Harekrishnapur Satsang Kendra

Harekrishnapur Satsang Kendra you are for the Lord,
not for others
you are for the Lord
and so for others ��

🙏🙏
08/01/2022

🙏🙏

৩২৬ তম ভার্চুয়াল ঋত্বিক সম্মেলনে পূজনীয় বিংকীদার বক্তব্য (সম্পাদিত) ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২১👇👇

◾️জয়গুরু! খুব সীমিত সময়ের মধ্যে আমরা এই ঋত্বিক সম্মেলনের আয়োজন করতে পারলাম। হাতে বেশি সময় ছিল না। এই যে একটা বিরাট পট-পরিবর্তনের লীলা সংঘটিত হলো আমাদের জীবনে, সেটা সামলাতে-সামলাতেই এই ঋত্বিক সম্মেলনের সময় ঘনিয়ে এলো। আর এখনো তো সংক্রমণের ব্যাপার রয়েই গেছে, তাই বেশ কয়েকবারের মত এবারও ভার্চুয়াল উপায়েই ঋত্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরমপূজ্যপাদ মেজদা, আমার পূজনীয় মেজকাকু, সৎসঙ্গের সভাপতি—তিনি তাঁর আশীর্বাদীয় কিছু কথা আমাদের বলেছেন। সৎসঙ্গের শ্রদ্ধেয় সেক্রেটারী মহোদয় কার্তিকদা কিছু কথা বলার সাথে অ্যানুয়াল রিপোর্ট পাঠ করেছেন। তাছাড়া এই আমি বলছি। এই তিনজনের বক্তব্য নিয়েই এবারের ঋত্বিক সম্মেলন।

◾️বিশেষ কিছু জরুরী কথা রয়েছে, সেগুলো জানানো দরকার আপনাদের কর্মীদের প্রত্যেককে। ঠাকুরের পাঞ্জাধারী কর্মী-সেবকরা তাঁর বার্তাবাহী, তাঁর আদর্শবাহী, তাঁর আদর্শ জীবন হতে জীবনে পৌঁছে দেওয়া কর্মীদের কাজ। তাই কিছু কথা তাঁদের অবগত হওয়া প্রয়োজন। সেগুলি জেনে, সেই অনুযায়ী নিজে আচরণশীল হওয়া, এবং প্রত্যেকে সেই পথে চলতে অভ্যস্ত করানো-এটাই হচ্ছে কর্মীদের কাজ। এই যে পট-পরিবর্তন হলো আমাদের সকলের জীবনের সামনে, এরই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা জানানো দরকার আপনাদের। ভালোভাবে শুনবেন, জানবেন, বুঝবেন সেই অনুযায়ী তা বাস্তবায়িত করবেন নিজেদের জীবনে, সকলের জীবনে এবং সৎসঙ্গের যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে বিভিন্ন জায়গায়-সৎসঙ্গ কেন্দ্র-মন্দির বিহার বা যা-কিছু রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সেগুলি বাস্তবায়িত করে তুলবেন।

◾️আমরা আমাদের জীবনের ঠাকুরকে গ্রহণ করে, তাঁকে অনুসরণ করে চলার সংকল্প নিয়েছি। কেন নিয়েছি? নিজেদের বাঁচা-বাড়ার তাগিদেই। আমরা বেঁচে থাকতে চাই, বেড়ে উঠতে চাই—সেই তাগিদেই নিয়েছি; এবং তিনি যেমনভাবে আমাদের চলতে অভ্যস্ত হতে বলেছেন, সেই চলনে আমরা অভ্যস্ত হওয়ার সংকল্প নিয়েছি। চলতে চেষ্টাও করি যে যার মতো করে, যার যেমন সাধ্য তাই নিয়েই চলার চেষ্টা করি।

