08/04/2026
৫১ তম মহা শক্তিপীঠ।
জয় মা বিদ্যেশ্বরী (দেবী অম্বিকা)🌺🌺🌺
জয় ভৈরব অমৃতাক্ষ 🙏🙏🙏
** মায়ের ইতিহাস ও বর্ণনা:
পশ্চিম বাংলার দক্ষিন দিনাজপুর জেলা, যেখানে বয়ে চলে আত্রেয়ী ভারতী গঙ্গা নদী।গঙ্গার মতোই পবিত্র এই নদী, যার উল্লেখ রয়েছে পুরানেও। এই নদীর তীরেই অবস্থিত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ছোট্ট একটি নগর পতিরাম। আর এই নদীর তীরেই অবস্থিত "বিদ্যেশ্বরী মাতা"র মন্দির, যা একান্নতম মহাশক্তিপীঠ হিসেবে খ্যাত জেলাবাসি সহ মায়ের সকল ভক্তকুলের কাছে। কথিত জনশ্রুতি অনুসারে মুরারীমোহন ব্রহ্মচারী (মতান্তরে) নামে এক ব্রাহ্মন মা কামাক্ষা দেবীর উদ্দেশ্যে আসামের কামক্ষায় গিয়ে বারো বছর সাধনা করেন এবং মায়ের স্বপ্নাদেশে পুনরায় ফিরে আসেন আত্রেয়ী তীরে। তারপর সেখানেই সংসার জীবন পালন করতে থাকেন, আত্রেয়ী পাড়ের ঘনজঙ্গলে, এবং করতে থাকেন মাতৃসাধনা।
তিনি একদিন জঙ্গল পরিস্কার করতে গিয়ে আলোক ছটাময় মায়ের পীঠটি উদ্ধার করে, শুরু করেছিলেন নিত্যপুজো। পরে বাশ বেড়ায় গড়ে উঠেছিল মাতৃ মন্দির, যেখানে মুরারীমোহনের কন্যা "বিদ্যেশ্বরী" তার পিতাকে সাহায্য করতো মায়ের নিত্য পুজোয়। লোককথা অনুসারে সে প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যা প্রদীপ দিতে এসে হঠাৎ একদিন বিলিন হয়ে যায় মায়ের মন্দিরে।খোজাখুজির পরও পাওয়া যায় না তাকে।পরে মুরারীমোহনকে স্বপ্নাদেশে দেখা দিয়ে বলেন যে তিনি মায়ের সাথে লীন হয়ে গেছেন(সে থেকেই মায়ের নাম বিদ্যেশ্বরী) , প্রমান স্বরূপ তার পরনের লাল পাড়ের সাদা কাপড়টি পাওয়া যায় মায়ের পীঠস্থানের ওপর। তখন থেকেই মায়ের ইচ্ছানুসারে ভক্তেরা তাদের মনোস্কামনা পুরন হলে লাল পাড়ের সাদা কাপড় দিয়ে থাকে মাতৃবেদীতে। যুগ যুগ ধরে প্রতিনিয়ত ভক্তের দেওয়া কাপড় বিছানো হয় পীঠস্থানের ওপর। একবার কাপড় বিছানো হলে সেটা আর তোলা হয় না মাতৃস্থান থেকে (শোনা যায় কোনো এক সময়ে এক পুরোহিত মাতৃস্থানের কাপড় সরাতে গেলে সর্পদংশনে মারা যান)। ক্রমে ক্রমে বাঁশবেড়ার মন্দির থেকে ইট পাথরের পাকা মন্দির গড়ে তোলা হলেও মায়ের অদ্ভুত মহিমার মাতৃস্থানের (থানের) উচ্চতার কোনো বদল ঘটে না। মন্দিরে আলাদা করে মায়ের কোনো বীগ্রহ নেই,মাতৃস্থানেই প্রাচীন প্রথা মেনে কাপড় বিছিয়ে পুজো হয় আজও। মানা হয় মায়ের মস্তক দক্ষিন মুখী এবং মায়ের উত্তরে রয়েছে মায়ের ভৈরব অমৃতাক্ষ, মন্দিরের পেছনে রয়েছে ভৈরবকুন্ড,মন্দিরের পশ্চিমে সামান্য দূরেই অবস্থিত আত্রেয়ী নদী যার নিকটে রয়েছে মহাশ্মশান। মায়ের মন্দিরে নিত্য পুজোরও ব্যবস্থা রয়েছে, এবং প্রতিবছর বকুল অমাবস্যা তিথিতে বাৎসরিক পুজো সহ মহাশক্তি যজ্ঞানুষ্ঠান হয়,যার দায়িত্বে থাকেন বঙ্গীয় সমাজের তান্ত্রিক গন।
তাছাড়া হয়ে থাকে মঙ্গলচন্ডি পুজো ও বিপদ তারিণী পুজো।।
* মা বিদ্যেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস
#মা_বিদ্যেশ্বরি #পতিরাম_বিদ্যেশ্বরী_মন্দির #মা_বিদ্যেশ্বরী_শক্তিপীঠ #৫১শক্তিপীঠ #বিদ্যেশ্বরী #পতিরামমাবিদ্দেশ্বরী #জয়মাবিদ্যেশ্বরী #মা_বিদ্যেশ্বরী_ইতিহাস #বিদ্যেশ্বরী_মন্দিরের_ইতিহাস