Mahaprabhu Shri Chaitanya

Mahaprabhu Shri Chaitanya Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Mahaprabhu Shri Chaitanya, Religious organisation, JAGADISHPUR, Rajpur Sonarpur.

আমাদের PAGE আপনাকে স্বাগত। সনাতন হিন্দু শাস্ত্রের বৈদিক ও পৌরাণিক ইতিহাস এবং সংস্কৃতি, সনাতন ধর্মীয় প্রাচীন স্থাপনা ও মন্দির, ও পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্মের রহস্যময়তা সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য পাবেন আমাদের PAGE।

02/03/2026

ওঁ নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গোব্রাহ্মণহিতায় চ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।

আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি পালিত হবে পবিত্র আমলকি একাদশী। বৈষ্ণব সমাজে এই একাদশী অত্যন্ত মহিমাময় বলে বিবেচিত। এই দিনে ভগবান...
26/02/2026

আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি পালিত হবে পবিত্র আমলকি একাদশী। বৈষ্ণব সমাজে এই একাদশী অত্যন্ত মহিমাময় বলে বিবেচিত। এই দিনে ভগবানের ভক্তি, উপবাস এবং আমলকি বৃক্ষের পূজা বিশেষ ফলদায়ক বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
━━━━━━━━━━━━━━━
🔶 একাদশী কি?
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি চন্দ্রমাসে দু’বার — শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের একাদশ তিথিকে একাদশী বলা হয়। এই তিথি ভগবান বিষ্ণুর অতি প্রিয়।
উপবাস, নামসংকীর্তন, শাস্ত্রপাঠ ও সৎচিন্তনের মাধ্যমে মন, শরীর ও আত্মাকে পবিত্র করার দিনই একাদশী।
একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে পদ্ম পুরাণ-এ।
━━━━━━━━━━━━━━━
📖 আমলকি একাদশীর পবিত্র কাহিনী
প্রাচীন কালে বৈদিশা নামে এক সমৃদ্ধ নগরে চিত্রসেন নামে এক ধার্মিক রাজা রাজত্ব করতেন। তিনি ছিলেন ভগবাননিষ্ঠ, সত্যপরায়ণ এবং প্রজাবৎসল। রাজা নিজে যেমন একাদশী পালন করতেন, তেমনই সমগ্র রাজ্যবাসীকেও এই ব্রত পালনে উৎসাহিত করতেন।
একবার আমলকি একাদশীর দিনে রাজা ঘোষণা করলেন —
“আজ রাজ্যের সবাই উপবাস করবে, ভগবানের নাম কীর্তন করবে, আর আমলকি বৃক্ষতলে পূজা করবে।”
সেদিন সমগ্র নগর ভক্তিতে ভরে উঠল। মন্দিরে শঙ্খধ্বনি, কীর্তনের সুর, প্রদীপের আলো — যেন দেবলোক নেমে এসেছিল পৃথিবীতে।
রাত্রি নামলে সবাই কীর্তনে নিমগ্ন। ঠিক তখনই এক নিষ্ঠুর শিকারী, ক্ষুধায় ক্লান্ত হয়ে সেখানে এসে পড়ে। খাবারের আশায় এলেও দেখে — কেউ খাচ্ছে না, সবাই উপবাসে ও ভক্তিতে নিমগ্ন।
সে বাধ্য হয়ে সেখানেই বসে থাকে।
রাতভর কীর্তন শুনতে শুনতে, প্রদীপের আলো দেখতে দেখতে, তার হৃদয়ে অজান্তেই শান্তি নেমে আসে।
সে না জেনে, না বুঝে, সেই পবিত্র পরিবেশে উপবাস করে ফেলে।
কিছুদিন পর তার মৃত্যু হলে শাস্ত্র বলে — সেই অজান্তে পালন করা একাদশীর ফলেই সে নরকযাত্রা থেকে মুক্তি পায়, দেবলোকে গমন করে, এবং পরজন্মে এক মহান রাজা হয়ে জন্মায়।
👉 এই কাহিনী শেখায় — ভক্তির স্পর্শেই জীবন বদলে যেতে পারে।
━━━━━━━━━━━━━━━
🌿 আমলকি বৃক্ষের মাহাত্ম্য
এই দিনে আমলকি বৃক্ষকে বিশেষভাবে পূজা করা হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে —
এই বৃক্ষ পবিত্রতা, স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর প্রতীক।
যে ব্যক্তি এই বৃক্ষতলে ভগবানের নাম করে, তার জীবনে শুভ শক্তির প্রবাহ ঘটে।
━━━━━━━━━━━━━━━
✨ আমলকি একাদশীর মাহাত্ম্য
🔸 বহু জন্মের পাপক্ষয় ঘটে
🔸 জীবনে শুভফল বৃদ্ধি পায়
🔸 ভক্তি দৃঢ় হয়
🔸 সংসারী দুঃখ লাঘব হয়
🔸 মোক্ষের পথ উন্মুক্ত হয়
এই তিথিতে ভগবানের পবিত্র নাম
“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে”
জপ করলে হাজার যজ্ঞের ফল পাওয়া যায় — এমনটাই শাস্ত্রের বাণী।
━━━━━━━━━━━━━━━
💚 আমলকি একাদশীর উপকারিতা
🌿 আধ্যাত্মিক
• মন পবিত্র হয়
• ঈশ্বরচিন্তা জাগ্রত হয়
• অহংকার কমে
• হৃদয়ে শান্তি আসে
🌿 মানসিক
• আত্মসংযম বাড়ে
• ধৈর্য বৃদ্ধি পায়
• নেতিবাচক চিন্তা কমে
• আত্মবিশ্বাস বাড়ে
🌿 শারীরিক
• উপবাস শরীরকে বিশ্রাম দেয়
• হজমশক্তি উন্নত হয়
• শরীরের বিষাক্ত উপাদান কমে
• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
━━━━━━━━━━━━━━━
🍎 এই দিনে কি খাবেন
ফল, দুধ, দই, ছানা, সাবুদানা, আলু, মিষ্টি আলু, বাদাম, আমলকি, তুলসী সহ জল ইত্যাদি গ্রহণ করা যায়।
🚫 কি খাবেন না
ভাত, গম, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, মাছ-মাংস-ডিম, তামাক, মদ্যপান ও অতিরিক্ত মশলাদার খাবার পরিহার করবেন।
👉 মনে রাখবেন — একাদশীর উদ্দেশ্য শুধু খাদ্যনিয়ম নয়, মনকে পবিত্র করা।
━━━━━━━━━━━━━━━
🌿 ব্রত পরাণের নিয়ম
দ্বাদশী তিথিতে সূর্যোদয়ের পরে, তিথি শেষ হওয়ার আগে পরাণ করতে হয়।
প্রথমে তুলসী সহ জল পান, তারপর ফল বা প্রসাদ, এরপর নিরামিষ ভোজন গ্রহণ করা উত্তম।
বৈষ্ণব গ্রন্থ যেমন হরি-ভক্তি-বিলাস-এ বলা হয়েছে —
👉 সঠিক সময়ে পরাণ করলে ব্রতের পূর্ণ ফল লাভ হয়।
━━━━━━━━━━━━━━━
🙏 শেষ প্রার্থনা
এই পবিত্র তিথিতে আমরা —
নাম জপি, মন শুদ্ধ করি, দয়া করি, সৎপথে চলি।
🌼 সবাইকে আমলকি একাদশীর আন্তরিক শুভেচ্ছা।
ভগবানের কৃপায় ভরে উঠুক সকলের জীবন।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে 🙏

