03/09/2026
।। কিঙ্কর সহজানন্দ।।
( শ্রীগোপাল চন্দ্র মিত্র )
[ আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর শ্রীশ্রীঠাকুরের পরম ভক্ত মহাপ্রাণ এই মহামানবের তিরোধান দিবস। কিঙ্কর শরণানন্দ জীর ভক্ত মালিকা থেকে তাঁর জীবনের কিছু খন্ড চিত্রের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন।]
১৯৮২ সালের নভেম্বর।
" মহিমা, তোকে যদি কেউ প্রশ্ন করে -- যে ঠাকুর শাস্ত্রের প্রতিমূর্তি, সারা জীবন শাস্ত্র আচরণ পালন করে এসেছেন, শাস্ত্র-ধর্ম রক্ষা করে চলাই যাঁর জীবনের ব্রত --- তিনি এই জীবন-সায়াহ্নে একানব্বই বছর বয়সে শূদ্রের বাড়ীতে (১০৭, সাদার্ন এ্যভেন্যু,শ্রীবৈকুন্ঠ ধামে) অন্ন গ্রহণ করলেন কেন ?-- তুমি তার কি উত্তর দেবে ? "
সম্প্রদায় সর্বাধীশ কিঙ্কর মহিমানন্দ জী আচমকা শ্রীশ্রীঠাকুরের মুখে এই প্রশ্ন শুনে আমতা আমতা করতে করতে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ কণ্ঠে বলতে লাগলেন -- ঠিকই তো, ঠিকই তো ! এটা তো কখনও ভেবে দেখিনি, সত্যিই তো ! এটা তো একটা জটিল ব্যাপার ! তাই তো -- তাইতো ---, আপনিই বলে দিন - এর কি উত্তর দেবো ?
"শোন, কাগজ-কলমের পরিবর্তন করা যায়, উইল-দলিলের পরিবর্তন হয় -- কিন্তু হৃদয়ের কোন পরিবর্তন হয় না। গোপাল একদিন সাশ্রু নয়নে একান্ত শরণাগত হয়ে এ'র কাছে নিবেদন করে -- বাবা, আমি, আমার স্ত্রী, পুত্র, আমার পিতা মাতা আমার সাত ভাই, আমাদের স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি সহ আপনার চরণে নিবেদন করলাম। আপনি কৃপা করে এ সমস্ত কিছু গ্রহণ করে আমাকে মুক্ত করুন। সেদিন সে শুধু তার মুখ দিয়ে এ কথাগুলি বলেনি, তার হৃদয় থেকে কথাগুলি বলেছিল --- তাই তার কথাগুলি এ'র হৃদয়কেও স্পর্শ করেছিল। এ'ও সেদিন তার হৃদয় থেকে দেওয়া সমস্ত কিছু গ্রহণ করেছিল। তাই তার আর কোন সম্পত্তি নেই। তার সমস্ত কিছু শ্রীশ্রীগুরুদেবের। সুতরাং এখানে অন্ন গ্রহণ করতেও কোন দ্বিধা নেই।"
---- ঠিক আছে বাবা, ঠিক আছে বাবা। কেউ জিজ্ঞাসা করলে আমি এই উত্তরই দেবো। এটা তো আমারও জানা ছিল না।
----" শোন, আর এক কথা। এখানে সে বৌ-ছেলে-পুলে-সংসার নিয়ে বাস করে না। সবটাই শ্রীগুরুদেবের সেবায় ছেড়ে দিয়েছে -- এটাও একটা অন্যতম( জাগতিক )কারণ। আচ্ছা, এর মধ্যে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে -- কোন পূর্ব পূর্ব মহাপুরুষ তথা অবতার পুরুষের ক্ষেত্রে অনুরূপ কোন ঘটনা -- বা প্রমাণ আছে কি ? বলবে, হ্যাঁ তাও আছে। শ্রীরামকৃষ্ণ দেব বলরাম বসুর বাড়ীতে শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের অন্ন প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন।.... তবে, যেখানে সেখানে নয় -- আধিকারিক হতে হবে।"
গোপালদা ছিলেন আধিকারিক পুরুষ। এ হেন গুরুগত প্রাণ, শ্রীগুরুসেবায় নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া --- গোপাল মিত্রদা তথা কিঙ্কর সহজানন্দ জী সম্বন্ধে যাই লেখা হোক না কেন --- তা ওই নুনের পুঁটুলির সমুদ্রের গভীরতা মাপার মতই হবে।
নৃপেন্দ্র নাথ মিত্র ও তাঁর উপযুক্ত সহধর্মিনী "হর-পার্বতী " আড়িয়াদহের এক ধার্মিক পরিবারের দম্পতি -- যাঁর বাড়ীতে পুরুষানুক্রমে দূর্গা পূজা হয়ে আসতো অতি ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে। ষষ্ঠী থেকে দশমীর পূজো শেষ না হওয়া পর্য্যন্ত তাঁরা নির্জলা উপবাস করতেন। নৃপেন্দ্রনাথ রাজভবনে চাকরী করতেন --- তখনকার দিনে ৩৭ টাকার বেতনে।
---- ক্রমশঃ।
********************************
শ্রীশ্রী সীতারাম ভক্ত মালিকা।
কিঙ্কর শরণানন্দ জী।।
*******************************