সাদগায়ে জারিয়া

সাদগায়ে জারিয়া ongoing charity
(صدقة‎)

দুইদিন আগে নিউজফীডে একটা পোস্ট ঘুরে বেড়াতে দেখলাম। অপরাধী মা শিরোনামে লেখাটি হয়তো অনেকেই পড়েছেন। পোস্টে দেখা যাচ্ছে একজন...
17/11/2024

দুইদিন আগে নিউজফীডে একটা পোস্ট ঘুরে বেড়াতে দেখলাম। অপরাধী মা শিরোনামে লেখাটি হয়তো অনেকেই পড়েছেন।
পোস্টে দেখা যাচ্ছে একজন কর্মজীবি মা সন্তানকে বাসায় রেখে লুকিয়ে অফিসে যাচ্ছেন। তার বাচ্চা সারা বাসা তাকে খুজে হয়রান হয়ে গেছে। বাচ্চার নানু তাকে বলেছে মা ওয়াশরুমে গেছে। বাচ্চা তখন মায়ের ওড়না গায়ে জড়িয়ে ওয়াশরুমের পাপোশের উপর শুয়ে পড়েছে, সে কোনোভাবেই মাকে বাইরে যেতে দিবেনা।

পোস্টের শেষে মায়ের অপরাধবোধ প্রকাশ পেলেও নিজের স্বপ্নপূরণে তাকে এরকম করতেই হচ্ছে বলে ভদ্রমহিলা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

খুঁজে খুঁজে মহিলার প্রোফাইলে গেলাম। তিনি একজন আর্কিটেক্ট। রাজধানীর সবচেয়ে পশ এলাকায় তার ছবির চেয়েও সুন্দর একটি বাসা আছে। বাসার প্রতিটি রুমের ছবি প্রোফাইলে পোস্ট করা হয়েছে।

(যাই হোক উনার বাচ্চার ব্যাপারে উনি ই জানেন।
তবে আমাদের বলার উদ্দেশ্য হলো অন্য বোনদের কিছু রিমাইন্ডার দেয়া)

একটা হাদিস শেয়ার করি - 🍀

"রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম, যিনি জনগণের দায়িত্বশীল তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল; সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কোন ব্যাক্তির দাস স্বীয় মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল; সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব জেনে রাখ, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।"

নারী চাকরি কর‍তে পারবে কিনা এটা নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নাই। আমি সেদিকে যাবো না। আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি -

১. উনি বা এইরকম অবস্থায় থাকা সবাই জব না করলে কি উনার সন্তান বা উনি কি না খেয়ে মরতেন?

২. তার জব কি এমন কিছু যেখানে তার কোনো বিকল্প নেই বা তার জন্য সেই জব করা বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে জরুরি?

৩. প্রতিটি মা-ই তার সন্তানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন। সন্তান সাবালেগ হওয়া পর্যন্ত মায়ের কাছ থেকে তার হক বিনষ্ট হলে তার জবাবদিহিতা মা কিভাবে করবেন?

যদি আমাদের এমন সব বোনেরা বাচ্চাকে সময় দিতেন, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে তার ক্যারিয়ার হতো না, হয়তো ক্ষণস্থায়ী জীবনে অকল্পনীয় সুন্দর বাসস্থান হতো না। সামাজিক স্ট্যাটাস উঁচুতে উঠতো না। কিন্তু আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে পারতেন। নারীর জন্য আল্লাহর ঠিক করে দেয়া ফরজ ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করে জান্নাতে অবর্ণনীয় সুন্দর বাসস্থান তার হতো চিরকালের জন্য ইনশাআল্লাহ।

আজকাল একটা ফ্রেইজ খুব বেশি চলমান - সন্তানকে কোয়ালিটি টাইম দিতে হবে, কোয়ান্টিটি টাইম নয়। খুবই ভুল কথা। এ কথার দোহাই দিয়ে কেউ যদি সন্তানকে দিনে এক ঘন্টা টাইম দেয় আর বাকি সময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাহলে সেটা সেই বাচ্চার জন্য জুলুম।

একটা বাচ্চার জীবনের প্রথম পাঁচ বছর হলো গোল্ডেন পিরিয়ড। এই সময়ে তার মস্তিষ্ক বিস্ময়কর গতিতে পূর্ণতা পেতে থাকে। এই পাঁচ বছরে সে পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা, বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে যে স্টিমুলেশান গ্রহণ করে, সেটাই তাকে পরের পঞ্চাশ বছর এগিয়ে নিয়ে যায়। মা বাচ্চাকে এক ঘন্টা কোয়ালিটি টাইম দিলো, তাহলে কি আর বাকি সময় তার স্টিমুলেশানের দরকার নেই? সেই সময়ে কি তার মাকে প্রয়োজন হতে পারে না?