সেই অনেক আগেকার কথা…স্বর্গলোকে তখন দিব্য আলো ঝলমল করছে।ইন্দ্রের সভায় দেবতা, ঋষি, গন্ধর্ব, অপ্সরারা একত্রিত।স্বর্গরাজ্যে...
28/01/2026

সেই অনেক আগেকার কথা…
স্বর্গলোকে তখন দিব্য আলো ঝলমল করছে।
ইন্দ্রের সভায় দেবতা, ঋষি, গন্ধর্ব, অপ্সরারা একত্রিত।
স্বর্গরাজ্যের সেই সভায় যখন সংগীত বাজত —
মেঘ থেমে যেত
পাখিরা উড়ে এসে বসত
স্বর্গ যেন নীরব হয়ে শুনত।
আর সেই সংগীত তুলত দুই গন্ধর্ব —
🎶 পুষ্পদন্ত ও মাল্যবান
তাদের কণ্ঠে ছিল দেবলোকের মধুরতা।
ভগবানের গুণগানেই কাঁপত স্বর্গ।
কিন্তু প্রিয়জন…
অহংকার খুব নিঃশব্দে আসে।
একদিন গাইতে গাইতে তাদের চোখ আটকে গেল অপ্সরাদের রূপে।
মন আর ভগবানে রইল না…
সুরে ঢুকে গেল কামনা, ভোগ, মোহ।
গান চলল —
কিন্তু ভক্তি চলে গেল।
⚡ ইন্দ্রের অভিশাপ
দেবরাজ ইন্দ্র বুঝে ফেললেন।
ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললেন —
“যারা ভগবানের সেবা ভুলে ভোগে মগ্ন হয়,
তাদের স্বর্গে থাকার অধিকার নেই!”
মুহূর্তেই বজ্রের মতো অভিশাপ নেমে এলো —
“তোমরা পৃথিবীতে পিশাচ হয়ে জন্ম নাও!”
আলো নিভে গেল।
সুর থেমে গেল।
দুজনেই ভয়ংকর রূপ নিয়ে পড়ে গেল হিমালয়ের অরণ্যে।
🌑 ভয়াবহ পিশাচ জীবন!
সে কী কষ্ট!
শরীর বিকৃত!
চোখে আগুন,
মুখে ক্ষুধার হাহাকার,
দিনে সূর্যের আলো সহ্য হয় না,
রাতে শীতের কামড়ে কাঁপে শরীর।
খাবার নেই,
ঘুম নেই,
শান্তি নেই,
শুধু কান্না।
তারা কাঁদতে কাঁদতে বলত —
“হে নারায়ণ! আমরা ভুল করেছি!
আমাদের উদ্ধার করো!”
কিন্তু দিন যায়…
মাস যায়…
বছর যায়…
মুক্তি আসে না 😢
🌕 এসে গেল সেই অলৌকিক তিথি
একদিন হিমালয়ের পাহাড়ে ভয়ানক তুষারঝড় এলো।
কোনো প্রাণী বের হতে পারল না।
ক্ষুধায় তারা লুটিয়ে পড়ল।
এক ফোঁটা জল পর্যন্ত জোটেনি।
পুরো দিন…
পুরো রাত…
না খেয়ে কেটেই গেল।
অজান্তেই তারা পালন করল এক মহান ব্রত —
✨ জয়া একাদশী ব্রত
সেই রাতে দুর্বল কণ্ঠে তারা বলতে লাগল —
“হে বিষ্ণু… হে মাধব… হে নারায়ণ…”
আর ঠিক তখনই —
🌟 আকাশ ফেটে নামল আলো
মেঘের বুক চিরে নেমে এল বিষ্ণুদূতরা।
দিব্য আলোয় ভরে গেল অরণ্য।
পিশাচ শরীর কাঁপতে লাগল…
কালো রূপ গলে গেল…
দিব্য দেহ প্রকাশ পেল।
তারা আবার গন্ধর্বে রূপান্তরিত হলো ✨
ভগবানের কণ্ঠ ভেসে এলো —
“জয়া একাদশীর প্রভাবে তোমাদের সমস্ত পাপ নষ্ট হয়েছে।”
“তোমরা মুক্ত।”

