09/05/2024
অক্ষয় তৃতীয়া কি ?
এবং কেন পালন করা হয় :--
অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে।
🌻 যদি ভালো কাজ করা হয় তার জন্যে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করা হয় তবে লাভ হয় অক্ষয় পাপ।
👉এই দিন আমাদের যা করণীয় :--
* এদিন খুব সাবধানে প্রতিটি কাজ করা উচিত।
* কখনো যেন কটু কথা না বেরোয় মুখ থেকে।
* কোনো কারণে যেন কারো ক্ষতি না করে ফেলি বা কারো মনে আঘাত দিয়ে না ফেলি।
* আমিষাহার পরিত্যাগ করা উচিত ।
* মন্দিরে ভোগ, চন্দন, ফুল, ফল, অর্থ ইত্যাদি দান করা উচিত।
* এদিন পূজা,জপ,ধ্যান,দান,অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত।
**যেহেতু এই তৃতীয়ার সব কাজ অক্ষয় থাকে তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয় সতর্কভাবে। এবারের অক্ষয় তৃতীয়া সবার ভালো কাটুক – এই কামনায় করি।
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
যে সকল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল এই দিনে :-- 👇👇👇👇👇
১) শ্রীবিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম আবির্ভূত হন।
২) রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন।
৩) গনেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত লিখতে শুরু করেন।
৪) চন্দনযাত্রা শুরু হয়।
৫) সত্যযুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের শুভ সূচনা হয়।
৬) কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
৭) ভক্তরাজ সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সাথে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ মোচন করেন।
৮) দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং ভগবান তার সখীকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ। শরণাগতের পরিত্রাতা রূপে এদিন শ্রী কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন।
৯) পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ শুরু হয়।
১০) কেদার-বদরী গঙ্গোত্রী-যমুনত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়।
১১) ভগবান যব এর সৃষ্টি করেন।
১২) অন্নপূর্ণা দেবীর আবির্ভাব হয়।
১৩) দ্রৌপদীর অক্ষয় পাত্র লাভ হয়েছিল । ১৪) বাঁকী বিহারীর চরণ দর্শন।
১৫) ব্রক্ষার পুত্র অক্ষয় কুমারের জন্ম।
🎇🎆আনুষ্ঠানিকতা🎆🎇
১. এই দিন অন্নদান,দক্ষিণা দান,বস্ত্র দান করলে তা অক্ষয় থাকে।
২. এই দিন গঙ্গাস্নান শ্রেষ্ঠ,কাছে নদী না থাকলে সপ্তগঙ্গাকে আহ্বান করে স্নান করতে হবে।
৩. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতে হয় (যব-হোম দ্বারা)।
৪. হরিনাম জপ,শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা, ভাগবত (১০ম স্কন্ধ) ও অন্যান্য গ্রন্থসমূহ পাঠ করলে অক্ষয় হবে।
৫. ভগবানকে নতুন বস্ত্র দান করলে - তা অক্ষয় থাকে।
৬. শ্রাদ্ধ ও পিতৃতর্পন করিলে অক্ষয় থাকে।
৭. শ্রীবিষ্ণুসহ লক্ষীদেবী ও গণেশ পূজা করলে প্রচুর ধন ঐশ্বর্য বৃদ্ধি পায়।
৮. ভগবানের শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করতে হয়, কেননা ঐ দিন ভগবানের অঙ্গে তাপ লেগেছিলো ।
🎀 সুখ সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে যা যা করতে হয় :--
১. সোনা,রূপা বা ধাতুর জিনিস ক্রয় করলে শুভ হয়।
২. ভগবানের জন্য প্রয়োজনীয় বাসনকোসন ক্রয় করতে পারেন।
৩. শ্রীরাধাকৃষ্ণের চরণে চন্দনের ফোঁটা দিতে পারেন।
৪. বিবাহিত মহিলারা আলতা,সিঁদুর দান করুন।
৫. ঐ দিন তামার ঘট,নারিকেল,সুপারী ও চন্দন কাঠ দান করুন।
৬. লোভ পরিত্যাগ করে প্রসাদ বিতরণ করুন।
৭. এক মুষ্ঠি খাঁটি হলুদ সরিষা রাখলে মা লক্ষ্মী প্রীত হন।
৮. মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে দিন।
৯. ভগবানকে মৌসুমী ফল দান করুন।
১০. গাড়ী,বাড়ী,জমি ক্রয় করুন।
১১. ঘি এর প্রদীপ জ্বালিয়ে দিন।
#শ্রীমলয়কৃষ্ণগোস্বামী