Islamer Alo

Islamer Alo ইসলামের রাস্তায় থাকুন আলোকিত।

নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার; একটি এস্কেটোলজিক্যাল বিশ্লেষণনিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার (NWO) বা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা এখন আর ফিসফিস করে ব...
09/09/2024

নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার; একটি এস্কেটোলজিক্যাল বিশ্লেষণ

নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার (NWO) বা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা এখন আর ফিসফিস করে বলার কোন বিষয় না। এটি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা থাকা সময়ের দাবি যা নিয়ে প্রতিনিয়ত বিশ্বজুড়ে হিসাব হচ্ছে, হিসাব বদলাচ্ছে। সমীকরণ বদলে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। একনিষ্টভাবে যাদের দৃষ্টি এর প্রতি আছে, আশা করি এর ছক সম্পর্কে তাদের একটি পরিষ্কার ধারনা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। কিন্তু এটি এমনই একটি বিষয় যার এস্কেটোলজিক্যাল ব্যাখ্যা জাানা অত্যন্ত জরুরী। এভাবেও বলা যায় যে, এস্কেটোলজিক্যাল বিষয় মাথায় না নিয়ে এর ব্যাখ্যা অসম্পূর্ণ অথবা অসম্ভব। এই লেখায় ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, বিশ্ব শাসনের পালাবদল, ভূরাজনীতি ইত্যাদি বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুসন্ধান করে একটি স্বচ্ছ ইতি টানার চেষ্টা করা হয়েছে যা শুধু দেশে না, এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোথাও এ ধরনের সমীকরন করা হয়েছে বলে জানা নাই। এজন্য পাঠকদের কাছ থেকে সমালোচনা আশা করব যেন কোনপ্রকার ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নিতে পারি।

নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার কি?
নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার কি, এজেন্ডাগুলো কি কি ইত্যাদি নিয়ে আলাদা পোস্ট দিলে ভালো হতো। কিন্তু গতানুগতিক ছকের বাহিরে ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টিকে তুলে ধরার প্রয়াসে আমার এই লেখা। নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার সম্পর্কে নিচে তিন রকমের ব্যাখ্যা দেয়া হলো। প্রথম দুই ধরনের ব্যাখ্যা উইকিপিডিয়াসহ অনেক জায়গায় পাওয়া যায়। আর তৃতীয় ব্যাখ্যাটি সম্পূর্ণ স্পিরিচুয়াল।

নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার – গতানুগতিক ব্যাখ্যা

➤ এটি একটি নতুন বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা যা নতুন কোন ইউনিপোরার সিস্টেম বা নতুন কোন একক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা।

➤ জর্জ এইচডব্লিউ বুশের ভাষ্য মতে এই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার সূচনা হয়েছে একটি মুসলিম দেশে যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে। এখান থেকে ধরে নেয়া যায়, মুসলমানদের বৃহৎ অংশ এই শাসন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত না বা হুমকিস্বরূপ। কারণ এই যুদ্ধের ধারাবাহিকতা ইরাকে থেমে ছিলনা। বরং ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে একের পর এক মুসলিম দেশে আক্রমণ হয় এবং সবশেষ ফিলিস্তিনে চলমান।

➤ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী এই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ইরানসহ অন্য মুসলিম দেশ ও সব শক্তিধর দেশেরই সমর্থন ছিল।

নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার – কন্সপাইরেসি থিউরি

➤ এটি একটি কন্সপাইরেসি থিউরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। অর্থাৎ সত্য হতেও পারে আবার নাও হবে পারে। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হলো সত্য-মিথ্যার একটি গোলকধাঁধা যেখান থেকে প্রকৃত সত্য বুঝে ওঠা খুব কঠিন।

➤ সবকিছু একক নিয়ন্ত্রণের জন্য যে যে ক্ষেত্রগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে সেগুলো হলো ওয়ান ওয়ার্ল্ড গভর্ন্যান্স, ওয়ান ওয়ার্ল্ড আর্মি, ওয়ান ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়ন, ওয়ান ওয়ার্ল্ড ক্যারেন্সি।

➤ বর্তমান ইউনিপোলার সিস্টেমকেই নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে শাসন ক্ষমতা হস্তান্তরের চেষ্টা। প্যাক্স আমেরিকানা থেকে প্যাক্স জুদায়কা যা নিয়ে সংক্ষেপে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার – স্পিরিচুয়াল ব্যাখ্যা