আমাদের জীবনে কত ভুল হয়…
কত পাপ অজান্তেই জমে যায়…
কত কষ্ট আমরা নিজেরাই ডেকে আনি…
আর ভগবান শ্রীহরি কত সুন্দর করে আমাদের জন্য একটি দরজা খুলে রেখেছেন —
সেই দরজার নামই হলো একাদশী ব্রত।
আজ যে একাদশী তিথি এসেছে —
ভৈমী একাদশী বা জয়া একাদশী —
এ শুধু উপবাস নয়…
এ হলো জীবনের নতুন সূচনা।
🌼 ভৈমী একাদশীর মহিমা কী?
পুরাণে বলা হয়েছে —
এই একাদশী পালন করলে এমন পাপও নাশ হয়
যার প্রায়শ্চিত্ত মানুষের সাধ্যের বাইরে।
যে জন্মে জন্মে অন্ধকার বয়ে বেড়াচ্ছে,
এই একদিনের ভক্তিতেই সে আলোয় ভরে যায়।
ভগবান বিষ্ণু বলেন —
“যে জয়া একাদশী শ্রদ্ধার সাথে পালন করে,
সে মুক্তির পথে অগ্রসর হয়।”
ভাবো তো…
একদিনের সংযম,
একদিনের ভক্তি,
আর তার ফল অনন্ত শান্তি 🌸
💔 যারা এখনও একাদশী শুরু করোনি — তোমার জন্য বিশেষ কথা
শোনো প্রিয়জন…
অনেকে বলে —
“আর একটু পরে শুরু করব”
“এখন সময় নেই”
“এখন শরীর মানবে না”
কিন্তু সত্যি করে বলি —
ভগবানকে ডাকবার জন্য কোনো বয়স লাগে না।
দুঃখে পড়লে আমরা কি বলি —
আর একটু বড় হলে কাঁদব?
আগুন লাগলে কি বলি —
কাল জল ঢালব?
তাহলে ভক্তির ব্যাপারে কেন দেরি?
👉 আজই শুরু করো
এই জয়া একাদশী থেকেই শুরু করো
ভগবান আজই তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন ❤️
👶 যারা ভাবছো — “আমার তো বয়স কম, পরে করব”
আমার সোনা ভাই-বোনেরা…
একটু মন দিয়ে শোনো।
জীবন কার কাছে কতদিন থাকবে কেউ জানে না।
আজ যে হাসছে — কাল সে থাকবে কিনা আমরা জানি না।
আজ যে শক্ত — কাল সে দুর্বল হবে না তার নিশ্চয়তা নেই।
ভক্তি কখনো বার্ধক্যের কাজ নয়।
ভক্তি হলো শ্বাসের মতো — যত তাড়াতাড়ি শুরু করো ততই মঙ্গল।
ছোট গাছ লাগালে বড় ছায়া দেয় 🌳
ছোটবেলায় ভক্তি শুরু করলে জীবন ভরে শান্তি দেয়।
আজ যদি শুরু করো —
ভবিষ্যৎ তোমাকে আশীর্বাদ করবে 🙏
🌺 একাদশী মানে কষ্ট নয় — একাদশী মানে আশীর্বাদ
অনেকে ভাবে —
উপবাস মানেই কষ্ট!
না প্রিয়জন…
এটা আত্মাকে হালকা করা
মনকে পরিষ্কার করা
ভগবানকে কাছে টেনে আনা
আজ একদিন সংযম করো
হরে কৃষ্ণ নাম জপ করো
ভগবানের কথা ভাবো
দেখবে —
মনের ভেতর এমন শান্তি নামবে যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না 🌿
✨ আজ একটি সংকল্প নাও
আজ ভৈমী একাদশীতে নিজের মনে বলো —
“হে ভগবান, আজ থেকে আমি তোমার পথে চলব”I
“আজ থেকে আমি একাদশী পালন শুরু করব”I
“যত পারি তোমাকে স্মরণ করব”I
এই ছোট সংকল্পই একদিন তোমাকে মুক্তির পথে নিয়ে যাবে 🌼
🙏 শেষে শুধু একটি অনুরোধ
যারা এখনও পর্যন্ত শুরু করোনি তোমরা আজ থেকেই শুরু করো,
দেরি করো না
জীবন অপেক্ষা করে না,
কিন্তু ভগবান ডাকলে সঙ্গে সঙ্গে কাছে আসেন ❤️
হরে কৃষ্ণ 🙏
জয় শ্রীহরি 🌸
জয় ভৈমী একাদশী 🙏

 হরে কৃষ্ণ🙏জয় গৌরাঙ্গ 🙏জীবনের পথে চলতে চলতে আজ আমি ক্লান্ত।চারদিকে এত প্রেম- মায়া - ভালবাসা, এত নাম ডাক, এত যশ ! আমি ব...
16/01/2026

হরে কৃষ্ণ🙏
জয় গৌরাঙ্গ 🙏
জীবনের পথে চলতে চলতে আজ আমি ক্লান্ত।
চারদিকে এত প্রেম- মায়া - ভালবাসা, এত নাম ডাক, এত যশ !
আমি বুঝতে পারিনা কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল।
এই সংসার স্বর্ণমৃগ আমাকে বার বার দিকভ্রষ্ট করে মায়ার জালে জড়িয়ে দিচ্ছে ।
আমার বুদ্ধি বারবার আমাকে ঠকিয়েছে,
আমার অহংকার আমাকে দূরে নিয়ে গেছে শান্তি থেকে।
আজ আর একা সামনে এগোতে সাহস পাই না।
তাই নীরবে হাত বাড়িয়ে বলি—
তুমি সূর্য্য, তুমি চন্দ্র,
তুমি গ্রহ প্রভু হে।
তুমি শক্তি, তুমি মুক্তি,
তুমি মোহ প্রভু হে।