সন্তানের সাথে ভালোবাসাময় সম্পর্ক সব বাবা মা-ই চায়। এই পাঁচ বছরে সন্তানকে যতটুকু ভালোবাসা আদর যত্ন দেয়া হবে, বড় হয়ে তার দ্বিগুণ সন্তান তার বাবামাকে ফিরিয়ে দিবে। অনেক বাবা মায়ের মনে কষ্ট - সন্তান তাদেরকে সময় দেয় না, তাদের যথেষ্ট ভালোবাসে না, যত্ন নেয় না। সত্য হচ্ছে এই যে ছোটবেলার যে কোনো একটি সময়ে, যখন সন্তানের কোর মেমোরি তৈরী হচ্ছিলো, তখন কোনো না কোনো ভাবে তার সাবকনসাশ মাইন্ডে বাবা মায়ের করা কোনো অবহেলা, তাচ্ছিল্য বা তাকে গুরুত্ব না দেয়া, আনওয়ান্টেড অনুভব করানোর অভিজ্ঞতা গেড়ে বসে গেছে। বাবা মা সন্তানের ছোটখাটো বায়না, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, তার অর্থহীন গল্প শোনা, তার সাথে খেলা করা - এগুলোতে ততটা মনোযোগ দিচ্ছেনা, ভাবছে ছোট মানুষ, ওর এসব মনেও থাকবে না।

মনে থাকবে না কিন্তু আপনার কাছ থেকে যে কষ্টটা সে পেলো তা তার ঠিকই মনে থাকবে। আধুনিক সময়ে একটা নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে - স্লিপ ট্রেনিং। নিওনেটাল পিরিয়ড শেষ হবার কিছুদিন পর বাচ্চাকে আলাদা রুমে বা কটে শোয়ানো হয়। এতদিন ঘুম থেকে উঠে কান্না করে উঠলেই মা দৌড়ে যেত। এখন দৌড়ে না গিয়ে বলা হচ্ছে বাচ্চাকে কাঁদতে দাও। একসময় নিজেই সেল্ফ সুদিং মেথড অর্থাৎ ফিংগার সাকিংয়ের মাধ্যমে নিজেকে ঘুম পাড়িয়ে দিবে।

একজন চাইল্ড সাইকোলজিস্ট বললেন, এটা পুরাই একটা ভ্রান্ত ধারণা। বাচ্চা নিজেকে ঘুম পাড়ায় না, সে আসলে একটা সময় যেয়ে হাল ছেড়ে দেয় যে কেউ আসবেনা তাকে আদর করে ঘুম পাড়াতে।

এক্স্যাক্টলি সেইম জিনিস পরেও হয়, আপনি বাচ্চাকে টাইম না দিয়ে ভাবছেন ও নিজে নিজে খেলতে শিখুক। তাকে অচেনা কোনো বাসায় বেড়াতে নিয়ে বা মেহমানের সামনে ফেলে দিয়ে ভাবছেন ও সোশ্যালাইজেশান শিখুক। তাকে আবাসিক স্কুলে দিয়ে ভাবছেন এখানে থেকে সে পড়াশোনার সাথে এডাপ্টেশান শিখুক, একা একা যে কোনো বিপদ পাড়ি দিতে শিখুক।

কিন্তু আদতে সে কি শিখছে জানেন? যে আসলে আমাকে হেল্প করতে, গাইড করতে কেউ আসবেনা। আমাকে একাই করতে হবে।

কোনো কোনো বাচ্চা উতরে যায়। সেল্ফ সাফিশিয়েন্ট হয়। কনফিডেন্ট হয়। তাদেরকে নিয়েই স্টাডি হয় - ওয়ার্কিং ওম্যানদের বাচ্চারা সেল্ফ রিলায়েন্ট হয়, কনফিডেন্ট হয়। বাট এট হোয়াট কস্ট? খুব কম বাচ্চাই এজন্য নিজের মাকে এপ্রিশিয়েট করে। বেশিরভাগ বাচ্চাই ইনফেরিয়রিটি কমপ্লেক্স, সেপারেশন এংজাইটি, প্যানিক ডিজওর্ডার, যে কোনো বিপদের মুখে সহজে দিশাহারা হয়ে যাওয়া, এবিউজিভ পার্টনারের সাথে শুধুমাত্র অল্প কিছু মুহূর্তের ভালোবাসার জন্য থেকে যাওয়া - এরকম হাজারো সমস্যায় ভুগে।

এ তো গেল সায়েন্টিফিক কথাবার্তা।
ইসলামে একজন সন্তানের বাবামায়ের প্রতি হক্ব তিনটি - তার জন্য সুন্দর নাম রাখা, তাকে ইসলামের বিধিনিষেধ ও নিয়ম শিক্ষা দেয়া এবং সে অনুযায়ী বড় করা, প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিয়ে দেয়া।

বাচ্চারা অনুকরণপ্রিয়। ইসলামের বিধিনিষেধ শিখানোর সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে বাবা মা নিজে তা মেনে চলা। সন্তান যখন দেখছে মা দিনে পাঁচ বার জায়নামাযে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছে, বিকালে কুরআন তিলাওয়াত করছে, রামাদানে রোযা রাখছে, কোনোকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করছে - তখন ধীরে ধীরে সে এগুলো শিখতে থাকে। দিনের অল্প সময় কোয়ালিটি টাইম দিয়ে এগুলো কি শিখানো সম্ভব? যারা এটাকে সম্ভব মনে করেন, সম্ভবত ইসলামের বিধিনিষেধ ও নিয়মগুলো সম্পর্কে তাদের সম্যক জ্ঞান নেই।

প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন যারা বাসায় থাকে তাদের বাচ্চারা কি এ ধরণের সমস্যায় ভুগতে পারেনা? তাদের বাচ্চারা কি ১০০% ভালো আছে?