সকল পরিকল্পনাকারীদের নিয়ে আল্লাহ পরিকল্পনা করে থাকেন। নিশ্চয় আল্লাহর পরিকল্পনা সর্বাপেক্ষা উত্তম। সকল ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে পৃথিবী একটা বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনটা স্পিরিচুয়াল। নানা অলৈকিক ঘটনার মধ্যদিয়ে একটি বড় পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে বিশ্ব। এখানেই বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন! তাদের শতবছরের পরিকল্পিত নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার কি আদৌ বাস্তাবায়ন হবে? হলেও তা কতদিন স্থায়ী হবে? নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহতম অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়েই তাদের শাসনের সমাপ্তি ঘটবে? এখানেই জায়োনিস্ট ইহুদিদের সাথে খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মতাদর্শগত পার্থক্য। জায়োনিস্টরা মনে করে তারা আদ্ধাত্নিক শক্তিবলে অর্থাৎ থার্ড টেম্পল স্থাপনের মধ্য দিয়ে এ্যান্টিক্রাইস্ট বা দাজ্জালের সহায়তায় যে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার প্রবর্তন করবে তা অনন্তকাল বা দীর্ঘ সময় স্থায়ী থাকবে। কিন্তু খ্রিষ্টান ও মুসলমান উভয় পক্ষ মনে করে এটি প্রকৃতপক্ষে ঈসা নবীর দ্বিতীয় প্রর্তাবর্তনের আলামতমাত্র। তাদের পরিকল্পিত নতুন শাসন ব্যবস্থার জন্য যে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির তৈরি হবে তা পর্যন্ত হয়ত ঠিক আছে। কিন্তু এর পরবর্তী পরিস্থিতি আদৌ তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে কি না তা নিয়ে এবং সেই কঠিন সময়ের স্থায়ীত্বকাল নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী এর স্থায়িত্ব যতদিনই হোক, এটি মূলত দুনিয়াবাসীকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় অবর্তীর্ণ করার জন্য সৃষ্টির একটি ধারাবাহিকতা। এই পরীক্ষা শেষেই ঘটবে ঈসা আ. এর দ্বিতীয় আগমণ। এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই শুরু হবে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা। এটিই হবে প্রকৃত মেশিয়ানিক যুগ। এটিই হবে প্রকৃতপক্ষে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার বা সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশ্ব ব্যবস্থা।

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ল্ড অর্ডার
এবার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা প্রসঙ্গ যা এস্কেটোলজিক্যাল গবেষণা, ভূরাজনীতি এবং বিশ্ব শাসনের পালা বদলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটির কিছু বৈসাদৃশ্য, কিছু প্রতিযোগীতা, মনকষাকষি থাকলেও অদৃশ্য মিল পাওয়া যাবে অনেক। ভিন্ন আঙ্গিকে সেগুলো দেখার চেষ্টা করব। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আরো অসংখ্য শাসন ব্যবস্থা যেমন প্যাক্স সিনিকা, প্যাক্স রোমানা, প্যাক্স হিস্পানিকা ইত্যাদির নাম উল্লেখ করা যায়। কিন্তু নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের প্রেক্ষিতে নিচের তিনটি বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ।

প্যাক্স ব্রিটানিকা
প্যাক্স আমেরিকানা
প্যাক্স জুদায়কা

প্যাক্স ব্রিটানিকা হলো ব্রিটিশদের শাসন। ১৮১৫ থেকে ১৯১৪ সালের এই সময়কালকে ব্রিটেনের “সাম্রাজ্যিক শতাব্দী” হিসাবে ধরা হয়। এই সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তার করে এবং “গ্লোবাল পুলিশম্যান“ এর ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হয়। প্রায় ২৬,০০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল এবং প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মানুষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে যুক্ত হয়েছিল।

তারা মোট ৪০০ বছর পৃথিবী শাসন করে। ষোড়শ শতক থেকে সারা বিশ্বে উপনিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। এ সময়ে তাদের অধীনে আসে উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং এশিয়া। উত্তর আমেরিকা দখল করে ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে এবং প্রসার লাভ করে ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

ভারতবর্ষ শাসন শুরু করে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর এবং প্রায় ২০০ বছর চলার পর ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এ শাসনকাল স্থায়ী ছিল।

প্যাক্স আমেরিকানা হলো আমেরিকার বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা যা ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর বিশ্বের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বর্তমান বিশ্বে যে ইউনিপোলার বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে তা এককভাবে আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করে। এই শাসন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত চলমান।

প্যাক্স জুদাইকা হলো জেরুজালেমের শাসন ব্যবস্থা। এখানে অন্য বিশ্লেষকদের সাথে আমার মতের কিছুটা ভিন্নতা আছে। এটি আসবে আমেরিকার ক্ষমতার পালাবদলের মাধ্যমে। অনেকে আমেরিকার পতনের কথা উল্লেখ করে। তবে এখানে ঠিক পতন ভাষা ব্যবহার না করে বরং ক্ষমতা হস্তান্তর বলাটা যথোপযুক্ত হবে যা এখন চলমান। ঠিক ব্রিটিশরা যেভাবে মিত্র হয়েও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার কাছে নিজেদের ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। একইভাবে আমেরিকা তাদের মিত্র জেরুজালেমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করতে যাচ্ছে।

১৫ আগস্ট ১৮৭১ সালে থার্টি থ্রি ডিগ্রি ফ্রিমেশন আলবার্ট পাইক তৎকালীন ইলুমিনাটি প্রধান ইতালীর মাজ্জিনিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন যেখানে বড় যুদ্ধ সংঘঠিত হওয়ার ব্লুপ্রিন্ট ছিল। ১৮৯৭ সালে প্রথম জায়োনিস্ট কংগ্রেসের পর সেই সিন্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০৩০ সালের টার্গেট এবং এ সংক্রান্ত এজেন্ডাগুলোও সেই সময়ের নেয়া সিন্ধান্তের ভিত্তিতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলবার্ট পাইকের চিঠির বিষয়টি ইতিমধ্যে অনেকেই জানেন। না জানা থাকলে নেট সার্চ করলে পেয়ে যাবেন। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকে এগিয়ে নেয়াসহ নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য পূরণে ২০৩০ কে টার্গেট করে যত প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল সেগুলো এখন বাস্তবায়িত হওয়ার চূড়ান্ত পর্বে আছে। এ থেকে নিশ্চিতভাবে ধরে নেয়া যায় যে, শতশত বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঠিক শেষ মূহুর্তে আমরা অবস্থান করছি।

২০২৩ সালের শুরুতে একটি টুইটার পোস্ট ভাইরাল হয় যেখানে ইউএন এজেন্ডা ২০৩০ এর লিস্ট দিয়ে সেগুলো নিউ ওয়াল্র্ড অর্ডারের এজেন্ডা হিসেবে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে এই অভিযোগ অস্বীকার করে। বার্তা সংস্থ্যা রয়টার্সে ২৮ এপ্রিল, ২০২৩ এ “Graphic does not show ‘New World Order’ UN goals” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপায়। মূল টুইটার পোস্টটি আর খুজে পাওয়া যায়নি। তবে এটিকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য যত প্রতিবেদন ছাপানো হয়েছিল সেগুলো পাওয়া যায়।

ইউএন এবং তাদের ফান্ডিংয়ে পরিচালিত এনজিও দ্বারা বাস্তবায়িত এজেন্ডা ২০৩০ এবং নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের টার্গেট ২০৩০ এর মধ্যে কোন সমন্ময় আছে কিনা তা প্রমাণ ছাড়া সোজাসাপ্টা বলে দেয়ার কোন সুযোগ নাই। কোন সত্যতা থাকলে তা সময় বলে দিবে।

ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি
ওয়ার্ল্ড অর্ডারের তিনটি উল্লেখযোগ্য চালিকা শক্তি হলো নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি। এ সম্পর্কে TEDx একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও আছে। খুবই প্রাসঙ্গিক হওয়ায় এখানেও উল্লেখ করছি। ভিডিওটির টাইটেল হচ্ছে “The Next Global Superpower Isn’t Who You Think”.

TED এর ভিডিওতে নিচের ৩টা অর্ডারের কথা উল্লেখ আছে-

ওয়ার্ল্ড সিকিউরিটি অর্ডার
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক অর্ডার
ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল অর্ডার
এখানে সিকিউরিটি অর্ডার যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বলা যায়। যদিও সেখানে ফাটল ধরেছে। একের পর এক যুদ্ধে তাদের পিছুপা হওয়া সেটাই প্রমাণ করে। সবশেষ রাশিয়ার সাথে প্রক্সিযুদ্ধে হেরে গেলে আমেরিকার একক সিকিউরিটি অর্ডার ভেঙ্গে যাবে। ইকোনমিক অর্ডার অনেক আগেই চায়না ও অন্যান্য দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। অর্থাৎ এটা ইতিমধ্যে মাল্টিপোলার সিস্টেমে ঢুকে গেছে। বাকি থাকল ডিজিটাল অর্ডার যা সম্পূর্ণরূপে কিছু প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে যেখানে চায়না ও আমেরিকা এক ধরনের স্নায়ু যুদ্ধের অবস্থায় রয়েছে।

কিন্তু ইকোনমিক, সিকিউরিটি এবং টেকনোলজি এই তিনটি অর্ডারেই যেভাবে ফাটল ধরেছে তাতে একক পরাশক্তির আসন এখন নড়েবড়ে। নড়েবড়ে হলেও আমেরিকা ও জায়োনিস্ট জোটই শক্তিশালী এখন পর্যন্ত। নড়েবড়ে অবস্থাতেও খোলস বদলানোর প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ প্যাক্স আমেরিকানা থেকে প্যাক্স জুদায়কা। উপরোল্লেখিত লাইনটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, মূল ক্ষমতা কিন্তু ঠিক থাকবে। এটা শুধু খোলস বদলানো। ঠিক আগের মত একটা বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই প্রকিয়াটি পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে। তাহলে এবারও কি তারা জিতবে? এখানেই খেলা! কারা জিতবে?

স্পিরিচুয়াল অর্ডার
নিরাপত্তা, অর্থনীতি বা ডিজিটাল অর্ডার না, আমি হলফ করে বলতে পারি, এবারের যুদ্ধে তারাই চূড়ান্ত বিজয়ী হবে যারা স্পিরিচুয়াল অর্ডারে এগিয়ে থাকবে। এটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী। জানিনা “স্পিরিচুয়াল অর্ডার” শব্দ পূর্বে কেউ ব্যবহার করেছে কিনা। চেষ্টা করলে এটির একটি যুৎসই সংজ্ঞা দার করানো যাবে। সহজ চিন্তায় যে বিষয়টি মাথায় আসে তা হলো ধর্মভিত্তিক আদ্ধাত্নিক শক্তিকেই সংক্ষেপে স্পিরিচুয়াল অর্ডার বলা যায়। এখানে দুটি ফোর্স। একটি হলো ডার্ক ফোর্স অর্থাৎ ফেরেশতা হারুত ও মারুতের বিদ্যাকে অপব্যবহার করে যে অন্ধকার শক্তিগুলো আদ্ধাত্নিক চর্চা করে আসছে সেটি। অপরটি হলো আল্লাহ প্রদত্ত যে বিদ্যা সুলাইমান আ. পেয়েছিলেন। এ সম্পর্কে সূরা বাকারা ১০২ নং আয়াতে বিস্তারিত আছে। এই দুটি বিষয়ের পার্থক্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ –

➤ একটি হচ্ছে হারুত ও মারুতের কাছ থেকে চুরি করা বিদ্যার অপব্যবহার যা মানুষ ও জ্বিন জাতি উভয়ের একটি শ্রেণী কাজটি করে থাকে। এই চুরি করা বিদ্যাচর্চা করে তারা অন্ধকার জগত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছে। এটিই হলো ডার্ক ফোর্স বা অন্ধকার শক্তি।

➤ সুলাইমান আ. কে যে জগত সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ প্রদত্ত। এবং তিনি এর অপব্যবহার করেননি। মানুষ এবং জ্বিন জাতির মধ্যে আল্লাহ যদি কাউকে এই নূর বা ইলম দিয়ে থাকেন তবে তা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অনুগ্রহ। কোন ধরনের কুফরি করে এই জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব না।

প্রসঙ্গটি আনার উদ্দেশ্য হলো ধর্মভিত্তিক যুদ্ধে স্পিরিচুয়াল অর্ডারের গুরুত্ব কতটা তা পরিমাপের কোন মানদণ্ড মানবজাতির কাছে নাই। সঙ্গত কারনে টেডেক্সের আলোচনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের চালিকা শক্তির মধ্যে এর কোন ঠাই হয়নি। এই আদ্ধাত্নিক শক্তির বিষয়ে ইহুদি রাবাইও স্বীকার করেছেন।

এখানে ওনার মতে স্পিরিচুয়ালিটির দিক দিয়ে মুসলমানদের থেকে তারা এগিয়ে। মদিনায় ইহুদিরা জড়ো হয়েছিল কারন তারা জনতো যে সবশেষ নবী আসবে এবং তারা তার অনুসারী হবে। সেই নবীর প্রতি নাযিল হওয়া কিতাবই শ্রেষ্ঠ কিতাব সেটিও জানতো। কিন্তু ক্ষমতার লোভ, চক্রান্ত ও শয়তানের ধোকায় পরে তারা পথভ্রষ্ট হয়। এই কিতাবকে সঠিকভাবে আকড়ে ধরা উম্মতই সেরা। কিন্তু সঠিকভাবে আকড়ে ধরতে পারা ও না পারা নিয়েই আমাদের সমস্যা। যাহোক স্পিরিচুয়ালিটি নিয়ে ওনার শ্রেষ্ঠত্যের দাবির বিরুদ্ধে যুক্তি খন্ডাতে যাবনা। সময় এটা প্রমাণ করে দিবে।

মোট কথা স্পিরিচুয়াল অর্ডারে যারা এগিয়ে থাকবে তারা চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হবে এবং চূড়ান্তভাবে তার দখলে যাবে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার। এখানেই আল আকসা প্রয়োজন। কেন প্রয়োজন চলুন দেখি।

আল আকসার চাবি যার নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার তার দখলে

আল আকসা এবং নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার; আপাত দৃষ্টিতে দুটা দুই ধরনের বিষয়। দুটার সালে মিল খুজতে যাওয়া অনেকের কাছে নেহায়েত হাস্যকর মনে হতে পারে। কোন মিল আছে কিনা তা নিয়ে পূর্বের কোন আলোচনা বা গবেষণা সম্পর্কে আমার জানা নাই। আদৌ কোন মিল আছে কিনা খুজে দেখা যাক। প্রথম প্রশ্ন হলো, একেবারে কোনই সম্পর্ক না থাকলে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার স্বপ্ন যারা দেখছে তারা আল আকসা দখল করা নিয়ে এতটা বেপড়োয়া কেন?

আল আকসা মসজিদ এবং ডম অফ দ্যা রক, দুটি আলাদা স্থাপনা। ধর্মীয় দিক থেকে অত্র এলাকাটি ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলমান অর্থাৎ আর্বাহামিক ধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওয়ার্ল্ড অর্ডার বা বিশ্ব শাসন ক্ষমতার সাথে কি এর কোন সম্পর্ক আছে? এখানে বিশেষ করে ডম অফ দ্যা রকের স্পিরিচুয়াল ক্যানেকশন এবং বিশ্ব শাসন ব্যবস্থার ইতিহাস স্টাডি করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সোলাইমান আ. থেকে দাউদ আ. এর শাসন ব্যবস্থা ছিল আল আকসা তথা জেরুজালেম কেন্দ্রিক। এরপর বাবিলনীয়রা সেটি দখল করে। তখন প্রতাপশালী বাবিলনীয়দের শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল। এরপর রোমানরা সেটি দখল করে। তখন মহা পরাক্রমশালী রোমানদের রাজত্ব ছিল দুনিয়াজুড়ে। এই দুই পর্বেই ইহুদিরা রক্ত বন্যায় ভেসে গিয়েছিল বাবিলনীয় ও রোমানদের দ্বারা। আল আকসায় কোনরকম রক্তক্ষয়ি যুদ্ধ ছাড়া রোমানরা একটি স্বপ্নের বার্তা পেয়ে অলৈকিকভাবে আল আকসার চাবি তুলে দেয় মুসলমানদের হাতে। খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে আল আকসা দখলে আসে। এ সময় মুসলমান হয়ে ওঠে মহা পরাক্রমশালী। তখন থেকে ওসমানি খেলাফত পতনের পূর্ব পর্যন্ত আল আকসা ছিল মুসলমানদের দখলে যে সময়কে মুসলমানদের স্বর্ণ যুগ বলা হয়। ওসমানি খেলাফত পতনের পর শুরু হয় ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থা। তখনই বস্তুত আল আকসা মুসলমানদের কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে যায়। যদিও এ সময় আল আকসার দ্বায়িত্ব থাকে তুরস্কের হাতে। কিন্তু সেই তুরস্ক মডারেট মুসলিম দেশ এবং কামাল আতাতুর্কের হাত ধরে পশ্চিমাদের ডিপ স্টেটে পরিণত হয়। আল আকসাও বেদখল হয়। তুরস্কের কাছ থেকে হস্তান্তরিত হয়ে সেই দায়িত্ব চলে যায় সৌদি রাজ পরিবারের হাতে। কিন্তু বিষয় একই রয়ে যায়। তারাও সেই বিশ্ব পরিচালনাকারী ইহুদি পরিবারের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে না। পেট্রোডলার ও সৌদি নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে যত চুক্তি হয়েছে তার মাধ্যমে সৌদি আরব ঐ বলয়ের বাহিরে গিয়ে কিছু করার সক্ষমতা রাখেনা। কাজেই দৃশ্যত আল আকসা দেকভালের দায়িত্ব সৌদি আরবের নামেমাত্র। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকে যারা পর্দার আড়ালে থেকে বিশ্ব শাসনের মূল চালকের আসনে। তবে ধর্মীয় নিষেধের কারনে উচ্চ পর্যায়ের ইহুদী রাবায় ছাড়া সবার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে। ভালো করে খেয়াল করুন, আল আকসা যেমন পর্দার আড়ালে তাদের নিয়ন্ত্রণে, তেমনি পর্দার আড়ালে বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। দেশ বদল হয়েছে মানে ব্রিটিশ থেকে আমেরিকায় গেছে। কিন্তু পর্দার আড়ালের মূল শক্তি একই আছে।

এবার এই দৃশ্যপটটি বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা পর্দার আড়ালে থাকতে চায়না। কেন এতদিন পর্দার আড়ালে এবং কেন এখন বের হয়ে আসতে চায় সেটি হয়ত পরবর্তী কোন লেখায় উল্লেখ থাকবে। শেষ কথা, আল আকসার চাবি চূড়ান্তভাবে যারা পাবে, নিউ ওয়াল্র্ড অর্ডার তাদের দখলে যাবে।

এই লেখার কিছু বিষয় আমার ব্যক্তিগত গবেষণামাত্র। গবেষণা ভুল হতে পারে, শুদ্ধ হতে পারে অথবা কাছাকাছি হতে পারে। এই গবেষণাকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরে না নেয়ার জন্য পাঠকের কাছে অনুরোধ। এই লেখা যদি কারো কাছে নতুন প্রশ্নের খোড়াক হয়, বেশি বেশি গবেষণার প্রয়াস যোগায়, সত্যের অনুসন্ধানকারীদের নূনতম কাজে আসে, সেখানেই আমার সার্থকতা।

Source: https://www.middlepath.life/new-world-order-an-eschatological-analysis/

TEDx Video: https://www.youtube.com/watch?v=uiUPD-z9DTg
Reference Video: https://www.youtube.com/watch?v=ETxSsTedANA

Who runs the world? Political scientist Ian Bremmer argues it's not as simple as it used to be. With some eye-opening questions about the nature of leadershi...

08/04/2023
27/12/2021

"ধর্ম যার যার উৎসব সবার" বাক্যটার মধ্যে একটা সার্বজনীন ব্যাপার আছে।আমার নিজের ঘরের আনন্দকে সবার ঘরে ছড়িয়ে দিতে পারার ব্যাপারটার মধ্যে একটা ত্যাগী বা নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার ফিলিং পাওয়া যায়, তাইনা?

আসলে ব্যাপারটা একটা সার্বজনীন বোকা বানানোর মন্ত্র। মনে করেন আপনার ঘরে চাল নাই, তখন কিন্তু কেউ একজন এসে আপনার ঘরে টোকা দিয়ে বলবেনা যে এই নিন আপনার রাতের খাবার, অভাব যার যার কিন্তু খাবার সবার। অথবা এই শীতের রাতে যখন আপনি রাস্তায় শুয়ে কাপতেছেন, তখন কেউ একটা কম্বল দিয়ে বলবেনা আজকে থার্টি ফার্স্ট নাইট, একটা কম্বল দিয়ে আপনাকে আমাদের উৎসবে শামিল করলাম। উলটো উৎসবে শামিল হতে হলে আপনাকে নিজের টাকা দিয়ে আতশ বাজি কিনে উড়াতে হবে যাতে সমাজের ওই দুখী মানুষটা কখনো অংশগ্রহন করতে পারবেনা। আপনার উৎসবকে মানুষের উপর না চাপিয়ে দিয়ে মানুষের দুঃখকে নিজের উপর চাপিয়ে নিতে পারেন কিনা দেখেন।

এখন আমরা একটু ইসলামের উৎসব গুলোকে দেখি। ইসলামে মূলত দুটি বড় উৎসব আছে, ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ এবং ঈদুল আযহা বা কোরবানীর ঈদ।