তোমার পায়ে নিজেকে করি সমর্পণ।

হে মধুসূদন,
আমি জানি না পথ,
আমি জানি না গন্তব্য।
আমি শুধু জানি—
তুমি আছো বলেই আমি আছি।
এই ব্রজভূমির পথে পথে
আমি বহুবার থেমেছি,
বহুবার চোখ ভিজিয়েছি।
চারদিকে লোক, নিয়ম, হিসাব—
কিন্তু আমার হৃদয় মানে না কিছুই।
আমার পা কাঁপে,
আমার মন দুর্বল হয়ে যায়।
তবু আমি ভয় পাই না—
কারণ তুমি আছো।
আজ আমি কিছু চাই না,
আমি প্রশ্ন করি না—
শুধু তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে বলি—
হে দয়াময়, আমার হাতটা ধরো।
আমি পথ চিনতে চাই না,
আমি সঠিক হতে চাই না—
আমি শুধু তোমার সঙ্গে চলতে চাই।
যদি কাঁটা থাকে পথে,
তোমার হাতেই তা ফুল হয়ে যাবে।
যদি অন্ধকার নামে,
তোমার হাসিতেই আলো ফুটবে।
লোক যা-ই বলুক,
পথ যেখানে-ই যাক—
আমার কাছে সত্য একটাই,
তুমি যেখানে,
সেই পথই আমার ধর্ম।
অর্জুন এর রথের সারথির মতো আমার জীবন রথের সারথি হয়ে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলো আমি যে পথ চিনিনা ।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে।।
হরিবোল🙏

 হরে কৃষ্ণ🙏শ্রীগুরু চরণ সরোজ রজ, নিজ মন মুকুরু সুধারি।বরণউ রঘুবর বিমল জশু, জো দায়কু ফল চারি।।বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমির...
13/01/2026

হরে কৃষ্ণ🙏
শ্রীগুরু চরণ সরোজ রজ, নিজ মন মুকুরু সুধারি।
বরণউ রঘুবর বিমল জশু, জো দায়কু ফল চারি।।
বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমিরৌ পবন-কুমার।
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি, হরহু কলেশ বিকার।।

জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর।
জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর।।
রাম দূত অতুলিত বল ধামা।
অঞ্জনী পুত্র পবনসুত নামা।।
🔱 শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ, নিজ মন মুকুর সুধারি
শব্দার্থ:
শ্রী = পবিত্র, শ্রদ্ধেয়
গুরু = আধ্যাত্মিক শিক্ষক
চরণ = পা
সরোজ = পদ্ম
রজ = ধূলি
নিজ = নিজের
মন = মন
মুকুর = আয়না
সুধারি = পরিষ্কার করা
অনুবাদ :
গুরুর পদ্মচরণের ধূলি দিয়ে আমি আমার মনের আয়নাকে পরিষ্কার করছি।
ভাবার্থ ও বিশ্লেষণ:
মানুষের মন ধূলিমলিন আয়নার মতো—
অহংকার, কাম, ক্রোধ, লোভে ঢেকে থাকে।
গুরুকৃপা ছাড়া ভগবান উপলব্ধি সম্ভব নয়।
তাই কবি প্রথমেই গুরুবন্দনা করছেন।
২️⃣ বরনৌ রঘুবর বিমল যশ, জো দায়ক ফল চারি
শব্দার্থ:
বরনৌ = বর্ণনা করছি
রঘুবর = রঘুবংশের শ্রেষ্ঠ (শ্রী রাম)
বিমল = নির্মল
যশ = মহিমা
জো = যা
দায়ক = প্রদানকারী
ফল চারি = চার পুরুষার্থ
শব্দে শব্দে অর্থ:
আমি রঘুবংশের শ্রেষ্ঠ শ্রী রামের নির্মল মহিমা বর্ণনা করছি, যা চার পুরুষার্থ দান করে।
বিশ্লেষণ:
চার পুরুষার্থ—
ধর্ম
অর্থ
কাম
মোক্ষ
শ্রী রামের নামেই জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য।
🌸 প্রথম চৌপাই
৩️⃣ বুদ্ধি হীন তনুজানিকৈ, সুমিরৌ পবন কুমার
শব্দার্থ:
বুদ্ধি হীন = জ্ঞানহীন
তনু = দেহ
জানিকৈ = জেনে
সুমিরৌ = স্মরণ করছি
পবন কুমার = বায়ুপুত্র হনুমান
অর্থ:
আমি নিজেকে জ্ঞানহীন মনে করে পবনপুত্র হনুমানকে স্মরণ করছি।
বিশ্লেষণ:
এখানে নম্রতা (ভক্তির মূল) প্রকাশ পাচ্ছে।
ভক্ত নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করলেই কৃপা আসে।
৪️⃣ বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি, হরহু কलेশ বিকার
শব্দার্থ:
বল = শক্তি
বুদ্ধি = বিবেচনা শক্তি
বিদ্যা = জ্ঞান
দেহু = দান কর
মোহি = আমাকে
হরহু = দূর কর
ক্লেশ = দুঃখ
বিকার = বিকৃতি
অর্থ:
আমাকে শক্তি, বুদ্ধি ও জ্ঞান দাও এবং আমার সব দুঃখ ও বিকার দূর কর।
বিশ্লেষণ:
হনুমান কেবল বাহুবল নয়—
তিনি জ্ঞান, বৈরাগ্য ও ভক্তির প্রতীক।
🌺 দ্বিতীয় চৌপাই
৫️⃣ জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর
জয় = বিজয় হোক
জ্ঞান = আধ্যাত্মিক জ্ঞান
গুণ = সদ্গুণ
সাগর = সমুদ্র
অর্থ:
জ্ঞান ও গুণের সমুদ্র হনুমানের জয় হোক।
বিশ্লেষণ:
হনুমান অশিক্ষিত নন—
তিনি বেদ, ব্যাকরণ, দর্শনের পণ্ডিত।
৬️⃣ জয় কপীশ তিহুঁ লোক উজাগর
কপীশ = বানরদের অধিপতি
তিহুঁ লোক = তিন লোক (স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল)
উজাগর = প্রসিদ্ধ
অর্থ:
তিন লোকেই প্রসিদ্ধ কপিদের অধিপতি হনুমানের জয় হোক।
🌼 তৃতীয় চৌপাই
৭️⃣ রাম দূত অতুলিত বল ধাম
রাম দূত = রামের দূত
অতুলিত = তুলনাহীন
বল ধাম = শক্তির আধার
অর্থ:
হনুমান রামের দূত এবং অদ্বিতীয় শক্তির আধার।
৮️⃣ অঞ্জনি পুত্র পবন সুত নাম
অঞ্জনি পুত্র = অঞ্জনার সন্তান
পবন সুত = বায়ুর পুত্র
🔍 বিশ্লেষণ: তিনি দেহে শক্তিশালী,
মনে স্থির,
প্রাণে বিশুদ্ধ।
হনুমান হলেন জ্ঞান ও গুণের সমুদ্র।
তিনি শুধু বাহুবলে নয়,
📖 শাস্ত্রজ্ঞান
🙏 বিনয়
🔥 ব্রহ্মচর্য
💖 অটল ভক্তি
—এই সব গুণে তিন লোকেই প্রসিদ্ধ।
যেখানে জ্ঞান আছে, সেখানে অহংকার নেই।
যেখানে ভক্তি আছে, সেখানে ভয় নেই।
এই কারণেই হনুমান ভক্তের জীবনে আলো হয়ে আসেন।
🌸 আমাদের জন্য শিক্ষা
🔹 শক্তি থাকুক, কিন্তু অহংকার নয়
🔹 জ্ঞান থাকুক, কিন্তু দম্ভ নয়
🔹 ভক্তি থাকুক, কিন্তু প্রদর্শন নয়
এই তিনের সমন্বয়ই হনুমান তত্ত্ব।
🙏 জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর
🚩 জয় শ্রী রাম

🙏 হরে কৃষ্ণ 🌿 আমি কে? আমি কোথা থেকে এসেছি? কেন এই ধরাধামে আগমন? আমার ধর্ম বা কাজই বা কী? 🌿একদিন হঠাৎ মনে হয়…এই যে আমি—য...
03/01/2026

🙏 হরে কৃষ্ণ
🌿 আমি কে? আমি কোথা থেকে এসেছি? কেন এই ধরাধামে আগমন? আমার ধর্ম বা কাজই বা কী? 🌿
একদিন হঠাৎ মনে হয়…
এই যে আমি—
যে সকালে ঘুম থেকে উঠি,
হাসি, কাঁদি, দুঃখ পাই, সুখ চাই—
সে আমি আসলে কে?
এই দেহটাই কি আমি?
এই নাম, এই পরিচয়, এই সংসারটাই কি আমার সব?
রাতের নিস্তব্ধতায়, অথবা কোনো একাকী মুহূর্তে
মনের গভীর থেকে যেন এক প্রশ্ন উঠে আসে—
আমি কোথা থেকে এলাম?
আমি কেন এই ধরাধামে এসেছি?
আমার আসল কাজটাই বা কী?
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বলে—
“ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিৎ
নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়ঃ।”
(গীতা ২.২০)
আমি এই দেহ নই।
আমি এক পথিক আত্মা।
এই পৃথিবী আমার চিরস্থায়ী ঘর নয়—
এটা একটি যাত্রাপথ।
যে দিন এই সত্যটা একটু হলেও হৃদয়ে নামে,
সেদিন থেকেই জীবন আর সাধারণ থাকে না।
অর্থাৎ—
আমি জন্মাইনি, মরবও না।
আমি এই দেহ নই।
যেমন মানুষ পুরোনো পোশাক ছেড়ে নতুন পোশাক পরে,
তেমনি আত্মা এক দেহ ছেড়ে আরেক দেহ ধারণ করে।
এই দেহটা কেবল একটি আবাস।
আর আমি—
আমি সেই বাসিন্দা।
🌊 আমি কোথায় ছিলাম? — স্মৃতির অতল থেকে
বিষ্ণু পুরাণ বলে—
“জীবভূতঃ সনাতনঃ।”
আমি সনাতন।
আমার কোনো শুরু নেই।
এই পৃথিবীতে আসার আগেও আমি ছিলাম।
হয়তো অন্য কোনো দেহে,
অন্য কোনো লোকেতে,
অন্য কোনো অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে।
কর্ম আমাকে বয়ে এনেছে—
ঠিক যেমন নদীর স্রোত কোনো পাতা ভাসিয়ে আনে তীরে।
🌱 তাহলে কেন এই মানবজন্ম?
শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ যেন মায়ার পর্দা সরিয়ে বলে—
“লভ্ধ্বা সুধুর্লভমিদং বহুসম্ভবানতে
মানুষ্যমর্থদমঅনিত্যং।”
অগণিত জন্মের পর
এই মানবদেহ পাওয়া যায়।
এটা ভোগের জন্য নয়।
এটা শুধু খাওয়া–দাওয়া, সুখ–দুঃখের হিসাবের জন্য নয়।
এটা এসেছে একটাই কারণে—
👉 নিজেকে চেনার জন্য
👉 ভগবানকে স্মরণ করার জন্য
👉 এই জন্ম–মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য
🌼 আমার ধর্ম কী? — কোনো লেবেল নয়, কোনো বিভাজন নয়
ভাগবত পুরাণ খুব শান্ত স্বরে বলে—
“স বৈ পুংসাং পরো ধর্মো
যতো ভক্তিরধোক্ষজে।”
আমার ধর্ম কোনো নাম নয়,
কোনো পোশাক নয়,
কোনো তর্ক নয়।
আমার ধর্ম—
ভক্তি।
যে ভক্তিতে অহংকার নেই,
যে ভক্তিতে দাবি নেই,
শুধু আছে আত্মসমর্পণ।
🌸 কলিযুগে পথ কোনটা? — গৌরাঙ্গের করুণ আহ্বান
বৃহন্নারদীয় পুরাণ ঘোষণা করে—
“হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা।”
এই যুগে
ভাঙা মন নিয়ে, ক্লান্ত হৃদয় নিয়ে
কঠিন সাধনা সম্ভব নয়।
কিন্তু একটি পথ খোলা আছে—
নাম।
হরিনাম—
যা কাউকে বাদ দেয় না,
যা ধনী–গরিব চেনে না,
যা শুধু হৃদয় চায়।
হরে কৃষ্ণ 🙏
জয় রাধে 🙏
জয় গৌরাঙ্গ 🙏

01/01/2026
“মৃত্যু সবাইকে স্পর্শ করে—কিন্তু ভক্তকে বধ করে না, ভগবানের ধামে পৌঁছে দেয়।”মৃত্যু যখন সকলেরই নিশ্চিত — তখন ভজন কেন?অর্জ...
30/12/2025

