Markazul Ihsan Lita'arufil Islam

Markazul Ihsan Lita'arufil Islam �� كنتم خير أمة اخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر وتؤمنون بالله� �

22/05/2026

কুরবানীর তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য ।

15/05/2026

*والد*
_وہ خاموش چٹان جس پر گھر کھڑا ہے_

✍️: شعیب احمد محمدی
*اس کی محبت کا جہاں میں کوئی ثانی نہیں*
*یہ حقیقت ہے باپ کی کوئی مشہور کہانی نہیں*
*باپ عشقوں کا دریا بہا دے اولاد کے لیے*
*آج اولاد ایسی کہ آنکھوں میں ایک قطرہ پانی نہیں*

*1. باپ — ایک ایسا لفظ جو احساس سے بھرا ہے*
ماں اگر محبت ہے تو باپ حفاظت ہے۔ ماں اگر دعا ہے تو باپ وہ ہاتھ ہے جو دعا کے لیے اٹھتا ہے۔ ماں کے آنسو سب دیکھتے ہیں، باپ کا پسینہ کوئی نہیں دیکھتا۔ وہ گھر کا وہ ستون ہے جو چھت کو تو سنبھالتا ہے مگر خود نظر نہیں آتا۔

*2. قرآن و حدیث میں باپ کا مقام*
اللہ نے والدین کے ساتھ "احسان" کا حکم دیا: *"وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا"* [بنی اسرائیل: 23]
نبی ﷺ نے فرمایا: *"رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِ"* _رب کی رضا باپ کی رضا میں ہے۔_
اور فرمایا: *"الْوَالِدُ أَوْسَطُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ"* _باپ جنت کا درمیانی دروازہ ہے۔_
یعنی جنت میں جانا ہے تو باپ کو راضی رکھو۔ یہ دروازہ بند ہو گیا تو جنت ہاتھ سے نکل جائے گی۔

*3. باپ کی محبت کے 4 ان کہے انداز*

*1. چھپی ہوئی قربانی:* ماں 9 مہینے پیٹ میں رکھتی ہے، باپ 25 سال کندھوں پر رکھتا ہے۔ اپنی خواہشیں مار کر تمہاری فیس بھرتا ہے۔ پرانی کپڑے میں رہتا ہے آپکو نئے سلاتا ہے ۔پرانے جوتے میں پورا شہر گھوم لیتا ہے مگر بیٹے کو نیا موبائل دلا دیتا ہے۔

*2. سخت لہجہ، نرم دل:* ماں لاڈ سے پالتی ہے، باپ ڈانٹ سے بناتا ہے۔ وہ "باہر مت جاؤ" کہتا ہے تو قید نہیں کرتا، زمانے کے تھپیڑوں سے بچاتا ہے۔ اس کی ڈانٹ میں بھی دعا چھپی ہوتی ہے۔

*3. بے لوث محافظ:* جب تم رات کو سو رہے ہوتے ہو، وہ جاگ کر کنڈی چیک کرتا ہے۔ جب تم نوکری پر جاتے ہو، وہ دعا کر کے رخصت کرتا ہے۔ اس کی کمر جھک جاتی ہے مگر تمہارا سر نہیں جھکنے دیتا۔

*4. خاموش آنسو:* ماں رو لیتی ہے، باپ چھپ کر روتا ہے۔ بیٹی کی رخصتی پر سب سے زیادہ وہی ٹوٹتا ہے مگر مسکرا کر الوداع کہتا ہے اللہ اکبر۔ بیٹے کی ناکامی پر وہ رات بھر کروٹیں بدلتا ہے مگر صبح حوصلہ دیتا ہے۔

*4. آج کا المیہ — ہم باپ کو کب سمجھتے ہیں؟*
1. *جب وہ نہیں رہتا:* جنازہ اٹھاتے وقت احساس ہوتا ہے کہ "میرا سایہ اٹھ گیا"۔
2. *جب خود باپ بنتے ہیں:* بیٹے کی پہلی فیس جمع کراتے وقت یاد آتا ہے کہ ابا نے کیسے پوری کی تھی۔
3. *بڑھاپے میں اکیلا چھوڑ دیتے ہیں:* جس نے انگلی پکڑ کر چلنا سکھایا، جس نے زمانے سے آنکھ ملا کر نڈر ہوکر بات کرنا سکھایا اسے ہم اولڈ ہوم کے بیڈ پر چھوڑ آتے ہیں۔
جس کے تجربے سے گھر چلتا تھا، اسے ہم "آپ کو کیا پتا" کہہ کر چپ کرا دیتے ہیں۔

