Buddhism is a religion of truthfulness

Buddhism is a religion of truthfulness We want to reach Buddha's message to the world people. Namo Buddhaya. Sadhu Sadhu Sadhu.

প্রতিটি মানুষ জ্ঞানীদের শরণে থাকলে, জ্ঞান- বুদ্ধি, কৌশল, বর্ধিত হয়। পাপ-পুণ্য, কুশল-অকুশল,নির্ণয় করতে সহজ হয়। যারা বুদ্ধ...
18/04/2026

প্রতিটি মানুষ জ্ঞানীদের শরণে থাকলে, জ্ঞান- বুদ্ধি, কৌশল, বর্ধিত হয়। পাপ-পুণ্য, কুশল-অকুশল,নির্ণয় করতে সহজ হয়। যারা বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকে তারা জানেনা পাপ-পুণ্য, কুশল-অকুশল, সেহেতু চারি-অপায় ভ্রমণ করতে হয়। সে মন্দ বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তির। তাই তোমরা বুদ্ধ,ধর্ম, সংঘের আশ্রয় করে মনুষ্য সম্পত্তি, দিব্য সম্পত্তি, নির্বাণ সম্পত্তি অর্জন কর।
সাধু 🙏 সাধু 🙏 সাধু 🙏

14/10/2021

আত্মীজয়রাই প্রকৃত বীরপুরুষ

ভগবান বুদ্ধের মতে বীরপুরুষ কে? যিনি নিজেকে জয় করতে পারেন তাঁকে বীর বলে। সবাইকে বীর হতে হবে। যারা কাপুরুষ। হীনবীর্য,নিরুৎসাহী,তারা বৌদ্ধধর্ম পালন করতে পারবে না।যাঁরা বীরপুরুষ, অধ্যবসায়ী,উৎসাহী তাঁরাই পারবে বৌদ্ধধর্ম। বীরপুরুষ হতে হলে নিজেকে জয় করতে হবে। অপরকে জয় করা অপেক্ষা আত্মজয়ই শ্রেষ্ঠ।নিজেকে জয় করতে পারলে পরম সুখ নির্বাণ সাক্ষাৎ করা যায়।
-পূজ্যবনভন্তে

14/04/2021

"আমরা সম্মিলিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গ্রুপে "১৫ই এপ্রিল রোজ বৃহস্পতিবার রাত ৭.৩০ মিনিটে লাইভে আসছে বুদ্ধ কীর্তন "ও অনিত্য গান পরিবেশন করতে।
পরিবেশনায়ঃ হোয়ারাপাড়া শাক্যমুনি কিত্তনীয়া সংঘ, রাউজান, চট্টগ্রাম।

চোখ রাখুন 👇

https://www.facebook.com/groups/309133572805679/

যারা ভাবে চিরদিন থাকিবে সংসারে,এমন মোহান্ধ নর দ্বেষ হিংসা করে।দু'দিনের তরে সবে আছি এ সংসারে, এ কথা জানিলে লোক বিবাদ না ক...
22/08/2020

যারা ভাবে চিরদিন থাকিবে সংসারে,এমন মোহান্ধ নর দ্বেষ হিংসা করে।দু'দিনের তরে সবে আছি এ সংসারে, এ কথা জানিলে লোক বিবাদ না করে।
-গৌতম বুদ্ধ

নারীরা কি আসলেই মার (অসৎ)? উপরের কৌতুহলী শিরোনামটা হচ্ছে জানার আগ্রহী একজন উপাসিকার খুব খুব আকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন। তিনি আগ্র...
22/08/2020

নারীরা কি আসলেই মার (অসৎ)?

উপরের কৌতুহলী শিরোনামটা হচ্ছে জানার আগ্রহী একজন উপাসিকার খুব খুব আকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন। তিনি আগ্রহের সাথে জানতে চেয়েছিলেন বলে বিষয়টা লেখালেখির ফ্লাটফর্মে নিয়ে আসা। যদিও এরকম একটা প্রশ্ন আমার মাথায়ও ঘুরপাক করতো। কিন্তু ব্যস্ত সময়ের ধাঁধায় পড়ে এতদিন পুরোপুরি মনপ্রাণ সঁপে দিয়ে ত্রিপিটকের সাথে মিলিয়ে দেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এখন সেই উপাসিকার জানার আগ্রহটাকে সম্মান দিতে গিয়েই এ প্রবন্ধের জন্ম। আশাকরি পাঠক এরকম একটা প্রশ্ন যদি আপনার মনেও বাসা বাঁধে তাহলে এটি পড়ে উপকৃত হবেন, ভূলধারণা চলে যাবে।

নারীদের মার হওয়ার বিষয়টা আমিও মনেমনে ভেবে দেখেছি। আসলেই তো, কে-বা খামাকা মার হতে চায় বলুন? কেউ চায় না। বিনা দোষে মার উপাধি লাভ করা সেটা মাথা আউলা করে দেয়ার বিষয়। অন্যদিকে মার শব্দটা হচ্ছে পুরুষবাচক। কিন্তু জুড়ে দেওয়া হয় নারীদের ক্ষেত্রে। তাহলে বিষয়টা কী দাঁড়ালো? বিষয়টা ঠিক আলু বস্তায় ট্রেডমার্ক ব্যবহারের মতো হয়ে গেল না? অর্থাৎ যেমন খুশি মার্কা মেরে দিলাম। আপনিই বলুন, আধুনিক যুগে এসেও সেই আদিম যুগের প্রভাব খাটাতে চান? চাইলে কেন? তারা কি মানুষ নয়? নাকি অবলা-নারী বলে? পুরুষদের সোনার টুকরা বলবে আর নারীদের বলবে ড্রেনের পঁচা (মার)। এটি কি নারী-পুরুষের মারাত্মক ভেদাভেদ অথবা মানবতার চরম বৈষম্য নয়? সে যাইহোক, একটু সবুর করুন। কারণ কথাগুলো এতক্ষণে আপনার মস্তিস্কে সাড়া জাগিয়ে দিয়েছে। তাই একদেশদর্শী পুরুষ হলে বোধহয় ধোক গিলতে কষ্ঠ হচ্ছে, আর নারী হলে নাসিকানন্দ শুরু হয়ে গেছে। আমি কিন্তু কারো পক্ষেই নই। তাই বিষটায়কে জানতে হলে একটু ধৈর্য্য সহকারে পড়ে নিতে হবে। কারণ মূল বিষয়ে চলে যাওয়ার আগে মার সম্পর্কে ইন্ট্রুডাক্টরী জেনে না নিলে আপনার ভূল বুঝার অবকাশ থাকতে পারে। তাই চলুন, ধীরেধীরে পড়ার স্রোতে ভেসে মিশে যায় জ্ঞানসমুদ্রে -