“মৃত্যু সবাইকে স্পর্শ করে—কিন্তু ভক্তকে বধ করে না, ভগবানের ধামে পৌঁছে দেয়।”
মৃত্যু যখন সকলেরই নিশ্চিত — তখন ভজন কেন?
অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—
“হে কেশব! মৃত্যু যখন সবার জন্য অনিবার্য,
তবে আমরা সৎসঙ্গ, ভজন, কীর্তন কেন করি?
যারা সংসারের ভোগে, কামনা–বাসনায় ডুবে আছে,
তাদেরও তো মৃত্যু হবেই।”
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উত্তরে বললেন—
“হে পার্থ!
বিড়াল যখন ইঁদুর ধরে, তখন সেই একই দাঁত দিয়ে কামড়ে তাকে বধ করে ভক্ষণ করে।
কিন্তু যখন সেই বিড়াল নিজের সন্তানকে মুখে ধরে,
তখন সেই একই দাঁত, একই মুখ—
কিন্তু বধ নয়, বরং কোমলভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে।”
দাঁত এক, মুখ এক—
কিন্তু পরিণাম সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ঠিক তেমনই—
মৃত্যু সকলেরই অনিবার্য।
কিন্তু একজন মৃত্যুর পর প্রভুর ধামে গমন করে,
আর অপরজন ঘুরে বেড়ায় চুরাশি লক্ষ যোনির চক্রে।
জন্মিলে মরিতেই হবে— এটাই বিধির বিধান।
কিন্তু দেহে প্রাণবায়ু থাকা অবস্থায়
আপনি এই জীবনকে কেমনভাবে পরিচালনা করেছেন,
তার উপরই নির্ভর করে আপনার চূড়ান্ত প্রাপ্তি।
যদি সম্পূর্ণ জীবন জড় ইন্দ্রিয় সুখ–ভোগে কাটে,
যদি কৃষ্ণ সেবায় নিজেকে সমর্পণ না করা হয়—
তবে মৃত্যুর পর এই দুঃখালয় জগৎ সংসারেই
নানা দেহে, নানা রূপে ফিরে এসে
নিজের কর্মফল ভোগ করতে হবে।
কিন্তু যদি এই দুর্লভ মনুষ্য জীবন
শুদ্ধ ভক্তি ও পূর্ণ বিশ্বাসে কৃষ্ণভজনে সমর্পণ করা যায়,
সাধুসঙ্গ করা যায়,
অনাদি আদি গোবিন্দের নামস্মরণে জীবন কাটানো যায়—
তবে মৃত্যুর পরে ভগবান স্বয়ং আপনার সঙ্গী হবেন।
হয়তো আর এই জড় জগতে ফিরে আসতেই হবে না—
স্বয়ং পরমেশ্বরের শ্রীচরণেই ঠাঁই মিলবে।
সুতরাং, এই দুর্লভ মানবজীবনে
জড় জাগতিক কর্মের পাশাপাশি—
যতটুকু সম্ভব সাধুসঙ্গ করুন,
হরিনাম শ্রবণ করুন,
এবং কৃষ্ণনাম প্রচার করুন।
🌼 হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
🌼 হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
#সনাতনধর্ম #শ্রীমদ্ভাগবত #হরেকৃষ্ণ

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা সম্পূর্ণরূপে চিদানন্দময় ও অপ্রাকৃত। জাগতিক গল্প, রাজনীতি বা ইন্দ্রিয়সুখের কথা মানুষের ...
29/12/2025

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা সম্পূর্ণরূপে চিদানন্দময় ও অপ্রাকৃত। জাগতিক গল্প, রাজনীতি বা ইন্দ্রিয়সুখের কথা মানুষের চিত্তকে অশান্ত করে তোলে, কিন্তু ভগবানের লীলা শ্রবণ মানুষের চিত্তকে পবিত্র, শান্ত ও আলোকিত করে।
ভাগবত বলছে,
''শৃন্বতাং স্বকথাঃ কৃষ্ণঃ পুণ্যশ্ৰবণকীর্তনঃ,
হৃদ্যন্তস্থো হাভদ্ৰাণি বিধুনোতি সুহৎসতা''।৷ ভাগঃ ১/২/২৭||
অনুবাদঃ ''মানুষ যখন কৃষ্ণকথা অমৃত শ্ৰবণ ও কীর্তনের প্রারম্ভিক অনুশীলনের দ্বারা ভগবভক্তিতে যুক্ত হন , তখন সকলের হৃদয়ে বিরাজমান পরমেশ্বর ভগবান ভক্তের হৃদয়ের কলুষ বিধৌত করে মুক্তি দান করেন''।

এমনকি কোনো অভক্তও একাগ্রতা সহকারে এবং শ্রদ্ধা নিয়ে ভগবানের লীলা শ্রবণ করে, তখন ধীরে ধীরে তার চিত্তের অজ্ঞান দূর হতে শুরু করে। ভগবানের প্রতি অজানা আকর্ষণ জন্মায় এইভাবেই অভক্তও ধাপে ধাপে মুক্তির পথে অগ্রসর হয়।
কারন ভক্তির নববিধা সাধনার মধ্যে শ্রবণই প্রথম। কারণ— শ্রবণ না হলে স্মরণ হয় না, স্মরণ না হলে ভজন হয় না, আর ভজন না হলে ভগবানের সঙ্গে সম্পর্ক জাগ্রত হয় না।
শ্রবণের মাধ্যমেই জীব বুঝতে পারে—
“আমি এই দেহ নই, আমি ভগবানের নিত্য দাস।” এই উপলব্ধিই মায়ার বন্ধন ছিন্ন করার মূল চাবিকাঠি। তাই পরমেশ্বর ভগবানের কার্যকলাপ শ্রবণ এমন এক আধ্যাত্মিক ঔষধ, যা ভক্ত-অভক্ত নির্বিশেষে সকল জীবের জন্য কল্যাণকর।।
।।হরেকৃষ্ণ।।🙏
।। জয় শ্রীকৃষ্ণ।।
।। জয় মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য ।।
।। জয় সনাতন ধর্ম।।

হরে কৃষ্ণ🙏
25/12/2025

হরে কৃষ্ণ🙏

দুর্যোধন ও শকুনির সাথে পাশা খেলার সময় ভগাবান শ্রীকৃষ্ণ কেন পান্ডবদের রক্ষা করলেন না?শৈশব থেকেই উদ্ধব শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে থ...
28/11/2025

দুর্যোধন ও শকুনির সাথে পাশা খেলার সময় ভগাবান শ্রীকৃষ্ণ কেন পান্ডবদের রক্ষা করলেন না?