یاد رکھو: جس گھر میں باپ کی عزت نہیں ہوتی، اس گھر سے برکت اٹھ جاتی ہے۔

*5. بیٹی کے لیے باپ کیا ہوتا ہے؟*
بیٹی کی پہلی محبت، پہلا ہیرو، پہلا محافظ۔ وہ "بابا" کہہ کر بلاتی ہے تو باپ کی ساری تھکن اتر جاتی ہے۔ رخصتی کے وقت باپ کا کلیجہ پھٹتا ہے مگر زبان سے یہی نکلتا ہے: "بیٹا خوش رہنا"۔ بیٹی کے سسرال میں اگر ذرا سی تکلیف ہو تو باپ کی راتوں کی نیند اڑ جاتی ہے۔

*6. بیٹے کے نام پیغام*
1. *آواز نیچی رکھو:* قرآن کا حکم ہے: *"فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ"* باپ کے سامنے "اف" تک نہ کہو۔ [بنی اسرائیل: 23]
2. *وقت دو:* مہینے میں ایک دن موبائل سائیڈ پر رکھ کر صرف ابا سے بات کرو۔ ان کی جوانی کے قصے سنو۔ وہ جی اٹھیں گے۔
3. ۔ نبی ﷺ نے فرمایا: "جو اپنے والدین کا چہرہ محبت سے دیکھے، اسے حج مبرور کا ثواب ملتا ہے"۔
4. *خرچ کرو:*انکی پسند کی چیزیں لاکر دو کھانا، میٹھائی، یا مشروب،۔ وہ مانگیں گے نہیں، مگر تم دو گے تو ان کا سر فخر سے بلند ہو جائے گا۔

*7. خلاصہ: باپ چلا جائے تو کیا جاتا ہے؟*
1. *گھر کی چھت:* دھوپ، بارش، زمانے کی سختی سیدھی تم پر پڑتی ہے۔
2. *دعا کا دروازہ:* باپ کی "جا بیٹا، اللہ کامیاب کرے" ایسی ڈھال تھی جو ہر مصیبت روک لیتی تھی۔
3. *نصیحت کا خزانہ:* "بیٹا ایسا مت کرو" والا کوئی نہیں رہتا، پھر ٹھوکریں کھا کر سیکھنا پڑتا ہے۔

حضرت علیؓ فرماتے ہیں: "جب باپ فوت ہوتا ہے تو آسمان سے آواز آتی ہے کہ 'اے ابن آدم، وہ ہستی مر گئی جس کے صدقے تمہیں رزق دیا جاتا تھا، اب اپنا عمل دیکھو'"۔

*آخری بات:*
اگر تمہارے والد زندہ ہیں تو دوڑ کر ان کے گلے لگ جاؤ۔ ان کے پاؤں دبا دو، ان سے معافی مانگ لو۔ کل کو یہ کندھا، یہ دعا، یہ سایہ نہیں ملے گا۔
اور اگر وہ چلے گئے ہیں تو ان کے لیے قرآن پڑھو، صدقہ جاریہ کرو، ان کے دوستوں سے صلہ رحمی کرو۔ یہی "نیک اولاد" کی نشانی ہے۔

*دعا:*
اے اللہ، ہمارے والد کو صحت والی لمبی عمر دے۔ جن کے والد دنیا سے چلے گئے ان کی کامل مغفرت فرما۔ ہمیں ماں باپ کا فرمانبردار بنا۔ آمین یا رب العالمین

"باپ کی ڈانٹ میں جنت چھپی ہے۔ اور باپ کی دعا میں کامیابی۔ کھو دینے کے بعد سمجھ آتی ہے۔"

15/05/2026

জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের করণীয় ও বর্জনীয়
কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে বিস্তারিত বক্তব্য ।