সেই বুদ্ধের সময়কাল থেকে আড়াই হাজার বছরেরও অধিক সময় পেরিয়ে আজঅব্দি বৌদ্ধ সাহিত্যে “মার” একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দখল করে রয়েছে। প্রতিটি বৌদ্ধ নর-নারী পুরোপুরি না হলেও নিজের জানার অবস্থান থেকে অনেকটা মার সম্পর্কে অবগত রয়েছে বলে আমি মনে করি। আপাতদৃষ্টিতে মারের রাজত্বের শাসনকাল ভাবলেই মনে হয়, “মারের এই একচ্ছত্র আধিপত্য বোধহয় আর ‍বুঝি কখনো শেষ হবে না।” কেননা আমরা ভালোর বিপরীত মন্দের কথা যদি ভাবি তাহলে সেই জগৎটাতে খুঁজে পায় মারের একচ্ছত্র আধিপত্য। তার প্রভাব-প্রতিপত্তির ক্ষমতাও এতো বিশাল যে, সাধারণ অলি-গলি থেকে শুরু করে দুনিয়ার সবখানেই তার প্রভাব। যুগের বদল ঘটেছে। বর্তমানে আধুনিক যুগ। যুগ বদলে যাওয়ায় যুগের সাথে সাথে তার লীলা-খেলাও হয়ে গেছে খুবই আধুনিক আর মারাত্মক মোহনীয়।

মার শব্দটি হচ্ছে মূলত পালি শব্দ। বাংলায় মার শব্দের অর্থ দাঁড় করালে যা হয় তা হলো পাপী, দুষ্কৃতিকারী, অসৎ, লক্ষ্মীছাড়া, হতচ্ছাড়া ইত্যাদি। রোমান হরফে তাকে Māra লিখা হয় যার অর্থ ইংরেজিতে (The Evil One)। তবে বৌদ্ধ সাহিত্যে বা বৌদ্ধদের নিকট মার হিসেবে বেশি পরিচিত। খ্রীষ্টান ও ইসলাম ধর্মমতে ইবলিশ বা শয়তান। হিন্দু ধর্মে শনি বলে অভিহিত করা হয়। বৌদ্ধ সাহিত্যে অর্থকথার পণ্ডিতগণ মারকে বিশেষভাবে সংজ্ঞায়িতও করেছেন। তার ক্রিয়া-কলাপকে করেছেন নানাভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। বের করেছেন মারের প্রকার ও প্রকারভেদ। এখন যদি বলা হয়, মার আসলে কে? এর সোজাসাপ্টা উত্তর হলো, “মারেতী’তি মারো” অর্থাৎ মারে বলেই মার। এরপর আরেকটু সংজ্ঞায়িত করলে অর্থকথার দিকে নজর দিতে পারি। দীর্ঘনিকায়ের অর্থকথায় মারকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, “সত্তে অনত্থে নিযোজেন্তো মারেতীতি মারো” অর্থাৎ সত্ত্বগণকে দুর্বিপাকে ফেলে অত্যাচার করে মারে বলেই মার— দী.নি.অ.১৬৮। আবার অভিধানপ্পদীপিকাটীকা গ্রন্থে বলা হয়েছে, “কুসলধম্মে মারেতীতি মারো“ অর্থাৎ কুশলধর্ম বা ন্যায়নিষ্টতাকে ধংস করে দেয় বলে মার— অভিধা.দী.৪২-৪৩। এভাবে মারের সংজ্ঞা বৌদ্ধ সাহিত্যে দেখতে পাওয়া যায়, যা সবগুলো সারমর্ম করলে অর্থ দাঁড়ায়, দুঃখ থেকে মুক্ত হতে দেয় না বলে মার। লেখার কলেবর না বাড়িয়ে আমি কেবল এ দুটি উদাহরণ দিলাম।

এবার আসি মারের শ্রেণীবিভাগ প্রসঙ্গে। সমগ্র ত্রিপিটকে আমরা মারের পাঁচটি শ্রেবিভাগের উল্লেখ দেখতে পায়। সেগুলো হচ্ছে,১. দেবপুত্র মার ২. ক্লেশমার ৩. স্কন্ধমার ৪. অভিসংস্কার মার এবং ৫. মৃত্যুমার।

তাহলে এবার দেখা যাক এরা কে কি রকম-
১. দেবপুত্র মার : সপ্ত সুগতি ভূমির মধ্যে স্বর্গ হচ্ছে ছয়টি। এই ছয়টি স্বর্গের মধ্যে পরনির্মিত বশবর্তী স্বর্গ নামে যে স্বর্গটি রয়েছে সেই স্বর্গের দেবপুত্রই হচ্ছে দেবপুত্র মার।