শৈশব থেকেই উদ্ধব শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে থাকতেন; তার রথ চালানো থেকে শুরু করে অনেক সেবা করতেন। কিন্তু তিনি কখনোই ভগবানের কাছ থেকে কোনো সাহায্য বা বর প্রার্থনা করেননি। যখন ভগবান তাঁর শ্রীকৃষ্ণ অবতার লীলার প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌছেছেন, তখন একদিন তিনি উদ্ধবকে বললেন,

“প্রিয় উদ্ধব, আমার এ অবতারে কত মানুষকে আমি সাহায্য করেছি, বর দিয়েছি। কিন্তু তুমি আমার কাছে কখনো কিছু চাও না। তুমি এখনই আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করো; তোমাকেও কিছু কৃপা করার আনন্দ লাভের মাধ্যমে এ অবতারে আমার লীলা সমাপ্ত করতে চাই।”

যদিও উদ্ধব ভগবানের কাছে কিছু চাইতেন না, কিন্তু তিনি শৈশব থেকেই ভগবানের লীলা অত্যন্ত কাছ থেকে দেখতেন; ভগবানের শিক্ষা আর তাঁর কাজের মধ্যে কিছু আপাত অসামঞ্জস্য তাকে বিহ্বল করত, যার ব্যখ্যা জানতে তিনি সবসময় উদগ্রীব থাকতেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি আমাদের জীবনযাপনের একটা পথ দেখিয়েছেন, কিন্তু আপনি নিজে চলেছেন অন্যভাবে।

আপনার মহাভারত লীলায় আমি আপনার অনেক লীলার কিছুমাত্র বুঝিনি। আমি আপনার কর্ম এবং তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে অত্যন্ত উদগ্রীব, কৃপাপূর্বক আপনি আমার অভিলাষ পূর্ণ করবেন কি?

” শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “মহাভারতে যা আমি অর্জুনকে বলেছিলাম তা ভগবত-গীতা নামে খ্যাত, আজ আমি তোমাকে যা বলব তা উদ্ধব গীতা নামে খ্যাত হবে। নিঃসংকোচে জিজ্ঞেস করো।” উদ্ধব বললেন, “প্রথমে আমায় বলুন, প্রকৃত বন্ধু কে?”

শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “প্রকৃত বন্ধু সেই, যে বন্ধুর বিপদে সাহায্যের আহ্বানের অপেক্ষা না করেই বন্ধুর সাহায্যে চলে আসে।”
উদ্ধব বললেন, “আপনি তো পান্ডবদের প্রিয় বন্ধু ছিলেন, তারা আপনাকে আপাদবান্ধব (সব বিপদের পরিত্রাতা) বলে বিশ্বাস করত। আপনি তো শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎও জানেন; আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী; আপনি কি তাদের সাথে প্রকৃত বন্ধুর মতো আচরণ করলেন?

আপনি কেন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলা থেকে বিরত রাখলেন না? আর যখন তা করলেন না, তবে কেন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের পক্ষে ভাগ্যকে পরিচালিত করলেন না যাতে অন্তত ধর্মের জয় হতো। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির ধন-সম্পদ, রাজ্য ও নিজেকে হারানোর পর আপনি তো পাশা খেলা বন্ধ করতে পারতেন। পাশা খেলার দন্ড থেকে আপনি তাঁকে রক্ষা করতে পারতেন। আপনি তাও করেননি।
দুর্যোধন যখন প্রস্তাব করেছিল যে, পান্ডবদের সব সৌভাগ্যের উৎস দ্রৌপদীকে পাশার বাজী রাখলে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের সব হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আপনি তো তখন আপনার ঐশ্বরিক ক্ষমতা ব্যবহার করে পাশার গুটিকে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের পক্ষে চালিত করতে পারতেন। বরং আপনি তখন এলেন, যখন দ্রৌপদী তার সম্ভ্রম প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। আর আপনি দাবি করেন যে, আপনি বস্ত্র দিয়ে তার সম্ভ্রম রক্ষা করেছেন?
সভায় এতগুলো মানুষের মধ্যে একজন স্ত্রীলোকের চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে এনে তার পরনের বস্ত্র প্রায় খুলে ফেলার পর তার কোনো সম্মান আর বাকি ছিল কি?
আপনি তার কী রক্ষা করলেন? চরম বিপদের সময় আপনি সবাইকে রক্ষা করেন বলে আপনার নাম আপাদবান্ধব। বিপদের সময়ই যদি আপনি সাহায্য না করলেন,তাহলে এ সাহায্যের অর্থ কী? এই কি ধর্ম?” প্রশ্নগুলো করতে করতে উদ্ধবও অঝোর নয়নে কাদছিলেন।
আসলে এ প্রশ্ন শুধু উদ্ধবের একার নয়; যারা মহাভারত পড়েছে, তাদের অনেকের মনেই এ একই প্রশ্নের উদয় হয়, উদ্ধব অনেক আগেই ভগবানকে জিজ্ঞেস করেছেন।
ভগবান হেসে বললেন, প্রিয় উদ্ধব, এ পৃথিবীর নিয়ম হলো শুধু তারাই জেতে যাদের বিবেক (ভালো-মন্দ পার্থক্যের বিচারবোধ) আছে। যুধিষ্ঠিরের বিবেক কাজ করেনি যখন দুর্যোধনের বিবেক কাজ করেছিল, তাই দুর্যোধনের জয় হয়েছিল।” শ্রীকৃষ্ণের কথায় উদ্ধব আরো দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলতে লাগলেন,

“দুর্যোধনের অনেক সম্পদ ছিল, কিন্তু সে পাশা খেলতে জানতো না, তাই সে মামা শকুনিকে তার জায়গায় খেলতে বলেছিল। এটা বিবেক। ঠিক একইভাবে যুধিষ্ঠির মহারাজও আমাকে তার হয়ে খেলতে বলতে পারতো, যেহেতু আমিও সম্পর্কে তার পিসতুত ভাই। কে জিততো, খেলাটা যদি আমার আর শকুনি মামার মধ্যে হতো? তোমার কী মনে হয় উদ্ধব? আমি কী করে যুধিষ্ঠিরকে ক্ষমা করি, যখন সে আমাকেই ভুলে গিয়েছিল?”

