অক্ষরম্ - Aksharam

অক্ষরম্ - Aksharam একটি সনাতন ধর্মীয় গ্রন্থ প্রকাশনা সংস্থা

আজ ১০মে, বিশ্ব মা দিবসের এই শুভক্ষণে অক্ষরম্'র পক্ষ হতে সকল মাতৃদেবীর চরণে জানাই সহস্র কোটি প্রণাম ৷নাস্তি মাতৃসমাচ্ছায়া...
10/05/2026

আজ ১০মে, বিশ্ব মা দিবসের এই শুভক্ষণে অক্ষরম্'র পক্ষ হতে সকল মাতৃদেবীর চরণে জানাই সহস্র কোটি প্রণাম ৷

নাস্তি মাতৃসমাচ্ছায়া নাস্তি মাতৃসমা গতিঃ।
নাস্তি মাতৃসম তাণং নাস্তি মাতৃসমা প্রিয়া।।
অর্থাৎ, মাতার তুল্য কোনো আশ্রয় নেই, মাতার তুল্য উপায় নেই। মাতার তুল্য রক্ষক নেই এবং মাতার সদৃশ প্রিয়ও আর কেউ নেই।
[]মহাভারত শান্তিপর্ব ১০৮/৩১[]

গর্ভধারিণী মা যেমন আমাদের সারাজীবন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখে এবং যত্নে ও আদরে মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য নিজের সমস্ত জীবন উৎসর্গ করে দেয়৷ আমরাও যেন আমাদের মায়েদের তদ্রুপ যত্ন নিতে পারি এবং তাদের সুখভোগের সামান্য প্রয়াসে সফল হই৷ এই বিশেষ শুভ দিনে ঈশ্বরের নিকট এই প্রার্থনা করি, ঈশ্বর পৃথিবী ও পৃথিবীস্থ সকল মায়েদের মঙ্গল করুক।

অক্ষরম্
বিদ্যয়া বিন্দতেঽমৃতম্

#মা #দিবস #মাদিবস #মা_দিবস #বিশ্ব_মা_দিবস #মহাভারত

#অক্ষরম্

“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর।আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরীবসুধারে রাখে নাই খণ্ড ...
09/05/2026

“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর।
আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি...”
— প্রার্থনা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সঞ্চয়িতা)

আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বিশ্বকবি তথা কবিগুরু ও দক্ষিণ এশিয়ার সর্বপ্রথম নোবেলবিজয়ী সাহিত্যিক শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে অক্ষরম্’র পক্ষ হতে তাঁর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি🙏

#২৫শে_বৈশাখ #৯মে #রবীন্দ্র_জয়ন্তী #রবীন্দ্রনাথ_ঠাকুর #কবিগুরু #অক্ষরম্

অক্ষরম্ - Aksharam
বিদ্যয়া বিন্দতেঽমৃতম্

15/04/2026

সকলকে জানাই অক্ষরম্‌’র পক্ষ হতে
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩বাংলার আন্তরিক শুভেচ্ছা🌼💖

🌼শুভ নববর্ষ🌼

অক্ষরম্‌
বিদ্যয়া বিন্দতেঽমৃতম্

বাংলা নববর্ষ vs. হিন্দু নববর্ষপ্রথমেই সকলকে জানাই চৈত্র সংক্রান্তির আন্তরিক শুভেচ্ছা। আজকের প্রসঙ্গ হলো বাংলা নববর্ষ বনা...
14/04/2026

বাংলা নববর্ষ vs. হিন্দু নববর্ষ

প্রথমেই সকলকে জানাই চৈত্র সংক্রান্তির আন্তরিক শুভেচ্ছা।

আজকের প্রসঙ্গ হলো বাংলা নববর্ষ বনাম হিন্দু নববর্ষ। হিন্দু নববর্ষ আসলে কী? হিন্দু নববর্ষ বলতে মূলত ‘বৈদিক নববর্ষ’কে বোঝানো হয়। যা প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে সেই বৈদিক যুগ হতেই পালিত হয়ে আসছে। কারণ, সনাতনী তথা বৈদিক পরম্পরা অনুসারে বছরের প্রথম মাস শুরু হয় চৈত্র মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথি হতে এবং শেষ হয় ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণা অমাবস্যা দিয়ে। যা এবছর ১৯মার্চ, ২০২৬ইংরেজি তারিখে পালিত হয়েছিলো। এটি মূলত চান্দ্র-সৌর বর্ষ।

৫৬খ্রিস্টপূর্বাব্দের চৈত্র মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে এই আর্যাবর্তের মহান চক্রবর্তী সম্রাট বিক্রমাদিত্যের রাজ্যাভিষেকও হয়েছিলো, তাই সম্রাট দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে সেদিন থেকেই ‘বিক্রম সংবৎ’ নামে একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রবর্তন করেন এবং তদনুসারে বর্তমানে ২০৮৩বিক্রম সংবৎ চলছে।

এখন আপনাদের মাথায় আসতে পারে যে, তাহলে পয়লা বৈশাখে কেনো আমরা নববর্ষ পালন করি এবং এটাকে বাংলা নববর্ষই বা কেনো বলি! এর জন্যে আপনাদের একটু গভীরে যেতে হবে।