২. ক্লেশমার : চার প্রকার আসব (প্রমত্ততা), চার প্রকার ওঘ (প্রবাহ), চার প্রকার যোগ (সংযোগ বা সম্পর্ক), চার প্রকার উপাদান, চার প্রকার গ্রন্থি (গিঁট), ছয় প্রকার নীবরণ (প্রতিবন্ধকতা) ও দশ প্রকার ক্লেশ (ইন্দ্রিয়লালসা)-কে ক্লেশমার বলা হয়।

৩. স্কন্ধমার : পঞ্চস্কন্ধকেই স্কন্ধমার বলা হয়। সেগুলো হচ্ছে- রূপস্কন্ধ, বেদনাস্কন্ধ, সংজ্ঞাস্কন্ধ, সংস্কারস্কন্ধ ও বিজ্ঞানস্কন্ধ।

৪. অভিসংস্কার-মার : পুণ্যাভিসংস্কার, অপুণ্যাভিসংস্কার ও আনেঞ্জাভিসংস্কার এই তিন প্রকার সংস্কারকে অভিসংস্কার-মার বলা হয়।

৫. মৃত্যুমার : মৃত্যুকেই বলা হয় মৃত্যুমার।

এখন আসি সেই কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নটির প্রসঙ্গে। প্রশ্নটি হলো নারীরা কি আসলেই মার, অর্থাৎ অসৎ? এ প্রশ্নটির সাধারণ উত্তর যদি নারীদের নিকট খোঁজা হয়, আমার মনে হয় দু-একজন ছাড়া কেউই স্বীকার করতে চাইবেন না যে তাঁরা মার। যাঁরা স্বীকার করবেন তাঁরাও না বুঝেই করবেন, আর তা না হলে ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার খাতিরে আপাতত স্বীকার করবেন। বাদবাকী যাঁরা মার হতে চান না তারা চুপ থাকবেন না হয় প্রতিবাদ করবেন। কোনো কিছুই যদি না পারেন, তাহলে সমাজের আদিম কুসংস্কারের বিশ্বাস বুকে চাপা দিয়ে চোখের পানি নাকের পানি একাকার করে হজম করা ছাড়া বিকল্প কিছুই দেখছি না।

তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, যে বিষয়টা শতকরা নিরানব্বই পার্সেন্ট গ্রহণযোগ্যতা পায় না বা মেনে নেওয়া যায় না তাহলে সেটা কেন জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়? এমন বিষয় কিনা আবার বুদ্ধ বলেছেন? নারীদের উপাধি দিয়েছেন? ভাবতেও অবাক লাগে যিনি কিনা পৃথিবীর মহামানবরূপে আখ্যায়িত হয়েছেন অথচ তিনি কি করে এমন অশালীন মত পোষণ করতে পারেন। হয়তো তাই মনে করে বুদ্ধকে “নারী বিদ্বেষী” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিনি নাকি নারীদেরকে দেখতে পারতেন না। সেকারণে নাকি তাঁর শিষ্যদেরকেও নারী সংসর্গ বা তাদের সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। পাঠক আপনার কি মনে হয়? মনে অনেক কিছু্ই হতে পারে। কিন্তু না, কেবল মনে করে গেলেই হয় না। কারণ, দুনিয়াতে এই মনে করা-করি থেকেই যত ঝামেলার কারণ। তাই যা মনে হয় সেখান থেকে সত্য, সার ও যৌক্তিকতাকে গ্রহণ করুন।

কেউ কেউ আবার বনভন্তের বিরুদ্ধেও বিরূপ মন্তব্য করেন যে, তাঁর জীবদ্দশায় তিনিও নাকি মেয়েদেরকে মার বলে অপমান করতেন, ভৎসনা করতেন। তাঁর দেশনা থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়ে রেফারেন্স দেয় যে, মেয়েরা নাকি মারের সৈন্য সেজে মনেমনে “চল চল বনবিহারে ভিক্ষুদের ধ্যান ভাঙ্গিতে চল” এই স্লোগান দিয়ে বন বিহারে দলবল নিয়ে চলে আসত। এভাবে এভাবে আরো কতো কি।

কিন্তু কি আর করা! শ্রদ্ধেয় যোগাসিদ্ধি ভন্তের ভাষায় তাদের দশা হচ্ছে, “না বুঝিয়া ছিলাম ভালো, অর্ধেক বুঝি পরান গেলো” অর্থাৎ কোনো একটা বিষয় কেউ যদি সামান্য বুঝতে পারে তাহলে নাকি সে চুপ থাকে। কারণ ব্যপারটা সম্পূর্ণ তার মগজে ঢোকে না। নিজের ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে সে অপরকে ক্ষতি করে না, লাফালাফিও করে না। পুরোপুরি বুঝতে পারলেও চুপ থাকে, কারণ সমস্তই বুঝতে পেরেছে সে। তাই অহেতুক গলাবাজি কিংবা মন্তব্য করা প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং যত্তসব দুঃখের সৃষ্টি অর্ধেক বুঝার কারণে তাহলে !! কথাটা যৌক্তিক বটে, উড়িয়ে দেয়া যাবে না।

