17/01/2026
২. জান্নাতে প্রবেশ
নিঃসন্দেহে মুমিনদের আনন্দ হবে তুলনাহীন, যখন তাদেরকে সম্মান ও মর্যাদার সাথে দলে দলে জান্নাতের বরকতময় উদ্যানসমূহের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
যখন তারা জান্নাতে পৌঁছাবে, তখন তাদের জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে। সম্মানিত ফেরেশতাগণ তাদেরকে স্বাগত জানাবে এবং দুনিয়ার জীবনে অসংখ্য কষ্ট সহ্য করা ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার পর নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলবে:
“আর যারা তাদের রবকে ভয় করত, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং তার প্রহরীরা বলবে ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা উত্তম কাজ করেছ। অতএব, এখানে প্রবেশ করো চিরস্থায়ী বসবাসের জন্য।’”
(সূরা যুমার ৩৯:৭৩)
অর্থাৎ, তোমাদের কথা, চিন্তা ও কর্ম ছিল উত্তম। এর ফলে তোমাদের হৃদয় ও আত্মা পবিত্র হয়েছে, আর সেই পবিত্রতার কারণেই তোমরা জান্নাতের উপযুক্ত হয়েছ।
জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে মুমিনদের পরিশুদ্ধ করা হবে
মুমিনগণ সিরাত (জাহান্নামের ওপর স্থাপিত সেতু) অতিক্রম করার পর জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি সেতুতে অবস্থান করবে। সেখানে দুনিয়ার জীবনে পরস্পরের মাঝে সংঘটিত যেকোনো অন্যায় ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ের নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাদেরকে পরিশুদ্ধ করা হবে। এরপর তারা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তারা হবে সম্পূর্ণ পবিত্র ও নির্মল, কারো অন্তরে কারো প্রতি কোনো বিদ্বেষ থাকবে না, কেউ আর কারো কাছে কোনো দাবি পেশ করবে না।
ইমাম বুখারি রহিমাহুল্লাহ আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“মুমিনদেরকে আগুন থেকে রক্ষা করা হবে। এরপর তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি সেতুতে রাখা হবে। সেখানে দুনিয়ার জীবনে তাদের মাঝে যে কোনো অন্যায় সংঘটিত হয়েছিল, তার হিসাব তারা পরস্পরের সাথে নিষ্পত্তি করবে যতক্ষণ না তারা সম্পূর্ণভাবে পরিশুদ্ধ ও পরিষ্কার হয়ে যায়। অতঃপর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাদের প্রত্যেকেই জান্নাতে নিজের বাসস্থান সম্পর্কে দুনিয়ার নিজের বাসস্থানের চেয়েও অধিক সুস্পষ্টভাবে জানবে।”
(সহিহ আল-বুখারি, কিতাবুর রিকাক, বাবুল কিসাস ইয়াওমাল কিয়ামাহ; ফাতহুল বারী ১১/৩৯৫)
আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হবেন সেই প্রথম ব্যক্তি, যিনি জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য আবেদন করবেন। মানবজাতির পিতা আদম (আঃ) এবং অন্যান্য সকল মহান নবী এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবেন।
জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম ব্যক্তিবর্গ
মানবজাতির মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর সর্বপ্রথম যে উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, তা হবে তাঁর উম্মত। এই উম্মতের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাঃ)।
ইবন কাসীর রহিমাহুল্লাহ একাধিক হাদিস উল্লেখ করেছেন (আন-নিহায়াহ ২/২১৩)। এর মধ্যে মুসলিম শরিফে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“আমি হব সেই প্রথম ব্যক্তি, যে জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়বে।”
মুসলিম শরিফেই আনাস (রাঃ) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“আমি জান্নাতের দরজায় এসে তা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করব। প্রহরী জিজ্ঞেস করবে, ‘আপনি কে?’ আমি বলব, ‘মুহাম্মদ’। তখন প্রহরী বলবে, ‘আপনার আগে কারো জন্য এই দরজা খুলতে আমাকে আদেশ দেওয়া হয়নি।’”
ইমাম বুখারি, মুসলিম ও নাসাঈ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“আমরা দুনিয়ায় সর্বশেষে আগমন করেছি, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরা হব প্রথম। মানবজাতির মধ্যে আমরাই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব।”
আবু দাউদ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“জিবরাঈল আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে জান্নাতের সেই দরজাটি দেখিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে আমার উম্মত প্রবেশ করবে।”
আবু বকর (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি আপনার সাথে থেকে সেটি দেখতে পারতাম!”
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“কিন্তু হে আবু বকর, আমার উম্মতের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে তুমি।”