হৃদয়ে মোহাম্মদ

হৃদয়ে মোহাম্মদ Subhanallah

নফসকে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আসিফ আদনান ভাইয়ের কিছু পরামর্শঃ১. ফজরের পরে না ঘুমানোর অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে কাইলুলা (দুপুরের...
10/06/2021

নফসকে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আসিফ আদনান ভাইয়ের কিছু পরামর্শঃ

১. ফজরের পরে না ঘুমানোর অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে কাইলুলা (দুপুরের হালকা ঘুম) করা যাবে।

২. দিনে ম্যক্সিমাম তিনবার খাবার অভ্যাস করুন। সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারের মাঝখানে হাবিজাবি খাবার যেমন ফাস্টফুড, স্ট্রিটফুড খাওয়া যাবেনা ক্ষুধা লাগলে খেজুর, আপেল এগুলো খাওয়া যায়।

৩. প্রতিবেলা খাবার সময় যেটুকু খাবার যথেষ্ট বলে মনে হবে তার থেকে একটু কম খাবেন।

৪. অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন মন্তব্য করার আগে একবার চিন্তা করুন এই কথাটা আপনি না বললে কি কোন লস আছে? বলা কি আবশ্যিক? উত্তর না হলে ওই কথা বলার দরকার নাই।

৫. সকাল সন্ধ্যার জিকির-আযকার করুন।

৬. ইশরাকের সালাত আদায়ের অভ্যাস করতে হবে।

৭. প্রতিদিন নিয়মত কুরআন পড়ার অভ্যাস করতে হবে। হতে পারে ১ রুকু থেকে ১ পারা - যেকোন পরিমাণ।

৮. ঘুমের পরিমাণ কমাতে হবে।

৯. ফজরের পরে কিছুক্ষণ ব্যায়ামের অভ্যাস করা। আর কিছু না পারলে ১৫-২০ মিনিট জগিং করে এসে গোসল করে ইশরাকের সালাত পড়ার অভ্যাস করা।

১০. দৃষ্টি অবনত রাখা। না পারলে ওইসব জায়গা এড়িয়ে চলার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

১১. ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার (সোশ্যাল মিডিয়া) কম ব্যবহার করা।

১২. প্রতিদিন হিফজের একটা টার্গেট নেয়া। এটা প্রতিদিন এক আয়াতও হতে পারে৷ কিন্তু টার্গেট পুরা করতে হবে। এটা খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ।

১৩. বিশেষকরে রাতে ভরপেট খাওয়া পরিহার করতে হবে৷

08/05/2021
-উফফ..মিদুলকে বললাম কালই টিভি কার্ডটা ভরতে টাকাও দিলাম,এখনো লাইন নাই!-নেই তো কি হয়েছে! কি সুন্দর শান্ত পরিবেশ বিরাজ করতে...
26/09/2020

-উফফ..মিদুলকে বললাম কালই টিভি কার্ডটা ভরতে টাকাও দিলাম,এখনো লাইন নাই!

-নেই তো কি হয়েছে! কি সুন্দর শান্ত পরিবেশ বিরাজ করতেছে।

-ওতো ভাবলে চলে না, গিয়ে দেখ হুজুরের ঘরেও টিভি আছে।

-তার হিসাব সে দিবে, তোমার ঘরে জাহান্নামের বাতি জ্বালানোর কি দরকার?

-রাখ তো, গেলে যাবো জাহান্নাম ওতো ফির কি..

উপরের কথোপকথনটুকু আমার এবং আমার বাবার মাঝে ছিলো। তার শেষ বাক্য শোনার পর আমি হতবাক হয়ে যাই এই ভেবে যে দুনিয়ার মোহ তাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করেছে যে মৃত্যু তার কাছে কিছুই না! অথচ এক হাদিসে আছে প্রিয়নবী কবরের আযাবের চেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু দেখেন নি! আর এ কবরের প্রথম ধাপ নিয়ে আজ মানুষ উদাসীন।

সমাজের এমন অসংখ্য পরিবার আছে যেখানে একদিনে কতবার টিভি অন করা হয়েছে সে হিসেব করলেও বছরে একবারও কুরআনের পাতা খুলে দেখা হয়েছে কি না তা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই! অথচ এ দুনিয়ায় আমরা ক্ষণিকের অতিথি। যেখানে নিজ চিত্তের বিনোদনে মগ্ন থাকলে চিরস্থায়ী বাসস্থান কখনোই সুখকর হবেনা। আর এজন্যই হয়তো নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াস সালাম বলেছেন,
"এ দুনিয়ার সাথে আমার কি সম্পর্ক? এ দুনিয়ার সাথে আমার দৃষ্টান্ত হলো এমন এক অশ্বারোহীর ন্যায় যে গ্রীষ্মের একদিন এক বৃক্ষ ছায়ায় ঈষৎ নিদ্রা গেল, তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো"[আহমদ, আল মুসনাদ ১/৩০১]

পবিত্র কুরআনেও স্পষ্টভাবেই আল্লাহ পাক বলেছেন,
"এ মাটি থেকেই আমি তোমাদের তৈরী করেছি, এ মাটিতেই তোমাকে ফিরিয়ে নিবো এবং এ মাটি থেকেই এ মাটি থেকেই তোমাকে পুনরায় বের করে আনবো"[সূরা ত্বহা-৫৫]
ওয়াল্লাহি! একজন মুমিনের জন্য এ আয়াতের শেষাংশই যথেষ্ট। যে মৃত্যুকে আপনি আমি তোয়াক্কা না করেই দিব্যি মেতে আছি দুনিয়ার রঙে, সেই আমাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহ সুবহানু ওয়া'তালার কাছে। আর এ জবাবদিহিতার দিন সম্পর্কে অবগত করতেও আল্লাহ পাক বলেছেন,
"সেই আগুন থেকে দূরে থাকো, যা কাফেরদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে"[সূরা আল ইমরান-১৩১]

যে জীবনকে আজ আমরা বিনোদনের খোরাক বানাতে ব্যস্ত, সে জীবনকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াস সালাম একটি চতুষ্কোণ বৃত্তের সাথে তুলনা করেছেন! যার চারদিক দিয়েই মৃত্যুর ঘিরে আছে একজন ব্যক্তিকে।
এবার অন্তত একটাবারের জন্যও ভেবে দেখুন যে দুনিয়ার রঙে নিজেকে রাঙাতে ব্যস্ত সে রঙে যখন সাদার প্রলেপ পরবে তখন পারবেন তো খুশি মনে তা গ্রহণ করতে?

| দুনিয়ার রঙ |
✍️লেখা: কারিশমা আনান

FEAR_ALLAH

বেশ কিছু মৃত্যু সংবাদ পরপর পেলাম গত এক বছরে । বিশেষ করে করোনা শুরুর পর হতে এখন পর্যন্ত কাছের-দুরের, আত্মীয়-অনাত্মীয় অনেক...
23/09/2020