◾️বিগত ১৬ই ডিসেম্বর পরমারাধ্য পিতৃদেব পার্থিব লীলা সংবরণ করে ব্রহ্মলীন হলেন। তিনি তাঁর সমগ্র জীবন দিয়ে, সমগ্র সত্তা দিয়ে দয়াল ঠাকুরের প্রতিষ্ঠা, দয়াল ঠাকুরকে প্রকাশ করে গিয়েছেন নিজ পিতৃদেবের মতো। তাঁর জীবনটাই ছিল যেন দয়াল ঠাকুরের ভাবের দিব্য প্রকাশ। সমগ্র জীবন জুড়ে তিনি সেই প্রকাশ ছড়িয়ে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে পরিণত বয়সে লীলা সংবরণ করে ব্রহ্মহীন হলেন-নিজধামে প্রত্যাবর্তন করলেন। পুরুষোত্তম কিন্তু চির-অতন্ত্র। তাঁর রথ থামবে না, তাঁর চলার গতি থামবে না। দুর্বার গতিতে সেই রথ চলতেই থাকবে। কেউ তা ব্যাহত করতে পারে না, কোনো কারণেই তা ব্যাহত হয় না। তিনি যে-কারণে এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছেন, সেই কারণ সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অবিরাম চলা চলবেই। তাঁর দিব্য-লীলা নানা-রূপে, নানা-রসে, নানা-শব্দে, নানা-গন্ধে, নানা-বর্ণে আমাদের জীবনকে উদ্ভাসিত করে তুলবে, পুষ্ট করে তুলবেই। আমাদের কেমনভাবে চলতে হবে, কেমনভাবে ভাবতে হবে, কেমনভাবে বলতে হবে, কেমনভাবে প্রতিটা পদক্ষেপ ফেলতে হবে, তার প্রত্যেকটার ব্যবস্থা স্বয়ং তিনি, আমাদের প্রিয়পরম, পরমদয়াল, পরমপ্রেমী-পরমপ্রেমময় পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র স্বয়ং করেছেন। এই ‘সৎসঙ্গে’ যা কিছু হ'য়ে চলে, হ'য়ে থাকে, যা কিছু নিয়ম, যা কিছু বিধি, সব কিন্তু ‘তাঁরই’ প্রদত্ত, ‘তাঁরই’ আশীর্বাদ, ‘তাঁরই’ অনুশাসন। সেই অনুশাসন, নিয়ম, বিধি মেনেই যা-কিছু সব সংঘটিত হ’য়ে চলে স্বাভাবিক গতিতে, কোন কিছু থেমে থাকে না। সব ব্যবস্থা “তিনিই’ করেন।

◾️পরমারাধ্য পিতৃদেব, সকলের পরমপ্রিয় পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীদাদার অবর্তমানে তাঁর সুযোগ্য জ্যেষ্ঠাত্মজ পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীঅদ্যুতি চক্রবর্তী, আমার দাদা, তিনি তৎস্থলাভিষিক্ত হয়ে এখন ইষ্টের চেতন-প্রতীক, তাঁর জীবন্ত, সচল অভিব্যক্তি আচার্যদেব-রূপে এখন আমাদের সম্মুখে রয়েছেন। তাঁকে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তিনি একাধারে প্রিয়পরম দয়াল ঠাকুরকে নিজের আচরণে প্রস্ফূটিত ক'রে এবং নিজের পিতৃ-পরম্পরাকে জীবন্ত রেখে আমাদের অগ্রবর্তী হয়ে, অগ্নি-রূপে-অগ্নি মানে যা আমাদের অগ্রগামী করে, আচার্য-রূপে আমাদের পথ প্রদর্শন করবেন। তাঁর দ্বারা পরিচালিত হয়েই আমাদের পরমদয়ালের ঈপ্সিত পথে নিষ্ঠা, আনুগত্য এবং কৃতি-সম্বেগ-সহ চলতে হবে। এই-ই হল আমাদের জীবন, এই-ই হল জীবনবর্ধনের উপায়, এই-ই হল জীবনকে পূর্ণ করার উপায়, সার্থক করার উপায়-এই-ই হল মানবতাকে বাঁচিয়ে রাখার উপায়। আমাদের বহুতে-বহুতে উদ্ভিন্ন হয়ে উঠতে হবে, এই ভাব ছড়িয়ে দিতে হবে। আচার্যদেবকে সম্মুখে রেখে, তাঁর ঈপ্সিত ভাবে পরমদয়ালের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করে তুলতে হবে আমাদের—এই-ই আমাদের শপথ, এই-ই আমাদের সংকল্প, এই-ই আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমাদের কিছু হারানোর নেই। আমাদের যা পাওয়ার নিয়তি ইতিমধ্যেই, বহু পূর্বেই তা নির্ধারিত করে দিয়েছেন আমরা দয়ালকে পেয়েছি এই জীবনে! তিনি পূর্ণ! যা-কিছু সব তাঁর মধ্যেই আছে, তাঁর বাইরে কিছুই নেই। এজন্যই হারিয়ে যাওয়ার ভয়, অভিভূতি, দুঃখ বা গ্লানি আমাদেরকে গ্রাস করে না কখনো।

