10/06/2021
📖গ্রহদোষ কি এবং তার কারন? গ্রহদোষ মুক্ত হওয়ার উপায়🔰🔰----
সূর্যগ্রহণ চন্দ্রগ্রহন গ্রহ নক্ষত্র দোষের দিন। পালি সংস্কৃতি সাহিত্যে চন্দ্র সূর্যসহ সকল নক্ষত্রের দোষকে অশুভ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বুদ্ধের মহাশ্রাবক আঙ্গুলিমালার পূর্বের নাম ছিলো আহিংসক, জ্যেতিষীর ভবিষ্যত গননা করে দেখতে পেয়েছিলেন এই শিশু যেমন তীক্ষ্ণ জ্ঞানী-গুনী হবে, জম্মের সময় নক্ষত্র দোষের কারণে নরঘাতক হবে। তাই শিশুটির নাম অহিংসক রেখে নরঘাতক না হওয়ার জন্য উপযুক্ত গুরু নির্বাচন করা হলো যেন সুশিক্ষা পাই। আঙ্গুলিমাল এত পারমীবান হওয়ার সত্ত্বেও নক্ষত্র দোষকে অতিক্রম করতে পারেনি।
অামাদের বোধিসত্ত্ব ভাবিবুদ্ধ জম্মের সময় গ্রহ নক্ষত্র দোষের কারণে দুষ্টজম্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তার উদাহরণ অনেক জাতকে পাওয়া যায়। পক্ষী জাতকে বোধিসত্ত্ব চোরের দলপতি হয়েছিলেন মাঝে মাঝে তিনি সাধুতা করুনা ও মহানুভবতার পরিচয় দিতেন।
ভিক্ষু সংঘ পরিত্রাণ পাঠের সময় রাজাতোবা, চোরাতোবা,মানুষ্যতোবা, অমানুষ্যতোবা, নক্ষত্রতোবা উচ্চারণ করে পরিত্রাণ পাঠ করে তারপরে ও মিথ্যাদৃষ্টি নামক বোকারা নক্ষত্র অমনুষ্য উপদ্রবকে বিশ্বাস করে না।
সূর্য দেবতা এক সময় অসুরেন্দ্র রাহু কতৃক অবরুদ্ধ হয়েছিলেন। তখন সূর্য দেবতা মনে মনে ভগবান বুদ্ধকে শরণ করে বন্দনা করে বললেন, বুদ্ধ আপনি আমার শরণস্থল হোন। বুদ্ধ অসুরেন্দ্র রাহুকে বললেন, সূর্যদেবতা আমার শরণাপন্ন হয়েছে তুমি তাঁকে গ্রস-মুক্ত করে। তখন অসুরেন্দ্র রাহু ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি সূর্যদেবতাকে মুক্ত করে দিলেন, যদি মুক্ত করে না দিতেন অসুরেন্দ্র রাহুর মাথা সাত টুকরো হয়ে যেতো।
তেন খো পন সময়েন সুরিয়ো দেবপুত্তো রাহুনা অসুরিন্দেন গহিতো; অথ খো সুরিয়ো দেবপুত্তো ভগবন্তং অনুস্সরমানো;
চন্দ্রদেবতা ও এভাবে একসময় অসুরেন্দ্র রাহুর কতৃক গ্রাস/অবরুদ্ধ হয়েছিলেন.............. একই কাহিনী ।
যেখানে বোধিসত্ত্ব মহাসত্ত্বরা নক্ষত্র দোষের প্রভাব থেকে মুক্ত নয় সেখানে আমাদের মত সাধারণ সত্ত্বরা গ্রহ নক্ষত্র দোষের বাহিরে নয়।
(C: স্মৃতি চাকমা)
গ্রহদোষ মুক্ত হওয়ার জন্য নবগ্রহ সুত্র,জিনপন্জর গাথা,আটানাটিয়া সুত্র, চান্দা সুরিয়া গাথা প্রভৃতি পাঠ, এবং বোধিবৃক্ষ তথা পারিভোগ জাদী,অরহত,আর্যবিদ্যাধরদের পুজা বন্দনা করা উচিত।এক কথায় শীল,সমাধি,প্রজ্ঞার অনুশীলন করলে, বুদ্ধের সত্য ধর্ম যথাযথ আচরন করলে গ্রহদোষ মুক্ত হওয়া সম্ভব।বুদ্ধের ধর্মে সব সম্ভব যদি বুদ্ধের ধর্মের নীতি নিয়ম মান্য করা যায়।