আমাদের বুঝতে হবে বুদ্ধ বা বনভন্তে কী বলতে চেয়েছেন। তাঁরা এসব তো ভিক্ষুদেরকে উদ্ধেশ্য করেই বলতেন। ভিক্ষুদের ঠিকে থাকার জন্যে মেয়েদেরকে মারের সাথে তুলনা করতেন কিংবা মারের সৈন্য বলে উদাহরণ টেনে আনতেন। একটা শিশু সন্তানকে মা-বাবা যেমন আড়াল থেকে হালুম হালুম শব্দ করে বাঘ পরিচয় দিয়ে খাড়া জায়গায় পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেন, ঠিক বনভন্তেও আমাদেরকে রূপক অর্থ ব্যবহার করে পাপের দিকে রমিত হওয়া থেকে সতর্ক করতেন। কারণ বনভন্তের কাছে আমরা একটি অবোধ শিশু সন্তানের মতো। তাই সন্তানের সুরক্ষার জন্য মেয়েদেরকে মার, রাক্ষস, বাঘ, চল্লিশ হাজার ভোল্টেজ ইত্যাদি রূপক অর্থ ব্যবহার করলে আমি তো দোষের কিছু দেখি না। ভূলের কিছু দেখি না। বুদ্ধ বা বনভন্তে এভাবে বলে তারা তো কখনো বাঘও হয়নি রাক্ষসও হয়নি। তাহলে আমাদের এত মাতামাতি করার কি আছে? অপরদিকে নারী-পুরুষের যে সহজাত প্রবৃত্তি বা জৈবিক চাহিদার কাছে পরাজিত হয়ে তাঁর সন্তানেরা যাতে রংকাপড় ছেড়ে চলে না যায় তাই সতর্ক করতেন। সাধারণ নারী-পুরুষের মতো তাদেরও মেয়েদের সাথে রসায়ন তৈরী না হয় সেদিকে সাবধানতা অবলম্বন করতেন।

আপনি একটু নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ বিষয়টাকে বিবেচনা করে দেখুন না, যদি ভিক্ষুণী থাকতেন তাহলে বনভন্তে কী বলতেন? নিশ্চই তিনি একই কথা বলতেন। ভিক্ষুণীদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে ভিক্ষুদের হয়তো আরো বেশি উদাহরণ দিয়ে বলতেন। সুতরাং এমন কৌশুলি পন্থা অবলম্বন করতে হয়তো বনভন্তে এই রূপক অর্থগুলিই ব্যবহার করতেন, বুদ্ধও করতেন। আমি জানি না, যারা বুদ্ধ অথবা বনভন্তের বক্তব্যগুলি এভাবে প্রকৃত অর্থ বিপর্যয় ঘটিয়ে অন্যকে প্রভাবিত করে, তাদের অবস্থা পরিণামে কি হবে। তবে পাঠক আপনি যদি সত্যিকার অর্থে বুদ্ধকে এবং বনভন্তেকে জানতে চান, তাহলে বলবো জ্ঞানের স্বচ্ছ ও নির্মল স্থান থেকে জানার চেষ্টা করুন।

এখন আমি বুদ্ধ যে নারী বিদ্বেষী ছিলেন না, বনভন্তে যে মেয়েদের অপমান করতেন না এবং মারের প্রকৃত সৈন্য-সামন্ত কারা, তার সরাসরি পিটকীয় রেফারেন্স দেব। সংযুক্তনিকায়ের মহাবর্গ অধ্যায়ের মার সূত্রের টীকা বলছে : “কাম, অসন্তুষ্টি, ভোগের লালসা, প্রবল আকাঙ্ক্ষা, আলস্য, তন্দ্রা, সন্দেহ, প্রতারণা, জড়তা, লাভ, যশ, সৎকার, মিথ্যালব্ধ খ্যাতি, নিজেকে প্রশংসা করে অপরকে ঘৃণা এই সমস্তই হচ্ছে মারের সৈন্য। কুপরামর্শ, কুপ্রলোভন, ষড়যন্ত্র, মানসিক চাপ প্রয়োগ, উত্তেজনা সৃষ্টি ও কুবুদ্ধি দেয়াসহ ইত্যাদিই হচ্ছে মারের কাজ।”—স.নি.২২২৪

আগের পাঁচ প্রকার মারের বর্ণনা এবং উল্লেখিত মারের সৈন্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাতে আমি মেয়েরা যে মার বা মারের সৈন্য সেটা কোথাও খুঁজে পেলাম না। নাকি আমার চোখের অগোচরে থেকে গেল জানি না। পাঠক আপনিও ভালো করে খুঁজে দেখুন।

শেষকথায় বলবো আমাদের যত সমস্যা বুঝার ক্ষেত্রে, বোঝানোর ক্ষেত্রে। তাই অনুরোধ থাকবে, যাঁরা বুদ্ধের বা বনভন্তের কথাগুলি বুঝিয়ে দেন, যাঁরা বুঝতে চেষ্টা করেন, যাঁরা আলোচনা করেন তাঁরা একটু বুঝেশুনে বলবেন, জানবেন ও আলোচনা করবেন। প্রয়োজনে যা বলবেন তা বলার আগে ভালোভাবে স্টাডি করে নেবেন। নিজে অসমর্থ হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে জেনে নেবেন, বুঝে নেবেন। যাতে আপনার নিজের মুখের কথায় পরিণামে নিজেকেই দুঃখ পেতে না হয়। ভূল হতে পারে সেটা স্বাভাবিক। মানুষেরই তো ভূল হয়। কিন্তু ভূলগুলো আকড়ে ধরে থাকবেন না। এই উত্তরটা জানতে চাওয়া উপাসিকাকে বলতে চাই, নারী হিসেবে নিজেকে মার বলে অহেতুক ছোট মনে করার কোনো দরকার নেই। আপনার দিকে ছুড়ে দেয়া অসার বস্তু অযথা আঁকড়ে ধরে পিছে পড়ে থাকবেন না। কারণ এমন স্বপ্নছেড়া দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিক ইচ্ছাশক্তিকেও ধ্বংস করে দেয়। মনের ভূল ধারণা সত্যকেও খুঁড়ে খুঁড়ে শেষ করে দেয়, মন ছোট হয়ে যায়। এক ধরণের হীনমন্যতায় ভূগতে হয়, মনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা জন্মে না। উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকলে কোনো কিছুতে অগ্রগতি লাভ করা সম্ভব নয়। অন্যের পেছনে পড়ে থাকতে হয়। তাই আপনার ভূলধারণাকে ঝেড়ে ফেলে দিন। ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিত্বের পাশে আরেকটি অমূল্য স্থানে ঠাঁই করে নিতে আপনিও পারেন। আপনার সম্ভাবনাকে কেউ স্বেচ্ছায় মেলে ধরবে না। নিজেকেই দেখিয়ে দিতে হয়, এগিয়ে যান।