অবশ্যই তাদের বাচ্চাও উপরোক্ত সমস্যায় ভুগতে পারে যদি তারা মাইন্ডফুল প্যারেন্টিং না করেন। বাসায় থাকা গৃহিণী অফিস যান না বলে সবাই ভাবেন তার কোনো ক্যারিয়ার নাই। বরং তার ক্যারিয়ারটাই সবচেয়ে কঠিন। আর যদি যৌথ পরিবার হয় তাহলে তো কথাই নাই। পরিবারের সবার খেদমত করতে করতে বাচ্চাকেই দিনশেষে বঞ্চিত করা হয়৷

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। ছোট ছোট হাত পা নিয়ে আল্লাহর সবচেয়ে আদরের বান্দারা দুনিয়ায় আসে। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের প্যারেন্টস হিসেবে কবুল করেন, আমাদেরকে তার প্রিয় বান্দাদের দায়িত্ব দেন। অথচ আমরা দুনিয়ায় নিজেদের জন্য জান্নাত বানানোর দৌড়ে আল্লাহর সেই নিয়ামতগুলোর উপর জুলুম করে চলি। এরপর আমরা আখিরাতে জান্নাতের আশা করি কিভাবে?

© Dr. Sadia Hossain

📌 সবার অবস্থা পরিস্থিতি প্রয়োজন এক নয়
এবং কেও কেও বাধ্য হয়েই কিছু করেন সেটা আলাদা কথা। তবে প্রত্যেকের ই এটা বুঝতে হবে যে একজন মুসলিম মা হিসেবে আমার আসল দায়িত্ব কর্তব্য আমি যথাযথভাবে আদায়ের চেষ্টা করছি তো?
Collected

05/09/2024
আমাদের জীবন,সম্পদ,সুস্থতা, সৌন্দর্য সবই আল্লাহ তায়ালার।সব কিছুরই মালিকানা আল্লাহ তায়ালার।আমরা আল্লাহর কাছ থেকেই এসেছি, ত...
05/09/2024

আমাদের জীবন,সম্পদ,সুস্থতা, সৌন্দর্য সবই আল্লাহ তায়ালার।সব কিছুরই মালিকানা আল্লাহ তায়ালার।
আমরা আল্লাহর কাছ থেকেই এসেছি, তারই কাছে ফিরে যাব!
এ-ই যে বন্যা, এ-ই যে হঠাৎ করেই মাথার উপর নেমে আসা দুর্যোগ!
এগুলোই আমাদের কে বারবার করে মনে করিয়ে দেয় যে,আমার যে কোন সম্পদ,যে কোন নেয়ামত এ-র মালিক আল্লাহ তায়ালাই।তিনি চাইলে যে কোন সময়, আমাদের সমস্ত নেয়ামত ছিনিয়ে নিতে পারেন।এবং আমাদের কে একদম নি:স্ব করে দিতে পারেন।চাইলে আমাদের কে রাজা থেকে রাস্তার ফকীরে পরিনত করে দিতে পারেন।আবার প্রজা থেকে রাজাও বানিয়ে দিতে পারেন।নি:স্ব অসহায় অবস্থায় ও তিনি চাইলে আমাদের কে রাজত্ব দান করতে পারেন।
তাই সব সময় আমাদের সমস্ত নেয়ামত এ-র জন্য মন প্রান ভরে, শুকরিয়া আদায় করতে হবে। এবং সব সময় মাথায় রাখতে হবে যে, আমার জীবন, আমার মরন,আমার সম্পদ, আমার সুস্থতা, আমার সৌন্দর্য,আমার শক্তি সামর্থ্য সব কিছুরই মালিক আল্লাহ তায়ালা। তিনি চাইলে যে কোন সময় এসব নেয়ামত ছিনিয়ে নিতে পারেন।
আবার তিনি চাইলে দিন কে দিন আমাদের নেয়ামত বৃদ্বী ও করে দিতে পারেন।
Collected

29/05/2024

যে তার রবের সামনে দাড়াতে ভয় করে তার জন্য রয়েছে দু’টি জান্নাত!