◾️এবার আমি কিছু কাজের কথা বলি, এগুলো জেনে রাখুন আপনারা। সবাই ভালোভাবে এগুলো বুঝবেন, জানবেন এবং ভালোভাবে যাতে এগুলি পরিপালিত হয়ে চলে নিজেদের জীবনে, নিজেদের পরিবার, পরিবেশ, পারিপার্শ্বিক, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সব জায়গায়, সব জীবনে তা আপনারা মূর্ত করে তুলুন।

◾️দীক্ষাদাতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলি; ইষ্টের চেতন প্রতীক হলেন আচার্যদেব। তাই, বর্তমান যিনি আচার্যদেব, তাঁর প্রতিকৃতি সম্মুখে না রেখে কখনো দীক্ষাদান করবেন না। যিনি বর্তমান, তাঁর মধ্যেই বিগত যিনি তিনি বিদ্যমান। আমাদের ইষ্ট, আরাধ্য, ধ্যেয়, পূজ্য সবই কিন্তু দয়াল ঠাকুর। দয়াল ঠাকুরের শরণাগতির জন্য, দয়াল ঠাকুরকে গ্রহণ করার জন্য, দয়াল ঠাকুরকে নিজের ইষ্ট হিসাবে গ্রহণ করার জন্য দীক্ষাদাতা কর্মীদের মাধ্যমে যে দীক্ষাদান হয়, সেই সময় ইষ্ট এবং ইষ্টের চেতন প্রতীক—এই দুই প্রতিকৃতি যথাযোগ্য মর্যাদায় রাখতে হয়। ইষ্টের চেতন প্রতীকের মাধ্যমেই কিন্তু ইষ্টের সাথে যুক্ত হওয়া। আর ইষ্টের চেতন প্রতীক আচার্যদেব। তাই বর্তমান আচার্যদেবের প্রতিকৃতি, মানে ফটো দীক্ষার আসনে যে ফটো রাখা হয়— দীক্ষার সময় কর্মীরা যে ঠাকুরের ফটো রাখেন, আচার্যদেবের ফটো রাখেন, চক্র ফটো রাখেন, এখন থেকে আচার্যদেবের ফটো মানে কিন্তু বর্তমান আচার্যদেবের ফটো আপনারা রাখবেন। পরমারাধ্য বাবার ফটো দীক্ষার সময় রাখার এখন থেকে কোনো প্রয়োজন নেই। বর্তমান আচার্যদেবের ফটো রাখতে হবে। এইটাই বিধি, এইটাই নিয়ম।

