22/08/2020
নারীরা কি আসলেই মার (অসৎ)?
উপরের কৌতুহলী শিরোনামটা হচ্ছে জানার আগ্রহী একজন উপাসিকার খুব খুব আকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন। তিনি আগ্রহের সাথে জানতে চেয়েছিলেন বলে বিষয়টা লেখালেখির ফ্লাটফর্মে নিয়ে আসা। যদিও এরকম একটা প্রশ্ন আমার মাথায়ও ঘুরপাক করতো। কিন্তু ব্যস্ত সময়ের ধাঁধায় পড়ে এতদিন পুরোপুরি মনপ্রাণ সঁপে দিয়ে ত্রিপিটকের সাথে মিলিয়ে দেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এখন সেই উপাসিকার জানার আগ্রহটাকে সম্মান দিতে গিয়েই এ প্রবন্ধের জন্ম। আশাকরি পাঠক এরকম একটা প্রশ্ন যদি আপনার মনেও বাসা বাঁধে তাহলে এটি পড়ে উপকৃত হবেন, ভূলধারণা চলে যাবে।
নারীদের মার হওয়ার বিষয়টা আমিও মনেমনে ভেবে দেখেছি। আসলেই তো, কে-বা খামাকা মার হতে চায় বলুন? কেউ চায় না। বিনা দোষে মার উপাধি লাভ করা সেটা মাথা আউলা করে দেয়ার বিষয়। অন্যদিকে মার শব্দটা হচ্ছে পুরুষবাচক। কিন্তু জুড়ে দেওয়া হয় নারীদের ক্ষেত্রে। তাহলে বিষয়টা কী দাঁড়ালো? বিষয়টা ঠিক আলু বস্তায় ট্রেডমার্ক ব্যবহারের মতো হয়ে গেল না? অর্থাৎ যেমন খুশি মার্কা মেরে দিলাম। আপনিই বলুন, আধুনিক যুগে এসেও সেই আদিম যুগের প্রভাব খাটাতে চান? চাইলে কেন? তারা কি মানুষ নয়? নাকি অবলা-নারী বলে? পুরুষদের সোনার টুকরা বলবে আর নারীদের বলবে ড্রেনের পঁচা (মার)। এটি কি নারী-পুরুষের মারাত্মক ভেদাভেদ অথবা মানবতার চরম বৈষম্য নয়? সে যাইহোক, একটু সবুর করুন। কারণ কথাগুলো এতক্ষণে আপনার মস্তিস্কে সাড়া জাগিয়ে দিয়েছে। তাই একদেশদর্শী পুরুষ হলে বোধহয় ধোক গিলতে কষ্ঠ হচ্ছে, আর নারী হলে নাসিকানন্দ শুরু হয়ে গেছে। আমি কিন্তু কারো পক্ষেই নই। তাই বিষটায়কে জানতে হলে একটু ধৈর্য্য সহকারে পড়ে নিতে হবে। কারণ মূল বিষয়ে চলে যাওয়ার আগে মার সম্পর্কে ইন্ট্রুডাক্টরী জেনে না নিলে আপনার ভূল বুঝার অবকাশ থাকতে পারে। তাই চলুন, ধীরেধীরে পড়ার স্রোতে ভেসে মিশে যায় জ্ঞানসমুদ্রে -
সেই বুদ্ধের সময়কাল থেকে আড়াই হাজার বছরেরও অধিক সময় পেরিয়ে আজঅব্দি বৌদ্ধ সাহিত্যে “মার” একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দখল করে রয়েছে। প্রতিটি বৌদ্ধ নর-নারী পুরোপুরি না হলেও নিজের জানার অবস্থান থেকে অনেকটা মার সম্পর্কে অবগত রয়েছে বলে আমি মনে করি। আপাতদৃষ্টিতে মারের রাজত্বের শাসনকাল ভাবলেই মনে হয়, “মারের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বোধহয় আর বুঝি কখনো শেষ হবে না।” কেননা আমরা ভালোর বিপরীত মন্দের কথা যদি ভাবি তাহলে সেই জগৎটাতে খুঁজে পায় মারের একচ্ছত্র আধিপত্য। তার প্রভাব-প্রতিপত্তির ক্ষমতাও এতো বিশাল যে, সাধারণ অলি-গলি থেকে শুরু করে দুনিয়ার সবখানেই তার প্রভাব। যুগের বদল ঘটেছে। বর্তমানে আধুনিক যুগ। যুগ বদলে যাওয়ায় যুগের সাথে সাথে তার লীলা-খেলাও হয়ে গেছে খুবই আধুনিক আর মারাত্মক মোহনীয়।
