Krishna Katha

Krishna Katha Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Krishna Katha, Religious organisation, Singapore.

হরেকৃষ্ণ আজ ১৮ ফেব্রুয়ারী সোমবার পরমদয়াল পতিতপাবন প্রেমদাতা নিত্যানন্দ প্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথি । দুপুর পর্যন্ত উপবাস।। ...
18/02/2019

হরেকৃষ্ণ আজ ১৮ ফেব্রুয়ারী সোমবার পরমদয়াল পতিতপাবন প্রেমদাতা নিত্যানন্দ প্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথি । দুপুর পর্যন্ত উপবাস।।

শুভ নিত্যানন্দ ত্রয়োদশী
------------------
বীরভূম জেলায় অবস্থিত একচক্রাধামে কলিযুগপাবনাবতার, প্রেমদাতা, পরমদয়াল, করুনাময় শ্রী নিত্যানন্দ প্রভুর অবতীর্ণ হন। পিতা নাম শ্রী হাড়াই পন্ডিত, মা শ্রীমতি পদ্মাবতী। পিতামাতার কোলে সাতটি সন্তানের মধ্যে নিত্যানন্দ ছিলেন জ্যেষ্ঠ। অন্যদের নাম কৃষ্ণানন্দ, সর্বানন্দ, ব্রহ্মানন্দ, পুর্ণানন্দ, প্রেমানন্দ, ও বিশুদ্ধানন্দ। প্রভুর শিশুবেলার নাম ছিল কুবের। শৈশবে মাত্র বার বছর বয়সে জনৈক সন্ন্যাসীর সাথে তীর্থ ভ্রমণ বের হন। তখন তিনি অবধুত সংস্কারমুক্ত ও পরম পবিত্র । কোন সংকীর্ণতা স্পর্শ করতে পারেনি এই অবধুত সন্ন্যাসীকে। দয়াল নিতাই প্রেমময় নিতাই গোপবেশে বৃন্দাবনে জনে জনে জিজ্ঞাসু নয়নে খুজে বেড়িয়েছেন ভাই কানাইয়ের অনুসন্ধানে । শুনলেন নবদ্বীপে গিয়েছেন ভাই কানাই। নন্দনাচার্য্যের বাড়ীতে প্রথম মিলন হয় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সাথে পরম দয়ালু নিত্যানন্দের। শ্রীবাস আঙ্গিনা থেকে শুরু হয় আমাদের পরমদয়াল পতিতপাবন প্রেমদাতা নিত্যানন্দের হরিনাম সংকীর্তনের বিজয়যাত্রা ।

শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর বলছেন
========================
নিতাই-পদকমল, কোটিচন্দ্র-সুশীতল,
যে ছায়ায় জগৎ জুড়ায়।
হেন নিতাই বিনে ভাই, রাধাকৃষ্ণ পাইতে নাই,
দৃঢ় করি' ধর নিতাইর পায়।।
সে সম্বন্ধ নাহি যা'র বৃথা জন্ম গেল তা'র,
সেই পশু বড় দুরাচার।
নিতাই না বলিল মুখে, মজিল সংসার সুখে,
বিদ্যা-কুলে কি করিবে তার।।
অহঙ্কারে মত্ত হৈঞা, নিতাই-পদপাসরিয়া,
অসত্যেরে সত্য করি' মানি।
নিতাইয়ের করুনা হ'বে, ব্রজে রাধাকৃষ্ণ পাবে,
ধর নিতাইয়ের চরণ দু' খানি।।
নিতাইয়ের চরণ সত্য, তাঁহার সেবক নিত্য,
নিতাই-পদ সদা কর আশ।
নরোত্তম বড় দুঃখী, নিতাই মোরে কর সুখী,
রাখ রাঙ্গা-চরণের পাশ।

প্রশ্নঃআত্মা যা চায়  তাই  খাও,  আত্মাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক কাজ  না ।   এই উক্তিটি কতটা সঠিক ? উত্তরঃ সনাতন বা হিন্দুরা আমরা ...
17/02/2019

প্রশ্নঃআত্মা যা চায় তাই খাও, আত্মাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক কাজ না । এই উক্তিটি কতটা সঠিক ?