"আমার বাবা চাকরিজীবী। আমার মা গৃহিণী। মা বাবার ওপর নির্ভরশীল৷ একদম ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রয়োজনে বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থা...
29/05/2024

"আমার বাবা চাকরিজীবী। আমার মা গৃহিণী। মা বাবার ওপর নির্ভরশীল৷ একদম ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রয়োজনে বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়। আমি আমার স্বামীর ওপর এমন নির্ভরশীল হতে চাই না। তাই আমি চাকরি করবো।"

এই অনুচ্ছেদটি এদেশের অনেকগুলো পরিবারের চিত্র। একটু খেয়াল করে দেখুন, 'নির্ভরশীল' শব্দটিকে। এই শব্দটি পরিবারের মেয়েটির মধ্যে চাকরি করার স্পিরিট যোগান দিয়েছে। কিন্তু এই ভাবনাটি কি আসলেই যথার্থ? তার মা কি আসলেই তার বাবার ওপর নির্ভরশীল?

দেখেন, নির্ভরশীলতা তখন আসে যখন সেখানে বিনিময় থাকে না। যেমন, আমরা সূর্যের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা প্রয়োজনীয়, সার্ভাইভালের জন্য। বিনিময়ে কিন্তু আমরা সূর্যকে কিছু দেই না। তাই, আমরা সূর্যের ওপর নির্ভরশীল কথাটা যথাযথ।

এখন দেখুন, এই পরিবারটির বেলায় কী হচ্ছে। অর্থ উপার্জন বাবা করছে এটা সঠিক। কিন্তু মা কী করছে দেখুন। রান্নাবান্না, ঘর-দোর সুন্দর রাখা, বাচ্চাদের সুন্দর বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা, স্বামীর শারিরিক ও মানসিক চাহিদা নিশ্চিত করা আরো কতো কী! এই কাজগুলো যদি তিনি না করতেন, তবে কী এই পুরুষ চলতে পারতেন? তাহলে তো দেখা গেলো, এই পুরুষও পাল্টা এই নারীর ওপর নির্ভরশীল। এবং, এই পুরুষেরই নারীটির ওপর নির্ভরশীলতা বেশি! তবে একতরফাভাবে মেয়েটি কেন ভাবলো যে, তার মা তার বাবার ওপর নির্ভরশীল?

চিন্তার মানদণ্ডের কারণে। মেয়েটি অর্থকে মানদণ্ড বানিয়েছে। অর্থ দিয়ে যা মাপা যায়, তার মূল্য আছে, অর্থ দিয়ে যা মাপা যায় না, তার মূল্য নেই। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে মায়ের কাজগুলোরও অর্থমূল্য আছে। যদিও অর্থমূল্য নির্ধারণ করা অযৌক্তিক, কারণ মা হচ্ছেন মা। কিন্তু তর্কের খাতিরে আমরা একটুখানি করে দেখি।

আপনি হোটেলে একবেলা খাবার খান। মা যেই যেই খাবার রান্না করেন, সেটা একটা ভালো-পরিচ্ছন্ন পরিবেশনায় খেতে হলে ঐ মানের হোটেলে ১০০ টাকার কাছাকাছি লেগে যাবে। ঐ হোটেলের বাবুর্চির স্যালারি কতো? ১০ হাজার? আপনার মা তো ৩০ দিনে ৯০ বেলা ক্লান্তিহীন রান্না করছেন, আপনাকে ডেকে নিয়ে খেতে বসাচ্ছেন, খাবার শেষে ধোয়া-টোয়ার কাজও করছেন, তাহলে তাঁকে কতো স্যালারি দেবেন?

ঝাড় দেয়া, ঘর মোছার জন্য একটা বুয়া রাখেন তো। দেখবেন সে মাসে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করবে। কিন্তু, তারপরও খাটের নিচে ময়লা থেকে যাবে, শোকেজের কোণায় ধুলো জমে থাকবে। কিন্তু, মা কতো যত্ন নিয়ে ঘর ঝেড়ে-ঝুড়ে রাখছেন, আবার মুছছেন, তাহলে মা'কে কতো স্যালারি দেবেন?

প্রাইভেট টিউটরকে মাসে কতো টাকা স্যালারি দেন? ৬-৭ হাজার? যেই মা কথা বলা শেখালো, ভালো-খারাপ চেনালো, খাবার খেতে, ওয়াশরুমে যেতে, হাঁটতে, পড়তে, লিখতে শেখালো, তার কতো স্যালারি হবে?

হাসপাতালে নার্স কিংবা ডাক্তারকে ঠিক কতো টাকা দিলে তারা আপনার শিয়রে সারারাত বসে পট্টি দিবে মায়ের মতো?