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد—
জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন ইসলামের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় দিন। বছরের অন্য দিনের তুলনায় এই দিনগুলিতে নেক আমলের সওয়াব অনেক বেশি।
প্রথমতঃ এই ১০ দিনের ফজিলত
১. আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলোর কসম খেয়েছেন
আল্লাহ বলেন:
وَالْفَجْرِ ۝ وَلَيَالٍ عَشْرٍ
“শপথ ফজরের, এবং শপথ দশ রাতের।”
— (সূরা আল-ফাজর ৮৯:১-২)
মুফাসসিরগণ যেমন ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুজাহিদ, কাতাদাহ (রহ.) বলেন—
এখানে “দশ রাত” দ্বারা জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন উদ্দেশ্যে।

২. এই দিনগুলোর আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়
রাসূল ﷺ বলেন:
مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ
“এমন কোনো দিন নেই, যাতে নেক আমল আল্লাহর কাছে এই দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।”
সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন—
ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়?
তিনি বললেন—
وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ
“জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে নিজের জান-মাল নিয়ে বের হলো এবং কিছুই নিয়ে ফিরে এলো না।”
— সহীহ বুখারী (৯৬৯) �
করণীয় আমলসমূহ
১. বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার
এই দিনগুলো শুরু হওয়ার আগে আন্তরিক তাওবা করা।
পড়বে:
أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
২. ফরয নামাযের বিশেষ যত্ন
জামাতে নামায
সুন্নাত ও নফল বৃদ্ধি
তাহাজ্জুদ
ইশরাক, চাশত
কারণ—সবচেয়ে প্রিয় আমল ফরয আমল।

৩. নফল রোযা রাখা
বিশেষ করে—
৯ জিলহজ্জ (আরাফার রোযা)
রাসূল ﷺ বলেন:
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
“আরাফার দিনের রোযা—আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি এর মাধ্যমে আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করবেন।”
— সহীহ মুসলিম

৪. বেশি বেশি যিকির
আল্লাহ বলেন:
وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ
“তারা যেন নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।”
— সূরা হজ্জ ২২:২৮ �

৫. তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ, তাসবীহ
বেশি পড়বে:
الله أكبر
لا إله إلا الله
الحمد لله
سبحان الله
সাহাবাদের আমল
ইবনে উমর (রাঃ) ও আবু হুরাইরা (রাঃ) বাজারে বের হয়ে তাকবীর পড়তেন, মানুষও তাদের সাথে তাকবীর পড়ত।

৬. কুরআন তিলাওয়াত
প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণ
অর্থসহ বোঝা
আমলের নিয়ত

৭. সদকা-খয়রাত
গরিবদের সাহায্য
মিসকীনদের খাওয়ানো
কুরবানির অংশীদার হওয়া

৮. কুরবানির প্রস্তুতি
যাদের উপর কুরবানি ওয়াজিব/সুন্নাতে মুয়াক্কাদা—
তারা আন্তরিকভাবে কুরবানির নিয়ত করবে।

৯. দোয়া বৃদ্ধি করা
বিশেষতঃ
ক্ষমা
হিদায়াত
রিজিক
ঈমানের দৃঢ়তা
উম্মাহর জন্য দোয়া

বর্জনীয় বিষয়সমূহ
১. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
কারণ ফজিলতপূর্ণ সময়ে গুনাহ আরও ভয়াবহ।
বিশেষ করে—
গীবত
পরনিন্দা
মিথ্যা
হারাম দৃষ্টি
সুদ
গান-বাজনা
নামাযে অবহেলা
আত্মীয়তা ছিন্ন করা

২. কুরবানিদাতার জন্য চুল-নখ না কাটা
যদি কেউ কুরবানি করার নিয়ত করে—
রাসূল ﷺ বলেন:
إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعْرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا
“যখন জিলহজ্জের দশ দিন শুরু হবে, আর তোমাদের কেউ কুরবানি করতে চায়, সে যেন তার চুল ও নখ থেকে কিছু না কাটে।”
— সহীহ মুসলিম

৩. ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম
১০ জিলহজ্জ (ঈদুল আযহা) রোযা রাখা নিষিদ্ধ।
এছাড়া—
১১, ১২, ১৩ জিলহজ্জ
(আইয়ামে তাশরীক) — এগুলোও রোযার দিন নয়।