মার শব্দটি হচ্ছে মূলত পালি শব্দ। বাংলায় মার শব্দের অর্থ দাঁড় করালে যা হয় তা হলো পাপী, দুষ্কৃতিকারী, অসৎ, লক্ষ্মীছাড়া, হতচ্ছাড়া ইত্যাদি। রোমান হরফে তাকে Māra লিখা হয় যার অর্থ ইংরেজিতে (The Evil One)। তবে বৌদ্ধ সাহিত্যে বা বৌদ্ধদের নিকট মার হিসেবে বেশি পরিচিত। খ্রীষ্টান ও ইসলাম ধর্মমতে ইবলিশ বা শয়তান। হিন্দু ধর্মে শনি বলে অভিহিত করা হয়। বৌদ্ধ সাহিত্যে অর্থকথার পণ্ডিতগণ মারকে বিশেষভাবে সংজ্ঞায়িতও করেছেন। তার ক্রিয়া-কলাপকে করেছেন নানাভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। বের করেছেন মারের প্রকার ও প্রকারভেদ। এখন যদি বলা হয়, মার আসলে কে? এর সোজাসাপ্টা উত্তর হলো, “মারেতী’তি মারো” অর্থাৎ মারে বলেই মার। এরপর আরেকটু সংজ্ঞায়িত করলে অর্থকথার দিকে নজর দিতে পারি। দীর্ঘনিকায়ের অর্থকথায় মারকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, “সত্তে অনত্থে নিযোজেন্তো মারেতীতি মারো” অর্থাৎ সত্ত্বগণকে দুর্বিপাকে ফেলে অত্যাচার করে মারে বলেই মার— দী.নি.অ.১৬৮। আবার অভিধানপ্পদীপিকাটীকা গ্রন্থে বলা হয়েছে, “কুসলধম্মে মারেতীতি মারো“ অর্থাৎ কুশলধর্ম বা ন্যায়নিষ্টতাকে ধংস করে দেয় বলে মার— অভিধা.দী.৪২-৪৩। এভাবে মারের সংজ্ঞা বৌদ্ধ সাহিত্যে দেখতে পাওয়া যায়, যা সবগুলো সারমর্ম করলে অর্থ দাঁড়ায়, দুঃখ থেকে মুক্ত হতে দেয় না বলে মার। লেখার কলেবর না বাড়িয়ে আমি কেবল এ দুটি উদাহরণ দিলাম।
এবার আসি মারের শ্রেণীবিভাগ প্রসঙ্গে। সমগ্র ত্রিপিটকে আমরা মারের পাঁচটি শ্রেবিভাগের উল্লেখ দেখতে পায়। সেগুলো হচ্ছে,১. দেবপুত্র মার ২. ক্লেশমার ৩. স্কন্ধমার ৪. অভিসংস্কার মার এবং ৫. মৃত্যুমার।
তাহলে এবার দেখা যাক এরা কে কি রকম-
১. দেবপুত্র মার : সপ্ত সুগতি ভূমির মধ্যে স্বর্গ হচ্ছে ছয়টি। এই ছয়টি স্বর্গের মধ্যে পরনির্মিত বশবর্তী স্বর্গ নামে যে স্বর্গটি রয়েছে সেই স্বর্গের দেবপুত্রই হচ্ছে দেবপুত্র মার।
২. ক্লেশমার : চার প্রকার আসব (প্রমত্ততা), চার প্রকার ওঘ (প্রবাহ), চার প্রকার যোগ (সংযোগ বা সম্পর্ক), চার প্রকার উপাদান, চার প্রকার গ্রন্থি (গিঁট), ছয় প্রকার নীবরণ (প্রতিবন্ধকতা) ও দশ প্রকার ক্লেশ (ইন্দ্রিয়লালসা)-কে ক্লেশমার বলা হয়।
