Srímadvagbad Gíta Radhé Kríshna Díos

Srímadvagbad Gíta Radhé Kríshna Díos Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Srímadvagbad Gíta Radhé Kríshna Díos, Assemblies of God, Ranaghat.

 #কৃষ্ণ ভক্ত,,,,,,,,,,,,,    #যিনি নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় ভাবিত, তাঁকে বলা হয় কৃষ্ণভক্ত। শ্রীল রূপ গোস্বামী বলেছেন যে,  শ...
15/01/2025

#কৃষ্ণ ভক্ত,,,,,,,,,,,,,

#যিনি নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় ভাবিত, তাঁকে বলা হয় কৃষ্ণভক্ত। শ্রীল রূপ গোস্বামী বলেছেন যে, শ্রীকৃষ্ণের সমস্ত দিব্য গুণগুলি কৃষ্ণভক্তের মধ্যেও দেখা যায়।

#কৃষ্ণ ভক্তদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়; যাঁরা দিব্যধামে প্রবেশ করার জন্য ভগবদ্ভক্তির সাধন করেন এবং যাঁরা ইতিমধ্যেই ভগবদ্ভক্তির সিদ্ধ অবস্থা প্রাপ্ত হয়েছেন।

#যাঁর হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আসক্তির উদয় হয়েছে এবং জড় জাগতিক অনর্থগুলি থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হতে না পারলেও যিনি ' ভগবৎ-ধামে প্রবেশ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাঁকে সাধক বলা হয়। সাধক কথাটির অর্থ হচ্ছে যিনি কৃষ্ণভাবনা অনুশীলন করছেন।

#শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধে (১১/২/৪৬) এই ধরনের ভক্তের বর্ণনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভগবানের প্রতি যিনি অনন্য ভক্তিপরায়ণ, ভগবদ্ভক্তের প্রতি যিনি মৈত্রী ভাবাপন্ন, অজ্ঞানদের যিনি ভক্তিমার্গে নিয়ে এসে কৃপা করেন এবং ভগবৎ-বিদ্বেষীদের উপেক্ষা করেন, তিনিই হচ্ছেন ভগবদ্ভক্তির সাধক।

#কেউ যখন ভগবানের লীলা শ্রবণ করে অশ্রু বিসর্জন করেন, তখন বুঝতে হবে যে, এই জলধারার প্রভাবে ভব-মহাদাবাগ্নি নির্বাপিত হয়ে যাবে। যাঁর শরীর পুলকিত ও রোমাঞ্চিত হয়, তিনি অচিরেই সিদ্ধিলাভ করবেন বলে বুঝতে হবে। সাধক-ভক্তের দৃষ্টান্ত হচ্ছেন শ্রীবিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

#ভক্তিযোগ সাধন করার ফলে যাঁর কোন রকম পরিশ্রম অনুভব হয় না এবং যিনি সর্বদাই কৃষ্ণভাবনায় ভাবিত কার্যকলাপে যুক্ত থেকে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিরন্তর অপ্রাকৃত রস আস্বাদন করেন, তাঁকে বলা হয় সিদ্ধ। এই সিদ্ধ অবস্থা দুভাবে প্রাপ্ত হওয়া যায় 👉ভগবদ্ভক্তির সাধন দ্বারা ধীরে ধীরে এই স্তরে উন্নীত হওয়া যায় এবং👉 দ্বিতীয়টি হচ্ছে ভগবদ্ভক্তির বিধি-নিষেধের অনুশীলন না করেই শ্রীকৃষ্ণের অহৈতুকী কৃপার প্রভাবে এই সিদ্ধ অবস্থা প্রাপ্ত হওয়া যায়।

#শ্রীমদ্ভাগবতের তৃতীয় স্কন্ধে (৩/১৫/২৫) নিয়মিতভাবে ভগবদ্ভক্তির অনুশীলন করার ফলে ভক্তের সিদ্ধি লাভের বর্ণনা রয়েছে—“জড় অস্তিত্বের মিথ্যা অহঙ্কার থেকে মুক্ত পুরুষ অথবা উন্নত স্তরের যোগী বৈকুণ্ঠ নামক ভগবৎ-ধামে প্রবেশ করতে পারেন। এই ধরনের যোগী বৈধীভক্তির নিরন্তর আচরণ করে অত্যন্ত উৎফুল্ল হন এবং তার ফলে পরমেশ্বর ভগবানের বিশেষ কৃপা লাভ করেন।

#যমরাজ এই ধরনের ভক্তের কাছে যেতেও ভয় পান। সুতরাং এর থেকে আমরা উত্তম ভক্তের শক্তি অনুমান করতে পারি, বিশেষ করে ভক্তরা যখন একত্রিত হয়ে পরমেশ্বর ভগবানের লীলা আলোচনা করেন। সেই সমস্ত ভক্তরা এমনভাবে তাঁদের অন্তরের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন যে, আপনা থেকেই তাঁদের হৃদয় দিব্য আনন্দে দ্রবীভূত হয় এবং তাদের শরীরে নানা রকম দিব্য লক্ষণ দেখা যায়। যে মানুষ ভগবদ্ভক্তির পথে উন্নতি সাধনে অভিলাষী, তাকে এই ধরনের ভক্তদের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।

#প্রহ্লাদ মহারাজ বলেছেন যে, উত্তম ভক্তদের পদধূলির দ্বারা অভিষিক্ত না হলে ভক্তিমার্গে সিদ্ধিলাভ করা যায় না। মার্কণ্ডেয় ঋষির মতো তত্ত্বজ্ঞানী পুরুষেরাও বৈধীভক্তি অনুশীলন করে ভক্তিমার্গে সিদ্ধিলাভ করেছেন।

#কৃপাসিদ্ধির উদাহরণ হচ্ছেন, শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত যজ্ঞপত্নীরা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় ব্রাহ্মণপত্নীদের ভগবৎ-প্রেমে বিভোর হতে দেখে ব্রাহ্মণেরা পরস্পরের সঙ্গে বলাবলি করেছিলেন, “কী আশ্চর্যের বিষয়! এই মহিলারা উপনয়ন সংস্কার ব্যতীত, গুরুকুলে বিদ্যাভ্যাস ব্যতীত, ব্রহ্মচর্য, তপ, ত্যাগ, মীমাংসা, শৌচ অথবা শুভকর্মের আচরণ না করেই, শ্রীকৃষ্ণের কৃপার ফলে মহাযোগীদেরও দুর্লভ সুদৃঢ় ভক্তি প্রাপ্ত হয়েছেন।

#নারদ মুনি শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকে এইভাবে সম্বোধন করেছেন, “হে শুকদেব, তুমি কখনও গুরুর কাছে বিদ্যা অধ্যয়ন করনি, কিন্তু তবুও তুমি দিব্যজ্ঞান লাভ করেছ। তুমি কখনও কঠোর তপস্যা করনি, তবুও কী আশ্চর্যের বিষয় যে, তুমি ভগবৎ-প্রেমের অবস্থা প্রাপ্ত হয়েছ।

#শ্রীল শুকদেব গোস্বামী ও যজ্ঞপত্নীরা হচ্ছেন কৃপাসিদ্ধ ভক্তের প্রতীক।
#হরেকৃষ্ণ🙏🙏🙏

# Collected🙏

* ৫১৬১ বছর পূর্বে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পবিত্র কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধের ময়দানে শ্রীঅর্জুনকে শ্রীমদ্ভভগবদগীতার জ্ঞান দান ...
15/01/2025

* ৫১৬১ বছর পূর্বে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পবিত্র কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধের ময়দানে শ্রীঅর্জুনকে শ্রীমদ্ভভগবদগীতার জ্ঞান দান করেছিলেন।
#হরেকৃষ্ণ 🙏

#গীতা জয়ন্তী মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য (১)
#কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে ভগবদগীতার দিব্য বাণী প্রদানের প্রেক্ষাপটটি ছিল অভূতপূর্ব৷ লক্ষ লক্ষ বীর পাণ্ডব ও কৌরব যোদ্ধা কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে সমবেত হয়েছিল৷ উভয় পক্ষের সেনাই প্রাণদান করতে এবং প্রাণ নেওয়ার জন্য তৈরী ছিল৷
#কিন্তু যুদ্ধ শুরুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তেই অর্জুন সম্পূর্ণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন৷ তিনি জীবনের সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ যুদ্ধটি করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন৷ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ণ করে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন নির্বাহ করতে চাইলেন৷ কিন্তু অর্জুন ছিলেন ভাগ্যবান, কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সাথে আছেন৷ শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখা, পথপ্রদর্শক এবং তত্ত্বজ্ঞানদ্রষ্টা৷

#কিংকর্তব্যবিমূঢ় যোদ্ধা যিনি তাঁর জীবনে বহু যুদ্ধ জয় করেছেন তিনি শ্রীকৃষ্ণ এর শরণাপন্ন হলেন৷ অশ্রুসজল চোখে, ভীতিপূর্ণ হৃদয়ে এবং কম্পিত কণ্ঠে যথার্থ মার্গ (পথ)প্রদর্শনের জন্য তিনি শ্রীকৃষ্ণের সহায়তা প্রার্থনা করলেন৷

#শ্রীমদ্ভগবদগীতার (২/৭) তম শ্লোকে অর্জুন সমর্পণ করলেন ভগবানের কাছে,,

#কার্পণ্য দোষ উপহত স্বভাবঃ৷
পৃচ্ছামি ত্বাম্ ধর্ম সম্মূঢ় চেতাঃ৷৷
যৎ শ্রেয়ঃ স্যাৎ নিশ্চিতম ব্রূহি তৎ মে৷
শিষ্যঃ তে অহম্ শাধি মাম্ ত্বাম প্রপন্নম্৷৷

#অনুবাদঃ- কার্পণ্যজনিত দূর্বলতার প্রভাবে আমি এখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় এবং আমার কর্তব্য সম্বন্ধে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত৷ এই অবস্থায় আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি কি করা আমার পক্ষে শ্রেয়, তা আমাকে বল৷ এখন আমি তোমার শিয্য এবং সর্বতোভাবে তোমার শরণাগত৷ দয়া করে তুমি আমাকে নির্দেশ দাও৷
(গীতা ২/৭)
#শ্রীকৃষ্ণ সকলের শুভাকাঙ্ক্ষী সুহৃদ৷ যাঁরা তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন, তিনি সেই সকল ভক্তের সর্বদা সহায়তা করেন৷ তাঁর ভক্তদের প্রতি তিনি বিশেষ কৃপা প্রদর্শন করেন৷ সেইজন্য অর্জুন যখন শ্রীকৃষ্ণের নিকট সহায়তা প্রার্থনা করলেন, শ্রীকৃষ্ণ তৎক্ষনাৎ অর্জুনকে সহায়তা করতে অগ্রসর হলেন৷ অর্জুনের বিমূঢ়তার মূল কারণ তাঁর হৃদয়ে অন্ধকারকে তিনি দূরীভূত করে দিলেন৷
🌹জয় শ্রীকৃষ্ণ 🙏

# Collected🙏

সনাতন ধর্মের অস্তীত্ব সংকটে কেন?১ গুরু পাঠশালা‌ না থাকা।২ ভাগবতগীতা না পাঠ করা।৩ পিতামাতা বাচ্চাদেরকে ‌নিজেদের ধর্ম কথা ...
15/01/2025

সনাতন ধর্মের অস্তীত্ব সংকটে কেন?
১ গুরু পাঠশালা‌ না থাকা।
২ ভাগবতগীতা না পাঠ করা।
৩ পিতামাতা বাচ্চাদেরকে ‌নিজেদের ধর্ম কথা না শিক্ষা দেওয়া
৪ বেদ পুরান না শেখানো বা জানানো।
৫ নিজের ধর্মের প্রতি অবিশ্বাস।
৬ অন্য ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিজের ধর্ম কে নীচূ করা।
৭ মন্দীরে না যাওয়া তার বদলে পানশালা বা মদিরা পান করা অবৈধ নারী গমন।
৮ ধর্মান্তরকরণ
আরো অনেক কিছু।।।।।
আপনার মতামত কি আগামী দিনে নিজের ধর্মকে রক্ষায় কি করনীয়।???

|| ঈশ্বর চাইলে কী না হয়..ভক্ত প্রিয় ভগবান || -একটিবার পড়ুন :        - ভক্ত যেমন ভগবানকে ছাড়া থাকতে পারে না,ভগবানও তেমনি ...
23/11/2024

|| ঈশ্বর চাইলে কী না হয়..ভক্ত প্রিয় ভগবান ||

-একটিবার পড়ুন :
- ভক্ত যেমন ভগবানকে ছাড়া থাকতে পারে না,ভগবানও তেমনি ভক্ত ছাড়া থাকিতে পারে না -"যে যথা মাম প্রপদ্যে,তাংস্তথৈব ভজামি অহম্"-গীতা।
গোরক্ষপুর গীতাভবনের এক সাধুর কাছে শুনেছিলাম একটি দিব্য ঘটনা -
" একবার এক ব্রজের সন্তদের দিব্যমন্ডলী ট্রেনে করে প্রয়াগ তীর্থে যাত্রা করে বৃন্দাবনে ফিরছিলেন। তার মধ্যে এক সন্তজী গিরিরাজশীলা গোপাল বিগ্রহ সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
অনেক সন্তদের সাথেই ঠাকুরজীর শীলা বিগ্রহ সবসময়ই থাকে।
সন্তজী সেই শীলা বিগ্রহের খুব প্রেম ভক্তিতে সেবা করতেন - নিত্য স্নান করিয়ে পূজা করে কীর্তন করিতেন,ভাগবত পড়িতেন।
আজ রেলে যাত্রা করছেন সেই সন্ত। সকলে মথুরা স্টেশনে নামবেন। যেতে যেতে রেলে সৎসঙ্গে কৃষ্ণ কথা ভাগবত প্রসঙ্গ শুরু হল সকলে তা নিয়ে ভাবুক আলোচনা করছেন।ওই কামরার অনেক যাত্রী ভাগবত কথা শুনছেন।
সন্তমন্ডলী মথুরাতে নামবেন।ট্রেন মথুরার কাছে এসে গেছে ।কিন্তু এমন ভাগবত কথা চলছে তাদের খেয়াল নেই কখন মথুরা এসে গেছেন।
মথুরা থেকে ট্রেন ছেড়েই যাবে এমন সময় এক যাত্রী সেই সন্তদের বলল "আপনারা নামবেন না? এই তো মথুরা স্টেশন!"
সকল সন্তরা তাড়াতাড়ি করে মথুরাতে নামলেন। তাড়াতাড়ি করলেন সাধুরা। এত তাড়া ছিল যে সাধুর কাছে গিরিরাজ শীলা বিগ্রহ ছিল,ট্রেনে উপরের বার্থে কাপড়ের উপর বসানো ছিল,সেটা ভুলে ফেলে রেখেই মথুরা স্টেশনে অন্য সাধুদের সাথে সেই ভাগবত প্রসঙ্গের মধুর কথা বলতে বলতে নেমে গেলেন। এমন ভাগবত আলোচনা হচ্ছিল যা একবারে ঘরে গিয়ে শেষ হল।
সাধুজী কুটিয়ায় ফিরে স্নান করে তিলক করে রন্ধন সেরে বিগ্রহ সেবার জন্য আসলেন। দেখলেন শীলা বিগ্রহ নাই। "আমার ঠাকুরজী কোথায় ?"
সাধুজী খুঁজতে লাগলেন। কাঁদতে লাগলেন। অন্য সব সাধু আজ সেই সাধুজীর বিগ্রহ ব্যাকুল হয়ে খুঁজেছেন।পাচ্ছেন না। সেই সাধু পাগলের মত প্রাণপ্রিয় গিরিরাজ গোপাল শীলা বিগ্রহ খুঁজছেন সব জায়গায় ।
তখন কেউ একজন বললেন, "নতুন শীলা বিগ্রহ এনে দেব আপনাকে।"
সাধুজী বললেন, " এমন হয় নাকি। আমি তো ওনার সাথে বড় হলাম। উনি আমাকে এত দিন সামলালেন। কি করে তাঁকে পরিত্যাগ করি।উনিই আমার প্রাণ।আমার তো ওকেই চাই " -বলে কেঁদে চলেছেন।
তখন এক সাধুজী এ সাধুকে বললেন, "এমন না তো যে ট্রেনেই আছেন ঠাকুরজী। ওখানে আপনি নিশ্চয়ই ফেলে এসেছেন ঠাকুরজিকে।"
সাধুজী বললেন; "হ্যাঁ এটা হতে পারে আমি তাড়াতাড়িতে ফেলে আসলাম আমার প্রানের গিরিরাজ গোপাল বিগ্রহ কে।
কিন্তু এখন তো পাঁচ ছয় ঘন্টা হল। ট্রেন কোথা থেকে কোথায় চলে গেল। আর কি পাব শীলা বিগ্রহকে।"
তবুও প্রাণের টানে সেই সাধু দৌড়ে স্টেশন পৌঁছালেন। স্টেশন মাস্টারকে বললেন, "আপনি আমাকে সাহায্য করুন। ট্রেনে আমার এক গুরুত্বপূর্ণ কিছু রয়ে গেছে" স্টেশন মাস্টার বললেন, "কি হল আমাকে বলুন। কি রয়ে গেছে ট্রেনে?"
সাধুজী বললেন, "আমার প্রাণ প্রিয় ঠাকুরজি গিরিরাজ গোপাল রয়ে গেছে গাড়িতে।আমি কিভাবে ফিরে পাবো?"
স্টেশন মাস্টার বললেন, "ট্রেনের নম্বর বলুন?"
তখন সন্তজী তখন নিজের টিকিট দিলেন। টিকিট দেখে স্টেশন মাস্টার অবাক,চোখ ছলছল করে উঠলো। সাধুজীকে দণ্ডবত প্রণাম করলেন আর আনন্দে ভক্তিতে কাঁদতে লাগলেন। সাধুজী কিছু বুঝতে না পেরে বললেন, "কি হল আপনি কাঁদছেন কেন?"
স্টেশন মাস্টার বিস্ময়ের সাথে বললেন, "সাধুজী এই ট্রেন প্রায় পাঁচ ঘন্টা ধরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে।বাঁশি বাজিয়ে ছাড়ার সময় কি জানি কি হল, আর ট্রেন যাচ্ছে না। ড্রাইভার আর কর্মকর্তা সকলে অনেক পরীক্ষা করলেন। কোন অসুবিধা ধরা পড়েনি ট্রেনে। তবুও ট্রেন চলছে না।প্রতিটি ইলেক্ট্রিক তার,ইঞ্জিন সব পরীক্ষা হল। তবুও কোন অসুবিধা খুঁজে পেলেন না। কেন যে ট্রেন যাচ্ছে না বুঝতে পারল না।এখন বুঝছি ভক্তের জন্য ভগবান আজ ট্রেন দাঁড় করিয়ে রেখে এই কাজ করলেন"।
সাধুজী কাঁদতে লাগলেন আর বললেন,- " বা !! আমার প্রিতম গিরিরাজগোপাল আজ আমার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছে ট্রেন আটকে দিয়ে।"
প্রেম ভক্তিতে আজ সাধুর কান্না যেন আর থামেনা।সেই সাধু ছুটে ট্রেনে উঠিলেন।উপরের সিটে ঠাকুরজিকে তেমনিই বসে থাকতে দেখলেন।যেন তিনি তাঁর প্রিয় ভক্তকে হারিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন। আর অপেক্ষা করছেন যেমন করে ভিড় মেলায় ছোট্ট বাচ্চা তার মাকে হারিয়ে ব্যাকুল হয়ে কাঁদে,আজ তেমনি ভগবানও শীলা বিগ্রহ রূপে বসে ভক্তের জন্য অপেক্ষা করছেন।
শীলাবিগ্রহ বুকে জড়িয়ে নিয়ে ট্রেন থেকে সাধুজী নামলেন। ড্রাইভার ট্রেন চালাতে লাগলেন -ট্রেন চলতে লাগল।সত্যিই সকলে অবাক!!! "
দুনিয়ার মানুষ বলে এই দুনিয়াকে ভালবাসতে।কিন্তু সাধুরা বলেন ভগবানকে ভালবাসতে।কেন বলে সেটা ভক্তগণই বোঝেন!!!

জয় ভক্তপ্রিয় ভগবান
জয় জয় শ্রীরাধে।

# Gopinath Chakroborty

# © Collected.

21/10/2022

"প্রতিদিন গীতা পাঠ করলে কি হয়?
প্রতিদিন গীতা পাঠ করুন মন পবিত্র রাখুন। ব্রহ্মা কহিলেন,

১. প্রথম অধ্যায় পাঠ করিলে লোকের মন পবিত্র হয়।
২. দ্বিতীয় অধ্যায় পাঠে নির্মলতা লাভ করে।
৩. তৃতীয় অধ্যায় পাঠে সর্বপাপ দূর হয়।
৪. চতুর্থ অধ্যায় পাঠ করিলে ব্রহ্মহত্যা ও স্ত্রীহত্যাজনিত পাপ তৎক্ষণাৎ দূর হইয়া থাকে।
৫. পঞ্চম অধ্যায় পাঠ করিলে চৌর্যমহাপাপ দূর হয়।
৬. ষষ্ঠ অধ্যায় পাঠে মন্দ ভাগ্য নাশ হয়।
৭. সপ্তম অধ্যায় পাঠে বুদ্ধি নির্মলতা লাভ করে।
৮. অষ্টম অধ্যায় পাঠে অখাদ্য ও অপেয়জাত সকল প্রকার পাপ দূর হয়।
৯. নবম অধ্যায় পাঠে পৃথিবী দানের মত সম্পুর্ন লাভ হয়।
১০. দশম অধ্যায় পাঠে সর্বপাপ বিনষ্ট হইয়া শ্রেষ্ঠ জ্ঞান জন্মে।
১১. একাদশ অধ্যায় পাঠে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হয়ে মুক্তি লাভ হয়।
১২. দ্বাদশ অধ্যায় পাঠে ভগবান বিশুদ্ধ ভক্তি জন্মে।
১৩. ত্রয়োদশ অধ্যায় পাঠে জ্ঞানচক্ষু বিকাশ তাহার শক্তি লাভ হয়।
১৪. চতুর্দশ অধ্যায় পাঠে অশ্বমেদি যজ্ঞের যে মহাফল তা লাভ হয়।
১৫. পঞ্চদশ অধ্যায় পাঠে নির্মল জ্ঞান লাভ করিয়া যোগী হওয়া যায়।
১৬. ষোড়শ অধ্যায় পাঠে মানব সংসার বন্ধন হইতে মুক্তি লাভ করে।
১৭. সপ্তদশ অধ্যায় পাঠে ভক্তজনের রাজপেয় নামক যজ্ঞের ফল লাভ করে।
১৮. অষ্টাদশ অধ্যায় পাঠে জ্ঞানরূপ অগ্নি দ্বারা পাপ দূর হয়।

জয় গীতা ।
হরে কৃষ্ণ 🙏🏼
#শ্রীমদ্ভগবদগীতা
#শ্রীমদ্ভগবদগীতা

25/05/2022

মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র হল-
ওম এ্যম্বকম, যজমগে সুগবন্ধিম পুষ্টীবর্ধনম উর্ভারুকমিভা বন্ধনন মৃত্যুমুখি মমৃতাত।।

মন্ত্রের উপকারিতা- এই মন্ত্রের গোপনীয়তা প্রয়োজন। মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের অর্থ নিজের জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য দেবতার আর্শীবাদ পাওয়া। স্বীকৃত মন্ত্রের প্রতিটি অক্ষরে লুকিয়ে রয়েছে ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধির আর সুস্থ জীবনের রহস্য।

মন্ত্রের ৩৩টি অক্ষরের অর্থঃ

ওম- ঈশ্বর
ত্রি- ধুব্রবসু হল প্রাণের ঘোটক ( মাথায় অবস্থিত)
যম- অধ্বভাসুর হল প্রাণের ঘোটক (মুখে অবস্থিত)
খ- সোমবসু হল শক্তির চিহ্নি (ডান কানে অবস্থিত)
কম - জল হল বাসু দেবতার চিহ্নি ( বাম কানে অবস্থিত)
য -বায়ু হল ঘোটক (দক্ষিণ বাহুয়তে অবস্থিত)
জা- অগ্নি হল ঘোটক (বাম বাহুতে অবস্থিত)
ম- প্রত্যুবশ বসু শক্তির চিহ্ন (ডান হাতের মাঝখানে অবস্থিত)
হে- প্রচেষ্টা বসু মণিবন্ধনে অবস্থিত
সু- বীরভদ্র রুদ্র প্রাণের মূর্ত প্রতীক (ডান হাতের আঙ্গুলের মূলে অবস্থিত)
গ-শুম্ভ হল রুদ্রেরর ঘওটক ( ডান হাতের আঙুলের ডগায় অবস্থিত)
ধীম- মূল গিরিশ রুদ্র শক্তি হল ঘওটক (বাম হাতের মূলে অবস্থিত)
পু- রুদ্রের শক্তির প্রতীক (হাতের মাঝখানে অবস্থিত)
ষ্টি- অহরব্যধ্য়াত হল রুদ্রের ঘোটক ( হাতের মণিবন্ধে অবস্থিত)
ব - পিণকী রুদ্র হল প্রাণের ঘোটক (বাম হাতের আঙুলের মূলে অবস্থিত)
র্ধ- ভবানীশ্বর হল রুদ্রের ঘোটক (হাতের আঙুলের সামনের অংশ অবস্থিত)
নম- কাপালি হল রুদ্রের ঘোটক (উরুর উৎপত্তিস্থলে অবস্থিত)
উ- দিকপতি হলেন রুদ্রের ঘোটক (যক্ষ জানুতে অবস্থিত)
বা- স্তনু বলে রুদ্রের ঘটোক (যক্ষ উপসাগরে অবস্থিত)
রু- ভার্গ হল রুদ্রের ঘোটক (চক পদঙ্গুলীর মূলে অবস্থিত)
উঃ- ধাতা হল আদিত্যের ঘোটক (যক্ষের পায়ের আঙুলের ডগায় অবস্থিত)
মি- আর্যামা হল আদিত্যের ঘওটক (বাম জানুতে অবস্থিত)
ভ- মিত্র আদিত্যের ঘওটক (বাম জানুতে অবস্থিত)
ধা- অংশু আদিত্যের ঘোটক (পায়ের আঙুলে অবস্থিত)
নাত- ভগ্যদিত্যের চিহ্ন (বাম পায়ের আঙুলের ডগার অগ্রভাবে অবস্থিত)
মৃ- বিভাসবান সূর্যের চিহ্ন (দক্ষিণ দিকে থাকে)
ত্যু- দন্ডাদিত্যের চিহ্ন
মু হল পুষাদিত্যমের চাৎপর্যতা
খী- পর্জন্যা হল আদিত্যের চিহ্ন
য- তবনাশতান হল আদিত্যধ
মা- বিষ্ণু বলেন আদিত্যের চিহ্ন
মৃ - প্রজাপতির চিহ্ন (গলার অংশ)
তাত- অমিত হল সূর্যের জ্যোতি

15/05/2022

Courtesy by Krishna Voktir Kotha
🌿🌺একদিন ব্রহ্মা অহংকার বশতঃ মনে করলেন
‘আমিই সবকিছু করেছি। আমিই সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। আমিই ব্রহ্মান্ডের মালিক"।।

#শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত আছে দ্বারকাতে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীব্রহ্মান্ডকে আহ্বান করলেন। ব্রহ্মা এসে পৌছালে কৃষ্ণের দ্বারপালগণ জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কোন ব্রহ্মা।’ ব্রহ্মা তখন বিস্মিত হয়ে বললেন, চতুর্মুখ ব্রহ্মা। তারপর সভাকক্ষে প্রবেশ করে দেখলেন বহু বহু ব্রহ্মান্ড থেকে আগত অসংখ্য ব্রহ্মা সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণকে প্রণতি নিবেদন করছেন। আমাদের চতুর্মুখ ব্রহ্মা নিজেকে সবচেয়ে ছোট বলে অনুভব। শ্রীকৃষ্ণ প্রত্যেক ব্রহ্মার সঙ্গে কুশলবার্তা জিঙ্গাসা করে একে একে তাঁদের বিদায় দিলেন। তখন চতুর্মুখ ব্রহ্মার বিষন্ন মুখ দর্শন করে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে ব্রহ্মা, বলুন আপনার কি অভিপ্রায়?

ব্রহ্মা বললেন, আমি বড় অভিমানী, আমি মনে করেছি আমি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। কিন্তু সেই মোহ আমার দূর হয়েছে, আমার চেয়েও অসংখ্য কোটি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি রয়েছেন, তা আমি এখন বুঝতে পারলাম। আমার এই চৌদ্দভুবন বিশিষ্ট ব্রহ্মান্ড ছাড়া আরও অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ড রয়েছে- এবার আমার সেই বুদ্ধি জন্মেছে। হে ভগবান, এখন আমি বুঝেছি যে, আমিই সবার চেয়ে ক্ষুদ্র, আমার চিন্তাধারা অতি তুচ্ছ। আপনি দয়া করে আমার সমস্ত অভিমান ও অহংকার দূর করুন এবং আমাকে আপনার চরণে শুদ্ধভক্তি প্রদান করুন।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে ব্রহ্মা, অভিমান অহংকার যাতে না হয় সেজন্য এখানে আপনাকে আহ্বান করেছি, এখন আপনার মঙ্গল হোক। তারপর ব্রহ্মা শ্রীকৃষ্ণকে প্রণতি নিবেদন করে আপন স্থান সত্যলোকে গমন করলেন।

একসময় নারদমুনি মন্দাকিনীর তটে তপস্যা করছিলেন। কিন্তু তিনি দৈববাণী শুনতে পেলেন- “শ্রীহরি যদি আরাধিত না হন, তবে তপস্যার কি দরকার? শ্রীহরি যদি আরাধিত হন, তবে তপস্যারও কি দরকার? শ্রীহরি যদি আরাধিত হন, তবে তপস্যারও কি দরকার।”

দৈববাণী শুনে নারদ শ্রীহরিস্মরণ করছিলেন, তখন পিতৃদেব ব্রহ্মাকে দেখতে পেলেন। ব্রহ্মাকে প্রণতি নিবেদন করে জলপূর্ণ নয়নে নারদ বললেন, এই দৈববাণীর অর্থ কি?

ব্রহ্মা বললেন, হে বৎস! যদি কোনও ব্যক্তি ভক্তি সহকারে শ্রীহরির আরাধনা করেন, তবে সেই ব্যক্তির তীর্থভ্রমণ, তপস্যার প্রয়োজন নেই। ভারতবর্ষে কৃষ্ণমন্ত্র-উপাসক জীবন্মুক্ত ব্যক্তির পক্ষে তপস্যার প্রয়োজন নেই। হে নারদ, শ্রীকৃষ্ণনামমন্ত্র গ্রহণ মাত্রেই তাঁর বংশের শত পুরুষ ও বন্ধুবান্ধবেরাও অনায়াসে পবিত্র হয়। শ্রীকৃষ্ণসেবা থেকে অন্য কোন ধর্ম বড় নয়, অন্য কোন তপস্যা শ্রেয় নয়। কৃষ্ণসেবা পরায়ণ ব্যক্তিদের তপস্যার পরিশ্রম অনাবশ্যক। হে পুত্র, শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে ব্রতী ব্যক্তিই মহা পবিত্র। তাঁর তীর্থস্থান, তাঁর বেদ অধ্যয়ন বিড়ম্বনা মাত্র।

হে বৎস, আগুন পবিত্র, নির্মল জল পবিত্র করেন, আর এঁরাও সাদরে কৃষ্ণভক্ত ব্যক্তির স্পর্শ বাঞ্চা করেন। বসুন্ধরা হরিভক্তের পদধূলি দ্বারা তৎক্ষণাৎ পবিত্র হন। হে নারদ, জানবে যে, এই ব্রহ্মান্ডে শ্রীকৃষ্ণসেবক অপেক্ষা কোন বস্তু বা কোনও ব্যক্তি অধিক পবিত্র নয়।

যে ব্যক্তি প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণপূজা করে এবং শ্রীকৃষ্ণচরণামৃত ও মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে, সেই মহা পবিত্র। হে নারদ, কৃষ্ণভক্ত যে বংশে জন্মগ্রহণ করে সেই বংশ পবিত্র হয়। জগতে যে ব্যক্তি কৃষ্ণভজনা করে না, তার তপস্যা, তার কর্মপ্রচেষ্টা তার পরিশ্রম বৃথা। গঙ্গাজল যেমন মদের বান্ডকে পবিত্র করতে পারে না, সেরকম বৈদিক কর্মকান্ডীয় যজ্ঞ, উপবাস, তপস্যা, ব্রত, দান, শুভকর্ম- এ সবই অভক্ত ব্যক্তিকে পবিত্র করতে পারে না।

শ্রীকৃষ্ণে যে ভক্তি-পরায়ণ নয়, সেই ব্যক্তি যদি তীর্থে স্নান করতে যায় তবে তীর্থ বিচলিত হন। বসুন্ধরা অভক্তের ভারে দুঃখে কম্পিত হয়ে থাকেন।

হে বৎস, শ্রীকৃষ্ণের কথাই বেদশাস্ত্রের সারবস্তু। যে মহাত্মা স্বপ্নে ও জাগরণে শ্রীকৃষ্ণের চিন্তা করেন, তিনি নিষ্পাপ হয়ে জগৎকে পবিত্র করেন, ভগবানের সুদর্শন চক্র সেই মহাত্মাকে সুরক্ষিত করেন। শ্রীকৃষ্ণের নিরন্তর স্মরণকারী ভক্ত অপেক্ষা আত্মা, প্রাণ, দেহ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, আমি, শিব তাঁর কাছে কিছুই প্রিয় নয়। পরমপ্রভু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভক্তগত প্রাণ এবং ভক্তগণ হচ্ছেন কৃষ্ণগত প্রাণ। ভক্ত শ্রীকৃষ্ণকে ধ্যান করেন, শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের ধ্যান করেন।

হে নারদ, যারা শ্রীকৃষ্ণসেবা পরায়ণ নয়, তাদের জ্ঞান, তাদের তপস্যা, তাদের ব্রত, তাদের নিয়ম, তাদের তীর্থ স্নান, তাদের পুণ্যকর্ম সমস্তই নিষ্ফল। যারা ব্রহ্মণ, অথচ কৃষ্ণভক্ত নয়, তারা ধর্মভ্রষ্ট পতিত জীব। কৃষ্ণভক্তিহীন ব্রহ্মাণ অপেক্ষা স্বধর্মাচারশীল চন্ডাল, ম্লেচ্ছ এমনকি কুকুর- শুকরেররাও ভালো। হে নারদ, ধর্মহীন ব্রাহ্মণেরা যা আহার্যরূপে গ্রহণ করা উচিত নয়, সেইগুলিও তারা ভক্ষণ করে। প্রতিদিন বিপরীত ধর্মাচার দ্বারা তারা পতিত হয়ে চন্ডাল অপেক্ষাও অধম হয়।

নারদমুনি প্রশ্ন করলেন, হে পিতা, ব্রহ্মাণদের স্বধর্ম কি? তাঁদের ভক্ষ্য বস্তু কি? ব্রহ্মা বললেন, হে পুত্র, ব্রহ্মণদের নিরন্তর কৃষ্ণসেবন করাই স্বর্ধম। এই জন্যই অন্যান্য লোকেরা ব্রহ্মণকে সশ্রদ্ধ সম্মাণ জ্ঞাপন করে থাকে, ব্রহ্মণের উচ্ছিষ্ট ও পদধৌত জল পান করে থাকে। ব্রাহ্মণরা প্রতিদিন শ্রীকৃষ্ণকে ভোগ নিবেদন করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ-প্রসাদই তাঁদের আহার্য বস্তু।

নারদমুনি প্রশ্ন করলেন, হে পিতা, ব্রহ্মাণরা যদি প্রত্যহ কৃষ্ণপ্রসাদ না গ্রহণ করে অন্য কোন খাদ্য গ্রহণ করে, তবে দোষ কি? ব্রহ্মা বললেন, পন্ডিতেরা সেই খাদ্যকে অখাদ্য বলে বর্ণনা করেন। সেই অন্ন বিষ্ঠা সম, সেই পানীয় মুত্র সম হয়। কোল ভীল ম্লেচ্ছ চন্ডালেরা ভগবানকে অনিবেদিত অন্ন, রক্তমাংস জাতীয় অমেধ্য বস্তু ভক্ষণ করে থাকে, কিন্তু ব্রাহ্মণ যদি সেই বস্তু ভক্ষণ করে তবে চন্ডালাধম বলে গণ হয়।

হে নারদ, এখন আমি তোমাকে যে নির্দেশ দিতে ইচ্ছা করছি, তা হল এই, কৃষ্ণভক্ত শিবকে গুরুরূপে গ্রহণ করে অচিরেই কৃষ্ণদাস্য ভক্তি লাভ কর। তোমার এরকম নির্জনে বসে তপস্যা করার দরকার নেই। শ্রীকৃষ্ণভক্তিই দুঃখময় সংসার-সমুদ্র উত্তীর্ণ হবার নৌকা স্বরূপ। গুরুদেব সেখানে কর্ণধার স্বরূপ। হে নারদ, তুমি যে-দৈববাণী শুনেছিলে, দেবী সরস্বতীই তোমার উদ্দেশ্যে এই কথা বলে প্রস্থান করেছেন।

শ্রীব্রহ্মা যখন নারদকে এই সমস্ত কথা বলছিলেন, তখন ব্রহ্মার পুত্র সনৎকুমার বললেন, হে পিতা, আমি কোনও কথা বুঝতে পারিনি, দয়া করে আমাকে পুনরায় বলুন। শ্রীকৃষ্ণকে যে আরাধনা করেছে তার আর তপস্যা করা অনর্থক এবং যে শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করেনি তারও তপস্যা ব্যর্থ হয়, যদি এই দুই জনই তপস্যারহিত হয়, তবে তপস্যার স্থান কি ধরনের লোকের প্রতি নির্দিষ্ট থাকল?

ব্রহ্মা বললেন, হে বুদ্ধিমান, তোমাকে পুত্ররূপে পেয়ে আমার জীবন ধন্য। ‘আরাধিত’ কথাটিতে আ অর্থ বিশেষরূপে ‘রাধিত’ শব্দটি প্রাপ্তবাচক হয়। অতএব যিনি শ্রীহরিকে প্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁর তপস্যার প্রয়োজন নেই। কোনও মূঢ় ব্যক্তি, যখন শ্রীকৃষ্ণকে বিমুখ, তার তীর্থ, দান, তপস্যা, পুণ্য, ব্রত তাকে পবিত্র করতে পারে না।

সনৎকুমার জানতে চাইলেন, হে পিতা, কোন ধরনের ব্যক্তি তপস্যা করবে? ব্রহ্মা বললেন, যে ব্যক্তি মূঢ়তম, কিংবা, যে ব্যক্তি সর্বোৎকৃষ্ট ভক্তিলাভ করেছে, এই উভয় ব্যক্তিই সুখী। তাদের তপস্যা করার দরকার নেই। কিন্তু মধ্যম ব্যক্তিরা যারা গৃহস্থ সাধক, সংসারে ব্যাপৃত থেকে পূর্ব কর্মের ফলভোগে অনুরাগী হয়ে অভীস্পিত শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম পাওয়ার বাসনায় তারা তপস্যা করে।

সনৎকুমার প্রশ্ন করলেন, হে পিতা, তারা কিরকম তপস্যা করবে? ব্রহ্মা বললেন, শ্রীকৃষ্ণের সেবা, শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান, শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ- কীর্তন, শ্রীকৃষ্ণের চরণামৃত ও মহাপ্রসাদ সেবন করািই সকলের বাঞ্চিত শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

-হে পিতা, অধিকাংশ লোকেরই তা হলে শ্রীকৃষ্ণভক্তিমূলক তপস্যার প্রয়োজন আছে। তবুও আমার জানতে ইচ্ছা হয় যে, সংসারের সব লোক কৃষ্ণভজন করে না কেন?

- হে বৎস, যার বুদ্ধি পূর্বজন্মকৃত কর্মদোষে মন্দ হয়েছে এবং অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে গুরুরূপে গ্রহণ করেছে, তারা তমোগুণের অধীন হয়ে থাকে। তার ফলে তারা ‍ত্রিগেুণের অতীত ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানতে পারে না, এমনকি জানতেও আগ্রহ থাকে না। সংসারের সেই সব লোক তাই কৃষ্ণভজন করবে না।

-হে পিতা, তা হলে সংসারের সেই সব কৃষ্ণবিমুখ লোকদের কিভাবে সদগতি হবে?

-হে পুত্র, অজ্ঞানে বা সজ্ঞানে, সাধুসঙ্গক্রমে কিংবা সৌভাগ্যক্রমে কেউ যদি অপ্রসাদভোজী না হয়ে কৃষ্ণপ্রসাদভোজী হয়, তা হলে, তার হৃদয়ে সমস্ত পাপ ক্ষয় হবে, সে দেহত্যাগের পর দিব্যরথে করে গোলোক কিংবা উৎকৃষ্ট কোনও গ্রহলোকে স্বেচ্ছামতো গমন করতে সমর্থ হবে।

হরে কৃষ্ণ🌼🌿

03/05/2022

Courtesy by -Krishna Voktir Kotha

আগামী ৪ মে,রোজঃ বুধবার।
🌿🌺শুভ অক্ষয় তৃতীয়া🌺🌿
অক্ষয় তৃতীয়া কি এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ।

♦️অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। অক্ষয় তৃতীয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। যদি ভালো কাজ করা হয় তার জন্যে আমাদের লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করা হয় তবে লাভ হয় অক্ষয় পাপ।

♦️তাই এদিন খুব সাবধানে প্রতিটি কাজ করা উচিত। খেয়াল রাখতে হয় ভুলেও যেন কোনো খারাপ কাজ না হয়ে যায়। কখনো যেন কটু কথা না বেরোয় মুখ থেকে। কোনো কারণে যেন কারো ক্ষতি না করে ফেলি বা কারো মনে আঘাত দিয়ে না ফেলি। তাই এদিন যথাসম্ভব মৌন থাকা জরুরী। আর এদিন পূজা, জপ, ধ্যান, দান, অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত। যেহেতু এই তৃতীয়ার সব কাজ অক্ষয় থাকে তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয় সতর্কভাবে।

♦️এদিনটা ভালোভাবে কাটানোর অর্থ সাধনজগতের অনেকটা পথ একদিনে চলে ফেলা। এবারের অক্ষয়তৃতীয়া সবার ভালো কাটুক এই কামনায় করি।

♦️এদিন যেসকল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল ___
১) এদিনই বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম জন্ম নেন পৃথিবীতে।

২) এদিনই রাজা ভগীরথ গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন।

৩) এদিনই গণপতি গনেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেন।

৪) এদিনই দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।

৫) এদিনই সত্যযুগ শেষ হয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়।

৬) এদিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।

৭) এদিনই ভক্তরাজ সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সাথে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুখ্হ মোচন করেন।

৮) এদিনই দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং সখী কৃষ্ণাকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ। শরনাগতের পরিত্রাতা রূপে এদিন শ্রী কৃষ্ণা দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন।

৯) এদিন থেকেই পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ শুরু হয়।

১০) কেদার বদরী গঙ্গোত্রী যমুনত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়। দ্বার খুললেই দেখা যায় সেই অক্ষয়দীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল।

১১) এদিনই সত্যযুগের শেষ হয়ে প্রতি কল্পে ত্রেতা যুগ শুরু হয়।

♦️অক্ষয় তৃতীয়া সম্পর্কে একটি পুরানিক গল্প নিচে দেয়া হল ____
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির একবার মহামুনি শতানিককে অক্ষয় তৃতীয়া তিথির মাহাত্ম্য কীর্তন করতে বললেন।

শতানিক বললেন- পুরাকালে খুব ক্রোধসর্বস্ব, নিষ্ঠুর এক ব্রাহ্মণ ছিলেন। ধর্মকর্মে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিলনা। একদিন এক দরিদ্র ক্ষুধার্ত ব্রাহ্মণ তার নিকট অন্ন এবং জল ভিক্ষা চাইলেন। রণচন্ডী হয়ে ব্রাহ্মণ কর্কশ স্বরে তাঁর দুয়ার থেকে ভিখারীকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলেন আর বললেন, যে অন্যত্র ভিক্ষার চেষ্টা করতে।

ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর ভিখারী চলে যেতে উদ্যত হল। ব্রাহ্মণ পত্নী সুশীলা অতিথির অবমাননা দেখতে না পেরে দ্রুত স্বামীর নিকট উপস্থিত হয়ে ভরদুপুরে অতিথি সৎকার না হলে সংসারের অমঙ্গল হবে এবং গৃহের ধন সমৃদ্ধি লোপ পাবে- একথা জানালেন। স্বামীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ভিখারীকে তিনি ডাক দিলেন এবং ভিখারীর অন্যত্র যাবার প্রয়োজন নেই সে কথা জানালেন।

সুশীলা ত্রস্তপদে তার জন্য অন্নজল আনবার ব্যবস্থা করলেন। কিছুপরেই তিনি অতিথি ভিক্ষুকের সামনে সুশীতল জল এবং অন্ন-ব্যঞ্জন নিয়ে হাজির হলেন। ভিখারি বামুন অতীব সন্তুষ্ট হলেন এবং সে যাত্রায় সুশীলাকে আশীর্বাদ করে সেই অন্ন-জল দানকে অক্ষয় দান বলে অভিহিত করে চলে গেলেন।

বহুবছর পর সেই উগ্রচন্ড ব্রাহ্মণের অন্তিমকাল উপস্থিত হল। যমদূতেরা এসে তার শিয়রে হাজির। ব্রাহ্মণের দেহপিঞ্জর ছেড়ে তার প্রাণবায়ু বের হল বলে। তার শেষের সেই ভয়ঙ্কর সময় উপস্থিত। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তার কন্ঠ ও তালু শুকিয়ে গেল। তার ওপর যমদূতেদের কঠোর অত্যাচার। ব্রাহ্মণ তাদের কাছে দুফোঁটা জল চাইল এবং তাকে সে যাত্রায় উদ্ধার করতে বলল।

যমদূতেরা তখন একহাত নিল ব্রাহ্মণের ওপর। তারা বলল, "মনে নেই? তুমি তোমার গৃহ থেকে অতিথি ভিখারিকে নির্জ্জলা বিদেয় করেছিলে?" বলতে বলতে তারা ব্রাহ্মণকে টানতে টানতে ধর্মরাজের কাছে নিয়ে গেল।

ধর্মরাজ ব্রাহ্মণের দিকে তাকিয়ে বললেন, এঁকে কেন আমার কাছে এনেছ্? ইনি মহা পুণ্যবান ব্যক্তি। বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে এনার পত্নী তৃষ্ণার্ত অতিথিকে অন্নজল দান করেছেন। এই দান অক্ষয় দান। সেই পুণ্যে ইনি পুণ্যাত্মা। আর সেই পুণ্যফলে এনার নরক গমন হবেনা। ব্রাহ্মণকে তোমরা জল দাও। এনার প্রাণবায়ু নির্গত হতে দাও। শীঘ্রই ইনি স্বর্গে গমন করবেন।

courtesy by - Srimadvagbad gita ভগবাণ বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে চতুর্থ অবতার        🌷🦁🌷 নৃসিংহ অবতার 🌷🦁🌷🔹 প্রহ্লাদের বয়স ...
22/11/2021

courtesy by - Srimadvagbad gita
ভগবাণ বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে চতুর্থ অবতার

🌷🦁🌷 নৃসিংহ অবতার 🌷🦁🌷

🔹 প্রহ্লাদের বয়স যখন পাঁচ বছর পূর্ণ হলো । তখন নারদ প্রহ্লাদকে শিক্ষিত করে তুলতে লাগলেন। নারদের প্রভাবে প্রহ্লাদ হয়ে ওঠেন
পরম ♥বিষ্ণুভক্ত♥।

🔹 এরপর দেবর্ষি নারদ, প্রহ্লাদ ও তাঁর মাতা কয়াধুকে হিরণ্যকশিপুর কাছে নিয়ে আসলেন।

স্ত্রী পুত্রকে ফিরে পেয়ে হিরণ্যকশিপু ভীষণ খুশী হলেন। এরপর হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে আসুরিক শিক্ষা দানের জন্য অসুর গুরু "শুক্রাচার্যের" আশ্রমে পাঠালেন।

সেখানে শুক্রাচার্য্যের দুই পুত্র ছিলেন, তাদের নাম ছিল ষণ্ড আর অমর্ক।

তাঁদের কাছে পড়তে দিয়ে আজ্ঞা দিলেন- “সাম-দান-দণ্ড-ভেদ সবগুলো শিক্ষা তাকে দাও-কার সঙ্গে দণ্ড করতে হবে, কার সঙ্গে ভেদ জ্ঞান করতে হবে, এ সব শিক্ষা দেবে।”

❗ কিন্তু যা ষণ্ড-অমর্ক যে সকল শিক্ষা দিচ্ছে, প্রহ্লাদের ওই সব কিছুই কানে যাচ্ছে না❗

🔹 একদিন হিরণ্যকশিপু তার নিজ কোলে প্রহ্লাদকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "পুত্র তোমার কোন ব্যক্তি বা বস্তু সবচেয়ে প্রিয় ?"

প্রহ্লাদ বলিলেন, "পার্থিব কোন কিছুই আমার প্রিয় নয় , বনে গিয়ে শ্রীহরির উপাসনা করতেই আমি সবচেয়ে ভালবাসি।"

➖ এই কথা শুনে হিরণ্যকশিপু চমকে উঠলেন!

🔹কারণ, যে হরি তার শত্রু তার আপন পুত্রই তার তপস্যা করছে!

🔹হিরণ্যকশিপু পুনরায় প্রহ্লাদকে গুরু গৃহে পাঠালেন কিন্তু কোন সুফল (তার পছন্দ মতো) হলো না। প্রহ্লাদের মধ্যে "হরিভক্তি" ক্রমশই বেড়েই চললো।

🔹হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে বোঝাতে থাকলেন যে, "আমার
কারণেই তোমার জন্ম হয়েছে, অতএব আমিই তোমার পিতা আর আমি ত্রিলোকের স্বামী বা তোমার ঈশ্বর।"

প্রহ্লাদ বলিলেন, "সমস্ত সংসারের সকল জীব ও
ত্রিলোক যাঁর হতে সৃষ্টি তিনিই সকলের পিতা ও ঈশ্বর। আর আপনিও তাঁর সৃষ্টি। সেই শ্রীহরি অচ্যুত অবিনাশী ও সকলের মিত্র। আপনি তাঁর স্মরণ নিলে তিনি অবশ্যই আপনাকে ক্ষমা করবেন।"

💠 হিরণ্যকশিপু ক্রোধে
অসুর আর ভয়ানক রাক্ষসদের 🌸আদেশ🌸 দিলেন

❗প্রহ্লাদকে মারার জন্য❗

(১) প্রহ্লাদকে বুকে ত্রিশূল নিক্ষেপ করা হলো।

!! হরি নামের গুণে তার কোমল বক্ষে তা' বিদ্ধ হলো না !!

