01/05/2026
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা:
আগ্নেয়গিরির তপ্ত লাভার মাঝেও একমুঠো শীতলতা
আজকের এই অশান্ত ও অস্থির পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে বুদ্ধের একটি প্রাচীন উপদেশের কথা বারবার মনে পড়ছে। ত্রিপিটকের ‘পুণ্ণোবাদ সুত্ত’-এ বুদ্ধ তাঁর শিষ্য পূর্ণকে এক কঠিন প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন—যদি প্রান্তিক এলাকার নিষ্ঠুর মানুষগুলো তোমাকে গালি দেয়, প্রহার করে, এমনকি অস্ত্র দিয়ে আঘাতও করে, তবে তোমার প্রতিক্রিয়া কী হবে?
পূর্ণের উত্তরটি ছিল আজকের এই ‘স্ট্রেসফুল’ যুগের সবচেয়ে বড় অ্যান্টিবায়োটিক। তিনি বলেছিলেন, "তারা পাথর মারলে ভাবব লাঠি দিয়ে তো মারেনি, লাঠি মারলে ভাবব তলোয়ার দিয়ে তো আঘাত করেনি। এমনকি তারা আমার প্রাণ নিলেও আমি ক্ষুব্ধ হব না; ভাবব—দুঃখময় এই দেহ থেকে অন্তত মুক্তি তো পেলাম।"
এই দর্শনের নাম 'উপেক্ষা' (Equanimity)।
বর্তমান সময়ে আমাদের চারপাশের পরিবেশ যেন এক একটি আগ্নেয়গিরি। সামান্য স্বার্থের সংঘাত, ট্রাফিক জ্যাম কিংবা সামাজিক মাধ্যমের একটা নেতিবাচক কমেন্ট আমাদের ভেতর উত্তাল লাভার মতো রাগ আর ঘৃণা তৈরি করে। বুদ্ধ যেন কয়েক হাজার বছর আগেই তাঁর কালজয়ী প্রজ্ঞা দিয়ে আজকের এই স্বার্থের দ্বন্দ ও ডিজিটাল অস্থিরতা দেখেছিলেন। তাই তিনি প্রেসক্রিপশন দিয়ে গেছেন—বাইরের পরিস্থিতি নয়, ভেতরের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাও।
পূর্ণের মতো আমাদেরও আজ এমন এক মানসিক বর্ম প্রয়োজন, যা দিয়ে আমরা বাইরের বিষাক্ত তিরগুলোকে ক্ষমার শীতল বরফে পরিণত করতে পারি। আগ্নেয়গিরির লাভার ভেতর দাঁড়িয়েও শান্ত থাকার এই দুর্লভ সাহসই হোক এবারের বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রতিজ্ঞা।নিজের ভেতরের ‘আমি’কে শান্ত রাখতে পারলেই কেবল এই অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ফেরানো সম্ভব। বুদ্ধের মৈত্রী ও করুণা ছড়িয়ে পড়ুক সবার হৃদয়ে।সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্তু— জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা।