09/04/2026
আজ বন্দেমাতরম্ মন্ত্রের ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রয়াণদিবস। আজ দর্শন করুন গঙ্গাসাগরের নিকটবর্তী পূর্ব মেদিনীপুরের মা কপালকুণ্ডলা কালী।
কাঁথির খুব কাছেই (১২ কিমি) বগুড়ান জলপাই সমুদ্র সৈকত থেকে পেটুয়াঘাট মৎস বন্দর অবধি সমুদ্র সৈকত বরাবর একটা বাঁধ আছে। ওই বাঁধের গায়েই জুনপুট সৈকত, বাঁকিপুট সৈকত ছাড়িয়ে একটু এগোলেই এই কপালকুণ্ডলা কালী মন্দির অবস্থিত।
এই কপালকুণ্ডলা কালী মন্দির চত্বরে আরো দুটো দর্শনীয় জিনিস আছে। কালী মন্দিরের পিছনেই বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত একটা বেদী আছে। তার পিছনেই একটা বড় শিব মন্দির আছে। ওই শিব মন্দিরটা "সদাশিবের মন্দির" নামে পরিচিত।
কপালকুণ্ডলা উপন্যাস বাঙালির অতি পরিচিত। নবকুমার, কপালকুণ্ডলা ও কাপালিকের সেই কাহিনীর উপাদান বঙ্কিমচন্দ্র এখান থেকে সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। তন্ত্রে কপালকুণ্ডলা মা কালীর অত্যন্ত প্রাচীন নাম। মা ঘন মেঘের মতো বর্ণ ধারণ করে নরকপালের মালা পরিধান করে তাণ্ডবনৃত্য করছেন, দেখে মনে হচ্ছে নীলাকাশে বলাকার দল উড়ছে। এমন বর্ণনা কালিদাসের রঘুবংশ, কুমারসম্ভবে পাওয়া যায়। আবার মায়ের এই কপালমালা ধারণ করে বলাকিনী রূপ অতীতের বলাকামুখী মাতৃকার আবহমান সাধনার দিকেও ইঙ্গিত করে।
সব মিলিয়ে মাতৃসাধনার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য থেকে আধুনিক যুগের ঋষি বঙ্কিমের মননের জগত পর্যন্ত বাঙালির ইতিহাসের অনেক অধ্যায় জড়িয়ে আছে মা কপালকুণ্ডলা কালীর সাথে।
জয় জয় মা
কালীক্ষেত্র আন্দোলন
তথ্য : সুমন ঘোষ ও তমাল দাশগুপ্ত মহাশয়
লেখায় রক্তিম মুখার্জী
বঙ্কিমচন্দ্রের যুবক বয়সের বিরল ছবিটি তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta পেজ থেকে প্রাপ্ত।