উত্তরঃ সনাতন বা হিন্দুরা আমরা অনেকে বলি আত্মা যা চায়,
তাই খাও এরূপ কথার অর্থ হল শূকরের মতো হও।'
শূকর খাদ্য- অখাদ্য বাছবিচার না করেই ফলমূল, পচা কাদা, মলমূত্র, দুনিয়ার নোংরা সব কিছুই খেয়ে চলে।

একটা পাগল বিষ খেতে চায় বলে তাকে বিষ খেতে অনুমোদন করা কি ঠিক না।
বাচ্চারা ওষুধ খেতে চায় না। তাই বলে ওষুধ খাওয়া বাদ দিতে হবে।
ম্যালেরিয়া রোগী আমসী-তেঁতুল খেতে চায়, সেক্ষেত্রে কি বলা যাবে যে, 'হ্যাঁ, যা চাও, তাই খাও'।

শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণনা রয়েছে যে, রাক্ষস-পিশাচ শ্রেণীর প্রাণীরা মাছ-মাংস খেতে অভ্যস্ত।
সাধারণত মাংস খেক বা মছ্লিখেকে মানুষদের ম্লেচ্ছ বলা হয়।
পিশাচতুল্য অতি নিম্ন স্তরের মানুষেরা অন্য প্রাণীর রক্ত, মাংস, হাড়, পিত্ত ইত্যাদি খাদ্যরূপে গ্রহণ করতে পছন্দ করে।
তারা পোকা মাকড়, কাঁকড়া, চিংড়ি, কেঁচো, গোসাপ, কাছিম, ব্যাঙ, মাছ, কাক, মোরগ, হাঁস, ভেড়া, কুকুর, শূকর, ছাগল, উট, গরু, ইত্যাদি প্রাণীর রক্ত-মাংস খেতে খুব ই পছন্দ করে।
কিন্তু সভ্য মানুষকে তা খেতে শাস্ত্রে নিষেধ করা হয়েছে। পিশাচত্ব অর্জন করা সভ্য মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।
পাশ্চাত্য দেশের কোনও কোনও অতি অসভ্য অঞ্চলের মানুষেরা বৃদ্ধ রুগ্ন শয্যাশায়ী পিতামহকে মেরে নরমাংস ভোজ উসব শুরু করে।
ভ্রূণ হত্যা করে ভ্রূণ নিয়ে রান্না চড়ায়। শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণনা করা হয়েছে, এই যুগের শেষ পর্যায়ে মানুষ মানুষকে কেটে খাওয়ার জন্য লালায়িত হবে।

বর্তমান বিশ্বে বহুসংখ্যক মানুষ আর এক ধরনের অতি জঘন্য জিনিস খেতে অত্যন্ত অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তা হল দূষিত ধোঁয়া, কদর্য পানীয় এবং উগ্র উত্তেজক নানা ধরনের অখাদ্য।

তাই আত্মাকে শুদ্ধ ও পবিত্র করে রাখতে হলে আমাদের সাত্বিক খাবার খেতে হবে, সাধু সঙ্গ করতে হবে,আর মুখে সর্বদা হরি নাম থাকতে হবে।তবেই আমাদের আত্মার উন্নতি লাভ হবে এবং আমাদের ভগবত ধাম প্রাপ্ত হবে।।।

বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ যদি খাদ্য-অখাদ্য বাছবিচার না করে, তবে মানব-সভ্যতার বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী ।।।

আগামীকাল একাদশী এবার জেনে নিন একাদশী কী এবং কেন একাদশী পালন করতে হয়?●একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ...
15/02/2019

আগামীকাল একাদশী এবার জেনে নিন
একাদশী কী এবং কেন একাদশী পালন করতে হয়?

●একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন,
হে গুরুদেব! একাদশী কি? একাদশীতে কেন উপবাস করতে হয়? একাদশী ব্রত করলে কি লাভ? একাদশী ব্রত না করলে কি ক্ষতি? এ সব বিষয়ে আপনি দয়া করে বলুন।

মহর্ষি ব্যাসদেব তখন বলতে লাগলেন-
সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বর ভগবান এই জড় সংসারে স্হাবর জঙ্গম সৃষ্টি করলেন। মর্ত্যলোকবাসী মানূষদের শাসনের জন্য একটি পাপপুরুষ নির্মাণ করলেন। সেই পাপপুরুষের অঙ্গণ্ডলি বিভিন্ন পাপ দিয়ে নির্মিত হল।