(২) পাথরের সাথে বেঁধে সমুদ্রে ফেলে দেয়া হলো, কিন্তু পাথর ভেলার মত ভাসতে লাগলো।

(৩) উন্মত্ত হাতির পায়ের নিচে তাকে চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করা হলো, কিন্তু হাতি হরি ভক্তের চরণে মাথা নত করল।

(৪) গরম তেলে তাকে ফেলা হলো কিন্তু হরির কৃপায় গরম তেল কোমল পদ্মে পরিণত হলো।

(৬) স্বর্পের গুহায় তাকে ফেলা হল কিন্তু স্বর্প ফণা দুলিয়ে নাচতে থাকল। বিষ মিশ্রিত খাদ্য দেয়া হলো, বিষ অমৃততুল্য হয়ে গেলো।

(৭) অগ্নিবিজয়ী হিরণ্যকশিপু ভগ্নি হোলিকা প্রহ্লাদকে দগ্ধ করতে গিয়ে নিজেই ভস্ম হয়ে গেল।

⏩ ক্রুদ্ধ হিরণ্যকশিপু তখন একটি স্তম্ভ দেখিয়ে প্রহ্লাদকে জিজ্ঞাসা করল যে, "তোর বিষ্ণু এখানেও আছে ? "

প্রহ্লাদ উত্তর দিলেন যে, "তিনি এই স্তম্ভে আছেন, এমনকি ক্ষুদ্রতম যষ্টিটিতেও আছেন।"

‼️ হিরণ্যকশিপু ক্রোধ সংবরণ করতে না পেরে গদার আঘাতে স্তম্ভটি ভেঙে ফেললেন।

👉 তখনই সেই ভগ্ন স্তম্ভ থেকে প্রহ্লাদের সাহায্যার্থে

💖নৃসিংহের মূর্তিতে💖 আবির্ভূত হলেন

ভগবান "বিষ্ণু" ~~ ভগবান "বিষ্ণু " ~~ ভগবান "বিষ্ণু" ‼️

🔹 ব্রহ্মার বর যাতে বিফল না হয়, অথচ হিরণ্যকশিপুকেও হত্যা করা যায়, সেই কারণেই বিষ্ণু "নৃসিংহের রূপ" ধারণ করলেন।

এরপর হিরণ্যকশিপু ও ভগবানের মধ্যে ঘোর যুদ্ধ আরাম্ভ হল। সেই যুদ্ধে হিরণ্যকশিপু চৌকাঠে ( না ঘরে না বাইরে ) রেখে, নিজ ক্রোড়ে নিয়ে ( না মাটিতে না, না আকাশে ), রাত্রির সন্ধিস্থল গোধূলী বেলায় ( না দিন না রাত্রি ), নিজ নখ ( নখ অস্ত্র বা শস্ত্র নয় ) 'উদর ছিঁড়ে' 🌸বধ🌸 করলেন।

🔸হিরণ্যকশিপুকে বধ করার পর সকল দেবতাই নৃসিংহদেবের ক্রোধ নিবারণে ব্যর্থ হলেন। নৃসিংহকে শান্ত করতে শিব প্রথমে বীরভদ্রকে প্রেরণ করলেন। বীরভদ্র ব্যর্থ হলেন।

বিফল হলেন স্বয়ং শিব।(বীরভদ্র ব্যর্থ হলে শিব স্বয়ং মনুষ্য-সিংহ-পক্ষী রূপী শরভের রূপ ধারণ করলেন। এই কাহিনির শেষভাগে বলা হয়েছে, শরভ কর্তৃক বদ্ধ হয়ে বিষ্ণু শিবের ভক্তে পরিণত হলেন। )

সকল দেবগণ তখন তাঁর পত্নী লক্ষ্মীকে ডাকলেন, কিন্তু লক্ষ্মীও স্বামীর ক্রোধ নিবারণে অক্ষম হলেন।

তখন
!! ব্রহ্মার অনুরোধে প্রহ্লাদ এগিয়ে আসলেন !!
ভক্ত প্রহ্লাদের স্তবগানে অবশেষে নৃসিংহদেব শান্ত হলেন। প্রত্যাবর্তনের পূর্বে নৃসিংহদেব প্রহ্লাদকে রাজা করে দিলেন। 💐💐💐

🌈 নৃসিংহ অবতার ভগবান বিষ্ণুর উগ্র অবতার। তাই নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে ভক্তেরা ভগবান নৃসিংহ দেবকে পূঁজা করেন। ভক্তেরা এঁনার ক্রোধ শান্ত করার জন্য ঠান্ডা জাতীয় নৈবদ্য প্রদান করেন। যেমন বেলের সরবত, দধি, ডাব, তরমুজ, মিছরির পানা। সাথে ক্ষীর অথবা সুজির হালুয়া প্রদান করার বিধান। ভগবান নৃসিংহ দেবকে দেখে বা তাঁর নাম শুনে ভূত-প্রেত, যক্ষ, রক্ষ, কুস্মান্ড, বেতাল ইত্যাদি ভৌতিক বাধা নষ্ট হয়। ইনি ভক্তকে মোক্ষ প্রদান করেন।

❤জয় ভগবান নৃসিংহ দেবের জয়❤

❤জয় ভক্ত প্রহ্লাদের জয়❤

☘️🍁🍂☘️🍁🍂☘️🍁🍂☘️🍁🍂☘️🍁🍂☘️

💚🧡 হরে কৃষ্ণ 🧡💚

বৈদিক খাদ্য বিজ্ঞান ও বৈদিক শাস্ত্রে অনুমোদিত আহার্য্য বস্তুমানবের আহার কেমন হবে, সেটা বৈদিক শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় যেম...
16/11/2021