বাংলা নববর্ষ তথা পয়লা বৈশাখের প্রবর্তন করেন বঙ্গাধিপতি মহারাজ শশাঙ্ক। ৫৯৩খ্রিস্টাব্দের ১৫এপ্রিল তারিখে এই গৌড়বঙ্গে রাজ্যাভিষেক হয়েছিলো বঙ্গাধিপতি মহারাজ শশাঙ্কের, আর বৈদিক বর্ষ হিসেবে সেদিন ছিলো ‘পয়লা বৈশাখ’। তাই রাজ্যাভিষেকের এই দিনকে স্মরণীয় করার জন্যে তিনি সেদিন থেকেই পয়লা বৈশাখকেই বছরের প্রথম দিন ধরে বাংলা অঞ্চলের জন্যে নতুন একটি বর্ষ তথা পঞ্জিকার প্রবর্তন করেছিলেন, যা ‘বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন’ নামে পরিচিত। আর সে হিসাবে আগত বছরটি হবে ১৪৩২বঙ্গাব্দ।

আবার বিজ্ঞানসম্মতভাবেও সূর্য যেইদিন Eliptic এ ৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট অক্ষাংশে বিশাখা বা Librae নামক নক্ষত্রের সাথে এক সরলরেখায় অবস্থান নেবে তখন থেকে পহেলা বৈশাখ শুরু হবে আর এই অবস্থানের সূচনা হবে আগামীকাল সূর্যোদয়ের সময় অর্থাৎ বৈজ্ঞানিকভাবেই বৈশাখ মাসের শুরু তথা পয়লা বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখ হল আগামীকাল (১৫ এপ্রিল), আজ (১৪ এপ্রিল) নয়। তাহলে বাংলাদেশে কেন তা আজকে (১৪ এপ্রিল) পালন করা হচ্ছে?

এখন আসি যারা বেশ কয়েকবছর ধরে এই পয়লা বৈশাখকে হিন্দুদের উৎসব, হিন্দুয়ানী বা হিন্দুদের নববর্ষ বলে প্রচার করছে তাদের নিয়ে। তারা তাদের এই প্রচারের ভিত্তি হিসেবে চৈত্র সংক্রান্তিতে সনাতনী হিন্দুদের দ্বারা পালিত বিভিন্ন পূজা (যেমনঃ চড়কপূজা, নীলপূজা, শিবের গাঁজন ও ক্ষেত্রপালের পূজা প্রভৃতি) ও হিন্দু ব্যবসায়ীদের হালখাতাকে তুলে ধরে। তো তাদের উদ্দেশ্যে বলে রাখি যে, বাংলা সনের এই বারোটা মাস কিন্তু শুধু বাংলার জন্যে নয় বরং সমগ্র বিশ্বের জন্যেই বৈদিক ঋষিরা প্রবর্তন করেছিলো; আর এই বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছিলো মহাকাশের ২৭টি নক্ষত্রের নামের সাথে মিলিয়ে, যেমনঃ বিশাখা থেকে বৈশাখ, জ্যেষ্ঠা থেকে জৈষ্ঠ্য, পূর্ব ও উত্তরাষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবণা থেকে শ্রাবণ, উত্তর ও পূর্বভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র, অশ্বিনী থেকে আশ্বিন, কৃত্তিকা থেকে কার্তিক, মৃগশিরা থেকে অগ্রহায়ণ, পুষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, পূর্ব ও উত্তরফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন ও চিত্রা থেকে চৈত্র প্রভৃতি। আবার এই নক্ষত্রগুলোর নাম এসেছে পবিত্র অথর্ববেদের নক্ষত্রসূক্ত হতে আর নক্ষত্রগুলোতে চন্দ্রের অবস্থানের ভিত্তিতেই তিথি নির্ধারিত হয়, যা সনাতনীদের বিভিন্ন পূজা-পার্বণ তথা সনাতনী বা বৈদিক পরম্পরার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর সংক্রান্তিতে বিভিন্ন পুজো তথা যাগ-যজ্ঞের প্রচলন সনাতনীদের মধ্যে সেই বৈদিককাল থেকেই প্রচলিত। তাই আপনারা দেখবেন যে, আজকের দিনে এই ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে [যেমনঃ বাংলা অঞ্চলে চড়কপূজা, নীলপূজা, শিবের গাঁজন ও ক্ষেত্রপালের পূজা প্রভৃতি; দক্ষিণ ভারতে পুতাণ্ডি, পোঙ্গল ও বিশু এবং আসামে বিহু আর পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের (আদিবাসীরা বেশিরভাগই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ) বৈসুখ, বিজু ও সাংগ্রাই একত্রে বৈসাবি প্রভৃতি] উৎসবের আয়োজন করা হয়।

আর রইলো বাকি পয়লা বৈশাখের হিন্দু উৎসব হওয়ার প্রসঙ্গ। তাহলে বলতে হয় যে, পয়লা বৈশাখ নিয়ে বাংলা নববর্ষ তথা বঙ্গাব্দ শুধুমাত্র তার নিজের রাজ্য তথা বাংলা অঞ্চলের মানুষের জন্যেই বঙ্গাধিপতি মহারাজ শশাঙ্ক প্রবর্তন করেছিলেন; যিনি ছিলেন এই গৌড়বঙ্গের প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা, যার রাজ্যের বিস্তার ছিলো বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা-ভুবনেশ্বরসহ সুবিশাল অঞ্চলে এবং রাজধানী ছিলো কর্ণসুবর্ণ; যা বর্তমান বাংলাদেশেরই একটি অংশ। মহাসামন্তরাজ শশাঙ্কই প্রথম পয়লা বৈশাখ নিয়ে বাংলা নববর্ষের বর্ষপঞ্জিকা তৈরী করেছিলেন ও এই বাংলার সকল মানুষের জন্যে তা প্রবর্তন করেছিলেন আর তখন থেকেই ১৫এপ্রিলে (অধিবর্ষে ১৪এপ্রিল) পয়লা বৈশাখ পালিত হয়। আর যখন থেকে এই বঙ্গাব্দের শুরু হয়েছে তখন কোনো মোঘল বাদশাহর ছায়াও এই উপমহাদেশে পড়েনি, তাই দয়া করে কেউ আর বাংলা সনের প্রবর্তক হিসেবে আকবরের নাম নিতে যাবেন না এবং এ প্রসঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আর্টিকেলও বহুপূর্বেই পেজে আপলোড করা রয়েছে।

আরে! তাহলে বাংলা সনের প্রবর্তক হিসেবে আকবরের নাম কোত্থেকে এলো? চলুন তবে এটারও মীমাংসা করে নিই।

এই ভারতীয় উপমহাদেশে মোঘল শাসন শুরু হলে মোঘলরা তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোন বিবেচনায় হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসারে দেশ চালাতে শুরু করে। কিন্তু তারা এতে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হলেন। কেননা হিজরী ক্যালেন্ডারের সাথে ঋতু, ফসল ফলন কিছুই মেলেনা যার কারনে কর সংগ্রহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে। এমতাবস্থায় মোঘল সম্রাট আকবর পুনরায় ভারতীয় বৈদিক বর্ষপঞ্জিকা চালু করেন যাকে ফসল উৎপাদনের সময় নির্দেশ করতে পারার গুনের কারনে ‘ফসলি সন’ বলা হত; সম্রাট আকবরের এই কাজের মাধ্যমে ভারতীয় তথা বৈদিক বর্ষপঞ্জির গুরুত্বও বোঝা যায়। আর যেহেতু ভারতীয় বৈদিক বর্ষপঞ্জির সাথে বাংলা বর্ষপঞ্জিরও মিল রয়েছে তাই হয়তো অনেকেই বাংলা সনের প্রবর্তক হিসেবে আকবরের নাম নিয়ে থাকে। তবে বলে রাখা ভালো যে, আকবর কখনোই সমগ্র বাংলা অঞ্চলে একত্রে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি। বাংলা অঞ্চলে সে সময়ে বেশিরভাগ অঞ্চল স্বাধীনভাবেই মহারাজা প্রতাপাদিত্য, বারো ভুঁইয়া ও আফগানিরা শাসন করছিলো।

তারপর ১৯৭১এ পাকিস্তান ভাগের পর এই ক্যালেন্ডারটিতে ভারতবিরোধী স্রোতের কারনে কিছু পরিবর্তন আনার চিন্তা করা হয়।

১৯৬৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ'র নেতৃত্বে গঠিত কমিটি একে সম্পূর্ণ ইংরেজী ক্যালেন্ডারের অনুকরণে সাজানোর প্রস্তাব দেন এবং ফলস্বরূপ এর স্বকীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাদের প্রস্তাবনাগুলো ছিল এরূপ-

১. বৈশাখ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাস ৩১ দিনে হবে।

২.চৈত্র থেকে আশ্বিন পরবর্তী সাতমাস ৩০ দিনে হবে।

৩.প্রতি অধিবর্ষে (Leap year) ফাল্গুন মাসের সাথে এক দিন যুক্ত হবে।

পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে রাষ্ট্রপতি এরশাদ পয়লা বৈশাখ যাতে 'হিন্দু ক্যালেন্ডার' এর সাথে না মেলে সেজন্য পয়লা বৈশাখকে রাষ্ট্রীয়ভাবেই একদিন আগে ১৪ই এপ্রিল নির্দিষ্ট করে দেন। সেজন্যই বাংলাদেশের হিন্দুদের দুবার এই পয়লা বৈশাখ পালন করতে হয়। একবার বাংলাদেশী হিসেবে ১৪ তারিখ যা প্রকৃতপক্ষে অন্যায়ভাবেই প্রযোজ্য করা হয়েছে আর একবার ১৫ই এপ্রিল যা ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিকভাবেই ধ্রুব সত্য। অবশ্য কয়টা জাতিই বা নববর্ষ দুদিন পালনের এই দূর্লভ সুযোগ পায়!

তাই পরিশেষে বলতে চাই যে, বাংলা নববর্ষ বা বঙ্গাব্দ বা পয়লা বৈশাখ হলো বাংলার মানুষ তথা পুরো উপমহাদেশের উৎসব; শুধুমাত্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নয়। তবে কোনো সম্প্রদায় এই দিনকে বিশেষভাবে পালন করতেই পারে, এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছে।

সর্বোপরি, সকলকে জানাই চৈত্র সংক্রান্তির শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন🏵️🌼

অক্ষরম্ - अक्षरम्
বিদ্যয়া বিন্দতেঽমৃতম্

সনাতনীদের প্রাণপুরুষ মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আবির্ভাব তিথি আজ। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে, যে...
27/03/2026

সনাতনীদের প্রাণপুরুষ মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আবির্ভাব তিথি আজ। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে, যেদিন পূনর্বসু নক্ষত্রের সাথে চাঁদ একই সমান্তরালে অবস্থান করছিলো, সেদিন এই রাজা দশরথের ঘর আলো করে ধরায় আবির্ভাব ঘটে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের। এই পুণ্যতিথি উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী আয়োজন নিয়ে আপনাদের সাথে থাকছে অক্ষরম্ - अक्षरम्।

যাহাতে ধর্ম অবিচলিতভাবে অবস্থিত, যিনি কদাপি ধর্মবিরুদ্ধ আচরণ করেন না, যিনি বেদবিদগণের মধ্যে প্রধান,যিনি ব্রহ্মাস্ত্র ও অখিল বেদ সম্বন্ধে অবগত আছেন ইনিই সেই রাম।
[ বাল্মীকি রামায়ণ, যুদ্ধকাণ্ড ২৮/১৯]

মর্যাদা পুরুষোত্তম আর্যশ্রেষ্ঠ শ্রীরামকে জানতে এবং সকলকে জানাতে আমাদের আয়োজন থাকছে রামায়ণ ঘিরে। প্রভু শ্রী রামের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিবর্গ, কিছু অপপ্রচার এবং প্রশ্নোত্তর নিয়ে সাজানো এই আয়োজন আপনাদের জ্ঞানতৃষ্ণাকে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হলেই সার্থক।

সকলকে শ্রীরাম জন্মজয়ন্তী গৈরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।🌺
জয় শ্রীরাম।
জয় মর্যাদা পুরুষোত্তম আর্যশ্রেষ্ঠ শ্রীরাম।

#অক্ষরম্

অক্ষরম্ - अक्षरम्
বিদ্যয়া বিন্দতেঽমৃতম্

মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা🌼
26/03/2026

মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা🌼

🌹🍂🌹প্রতিটি নারীই হল মাতৃস্বরূপা। তাই আজ বিশ্বের প্রতিটি নারীকে জানাই  অক্ষরম্ - अक्षरम् ’র পক্ষ হতে  #আন্তর্জাতিক_নারী_দ...
08/03/2026

🌹🍂🌹প্রতিটি নারীই হল মাতৃস্বরূপা। তাই আজ বিশ্বের প্রতিটি নারীকে জানাই অক্ষরম্ - अक्षरम् ’র পক্ষ হতে #আন্তর্জাতিক_নারী_দিবস’র বৈদিক শুভেচ্ছা ও গৈরিক অভিনন্দন 🌹🍂🌹

❏ #সনাতনধর্মে_নারীর_অবস্থান
Place of a woman in the religion of Sanatan

🍂সনাতনধর্ম হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র ধর্ম যার প্রধান ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বেদের মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ঋষি।
যেমন-
১) ঘোষা (ঋগবেদ দশম মন্ডলের ৩৯-৪১ নং সুক্তের দ্রষ্টা,ঋষি কক্ষিবান এর কন্যা)
২) লোপামুদ্রা
৩) মৈত্রেয়ী
৪) গার্গী
৫) পৌলমি
৬) রোমশা
৬) অপালা
৭) বাক (ঋগ্বেদের বিখ্যাত দেবীসূক্তের দ্রষ্টা )
৮) অপত
৯) কত্রু
১০) বিশ্ববর
১১) জুহু
১২) ভগম্ভ্রীনি (মহর্ষি অম্ভ্রন এর কন্যা, ঋগবেদের অষ্টম মন্ডলের ১২৫ নং সুক্তের দ্রষ্টা)
১৩) যরিতা
১৪) শ্রদ্ধা
১৫) উর্বশী
১৬) স্বর্ণগা
১৭) ইন্দ্রানী
১৮) সাবিত্রী
১৯) দেবায়নী
২০) নোধা
২১) আকৃষ্ভাষা
২২) শীকাতনবাবরি
২৩) গণ্পায়নী
২৪) মন্ধত্রী
২৫) গোধ
২৬) কক্ষিবতী
২৭) দক্ষিণা
২৮) অদিতি
২৯) রাত্রি (মহর্ষি ভরদ্বাজের কন্যা)
৩০) শ্রীলক্ষ্য

পৃথিবীর অার কোন ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থে নারীদের এমন ভূমিকা দেখা যায় না। একমাত্র পবিত্র বেদেই পাওয়া যায় নারীদের এমন অসাধারণ অবদান। অার পৃথিবীর অন্যান্য সব ধর্মগ্রন্থে শুধুমাত্র পুরুষদের ভূমিকাই পাওয়া যায় ।

🍂সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বেদ।
এবারে দেখুন পবিত্র বেদের নারী স্তুতি;
যেগুলোতে পুত্রের পাশাপাশি কন্যাকেও প্রার্থনা করা হয়েছে-

০১. “আমার পুত্র শত্রুর নাশকারী এবং নিশ্চিতরূপে আমার কন্যা বিশিষ্টরূপে তেজস্বিনী।”
(ঋগবেদ ১০/১৫৯/৩)

০২. “যেমন যশ এই কন্যার মধ্যে এবং যেমন যশ সম্যকভৃত রথের মধ্যে, ঐরূপ যশ আমার প্রাপ্ত হোক।”
(ঋগবেদ ৯/৬৭/১০)

০৩. “একসঙ্গে মিলিয়া যজ্ঞ করিলে পতি পত্নী, পুত্র এবং কন্যা কুমারী লাভ করেন। তাহারা পূর্ণ আয়ু ভোগ করেন। এবং উভয়ে নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের স্বর্ণভূষণে দীপ্যমান হন।”
(ঋগবেদ ৮/৩১/৮)

অথর্ববেদের ১ম কান্ডের ১৪তম সুক্তে একজন পিতার কন্যা দানের উল্লেখ পাওয়া যায়-

০৪. “হে নিয়মকারী বর রাজন, এই কামনাযোগ্য কন্যা তোমার বধু। সে তোমার মাতা পিতা এবং ভ্রাতার সাথে ঘরে নিয়মপূর্বক অবস্থান করবে।”
(অথর্ববেদ ১/১৪/২)