বেশ কিছু মৃত্যু সংবাদ পরপর পেলাম গত এক বছরে । বিশেষ করে করোনা শুরুর পর হতে এখন পর্যন্ত কাছের-দুরের, আত্মীয়-অনাত্মীয় অনেক-কেই হারালাম । যারা কিছুদিন আগেও আমাদের মাঝে ছিলো আজ তারা আমাদের জীবনে ভোরের শিশিরের মত অস্তিত্বহীন ।

শিশির সৃষ্টি হয় বাতাসের জলীয় বাষ্প হতে । তারপর সূর্যের প্রখরতায় আবার তা বাতাসেই মিলিয়ে যায় এক সময় ।

জীবন কি কিংবা এর গুরুত্ব কতখানি - এই প্রশ্নের উত্তর বহুদিন বহুরাত খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি । অথচ এই জীবনের অনেকটুকু সময় পার করে এসে আজ বুঝলাম জীবনের সব চাইতে বড় সত্য হলো সেটাই যা আমরা কারও মৃত্যু সংবাদ পেয়ে সচরাচর বলে উঠি -

اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّآ اِلَيۡهِ رٰجِعُوۡنَ

- নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে ।

বুঝলাম, মানুষের জীবনটা অনেকটাই ভোরের শিশিরের মত যার শুরুর উৎস আছে এবং উৎস আছে সময় শেষে ফিরে যাবারও । অতএব, জীবনটা যিনি দিয়েছেন সময় ফুরালে প্রত্যাবর্তন তো কেবল তাঁরই দিকে ...

তবে এ জীবনের শুরুটা হয়েছিলো যাঁর অনুগ্রহে শেষটাতে তাঁর অনুগ্রহ জারি থাকবে কিনা তার সম্পূর্ণ দায়ভার বোধ করি কেবলই আমার নিজের ।

দুনিয়াতে আসার পর মাতা-পিতা সহ অনেকের আনন্দের কারণ হয়েছিলাম, দুনিয়া ছেড়ে যাবার সময় অন্তত নিজের জন্য দয়াময় রাব্বের অনুগ্রহ প্রাপ্তদের একজন হবার আনন্দ নিয়ে যেতে চাই ।

জীবনের গুরুত্ব আমার কাছে আজ কেবল এতটুকুই ....

আল্লাহু মুস্তা’আন
✍️লেখা: Nusrat Zahan

FEAR_ALLAH

সকাল থেকেই ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে,যাকে কুকুর বিড়ালে বৃষ্টি বললেও কম হয়,এ যেন কুকুর-বিড়াল-গরু-ছাগলের পাল এরকম বৃষ্টি,থামার ন...
19/09/2020

সকাল থেকেই ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে,যাকে কুকুর বিড়ালে বৃষ্টি বললেও কম হয়,এ যেন কুকুর-বিড়াল-গরু-ছাগলের পাল এরকম বৃষ্টি,থামার নাম গন্ধ নেই।দেখতে দেখতে সকাল পার হয়ে গেলো কিন্তু বৃষ্টি যে থামছেই না অথচ এদিকে কলেজের জন্য বের হতে হবে। আজকে কুইজ পরীক্ষা ও আছে,যতো ঝড় বৃষ্টি হোক যেতে‌ই হবে।

বের হয়ে যা দেখলাম তাতে আমার চক্ষু চড়কগাছ, হাঁটুর উপর পর্যন্ত পানি।অন্যদিকে বাচ্চাদের তো বুক সমান হয়েছে সেই পানি আর তাতেই কি ঝাঁপাঝাঁপি করছে। স্কুলের জন্য বের হলেও আমি সিউর ছুটি দিয়ে দিয়েছে আর এখন তাদের আনন্দে বাঁধ দেয় কে!
বাচ্চাদের দেখছি আর মনে মনে ভাবছি আমার কি আর এখন আনন্দ করবার বয়স আছে!

এই ওই ভাবতে ভাবতে আর বাচ্চাদের হৈ হুল্লোড় দেখতে দেখতে গলি দিয়ে হেঁটে চলছি। দ্রুত মেইন রোডে উঠতে হবে,ঔখানে বাস কিংবা রিকশা ধরে যেতে হবে মতিঝিল। কিন্তু এদিক ওদিক ভাবনা আমাকে নিয়ে ফেললো সরাসরি এক গর্তে। হঠাৎ করেই শরীরের অর্ধেক ঢুকে একটা বিড়িছিড়ি অবস্থা হলো, নিজেকে আবিষ্কার করলাম এক ড্রেনের আবর্জনার মাঝে।

এই অবস্থা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাই যেখানে দায় সেখানে কলেজ যাওয়ার কথা তো আর মাথায়ও নেই।তাই কোনো মতে উঠে ভিজে একাকার হ‌ওয়া শার্ট প্যান্ট নিয়ে বাসার পথে হাঁটা দিলাম। মনে মনে ভাবছি,"ইশ্ আরেকটু সতর্ক যদি হতাম,আজ এই অবস্থা হতো না, কলেজে যেতে পারতাম, কুইজ দিতে পারতাম।"

এইসব ভাবতে ভাবতেই বাসায় ফিরলাম।ঘরে ঢুকেই সরাসরি বাথরুমে গিয়ে গোসল সারলাম।যোহরের নামাজ পড়ে জায়নামাজ বসে আছি আর ভাবছি আল্লাহ পাক এতো এতো মানুষের মধ্যে আজকে আমাকেই কেনো এই মুছিবতে ফেললো। নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে।এমন হতে পারে এই মুছিবত আমার প্রাপ্য ছিলো, আমার নিজের কোনো গুনাহর কামাই।
আল্লাহ পাক তো বলেছেন,
"আর অবশ্যই আমি তাদেরকে গুরুতর শাস্তির পূর্বে লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে।"[১]

এখন একটু ভয়‌ই হচ্ছে কোন গুনাহ যে করলাম। তবে অন্য এক আয়াতে একটু সুকূন খুঁজে পেলাম যেখানে আল্লাহ তাআলা বিপদ দিয়ে আমাদের গুনাহ মাফ করে দেন এরকম আভাস আছে।আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদের এ ব্যাপারে আশ্বাস দিয়ে বলেন,
وَ مَاۤ اَصَابَکُمۡ مِّنۡ مُّصِیۡبَۃٍ فَبِمَا کَسَبَتۡ اَیۡدِیۡکُمۡ وَ یَعۡفُوۡا عَنۡ کَثِیۡرٍ ﴿ؕ۳۰﴾

"আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন।"[২]

এখন একটু ভালো লাগছে, গুনাহ মাফ হচ্ছে ভেবে একটা শান্তি কাজ করছে, আগের মতো আফসোস কাজ করছে না।মনটা নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে যা হয়ে গেছে তার সাথে।মন ভাবছে একটা হাদীস নিয়ে, যেখানে নবীজী ﷺ বলেছেন,
"মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।"[৩]