৩. স্কন্ধমার : পঞ্চস্কন্ধকেই স্কন্ধমার বলা হয়। সেগুলো হচ্ছে- রূপস্কন্ধ, বেদনাস্কন্ধ, সংজ্ঞাস্কন্ধ, সংস্কারস্কন্ধ ও বিজ্ঞানস্কন্ধ।
৪. অভিসংস্কার-মার : পুণ্যাভিসংস্কার, অপুণ্যাভিসংস্কার ও আনেঞ্জাভিসংস্কার এই তিন প্রকার সংস্কারকে অভিসংস্কার-মার বলা হয়।
৫. মৃত্যুমার : মৃত্যুকেই বলা হয় মৃত্যুমার।
এখন আসি সেই কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নটির প্রসঙ্গে। প্রশ্নটি হলো নারীরা কি আসলেই মার, অর্থাৎ অসৎ? এ প্রশ্নটির সাধারণ উত্তর যদি নারীদের নিকট খোঁজা হয়, আমার মনে হয় দু-একজন ছাড়া কেউই স্বীকার করতে চাইবেন না যে তাঁরা মার। যাঁরা স্বীকার করবেন তাঁরাও না বুঝেই করবেন, আর তা না হলে ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার খাতিরে আপাতত স্বীকার করবেন। বাদবাকী যাঁরা মার হতে চান না তারা চুপ থাকবেন না হয় প্রতিবাদ করবেন। কোনো কিছুই যদি না পারেন, তাহলে সমাজের আদিম কুসংস্কারের বিশ্বাস বুকে চাপা দিয়ে চোখের পানি নাকের পানি একাকার করে হজম করা ছাড়া বিকল্প কিছুই দেখছি না।
তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, যে বিষয়টা শতকরা নিরানব্বই পার্সেন্ট গ্রহণযোগ্যতা পায় না বা মেনে নেওয়া যায় না তাহলে সেটা কেন জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়? এমন বিষয় কিনা আবার বুদ্ধ বলেছেন? নারীদের উপাধি দিয়েছেন? ভাবতেও অবাক লাগে যিনি কিনা পৃথিবীর মহামানবরূপে আখ্যায়িত হয়েছেন অথচ তিনি কি করে এমন অশালীন মত পোষণ করতে পারেন। হয়তো তাই মনে করে বুদ্ধকে “নারী বিদ্বেষী” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিনি নাকি নারীদেরকে দেখতে পারতেন না। সেকারণে নাকি তাঁর শিষ্যদেরকেও নারী সংসর্গ বা তাদের সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। পাঠক আপনার কি মনে হয়? মনে অনেক কিছু্ই হতে পারে। কিন্তু না, কেবল মনে করে গেলেই হয় না। কারণ, দুনিয়াতে এই মনে করা-করি থেকেই যত ঝামেলার কারণ। তাই যা মনে হয় সেখান থেকে সত্য, সার ও যৌক্তিকতাকে গ্রহণ করুন।
কেউ কেউ আবার বনভন্তের বিরুদ্ধেও বিরূপ মন্তব্য করেন যে, তাঁর জীবদ্দশায় তিনিও নাকি মেয়েদেরকে মার বলে অপমান করতেন, ভৎসনা করতেন। তাঁর দেশনা থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়ে রেফারেন্স দেয় যে, মেয়েরা নাকি মারের সৈন্য সেজে মনেমনে “চল চল বনবিহারে ভিক্ষুদের ধ্যান ভাঙ্গিতে চল” এই স্লোগান দিয়ে বন বিহারে দলবল নিয়ে চলে আসত। এভাবে এভাবে আরো কতো কি।
