23/11/2025
#নবান্ন_আর্টিকেলটি 22.11.2025. #দৈনিক_সংবাদপত্রে_প্রকাশিত।
ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে প্রণবায়.....!
*মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও নবান্ন*
স্বামী আত্মভোলানন্দ *পরিব্রাজক*
আমাদের সত্য সনাতন ধর্মে ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতায় ভারতবর্ষ একটি উৎসবমুখর দেশ। তাই, অপূর্ব সুন্দর মূল্যবান মনুষ্য জীবনে নবান্ন একটি ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী উৎসব। আর বাংলার প্রচলিত লোককথা হল বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। "নবান্ন" শব্দের অর্থ "নতুন অন্ন" বা "নব অন্ন"। নবান্ন উৎসব হলো নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব। সাধারণত বাংলা অগ্রহায়ণ মাসে অর্থাৎ হেমন্তকালে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোথাও মাঘ মাসেও নবান্ন উদ্যাপনের প্রথা রয়েছে। তাই, নবান্ন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ধানের বা পিঠার উৎসব। নবান্ন উৎসব সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে পালিত হয়, যা নতুন আমন ধান কাটার পর অনুষ্ঠিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গে এই নবান্ন উৎসবটি অন্নপূর্ণা পূজার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এই পূজার মূল উদ্দেশ্য হলো দেবী অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ লাভ করে সংসারে খাদ্যশস্যের অভাব দূর করা। অন্নপূর্ণা পূজা ও নবান্ন সম্পর্কিত একটি ধারণা হলো, নবান্ন হলো নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি খাবার দেবতাকে উৎসর্গ করার উৎসব, যা সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্নপূর্ণার পূজা করলে গৃহে অন্নাভাব থাকে না। অন্নপূর্ণা পূজা সনাতন ধর্মে একটি ধর্মীয় উৎসব। যদিও চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে অন্নপূর্ণা পূজা বিশেষভাবে করা হয়।
নবান্ন অনুষ্ঠানে নতুন অন্ন পিতৃপুরুষ, দেবতা, কাক ইত্যাদি প্রাণীকে উৎসর্গ করে এবং আত্মীয় স্বজনকে পরিবেশন করার পর গৃহকর্তা ও পরিবারবর্গ নতুন গুড় সহ নতুন অন্ন গ্রহণ করেন।নতুন চালের তৈরি খাদ্যসামগ্রী কাককে নিবেদন করা নবান্নের অঙ্গ একটি বিশেষ লৌকিক প্রথা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কাকের মাধ্যমে ওই খাদ্য মৃতের আত্মার কাছে পৌঁছে যায়। এই নৈবেদ্যকে বলে "কাকবলী"। অতীতে পৌষ সংক্রান্তির দিনও গৃহদেবতাকে নবান্ন নিবেদন করার প্রথা ছিল। নবান্ন উৎসব একটি প্রাচীন প্রথা। শাস্ত্রে নবান্নের উল্লেখ ও কর্তব্য নির্দিষ্ট করা রয়েছে। বিশ্বাস অনুযায়ী, নতুন ধান উৎপাদনের সময় পিতৃপুরুষ অন্ন প্রার্থনা করে থাকেন। এই কারণে পার্বণ বিধি অনুযায়ে নবান্নে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করে থাকেন। শাস্ত্রমতে, নবান্ন শ্রাদ্ধ না করে নতুন অন্ন গ্রহণ করলে পাপের ভাগী হতে হয়।
বাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে সকল আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়, নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম। একদা অত্যন্ত সাড়ম্বরে নবান্ন উৎসব উদ্যাপন হত। সকল মানুষের সবচেয়ে আনন্দঘন উৎসব হিসেবে নবান্ন উৎসব সমাদৃত ছিলো। কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই নবান্ন উৎসব বিলুপ্তপ্রায়। তবে এখনও পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু এলাকায় নবান্ন উৎসব অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। গ্রামে আবহমানকাল ধরে নবান্ন উৎসব অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম,বর্ধমান সহ বিভিন্ন স্থানে আনুষ্ঠানিক নবান্ন উৎসব উদ্যাপিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গে নবান্ন উৎসব সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিন পালিত হয়। আবার কোথাও ৫ই অগ্রহায়ণ কোথাও ১২ই অগ্রহায়ণ হয়ে থাকে। তবে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের প্রতিপদের দিন থেকে নবান্ন শুরু হবে চলবে পুরা অগ্রহায়ণ মাস। তবে, এটি একটি ঋতুকেন্দ্রিক উৎসব এবং নতুন ধান ওঠার পর বিভিন্ন সময়েও এই উৎসব উদযাপন করা হয়ে থাকে। নবান্ন উৎসবের মূল সময় হল অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিন। কোথাও কোথাও নতুন আমন ধান পাকার পর মাঘ মাসেও নবান্ন উদযাপন করা হয়। এই উৎসবে নতুন চালের অন্ন তৈরি করে আত্মীয়-স্বজন এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। তবে অঞ্চল ও গ্রাম প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তারা অগ্রহায়ণ মাসে নিজে তারিখে এই উৎসব পালন করে থাকে। নবান্ন উৎসবের মহিমা হলো নতুন ধান ওঠার খুশিতে কৃষিজীবী সমাজের আনন্দ প্রকাশ করা একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। যেখানে নতুন চালের ভাত, পায়েস, পিঠা ইত্যাদি তৈরি করে পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়। সত্য সনাতন ধর্মে দেবতাকে উৎসর্গ করে এবং কাক ও পিতৃপুরুষদের খাবার দিয়ে এই উৎসবের সূচনা করে।
ওঁ গুরু কৃপাহি কেবলম্ .....!
#নবান্নআর্টিকল
....
...
.... ...!