◾️আর বিভিন্ন জায়গায় ঠাকুরের আসন বা ঠাকুরের পট আমরা রাখি। ঠাকুরের আসনে যা থাকে সবই সম্পূর্ণ ঠাকুরের ভাববাহী একটা একক প্রতিকৃতি। সেটারও একটা অর্থ আছে, উদ্দেশ্য আছে। এখানেও কিন্তু খামখেয়ালি ভাবে যা-ইচ্ছে করলে, যেমন-তেমন ভাবে করলে, বিশেষ করে সমষ্টিগত ভাবে যখন আমরা তাঁকে নিয়ে চলি, তখন কিন্তু খেয়াল-খুশি মতো চললে তা ব্যত্যয় ডেকে আনে। খামখেয়ালে চলার কোন অধিকার আমাদের নেই। নিজেদের মনগড়া রকমের সাধন-ভজন করা, যা ইচ্ছে করা, বা সেই করাতে অন্যকে সামিল করা, অন্যকে উদ্বুদ্ধ করার কোন অধিকার আমাদের নেই। যারা এমন করেন, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করেন নিজেদের মনগড়া রকমে চলার জন্য, তাদের বিভ্রান্তির মায়াজালে কেউ জড়িয়ে পড়বেন না। প্রত্যেকটা করার পিছনে একটা তাৎপর্য রয়েছে, প্রত্যেকটা কাজেরই তাৎপর্য রয়েছে। সেই তাৎপর্য অনুযায়ী চলতে হয়, সেই ভাব অনুযায়ী চলতে হয়। ভাবের স্খলন হলে তখন কিন্তু প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্য হয়ে থেকে যায়। কিছুই পাওয়া হয় না। কেন না ভাবটাই তো নেই, ভাবহারা রকমে চললে কিছু হয় না। এখন থেকে ঠাকুরের যে আসন, সেখানে বর্তমান আচার্যদেবের প্রতিকৃতি স্থাপন করতে হবে। ঠাকুর, বড়মা, বড়দা—এই তিনটে প্রতিকৃতি যেমন স্থির আছে তেমনই থাকবে এবং পরমারাধ্য বাবার প্রতিকৃতি, মানে পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীদাদার প্রতিকৃতির পরিবর্তে সেখানে বর্তমান আচার্যদেবের প্রতিকৃতি স্থাপন করাটাই বিধেয়। আপনারা কেন্দ্র-মন্দিরগুলিতে এবং অন্যান্য জায়গায়, বাড়িতে যে ঠাকুরকে স্থাপন করেন, এই ভাবেই রাখবেন। আর পরমারাধ্য পিতৃদেবের প্রতিকৃতি যদি রাখতে চান তাহলে আলাদা যথাযোগ্য স্থান নির্বাচন করে, সুন্দরভাবে দেয়ালে টাঙিয়ে মর্যাদা সহকারে সেখানে রাখতে পারেন, তাঁকে স্মরণ করতে পারেন, শ্রদ্ধা-প্রণাম জ্ঞাপন করতে পারেন। কিন্তু ঠাকুরের যে প্রতিকৃতি, আসন, সেখানে ঠাকুর, বড়মা, বড়দা এবং বর্তমান আচার্যদেব এইভাবে রাখবেন। বাবার যে প্রতিকৃতিটি আচার্যদেবের আসনে ছিল সেটি দেয়ালে সুন্দর করে মর্যাদাসহ টাঙিয়ে রাখতে পারেন। আর, বিভিন্ন কেন্দ্র-মন্দিরে আচার্যদেবের নির্দিষ্ট কক্ষ বা আচার্যদেবের নির্দিষ্ট নাটমণ্ডপে যে শয্যা পাতা আছে বা প্রতিকৃতি রাখা থাকে, সেই চৌকি, শয্যা এসব তুলে ফেলে যত্ন করে গুটিয়ে রেখে দিয়ে সেখানে বর্তমান আচার্যদেবের প্রতিকৃতি স্থাপন করে পরমারাধ্য বাবার প্রতিকৃতি সেখানে সুন্দরভাবে দেয়ালে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্থাপন করতে পারেন। কিন্তু আমাদের উপাসনার জায়গায়, প্রার্থনার জায়গায়, পূজার জায়গায় সেখানে কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীবড়মা, শ্রীশ্রীবড়দা এবং বর্তমান আচার্য্যদেব এইভাবে সবাই রাখবেন এবং চলবেন। এই যে আমরা বিভিন্ন কেন্দ্র-মন্দিরে প্রার্থনার পরে প্রদীপ নিয়ে প্রণাম করি, প্রথমে ঠাকুর-প্রণাম করি, তারপরে বড়মাকে প্রণাম করি, তারপরে বড়দাকে প্রণাম করি, তারপর আচার্যদেবকে প্রণাম করি। এই চার ভাবেই প্রণাম করবেন। বর্তমান আচার্যদেবকে প্রণাম করলেই তার মধ্যে দিয়েই পূর্ববর্তী আচার্যদেবকেও শ্রদ্ধা-প্রণাম জ্ঞাপন করা হয়। বর্তমানের মধ্যেই পূর্ববর্তী রয়েছেন। “পূর্ববর্তী অধিকার করিয়াই পরবর্তীর আবির্ভাব”-ঠাকুর বলেছেন। আর আমরা যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সৎসঙ্গতে, উৎসবে জয়ধ্বনি দিই, ঠাকুরের জয়ধ্বনি, বড়মার জয়ধ্বনি, বড়দার জয়ধ্বনি, আচার্য্যদেবের জয়ধ্বনি, সৎসঙ্গের জয়ধ্বনি; আমরা এতদিন বলতাম-“পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রজী কী জয়, পরমারাধ্যা জগজ্জননী শ্রীশ্রীবড়মা কী জয়, পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কী জয়, পরমপূজ্যপাদ আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদা কী জয়, সৎসঙ্গ কী জয়”; এখন থেকে আমরা “পরমপূজ্যপাদ আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদা কী জয়”-এর বদলে স্থায়ীভাবে বলব—“পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব কি জয়”। “শ্রীশ্রীদাদা” বলার কোন প্রয়োজন নেই। আচার্য্যদেব কি জয় বললেই পূর্ববর্তী আচার্যদেব এবং বর্তমান আচার্যদেব সহ ঠাকুর-বাহী যে আচার্য্য পরম্পরা, সেই পরম্পরাই জয়ধ্বনি দেওয়া হবে। তার মধ্যে পূর্ববর্তী, বর্তমান এবং পরবর্তী-সমগ্রটাই পরিব্যাপ্ত, তার মধ্যে অন্তর্গত। এইজন্য এখন থেকে আমরা স্থায়ীভাবে—“পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রজী কী জয়, পরমারাধ্যা জগজ্জননী শ্রীশ্রীবড়মা কী জয়, পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা কী জয়, এবং পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব কী জয়, সৎসঙ্গ কী জয়”—এইভাবেই বলতে অভ্যস্ত হবো।