কিন্তু কি আর করা! শ্রদ্ধেয় যোগাসিদ্ধি ভন্তের ভাষায় তাদের দশা হচ্ছে, “না বুঝিয়া ছিলাম ভালো, অর্ধেক বুঝি পরান গেলো” অর্থাৎ কোনো একটা বিষয় কেউ যদি সামান্য বুঝতে পারে তাহলে নাকি সে চুপ থাকে। কারণ ব্যপারটা সম্পূর্ণ তার মগজে ঢোকে না। নিজের ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে সে অপরকে ক্ষতি করে না, লাফালাফিও করে না। পুরোপুরি বুঝতে পারলেও চুপ থাকে, কারণ সমস্তই বুঝতে পেরেছে সে। তাই অহেতুক গলাবাজি কিংবা মন্তব্য করা প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং যত্তসব দুঃখের সৃষ্টি অর্ধেক বুঝার কারণে তাহলে !! কথাটা যৌক্তিক বটে, উড়িয়ে দেয়া যাবে না।
আমাদের বুঝতে হবে বুদ্ধ বা বনভন্তে কী বলতে চেয়েছেন। তাঁরা এসব তো ভিক্ষুদেরকে উদ্ধেশ্য করেই বলতেন। ভিক্ষুদের ঠিকে থাকার জন্যে মেয়েদেরকে মারের সাথে তুলনা করতেন কিংবা মারের সৈন্য বলে উদাহরণ টেনে আনতেন। একটা শিশু সন্তানকে মা-বাবা যেমন আড়াল থেকে হালুম হালুম শব্দ করে বাঘ পরিচয় দিয়ে খাড়া জায়গায় পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেন, ঠিক বনভন্তেও আমাদেরকে রূপক অর্থ ব্যবহার করে পাপের দিকে রমিত হওয়া থেকে সতর্ক করতেন। কারণ বনভন্তের কাছে আমরা একটি অবোধ শিশু সন্তানের মতো। তাই সন্তানের সুরক্ষার জন্য মেয়েদেরকে মার, রাক্ষস, বাঘ, চল্লিশ হাজার ভোল্টেজ ইত্যাদি রূপক অর্থ ব্যবহার করলে আমি তো দোষের কিছু দেখি না। ভূলের কিছু দেখি না। বুদ্ধ বা বনভন্তে এভাবে বলে তারা তো কখনো বাঘও হয়নি রাক্ষসও হয়নি। তাহলে আমাদের এত মাতামাতি করার কি আছে? অপরদিকে নারী-পুরুষের যে সহজাত প্রবৃত্তি বা জৈবিক চাহিদার কাছে পরাজিত হয়ে তাঁর সন্তানেরা যাতে রংকাপড় ছেড়ে চলে না যায় তাই সতর্ক করতেন। সাধারণ নারী-পুরুষের মতো তাদেরও মেয়েদের সাথে রসায়ন তৈরী না হয় সেদিকে সাবধানতা অবলম্বন করতেন।
আপনি একটু নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ বিষয়টাকে বিবেচনা করে দেখুন না, যদি ভিক্ষুণী থাকতেন তাহলে বনভন্তে কী বলতেন? নিশ্চই তিনি একই কথা বলতেন। ভিক্ষুণীদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে ভিক্ষুদের হয়তো আরো বেশি উদাহরণ দিয়ে বলতেন। সুতরাং এমন কৌশুলি পন্থা অবলম্বন করতে হয়তো বনভন্তে এই রূপক অর্থগুলিই ব্যবহার করতেন, বুদ্ধও করতেন। আমি জানি না, যারা বুদ্ধ অথবা বনভন্তের বক্তব্যগুলি এভাবে প্রকৃত অর্থ বিপর্যয় ঘটিয়ে অন্যকে প্রভাবিত করে, তাদের অবস্থা পরিণামে কি হবে। তবে পাঠক আপনি যদি সত্যিকার অর্থে বুদ্ধকে এবং বনভন্তেকে জানতে চান, তাহলে বলবো জ্ঞানের স্বচ্ছ ও নির্মল স্থান থেকে জানার চেষ্টা করুন।
