতাম । শুনেছি তিনি অধ্যাপক জ্যোতিষ বাবু , অধ্যাপক ডক্টর পিন্টু মুৎসুদ্দি প্রমূখ শিষ্যগণকেও এমন শপথ করাতেন । এ প্রসঙ্গে অনেক হাস্যকর কাণ্ডও আছে। একে একে তারা সবাই রাংকূট ত্যাগ করেছেন । স্বয়ং নিজেও এই রাংকূটের ভূমি রক্ষায় ভূমি দসুদের হাতে বার বার জীবন হুমকির শিকার হয়ে একবার জীবন রক্ষার্থে রামু সীমা বিহারে আশ্রয় নিলে সেখানেও চরম অবমানার শিকার হন। এমতাবস্থায় ১৯৯০তে আমি গুরুদেব কে বাঁধ্য করেছি রাকূট ত্যাগ করে আমার সাথে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান করার জন্যে। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে দীর্ঘ পাঁচ বছর অবস্থানের পর আমার মানব কল্যাণ কর্মে সহযোগী জার্মান বুড্ডিস্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খৃস্টা বেনটেন রাইডার প্রদত্ত অর্থে ভূমি ক্রয়ের পর সেখানে মহামুণি পাহাড়তলী অরণ্যে বিদর্শন ধ্যানকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। আর সেখানেই গুরুদেবের অন্তিম দিনগুলো ২০০৬ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত অতিবাহিত হয় । পরম কল্যাণ মিত্র গুরুদেব আজ আর নেই ; কিন্তু আমি এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি রাংকূট রক্ষায় আমাকে করানো শপথটি পালন দ্বারা গুরুপূজা করতে। তাতে আমিও ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত নিজের জীবন বিপন্ন করে এই রাংকূটের অবশিষ্ট ভূমি যাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকদের কেহই অন্য কোন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে যেন হস্তান্তর করতে আর না পারেন সেই নিরাপত্তাটি ব্যরিষ্টার মওদুদ আহমেদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আদায় করেছি। রাংকূট রক্ষার যুদ্ধে ইহাই আমার শান্তনা। (চলবে )