ঈদুল ফিতরে, ঈদের নামাজ আদায় করার আগেই আপনাকে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে যা সমাজের অভাবীদের, মুস্লিম অমুস্লিম নির্বিশেষে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করবে।

ঈদুল আযহার কোরবানীর পশুর চামড়া আপনাকে সমাজের বঞ্চিত দের দিয়ে দিতে হবে এবং আপনার কোরবানীর মাংসের তিন ভাগের দুই ভাগ বিলিয়ে দিতে সুন্নাহ হিসেবে উৎসাহিত করা হয়েছে। সদকাতুল ফিতরের টাকা বা কুরবানির মাংস, আপনি কিন্তু মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে দিতে পারবেন।
আর এখানেই ইসলামের সৌন্দর্য।

আপনি চিন্তা করে দেখুন যে আপনার পহেলা বৈশাখের পান্তা ইলিশ খাওয়া বা ১৪ ই ফেব্রুয়ারীর লাল গোলাপ সমাজের বঞ্চিতদের কথা কতটুকু মনে রাখে আর অপর দিকে ইসলামের উৎসব গুলো আপনাকে কি করতে বলে। আপনার মুখে মুখে বলার প্রয়োজন নেই, ইসলাম লিটারেলি উৎসব সবার কাছে পৌছে দেয়।

ইন্নাদ দীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম।
The less you know it, the more you hate it.
When you come to know it, you fall in love with it.

M Maruf Hossain

30/04/2021

রমজান মাস চলে। আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যাদের যাকাত ফরজ হয়েছে। যাদের যাকাত ফরজ না হলেও ফেতরা দিতে হবে, কিংবা, যারা নিজে সম্পদশালী না হলেও অন্যের সাথে ভাগাভাগী করে নিতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে মোক্ষম সময় হলো রমজান মাস।

দান-খয়রাত ও সদকা-যাকাত ইসলামের বিধিবদ্ধ ইবাদত। মহাগ্রন্থ আল–কোরআনে দানের কথাটি সালাত বা নামাজের মতোই বিরাশিবার(৮২) উল্লেখ হয়েছে। ‘যাকাত’ শব্দটি পবিত্র কোরআনে আছে বত্রিশবার(৩২), নামাজের সঙ্গে কোরআন মাজিদে আছে ছাব্বিশবার(২৬); স্বতন্ত্রভাবে কোরআন কারিমে আছে চারবার(০৪); পবিত্রতা অর্থে রয়েছে দুবার(০২)। যাকাত কখনো ‘সদাকাহ’ এবং কখনো ‘ইনফাক’ শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইনফাক শব্দটি ব্যাপক, সদাকাহ শব্দটি সাধারণ ও যাকাত শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও হয়েছে, অর্থাৎ এ তিনটি শব্দ একে অন্যের স্থলে ব্যবহার হয়েছে।

দানের প্রাথমিক সুনির্দিষ্ট খাতগুলো কোরআন কারিমে উল্লেখ হয়েছে এভাবে, ‘মূলত সদাকাত হলো ফকির, মিসকিন, জাকাতকর্মী ১ (খলিফা কর্তৃক নিযুক্ত জাকাত ব্যবস্থাপনায় কর্মরত ব্যক্তির মজুরি), অনুরক্ত ব্যক্তি, ক্রীতদাস, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে জিহাদ (মানবতা, মানবাধিকার ও মানবসভ্যতার সুরক্ষার জন্য) ও বিপদগ্রস্ত বিদেশি মুসাফিরের জন্য। এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও পরম কৌশলী।’ (সুরা-৯ তাওবা, আয়াত: ৬০)।

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ওপরের হাত নিচের হাত অপেক্ষা উত্তম।’ (মুসলিম)। অর্থাৎ দাতা গ্রহীতা অপেক্ষা শ্রেয়। দান দাতার ইহকালীন ও পরকালীন ফজিলত, সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধি করে। তাই ইজ্জত, হুরমত ও তাজিমের সঙ্গে সযত্নে দান প্রদান করতে হয়। দান–সদকা, খয়রাত সসম্মানে পবিত্র মনে প্রাপকের হাতে পৌঁছে দিতে হয়।
দানের ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। সম্পদ ব্যয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ খাত পিতা–মাতা। আত্মীয়দের মধ্যে ভাইবোনের হক সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি শ্বশুর–শাশুড়ি ও বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয় যাঁরা, তাঁদেরও অগ্রাধিকার রয়েছে। নানা উপলক্ষে তাঁদের হাদিয়া, উপহার ও উপঢৌকন দেওয়া সুন্নাত। সম্ভ্রান্তরা দয়াদাক্ষিণ্য ও করুণা গ্রহণে কুণ্ঠাবোধ করেন; তাই তাঁদের হাদিয়া বা উপহার উপঢৌকন হিসেবে দেওয়াই সমীচীন। এটাই দানের শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। জাকাত–ফিতরাও উল্লেখ না করে দেওয়া যায়; যাতে গ্রহীতা বিব্রত না হন।

কোরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এমন অভাবী লোক, যারা আল্লাহর পথে (ইবাদত ও মানবকল্যাণে) নিজেদের নিয়োজিত রাখার কারণে (উপার্জনের জন্য) দুনিয়া চষে বেড়াতে পারে না। সম্ভ্রান্ততার কারণে অনভিজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবহীন মনে করে। আপনি তাদের চিহ্ন দেখে চিনতে পারবেন। তারা মানুষের কাছে নির্লজ্জভাবে ভিক্ষা করে না। আর তোমরা যেকোনো ভালো জিনিস ব্যয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সে বিষয়ে অবগত আছেন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৭৩)।

দান–খয়রাত প্রকাশ্যেও করা যায়, গোপনেও করা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা দান প্রকাশ্যে করো, তবে তা উত্তম; আর যদি তা গোপনে করো এবং অভাবীদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য শ্রেয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের মন্দগুলো মোচন করে দেবেন। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা অবগত আছেন।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৭১)।

দান করে খোঁটা দিতে নেই। এতে দানের ফজিলত বিনষ্ট হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সদ্ব্যবহার, সুন্দর কথা ওই দান অপেক্ষা উত্তম, যার পেছনে আসে যন্ত্রণা। আল্লাহ তাআলা ঐশ্বর্যশালী ও পরম সহিষ্ণু। হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে বাতিল কোরো না। তাদের মতো যারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে লোকদেখানোর জন্য এবং তারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৬৩-২৬৪)।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘খোঁটাদানকারী বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (তিরমিজি)।
তাই আসুন, সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি দান করি। বড়োভাই " বাদশাহ সুলতান " এর পরামর্শ বেশ ভালো লেগেছে। তাঁর মতে,"যদি কারো যাকাতের পরিমান বেশী হয়, তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা যেখানে পানির খুবই অভাব সেখানে একটা ডিপ টিউবওয়েল খনন করে দিতে পারেন।।।...পানির কষ্ট বড় কষ্ট।।"

28/04/2021

ক্বাবা ঘরে ঢুকার অনুমতি কাদের আছে ?
একসময় কাবা ঘরের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। সবাই পবিত্র কাবা ঘরে প্রবেশ করতে পারতো। পরে কাবা ঘরে সবার অবাধ প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়।এখন তা বিশেষ নিয়ম মেনে দেশটির রাষ্ট্র প্রধান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিয়ম মেনে কাবা ঘরে প্রবেশ করতে পারেন।

পবিত্র কাবা শরীফ পরিস্কার করার জন্যে এর দরজা বছরে দুইবার খোলা হয়। রমজান এর ১৫ দিন আগে এবং হজ্জ এর ১৫ দিন আগে। পরিস্কারের পরে মেঝে এবং দেয়াল সাদা কাপড় ও টিসু দিয়ে মোছা হয়। এরপর দেয়ালগুলি পারফিউম দিয়ে সুগন্ধযুক্ত করা হয়। কাবা শরীফের দরজার চাবি "বনী সায়বা" নামক গোত্রের কাছে থাকে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পবিত্র কাবার চাবী এই গোত্রের কাছে দিয়েছিলেন, যা কিয়ামতের আগ পর্যন্ত তাদের কাছেই থাকবে। তারা কাবা শরীফ পরিস্কার করার কাজের জন্য বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, কুটনীতিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের অভিবাদন জানান। মক্কা শহরের গভর্নর তাদের কাবা শরীফের ভিতরে নিয়ে যান এবং তারা জমজম কুপের পানি এবং গোলাপ জল দিয়ে কাবা শরীফের ভিতর পরিস্কার করেন।❤

ধর্ম ব্যাবসার পরিনতি !
16/04/2021

ধর্ম ব্যাবসার পরিনতি !

Address

Mecca

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamer Alo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share