খুতবা/বয়ানের উপসংহার
এই ১০ দিন হলো—
বছরের সেরা দিন
নেক আমলের মৌসুম
ক্ষমা লাভের সুযোগ
জান্নাত অর্জনের সুবর্ণ সময়
অনেক মানুষ রমযানকে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু জিলহজ্জের এই ১০ দিনকে অবহেলা করে—এটি বড় ক্ষতি।
শেষ দোয়া
اللهم أعنا على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك،
وتقبل منا صالح الأعمال،
واغفر لنا ولوالدينا ولجميع المسلمين.
آمين يا رب العالمين
এই ১০ দিনকে অবহেলা নয়—
বরং “জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার দিন” হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

হাফিয মোহাঃ অলিউল্লাহ আলিয়াবী।
১৪/০৫/২০২৬ , বৃহস্পতিবার রাত ১১:০০ ।

15/05/2026

সময়োপযোগী বিশেষ প্রতিবেদন

(দীর্ঘ হলেও পড়ার অনুরোধ রইলো)

বিষয়:

🇮🇳গরু, কুরবানী, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতা — আবেগ নয়, প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তার🇮🇳

ভারতে গরু পালন শুধু ধর্মীয় আবেগের বিষয় নয়; এটি একটি বিশাল গ্রামীণ অর্থনীতির অংশ। দেশের অসংখ্য দরিদ্র পরিবার—যাদের মধ্যে অমুসলিমদের সংখ্যাও অনেক বেশি—গরু ও মহিষ পালন, দুধ উৎপাদন, পশু ক্রয়-বিক্রয়, চামড়া শিল্প ও সংশ্লিষ্ট পেশার উপর নির্ভরশীল।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সময়ে একটি আলোচনা সামনে এসেছে—মুসলিমরা যদি স্বেচ্ছায় গরু কুরবানী ও গোমাংস ভক্ষণ কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়, তাহলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে?
এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা বুঝা জরূরী।
প্রথম কথা হলো—ইসলামে কুরবানীর জন্য শুধু গরুই নির্ধারিত নয়। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট—যে অঞ্চলে যা সহজলভ্য ও সামর্থ্যের মধ্যে থাকে, তা দিয়েও কুরবানী জায়িয। ভারতবর্ষে গরু তুলনামূলক সহজলভ্য ও কম খরচের হওয়ায় গরু কুরবানীর প্রচলন বেশি।
তাই কেউ যদি বর্তমান সামাজিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা কৌশলগত কারণে বিকল্প পশুর দিকে ঝুঁকতে চান, সেটা চিন্তার বিষয় হতে পারে; তবে সেটি যেন আবেগ, প্রতিশোধ বা অর্থনৈতিক ধ্বংসের মানসিকতা থেকে না হয়।
কারণ বাস্তবতা হলো—মুসলিমরা হঠাৎ ব্যাপকভাবে গোমাংস বর্জন করলে বাজারে গরুর চাহিদা কমে যেতে পারে। চাহিদা কমলে গরুর দামও কমবে। তখন অনেক খামারী লোকসানের মুখে পড়বেন। যারা দুধ উৎপাদনের জন্য গরু পালন করেন, তারা বয়স্ক বা কম দুধ দেওয়া গরু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবেন।
আর এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে—সেই গরুগুলো কোথায় যাবে?
অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, বড় বড় রপ্তানিকারক মাংস কোম্পানি বা কসাইখানাগুলো তখন কম দামে অধিক গরু কিনে নিতে পারে। অর্থাৎ সাধারণ মুসলিম ভোক্তা বাজার থেকে সরে গেলেও বড় কর্পোরেট বা রপ্তানি খাত লাভবান হতে পারে। এ যুক্তিকেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তাই বিষয়টি এতটা সরল নয় যে, “আমরা খাওয়া বন্ধ করলেই অন্যপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” বরং এর প্রভাব বহুস্তরীয় ও সুদূরপ্রসারী—
ক) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন ছোট খামারিরা,
লাভবান হতে পারে বড় কর্পোরেট কসাইখানা,
খ) গরুর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে,
গ) চামড়া শিল্পেও প্রভাব পড়তে পারে,
ঘ) আবার বিকল্পভাবে ছাগল ও ভেড়ার বাজার দর বাড়তেও পারে।