লিখেছেন: অভিজ্ঞানন্দ ভিক্ষু উদীয়মান তরুণ লেখক।

🌺🌺জল দ্বারা প্রলয়🌺🌺::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::🌺জলের দ্বারা সৃষ্টি প্রলয় হইবার সময় প্...
04/08/2020

🌺🌺জল দ্বারা প্রলয়🌺🌺
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
🌺জলের দ্বারা সৃষ্টি প্রলয় হইবার সময় প্রথমে মহামেঘের প্রার্দুভাব হয়। অপরাপর অবস্থা পূর্ববৎ জ্ঞাতব্য যাহা কিছু তারতমা আছে, তাহাই এখানে বর্ণনা করা যাইতেছে।

সৃষ্টি ধ্বংসকারী দ্বিতীয় সূর্যের স্থলে ক্ষার জল বর্ষণকারী মহামেঘের সৃষ্টি হইয়া প্রথমে সামানা বর্ষণ হইতে থাকে। পরে মুষল ধারে বর্ষিত হইয়া কোটিশত সহস্র চক্রবাল ক্ষারজলে পরিপূর্ণ হয় সে জলের ক্ষারত্ব গুণে, জলে প্রক্ষিপ্ত লবণ কণার ন্যায় পৃথিবী ও পর্বতাদি অচিরে বিলীন হইয়া যায়। সেই ক্ষার জল নিম্নতম সঞ্ধারক বায়ুর উপর সংস্থিত থাকিয়া ক্রমান্বয়ে পৃথিবীর সমস্ত বিলীন করিয়া তৃতীয় ধ্যান ভূমি শুভাকীর্ণ ব্রহ্মলোক নিম্নভাগে গিয়া পৌঁছে । অতএব অপ্রমাণ শুভ পর্যন্ত (৮) আটটি ব্রহ্মলােক ধ্বংস হয়। সর্বত্র ক্ষারজলে পরিপূর্ণ হয়। তাই বলা হইয়াছে 'জগত যখন জল দ্বারা ধ্বংস হয় তখন জল কুপিত হইয়া কোটিশত সহস্র চক্রবাল বিলীন করে। সৃষ্টি বিনাশী জল সৃষ্ট বস্তুর কেশাগ্রমাত্র ও অবশিষ্ট না রাখিয়া অর্থাৎ সমস্ত ধ্বংস করিয়া সহসা অন্তর্হিত হইয়া যায়। তখন নিম্ন উর্ধ সমস্ত আকাশ মহান্ধকারে সমাচ্ছন্ন হয়। [এই পর্যধ সমস্ত পূর্ববং যাহা পার্থক্য শুধু তাহাই বর্ণনা হইতেছে ৷] অপ্রমাণ শুভ ব্রহ্মলােকাদি উৎপন্ন হওয়ার পর জীবকূল শুভকীর্ণ ব্রহ্মলোক থেকে চ্যুত হইয়া নিম্নে সৃষ্ট ঐ ব্রহ্মলোক উৎপন্ন

হয়। এখানে কল্প বিধ্বংসী মহামেঘ উ্থিত হওয়ার সময় হইতে ক্ষারজলের অন্তর্ধান পর্যন্ত এক অসংখ্য কল্প ক্ষারজলের অন্তর্ধানের সময় হইতে পৃথিবী সৃষ্টিকারী মহামেঘ বর্ষণকাল পর্যন্ত দ্বিতীয় অসংখ্য কল্প। চন্দ্র সূর্যের উদয় সকাল হইতে বৃষ্টি বিনাশী মহামেঘের উৎপত্তিকাল পর্যন্ত চতুর্থ অসংখ্য কল্প। এই চারি অসংখ্য কল্পের সমষ্টিতে মহাকল্প হয়। এই রূপে জলের দ্বারা সৃষ্টি প্রলয় হইয়া থাকে🌺।

🌹জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক🌹।

পূজ্য বনভন্তের অনুপ্রেরণায় যেসব মূল পিটকীয় বই বাংলায় অনূদিত হয়েছে : --------------------------------------------------আজ...
19/07/2020

পূজ্য বনভন্তের অনুপ্রেরণায় যেসব মূল পিটকীয় বই বাংলায় অনূদিত হয়েছে :
--------------------------------------------------

আজ থেকে প্রায় সোয়া শ’ বছর আগে থেকে পালি ভাষা থেকে মূল ত্রিপিটকের বইগুলো বাংলায় অনুবাদ করা শুরু হলেও এতোদিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ত্রিপিটকের বাংলা অনুবাদ সম্ভব হয়নি। একদম শুরুর দিকে পূর্ণোদ্যমে মূল ত্রিপিটকের বইগুলোর অনুবাদ শুরু হলেও মাঝখানে তা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

মাঝখানে দীর্ঘ বিরতির পর পরম পূজ্য বনভন্তে তাঁর ধর্মদেশনায় অননূদিত ত্রিপিটকের বইগুলো অনুবাদের জন্য ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করেন। বর্তমানে পরম পূজ্য বনভান্তের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ত্রিপিটককে পূর্ণাঙ্গরূপে বাংলায় অনুবাদের লক্ষ্যে বিগত কয়েক বছরের মধ্যেই ত্রিপিটকের ৩২টিরও বেশি বই অনুবাদ করা হয়েছে। সকলের সম্যক অবগতির জন্যই নিচে একটি তালিকা তুলে ধরা হলো :

