13/08/2026
বিয়ের পরে নিজের সব জিনিস পত্র নেয়ার সময় পছন্দের বিড়াল টাও নিয়ে গেলেন শ্বশুর বাড়িতে একজন আপু। কিন্তু উনার শ্বশুর বাড়ির কেউই বিড়াল টাকে পছন্দ করতো না,বলতো দেখলেই ঘেন্না লাগে।
আপু উনার রুম এবং বারান্দায় ই রাখতেন বিড়াল টাকে। কিন্তু মাঝেমধ্যে সে বের হয়ে যেতো,বের হলেই বাসার সবাই বিড়াল টাকে দৌড়ানি দিতো, যে কারনে ভয়ে বিড়াল টা রুমেই থাকতো।
এরকম কিছু দিন যাওয়ার পরে বিড়াল টা নিয়ে উনার শ্বাশুড়ির সাথে সামান্য একটু ঝগড়া লেগে গিয়েছিলো উনার,এরপরে উনি ভাবলেন থাক বিড়াল টাকে বাবার বাড়িতে রাখাই ভালো, মন চাইলে গিয়ে দেখে আসবেন জাস্ট। তাই বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। কিন্তু উনার হাজবেন্ড উনার মন খারাপ দেখে বিড়াল টাকে নিয়ে আসলেন আবার বাসায়,উনার মাকে বললেন, এটা নিয়ে ঝামেলা না করতে।
এর কয়েকদিন পর আপু মার্কেটে গিয়েছিলেন বিড়াল টাকে বাসায় রেখে,রুমের মধ্যেই রেখে দরজা লাগিয়ে গিয়েছিলেন, বিড়াল রুমে থেকে অভ্যস্ত ছিলো, তার ছোট বিছানায় ঘুমিয়ে থাকতো।
তো আপু মার্কেট থেকে ফিরে এসে দেখলেন বিড়াল রুমে নেই, জানালা খোলা, অথচ আপুর খেয়াল আছে উনি জানালা লাগিয়ে গিয়েছিলেন। পরে বাসায় সবাইকে জিজ্ঞেস করলে কেউ ই কিছু জানে না জানায়। সেদিন অনেক খোঁজাখোজি করেও বিড়াল টাকে পাওয়া যায়নি৷
পরের দিন ভোরে পাড়ায় উনার হাজবেন্ড এবং উনি বিড়াল এর খুঁজে বের হয়ে যান, কিন্তু কোনো খোঁজ ই পাননি।
কিন্তু বাসায় আসার পরেই দেখলেন বিড়াল টা উনাদের পেছন পেছন ঢুকতেসে মানে রাস্তায় কোনোভাবে সে হয়তোবা দেখতে পায় উনাদের, এবং ফলো করে চলে আসে। পরে বিড়াল কে উনি দৌড়ে গিয়ে কোলে নিলেন,খুশি হয়ে গেলেন, বিড়ালও মিউমিউ করতে লাগলো পাগলের মতো। এই সুন্দর মুহুর্ত টা উনার হাজবেন্ড ক্যাপচার করতে যাবেন তখন খেয়াল করলেন, বিড়াল এর মাথা একটা সাইড অস্বাভাবিক ভাবে ফোলা। সাথে সাথেই vet এর কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বের হয়ে যান, কিন্তু রাস্তায়ই বিড়াল টা হাত পা ছেড়ে দেয় এবং মা রা যায়, পরে vet এর কাছে নিয়ে গেলে উনিই বলেন, বিড়াল টাকে কেউ শক্ত কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করেছিলো।
আপু বললেন, উনি এর প্রায় ১ বছর পরে জানতে পারেন,বিড়াল টাকে ক্রিকেট এর ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন উনার ননাস, যেদিন উনি মার্কেটে যান ওইদিন উনার ননাস এসেছিলেন বাসায়, আর উনার শ্বাশুড়ি তখন কান্না করতে করতে আপুর হাজবেন্ড এর কথা বিচার দেন, বলেন একটা বিড়াল এর জন্য আমার মুখের ওপর কথা বলে আমার ছেলে, ঝামেলা করি আমি,এমনটা বলেছে।
তখন আপুর ননাস বলেন জেদের বশে কাজটা করেন উনি। বিড়াল টা মাথায় আঘাত পাওয়ার পরে উনিই জানালা খুলে রেখেছিলেন যাতে মনে হয় বিড়াল টা নিজেই বের হয়ে গেছে এবং বাহিরে কোনোভাবে সে আঘাত পেয়েছে। এসব কথা পরে উনার ননাস নিজ মুখে বলেন, এবং মাফ চান। কারন উনার ৫ বছরের ছেলের ব্রেইন টিউমার ধরা পরে, বাচ্চার অপারেশন হবে,পুরো টিউমার কেটে বের করা হবে,তাই সব স্বীকার করে মাফ চেয়ে নেন।
আপু বললেন, আমার আফসোস হয়৷ ওরে যদি আমার বাসায়ই রেখে যেতাম, তাহলে তো আজকে আমার কাছে সে থাকতো, তবে হ্যা আমি মাফ করে দিয়েছি উনাকে কারন ছোট বাচ্চাটার ক্ষতি হোক আমি চাইনা।
ইনবক্সে এই আপুর কথাগুলো পড়ে আমি ভাবলাম, "মানুষ কেনো ভাবে না, আল্লাহ একজন ওপরে থাকেন, উনি চাইলেই দুনিয়ার পাপ এর ফল দুনিয়াতেই ফিরিয়ে দিতে পারেন, আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না"।
বাই দ্যা ওয়ে, বিড়াল টার নাম ছিলো "Mimo"
পোস্ট টি The Real By Shifa পেইজ থেকে সংগৃহিত~