সুবহানাল্লাহ!
একটা কাঁটা ফুটলেও এর বিনিময়ে একটা গুনাহ মাফ হতে পারে আর সেখানে এটা তো ছোটোখাটো একটা দুর্ঘটনা।

আবার আরেকটা জিনিস ও হতে পারে এর মধ্য দিয়ে আমার সম্ভাব্য কোনো বড় বিপদ‌ও আল্লাহ বড় কোনো বিপদ‌ও কাটিয়ে দিয়েছেন, ছোট বিপদ আর বড় বিপদে কাটাকাটি।এমন‌ও হতে পারতো কৃত অপরাধের জন্য বিপদটা বেশ বড়ো হতো কিন্তু আল্লাহ পাক উনার রহমত প্রদর্শনস্বরূপ ছোট বিপদ দিয়ে সেটা প্রতিস্থাপন করলেন আর এতেই হলো কাটাকাটি।

মনটা বেশ স্বস্তি পেলো। আল্লাহর কাছে বিপদের জন্য শুকরিয়া আদায় করলাম।
সেদিন রাতে খবর পেলাম, কুইজ পরীক্ষা বাতিল করেছে। খুব ভালো লাগলো শুনে, আল্লাহ পাক হয়তো চান‌ই নাই এই বৃষ্টির মধ্যে কষ্ট করে কলেজে যাই।

কিন্তু, একটা খবর দেখে চুপ হয়ে গেলাম।যে বাসে করে আজ সকালে যাত্রাবাড়ি থেকে মতিঝিল যেতাম সেই বাসটা গুলিস্তানে ব্রেক ফেল করে অ্যাকসিডেন্ট করেছে,আমাদের কলেজের দুইজন আহত হয়েছে। খবর নিয়ে দেখলাম এই দুইজন‌ই আমার ব্যাচমেট।

বেশ কিছুক্ষণ চুপ হয়ে আছি শুনে,যেন ভাবনায় হারিয়ে গেছি। আল্লাহ তাআলা সত্যিই আমার সাথে এক ধরনের কাটাকাটি খেললেন,বিপদের কাটাকাটি।ছোটো মুছিবতে বড় মুছিবত থেকে উদ্ধার, এলাকার গলি পার করার আগেই বাসায় ফিরিয়ে আনা।স্মরন করলাম ইমাম হাসান‌ বসরির কথাগুলো,
"বিপদাপদ ও মুসীবতকে তোমরা অপছন্দ করো না, অনেক বিষয় যা তোমাদের অপছন্দ- তাতেই হয়তো তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে, আর কোনো বিষয় হয়তো তোমাদের কাছে ভালো মনে হচ্ছে অথচ এর মধ্যেই অকল্যাণ লুকিয়ে আছে।"

সত্যিই আমি জানতাম না কি কল্যাণ আছে আমার জন্য, কিন্তু সবর করেছিলাম,আর এতেই আল্লাহ পাক চোখে দেখিয়ে দিলেন কি কল্যাণ তিনি আমার জন্য রেখেছেন। মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলাম আর নিজের ব্যাচমেটদের জন্য দুআ করলাম।

জীবনে তো কতোই কাগজে কলমে কাটাকাটি খেলেছি কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে কাটাকাটির খেলা দেখালেন তা আসলেই সুন্দর, একটু গভীরভাবে ভাবলেই আমরা বিপদেও স্বস্তি খুঁজে পেতে পারি, মুমিনের এরূপ পরিস্থিতি সম্পর্কে‌ই নবীজী ﷺ বলেছেন,
"মুমিনের অবস্থা বড়ই বিস্ময়কর!
তার সবকিছুই কল্যাণকর।
আর এটি শুধু মুমিনেরই বৈশিষ্ট্য, অন্য কারো নয়। সুখ-সচ্ছলতায় মুমিন শোকর আদায় করে ফলে তার কল্যাণ হয়। আবার দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদের সম্মুখীন হলে ধৈর্য্য ধারণ করে। ফলে এটিও তার জন্য কল্যাণকর হয়।"[৪]

[১] সূরা সিজদাহ: আয়াত ২১
[২] সূরা শুরা: আয়াত নং ৩০
[৩] সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৫৬৪১
[৪] সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ২৯৯৯
✍️লেখা: Mahinur Rahman

FEAR_ALLAH

দুঃখ-দুর্দশা গুলো যখন আমাদের একেবারে নুইয়ে দেয়, তখন বুঝতে হবে আমার প্রতিপালক এর সামনে নত হওয়ার সময় হয়েছে ।আমাদের অভা...
19/09/2020

দুঃখ-দুর্দশা গুলো যখন আমাদের একেবারে নুইয়ে দেয়, তখন বুঝতে হবে আমার প্রতিপালক এর সামনে নত হওয়ার সময় হয়েছে ।

আমাদের অভাব যত বড়, এ বিশ্বজাহানের রবের ভান্ডার তার চাইতে অগণিত গুন বড় ।

আসলে ওভাবে সংজ্ঞাটা অনেক দুর্বোধ্য । কত কত রাজা বাদশা কত বিলিওনার এর চলে গেছে , পৃথিবী মনে রাখিনি ।

অথচ কত অসহায়, নিঃস্ব, তিন বেলা খাবার জোটেনি, এমন মানুষ গুলোকে আমরা মনে রেখেছি । আল্লাহ তাদেরকে আমাদের স্মরণে রাখাবেন পৃথিবীর শেষ অবধি ।

অন্তরের রয়েছে এক প্রকার অভাববোধ । এই অভাব বোধ থেকে আসে নিঃসঙ্গতা,হতাশা,মানসিক অস্থিরতা আর বিষন্নতা । মদ সেক্স আর বিত্তে এ অভাব মিটে না । যদি মিটত তবে বিত্তবান আর সেলিব্রিটিদের কোন কষ্ট থাকতো না, আত্মহত্যাও করত না ।

অন্তর তো শুধু অন্তরের মালিকেরই খোঁজ করে । যে অন্তরে রব নেই সে তো মৃত । মাটি ফাটা গ্রীষ্মের তৃষ্ণা সে অন্তরে থাকে সর্বদা ।

আল্লাহর কাছে মত হতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার । সবাই তা পারে না । আল্লাহ যদি কারো উপর অসন্তুষ্ট হন তাহলে ভাত, মাছ বা কাপড় কেড়ে নেন না , শুধু সিজদা করার অনুমতি টুকু কেড়ে নেন ।

জাগতিক সফল আর বিত্তবানদের কাছে এ কথাগুলো অসহ্য লাগবে । অসহায় ,দরিদ্র অসুস্থ, বিপদগ্রস্ত, জেলখানায় বন্দী আর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা আর খুব মানসিক কষ্টে থাকা মানুষগুলো এ কথাগুলোর অর্থ বুঝে ।

ঈমানের প্লেনে চড়ে যে যত উপরে উঠেছে এ জগত তার কাছে ততই বেশি ছোট, ফালতু আর অনর্থক মনে হয়েছে ।

মাটি কামড়ে থাকা আমরা অন্তরের সে সীমাহীন সুখ কই পাবো ?