০৫. “হে বর রাজন, এই কন্যা তোমার কুলের রক্ষাকারী, তাহাকে তোমার জন্য আমি আদরের সহিত দান করিতেছি। সে বহু কাল পর্যন্ত তোমার মাতা পিতা আদির মধ্যে নিবাস করবে।”
(অথর্ববেদ ১/১৪/৩)

বিবাহিতা নারীকে ‘কল্যাণময়ী, মঙ্গলময়ী’ আখ্যায়িত করে বেশ কিছু স্তুতির উল্লেখ পাওয়া যায় বেদে-

০৬. “হে বধূ, শ্বশুরের প্রতি, পতির প্রতি, গৃহের প্রতি এবং এই সব প্রজাদের প্রতি সুখদায়িনী হও, ইহাদের পুষ্টির জন্য মঙ্গল দায়িনী হও।”
( অথর্ববেদ ১৪/২/২৬)

০৭. “হে বধূ কল্যাণময়ী, গৃহের শোভাবর্দ্ধনকারী, পতিসেবা পরায়ণা, শ্বশুরের শক্তিদায়িনী, শাশুড়ির আনন্দ দায়িনী ও গৃহকার্যে নিপুণা হও।”
(অথর্ববেদ ১৪/২/২৭)

০৮. “হে বধূ, যেমন বলবান সমুদ্র নদী সমূহের উপর সাম্রাজ্য স্থাপন করিয়াছে, তুমিও তেমন পতিগৃহে গিয়া সম্রাজ্ঞী হইয়া থাকো।”
(অথর্ববেদ ১৪/১/৪০)

০৯. “শ্বশুরদের মধ্যে এবং দেবরদের মধ্যে, ননদ ও শাশুড়ির সঙ্গে মিলিয়া সম্রাজ্ঞী হইয়া থাকো।”
(অথর্ববেদ ১৪/১/৪৪).

১০. “এই বধূ মঙ্গলময়ী, সকলে মিলিয়া ইহাকে দেখো, ইহাকে সৌভাগ্য দান করিয়া দুর্ভাগ্য বিদূরিত করো।”
(অথর্ববেদ ১৪/২/২৮)

১১. ”নারী হল জ্ঞানের ধারক।”
(অর্থববেদ ৭/৪৭/১)

১২. “নারী হলো শিশুর প্রথম জ্ঞানদাতা।”
(অথর্ববেদ ৭/৪৭/২)

১৩. “পিতার সম্পত্তিতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। ”
(ঋগ্বেদ ৩/৩১/১)

১৪. ”একজন নারীর কখনো যেন কোন
সতীন না থাকে।”
(অর্থববেদ ৩/১৮/২)

১৫. “স্বামীর উচিত শুধু একমাত্র স্ত্রীর প্রতি অনুরক্ত থাকা। দ্বিতীয় কোন নারীর প্রতি অনুরাগ থাকা উচিত নয়। ”
(অথর্ববেদ ৭/৩৮/৪)

১৬. “নারী শিক্ষাগ্রহণ শেষে পতিগৃহে যাবে। ” (অথর্ববেদ ১১/৫/১৮)

১৭. ”গর্ভের সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে
হোক সে যেন ভালোথাকে।”
(অর্থববেদ ২/৩/২৩)

১৮. ”নারী হল মঙ্গলময়ী লক্ষী।”
(অর্থববেদ ৭/১/৬৪)

১৯. “হে নারী, মৃত পতির শোকে অচল হয়ে লাভ কি? বাস্তব জীবনে ফিরে এসো। পুনরায় পতি গ্রহণ করো।” (অথর্ববেদ ১৮/৩/২ এবং ঋগ্বেদ ১০/১৮/৮)
সহমরণে স্ত্রী স্বর্গে যাবে এরকম বিশ্বাসে সতিদাহ প্রথা একটি কুসংস্কার হিসেবে প্রচলন লাভ করেছিল তৎকালীন সনাতন সমাজে। যাই হোক, এই কুসংস্কার সনাতন সমাজ থেকে দূর করা হয়েছে। সনাতন ধর্ম স্বয়ং বিধবা বিবাহের নির্দেশ দিয়েছে।

২০. “হে স্ত্রী! শ্বশুরের নিকট সম্রাজ্ঞী হও, শাশুড়ির নিকট সম্রাজ্ঞী হও, ননদের নিকট সম্রাজ্ঞী হও এবং দেবরদের নিকট সম্রাজ্ঞীর অধিকার প্রাপ্ত হও।”
( অথর্ববেদ ১০/৮৫/৪৬)

২১. “হে স্ত্রী! অমৃতরসে পরিপূর্ণ এই কুম্ভকে আরো পূর্ণ করিয়া আনো, অমৃতপূর্ণ ঘৃতধারাকে আনো, পিপাসুকে অমৃতরসে তৃপ্ত করো। ইষ্ট কামনার পূর্তি গৃহকে রক্ষা করিবে।”
(অথর্ববেদ ০৩/১২/০৮)

২২. “হে ঈশ্বর, আমাদের রাজ্যে যেন বিদ্বান ব্রাহ্মণ, নির্ভয় ক্ষত্রিয়, দুগ্ধপূর্ণ গাভী, ভারবাহী ষাড়, ঔষধি, সুন্দর ব্যবহারকারী স্ত্রী এবং শত্রু বিজয়কারী পুরুষ উৎপন্ন হয়।”
(যজুর্বেদ ২২/২২)
মন্ত্রটিতে স্পষ্টভাবে পুরুষের সাথে সাথে নারীকেও উৎপন্ন হবার জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে।

