19/05/2023
*আচার্য্য প্রণবানন্দের ঐশী ব্যক্তিত্ব*
--------------------------------------
আচার্য্য প্রণবানন্দ কার্য্য আরম্ভ করেন কতকগুলো স্কুল কলেজের ছাত্র নিয়ে, যারা আত্মমুক্তি তথা দেশ - সমাজ- জাতির সেবায় আত্মোৎসর্গ করতে প্রস্তুত। যে সমস্ত বালক ও যুবক ত্যাগী কর্মীরূপে তাঁর কাছে যোগ দিয়েছিল তারা যখন তদীয় সঙ্ঘের আদর্শ ও উদ্দেশ্য জনসাধারণের কাছে প্রচার করতে যেত তখন তারা অনেক ক্ষেত্রে উপহসিত হত।
সেই সময়ে গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সমগ্ৰ ভারতকে মাতিয়ে তুলেছিল। সঙ্ঘের প্রচারিত ভারতের প্রাচীন আদর্শ ও সাধনার কথা শুনে জনসাধারণ বিশেষত: অসহযোগ আন্দোলনের কর্মিগণ তাদের উপহাস করে বলতো-----" মশায়, আপনারা কি পাগল হয়েছেন? দেশটাকে দশ হাজার বছর পিছিয়ে দিতে চান? দেশ চলছে এগিয়ে। দেখছেন না, মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে দেশ কিরূপ মেতে উঠেছে? আপনারা আসুন, আমাদের সঙ্গে এই রাজনৈতিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন"।সঙ্ঘের তরুণ কর্মিগণ যথার্থ উত্তর দিতে না পেরে বিষন্নভাবে আশ্রমে ফিরে আসত।
একদিন তারা তাদের মনের ব্যথা আচার্য্যদেবের কাছে নিবেদন করলো। তার উত্তরে আচার্য্যদেব হেসে বলেছিলেন -----" দেশ সমাজ জাতির সমস্যা বোঝে কে, কয়জন? যাদের মন কামনা বাসনার জ্বালায় জর্জরিত, যাদের মন রিপু-ইন্দ্রিয়ের তাড়নায় তাড়িত, যাদের বুদ্ধি স্বার্থের নরকে লুন্ঠিত, তারা দেবে দেশ সমাজ জাতির সমস্যার সমাধান? যদি ব্যাস- বশিষ্ঠ -বাল্মিকীর ন্যায় ত্রিকালদর্শী ঋষি থাকতেন, যদি বুদ্ধ- শঙ্কর -চৈতন্যের ন্যায় সর্বত্যাগী, সর্বহিতৈষী মহাপুরুষ থাকতেন, তবে তাঁরাই বুঝতেন এ দেশ এ সমাজ এ জাতির পন্থা কী।দেশ আজ মহাত্মা গান্ধীকে মাথায় তুলে নাচছে, তোমরাই দেখে যাবে একদিন তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। আর আমি যে পথ দেখাচ্ছি, এই ই হচ্ছে ভারতের সনাতন অভ্রান্ত পথ। তোমরা নির্ভয়ে নিশ্চিন্ত মনে এই পথে চল; সমগ্ৰ দেশ তোমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে বাধ্য হবে "।
সঙ্ঘ-কর্মিগণ অনেকটা আশ্বস্ত হলেও তাদের অন্তরের সংশয় সম্পূর্ণ ছিন্ন হল না। তখন আচার্য্য গম্ভীর কন্ঠে বলেছিলেন ---------" আমি কি কাউকে ডেকে এনেছি? যার ইচ্ছা থাকবে, যার ইচ্ছা চলে যাবে, আমার উপর সর্বনিয়ন্তার যে প্রত্যাদেশ, তা আমি মাটির পুতুলের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করে করে যাব"।