|সংগৃহীত|

কোনো বেশি দামী গ্যাজেট বা কোনো জিনিস ক্রয় করা মানেই বিলাসিতা, বিষয়টা এমন না। যদি সেটা কোনো প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কেনা হয়।...
19/09/2020

কোনো বেশি দামী গ্যাজেট বা কোনো জিনিস ক্রয় করা মানেই বিলাসিতা, বিষয়টা এমন না। যদি সেটা কোনো প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কেনা হয়। 'প্রশ্ন হতে পারে 'অপ্রয়োজনে কেউ কিছু কেনে নাকি?'
কেনে ভাই, অনেকেই কেনে। নিজেকে যুগের সাথে তাল মেলানোর জন্য কেনে। মনে খায়েশ মেটানোর জন্য কেনে।
মনে করুন আপনি কোথাও জব করেন, যাতায়াতে সমস্যা হয়। একটা মোটরসাইকেল আপনার জন্য দরকার। তাই মোটামুটি বাজেট রেঞ্জের মধ্যে একটা মোটরসাইকেল কিনলেন Bajaj Platina বা Discover বা এরকম কিছু। ৩ বছর ধরে চালাচ্ছেন। অফিস ও প্রয়োজনীয় যাতায়াতের কাজ হয়ে যাচ্ছে সেটা দিয়ে। নিয়মিত পরিচর্যা করছেন, তাই সমস্যাও হচ্ছেনা সেটাতে।
কিন্তু আপনি প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটে বা শোরুমের পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় অনেক লোভনীয় মডেলের বাইক দেখে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন 'এই বাইকে আর চলবে না, এখন Yahama FZ3, বা Bajaj Avenger Street 160 কিনতে হবে'। যদিও এসব বাইকের ফিচারগুলো আপনার প্রয়োজন নাই। টাকা আছে তাই কিনতে হবে।
এটার নামই বিলাসিতা।
ফোন তো এখন প্রয়োজনীয় জিনিসই। ফেসবুক চালানোর বিষয় বাদ দিলেও অনেক অফিসিয়াল কাজের জন্য বা যোগাযোগ রক্ষার জন্যও এখন স্মার্টফোন প্রয়োজন হয়। নিজের কারণে না হলেও অন্যদের কারণে হলেও প্রয়োজন হয়। তো প্রয়োজনের জন্য আপনি 18k মূল্যের Samsung A20s কিনলেন। ফোনটা ব্যবহার করছেন ১ বছর যাবত। প্রয়োজনীয় সব কাজই করতে পারছেন। প্রয়োজন ছাড়াও ফেসবুক, ইউটিউব, টুকটাক ছবি তোলা চলেই যাচ্ছে। কিন্তু চারিপাশে দেখে দেখে আপনার এখন আপডেট ফোন Samsung M31 কিনতে হবে 28k টাকা দিয়ে। যদিও ওটায় থাকা ফিচার গুলো খুব বেশি প্রয়োজন নাই আপনার। টাকা আছে তাই কিনতে হবে। আর যুগের সাথে তাল না মেলালে কেমন দেখা যায়।
এটার নামই বিলাসিতা।
আপনার ব্যবহারের জন্য দুটো পাঞ্জাবি, দুটো জোব্বা, দুটো টিশার্ট, তিনটা প্যান্টা বা আরো কিছু আছে। এছাড়াও আলমারিতে তোলা আছে আরো কিছু। সেগুলো খুব একটা পুরোনোও না। দেখতে খারাপও লাগেনা। কিন্তু মানুষকে দেখানোর জন্য, মনের খায়েশ মেটানোর জন্য প্রতিমাসেই মোটা অংকের টাকা পোশাকের পেছনে ব্যয় করেন আপনি। হয়তো কেনার পর দুএকদিনের বেশি পরেননি এরকমও হয় অনেক। টাকা আছে, মনে চেয়েছে তাই কিনেন।
এটার নামই বিলাসিতা।
ঘরে যেসব ফার্নিচার প্রয়োজন হয়, মোটামুটি টাকা ব্যয় করে সেগুলো কিনলেন। কয়েক বছর ধরে চলছে। কাজ চলে যাচ্ছে আপনার। কিন্তু এখন সেগুলোর চেয়ে নতুন ডিজাইন আসছে বাজারে। ঘরে আর এগুলো মানাচ্ছে না। এগুলো চেনজ করে নতুন জিনিস আনতে হবে। একটু কালার নষ্ট হয়েছে। আবার কালার করলেই চালানো যেত, কিন্তু মানুষ কী বলবে? খ্যাত মনে করবে। তাই আপডেট হতে হবে।
আগেরগুলো দিয়ে কাজ চললেই কী? টাকা আছে, তাই কিনতে হবে।
এটার নামই বিলাসিতা।
মূলত এই অতিরিক্ত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়াটাই হলো 'বস্তুবাদিতা'।
প্রয়োজন নেই, তবুও নতুন কিছু দেখলেই সেটাতে ললুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা। কৃত্রিম প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে নেয়া।

আল্লাহ মানুষকে দুনিয়াতে এজন্য পাঠাননি যে মানুষ দুনিয়াতে বসে বসে দুনিয়া সাজাতে থাকবে। দুনিয়ার জীবনের জন্য মানুষের সেগুলোই করা উচিত যেগুলো দুনিয়াতে থাকার জন্য প্রয়োজন হয়। দুনিয়াকে জান্নাতের মত মনে করলে তো সমস্যা।

অনেকের তো এই কৃত্রিম চাহিদা পূরণের জন্য সামর্থ্যও থাকেনা। তখন আমরা কী করি? সেটাকে ফুলফিল করার জন্য দুনিয়াবী মেহনত বাড়িয়ে দিই। অথচ সেই সময়টুকু আখিরাতের পাথেয় অর্জনে ব্যয় করা যেতো। যেটা চিরস্থায়ী।
যেখানে কোনো চাহিদাই অপূর্ণ থাকবে না, সেটার জন্য সময় বেশি না দিয়ে, আমরা দিচ্ছি প্রয়োজন বহির্ভূত জিনিস হাসিলের পেছনে। কী দুর্ভাগ্য আমাদের।

যুহুদের ইমাম আবু যার গিফারীর (রা) মৃত্যু হয়েছিলো কোন অবস্থায়, মনে আছে? আপনার আমার আমল কি তাদের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে?
আবু যার গিফারী (রা) এখন বেচে থাকলে আমাদেরকে 'পরকালে বিশ্বাসী' ভাবতেন কিনা, কে জানে।

আসলে আমরা তো মরুভূমিতে চলতে থাকা মুসাফিরের মত।
মরিচিকার পেছনেই জীবন ব্যয় করছি।
প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়ার পরও, কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে নিজেদের অতৃপ্ত করে রাখছি।
অল্পে তুষ্টিতে আল্লাহ শান্তি রেখেছেন। সেদিকে না তাকিয়ে সারা দুনিয়ায় শান্তি খুঁজে ফিরছি।

প্রয়োজনীয় আসবাব গ্রহণ করা দোষের নয়। সেটা দামী হলেও দোষের নয়। কিন্তু প্রয়োজন বহির্ভূত, লোক দেখানোর জন্য নিত্য নতুন জিনিসের দিকে লুলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকাই হলো বিলাসিতা, বস্তুবাদিতা। যেটা এই বস্তুবাদি পাশ্চত্য (অ)সভ্যতা আমাদের শিখিয়েছে। শিখিয়েছে যত পারো দুনিয়াকে ভোগ করো। ভোগ করার জন্য অন্য সবকিছু বিসর্জন দাও।
কিন্তু এটা হলো একটা লোপ হোল। এই ভোগের কোনো শেষ নেই।
একটার পর একটা চলতেই থাকবে।

রাসূল (সা) বলেছেন.....