২৩. “হে পুরুষ ও নারী, তোমাদের পোশাক ও দৃষ্টি সবসময় হোক ভদ্র ও অবনত। তোমাদের চলন হোক সংযত, দেহ হোক পোশাকে আবৃত, নগ্নতা হোক পরিত্যাগ। ”
(ঋগ্বেদ ৮/৩৩/১৯)
এই মন্ত্রে নারী-পুরুষ উভয়কেই শালীন পোশাক পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধুমাত্র নারীকে নয়।

২৪. “মানবের মধ্যে কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়। জন্ম থেকেই তারা শ্রেষ্ঠ।”
( ঋগ্বেদ ৫/৫৯/৬)
উপরের মন্ত্র হতে স্পষ্টতঃ প্রতীয়মান হয় যে, সনাতন ধর্মে নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান মর্যাদার কথা বলা হচ্ছে।

২৫. ”যেসকল নারী দেহ রূপ দেখিয়ে
অপরের সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই,তারা
হায়েনার মত; তাদের পরিত্যাগ কর।”
(ঋগবেদ ১০/৯৫/১৫)

২৬. ”নারীর যেন কখনো কোনো দুঃখ কষ্ট না হয়।”
(অর্থববেদ ১২/২/৩১)

২৭. ”নারীকে উপহার হিসাবে জ্ঞান উপহার দাও।”
(অর্থববেদ ১৪/১/৬)

২৮. “ন জাময়ে তান্বো রিক্থমারৈক্চকার গর্ভং সিতুর্নিধানম্।
যদী মাতরো জনযন্ত বহ্নিমত্যঃ কর্তা সূকৃতোরন্য ঋন্ধন্।।”
(ঋগ্বেদ ০৩/৩১/০২)
অনুবাদ- “পুত্র কন্যাকে (ভাই তার বোনকে) পিতৃসম্পত্তি থেকে আলাদা করে দেয়না, তা সমানই থাকে বরং সে তার বোনকে শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলে এবং স্বামীর হাতে তুলে দেয়। পিতামাতা ছেলেমেয়ের জন্ম দেন, প্রথমজনকে পারিবারিক দায়িত্ব অর্পণের জন্য আর দ্বিতীয়জন আসে তাদের জন্য পবিত্রতা ও গুণের প্রতীক হিসেবে।”

ব্যাখ্যা- এই মন্ত্রে ছেলে ও মেয়ে সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। একটি পিতামাতার যদি শুধু মেয়ে সন্তান থাকে তবে পিতৃসম্পত্তির সম্পূর্ণ ভাগটাই সে পাবে, আর যদি তার ভাই থাকে তাহলে দুজনের মধ্যে তা সমানভাবে ভাগ হবে, কোনভাবেই তা এককভাবে শুধু পুত্রসন্তান পাবেনা। আর পিতা-ভ্রাতাদের কর্তব্য হল কন্যাকে বিয়ের আগেই শিক্ষা-কৃষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলা।একজন পুত্রের কাজ সংসারের দায়িত্বভার নেয়া আর একজন কন্যাসন্তানকে পিতামাতার জন্য পবিত্রতা ও গুণের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

‘মহাবীর তন্ত্র’ এর দশম অধ্যায়ে বলা হয়েছে-
“নারীরা সকল ধরনের শ্রাদ্ধ করতে পারবে কেবলমাত্র বৃদ্ধি শ্রাদ্ধ ব্যতীত।”
বৃদ্ধি শ্রাদ্ধ নারীরা করতে পারবেন না। কেননা, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বামী অনাগত সন্তানের মঙ্গল কামনায় এবং বিবাহাদি যেকোনো মাঙ্গলিক কার্য্যের শুরুতে পিতৃপুরুষদের আশির্ব্বাদ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে যে শ্রাদ্ধ করেন তাই হল বৃদ্ধি শ্রাদ্ধ। সুতরাং, নারীর এই শ্রাদ্ধ করতে পারার কোন কারণ নেই।

বিখ্যাত তামিল ঐতিহাসিক গ্রন্থ “পুরুনানুরু”তে আমরা দেখতে পাই লেখক ভেল্লেরুক্কিলাইয়ার বর্ণনা দিচ্ছেন রাজা ভেলেব্বির মৃত্যুতে রানীর পিণ্ডদানের কথা।
শাস্ত্রমতে একজন ব্যক্তির যেসকল আত্মীয়রা শ্রাদ্ধ করতে পারেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ছেলে, মেয়ে, ছেলের ছেলে, মেয়ের ছেলে, স্ত্রী, বাবা, মা, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, গুরু, শিষ্য।
অর্থাৎ, যেহেতু ওই ব্যক্তির মেয়ের পিণ্ডদানের অধিকার আছে তাই দায়ভাগ শাখায় মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তি লাভের সুযোগ রয়েছে।

🍂এবার দেখে নেওয়া যাক অন্যান্য গ্রন্থগুলোতে কি লেখা আছে.....

