19/07/2026
শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীমন্দির, পানিহাটী
পানিহাটীর অন্যতম প্রাচীন বৈষ্ণব তীর্থ শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীমন্দির আনুমানিক দুই শতাব্দী পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দির গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম, ভক্তি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত।
পানিহাটীর মধ্যে একমাত্র এই মন্দিরেই শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ষড়ভূজ (ষড়ভুজ) রূপে বিরাজমান। এই বিরল মূর্তির প্রথম দুই হাতে রয়েছে ধনু ও বাণ, যা ত্রেতাযুগের শ্রীরামচন্দ্রের প্রতীক। মধ্যের দুই হাতে রয়েছে বংশী, যা দ্বাপরযুগের শ্রীকৃষ্ণের লীলার স্মারক। শেষ দুই হাতে রয়েছে দণ্ড (করঙ্গ) ও কমণ্ডলু, যা সন্ন্যাসী শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর পরিচয় বহন করে। এই ষড়ভূজ রূপের মধ্য দিয়ে শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্য—এই তিন যুগাবতারের ঐক্য প্রকাশ পেয়েছে।
গৌড়ীয় বৈষ্ণব গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর প্রিয় ভক্ত সার্বভৌম ভট্টাচার্যের নিকট এই ষড়ভূজ রূপ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্মৃতিকে ধারণ করেই এই মন্দিরে মহাপ্রভুর ষড়ভূজ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মন্দিরের গর্ভগৃহে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভুর ডান পাশের সিংহাসনে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরাম প্রতিষ্ঠিত আছেন। অপরদিকে, মহাপ্রভুর বাম পাশের সিংহাসনে রয়েছে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের একটি বৃহৎ চিত্রপট এবং তার সম্মুখে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ।
এছাড়াও, সিংহাসনের নিম্নভাগে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সংরক্ষিত রয়েছে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর পবিত্র চরণচিহ্ন, যা একটি স্মৃতিফলকে রক্ষিত আছে। এই চরণচিহ্ন ভক্তদের কাছে গভীর ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির এক অনন্য প্রতীক।
ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্কৃতির এক অমূল্য নিদর্শন হিসেবে শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীমন্দির আজও পানিহাটীর গৌরবকে সমুন্নত রেখে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে চলেছে।