এরপর এই একই নারী তো স্বামীর হক্ব আদায় করছে। শারিরিক হক্ব আদায় করছে। মানসিক প্রশান্তি দিচ্ছে। দুঃশ্চিন্তা দূর করার চেষ্টা করছে। সমস্যা শুনছে, সাজেশন দিচ্ছে। পুরো ফ্যামিলিকে মায়া দিয়ে আগলে রাখছে এই নারী। মায়া তো এবস্ট্রাকট জিনিস, এটার অর্থমূল্য তো নির্ধারণ করতে পারবেন না।

তাহলে মায়ের কাজের অর্থমূল্য নেই, এমনটাও কী বলা গেলো? অর্থাৎ, আমার বাবা চাকরি করছে তাই আমার মা তার ওপর নির্ভরশীল এই কথাটা একেবারেই অবান্তর। এইযে, বাবা অর্থ সরবরাহ করছে, ভরণপোষণ করছে, এটা তার অধিকার। এই অধিকার আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এতে নারীর জন্য লজ্জার কিছু নেই। এটা তার প্রাপ্যের চেয়ে বরং অনেক কম! তাই নতজানু হওয়ারও মোটেও কিছু নেই। (নতজানু এই অর্থে যে, আমি টাকা রোজগার করতে পারছিনা, তাই আমি ছোটো হয়ে থাকবো।)

কিন্তু আলাপটা এখানেই শেষ নয়। আরেকটি অনুচ্ছেদে চলে যাই।

"আমার বাবা চাকরিজীবী। আমার মা গৃহিণী। মা বাবার ওপর নির্ভরশীল। বাবা মাকে যেমন-তেমন করে ট্রি_ট করে, খোঁ_টা দিয়ে কথা বলে, মতামতের মূল্য দেয় না। আমি এরকম আমার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে এসব সহ্য করতে চাই না। তাই আমি চাকরি করবো।"

দেখুন, গল্পটা একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলো। এবার সমস্যাটা আর চিন্তার মানদণ্ডে না। এবার সমস্যাটা পুরুষেরই অবদান। এই বাবা তার মেয়ের মধ্যে পুরুষ সম্পর্কে একটি বিরূপ ধারণা সেট করে দিয়েছে, যা তাকে আল্লাহর তৈরি ফিতরাতের বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য করছে।

আমাদের সমাজের পুরুষদের একটা বিশাল অংশ প্রথম অনুচ্ছেদের মেয়েটির মতো চিন্তা করে। তারা ভাবে, মেয়েরা চাকরি করে না বলে তারা আমাদের ওপর নির্ভরশীল। তাদেরকে যাচ্ছেতাই ভাবে ট্রিট করা যাবে। দুইদল-ই আল্লাহর দেয়া ফিতরাত অস্বীকার করছে।

ইস_লা-মী রাষ্ট্রে এসব সমাধানের ব্যবস্থা আছে। খলি-ফার আদালতে বিচার তোলা যাবে। পুরুষটাকে সো_জা করা যাবে, সিরিয়াস কেসে তা-লা_ক পর্যন্তও যাবে। কিন্তু, বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে? এখন তো খলি_ফাও নেই, ইস-লামী আদালতও নেই, গ্রাম্য বিচার-শালিসে তো মহিলা বাই ডিফল্ট অপরাধী।

ঠিক সেই জায়গাটিতেই একটা চাকরিপ্রিয় ক্যারিয়ারিস্টিক নারীপ্রজন্ম গড়ে উঠছে। তারা হয় প্রথম কেইসের অথবা দ্বিতীয় কেইসের। প্রথম কেইস হলে সেটা তাদের চিন্তার দৈন্যতা। দ্বিতীয় কেইস হলে তারা পরিস্থিতির স্বীকার।

আমি সমাধান আলোচনা করবো না। আমি অতোবড়ো মাথাওয়ালা নই। আমি এই ছোটো-খাটো প্রবন্ধের শেষে একটি অনুচ্ছেদে শুধুমাত্র দুটো কেইসের এন্ড রেজাল্ট দেখানোর চেষ্টা করবো।

নারী চাকরিতে আসলে আদতে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা আসলে বিবিধ।

প্রথমেই চলে আসে ফিতরাত নষ্ট হওয়ার ব্যাপারটি। এই পৃথিবীতে প্রতিটি বস্তুর স্বতন্ত্র জায়গা আছে, প্রতিটি প্রজাতির নিজস্ব অবস্থান আছে। ব্যতিক্রম নয় পুরুষ আর নারীও। পুরুষ এবং নারী শারিরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ভিন্নতাও সুন্দর এবং এমনভাবে করা যে, তারা পরস্পরের জন্য উপকারী বলে প্রতীয়মান হয়। তারা এমনভাবে সহাবস্থান করবে যাতে ন্যাচার ভায়োলেট না হয় এবং পরস্পরের অধিকার ও কর্তব্যের জায়গাটিও ঠিক থাকে।

নারী ও পুরুষ কে কোথায় অবস্থান করবে, এই ব্যাপারে নির্ধারণ করতে পারেন কে? অবশ্যই তাদের স্রষ্টা তাইতো? তাহলে আমরা নারী-পুরুষের অবস্থান কী হবে, তাদের এক্টিভিটি কেমন হবে, এটা জানবো কুরআন এবং হাদীস থেকে। ইসলামে জেনারেল কেইসে নারীদের চাকরি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

কেন সেটার কিছু নমুনা বলি।

প্রথমত, এটা তার জন্য একটা ফিজিকাল বার্ডেন। একজন নারী মাসে ৬-৭ দিন অসুস্থ থাকে। এইসময় কি তার চাকরি অফ করার সুযোগ আছে? তাকে তো ঠিকই অফিসে যেতে হবে, সারাদিন কাজ করতে হবে। ঘরে থাকলে সুবিধা কী হতো? এখানে তার শ্বাশুড়ি আছে কিংবা মেয়ে আছে, কিংবা স্বামী আছে। তারা জানে এবং বোঝে। এখানে তার ফুসরতের সুযোগ আছে। অফিসে আছে?