০১. “যদি কেউ মা, স্ত্রী বা কন্যার নামে মিথ্যে দোষারোপ করে তাকে শাস্তি দিতে হবে। ” (মনুসংহিতা ৮/২৭৫)

০২. “কন্যা পুত্রের সমান। তার উপস্থিতিতে কেউ তার অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবে না।” (মনুসংহিতা ৯/১৩০)

০৩. “মাতৃরূপে, কন্যারূপে, স্ত্রীরূপে, ভগ্নীরূপে কিংবা ধর্মকর্মে অংশীদাররূপে নারীই সকল কল্যাণের মূল উৎস।”
( মনুসংহিতা ৯/২৮)

০৪. নারীকে নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে দাও।”
(মনুসংহিতা ২/১৩৮)

০৫. “ স্ত্রীলোকেরা নতুন প্রজন্ম বা উত্তরসূরির জন্ম দেয় ও পালন করে। তারা সৌভাগ্য ও আশীর্বাদ বয়ে আনে। তারাই গৃহের শ্রী।”
( মনুসংহিতা ৯/২৬)

০৬. সনাতন ধর্ম নারীর ক্ষমতায়নেও নারী নেতৃত্বে বিশ্বাসী। মহাভারতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের দেখা যায়। নারীদের রথ/যানবাহন চালানোর অধিকারও আছে।

০৭. “ যারা নারী, শিশু ও গুণবান পন্ডিতদের হত্যা করে তাদের কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে। ” (মনুসংহিতা ৯/২৩২)

০৮. “নারী অপহরণকারীদের মৃত্যুদন্ড হবে।”
(মনুসংহিতা ৮/৩২৩)

০৯. “ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া যে মা, বাবা, স্ত্রী বা সন্তান ত্যাগ করে তাকে কঠিন দন্ড দিতে হবে। ” (মনুসংহিতা ৮/৩৮৯)

১০. সনাতন ধর্ম নারীর সম্ভ্রম রক্ষার শিক্ষা দেয়। দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার সম্ভ্রম রক্ষা করেছিলেন।

১১. “নববিবাহিতা বধূ, কন্যা এবং গর্ভবতী মহিলাদের অতিথি ভোজনের পূর্বেই ভোজন প্রদান করতে হবে।”
( মনুসংহিতা ৩/১১৪)

১২. “যারা নারীদের ধর্ষণ করে বা উত্ত্যক্ত করে বা তাদের ব্যাভিচারে প্ররোচিত করে তাদের এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে তা অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে এবং কেউ তা করতে আর সাহস না পায়।”
(মনুসংহিতা ৮/৩৫২)

১৩. সনাতন ধর্মে নারীকে বলা হয় সহধর্মিণী। স্বামী স্ত্রী একসাথে মন্দিরে যাবেন, ধর্মকর্ম করবেন।

১৪. “পতি ও পত্নী মৃত্যুপর্যন্ত একসাথে থাকবেন। তারা অন্যকোন জীবনসঙ্গী গ্রহণ করবেন না বা ব্যাভিচার করবেন না। এই হলো নারী-পুরুষের ধর্ম।”
(মনুসংহিতা ৯/১০১)

১৫. “সনাতন ধর্ম ডিভোর্সের মতো নিষ্ঠুর পন্থা সমর্থন করে না। এজন্য সনাতন বিবাহ আইনে ডিভোর্স নেই। স্বামী স্ত্রীর মতের অমিল হলে উনারা আলাদা থাকবেন এবং আজীবন স্বামীকে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে হবে।”

১৬. “নারীর স্বামী যদি মারা যায়, যদি গোপনে সন্ন্যাস গ্রহণ করে, যদি নিখোঁজ হয়, যদি সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয়, যদি অধার্মিক ও অত্যাচারী হয় তবে স্ত্রী এই স্বামী ছেড়ে পুনরায় বিবাহ করতে পারে।”
(পরাশরসংহিতা ৪.৩০)

ওঁ শান্তিঃ।। শান্তিঃ।। শান্তিঃ।।

[উৎস : পবিত্র বেদ ও অন্যান্য শাস্ত্রগ্রন্থের অমৃতবার্তা ]

অর্থাৎ, ‘সনাতন হিন্দু’ ধর্ম ‘নারী’ কে দিয়েছে
‘সর্বোচ্চ’ সম্মান ও ‘সমান অধিকার’, তবে হ্যাঁ
‘সামাজিক বাস্তবতা’ কেও একেবারে বিস্মৃত
হলে চলবে না। যারা ‘নারী’ কে উপযুক্ত
সম্মান দিতে জানে না, যে সমাজে নারী
অবহেলিত, যে দেশে নারী নির্যাতিত,
যেখানে নারীদের যোগ্য স্বীকৃতি
দেওয়া হয়না, যেখানে নারী দের প্রাপ্য
অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় সেই ব্যক্তি, সমাজ, দেশ,স্থান, সময় কখনই সমৃদ্ধ হতে পারে না।তবে, ‘সমাজ গঠন, শিক্ষা-দেশ-জাতি-পরিবার’ ইত্যাদি উন্নতিকরণে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে ও আমাদের তাদের উৎসাহ ও সুযোগ দিতে হবে। তবে, ‘মার্জিত ও সভ্য’ ভাবে তাদের চলাফেরা গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র ‘বেদ’ পড়ুন ও পড়ান, পবিত্র ‘বেদ’
হলো ‘ঈশ্বর’ এর ‘বাণী।।

#নারী #নারী_দিবস #আন্তর্জাতিক_নারী_দিবস #বেদ #বৈদিক_নারী #অক্ষরম্

অক্ষরম্ - अक्षरम्
বিদ্যয়া বিন্দতেঽমৃতম্

ইলা সরস্বতী মহী তিস্রো দেবীর্ময়োভুবঃ।বর্হিঃ সীদন্ত্বস্রিধঃ।।অনুবাদ - মাতৃভাষা, মাতৃসভ্যতা ও মাতৃভূমি এই তিন দেবী কল্যাণ ...
21/02/2026