"যদি আদম সন্তানদের দু’ উপত্যকা ভরা সম্পদ থাকে তবুও সে তৃতীয়টার আকাঙ্খা করবে। আর (কবরের) মাটি ছাড়া বনী আদমের পেট কিছুতেই ভরবে না।" {আহমাদ-৩৪০১}
তবুও কিসে আমাদেরকে ধোঁকার মধ্যে রাখছে?

|সংগৃহীত|

15/09/2020

ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম প্রচণ্ড জেদী ছেলে। বাবাকে হারিয়েছিলাম খুব অল্প বয়সে। একটা সময়ে আমাদের ছিল খুব টানা-পোড়নের সংসার। সে সময়ে কত রকম বায়না ধরে যে মাকে বিপাকে ফেলেছিলাম! মনে হলেই লজ্জা লাগে।
খুব ইমোশোনাল ছিলাম। এতো আবেগ দিয়ে নাকি জীবন চলে না। কখনো যুক্তি কিংবা ফলাফল বিচার করে কোন কাজ করতাম না বরং কাজ শেষ হলে নিজেই সে কাজের পিছনে একটা যুক্তি দাঁড় করাতাম। ছেলেবেলা মানেই ছিল ক্রিকেট খেলা। স্কুলে না যেয়ে ক্রিকেট খেলা দেখা। তারপর কৈশোর আসল। এক রাশ আবেগ এসে ভর করল। কোন একজনকে অজানা কারণে মনে ধরল। কিন্তু বেশ ভালোমতই জানতাম, পাহাড়সম লজ্জা নিয়ে কাউকে কিছু বলার সাহস আমার নেই।
হতাশ লাগত। জীবনের কোন মানে খুঁজে পেতাম না। এরকম কত মন খারাপ করা রাত হুমায়ুন আহমেদ-জাফর ইকবালের বই, রবীন্দ্রনাথের গীতি-বিতান পড়ে পড়ে শেষ করেছি তার ইয়াত্তা নেই। কত রাত কল্পনার ডানায় ভর করে ডায়েরী লিখে শেষ করেছি সেটার হিসেবও আমার কাছে নেই। আমার ক্লাসমেটদের উপন্যাসের বই গিফট করতাম। ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’- উপন্যাসটা কত ছেলেকে পড়িয়েছিলাম। হুমায়ুন সাহিত্য চিন্তা-চেতনায়, কথায়-কাজে হেঁয়ালিপনা এনে দিল। পরে জানতে পারলাম, জীবন নাকি এতো হেঁয়ালিতেও চলে না। ছিলাম আর দশটা ছেলের মত। একেবারেই সাধারণ। আলাদা করে চোখে পড়ার মত কিছু আমার কখনোই ছিল না।
ক্লাস টেনে থাকতে ডিসকভারি চ্যানলে স্টিফেন হকিং- এর একটা প্রোগ্রাম দেখেছিলাম। তার সহজ যুক্তিগুলো খুব ভালো লাগত। বাহ! এতো সুন্দর করে বিজ্ঞান বুঝানো যায়! বিজ্ঞানের প্রতি কিছুটা ভালোবাসা সৃষ্টি হলো। কিন্তু মাঝখান দিয়ে চিড় ধরল আমার ঈশ্বরে বিশ্বাসে । আধুনিক এস্ট্রোনমাররা যা করেন স্টিফেন হকিংও তাই করলেন। তিনি বিজ্ঞানের মাঝে সূক্ষ্ণভাবে নাস্তিকতা ঢুকিয়ে দিলেন। সেসময়ে তার বলা সবকিছু বুঝে ফেলেছিলাম এমনটা দাবী করব না। আর “ঈশ্বর বলতে কেউ নেই”- এটাও তিনি আমাকে পুরোপুরি বোঝাতে পারেননি। আসলে বিজ্ঞান দিয়ে পুরোপুরি বোঝানো সম্ভবও না। তবে সন্দেহ জিনিসটা খুবই দূষিত। একবার ঢুকে গেলে সহজে আর বের হতে চায় না।
সেই দূষিত দেহ আর মন আমাকে টানা দুইমাস মসজিদের চৌকাঠ মাড়াতে দেয়নি। জুমার নামায পর্যন্ত পড়িনি। মা জুমার দিন হালকা বকাবকি করে থেমে যেতেন। কিন্তু বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন কখনোই হইনি। মনের এই অবস্থার কথা পরিবারের কারো সাথেই সেভাবে শেয়ার করিনি। ক্লাসমেটদের অনেককেই জিজ্ঞেস করতাম, “প্রমাণ করতে পারবা ঈশ্বর আছেন?” সবাই চোখ বড় বড় করে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত। কেউ হয়তো রসিকতা ভেবে হাসত। ক’দিন পর এসএসসি দিবে এমন ছেলের মুখে এধরনের প্রশ্ন শুনতেও তো অদ্ভুত লাগে।
তবে আমি সবসময়ই স্রষ্টাকে জানার জন্য একটা হাত বাড়িয়ে রেখেছিলাম। আর সে সময়েই হঠাৎ আমাদের ক্যাবলে নতুন একটা চ্যানেল যুক্ত হলো-‘পিস টিভি বাংলা’। আমার এখনো মনে আছে যত যাই হোক, যত পরিক্ষাই থাকুক, কখনোই ‘সত্যের উন্মোচন’ আর ‘সম্মুখ সমরে’ এই দুইটা অনুষ্ঠান মিস করতাম না। মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। মনে হলো এতো সুন্দর প্রজ্ঞাপূর্ণ জীবন-বিধান অবশ্যই একজন স্রষ্টা পাঠিয়েছেন।
একসময় ভালো লাগা শুরু হলো ধর্মের প্রতি। পরিচিত হলাম কিছু ভাইয়ের সাথে যারা আমাদের দেশের প্রচলিত ধর্ম-মতকে উপেক্ষা করে বিশুদ্ধভাবে ইসলাম প্র্যাক্টিস করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু আমার আবেগ এসে আমার যুক্তিকে বাঁধা দিলো। এতো মুভি-গান, তাকে নিয়ে লেখা কবিতা-উপন্যাস সব শুধু ধর্মের কারণে ছেড়ে দিতে হবে? দাঁড়ি রাখতে হবে, টাখনুর উপরে কাপড় পরতে হবে, এই করা যাবে না, সেই করা যাবে না-এতো কিছু মানা সম্ভব?
কিছু সময় থমকে থাকলাম। কলেজ লাইফে ইচ্ছা করল পুরো কুরআনের বাংলাটা পড়ে দেখতে। কুরআন পড়ার সময় যে বিষয়টা আমাকে নাড়া দিত, সেটা হচ্ছে- ‘থট প্রসেস’। কোন আয়াত পড়ে আমি যখন তা নিয়ে চিন্তা করতাম, তারপরের আয়াতেই দেখতাম আল্লাহ্‌ তায়ালা বলছেন, “তোমারা কি ভাব যে...............”-ব­লেই যেন আমার ভাবনাটাকে কোট করে দিলেন! কী আশ্চর্য! ‘আল-কোরআন একাডেমী লন্ডন’- এর সেই বাংলা অনুবাদের কাছে আমি আজীবন ঋণী থাকব। এটি আমার জীবনকে বদলে দিয়েছে। বেঁচে থাকার একটা মানে দিয়েছে। আমার ভেতর তৈরি করেছে জানার স্পৃহাটাকে।
একসময় টেবিলের তাকে ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘গীতিবিতান’- কে সরিয়ে জায়গা করে নিল হাদীসের বইগুলো। তারপরের পথ ছিল কন্টকময়। সেটাও পার হয়েছে আশা-হতাশার দোলাচলে। কেউ যখন প্রথম ইসলাম প্র্যাক্টিস করা শুরু করে তখন তার ঈমানের লেভেল অনেক হাই থাকে। একসময় পরিবেশ ও সঙ্গের দোষে ঈমান উঠা-নামা শুরু করে। মাঝে মাঝে সে নিজেই এমন কাজ করা শুরু করে যেটা সে প্রথম অবস্থায় চিন্তাও করতে পারত না। ব্যাপারটা এমন কখনোই না যে, আজ থেকে সে ইসলাম প্র্যাক্টিস করা শুরু করলো, আর তারপর কখনোই তাকে কোন পাপ-পঙ্কিলতা স্পর্শ করবে না। সে একদম মাসুম হয়ে যাবে। পথটা সরল। কিন্তু নফস, এই সমাজ, বারবার তাকে হোঁচট খাওয়ায়। কিন্তু তাও সে উঠে দাঁড়ায়। পদস্খলন ঘটে। তারপরেও সে থাকে স্রষ্টার দয়া প্রার্থী। তিনি তো বলেছেন, আকাশসম গোনাহ নিয়েও ক্ষমা চাইলে তিনি আমাদের ক্ষমা করে দিবেন।

