16/12/2025
ভারতের #প্রথম বৈধ-বিবাহ-বিচ্ছেদ-প্রাপ্ত নারী — রুক্মাবাই রাউত
ভারতের ইতিহাসে প্রথম যিনি বৈধভাবে #বিবাহবিচ্ছেদ (divorce) নিয়েছিলেন, সেই অসাধারণ সাহসী নারী ছিলেন রুক্মাবাই রাউত( ১৮৬৪-১৯৫৫)।
রুক্মাবাই কেবল ব্যক্তিগত কষ্ট থেকে মুক্তি চাননি — তিনি চেয়েছিলেন সমাজের অন্যায়, বিশেষত নারীদের ওপর আইনি ও সামাজিক জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে।
কেন রুক্মাবাই বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন..?👇
১. #শিশুবিবাহ — সম্পূর্ণ অসম্মতিতে বদ্ধ জীবন
মাত্র ১১ বছর বয়সে রুক্মাবাইকে বিয়ে দেওয়া হয় দাদাজি ভিকাজি নামের এক যুবকের সঙ্গে।
তিনি পরে স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন —
“যে বিয়ে আমার সম্মতি ছাড়া, অজ্ঞ বয়সে হয়েছে — তা আমার কাছে বৈধ নয়।”
২. স্বামীর চরিত্র ও জীবনযাপন ছিল অসহনীয়
দাদাজি ভিকাজি ছিলেন #বেকার, #দায়িত্বহীন, #চরিত্রহীন ও #মদ্যপ।
👉 অন্যদিকে রুক্মাবাই ছিলেন #শিক্ষিত, সচেতন, আত্মনির্ভরশীল হতে #আগ্রহী।
৩. নিজের #শিক্ষা ও #ব্যক্তিস্বাধীনতা বাঁচানোর লড়াই
রুক্মাবাই পড়াশোনায় অসাধারণ ছিলেন। তাঁর মা জয়ন্তীবাই ছিলেন প্রগতিশীল —
মেয়ের #স্বাধীনতা, #পড়াশোনা, নিজের জীবন বেছে নেওয়ার অধিকারকেই তিনি #গুরুত্ব দিতেন।
স্বামী আদালতে মামলা করে দাবি করেন—
“সে আমার #স্ত্রী, তাকে আমার সঙ্গে থাকতে হবে।”
কিন্তু রুক্মাবাই দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন—
“আমি #প্রাপ্তবয়স্ক। জোর করে আমাকে কারও সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যাবে না।”
৪. নারীর প্রতি সামাজিক-আইনি অত্যাচারের #বিরুদ্ধে প্রতিবাদ :-
#রুক্মাবাই শুধু নিজের জন্য লড়েননি।
তিনি বলেছিলেন—
“নারী কোনো #সম্পত্তি নয়, যাকে #পুরুষ দাবি করবে আর সমাজ তাকে তুলে দেবে।”
ফলাফল ও রুক্মাবাইয়ের বিজয়
মামলায় তিনি প্রথমে হেরে গেলেও সমাজে ব্যাপক আলোড়ন ওঠে।
অবশেষে #স্বামী #ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলাদা থাকতে রাজি হন —
সামাজিক-আইনগত চাপের পর, ১৮৮৮ সালের জুলাইতে Dadaji Bhikaji-র দাবি বাতিল হয় — তিনি রুক্মাবাই-এর ওপর তার অধিকর থেকে সরে আসেন এবং ২০০০ রুপি ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ মেনে নেন।
এভাবেই রুক্মাবাই স্বাধীনতা পান।
এরপর তিনি ইংল্যান্ডে গিয়ে ডাক্তারি পড়েন এবং দেশে ফিরে অসংখ্য নারীকে চিকিৎসা সেবা দেন।
#রুক্মাবাইয়ের সংগ্রামের মূল কথা
রুক্মাবাইয়ের লড়াই শুধু বিবাহবিচ্ছেদ নয় —
এটি ছিল ভারতের নারীর নিজের জীবনের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম বড় #যুদ্ধ।