আচ্ছা, প্রেগনেন্সি লিভ কয় মাসের? ৬ মাসের। শুরুর ৪ মাস? প্রেগনেন্সি নিয়েই তো অফিস করতে হয়। মেডিকেল রিসার্চ ঘেঁটে দেখবেন প্রেগনেন্সি নিয়ে অফিস করার স্বাস্থ্যঝুঁকি।

কিছু নারী আছে, যারা সন্তানই নিতে চান না ক্যারিয়ারের চাপে। ফলে দেখা যায়, বয়স বেড়ে গেলে সন্তান নিতেও জটিলতা তৈরি হয়। কেউবা অক্ষম হয়ে পড়ে। হাইলি ফিজিকাল বিভিন্ন পেশা, যেমন - সেনা_বাহিনী, খেলা_ধুলো ইত্যাদিতে প্রফেশনাল নারীদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব দেখা যায় অনেক বেশি!

এরপর আসে, সন্তানের ঠিকঠাক বেড়ে ওঠার ব্যাপারটি। ক্যারিয়ারিস্টিক নারীরা ছোটো বাচ্চাকে বুয়ার কাছে রেখে চাকরিতে বেরিয়ে পড়তে দেখা যায়। এতে কী হয়? না সন্তান মায়ের যত্ন-আত্তি পায়, না পায় মায়ের শিক্ষা। সে পায় বু-য়ার শিক্ষা আর তার অবহেলা। প্রায়ই দেখা যায় ছোটো বাচ্চাদেরকে বুয়ার নির্যা_তন করার নিউজ। এই ক্ষতিটা কি ছোটো কোনো ক্ষতি?

একটা নারী_বাদী টোন আছে, "নারীর কাজ কি শুধু বাচ্চা উৎপাদন আর লালন-পালন করা নাকি?" আমি এখানে 'শুধু' শব্দটার বিরোধিতা করি। অবশ্যই নারীর কাজ শুধু বাচ্চা উৎপাদন, লালন-পালন করা না। নারী অনেক কাজই চাইলে করতে পারে। কিন্তু, এই কাজটা স্পেশালি নারীকে অর্পণ করা হয়েছে এবং স্বয়ং আল্লাহ-ই অর্পণ করেছেন। বাচ্চা জন্মদানের উপযোগী শরীর তাকে দিয়েছেন আর লালন-পালনের উপযোগী মন। এটা অস্বীকার করা মানে প্রকৃতিকে অস্বীকার করা।

আসলে চাকরি নিয়ে আমার কোনো সমস্যাই নেই। চাকরি করুক, কিন্তু এই ক'টি বিষয় নিশ্চিত করতে পারবে কি?

১. যথাযথ পর্দা।

২. মাহরামসহ সফর।

৩. খুব বেশি প্রয়োজন ব্যতীত নন-মাহরামের সাথে ইন্টারেকশন থেকে বেঁচে চলা।

৪. স্বামীর হক্ব আদায় করা।

৫. সন্তানের হক্ব আদায় করা।

একজন চাকরিজীবী নারীর জন্য এর যেকোনো একটিও পরিপূর্ণ করা আজকের সমাজের প্রেক্ষাপটে অন্তত সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি।

যথাযথ পর্দা আপনি কতোক্ষণ করবেন? কোথায় করবেন? কর্পোরেট জবগুলো ক্রমাগত ইসলা-মো_ফোবিক হচ্ছে। আপনি নিকাব করলে বলবে, "তাহলে আর চাকরি করার মূল্য কী?" এই বাক্যেরও একটা তাৎপর্য আছে, যদি বোঝেন। অনেক কর্মক্ষেত্র আছে, নিকাবই এলাউড না। পরীক্ষা দেবেন, নিকাব এলাউড না। প্রেজেন্টেশন দেবেন, নিকাব এলাউড না। তাহলে যথাযথ পর্দা ম্যান্টেইন হচ্ছে?

