30/07/2018
কথায় বলে লক্ষ্মী সরস্বতীর সহাবস্থান হয় না। কিন্তু ভক্তের আকুল প্রার্থনায় তুষ্ট হয়ে লক্ষ্মী সরস্বতী দুজনেই বাঁধা পড়েছিলেন সিরাজগঞ্জ মহকুমার ধোপাদহ নিবাসী বনেদী নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পূজনীয় শ্রী রামগোপাল ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের গৃহে। রামগোপাল যেমন ধর্ম্মনিষ্ঠ, তাঁর সহধর্মিনী পূজনীয়া ত্রিনয়নী দেবীও তেমনি পতিপ্রানা। স্বামী হল তাঁর জীবন্ত গৃহদেবতা।
এই নিষ্ঠাবান পিতার ঔরসে, ভক্তিমতি মায়ের গর্ভে বাংলা ১৩০১ সনের ১৪ই শ্রাবণ, রবিবার, কৃষ্ণা দ্বাদশী তিথিতে আবির্ভুতা হ'ন পরমারাধ্যা জগজ্জননী শ্রীশ্রীবড়মা। যেমন মিষ্টভাষী, তেমনি মিষ্টি স্বভাব তাঁর। জ্যোৎস্নায় ধোয়া তাঁর রূপ, পদ্মের মত বিমলাচিত্তশালিনী, গোলাপের মত সুন্দর, পরমাসুন্দরী, বিধাতার অপার্থিব মায়াময়ী সৃষ্টি, যেন ত্রিভুবনের বিস্ময়..
এই কন্যার নামকরণ করা হয় ষোড়শীবালা।
ছোটবেলা থেকেই তিনি মামার বাড়িতে মানুষ। ধোপাদহের সাথে তাঁর একপ্রকার পরিচয় হয়নি বললেই চলে।
নারায়ণ স্বয়ং সম্পুর্ন। তবুও সৃষ্টি রক্ষার্থে নারী শরীর ধারণ করে, লক্ষ্মী রূপে এক অপূর্ব লীলা করে চলেছেন তিনি। এ এক অদ্ভুত ঐশী লোকলীলা। যুগে যুগে অধর্মের বিনাশ করতে যখনই তিনি দেহধারী হয়ে আবির্ভুত হয়েছেন, তখনই মানুষী হয়ে আবির্ভুতা হয়েছেন নারায়ণীও। ফুল যেমন সুগন্ধ ছাড়া অসম্পূর্ন, বৃক্ষ যেমন ফল ছাড়া অসম্পূর্ন, আয়না যেমন প্রতিচ্ছবি ছাড়া অসম্পূর্ন, তেমনি লক্ষ্মী ছাড়া নারায়ণও অসম্পূর্ন। লক্ষ্মী নারায়ণের আহ্লাদিনী শক্তি।
যার জন্য যে -বর বাঁধা, তার জন্যে তাই। লক্ষ্মীর বর নারায়ণ। বাংলা ১৩১৩ সনের ২৮শে শ্রাবণ সোমবার, পাবনা জেলার হিমাইতপুর নিবাসী শান্ডিল্য গোত্রজ বারেন্দ্র শ্রেণীর সদ্ ব্রাহ্মণ পূজনীয় শ্রী শিবচন্দ্র চক্রবর্তী ও মাতা মনোমোহিনী দেবীর জ্যেষ্ঠ পুত্র শ্রী অনুকূলচন্দ্রের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। শ্রীশ্রীঠাকুর তখন গোপাল লাহিড়ী মহাশয়ের পাবনা ইনষ্টিটিউটের থার্ড ক্লাসের ছাত্র। শ্রীশ্রীঠাকুরের বয়স ১৮ বছর, শ্রীশ্রীবড়মার বয়স ১২।
শ্রীশ্রীবড়মার জীবন অতলান্তিক সমুদ্রের মত। কয়েক ছত্র লেখনীর মাধ্যমে তাঁর দিব্যজীবনের কথা লেখার চেষ্টা নেহাৎ বাতুলতা মাত্র। তবে এক কথায় বলতে গেলে শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণীর, বিশেষ করে নারীর নীতি'র জীবন্ত রূপ শ্রীশ্রীবড়মা।
শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন- তোমাদের ঠাকুর যদি নারী শরীর নিয়ে জন্মাত তাহলে ঐ বড়বৌ।
শ্রীশ্রীঠাকুর স্বামীতে দেব ভাবের কথা বলেছেন, শ্রীশ্রীবড়মা সারা জীবন আমাদের সকলের মত গুরুরূপেই শ্রীশ্রীঠাকুরের আদেশ নিদেশ যথাযথ ভাবে পালন করে গেছেন। আমাদের সকলের মতোই ইষ্টকাজে যোগান দিয়েছেন। শয়নে স্বপনে নিশি জাগরণে তাঁর একটাই লক্ষ্য-- কি ভাবে শ্রীশ্রীঠাকুর কে খুশী করা যায়..
লক্ষ্মী যুগ যুগ ধরেই নারায়ণের পদসেবা করে চলেছেন, কিন্তু কখনও নিজেকে নারায়ণের শরিক ভাবেন না। শ্রীশ্রীবড়মাও তদ্রুপ। এ সম্পর্ক প্রভু-দাসের সম্পর্ক।
আজ তাঁর পুণ্য ১২৫ তম শুভ আবির্ভাব দিবসের পুন্যলগ্নে অন্তরের ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই। তাঁর শ্রী চরণে প্রার্থনা করি-- মা, আপনার মত বিশ্বাস, ভক্তি, নিষ্ঠা, আনুগত্য, কৃতিসম্বেগ আমাদের দিন― যাতে গুরুকে খুশী করে জীবনে কৃতকার্যতা লাভ করি..
'বন্দে পুরুষোত্তমম্'