মাঝে মাঝে নেটে বসে ক্লাসমেটদের ফ্যান্টাসীতে ভরা জীবনটা দেখি। বান্ধবীদের নিয়ে রসালো স্ট্যাটাস, মুভি নিয়ে রিভিও। শুধু ‘চিল’ করার জীবন। আল্লাহ্‌ চাইলেই আমাকেও সেখানে রাখতে পারতেন। এটা ভেবে নিজের হতাশ জীবনে এক চিলতে আলো খুঁজতে চেষ্টা করি।
আমি নিজেকে ট্রুথ সিকার ভাবতে ভালবাসি। ভালবাসি তাদের যারা সত্যকে হৃদয় দিয়ে খুঁজে। হোক সে আস্তিক বা নাস্তিক- সত্য খোঁজার চেষ্টা করলে, হৃদয় দিয়ে চাইলে, আল্লাহ পথ দিয়ে দেন। কেউ তাঁর দিকে এক হাত অগ্রসর হলে তিনি তার দিকে দু’ হাত অগ্রসর হন। কেউ তাঁর দিকে হেঁটে আসলে তিনি তার দিকে দৌড়ে আসেন।
আমি যেমন islamqa, answeringchristianit­y, quraneralo- ভিজিট করেছি, তেমনি ভিজিট করেছি muktomonablog, answeringislam, wikiislam। আমি বিশ্বাস করি একপেশে তথ্য তো কেবল প্রবঞ্চনাই নিয়ে আসে, যদি না তাতে সত্য থাকে।
কেউ যদি জিজ্ঞেস করে আমি মুসলিম কেন তবে বলব – আমি নাস্তিক নই, কারণ আমি বিশ্বাস করি না এই অসীম মহাবিশ্ব শুণ্য থেকে কোন বাহ্যিক ফোর্স ছাড়া আপনা আপনি সৃষ্টি হয়েছে। এতো সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিক মহাবিশ্ব কোন স্রষ্টা ব্যতীত সৃষ্টি হয়েছে সেটা বিশ্বাস করতেও আমার কষ্ট হয়। আমি খ্রিষ্টান নই, কারণ আমি বিশ্বাস করি না একজন মানুষ ঈশ্বরের রূপ নিয়ে পৃথিবীতে আসতে পারেন আর তিনি পৃথিবীর সকল মানুষের পাপের ভার বহন করতে পারেন।