“বিবেকবর্জিত অবস্থায় সে আরো একটা বড় ভুল করে বসল; সে প্রার্থনা করল, আমি যেন পাশার ওই সভাতে না যাই, আর তার এ প্রতারণার শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে পাশা খেলার পরিণতির কথা না জানি। সে প্রার্থনা দিয়ে পাশার ওই সভার বাইরে আমাকে বেঁধে ফেলল, আমি তো বাইরে অপেক্ষা করছিলাম, আর প্রত্যাশা করছিলাম কেউ অন্তত আমাকে ভেতরে আসার প্রার্থনা করুক।

যখন ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেবও হেরে গেল, তখন তারা দুর্যোধনকে অভিসম্পাত, আর নিজেদের ভাগ্যকে দোষারোপ করায় ব্যস্ত ছিল; আমাকে কেউ স্মরণ করেনি। দুর্যোধনের আদেশে দুঃশাসন যখন দ্রৌপদীর চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে সভায় নিয়ে এলো, দ্রৌপদী তখনও আমাকে স্মরণ করেনি; তার নিজের সামান্য ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রতিবাদ করছিল মাত্র; একবারও আমাকে স্মরণ করেনি। দুঃশাসন যখন তার বস্ত্র হরণ করতে শুরু করল, তখন তার কিছুটা শুভবুদ্ধির উদয় হলো, নিজের শক্তির ওপর আস্থা হারিয়ে তখন চিৎকার করতে শুরু করল- হে হরি অভয়ম্, হে কৃষ্ণ অভয়ম্। তখন আমি তাকে সাহায্য করার সুযোগ পেলাম, আমাকে ডাকা মাত্রই আমি ছুটে গিয়েছি। এখন তুমিই বল, আমার দোষটা কোথায়?”

উদ্ধব বললেন, “অসাধারণ ব্যাখ্যা প্রভু, আমি সন্তুষ্ট। আমি কি আপনাকে আরেকটা প্রশ্ন করতে পারি?
” শ্রীকৃষ্ণ অনুমতি দিলে উদ্ধব জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভু, তাহলে আপনি কি শুধু ডাকলেই আপনার ভক্তের সাহায্যে আসেন, নিজে থেকে ধর্ম রক্ষার জন্য আসেন না?”
শ্রীকৃষ্ণ হেসে বললেন, “উদ্ধব, পৃথিবীতে সবার জীবন চালিত তাদের কর্মফলের ওপর। আমি এতে কোনো হস্তক্ষেপ করি না, আমি তোমার অত্যন্ত কাছ থেকে সবকিছুর সাক্ষী হই মাত্র। এটাই ঈশ্বরের ধর্ম।”

উদ্ধব বললেন, “ও, তাহলে আপনি আমাদের খুব কাছে থেকে আমাদের পাপকর্ম করতে দেখতে থাকবেন; আমারা যখন পাপের পর পাপ করতে থাকব, আপনি তখনো দেখতে থাকবেন। আপনি কি চান আমারা একের পর এক পাপ করতেই থাকি, ভুল করতে থাকি, আর তার ফলে শাস্তি পেতে থাকি?”

শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “উদ্ধব, তোমার প্রশ্নের গভীরতা অনুধাবন করো। তুমি যখন বুঝতে পারছ আমি তোমার খুব কাছে তোমার সব কর্মের সাক্ষী হই, কী করে তুমি খারাপ বা অনৈতিক কাজ করো? তুমি ভবো, আমার অজ্ঞাতেই তুমি অনেক কিছু করতে পারো, আর ঠিক তখনি তুমি বিপদে পড়। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের অজ্ঞতা ছিল এই যে, তিনি ভেবেছিলেন তিনি আমার অজ্ঞাতে পাশা খেলবেন। যদি তিনি সত্যি এটা অনুধাবন করতেন যে, আমি সবসময় সবার সঙ্গে তাদের কর্মের সাক্ষী থাকি, তাহলে কি পাশার ওই সভা ভিন্নভাবে শেষ হতো না?”

উদ্ধব বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন, ভক্তিতে আপ্লুত হলেন। তিনি বললেন, “কী সুগভীর দর্শন! কী ‍সুমহান সত্য! আমরা যখন এটা জানি যে, কোনোকিছুই ভগবান ছাড়া চলে না, তখন আমরা কীভাবে সাক্ষী হিসেবে তাঁর উপস্থিতি অনুধাবন করতে পারিনা?
এ চরম সত্য ভুলে গিয়ে আমরা কীভাবে কর্ম করি?
ভগবদ্গীতা জুড়ে এই শিক্ষাই তো ভগবান অর্জুনকে দিয়েছেন। তিনি অর্জুনের রথের সারথি তথা তার পথনির্দেশক হয়েছেন, নিজে যুদ্ধ করেননি।”

চলুন, আমরা সবাই আমদের ভেতরে বাইরে সর্বাবস্থায় সেই চিরন্তন সাক্ষীকে অনুধাবন করি তথা কৃষ্ণভাবনামৃতে নিমজ্জিত হই। আমাদের ভেতরে সেই মহান সত্ত্বার উপস্থিতি আবিষ্কার করি, যিনি প্রেমময় কৃপাময় পরমচৈতন্য।
হরে কৃষ্ণ।।
🌺🌺🌺

Address

JAGADISHPUR
Rajpur Sonarpur
700150

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mahaprabhu Shri Chaitanya posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share