ইলা সরস্বতী মহী তিস্রো দেবীর্ময়োভুবঃ।
বর্হিঃ সীদন্ত্বস্রিধঃ।।

অনুবাদ - মাতৃভাষা, মাতৃসভ্যতা ও মাতৃভূমি এই তিন দেবী কল্যাণ দান করেন। এই তিন দেবতা আমাদের অন্তঃকরণে স্থায়ীভাবে অবস্থান করুন।
— ঋগ্বেদ ১/১৩/৯

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভক্ষণে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রকৃত বীর যোদ্ধাদের অক্ষরম্ - Aksharam এর পক্ষ হতে জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি🙏💕

অক্ষরম্ - Aksharam
বিদ্যয়া বিন্দতেঽমৃতম্

#ভাষা #মাতৃভাষা #শহীদ #২১শে #মাতৃভাষা_দিবস
#আন্তর্জাতিক #মাতৃভাষা #দিবস


#অক্ষরম্

১৭০০ বছরের প্রাচীন বর্ধমানের কুষাণ রাজ কণিষ্কের শিবলিঙ্গ।।একদা চীন দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ইউ-চি নামক এক বর্বর জাতি বসবাস করত...
15/02/2026

১৭০০ বছরের প্রাচীন বর্ধমানের কুষাণ রাজ কণিষ্কের শিবলিঙ্গ।।

একদা চীন দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ইউ-চি নামক এক বর্বর জাতি বসবাস করত। এরা বিভিন্ন উপজাতিদের আক্রমণ ও হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকতো। এরপর এই ইউ-চি'রা পাঁচটি শাখায় বিভক্ত হয়ে নতুন কোনো বসতির খোঁজে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এই পাঁচটি শাখার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল কুষাণ জাতি। এরা ভারতের একাংশ ও মধ্য এশিয়ার কিছু অংশে তাদের সাম্রাজ্য নির্মাণ করেন।

কুষাণ বংশের বিভিন্ন বিবর্তনের পর সুবর্ণ যুগ নিয়ে এসেছিলেন কণিষ্ক। তিনি ছিলেন মহাজান বৌদ্ধ। তার আমলেই ভারতের ধর্মীয় শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করে। সারণাথ, অমরাবতী, মথুরা ইত্যাদি অঞ্চলে নিখাত ভারতীয় শিল্পের একের পর এক নিদর্শন তৈরি হয়। সাঁচির তোরণ, কণিষ্কের চৈত্য এবং গান্ধার শিল্প প্রভৃতি এইসময় ব্যাপক প্রসার লাভ করে।

মহারাজ কণিষ্ক'র রাজধানী ছিল পুরুষপুর। গাঙ্গেয় সমতলভূমির প্রায় বেশিরভাগ অঞ্চলই তার অধীনে ছিল। সম্রাট কণিষ্ক বৌদ্ধ হলেও তিনি ছিলেন ভগবান শিবের পরম উপাসক। ইতিহাস থেকে জানা যায়, আজ থেকে আনুমানিক ১৭০০ বছর পূর্বে প্রায় ১৩ টনের একটি বিশাল কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মহারাজ কনিষ্ক প্রতিদিন পূজা করতেন।
ইতিহাসের কালচক্রে কুষাণ বংশের ধ্বংস হয় এবং দামোদরের এক সর্বগ্রাসী বন্যায় এই শিবলিঙ্গ জলের তোরে ভেসে যায়। এরপর কেটে যায় বহু বছর। ১৯৭২ সালে বর্ধমানের আলমগঞ্জ এলাকায় সরকারি মাটি কাটার কাজ চলছিল। হঠাৎই শ্রমিকের গাইতির আঘাত লাগে এই বিশাল শিব লিঙ্গের উপর। সরকারি তত্ত্বাবধানে শ্রাবণ মাসেই এই শিবলিঙ্গটি মাটি থেকে উত্তলন করা হয়। এরপর গ্রামবাসীদের অনুরোধেই বর্ধমানের আলমগঞ্জে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয় এই শিবলিঙ্গকে। পুরাতত্ত্ব বিভাগ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, এই শিবলিঙ্গটি ১৭০০ বছরের প্রাচীন কণিষ্কের শিবলিঙ্গ।

বর্ধমানে এই শিব ‘বুড়ো শিব’ নামে খ্যাত। শিবরাত্রিতে এখানে বিরাট মেলা বসে এবং বহু দূর-দুরান্তের মানুষ পূজা দেন এই মন্দিরে ।প্রাচীনত্বের দিক থেকে ভারতবর্ষের প্রাচীন শিবলিঙ্গগুলির মধ্যে অন্যতম বর্ধমানের এই শিবমন্দির।।

#কণিষ্কের_শিবলিঙ্গ #কণিষ্ক #শিব #বর্ধমান #ভারত #প্রাচীন_ভারত #ইতিহাস #অক্ষরম্

লেখসত্ত্ব —
৺নন্দীতা মুখার্জী
অক্ষরম্
বিদ্যয়া বিন্দতেঽমৃতম্

অক্ষরম্‌ এর পক্ষ হতে সকলকে জানাই মহালয়ার গৈরিক শুভেচ্ছা।🪷শুভ মহালয়া🪷   #মহালয়া      #অক্ষরম্
21/09/2025

অক্ষরম্‌ এর পক্ষ হতে সকলকে জানাই মহালয়ার গৈরিক শুভেচ্ছা।

🪷শুভ মহালয়া🪷

#মহালয়া #অক্ষরম্

Address

Patna

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অক্ষরম্ - Aksharam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share