১. পারাজিকা - অনুবাদ : বুদ্ধবংশ ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
২. পাচিত্তিয় - অনুবাদ : করুণাবংশ ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
৩. ভিক্ষুণী-বিভঙ্গ - অনুবাদ: প্রজ্ঞাবংশ মহাস্থবির (প্রথম অনুবাদ)
৪. অপদান (১ম খণ্ড) - অনুবাদ: করুণাবংশ ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
৫. অপদান (২য় খণ্ড) - অনুবাদ: করুণাবংশ ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
৬. যমক (১ম খণ্ড) - অনুবাদ: করুণাবংশ ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
৭. যমক (২য় খণ্ড) - অনুবাদ: করুণাবংশ ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
৮. যমক (৩য় খণ্ড) - অনুবাদ: করুণাবংশ ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
৯. পট্ঠান (১ম খণ্ড) - অনুবাদ: রাহুল ভিক্ষু (দ্বিতীয় অনুবাদ)
১০. পট্ঠান (২য় খণ্ড) - অনুবাদ: রাহুল ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
১১. পট্ঠান (৩য় খণ্ড) - অনুবাদ: রাহুল ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
১২. পট্ঠান (৪র্থ খণ্ড) - অনুবাদ: রাহুল ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
১৩. পট্ঠান (৫ম খণ্ড) - অনুবাদ: রাহুল ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
১৪. প্রতিসম্ভিদামার্গ - অনুবাদ: যৌথ (প্রথম অনুবাদ)
১৫. পরিবার - অনুবাদ: প্রজ্ঞাবংশ মহাস্থবির (প্রথম অনুবাদ)
১৬. চূলনির্দেশ- অনুবাদ: যৌথ (প্রথম অনুবাদ)
১৭. মহানির্দেশ- অনুবাদ: যৌথ (প্রথম অনুবাদ)
১৮. অঙ্গুত্তরনিকায়ে (৫ম নিপাত) - অনুবাদ: প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
১৯. অঙ্গুত্তরনিকায় (ষষ্ঠ নিপাত) - অনুবাদ: প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
২০. অঙ্গুত্তরনিকায়ে (৫ম খণ্ড) - অনুবাদ: প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
২১. সংযুক্তনিকায় - ৫ম খণ্ড (মহাবর্গ) - অনুবাদ: যৌথ (প্রথম অনুবাদ)
২২. কথাবত্থু - অনুবাদ: জ্ঞানশান্ত ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
২৩. পিটকোপদশ - অনুবাদ: সম্বোধি ভিক্ষু (প্রথম অনুবাদ)
২৪. পিটকোপদেশ - অনুবাদ: করুণাবংশ ভিক্ষু ও রাহুল ভিক্ষু (দ্বিতীয় অনুবাদ)
২৫. ইতিবুত্তক - মেত্তাবংশ ভিক্ষু (দ্বিতীয় অনুবাদ)
২৬. পট্ঠান (৩য় খণ্ড) - মেত্তাবংশ ভিক্ষু (দ্বিতীয় অনুবাদ)
২৭. পট্ঠান (৪র্থ খণ্ড) - মেত্তাবংশ ভিক্ষু ও প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু (দ্বিতীয় অনুবাদ)
২৮. চূলবর্গ - অনুবাদ: ইন্দ্রগুপ্ত ভিক্ষু (দ্বিতীয় অনুবাদ)
২৯. ধর্মসঙ্গণী - অনুবাদ: করুণাবংশ ভিক্ষু (দ্বিতীয় অনুবাদ)
৩০. সংযুক্তনিকায় (১ম খণ্ড) - অনুবাদ: যৌথ (দ্বিতীয় অনুবাদ)
৩১. সংযুক্তনিকায় (২য় খণ্ড) - অনুবাদ: যৌথ (দ্বিতীয় অনুবাদ)
৩২. সংযুক্তনিকায় (৩য় খণ্ড) - অনুবাদ: যৌথ (প্রথম অনুবাদ)
------------------------------------------------
৩৩. সংযুক্তনিকায় (৫ম খণ্ড) - অনুবাদ: ধর্মদীপ ভিক্ষু(দ্বিতীয় অনুবাদ)
৩৪. থেরী অপদান - অনুবাদ: সম্বোধি ভিক্ষু(প্রথম অনুবাদ)

এতেই প্রমাণিত হয় যে, বাংলায় পূর্ণাঙ্গ ত্রিপিটক অনুবাদের ক্ষেত্রে পূজ্য বনভন্তের অবদান কতটুকু। আশা করি, কৃতজ্ঞজন মাত্রই তা স্বীকার করবেন।

(***আমরা বড়ুয়া, চাকমা, মারমা এভাবে জাত ধরে উল্লেখ করতে চাই না। কারণ বৌদ্ধ হিসেবে আমরা জাতিবাদে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সবাই বুদ্ধের অনুসারী, বৌদ্ধ, বুদ্ধপুত্র।***)

 ো_বুদ্ধায়______🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏বৌদ্ধ গৃহ ও গৃহীজীবন********************** ভগবান বুদ্ধ বলিলেন—হে গৃহী, তুমি তোমার গৃহকে মঙ্...
10/07/2020