এরপর আসেন মাহরামসহ সফর। এই জায়গায় কী করবেন আপনি? আপনার স্বামীর চাকরি এক জায়গায়, আপনার অন্য জায়গায়। সে আপনাকে রোজ অফিসে পৌঁছে দিতে পারবে না। আপনাকে চলাফেরা করতে হচ্ছে একাকী। এই হা_য়ে-নার দেশে আপনার সেফটি কী? আপনার চাকরি আপনাকে রাস্তায় সিকিউরিটি দিচ্ছে? বাসে আপনি মলা-স্টে_টেড হলে, রাস্তায় আপনি টিজড হলে, কার ক্ষতি? অবশ্যই চাকরি না করা এর সমাধান না বলতে পারেন, কিন্তু যতোদিন সমাধান না আসছে, ক্ষতি মেনে নেবেন?

নন-মাহরামদের সাথে ইন্টারেকশন ঠেকাতে পারবেন? আপনার অফিসের বস থেকে শুরু করে, সহকর্মী, পিয়ন, সবই তো নন-মাহরাম। তাদের সাথে আপনার কাজ করা লাগছে পাশাপাশি বসে। টিম করে প্রেজেন্টেশন দেয়া লাগছে। প্রয়োজনে-স্বল্প প্রয়োজনে কল-মেসেজিং করা লাগছে। ঠেকাতে পারছেন কই?

স্বামীর হক্ব আদায় করা কী সত্যিই সম্ভব? সারাদিনের অফিসের ক্লান্তির পর আপনার কি রেস্টের প্রয়োজন নেই? অবশ্যই আপনি বাসার স্ট্রেসের সাথে অফিস & জার্নির স্ট্রেসকে মেলাবেন না দয়া করে। দুটো যে কতটা ভিন্ন তা আপনি জানেন। আপনার ইচ্ছে হবে না মোটেও এতো স্ট্রেসের পর স্বামীর সাথে একটু ভালো করে কথা বলতে। অফিসে যদি প্যারা থাকে আর মেজাজ বিগড়ে থাকে, তাহলে তো আরো না।

আর সন্তান? সে তো বড়ো হচ্ছে বু-য়ার কাছেই...

এইসব আলোচনা আমাদেরকে তৃতীয় একটি পরিবারের প্রতিচ্ছবি দেখায়।

"আমার বাবা-মা দুজনেই চাকরিজীবী। দুজনে দিনভর অফিসে থাকেন। রাতে আসেন। এসে দুজনে যান্ত্রিক তরীকায় আমার খোঁজ নেন। তারপর ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করেন। তারপর একদফা ঝগড়া করেন। বাবা-মা দুজনে রাতেও পরবর্তী দিনের জন্য অফিসের কাজগুলো দেখেন। আমি সারাদিন একা ঘরে বসে থাকি। হাসিনা খালা দুপুরে খাইয়ে দেন। আমি টিভি দেখি আর বাবা-মায়ের অপেক্ষা করি। আমার খুব কান্না পায়। আমি কাঁদলে খালা আমাকে বকা দেন।"

দেখেন, আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। আমি দুটো সিনারিও থেকে একটা কনক্লুশন সিনারিওতে গেছি। অনেক বেশি জেনারালাইজড হয়ে গেছে হয়তো। কিন্তু, রেজাল্ট এর কাছাকাছিই আসবে। আমি কোনো সমাধান দেখাইনি। শুধু দেখিয়েছি, যেই সমাধানটা ফে-মি_নিজম প্রস্তাব করেছে, সেটা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সেটা আদতে প্র‍্যাক্টিকালও না।

এই জা-হি_লি সমাজে সবচেয়ে বেশি করণীয় আছে পুরুষদের। আপনারা শপথ নেন যে, আপনারা পুরুষ হবেন। আল্লাহ আপনার স্ত্রীর ভরণপোষণ আপনার ওপর বাধ্যতামূলক করেছেন, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। আপনি এইটা তার ওপর দয়া করছেন না, এটা তার অধিকার, এই মানসিকতা লালন করেন। আপনার স্ত্রীর মতামতের গুরুত্ব দেন। স্ত্রীকে যাচ্ছেতাইভাবে ট্রিট করবেন না। একটু গাই-রত-ওয়ালা পুরুষ হন, এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আপনার স্ত্রী-কন্যাকে এমন পরিস্থিতিতে পড়া লাগে যেটা ইসলাম এলাউ করে না। আপনার স্ত্রী-কন্যাকে ইসলামী শিক্ষা দিন, আল্লাহকে চেনান, রাসূলকে (স) চেনান। নারীকে নারী হিসেবে চেনান, তার ফিতরাতকে চেনান। তার যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করুন, নয়তো আপনি নিজেই তাদেরকে জাহি-লি-য়া_তের দিকে ঠেলে দিলেন, এটা মাথায় রাখুন।

বোনেদের প্রতি আহ্বান, সচেতন হোন। নারী হিসেবে নিজেকে চিনুন। নিজের নারীত্বকে ভালোবাসুন, সম্মান করুন। নিজের মর্যাদাকে চিনুন, নিজের মর্যাদা রক্ষা করুন। ফেমি_নিস্ট-দের চক্করে পড়ে জীবনকে দুর্বিষহ বানাবেন না। দুনিয়ায় আপনি কোনো কম্পিটিশনে আসেননি। পুরুষ আপনার কম্পিটিটর নয়, আপনার সহযোগী। প্রাকৃতিক অবস্থানকে অস্বীকার করে অসুস্থ পৃথিবী তৈরি করবেন না।

~ আসিফ মাহমুদ!
Collected

লিমিটের ভিতর চলতে শেখা, একটা জরুরী শিক্ষা। যা আপনি পরিবার ও বাচ্চাদের দিতে পারেন। কিভাবে? খেয়াল করে দেখুন, আপনার স্কুল ...
28/05/2024

লিমিটের ভিতর চলতে শেখা, একটা জরুরী শিক্ষা। যা আপনি পরিবার ও বাচ্চাদের দিতে পারেন।

কিভাবে?

