22/01/2026
এক সময়ের কথা, কলকাতার একটা ব্যস্ত রাস্তার ধারে একটা ছোট দোকানে মা-ছেলে দুজন ঢুকলেন। ছেলেটি ছোট্ট, চোখে-মুখে মিষ্টি আলো, নাম তার হয়তো বলা যায় ‘ছোট্ট হাত’।দোকানদার কাকা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে হাসলেন। তার হাতে একটা রঙিন কাচের বোতল, ভর্তি মিষ্টি – লাল, সবুজ, হলুদ, যেন রামধনুর টুকরো। “আয় বাবা,” বললেন তিনি আদর করে, “তোর মনের মতো মিষ্টি নে, যতগুলো চাস।”ছেলেটি তাকাল বোতলের দিকে, চোখ জ্বলে উঠল, কিন্তু হাত বাড়াল না। দোকানদার অবাক। এত ছোট বাচ্চা, ফ্রি মিষ্টি, অথচ নিচ্ছে না? আবার বললেন, “কী রে, লজ্জা পাচ্ছিস? নে না, ভর্তি করে নে!” মাও শুনে বললেন, “ওরে বাবা, কাকু বলছে তো, নে মিষ্টি।”কিন্তু ছেলেটি নড়ল না। শেষমেশ দোকানদার নিজেই হাত ঢুকিয়ে বোতলে, তার বড়-বড় হাত দিয়ে মিষ্টি তুলে ছেলেটির ছোট হাতে ভরে দিলেন। ছেলেটির হাত দুটো যেন ফেটে পড়ছে মিষ্টির ভারে – লাল রসগোল্লা, সাদা সরভি, হলুদ লাড্ডু, সব মিলিয়ে এক ঝুড়ি ভর্তি! ছেলেটি হাসতে হাসতে লাফিয়ে উঠল।বাড়ির পথে মা জিজ্ঞেস করলেন মৃদু স্বরে, “বল তো, কেন নিলি না নিজে মিষ্টি? কাকু তো অনেকবার বললেন।”ছেলেটি মায়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে পড়ল, তার ছোট হাত তুলে দেখিয়ে বলল, “মা, আমার তো হাত ছোট। আমি নিলে দুই-একটা মিষ্টিই পেতাম, হয়তো হাতে ঢুকতেও পারতাম না সব। কিন্তু দেখো না, কাকুর বড় হাতে কতগুলো মিষ্টি এল! তার হাত বড় বলে আমার চেয়ে অনেক বেশি দিতে পারলেন।”মা হাসলেন, চোখে একটা আলো জ্বলে উঠল। সেইদিন থেকে ছেলেটি শিখল একটা বড় সত্যি – যখন আমরা নিজের ছোট হাতে চাই, তখন সীমিত পাই; কিন্তু যখন ঈশ্বর দেন, তাঁর বড়-বড় হাতে দেন প্রচুর, আমাদের স্বপ্নেরও বেশি, যা আমরা কখনো আঁকড়ে ধরতে পারি না!