ো_বুদ্ধায়______
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

বৌদ্ধ গৃহ ও গৃহীজীবন
**********************

ভগবান বুদ্ধ বলিলেন—হে গৃহী, তুমি তোমার গৃহকে মঙ্গলের উজ্জ্বল আলোকে প্রদীপ্ত কর তোমার গৃহের সর্ব্বদিক মঙ্গল দ্বারা সুরক্ষিত কর; প্রাণহীন বাহ্য ক্রিয়াকলাপ দ্বারা ইহা রক্ষিত হইতে পারে না।
হে গৃহী, পিতামাতার সেবা কর, তাঁহাদের সম্পত্তি রক্ষা কর, সর্ব্বতোভাবে তাঁহাদের উত্তরাধিকারী হইবার যোগ্য হও, তাঁহারা পরলোকে গমন করিয়া থাকিলে শ্রদ্ধার সহিত তাঁহাদিগকে স্মরণ কর, তাহা হইলেই তোমার গৃহের একদিক সুরক্ষিত হইবে। যিনি তোমার জ্ঞাননেত্র উন্মীলিত করিলেন, সেই গুরুকে দেখিবামাত্র দণ্ডায়মান হইও, তাঁহার সেবা করিও, আদেশ পালন করিও, তাঁহার অভাব মোচন করিও এবং তিনি যে উপদেশ দান করিবেন, তাহা মনোযোগপূর্ব্বক শ্রবণ করিও; তাহা হইতে তোমার গৃহের অন্য একটি দিক মঙ্গলে রক্ষিত হইবে। যিনি তোমার সহধর্ম্মিণী, সহকর্ম্মণী, সহভোগিনী সেই স্ত্রীকে সম্মান দেখাইও, তাঁহার সহিত কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করিও না, তিনি যাহাতে তোমার প্রতি শ্রদ্ধাসম্পন্ন হন তাহার চেষ্টা করিও, তাঁহাকে বস্ত্রালঙ্কার দান করিও এবং তোমার আত্মজ পুত্র কন্যাদিগকে পাপ কর্ম্ম হইতে বিরত রাখিও। ধর্ম্ম, বিজ্ঞান ও শিল্প শিক্ষা দিও, তাহাদিগকে আপন সম্পত্তির উপযুক্ত উত্তরাধিকার করিও; তাহা হইতে তোমার গৃহের অপর একটি দিক মঙ্গল দ্বারা সুরক্ষিত হইবে। যাঁহারা তোমার হিতৈষী আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু, তাঁহাদের সহিত সদালাপ করিও, তাঁহাদিগকে উপহার দিও, তাঁহাদের হিতসাধন করিও, তাঁহাদিগকে আপনার তুল্য জ্ঞান করিও, নিজের ধন সম্পদের একাংশ তাঁহাদিগকে দান করিও, তাঁহাদিগকে বিপথগামী হইতে দিও না, দরিদ্র হইয়া পড়িলে তাঁহাদিগকে আশ্রয় দিও, তাহাদের পরিজনগণের সহিত সদয় ব্যবহার করিও; তাহা হইলে তোমার গৃহের একটি দিক মঙ্গলে রক্ষিত হইবে। পরার্থে যাঁহারা আপনাদিগকে উৎসর্জ্জন করিয়াছেন, যাঁহাদের কল্যাণ কামনা নিরপেক্ষভাবে সর্ব্বজীবের প্রতি বর্ষিত হইতেছে, সেই সাধুসজ্জনদিগকে তুমি কায়মনোবাক্যে সেবা করিও, তাঁহাদিগকে অন্ন বস্ত্র দান করিও, শ্রদ্ধাপূর্ব্বক তাহাদিগকে স্বগৃহে অতিথিরূপে বরণ করিয়া লইও; তাহা হইলে তোমার গৃহের আর একটি দিক মহামঙ্গলের প্রভায় রক্ষিত হইবে। দেহের দ্বারা মনের দ্বারা যাহারা তোমার সেবা করে, তোমার সন্তোষবিধানের জন্য যাহারা সর্ব্বদা তৎপর রহিয়াছে, তুমি সেই দাসদাসীদিগকে কর্ম্ম ভাগ করিয়া দিও; অন্ন দিয়া বেতন দিয়া পারিতোষিক দিয়া তাহাদিগকে প্রতিপালন করিও; আপনি যে সুস্বাদু দ্রব্য আহার কর তাহার অংশ তাহাদিগকে বণ্টন করিয়া দিও, মাঝে মাঝে তাহাদিগকে কর্ম্ম হইতে অবসর দিয়া সন্তুষ্ট রাখিও এবং তাহারা রুগ্ন হইলে তাহাদিগকে ঔষধ পথ্য দান করিও; তাহা হইলে তোমার গৃহের অপর একটি দিক মঙ্গলমণ্ডিত হইয়া সুরক্ষিত হইবে।

বুদ্ধ বলিলেন—হে গৃহী, যিনি ধর্ম্মকে ভাল বাসিবেন, তিনিই বিজয়ী হইবেন, যিনি ধর্ম্মকে ঘৃণা করিবেন, তিনিই পরাভূত হইবেন। দুর্জ্জন যাহার প্রিয়, যে ব্যক্তি সাধুজনের আচরণ বর্জ্জন করিয়া দুর্জ্জনের অনুসরণ করে, তাহার পরাভব সুনিশ্চিত। জনস্রোতের সঙ্গে যে জন আপনাকে ভাসাইয়া দিয়া তন্দ্রিতভাবে উদ্যমহীন বীর্য্যহীন জীবন যাপন করে এবং যে ব্যক্তি ক্রোধপরায়ণ তাহাকে পরাভব স্বীকার করিতেই হয়। যে ব্যক্তি ঐশ্বর্য্যের অধিকারী হইয়াও বৃদ্ধ জনকজননীর ভরণ পোষণ করে না তাহার পরাভব অবশ্যম্ভাবী।