পাপপুরুষের মাথাটি ব্রহ্মহত্যা পাপ দিয়ে, চক্ষুদুটি মদ্যপান, মুখ স্বর্ণ অপহরণ, দুই কর্ণ-গুরুপত্নী গমন, দুই নাসিকা-স্ত্রীহত্যা, দুই বাছ-গোহত্যা পাপ, গ্রীবা-ধন অপহরণ, গলদেশ-ভ্রুণহত্যা, বক্ষ-পরস্ত্রী-গমন, উদর- আত্মীয়স্বজন বধ, নাভি-;শরণাগত বধ, কোমর-আত্মশ্লাঘা , দুই ঊরু-ণ্ডরুনিন্দা , শিশ্ন-কন্যা বিক্রি, মলদ্বার-ণ্ডপ্তকথা প্রকাশ পাপ, দুই পা-পিতৃহত্যা, শরীরের রোম-সমস্ত উপপাতক।

এভাবে বিভিন্ন সমস্ত পাপ দ্বারা ভয়ঙ্কর পাপপুরুষ নির্মিত হল। পাপপুরুষের ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে ভগবান শ্রীবিষ্ণু মর্ত্যের মানব জাতির দু্খঃ মোচন করবার কথা চিন্তা করতে লাগলেন। একদিন গরুড় পিঠে চড়ে ভগবান চললেন যমরাজের, মন্দিরে। ভগবানকে যমরাজ উপযুক্ত স্বর্ণ সিংহাসনে বসিয়ে পাদ্য অর্ঘ্য ইত্যাদি দিয়ে যথাবিধি তাঁর পূজা করলেন।

যমরাজের সঙ্গে কথোপকথনকালে ভগবান শুনতে পেলেন দক্ষিণ দিক থেকে অসংখ্য জীবের আর্তক্রন্দন ধ্বনি। প্রশ্ন করলেন-এ আর্তক্রন্দন কেন? যমরাজ বললেন, হে প্রভু, মর্ত্যের ,পাপী মানুষেরা নিজ কর্মদোষে নরকযন্ত্রনা ভোগ করছে। সেই যাতনার আর্ত চীৎকার শোনা যাচ্ছে। যন্ত্রণাকাতর পাপাচারী জীবদের দর্শন করে করুণাময় ভগবান চিন্তা করলেন- আমিই সমস্ত প্রজা সৃষ্টি করেছি, আমার সামনেই ওরা কর্ম দোষে দুষ্ট হয়ে নরক যান্ত্রণা ভোগ করছে, এখন আমিই এদের সদগতির ব্যাবস্হা করব।

ভগবান শ্রীহরি সেই পাপাচারীদের সামনে একাদশী তিথি রূপে এক দেবীমূর্তিতে প্রকাশিত হলেন। সেই পাপীদেরকে একাদশী ব্রত আচরণ করালেন। একাদশী ব্রতের ফলে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ বৈকুন্ঠ ধামে গমন করল। শ্রীব্যাসদেব বললেন, হে জৈমিনি! শ্রীহরির প্রকাশ এই একাদশী সমস্ত সুকর্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত ব্রতের
মধ্যে উত্তম ব্রত।

কিছুদিন পরে ভগবানের সৃষ্ট পাপ পুরুষ এসে শ্রীহরির কাছে করজোড়ে কাতর প্রার্থণা জানাতে লাগল-হে ভগবান ! আমি আপনার প্রজা। আমাকে যারা আশ্রয় করে থাকে,তাদের কর্ম অনূযায়ী তাদের দুঃখ দান করাই আমার কাজ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি একাদশীর প্রভাবে আমি কিছুই করতে পারছি না, বরং ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছি। কেননা একাদশী ব্রতের ফলে প্রায় সব পাপাচারীরা বৈকূণ্ঠের বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছে।

হে ভগবান, এখন আমার কি হবে? আমি কাকে আশ্রয় করে থাকব? সবাই যদি বৈকূণ্ঠে চলে যায়, তবে এই মর্ত্য জগতের কি হবে? আপনি বা কার সঙ্গে এই মর্ত্যে ক্রীড়া করবেন? পাপপুরুষ প্রার্থনা করতে লাগল- হে ভগবান, যদি আপনার এই সৃষ্ট বিশ্বে ক্রীড়া করবার ইচ্ছা থাকে তবে, আমার দুঃখ দূর করুন। একাদশী ভয় থেকে আমাকে রক্ষা করুন।

হে কৈটভনাশন, আমি একমাত্র একাদশীর ভয়ে ভীত হয়ে পলায়ন করছি। মানুষ, পশুপাখী, কীট-পতঙ্গ, জলত-স্হল, বনপ্রান্তর, পর্বত-সমূদ্র, বৃক্ষ, নদী, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সর্বত্রই আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্ত একাদশীর প্রভাবে কোথাও নির্ভয় স্হান পাচ্ছি না দেখে আজ আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।

হে ভগবান, এখন দেখছি, আপনার সৃষ্ট অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে একাদশীই প্রাধান্য লাভ করেছে, সেইজন্য আমি কোথাও আশ্রয় পেতে পারছি না। আপনি কৃপা করে আমাকে একটি নির্ভয় স্হান প্রদান করুন। পাপপুরুষের প্রার্থনা শুনে ভগবান শ্রীহরি বলতে লাগলেন-হে -পাপপুরুষ!