◾️আরেকটা কথা; বর্তমান যিনি আচার্যদেব, এতদিন পর্যন্ত কথা প্রসঙ্গে যখন আমরা তাঁর সম্পর্কে বলতাম, সহজভাবে তাঁর নাম ধরেই ডাকতাম। “বাবাইদা, বাবাইদাদা, পূজনীয় বাবাইদা, পূজ্যপাদ বাবাইদাদা”—এরকম ভাবে ডাকতাম। এখন থেকে এই ডাকটাও একটু পরিবর্তন করা ভালো। আমাদের আর্য-ভারতীয় সংস্কার হল- যিনি গুরু, গুরু-স্থানীয়, যিনি আচার্য, এইভাবে তাঁর নাম ধরে ডাকা শোভনীয় নয়। কেবল ‘আচার্যদেব' বলেও ডাকতে পারেন, যারা কেবল ‘দাদা' বলে ডাকেন তারা দাদা বলেই ডাকবেন, বা যখন সামনে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলবেন তখন ‘দাদা' বলে ডাকবেন। কিন্তু নাম ধরে দাদা বলে ডাকা এটা শোভনীয় নয়। এটাই আমাদের আর্য-ভারতীয় পরম্পরা, এটা আর্য-ভারতীয় সংস্কার। এগুলো রক্ষা করতে হয়, এগুলো পালন করতে হয়, অনুসরণ করতে হয়। আমরা যখন তাঁর সম্বন্ধে কথা প্রসঙ্গে বলব, কেবল 'আচার্যদেব'—এই ভাবেই বলব, তখনই বোঝা যাবে যে এটা তাঁর সম্পর্কেই কথা হচ্ছে। আর এ-যাবৎ কাল পর্যন্ত ‘শ্রীশ্রীদাদা’ বলতে তো মানুষ পরমারাধ্য বাবাকে বুঝিয়েছে, তাতে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এজন্য কেবল ‘আচার্যদেব’ বলাই ভালো। যারা কাছে থাকেন, সহজভাবে দাদা বলেই ডাকেন; তারা যেমন ভাবে দাদা বলে ডাকেন বা যখন তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন তখন দাদা ব'লে বলবেন, সেগুলো ঠিক আছে। কিন্তু যখন তাঁর প্রসঙ্গে আলোচনা হবে তখন ‘আচার্যদেব’–এইভাবে সম্বোধন করাই ভালো, এটাই হচ্ছে বিধেয়। এগুলো অনুসরণ করবেন।