সাধুসজ্জনকে যে ব্যক্তি মিথ্যাদ্বারা প্রতারিত করে, তাহাকেই পরাভূত হইতে হয়। যে আত্মম্ভরি ব্যক্তি অশেষ ধনধান্যের অধিকারী হইয়াও সমস্ত সুখসেব্য পদার্থ একাকী ভোগ করে, তাহার পরাভব নিশ্চিত। ধনের গর্ব্বে, কুলের অভিমানে এবং বংশের গৌরবে যে ব্যক্তি অন্ধ হইয়া আত্মীয়দিগকে ঘৃণা করিয়া থাকে, তাহারি পরাভব ঘটিয়া থাকে। যে ব্যক্তি ব্যাভিচারে, মদ্যপানে এবং অক্ষক্রীড়ায় প্রমত্ত, সে পরাভূত হইবেই। তাহারই পরাভব হইবে, যে আপনার ধর্ম্মপত্নীর প্রতি বিরক্ত, অন্যের স্ত্রীর প্রতি অনুরক্ত। যে ব্যক্তি আপনার অল্প সম্পত্তিতে অতৃপ্ত হইয়া সাম্রাজ্যের অধিকার কামনা করে তাহাকেই পরাভব স্বীকার করিতেই হয়।

গৃহের সর্ব্বদিক যেমন মঙ্গলের দ্বারা সুরক্ষিত করিবার জন্য মহামতি বুদ্ধ গৃহীকে আদেশ করিলেন, তেমনি তিনি তাঁহার আপনার অন্তর বাহির উভয়দিক পুণ্য পবিত্রতার মঙ্গলবর্ম্মে আচ্ছাদিত করিতে উপদেশ দান করিয়াছেন। তিনি গৃহীকে কহিলেন—হে গৃহী, তোমাকে যখন গৃহধর্ম পালন করিতে হইবে, তুমি কোনোক্রমে ভিক্ষুর ব্রত সম্যক্ প্রতিপালন করিতে পারিবে না, তুমি যাহাতে সাধু গৃহস্থ হইতে পার, আমি তাহার জন্য তোমাকে নিম্নলিখিত ব্রত গ্রহণ করিতে বলিতেছি—
তুমি কদাচ জীবহত্যা করিও না, করাইও না কিংবা অপরের জীবহত্যার অনুমোদন করিও না। সবল, দুর্ব্বল সর্ব্বপ্রাণীর হিংসা হইতে বিরত হও।
যাহা তোমাকে দেওয়া হয় নাই, তাহা স্বয়ং কিংবা অন্যের সহায়তায় অপহরণ করিও না। সর্ব্বপ্রকার চৌর্য্য হইতে বিরক্ত হও।
জ্ঞানী ব্যক্তি ইন্দ্রিয়ের অসংযম জ্বলন্ত অঙ্গার তুল্যজ্ঞান করিয়া বর্জ্জন করিয়া থাকেন। যদি তুমি তোমার প্রবৃত্তির উপর সম্পূর্ণ জয়ী হইতে অসমর্থ হও, তাহা হইলেও কদাচ ব্যভিচার করিও না। তুমি মিথ্যা কহিও না, অন্যকে দিয়া মিথ্যা বলাইও না। মিথ্যাভাষণের পক্ষ সমর্থন করিও না, সর্ব্ববিধ মিথ্যার সংশ্রব হইতে মুক্ত থাকিবে। সদ্ধর্মের প্রতি তোমার যদি কিছুমাত্র অনুরাগ থাকে, তাহা হইলে সুরাপান করিও না, অন্যকে পান করিতে দিও না, অন্যকে পানের অনুমোদন করিও না। ‘সুরাপানে উন্মত্ত হইয়া নির্ব্বোধের নানা পাপাচরণ করিয়া থাকে, অন্যকে ইহা পান করাইয়া উন্মত্ত করিয়া তোলে; পাপের বাসভূমি এই সুরাপান এবং তজ্জনিত প্রমত্ততা অসজ্জনেরই প্রিয়, তুমি ইহা পরিবর্জ্জন কর। তুমি মাল্য ধারণ, সুগন্ধদ্রব্য ব্যবহার এবং সুকোমল শয্যায় শয়ন করিও না।
বুদ্ধ কহিলেন,—হে গৃহী, পরম মঙ্গল লাভ করিতে হইলে, তুমি বৃদ্ধকে সম্মান করিও, কদাচ পরশ্রী-কাতর হইও না; ধর্মে তোমার আহ্লাদ হউক, ধর্মে তোমার প্রীতি হউক, ধর্ম জ্ঞানলাভের জন্য তোমার পিপাসা হউক, ধর্মেই তুমি স্থিত হও, ধর্মের প্রতিকূলে কোন বিতণ্ডা তুলিও না, যাহাতে ধর্মে কলঙ্কস্পর্শ করিতে পারে, এমন কোনো আচরণ কখনো করিও না। অসত্য ভাষণ ত্যাগ করিয়া শোভন বাক্যালাপে দিন যাপন করিও। যিনি তোমার গুরু, যথাকালে তাঁহার সমীপে গমন করিও। সর্ব্বপ্রকার ধৃষ্টতা ত্যাগ করিয়া তোমার শ্রদ্ধাবনত চিত্ত সর্ব্বদা তাঁহার সম্মুখে স্থাপন করিও। যাহা মঙ্গল তাহা করিও এবং তাহা পুনঃ পুনঃ স্মরণ করিয়া অভ্যাস করিয়া লইও। তুমি ভণ্ডতা রূক্ষতা, লোভ, মোহ অহঙ্কারাদি বর্জ্জন করিয়া দৃঢ়চিত্তে প্রসন্নভাবে দিন যাপন কর। সদ্ধর্মে তোমার চিত্ত যদি নন্দিত হয়, তুমি শান্তি প্রেম ও ধ্যানের মধ্যেই অবস্থান করিতে পারিবে।

সংগৃহীত

______সাধু সাধু সাধু_____
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

09/07/2020

Address

Sohar

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Buddhism is a religion of truthfulness posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share