এখন আমি বুদ্ধ যে নারী বিদ্বেষী ছিলেন না, বনভন্তে যে মেয়েদের অপমান করতেন না এবং মারের প্রকৃত সৈন্য-সামন্ত কারা, তার সরাসরি পিটকীয় রেফারেন্স দেব। সংযুক্তনিকায়ের মহাবর্গ অধ্যায়ের মার সূত্রের টীকা বলছে : “কাম, অসন্তুষ্টি, ভোগের লালসা, প্রবল আকাঙ্ক্ষা, আলস্য, তন্দ্রা, সন্দেহ, প্রতারণা, জড়তা, লাভ, যশ, সৎকার, মিথ্যালব্ধ খ্যাতি, নিজেকে প্রশংসা করে অপরকে ঘৃণা এই সমস্তই হচ্ছে মারের সৈন্য। কুপরামর্শ, কুপ্রলোভন, ষড়যন্ত্র, মানসিক চাপ প্রয়োগ, উত্তেজনা সৃষ্টি ও কুবুদ্ধি দেয়াসহ ইত্যাদিই হচ্ছে মারের কাজ।”—স.নি.২২২৪
আগের পাঁচ প্রকার মারের বর্ণনা এবং উল্লেখিত মারের সৈন্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাতে আমি মেয়েরা যে মার বা মারের সৈন্য সেটা কোথাও খুঁজে পেলাম না। নাকি আমার চোখের অগোচরে থেকে গেল জানি না। পাঠক আপনিও ভালো করে খুঁজে দেখুন।
শেষকথায় বলবো আমাদের যত সমস্যা বুঝার ক্ষেত্রে, বোঝানোর ক্ষেত্রে। তাই অনুরোধ থাকবে, যাঁরা বুদ্ধের বা বনভন্তের কথাগুলি বুঝিয়ে দেন, যাঁরা বুঝতে চেষ্টা করেন, যাঁরা আলোচনা করেন তাঁরা একটু বুঝেশুনে বলবেন, জানবেন ও আলোচনা করবেন। প্রয়োজনে যা বলবেন তা বলার আগে ভালোভাবে স্টাডি করে নেবেন। নিজে অসমর্থ হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে জেনে নেবেন, বুঝে নেবেন। যাতে আপনার নিজের মুখের কথায় পরিণামে নিজেকেই দুঃখ পেতে না হয়। ভূল হতে পারে সেটা স্বাভাবিক। মানুষেরই তো ভূল হয়। কিন্তু ভূলগুলো আকড়ে ধরে থাকবেন না। এই উত্তরটা জানতে চাওয়া উপাসিকাকে বলতে চাই, নারী হিসেবে নিজেকে মার বলে অহেতুক ছোট মনে করার কোনো দরকার নেই। আপনার দিকে ছুড়ে দেয়া অসার বস্তু অযথা আঁকড়ে ধরে পিছে পড়ে থাকবেন না। কারণ এমন স্বপ্নছেড়া দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিক ইচ্ছাশক্তিকেও ধ্বংস করে দেয়। মনের ভূল ধারণা সত্যকেও খুঁড়ে খুঁড়ে শেষ করে দেয়, মন ছোট হয়ে যায়। এক ধরণের হীনমন্যতায় ভূগতে হয়, মনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা জন্মে না। উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকলে কোনো কিছুতে অগ্রগতি লাভ করা সম্ভব নয়। অন্যের পেছনে পড়ে থাকতে হয়। তাই আপনার ভূলধারণাকে ঝেড়ে ফেলে দিন। ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিত্বের পাশে আরেকটি অমূল্য স্থানে ঠাঁই করে নিতে আপনিও পারেন। আপনার সম্ভাবনাকে কেউ স্বেচ্ছায় মেলে ধরবে না। নিজেকেই দেখিয়ে দিতে হয়, এগিয়ে যান।
লিখেছেন: অভিজ্ঞানন্দ ভিক্ষু উদীয়মান তরুণ লেখক।