আমি ইহুদিও নই, কারণ আমি মনে করি না স্রষ্টার ধর্ম কোন গোষ্ঠীর বাপ-দাদার সম্পত্তি; ভিন্ন জাতির কারো তাতে প্রবেশে এতো বাধা থাকবে। একেশ্বরবাদী রিলিজিওন হিসেবে এরপর বাকি থাকে কেবল ইসলাম। যেটা আমার কাছে অন্য যে কোন ধর্মের চেয়ে রেশনাল মনে হয়েছে।
যারা ভাবে ‘ইসলাম পালন করলে আমার হাতে এক লম্বা হারামের লিস্ট ধরিয়ে দেয়া হবে- এই করা যাবে না, ঐ করা যাবে না, জগতের সকল আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হবে’- তাদের জন্য কিছু কথা বলে শেষ করি। কারণ, আমি বেশ লম্বা একটা সময় এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলাম। আমরা যেমনটা ভাবি ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও সেরকম না।
এখানেও আনন্দ আছে। কান্না আছে। একটু সময় দিন। আসমান ও জমীনের রবকে একান্তে ডাকুন। একসময় মনে হবে, চোখের পানি কি এতোই সস্তা যে উপন্যাসের বই কিংবা মুভির সীন দেখে কাঁদতে হবে? কাঁদতে যদি হয় তো কতো সত্যি গল্পই সামনে পড়ে আছে। মুস’আব ইবনে উমাইরের (রা) গল্প, খুবাইবের (রা) এর গল্প, আহমেদ ইবনে হাম্বলের(রহ) গল্প, উমার মুখতারের (রহ) গল্প। এ এক লম্বা লিস্ট। সবার জন্য এক রাত করে কাঁদলেও মনে হয় জনম শেষ হয়ে যাবে। শত মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষা, নিঃস্বার্থ আত্নত্যাগের কারণেই আমরা আজকের ইসলামকে পেয়েছি।
এগুলো তো কষ্টের কথা। আনন্দের কিছু কি নেই?
হ্যাঁ আছে, থাকবে না কেন? সেটাও এক লম্বা লিস্ট। বর্ষার দিনে আনন্দ করে বৃষ্টিবিলাস করলে, খালি পায়ে হেঁটে হিমুগিরি করলে সেটাও সওয়াবের খাতায় লেখা হয়। যদি তা আল্লাহর রাসূলকে (সা) ভালোবেসে করা হয়ে থাকে। একইভাবে পূর্ণিমার রাতে প্রিয়তমাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, তাকে চিমটি দিয়ে দুজনে মিলে দৌড়াদৌড়ি করা, তার দিকে প্রেমময় দৃষ্টিতে তাকানো, তাকে জড়িয়ে ধরা - সবই ইবাদতের অংশ। যদি তা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য করা হয়ে থাকে।
আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য আপনি যা যা ছাড়বেন, আল্লাহ্‌ তায়ালা অবশ্যই তার চেয়ে অনেক উত্তম কিছু দান করবেন। গান শোনা ছেড়ে দিলে তিনি আমাদের অন্তরে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দিবেন। আফাসির কণ্ঠে সূরা মুলকের সামনে কি এই পৃথিবীর কোন সঙ্গীত দাঁড়াতে পারবে? মনে হয় না। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য হারাম রিলেশান ত্যাগ করলে তিনি পবিত্র কারো ভালোবাসা দিয়ে আমাদের জীবনটাকে রাঙিয়ে দিবেন।
আমাদের জীবনটা খুব ছোট। যেন শুরু করার আগেই শেষ। এ জীবনে আমরা কেন এসেছি, কী করছি, কোথায় বা যাচ্ছি- এই চিন্তাগুলো করা খুব জরুরী । কিন্তু আমরা তা করি না। আমাদের ভয় হয় যদি নির্মম কোন সত্য বের হয়ে আসে। মাঝে মাঝে এই দুনিয়ার মোহ আমাদের দূরে সরিয়ে রাখে।
আচ্ছা, জীবন মানে আসলে কী? ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটতে ছুটতে অর্ধেক জীবন শেষ করে দেয়া, স্ত্রী আর ছেলে-মেয়েদের পিছনে বাকিটুকু শেষ করে দেয়া, তারপর বৃদ্ধ বয়সে হুইল চেয়ারে বসে না মেলা জীবনের হিসেব মিলাতে মিলাতে কবরে চলে যাওয়া? এটার মানেই কি জীবন? এর জন্যেই কি আমরা পৃথিবীতে এসেছি? শুধু বেঁচে থাকার জন্য, নিজের জীনটাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যে জীবন, সে জীবন তো কুকুরও বাঁচে, শেয়ালও বাঁচে।
সত্য বোঝার চেষ্টা না করলে মানুষ আর দুপেয়ে জন্তুর মাঝে কোন পার্থক্য থাকে কি?
| আল্লাহর কাছে আসার গল্প |
✍️লেখা: শিহাব আহমেদ তুহিন

FEAR_ALLAH

ফজরের পর ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করতেই হবে, যত কষ্টই হোক। এসময় পড়াশোনাসহ যেকোন কাজ করুন, বরকত পাবেন ইনশাআল্লাহ্।রাসূলুল্লাহ স...
15/09/2020

ফজরের পর ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করতেই হবে, যত কষ্টই হোক। এসময় পড়াশোনাসহ যেকোন কাজ করুন, বরকত পাবেন ইনশাআল্লাহ্।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলার মধ্যে তাদের বরকত দাও।’ [আবু দাউদ: হাদিস নং- ২৬০৮]
ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "দিনের প্রথম অংশটি একজন ব্যক্তির যৌবনকালের মত। ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠুন এবং আপনার সকালকে কাজে লাগান।"
যারা ফজরের সলাতই পড়েন না বা পড়তে পারেন না, তারা নিঃসন্দেহে লুজার, হতভাগা। কারণ তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কোনো দায় নেই। সহিহ হাদিসে এসেছে, ফজরের সলাত পড়লে ব্যক্তি আল্লাহর যিম্মায় চলে যায়।
যারা ফজরের সলাত পড়েন তাদেরও বড় একটি অংশ ফজরের পর আবার বিছানায় গা এলিয়ে দেন। এটি বাদ দিতে হবে। কারণ ফজরের পরের সময়টাতে রিযিক বণ্টিত হয় মর্মে সালাফগণের উক্তি আছে। এ সময়ে ঘুমানো মানে নিজের লস। এছাড়া মুসলমানদের ঐতিহ্যই হলো, ফজরের পর দীর্ঘ সময় নিয়ে যিকর করা ও কুরআন তিলাওয়াত করা। এগুলোর দ্বারা দিনটা শুরু করতে পারলে মনটা অন্যরকম প্রশান্তিতে ভরে ওঠে।
রাতের বেলায় অবশ্যই ১১/১২-টার মধ্যে ঘুমাতে হবে। সম্ভব হলে ১০-টার মধ্যে। তাহলে ইনশাআল্লাহ্ ফজরের পরের ঘুম বাদ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের আলস্য দূর করুন। আমীন।
🔎পোষ্ট কার্টেসি : Tasbeeh

FEAR_ALLAH

দুনিয়ার সফলতা, ধনসম্পদ, খ্যাতি এগুলো সবকিছুই সাময়িক। ধনসম্পদ আর সুখ যেমন এক জিনিস নয় তেমনি খ্যাতির সাথেও সুখের কোনো সম্প...
12/09/2020

