11/07/2024
#প্রত্যেকের_উন্নতি_ও_আনন্দের_জন্য_অপরিহার্য
নিজের মোবাইলে আমরা সারাদিন কল করি, ইউটিউব ভিডিও দেখি, ফেইসবুক-ওয়াটসএপ করি,- এই করে করে মোবাইলের চার্জ কমে আসে। পরেরদিন যাতে আবার এই মোবাইল যথাযথ ব্যাবহার করা যায়,- তার জন্য রাতে চার্জে বসিয়ে দেই। চার্জ না দিলে মোবাইল অকেজো,- একটি প্লাস্টিকের খেলনা মাত্র।
অথচ,- সারাদিন নিজের শরীর-মন-আত্মা কত এনার্জি খরচ করছে,- চতুর্দিকের নেগেটিভ এনার্জির মাঝে নিজের পজিটিভ এনার্জি ক্ষয় হচ্ছে,- সেই শরীর মন আত্মাকে রিচার্জ করার কোন প্রচেষ্টাই নেই!! তাই এই শরীর অসুস্থ হচ্ছে, মন দূর্বল হচ্ছে, আত্মশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। মানুষ বুঝতে পারছে না,- কেন সে বাঁচার আনন্দ পাচ্ছেনা৷ কোনভাবে জোর করে জীবনটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এই ক্লান্তি দূর করতে ও ক্ষনিকের আনন্দ পেতে মদ্যপান করছে, সিগারেট ফুঁকছে, ব্যাভিচারীতায় লিপ্ত হচ্ছে।
ঘুম থেকে উঠেই পরিবেশ-পরিস্থিতির সাথে যুদ্ধ, উদ্বেগ-দু:শ্চিন্তা ও আশংকা নিয়ে রোজকার চলা, বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে টিকে থাকা, প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য ইঁদুর দৌড়ে সামিল হউয়া,- সবকিছুর কারনে রোজ আত্মিক শক্তি একটু একটু ক্ষয় হচ্ছে, পজিটিভ এনার্জি নষ্ট হচ্ছে,শরীরের ক্ষতি হচ্ছে।
তাই,- আত্মাকে রোজ রিচার্জ করতে হয়, নিজের মন ও শরীরে রোজ পজিটিভ এনার্জির Fuel ভরতে হয়, শরীরকে একটু সময় দিতে হয়।
তাই শ্রীশ্রীঠাকুর রোজ ব্রাম্মমুহুর্তে শয্যা ত্যাগ করে অন্তত পয়তাল্লিশ মিনিট নামধ্যানের বিধান দিলেন, স্বত:অনুজ্ঞা উচ্চারন করতে বললেন, আবেগ ভরে ইষ্টভৃতি নিবেদন করতে বললেন। রোজ বিনতি প্রার্থনার বিধান দিলেন।
থানকুনি পাতা সেবনের বিধান দিলেন, যাজনে যুক্ত থাকতে বললেন, সৎসঙ্গে যুক্ত হয়ে তুমুল কীর্তনের কথা বললেন।
রোজ এই নামধ্যান, স্বত;অনুজ্ঞা, ইষ্টভৃতি, যাজন, সৎসঙ্গে যোগদান আমাদের মন ও আত্মায় পজিটিভ এনার্জি সঞ্চার করে, আত্মশক্তিতে বলীয়ান করে। তখন পরিবেশ পরিস্থিতির শত সংঘাত, প্রবল প্রতিকূলতা ও নেগেটিভ এনার্জির মাঝেও আমাদের মন হীনবল হয়না, দিব্য আনন্দের ঘাটতি হয়না, উৎসাহ ও কর্মোদ্দীপনার অভাব হয়না৷
থানকুনি পাতা সেবন, সদাচার পালন, সাত্ত্বিক আহার, সৎসঙ্গে যোগদান ও কীর্তন, নৃত্য, যাজন আমাদের শারীরিক সুস্থতা অনেকগুন বাড়িয়ে দেয়।
অনেকেই বলে,- তারা সাংঘাতিক ব্যাস্ত, তাদের অনেক চাপ, ভীষণ দায়িত্ব, সারাদিন খুব দৌড়াদৌড়ি, অনেক টেনশন,- তাই তাদের সময় হয়না ধ্যান করার, প্রার্থনা করার, সৎসঙ্গে যাওয়ার, যাজন করার। এই ব্যাস্ততম জীবনে এইসব ধর্ম কর্মের সময় কই?
বাস্তবে,- ব্যাপারটা ঠিক উলটো। যাদের জীবনে যত বেশী চাপ, যত বেশী ব্যাস্ততা, যত দু:শ্চিন্তা,- তাদেরই বেশী বেশী প্রয়োজন নামধ্যানের, ইষ্টভৃতির, প্রার্থনার,সৎসঙ্গের৷ কারন,- তাদেরই পজিটিভ এনার্জি বেশী প্রয়োজন, তাদেরই পরমাত্মার সান্নিধ্যে আরো বেশী কাটাতে হয়।
তানাহলে তাদের পজিটিভ এনার্জি দ্রুত ক্ষয় হয়ে,- একসময় নেগেটিভ এনার্জির সঞ্চার বেশী হতে থাকে। তখন দু:শ্চিন্তা তাদের মাথায় চেপে বসে, মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়, অনিদ্রা দেখা দেয়, আনন্দ হারিয়ে যায়, অশান্তি বিরাজ করে৷
Apple কোম্পানির মালিক রোজ ভোর চারটায় শয্যা ত্যাগ করে ধ্যান করেন, তারপর পয়তাল্লিশ মিনিট জগিং করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এত ব্যাস্ত,- অথচ তিনি নিয়মিত যোগ করেন, ধ্যান করেন।
পৃথিবীতে যারাই উচ্চ দায়ীত্বশীল পদে থেকে দীর্ঘদিন দক্ষতার সাথে দায়ীত্ব পালন করেছেন,- তারা প্রতেকেই নিজ নিজ শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্য, নিজের মধ্যে পজিটিভ এনার্জি সঞ্চার করার জন্য রোজ কিছুটা সময় ব্যয় করেছেন। এটাই উপায়।
তা না করে আমি যতই ব্যাস্ত থাকি, - সেই ব্যাস্ততার তুলনায় productivity ও creativity কমে যাবে। দীর্ঘসময় এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা মুসকিল হবে।
আমরা যে পেশাতেই যুক্ত থাকি, যত বড় পদেই আসীন হই আর যত বেশী ব্যাস্ত থাকিনা কেন,- নামধ্যান-প্রার্থনা-গুরুসেবা-সৎসঙ্গ-আচার্য্যনিষ্ঠা আমাদের প্রত্যেকের উন্নতির জন্য অপরিহার্য উপায়।
*****************
©ডা: রাজেশ চৌধুরী
আগরতলা
১০-০৭-২৪