বৈদিক খাদ্য বিজ্ঞান ও বৈদিক শাস্ত্রে অনুমোদিত আহার্য্য বস্তু
মানবের আহার কেমন হবে, সেটা বৈদিক শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় যেমন বর্ণিত হয়েছে, আবার বৈদিক শাস্ত্রের সারাতিসার গীতাতেও স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে উত্তম (সাত্ত্বিক), মধ্যম ( রাজসিক) ও অধম (তামসিক) আহার সম্বন্ধে। গীতায় বর্ণিত সাত্ত্বিক আহার হচ্ছে নিরামিষাহার; মাছ, মাংস, মস্তিষ্ক উদ্দীপক বস্তু যেমন পেঁয়াজ, রসুন, মদ ইত্যাদি রাজসিক আহার; এবং এই রাজসিক আহারগুলিই যখন বাসি, পঁচা, এঁটো অবস্থায় গ্রহণ করা হয়, সেটাই তামসিক আহার। প্রকৃতির তিন গুণ সত্ত্ব, রজো ও তমো বিভিন্ন মানবের মধ্যে বিভিন্নভাবে মিশ্রিত থেকে বিভিন্ন মানবের বিভিন্ন চেতনা তৈরি করে। ঠিক এ কারণেই কেউ পরোপকার করে আনন্দ লাভ করে, আবার কেউ বা অপরের অনিষ্ট করে আনন্দ অনুভব করে। মানবের দ্বারা প্রকাশিত কর্ম তার চেতনার অনুগামীই হয়ে থাকে। দৈনন্দিন জীবনের আহারের মধ্যেও তাই বিভিন্ন চেতনাধারী মানব তার চেতনার ভিন্নতা অনুযায়ী উত্তম, মধ্যম ও অধম আহারের মধ্যে যেকোন একটি বেছে নেয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিশ্র একটি আহারপদ্ধতিই বেছে নেয় মানব। সেজন্যই দেখা যায় যে, শুদ্ধ নিরামিষাশী আহারকারীর সংখ্যা যেমন কম, আবার নিরামিষবিহীন শুধুই মাংসাশী আহারকারীর সংখ্যাও কম। অধিকাংশ মানবই নিরামিষ-মাংসাশী আহার মিশ্রিত আহারকারী তাই। মানব যে তার চেতনার ধরন অনুযায়ী খাদ্য বাছাই করে, তার সহজ উদাহরণ হলো, কেউ বাজারে দুধ বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে পঁচা শুঁটকিমাছ কিনে নিয়ে আসে। আবার কেউ শুঁটকি বিক্রি করে সে টাকায় দুধ কিনে নিয়ে আসে। তাইতো এখনকার দিনে মানবকে কষ্ট করে মদের দোকান হতে মদ কিনে আনতে হয়, মদবিক্রেতাকে কখনো বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিকৃষ্ট আহার্য্য বস্তু মদ বিক্রি করতে হয় না। কিন্তু গোয়ালার বাড়িতে কেউ আদর্শ খাদ্য দুধ কিনতে যায় না। বরং গোয়ালাকেই আদর্শ খাদ্য দুধকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করতে হয়, বা বাজারে গিয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই মদের দোকানে যতটা ভীড় থাকে দুধ বিক্রির স্থানে ঠিক ততটাই পাতলা থাকে। এখনকার জমানার সবকিছুই কেমন যেন উল্টো, বিপরীত। অর্থাৎ আদর্শ খাবার দুধ না কিনে যে মানুষ পঁচা গলা শুঁটকি কিনে নিয়ে আসে, সেটা তার চেতনা ও আসক্তির স্বরূপ দ্বারাই নির্ধারিত।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মানব যে মাছ, মাংস আহার করে, সেটার উদ্দেশ্য প্রতিদিনের দেহের ৮ টি অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিডের প্রয়োজনীয় চাহিদা পুরণের জন্য। এজন্য মানবের দৈহিক ওজন অনুযায়ী মাত্র ৬০-১০০ গ্রাম প্রোটিন বা আমিষের প্রয়োজন হয়। দেহ আমাদের কাছে সাত্ত্বিক বা রজোস্তমো আহার মাছ মাংস চায় না, সে ৮ টি অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড প্রয়োজনীয় পরিমাণে চায়। এবার আমরা সে অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড যেভাবেই সরবরাহ করি না কেন আমাদের দেহকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগাবার পাশাপাশি কোন খাদ্য দ্বারা আমাদের দেহের যেন কোন ক্ষতি না হয়, সেটা আমাদেরই লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ একই খাবার দ্বারা কোন প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেহকে যোগান দিলে সেই খাবারই যদি দেহের উপকারের পাশাপাশি ক্ষতিসাধন করে, তাহলে সে খাবার বর্জন করাই শ্রেয়। উদাহরণস্বরূপ, রেড মিট বা লাল মাংসের কথা বলা যেতে পারে। লাল মাংস দেহের এমাইনো এসিডের চাহিদা পুরণ করে ঠিকই কিন্তু এর কোলেস্টেরল সহ অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বি ও ট্যাঙ্গেলস আমাদের অনেক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আসলে আমাদের রসনা ও জিহ্বার লালসাই সেসকল রজোস্তমো আহার গ্রহণ করতে চায়। জগতের অধিকাংশ রজোস্তম সুস্বাদু খাবারই দেহের জন্য খুব বেশি উপকারী নয়, বরং দেহে অনেক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে থাকে। কিন্তু ভালো জিনিস সেরকম সুস্বাদু হয়না অনেক ক্ষেত্রেই। সেজন্যই স্বাস্থ্যের জন্য চিরতা উপকারী হলেও তিক্ততার জন্য এর রস কেউ খায় না, বরং কোমল পানীয় ক্ষতিকারক জেনেও অধিকাংশে সেটা আয়েশ করেই খায়। যাই হোক, সেই ৮ টি অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড যোগাবার জন্য রজোস্তমো আহার গ্রহণ করে দেহে রোগের আধার হিসেবে গড়ে তোলার নিশ্চয়ই কোন যুক্তি নেই। প্রতিদিন আধ লিটার দুধ, দুরকমের ডাল, একটু শিমবিচি হলেই প্রতিদিনের আবশ্যকীয় ও প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিডের চাহিদা পুরণ হয়ে যায়। আর সয়া প্রোটিন তো আছেই। তাহলে মাংসাশী হয়ে দেহকে রোগের আধার হিসেবে তৈরি করার যুক্তিটা কোথায়?
গীতাতে স্পষ্ট বর্ণনা আছে যে, সাত্ত্বিক আহার বলকারক, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, রোগের আধার নয়, বরং রোগের উপশমকারী। নিরামিষাহার হচ্ছে সাত্ত্বিক আহার। রাজসিক আহার অতি সুস্বাদু, তাই প্রথমে খুব উপভোগ্য, কিন্তু পরিণামে দুঃখময়। মাছ, মাংস, বিভিন্ন উত্তেজক খাবার, মদ ইত্যাদি রাজসিক আহার যে খেতে খুবই সুস্বাদু, এটা সকলেই জানে। কিন্তু এসব আহার দেহে হাজারো ব্যাধির আগমন ঘটায়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বেশ ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছে কিভাবে এসকল রাজসিক আহারের কারণে দেহে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনীর রোগ ইত্যাদি সহ শত রোগের আগমন ঘটে দেহে। আর এখনকার দিনে বাসি, পঁচা, গলা তামসিক আহার অধিকাংশে গ্রহণ করে না বলেই মনে হয়।
বৈদিক শাস্ত্র অতি প্রাচীনকাল হতেই ঘোষণা দিয়ে আসছে যে, মানবের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরামিষ আহারই শ্রেষ্ঠ। আর আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও সেটাই বলে। কিন্তু কিছু শাস্ত্রে যে সীমিত আকারে প্রাণীজ আমিষাহারের অনুমোদন দেয়া আছে, সেটা গীতায় বর্ণিত সাত্ত্বিক আহারের নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পরস্পরবিরুদ্ধ হবার কারণ কতগুলি আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে যুগধর্মের কারণে। ধর্মীয় রীতি বা প্রথা যুগের সাথে আংশিক পরিবর্তিত হতে পারে। সত্য যুগে যেখানে ধ্যান যুগধর্ম, ত্রেতাতে সেখানে যজ্ঞ, দ্বাপরে অর্চনা যুগধর্ম। আর কলির যুগধর্ম হলো নাম সঙ্কীর্তন। উদাহরণস্বরূপ, ধ্যানে চিত্তের একাগ্রতা ও নিবিষ্টতার জন্য সামান্য পরিমাণ উত্তেজক খাবার গ্রহণ নিষেধ। ঠিক এ কারণেই পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি খাবার নিষিদ্ধ। আহার যে মানবের শুধু দেহই গঠন করে না, তার মন ও চেতনার বিভিন্নতার জন্যও অনেকাংশে দায়ী, সেটার চাক্ষুষ প্রমাণ থাইল্যান্ডের এক মন্দির কর্তৃপক্ষের ১৩০ টি বাঘের শাবককে লালন পালনের ঘটনা। তাদেরকে দুধ, সবজি খাবার দিয়ে পালন করা হয়েছিল, তাই তারা বড় হয়েও হিংস্র হয়নি, অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীর ন্যায় তারাও নিরীহ প্রাণী হিসেবে গড়ে উঠেছে। পর্যটকেরা সেখানে ঘুরতে গিয়ে নির্ভয়ে বাঘের সাথে ছবি তুলে আসে। এজন্যই প্রবাদ আছে, "আপনি তাই যা আপনি খান।" ব্যবহারিক জীবনেও এটা প্রযোজ্য। নিরামিষ আহার গ্রহণকারীর চিত্ত স্থির, মন নির্মল ও শান্ত। তাই উপাসনার সময় সে সহজেই চিত্ত নিবিষ্ট করতে পারে সহজেই। আর তার মধ্যে ভোগেচ্ছার পরিমাণও কম থাকে বলে সে আরো অধিক ভোগ্য বস্তু আহরণের জন্য সমাজকে লুন্ঠন করে না। জগতে সাত্ত্বিক আহারের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম। তাই সেই স্বল্প সংখ্যক ব্যঞ্জন আহরণের জন্যও আহারকারীর ভোগেচ্ছা বর্ধিত না হয়ে ক্রমশ কমতেই থাকে। বিপরীতক্রমে, রজোস্তামসিক আহারের সংখ্যা এবং ধরণও অসংখ্য। তাই রজোস্তম আহারকারীর কিন্তু সেসকল অসংখ্য ভোগ্য ব্যঞ্জনের ভোগেচ্ছা ক্রমশ বাড়তেই থাকে। ভোগ্য বস্তুর সংখ্যা যদি অসীম হয়, তাহলে মানবের ভোগেচ্ছাও অসীমই হবে, যদি না সে নিজে থেকে সে ভোগ্য বস্তু ভোগের সীমানা নির্ধারণ না করে। আবার রজোস্তামসিক আহার গ্রহণকারীর চিত্ত থাকে অস্থির, তার মস্তিষ্ক সর্বদা থাকে উত্তেজিত। তাই সে থাকে অশান্ত, প্রায়শই উগ্র এবং ক্রোধী। সে অপরকে সহ্য করতেই পারে না, অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে। আবার প্রার্থনার সময় তার মন আরাধ্য সত্তায় সহজে নিবিষ্টও হয় না মনের অস্থিরতা হেতু।
যেসকল খাদ্য সাত্ত্বিক আহারের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে বর্জনের আদেশ, আবার ঔষধ হিসেবে সেসবের ব্যবহার অনুমোদিত। আধুনিক এলোপথি পেঁয়াজ হতে সর্দিকাশির ঔষধ আবিষ্কার করেছে, আয়ুর্বেদ সেসব জানতো, তাই সেও পেঁয়াজ হতে আরো অনেক প্রকার ঔষধ তৈরি করতো। তাই খাদ্য হিসেবে উত্তেজক খাবার পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি অনুমোদিত না হলেও ঔষধ হিসেবে সেসকল অনুমোদিত। ঠিক যেমন এলকোহল নিষিদ্ধ হলেও অধিকাংশ ঔষধেই কিন্তু দ্রাবক হিসেবে এলকোহল থাকে।
শাস্ত্রে যে আহার্য্য তালিকাকে পরস্পরবিরুদ্ধ মনে হয়, তার আরো গূঢ় কারণ আছে। প্রবৃত্তিমার্গ অনুসরণকারী অর্থাৎ ভোগী ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে সীমিত পরিমাণে ভোগ্য বস্তু স্বরূপ রজো-তামসিক আহার যেমন মাছ, মাংস ভোগ করার অনুমতি দিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে নিবৃত্তিমার্গে উন্নীত করার জন্যই শাস্ত্রে সীমিত কয়েক প্রকারের মাংস ও মাছ ইত্যাদি রজো-তামসিক আহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জগতে সকলে জন্মগতভাবে বা সহসা নিবৃত্তমার্গের অনুসারী হতে পারে না। রজো-তামসিক বস্তু ভোগের প্রতি মানবের আকাংখ্যা দুনির্বার। তাই শুরু হতে সেই ভোগেচ্ছা পূর্ণরূপে দমন না করে সীমিত পরিমাণে ভোগ করে ধীরে ধীরে মানব ভোগী হতে ত্যাগীতে যেন রূপান্তরিত হতে পারে, সেজন্যই শাস্ত্রের এই সীমিত রজো-তামসিক আহারের প্রতি অনুমোদন। তবে যারা মুমুক্ষু, দেহমনের উপর আহারের প্রভাব সম্পর্কে জানেন, যারা তপস্যা বা ঈশ্বর সাধনার জন্য উপযোগী আহার গ্রহণের জন্য সাত্ত্বিক আহার গ্রহণে ইচ্ছুক, সুস্বাদু কিন্তু ক্ষতিকর রজো-তামসিক আহার ত্যাগে প্রস্তুত, তারা সেসকল সীমিত পরিমাণে অনুমোদিত রজো-তামসিক আহারও গ্রহণ করেন না। কিন্তু সকলেই তো আর জন্মাবধি এই উত্তম চেতনার অধিকারী হয়ে গড়ে ওঠে না।
আবার মানবের বর্তমান জন্মের আচরণের উপর তার পূর্বজন্মের সংস্কারের প্রভাবও ব্যাপক। যে পূর্বজম্মে রজো-তামসিক আহারে প্রচন্ড আসক্ত ছিল, সে বর্তমান জন্মেও সেই পূর্বজন্মের সংস্কার দ্বারা রজো-তামসিক আহারেই আসক্ত হবে। তাকে যদি শুরুতেই সেই রজো-তামসিক আহার সীমিত পরিমাণে না দেয়া হয়, তাহলে তার যেমন মনোদৈহিক বিকার দেখা দিতে পারে, তেমনই সে বিদ্রোহও করতে পারে। তাই এ ধরনের রজো-তামসিক চেতনার মানবকে অতি সীমিত পরিমাণে রজো-তামসিক আহারের অনুমতি দিয়ে তাকে ধীরে ধীরে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণের স্তরে উত্তীর্ণ করাটাই হচ্ছে শাস্ত্রের উদ্দেশ্য। আর একারণেই শাস্ত্রে সীমিত পরিমাণে রজো-তামসিক আহারের অনুমোদন। কিন্তু শাস্ত্রের উদ্দেশ্য আবার মানবকে সেই রজোস্তম আহারে আসক্ত করে রাখা নয়, বরং তাকে সে স্তর হতে সাত্ত্বিক স্তরে উত্তীর্ণ করা। কারণ অনেকের ভোগেচ্ছা অত্যধিক, তারা ভোগ না করে ত্যাগ করতে পারে না। এ ধরনের ভোগী ব্যক্তিকে ত্যাগীর স্তরে উত্তীর্ণ করার জন্যই শাস্ত্রের এ সিদ্ধান্ত। আর যে শুরু হতেই ত্যাগী ও সাত্ত্বিক, তার আর শাস্ত্রের সেই সীমিত অনুমোদিত রজোস্তমো আহারে আসক্তিও নেই, আর তার সে প্রয়োজনও পড়ে না।