এ কারণে মুসলিম সমাজের করণীয় হওয়া উচিত—
উত্তেজনা নয়, দূরদর্শিতা;
সংঘাত নয়, নিরাপদ ও হিকমাহপূর্ণ সিদ্ধান্ত; এবং সর্বোপরি নিজের দ্বীনী অধিকার ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।

কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে বিকল্প কুরবানীর পথ বেছে নেন, সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত। আবার কেউ শারীয়তসম্মত সীমার মধ্যে গরু কুরবানী করেন, সেটাও তাঁর অধিকার। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই সমাজকে উস্কানি, বিদ্বেষ বা অর্থনৈতিক ধ্বংসের রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—
১) পারস্পরিক সহাবস্থান
২) আইনের শাসন
৩) গ্রামীণ অর্থনীতির বাস্তবতা বোঝা
৪) এবং মুসলিম সমাজের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কৌশলী ও দায়িত্বশীল আচরণ।

তাই আসুন সকল দেশবাসী মিলে প্রতিজ্ঞা করি,

আবেগ নয়, প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তার। বিদ্বেষ নয় বরং গঠনমূলক পর্যালোচনার।

আবেগের রাজনীতি সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে কেবল বাস্তবভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তা।

🖊️ মুহাম্মাদ ফজলুর রহমান বুখারী।

15/05/2026

জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব ও ফযীলত
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে (আরবি ইবারতসহ বিস্তারিত আলোচনা)

ইসলামের বরকতময় সময়গুলোর মধ্যে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলোকে বিশেষ সম্মান দিয়েছেন এবং রাসূল ﷺ এগুলোর আমলকে অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছেন।
১. কুরআনের আলোকে জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা
(ক) সূরা আল-ফাজর-এর শপথ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَالْفَجْرِ ۝ وَلَيَالٍ عَشْرٍ
উচ্চারণ:
ওয়াল-ফাজরি, ওয়া লায়ালিন ‘আশর।
অর্থ:
“শপথ ফজরের, এবং দশ রাতের।”
— (সূরা আল-ফাজর ৮৯:১–২)
মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা
অধিকাংশ মুফাসসির যেমন:
Ibn Kathir
Ibn Abbas
Mujahid ibn Jabr
Qatadah ibn Di'amah
বলেন—এখানে “দশ রাত” বলতে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন উদ্দেশ্য।
ইবন কাসীর رحمه الله বলেন:
والمراد بها عشر ذي الحجة كما قاله ابن عباس وابن الزبير ومجاهد وغير واحد من السلف والخلف
অর্থঃ
“এ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন; এ মত বলেছেন ইবন আব্বাস, ইবন যুবাইর, মুজাহিদ এবং বহু সালাফ ও খালাফ।”
— তাফসীর Tafsir Ibn Kathir
২. আমলের সর্বোত্তম দিন
সহীহ বুখারীর হাদীস
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
Arabic:
مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ
قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟
قَالَ:
وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، ثُمَّ لَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ
— সহীহ আল-বুখারী
বাংলা অর্থ
“এই দশ দিনের আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই।”
সাহাবীগণ বললেন:
“হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও নয়?”
তিনি বললেন:
“জিহাদও নয়—তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বের হলো এবং কিছুই নিয়ে ফিরে এলো না।”
— সহীহ Sahih al-Bukhari
৩. আল্লাহর অধিক যিকরের দিন
সূরা হজ্জ
আল্লাহ বলেন:
وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ
অর্থঃ
“এবং তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করবে।”
— সূরা আল-হজ্জ (২২:২৮)
ইবন আব্বাস رضي الله عنه বলেন:
الأيام المعلومات: أيام العشر
অর্থঃ
“নির্দিষ্ট দিন বলতে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন।”
— তাফসীর Tafsir al-Tabari
৪. এই দিনগুলোতে করণীয় আমল
(১) বেশি বেশি তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ
রাসূল ﷺ বলেন:
Arabic:
فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ
অর্থঃ
“এই দিনগুলোতে বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’, এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করো।”
— মুসনাদ Musnad Ahmad
তাকবীরের শব্দ
সাধারণভাবে:
الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، والله أكبر، الله أكبر، ولله الحمد
(২) রোযা রাখা
বিশেষত ৯ জিলহজ্জ (আরাফার দিন)
রাসূল ﷺ বলেন:
Arabic:
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
অর্থঃ
“আরাফার দিনের রোযা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি—এটি আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবে।”
— সহীহ মুসলিম
Sahih Muslim
(৩) কুরবানী
১০ জিলহজ্জ হলো ঈদুল আযহা ও কুরবানীর দিন।
আল্লাহ বলেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
অর্থঃ
“আপনি আপনার রবের জন্য সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।”
— সূরা আল-কাউসার (১০৮:২)
(৪) তাওবা ও ইস্তিগফার
এই দিনগুলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসার উত্তম সময়।
অধিক পাঠ:
أستغفر الله وأتوب إليه
(৫) নফল সালাত, সদকা, কুরআন তিলাওয়াত
এই দিনগুলোর প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
৫. সাহাবাদের আমল
Abdullah ibn Umar এবং Abu Hurairah
এই দশ দিনে বাজারে বের হয়ে জোরে তাকবীর বলতেন, মানুষও তাঁদের সাথে তাকবীর বলত।
— সহীহ বুখারীর তা'লীক
উপসংহার
জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন হলো—
বছরের শ্রেষ্ঠ দিন
আমলের সর্বোত্তম সময়
তাওবার মৌসুম
যিকরের সময়
কুরবানীর প্রস্তুতির দিন
আরাফার রোযার সুযোগ
একজন মুমিনের উচিত এই দিনগুলোকে গাফেলতিতে নষ্ট না করে ইবাদত, তাওবা, যিকর, রোযা ও কুরবানীর মাধ্যমে কাজে লাগানো।
সংক্ষিপ্ত নসীহত
“রমযান চলে গেলে মুমিনের আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ হলো—জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন।”
যে ব্যক্তি এই দিনগুলোকে চিনতে পারবে, সে নিজের আখিরাতকে সুন্দর করতে পারবে ।