তুমি দুঃখ করো না। যখন একাদশী এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করতে বির্ভুত হবে, তখন তুমি অন্ন ও রবিশস্য মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করবে, তা হলে আমার মূর্তি একাদশী তোমাকে বধ করতে পারবে না।

একাদশী ব্রতের ফলঃ
১. সকল পুরাণে মুনিদিগের এই নিশ্চিত মত যে, একাদশীতে উপবাস করলে সকল পাপ হতে মুক্ত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। (ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ)

২. শ্রীযমরাজ ব্রাহ্মনকে বলেছেন, হে ব্রাহ্মন! যাদের পুত্র ও পৌত্র একাদশী ব্রত করে আমি শাসন কর্তা যম হয়েও বিশেষরূপে তাদের নিকট ভীত হই। যারা একাদশী ব্রত পরায়ন সেই মহাত্মারা বল পূর্বক স্বীয় শত পুরুষ উদ্ধার করেন। (পদ্মপুরাণ)

৩. একাদশীতে যে উপবাস, ইহাই সার, ইহাই তত্ত¡, ইহাই সত্য, ইহাই ব্রত, ইহাই সম্যক প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ। (ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ)

৪. যে মানুষ একাদশীর দিন শস্যদানা গ্রহণ করে সে তার পিতা, মাতা, ভাই এবং গুরু হত্যাকারী এবং সে যদি বৈকুন্ঠলোকে উন্নীত হয় তবুও তার অধঃপতন হয়।

একাদশীর দিন বিষ্ণুর জন্য সব কিছু রন্ধন করা হয় এমনকি অন্ন এবং ডাল ও কিন্তু শাস্ত্রের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বৈষ্ণবদের সেই বিষ্ণুর প্রসাদ পরের দিন গ্রহণ করার জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে।

একাদশীর দিন কোন রকম শস্যদানা এমনকি অন্ন তা যদি বিষ্ণুর প্রসাদও হয় তবুও তা গ্রহণ করতে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বিধবা না হলেও শাস্ত্র অনুসারে একাদশী ব্রত পালন করার প্রথা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তন করেছিলেন। (শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত আদিলীলা ১৫/৮-১০) অনেকের ধারনা শ্রীপুরীধামে শ্রীজগন্নাথদেবের প্রসাদ ভক্ষন দোষাবহ নহে। এই ধারনার বশবর্তী হইয়া পুরীতে অনেকেই নিঃসঙ্কোচে অন্ন গ্রহণ করেন, ইহা সম্পূর্ণ শাস্ত্র বিরুদ্ধ বিচার।

বিধাবা নারী এবং মতিগণ (তেজস্বী) যদি একাদশী ব্রত না করে তাহলে প্রলয়কাল পর্যন্ত তাদের অন্ধকারময় নরকে পঁচে মরতে হয়। (শারদীয় পুরাণ)

হে রাজন! যতদিন আয়ু থাকবে ততদিন একাদশী উপবাস থাকবে। (অগ্নিপুরাণ)

বিধবা রমণী একাদশীতে আহার করলে,তার সর্বপ্রকার সুকৃতি নষ্ট হয় এবং দিনদিন তার ভ্রণহত্যা পাপের অপরাধ হয়। (কাত্যায়ন সংহিতা)

যিনি একাদশী ব্রত পরিত্যাগ করে অন্য ব্রতের উপসনা করেন, তার হাতের মহামূল্যবান রত্নপরিত্যাগ করে লোহা যাচনা করা হয়। (তত্ত্বসাগর)

দেবাদিদেব শিব দূর্গা দেবীকে বলেছেন হে মহাদেবী যারা হরিবাসরে (একাদশীতে) ভোজন করে যমদূতগণ যমালয়ে নিয়ে তাদের অগ্নিবর্ন তীক্ষ্ণ লৌহাস্ত্র তাদের মুখে নিক্ষেপ করে।(স্কন্দপুরাণ)