খেয়াল করে দেখুন, আপনার স্কুল মাস্টার বাবা-মায়েরা ৪-৫টা বাচ্চাকে কিভাবে বড় করেছেন?
তারা বাচ্চাদের লিমিটের ভিতর থাকা শিখিয়েছিলেন।

এদিকে এক দুইটা বাচ্চা নিয়ে আপনার সংসারের টানাটানি ফুরায়ই না। কেন?
কারণ, আমরা কোন লিমিট নিয়ে চলি না। আনলিমিটেড মানেই ওয়েস্টেজ, অপচয়, ধ্বংস, নষ্ট।

মনে করে দেখুন, আপনার বাবা-মায়েদের সময় একটা মুরগী রান্না হলো, বাড়িতে ৫ ভাই বোন, কাজের লোক সহ মোট সদস্য ৮ জন। আপনার মা সবার জন্যে বাটি সিস্টেম করে রেখেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী একটা মুরগি তিনি আলু দিয়ে মুটামুটি এক কড়াই করে তরকারি করে ফেলতেন।

এই এক মুরগিতে আপনারা ৮ জন মানুষ দুপুরে এবং রাতে খাবেন। সেইভাবে বাটি সিস্টেম হতো। দুপুরে এক পিস গোস্ত, ঝোল, আলু। রাতের বেলায় হাড় গোড় থেকে এক পিস, সাথে ভাজি, ডাল এরকম। এটা খুব জরুরী শিক্ষা।

এদিকে আমাদের এখন কি হয়?
তরকারি রান্না হলে, পুরোটা একসাথে টেবিলে নিয়ে আসা হয়।

বাচ্চাকে আগেই রান থানের পিস দিয়ে একাকার অবস্থা। রান বাদে মুরগীতে আর যে কিছু আছে, অনেকের বাচ্চারা জানেও না বোধহয়। একটা মুরগী রান্না করলে একবেলা থেকে দুইবেলায়ও যায় না।

আপনার আম্মার সংসারে যেখানে ছিলো বাটি সিস্টেম, সেখানে তরকারি কম পড়লে একটু অভিযোগ করলে, খেয়াল করে দেখুন, আপনার আম্মা হয়তো, তার ভাগ থেকে এক পিস গোস্ত আপনাকে এক্সট্রা দিয়েছেন, তিনি খান নাই। একসময় আপনিও আবদার করা ছেড়ে দিয়েছেন।

এখান থেকে বাবা-মায়ের সাথে আরেকটা বন্ডিং স্ট্রং হয়েছে। আপনার বাবা-মা আপনার জন্যে ত্যাগ করেছেন, মানে আপনিও সেটা শিখলেন।

এখন ত্যাগের তো কিছু নাই, সবই তো অপরিমাণ। বাবা-মা লোন করে হলেও আনছে তো। লোন করে ঘি তো খাচ্ছি, কাজেই বাবা-মায়ের কোন স্ট্রাগল বা কোন কষ্ট তো বাচ্চার চোখে পড়ে না। তারাও ধরে নেয়, লোনের এই ঘিটাই গ্রান্টেড। তাদের ভেতরেও এতো ফিলিংস এখন আর কাজ করে না।

ব্যাপারটা মিলিয়ে দেখতে পারেন।
Collected

28/05/2024

পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ: রাতে শোয়ার আগে তাওবা না করেই ঘুমিয়ে পড়া। আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি

03/04/2024

“Whoever does righteousness, whether male or female, while he is a believer - We will surely cause him to live a good life”

[an-Nahl 16:97](collected)

"7 mistakes in Salah."⛔️Pls Be Careful With These Mistakes.1. Reading too fast.2. Fingers and toes not facing qiblah.3. ...
03/04/2024

"7 mistakes in Salah."⛔️
Pls Be Careful With These Mistakes.

1. Reading too fast.
2. Fingers and toes not facing qiblah.
3. When making sajdah raising of feet from ground.
4. Changing positions before imam.
5. Not having straight back in ruku.
6. Not having nose touching ground in sujud.
7. Elbows touching ground in sujud (when they shouldn't be).
Pls fwd... this will be your sadaqah jaariyah.

May Allah Guide Us To The Right Path. Ameen.
Collected

Address

Auckland

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সাদগায়ে জারিয়া posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share