◾️আর আরেকটা কথা, শ্রীশ্রীঠাকুর এবং শ্রীশ্রীবড়মা কিন্তু অভেদ। ঠাকুর নিজে বলেছেন—শ্রীশ্রীবড়মা হচ্ছেন তাঁরই নারী-রূপ, তাঁর সমবিপরীত সত্তা। তাই বড়মার প্রতিকৃতি রাখি বা না-রাখি, তিনি সর্বদা ঠাকুরের সঙ্গেই আছেন। শ্রীশ্রীবড়মার স্থান কিন্তু ঠাকুরের সাথে এক লেভেলে। শ্রীশ্রীবড়দার আসন বা আচার্যদেবের আসন তার থেকে একটু নিচু লেভেলে করতে হয়—এটাই বিধেয়। এক লেভেল বা এক জায়গায় রেখে উপাসনা করতে নেই-এক আসনে রেখে, এক বিছানায় রেখে। একটাই আসন বানালাম, সেখানেই তিন-চারটে ছবি রেখে দিলাম-এভাবে করতে নেই। এটাতে ভাবের স্খলন হয়। অনেক সময়ে রাস্তাঘাটে দেখা যায় বা বিভিন্ন বাড়িতে দেখা যায়, দোকানে বিক্রি হয়, একটা ফটো ফ্রেমের মধ্যেই ঠাকুরের মুখ, ঠাকুরের পাশ দিয়ে বড়মার মুখ বের হলো, এই পাশ দিয়ে বড়দার মুখ বের হলো, পেটের মধ্যে দিয়ে শ্রীশ্রীদাদার মুখ বের হলো, এক পাশ দিয়ে বর্তমান আচার্যদেবের মুখ বের হলো। এইভাবে লোকে ভাবলো ‘কেমন এক ছবিতে, একটা জায়গার মধ্যেই সবাইকে পেয়ে গেলাম। এটাতে কিন্তু ভাবের স্খলন হয়। এ রকম করা ভালো না। আমাদের ধ্যেয়, ইষ্ট, আরাধ্য-সব ঠাকুর। আমাদের ধ্যান ঠাকুরে কেন্দ্রায়িত করাটাই কিন্তু আমাদের সাধনা। ঠাকুরের সাথে সবাইকে একাকার করা এটা কিন্তু বিধেয় নয়। এমনকি ঠাকুরের যিনি চেতন প্রতীক, তিনি তাঁর প্রতীক; এই প্রতীকের সাথে যতটা সূক্ষ্ম অন্তর থাকার সেই অন্তরটা রাখতে হয়, এটাই বিধেয়। এগুলো অনুসরণ করতে হয়। এই ভাবগুলো যদি আমরা ধরে না রাখি, তাহলে আমাদের অন্তরের ভাব পরিপুষ্ট হয় না। তাহলে, আমরা যা হওয়ার জন্য সাধনা করছি, সেই হওয়া থেকে বঞ্চিতই থেকে যাই। মনের ঘানির মধ্যে এক জায়গায়, যাঁতাকলেই ঘুরপাক খাই, বৃদ্ধি হয় না। জীবনবন্ধনের জন্যই তো যা কিছু আমরা করি! সেইজন্য এগুলো অনুসরণ করতে হয়, আর ঠাকুরের পটে অন্য কোন প্রতিকৃতি রাখা ভালো না। অনেকে আমাদের পূজনীয় রয়েছেন, যাঁকে আমার পূজ্য মনে হয়, যাঁকে আমার ভালো লাগে, যাঁকে ভালোবাসি, সেই ভালোবাসার জনের প্রতিকৃতি যদি আমি রাখতে চাই, পৃথকভাবে রাখতে হয়। ঠাকুরের আসনে কিন্তু ঠাকুর, বড়মা, বড়দা এবং বর্তমান আচার্য্যদেব—এই নিয়েই, এই ভাবেই রক্ষা করতে হয়। এর বাইরে যাওয়া কিন্তু বিধিসম্মত নয়। আমরা যারা ঠাকুর নিয়ে চলি, এক আদেশে, এক আদর্শে, এক বিধি, এক অনুশাসনে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি না চলি, সেটা যদি পরিপালন না করি, তাহলে ঠাকুর যেমনভাবে আমাদের হয়ে উঠতে বলছেন, সেই ‘হয়ে ওঠা’ থেকে কি আমরা বঞ্চিত থাকবো না? তাই এটা সবাই অনুসরণ করবেন এমন ভাবেই।