ডাঃ শৈবাল
এবার সুকুমার চন্দ্র মন্ডলকে সাধুবাদ দিয়ে তার লেখাটি হুবহু তুলে দিলাম।
সংগৃহীত পোস্ট
লেখকঃ Sukumar Chandra Mondol
(হিন্দু ধর্মের সাপেক্ষে নিষিদ্ধ খাবারের সূচী)
হিন্দুদের কাছে খাবার বাছাই করা একটি ব্যাক্তিগত, পরম্পরাগত ও নির্দিষ্ট মতবাদের বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। কাজেই এমন অনেক হিন্দু আছেন যারা তাদের বংশানুক্রমিক পরম্পরা ও বিশ্বাসের জন্য কিছু জিনিস খাওয়া ত্যাগ করেছে। যেমন - ভারতের অনেক বৈষ্ণব সম্প্রদায় ভুক্ত হিন্দু (উত্তর ভারত) আছেন যাদের বাড়িতে মাছ তোলা নিষিদ্ধ। আবার অনেকের হিন্দু বাড়িতে (উত্তর-পশ্চিম ভারত) মাছ মাংশ দুটোই তোলা নিষিদ্ধ। কাজেই হিন্দুদের মধ্যে পরম্পরাগত, ব্যাক্তিগত ও বিশ্বাসী মতবাদগত ফ্যাকটর গুলির উপর অনেক অংশে নির্ভর করে নিষিদ্ধ খাবার গুলি বাছাই এর ক্ষেত্রে।
তাই কারো ব্যাক্তিগত বা পরম্পরাগত পছন্দ তে হস্তক্ষেপ করার জন্য এই নিবন্ধ টি লিখা হয়নি! বরং উক্ত নিবন্ধটি সেইসব বাঙালী হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য লিখা হয়েছে যারা হিন্দু সংস্কার (সম্প্রদায় ভিত্তিক নয়) কে অবলম্বন করে চলেন এবং জানতে ইচ্ছা রাখেন কোন কোন খাবার গুলো হিন্দু শাস্ত্রের সাপেক্ষে সিদ্ধ বা নিষিদ্ধ। এখানে হিন্দু শাস্ত্র বলতে বেদ, পুরাণ ও তন্ত্রের মূল গ্রন্থ গুলি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই বৈধ-অবৈধ খাবারের সূচীটি বানানো হয়েছে।
-
প্রাণীজ
-
{দুধ}
-
[১] উট ও ভেড়ার দুধ পান করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২২-২৩, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১১-১২, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০
-
[২] এক খুর বিশিষ্ট প্রাণীর (যেমন - ঘোড়া) দুধ পান করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৩, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০
-
[৩] গরু, মোষ, ছাগলের বাচ্চা জন্মানোর পর থেকে ১০দিন যাবৎ তাদের দুধ পান নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৪, বসিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৫, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৯, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭০
-
[৪] নিচুস্তরের পশু (যেমন - কুকুর, বেড়াল) ও মাংসাশী পশুর (যেমন - বাঘ, সিংহ, শৃগাল) দুধ পান নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - লৌগাক্ষিগৃহ্ম সূত্রাণি ২.১৮৪
__________
{ডিম}
-
[১] হাঁস, মুরগি, ময়ুরের ডিম খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - মানব গৃহসূত্র ১.৪.২-৪, ভেল সংহিতা - চিকিতসাস্থানম - ২৬৭, চরক সংহিতা ২৭.৬৩-৬৪
__________
{মাছ-মাংস}
-
[১] সাপ, কুমীর, ঘড়িয়াল, শুশুক, সর্প আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, অনিয়তকার মস্তক বিশিষ্ট মাছ (যেমন - ইল, কুঁচে মাছ, হাঙর, তিমি ইত্যাদি) ও জলজ শামুক, ঝিনুক, গুগলি ইত্যাদি খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪১, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৬, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.৩৮-৩৯
-
[২] বন্য মোরগ/মুরগি খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪
★ অর্থ্যাৎ গৃহপালিত মোরগ/মুরগি খাওয়া সিদ্ধ।
-
[৩] যে সমস্ত পাখী শুধু তাদের পা দিয়ে মাটিতে আঁচড়ে আঁচড়ে খাবারের সন্ধান করে এবং যেসব পাখীরা লিপ্তপদী (যেমন - হাঁস) তাদের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪-৩৫, বিষ্ণু স্মৃতি LI.২৮-৩১, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৭
-
[৪] রাজহাঁস, সারস, পানকৌড়ি, বক, কাক, পায়রা, টিয়া, ঘুঘু, তিতির, বাজ, চিল, শকূন, বাদুড়, ময়ূর, স্টার্লিং, দোয়েল, চড়ুই, কাঠঠোঁকরা, মাছরাঙা এবং নিশাচর পাখীর মাংশ খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪-৩৫, বিষ্ণু স্মৃতি LI.২৮-৩১, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৭, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭২-১৭৪
-
[৫] মাংসাশী পাখির মাংশ আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.৩৪, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭২
-
[৬] যেকোনো বিস্বাদ ও খাদ্য অনুপযোগী মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - মনু স্মৃতি ৫.১১-১৭, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৪
-
[৭] যে সমস্ত পশুর দুধের দাঁত ভাঙেনি তাকে জবাই করা নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৫, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩০-৩১
★ অর্থ্যাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক পশুর মাংস আহার নিষিদ্ধ।
-
[৮] যে সমস্ত পশুর একটি মাত্র চোয়ালে দাঁত আছে (যেমন-ঘোড়া) তাদের মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪০, মনু স্মৃতি ৫.১৪, বিষ্ণু স্মৃতি LI.৩০
-
[৯] যে সমস্ত প্রাণীর পা বহু অংশে বাঁকা। যেমন শজারু, কাঁটাচয়া, শশক, খরগোশ, কচ্ছপ, গোধা, গোধিকা ইত্যাদির মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৯, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.২৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫, মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪
-
[১০] গণ্ডার ও বন্য শূকরের মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫
-
[১১] নরমাংস বা নরাকার যন্তুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮
-
[১২] গৃহপালিত পশু, ছাগল, ভেড়ে, শূকরের মাংশ খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র - বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১-৪
★ অর্থ্যাৎ গৃহপালিত শূকরের মাংস বৈধ।
-
[১৩] গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯
★ গ্রাম্য শূকর বলতে ফালতু শূকরের সেইসব প্রজাতি গুলোকে বোঝানো হয়, যারা আকারে ছোটো এবং পঙ্কিল নোংরা স্থানেই শুধু বাস করে। নোংরা স্থানে থাকার জন্য এদের মাংসে কৃমিজাতীয় পরজীবীর সিস্ট থাকে যা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলে মানুষ সংক্রমিত হয়। উক্ত কারণের জন্য গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ কিন্তু গৃহপালিত শূকর নয়।
-
[১৪] যেকোনো মৃত প্রাণীর মাংস আহার করা নিষিদ্ধ। তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৬.১৬
-
[১৫] বহু উপকারী গোজাতির মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮, বিষ্ণু পুরাণ ৩.৩.১৫, ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ ১.৯.৯, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৩-৪৫
-
[১৬] গৌর, ঘায়ল, সরাভ, ষাঁড় প্রভৃতি গো সম্প্রদায় ভুক্ত জীবের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৩, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯
-
[১৭] মাংসাশী প্রাণীর মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - মহানির্ব্বাণ তন্ত্র ৮.১০৮, গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.৩৪
★ মূলত মাংসাশী প্রাণী বলতে উচ্চতর প্রাণীদের বোঝানো হয়েছে যেমন - বাঘ, সিংহ, শৃগাল, বন্য কুকুর ইত্যাদি। এদের শিকার করা কঠিন এবং মাংস নিরস, দুর্গন্ধ এবং কুরুচিকর স্বাদ যুক্ত হওয়ার জন্য পরিত্যাজ্য।
-
[১৮] একখুর বিশিষ্ট প্রাণীর (যেমন - উটের) মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯
-
[১৯] কৃষ্ণসার, নীলগাই, সাধারণ হরিণ, বন্য শূকরের মাংস খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র - বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৬
-
[২০] স্বাদু ও লবণাক্ত জলের মাছ (যেমন- বিভিন্ন মেজর ও মাইনর কার্প, খাঁড়ির মাছ ইত্যাদি) আহার হিসাবে গ্রহণ করা বৈধ।
তথ্যসূত্র - বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৮
_______________
{অন্যান্য}
[১] মাদক দ্রব্য মিশ্রিত পানীয় নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২১
-
[২] সুরা ও সুরা প্রস্তুতের জন্য ব্যাবহৃত দ্রব্য সমূহ নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৫
-
[৩] ব্যাঙের ছাতা, শালগম নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৮, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৭১, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩
-
[৪] যেকোনো আহারে উপযোগী বীজ, ফল, মূল, সব্জি খাওয়া বৈধ।
তথ্যসূত্র - নারদ পুরাণ ১১.১২-২২
-
[৫] সুস্বাদু আহারে উপযোগী রস (যেমন - খেঁজুরের রস, তালের রস, আখের রস, ডাবের জল, ফলের রস ইত্যাদি), দুগ্ধজাত পদার্থ (যেমন - দুধ, ঘি, মাখন, দই) মধু ইত্যাদি বৈধ।
তথ্যসূত্র - নারদ পুরাণ ১৮.১২-১৩
-
[৬] রসুন, পেঁয়াজ, পলাণ্ডু খাওয়ার উপর বিতর্কিত বিধান আছে, কাজেই ইহা খাওয়া যেতে পারে।
★আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৬, মনু স্মৃতি ৫.৫, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ১.১৭৬, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩ অনুসারে পেঁয়াজ রসুন খেলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। অপরদিকে বৈদিক আয়ুর্ব্বেদ শাস্ত্র গুলিতে ভিন্ন চিকিৎসার কাজে পেঁয়াজ রসুনের ব্যাবহার উল্লেখ রয়েছে। কাজেই পেঁয়াজ রসুন খাওয়া কে নিষিদ্ধ বলা অযৌক্তিক।
-
[৭] টকে যাওয়া (ব্যাতিক্রম - দই) বা পচে যাওয়া বা কোনো খাবারে উভয়ে মিশ্রিত খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২০, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.১৫, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭
-
[৮] কুকুর, বিড়াল, বানর, মহিষ প্রভৃতি বন্য প্রাণীর মাংস আহার নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র - লৌগাক্ষিগৃহ্ম সূত্রাণি ২.১৯৩, বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৩৩, মানব গৃহসূত্র ১.৪.২-৪
-
[৯] যে খাবারে কোনো পশু মুখ দিয়েছে তা খাওয়া নিষিদ্ধ। তথ্যসূত্র - গৌতম ধর্মসূত্র ১৭.১০, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭
-
[১০] যে সব খাবারে পোকা জন্মছে তা খাওয়া নিষিদ্ধ। তথ্যসূত্র - আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৬.২৬, যাজ্ঞবল্ক স্মৃতি ৭.১৬৭
-
উক্ত নিষিদ্ধতার বাইরের খাদ্য বস্তু বা আহার সামগ্রী সমূহ বৈধ, কারণ সেইসব আহার সামগ্রীর উপরে নিষিদ্ধতা আরোপ হয়নি হিন্দুশাস্ত্র সমূহে।

Address

Ranaghat
741201

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Srímadvagbad Gíta Radhé Kríshna Díos posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share