একাদশী ব্রত পালনের নিয়ম
সামর্থ্য অনুযায়ী দশমী তে একাহার, একাদশী তে নিরাহার, দ্বাদশীতে একাহার। এতে অসমর্থ হলে শুধু একাদশীতে অনাহার।

যদি এতেও অসমর্থ হয়, একাদশী তে পঞ্চ শস্য বর্জনীয়, ফলমূল ও কিছু সবজি গ্রহনের বিধান আছে।
যেমন-গোল আলু, মিষ্টি আলু, কুমড়া, চালকুমড়া, বাদাম তেল/সূর্যমুখি তেল/ঘি দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উতসর্গ করে আহার করা যেতে পারে। এছাড়া দুধ, কলা, আপেল, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, শসা, নারকেল, মিষ্টি আলু ইত্যাদি ফল আহার করা যাবে।

একাদশীর পারন সময় পঞ্জিকাতে দেয়া থাকে, ভগবান কে অন্ন নিবেদন করে সেই প্রসাদ নিদিষ্ট সময়ে গ্রহন করতে হবে। নতুবা একাদশীর ফল লাভ হয়না।

বর্জনীয়
পঞ্চ রবি শস্য-
ধান জাতীয় খাদ্য- ভাত, খিচুড়ি, মুড়ি, চিঁড়া, খই, সুজি, চালের গুঁড়া, চালের পিঠা, পায়েস।

গম জাতীয় খাদ্য- আটা, ময়দা, সুজি, রুটি, বিস্কুট, কেক,নুডলস।
যব বা ভুট্টা জাতীয় খাদ্য- ছাতু, খই, রুটি।

ডাল জাতীয় খাদ্য- মুগ, মশুর, মটর, মাসকলাই, ছোলা, অড়হর, বরবটি, শিম, বুট।

সরিষা, তিলের তেল, সয়াবিন তেল
চা, বিড়ি, সিগারেট,পান, যেকোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য বর্জনীয়।

একাদশী তে সহবাস সম্পূর্ণ বর্জন।
আমিষ ( পিঁয়াজ, রসুন, ডিম, মাছ, মাংস )ভক্ষন সম্পূর্ণ নিষেধ।

প্রশ্ন:অল্প বয়সে বৈষ্ণব- হওয়া কি ভাল??উত্তরঃশ্রীমদ্ভাগবতে ৭/৬/১ উল্লেখ অাছে,কৌমার অাচরেৎ প্রাজ্ঞো ধর্মান্ ভাগবতানিহ। দু...
12/02/2019

প্রশ্ন:অল্প বয়সে বৈষ্ণব- হওয়া কি ভাল??