দুনিয়ার সফলতা, ধনসম্পদ, খ্যাতি এগুলো সবকিছুই সাময়িক। ধনসম্পদ আর সুখ যেমন এক জিনিস নয় তেমনি খ্যাতির সাথেও সুখের কোনো সম্পর্ক নেই। সংবাদপত্রের হেডলাইনে ইদানিং তো বেশকিছু আত্মহত্যার ঘটনা দেখলামই বড় বড় সেলিব্রিটিদের। যাক সেদিকে আর না যাই...
আজ আপনি দুনিয়ার সবচেয়ে উচু শৃঙ্খে আরোহণ করতে আগ্রহী। বাকি জীবনটা যতটা বিলাসিতায় কাটানো যায় তার জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু একবারের জন্য ভাবছেন না যে বাকি জীবনটা কি আদৌ দুনিয়াতে কাটবে কি না! কেননা গল্পটা উল্টোও তো হতে পারে! মনে করেন আপনি যেটা অর্জন করার জন্য এতো মেহনত করছেন তা জীবনের এক পর্যায়ে গিয়ে অর্জন করে ফেললেন। কিন্তু তা অর্জন করার পর তৎক্ষণাৎ যদি আপনি মারা যান তাহলে কি হবে? এতো কষ্ট করে রাতকে দিন করে দ্বীন-দুনিয়া ভূলে যেটার পিছনে ছুটলেন তা ভোগ করতে পারবেন আর তখন?
আসলে দুনিয়াবি অর্জনগুলো এমনই। এগুলোর কোনো স্থায়ীত্ব নেই। যেখানে এই জগৎসংসারটাই অস্থায়ী সেখানে এর অভ্যন্তরীণ অর্জনগুলো স্থায়ী হবে কিভাবে?
অন্যদিকে যেসব কাজ আখিরাতের জন্য করা হয় সেগুলো কখনো অনর্থক হয়না। মূলত সেগুলো করা হয় এই উদ্দেশ্য নিয়ে যে আল্লাহ্ তাআলা এর বিনিময়ে জান্নাত পুরস্কৃত করবেন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। এই জান্নাতের তো কোনো শেষ নেই। সেখানে আর কেউ মৃত্যুবরণ করবেনা। সর্বোচ্চ সুখে শান্তিতে সেখানে সবাই প্রতিটা মুহূর্ত অতিবাহিত করবে। এটাকে বলে প্রকৃত অর্জন। এটা যে অর্জন করতে পারে সেই প্রকৃত সফল ব্যক্তি।
দুনিয়াতে মুটামুটি একটা অবস্থানে থাকতে হলে এর পিছনে একটু মেহনত করতে হয়। এতে খুব বেশি একটা ক্ষতিও নেই। এটা ক্ষতিকর হয়ে উঠে তখনই যখন আমরা এই দুনিয়াটাকে দ্বীনের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই। দুনিয়াতেও চলতে হবে, কিন্তু এই দুনিয়াদারিতাকে এক্সট্রিম লেভেলে নিয়ে গেলে তা অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনার সম্ভাবনা রাখে। সবসময় দ্বীনদারিতাকে দুনিয়াদারিতার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। তাই ইমান-আমল সবার আগে। ইসলামি আইনে যা করা ব্যক্তির উপর অপরিহার্য তা যেকোনো মূল্যে করে নিতে হবে। হোক তা বাস্তবজীবনে লাভহীন!
আর দুনিয়ায় সফল হতে হলেও তো মহান রাব্বুল আ'লামীনের সাহায্য প্রয়োজন। তাই যে চায় দুনিয়া-আখিরাত উভয় জায়গায় সফল হতে তার উচিত অবসর সময়ে আল্লাহ্'র অধিক ইবাদাত করা।
"কাজেই তুমি যখনই অবসর পাবে, ইবাদাতের কঠোর শ্রমে লেগে যাবে।"(ইনশিরাহ : ০৭)
✍️লেখা: Osama Bin Mahmud

FEAR_ALLAH

আচ্ছা কেমন হয় যদি কখনো দেখতে পারেন, আপনার জীবনের সবটুকু সঞ্চয় যা দিয়ে কি না আপনি আপনার বাকি জীবন নির্দ্বিধায় কাটাবেন বলে...
11/09/2020

আচ্ছা কেমন হয় যদি কখনো দেখতে পারেন, আপনার জীবনের সবটুকু সঞ্চয় যা দিয়ে কি না আপনি আপনার বাকি জীবন নির্দ্বিধায় কাটাবেন বলে ভেবেছিলেন তার সমস্তটুক উধাও।একটু কানাকড়িও নেই! পাগল হবেন তো? অনেকে হয়তো এমন অবস্থায় পড়লে সেখানে স্ট্রোকও করবেন।

এবার মনে করুন, আপনার সে সঞ্চয়টুকু ছিলো সারাজীবনে দুনিয়ায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা। আর বাকি জীবন যেখানে আপনি নিশ্চিন্তে কাটাবেন ভাবতেন তা হচ্ছে জান্নাত। হিসাব নিকাশের একটা সময় যখন আপনার নাম ধরে ডাকা হলো আপনি দেখলেন আপনার কামাই করা সমস্ত সঞ্চয় ধূলিসাৎ হয় গেছে। ভাবা যায়! সেখানে তো এতো বড় ঘটনার সম্মুখীন হয়ে আবার মরার সুযোগও থাকবে না। যে আপনি জান্নাতের স্বপ্ন দেখতেন সেই আপনাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জাহান্নামের কাছে।

অবাক লাগছে তাই না? আপনার মতো আমিও অবাক হয়েছিলাম যখন দেখি সূরা কাহাফে আল্লাহ পাক বলছিলেন,
"আমি কি তোমাদের এমন লোকের কথা জানান দিবো না,যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? এরা হচ্ছে সেসব লোক যাদের দুনিয়ার জীবনে সকল আমল ব্যর্থ হচ্ছে। অথচ তারা ভাবছে তারা তো ভালো কাজই করছে।"[সূরা কাহফ-১০৩;১০৪]

হয়তো ভাবছেন আরে বাবাহ নামাজ তো পড়ছি, রোযা রাখছি পর্দা যতটা সম্ভব করছি..কিন্তু দেখা যাবে আড়ালে একান্তে ঠিকই পাপে জড়িয়ে যাচ্ছি গীবত, ব্যভিচারে জড়াচ্ছেন কিংবা ইবাদত করছেন লোক দেখিয়ে। তাহলে জানেন কি আপনার অবস্থা হবে সে সব নারীর ন্যায় যার সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেছেন,
"আর তোমরা সে নারীর মতো হয়ে যেও না, যে নিজেই পরিশ্রম করে সূতা পাকিয়েছে এবং পরে নিজেই সেগুলো টুকরো টুকরো করে ফেলেছে"[সূরা নাহল-৯২]
অর্থাৎ আপনার আমল হবে মরুভূমিতে দেখা মরীচিকা মতো। তৃষ্ণার্ন্ত ব্যক্তি যাকে পানি তো মনে করে কিন্তু আসলে তা শূন্য ব্যতীত কিছু নয়।

এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াস সালাম বলেছেন,
"তোমরা কি জানো কপর্দকহীন অসহায় দরিদ্র কে? আমরা বললাম: আমাদের মধ্যে যার কোনো সম্পদ নেই। তিনি বললেন: সত্যিকারের কপর্দকহীন দরিদ্র আমার উম্মতের সেই ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম নিয়ে হাজির হবে কিন্তু তার নেককর্ম ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। কারণ তারা গোপনে আল্লাহর হারামকৃত পাপে লিপ্ত হতো"[সুনানে ইবনে মাজহা-৪২৪৫]

দিনের বেলা নেক কাজ করে আঁধারে গোপন পাপে লিপ্ত হয়েও যদি নিজেকে জান্নাতি ভাবা শুরু করেন তবে বলবো জান্নাতে যাওয়া এতো সহজ নয়।
পরিশেষে বলবো, নিজ হাতে নিজে জান্নাতে যাওয়ার চাবির সকল ঘাট সচল রাখছেন নাকি চাবির মাথাকে নিজেই ভেঙে ফেলছেন ভেবে দেখুন?

||জান্নাতে যাওয়া সহজ নয়||
✍️লেখা: কারিশমা আনান

FEAR_ALLAH

Address

Doha

Telephone

+97430607444

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হৃদয়ে মোহাম্মদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to হৃদয়ে মোহাম্মদ:

Share