◾️এই সময়ে, এই পরিবর্তনের সময়ে মনের মধ্যে অদ্ভুত একটা প্রক্রিয়া কাজ করে, সেইজন্য মনটা বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে সবার। মনটাকে সংহত করে তোলা এখন জরুরি প্রত্যেকের। আচার্যদের যেমন বলেন, তাঁর ইচ্ছা, তাঁর অভীপ্সা, তাঁর অভিপ্রায়-সেটা বোঝা, বুঝে সেই অনুযায়ী কাজে লেগে পড়া; তিনি সেদিন, কয়েকদিন আগে সৎসঙ্গে, আপনারা সবাই হয়তো শুনেছেন, বললেন নিজেরা সাবধান হয়ে থাকার কথা। এখনও এই সংক্রমণের আশংকা শেষ হয়ে যায়নি, আরেকটা ঢেউ আসতে পারে। নিজেদের এবং নিজেদের পারিপার্শ্বিক, পরিবার, পরিবেশ, সবাইকে বাঁচানো-এটা আমাদের কর্তব্য। সাবধান হয়ে চলুন, ইষ্টমুখী হয়ে চলুন, তন্ময় থাকুন, নিত্যযাজী হন। আর, সবার আগে দরকার নিত্য যজনশীল হওয়া। নামধ্যান, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নীর বিধি যথাযথ পরিপালনের প্রচেষ্টা, পরমদয়ালের অমিয় বাণীপাঠ করে, সেগুলো অনুধাবন করে পরিপালন করার প্রচেষ্টা, আত্মবিশ্লেষণ—এগুলো প্রত্যেকের অত্যন্ত দরকার। তাহলেই আচার্যদেব-ঈপ্সিত যা-কিছু তা আমরা নিজেরাও পরিপালন করতে পারবো, আর আমাদের চলা দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেই উদাহরণে শত-শত, হাজার-হাজার মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবে। মানুষ জীবনবৰ্দ্ধনের পথে আরো দৃঢ় হবে। প্রত্যেকের জীবনে ঠাকুর জয়যুক্ত হয়ে উঠবেন। এই সাধনায় চলতে আমাদের অঙ্গীকার করতেই হবে। তাহলেই আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারবো—“হ্যাঁ, আমি তোমারই, আমি তোমারই, আমি তোমারই! আমার জীবনে তুমিই জয়যুক্ত, আমি তোমাকেই জয়ী করি সবসময় আমার জীবনে। আমার কোনো দুর্বলতা নেই।” যেমন ভাবে পরমারাধ্য বাবা-তিনি তাঁর সমগ্র জীবন দিয়ে, সমগ্র সত্তা দিয়ে, সমগ্র চেতনা দিয়ে, খালি তাঁরই প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, ‘তাঁকে’ই পরিবেশন করে গেছেন—সবার মধ্যে। কাউকে কখনো দুঃখ দেননি, কষ্ট দেননি, খালি অকাতরে দিয়েই গেছেন। সমগ্র সত্তা দিয়ে, সমগ্র জীবন দিয়ে, সমগ্র চেতনা দিয়ে, সমগ্ৰ কৰ্ম্ম দিয়ে, খালি ‘তাঁর’ই প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। আর করে দেখিয়ে, বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন যে—এটা করা যায়। আর এটাই একমাত্র ভালো থাকার উপায়, চিরজীবী হবার উপায়। এ-দেহ থাকে না-দেহ নশ্বর। দেহবিহীন হয়েও অনন্তকাল বেঁচে থাকা যায়। যেমন, অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন পরমারাধ্য পিতৃদেব।

◾️আপনারা সবাই পরমদয়ালের অমিয় আশিস্ লাভ করুন, নিজেদের জীবনে তাঁর আশীর্বাদে স্নাত হন। আচার্যদেবের ইচ্ছানুরূপ চলনে অভ্যস্ত হয়ে উঠুন, তাহলেই জীবন সার্থক হবে । আমাদের এই যে ঠাকুর ধরে চলা সফল হবে, আমাদের জীবন পূর্ণতার পথে এগিয়ে চলবে, সার্থকতার পথে এগিয়ে চলবে। জয়গুরু!

বন্দে পুরুষোত্তমম! বন্দে পুরুষোত্তমম!! বন্দে পুরুষোত্তমম!!!

07/01/2022

🙏🙏

Satsang deoghor 5th jan 2022 ocation of param pujoniyo sri sri abin dada happy holy 22th  birthday celebration
05/01/2022

Satsang deoghor 5th jan 2022 ocation of param pujoniyo sri sri abin dada happy holy 22th birthday celebration

Address

Harekrishnapur, Near Patanda Hospital, Panskura, Purba Medinipur
Panskura
721139

Telephone

+919830266611

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Harekrishnapur Satsang Kendra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share