উত্তরঃশ্রীমদ্ভাগবতে ৭/৬/১ উল্লেখ অাছে,
কৌমার অাচরেৎ প্রাজ্ঞো ধর্মান্ ভাগবতানিহ। দুর্লভং মানুষং জন্ন তদপাধ্রুবমর্থদম্।।
“প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি মানবজন্ন লাভ করে এই জাগতিক অনিত্য সুখের প্রয়াস না করে কুমার বয়সেই ভাগবত-ধর্মের অনুষ্ঠান করবে।কারণ,সংসারে মানবজন্ন—অতি দুর্লভ,তা অাবার ক্ষণিক। কিন্তু ক্ষণস্হায়ী হলেও ভগবদ্ভক্তি সাধনায় এই জীবন পরম অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।”
এর পরবতী শ্লোকগুলিতে বর্ণনা করা হয়েছে যে,মানুষ তার দুর্লভ জীবনটা কিভাবে নষ্ট করছে।মুগ্ধ বা অজ্ঞান অবস্থায় শৈশবের দশটি বছর কেটে যায়,কৌমার অবস্থায় দশটি বছর খেলাধূলায় কেটে যায়।জড় বিদ্যায় কৈশোর অতিবাহিত হয়।তারপর দুঃখজনক কাম ও মোহে সংসার-সুখ ভোগে অাসক্ত থেকে কর্তব্য- সন্ধান শূন্য অবস্থায় অারও দশ বছর পেরিয়ে যায়।সন্তান ও স্ত্রীর প্রতি অাসক্ত চিত্তা করতে পারে না।তারপর তারা নিছক ইন্দ্রিয় তৃপ্তির উদ্দেশ্যে প্রিয়তম প্রাণকে বিপন্ন করেও টাকাপয়সা উপার্জনের জন্য যত্ন করে।
যৌবন ও প্রৌঢ় অবস্থায় এই ভাব অায়ুক্ষয় হয়।এই সব সংসার-ভোগাসক্ত ব্যক্তিরা সমস্ত দেশে সমস্ত কালে অাধিঅাত্নিক,অাধিভৌতিক,অাধিদৈবিক— সমস্ত দুঃখের মধ্যে ক্লিষ্ট হতে থাকে। নানা দুঃখে জর্জরিত হয়ে চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়।তখন নানা রকমের পাপকাজে তারা অগ্রসর হয়। তখন তারা জেনে শুনেও পাপকর্মে লিপ্ত হয়।হিতাহিত জ্ঞানশূন্য অবস্থায় তারা গতানুগতিক পদ্ধতিতে জীবন ক্ষয় করতে থাকে।”এটা অামার ওটা অামার”এরূপ ভাব পোষণ করে পণ্ডিত ব্যক্তিও অতি অাসক্ত হয়ে কুটুম্ব-পরিবার পালন করতে করতে অান্তবিষয়ক শুভ পরামর্শ নিতে সমর্থ হয় না।
কিন্তু অতি মূর্খের মতো অজ্ঞান তাই লাভ করে এবং কোনও দেশে কোনও কালে জ্ঞানহীন ভগবৎ-বিমুখ ব্যক্তি নিজেকে ভবচত্রু থেকে মুক্ত করতে পারেনা।অর্থাৎ জন্ন—জন্নান্তর ধরে নানা দুঃখপূর্ণ জড় জীবন গ্রহণ করতে থাকে।”শ্রীমদ্ভাগবতে পরবতী শ্লোকে বলা হয়েছে,”কামলম্পট ব্যক্তিরা স্ত্রীদের খেলার হরিণের মতো হয়ে পড়ে।মূর্খতা বশত পুত্রপৌত্র ইত্যাদির প্রতি অাসক্তিও তারা ছাড়তে পারে না।”
শ্রীমদ্ভাগবত ৭/৬/১৭ শ্লোকে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানেও বোঝা যায়,মানুষ তার জীবনের মোট অায়ুর অর্ধাংশ ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেয়।দিন হিসাবে কারও বয়স যদি সত্তর বছর হয়।
তবে পঁয়ত্রিশ বছর প্রায় ঘুমিয়েই সে কাটিয়েছে বলা যায় এবং বাদবাকী তথাকথিত জাগ্রত অবস্থায় সে নানা প্রজল্প,নানা রাজনীতি, কুটনীতি, অনর্থক শয়তানী চিন্তায় কাটিয়ে দেয়।মৃত্যুর দরজায় উপনীত হওয়াকে বার্ধক্য বলে।সেই হিসেবে,একটি শিশুও বৃদ্ধ। কেননা যে কোন মুহূর্তেই অামাদের মৃত্যু হতে পারে।অামরা সবাই মৃত্যুর দরজায় দাঁড়িয়ে অাছি।ভবিষ্যৎতের বিশ্বাস নেই। অামারও অকালমৃ্ত্যু হতে পারে।বার্ধক্য সবার ভাগ্যে জোটে না।অনেক মনে করেন,এখন যা ইচ্ছা তাই করা যাক।
পরে যখন চুল পাকবে,সব কিছু সমস্যা-জটিল হয়ে পড়বে,মেজাজ খিটখিটে হবে,দাঁত পড়ে যাবে,চোখে ছানি পড়বে,কান কালা হবে,হাত পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হবে,যখন বিছানায় মলমূত্র ত্যাগ করব এবং কফ পিত্ত বায়ুতে এই দেহপিণ্ডটা ভর্তি হবে,সকলের অবজ্ঞা ও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়াব,তখন খুব করে নেচে গেয়ে ভগবানের নামকীর্তন-সাধন ভজন করব।”সেই সব কামপাগলা ব্যক্তি অাত্নঘাতী অাত্নপ্রবঞ্চক ছাড়া অার কিছু নয়। হরিভজন একমাত্র মানবজীবনের জন্যই এবং তাই ছোটবেলা থেকেই বৈদিক পন্তায় জীবন গঠন করতে হয়।তারপর ব্রহ্মাচারী কিংবা গৃহস্থ কিংবা সন্ন্যাসী যা-ই-হন না কেন,সর্বদা কৃষ্ণভক্তির অনুকূলে থাকাই মূল কথা।

"হরে কৃষ্ণ"

11/02/2019

Address

Singapore

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Krishna Katha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share