হাফিয মোঃ অলিউল্লাহ আলিয়াবী।
১৪/০৫/২০২৬ , বৃহস্পতিবার রাত ১০:০০ ।

15/05/2026

কুরবানির প্রারম্ভিক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উদ্দেশ্য
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
ভূমিকা
কুরবানি (الأضحية / قرباني) ইসলামের একটি মহান ইবাদত। এটি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাকওয়া, আনুগত্য, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের এক উজ্জ্বল প্রতীক। কুরবানির মাধ্যমে বান্দা ঘোষণা করে—“আমার জীবন, আমার সম্পদ, আমার ইচ্ছা—সবই আল্লাহর জন্য।”
আল্লাহ তাআলা বলেন:وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا﴾ — কুরআনের আলোকে কুরবানির সর্বজনীন ইতিহাস
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ ۗ فَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا ۗ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ
“আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানির একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তুর উপর আল্লাহর নাম স্মরণ করে। তোমাদের উপাস্য একমাত্র এক উপাস্য; সুতরাং তাঁরই আনুগত্য স্বীকার করো। আর বিনয়ীদের সুসংবাদ দাও।”
— সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৩৪
এই আয়াতের গভীর তাৎপর্য
এই আয়াত প্রমাণ করে—
কুরবানি শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য নয়
বরং:
আদম (আ.) থেকে শুরু করে
নূহ (আ.), ইবরাহীম (আ.), মূসা (আ.), ঈসা (আ.)
সকল নবীর উম্মতের মধ্যেই
কোনো না কোনো রূপে কুরবানি ছিল আল্লাহর নির্ধারিত ইবাদত।
অর্থাৎ—
কুরবানি একটি সাময়িক সামাজিক রেওয়াজ নয়,
বরং এটি মানব ইতিহাসের প্রাচীনতম ইবাদতগুলোর একটি।
“مَنْسَكًا” শব্দের অর্থ কী?
আরবি “منسك” শব্দের অর্থ—
ইবাদতের নির্ধারিত পদ্ধতি
কুরবানির নিয়ম
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম
তাফসীরবিদগণ বলেন—
এখানে “منسك” দ্বারা প্রধানত:
ذبح القربان (কুরবানি করা)
অর্থাৎ আল্লাহর নামে পশু জবাই করাকে বোঝানো হয়েছে।
কেন প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানি নির্ধারিত হলো?
১. আল্লাহর স্মরণ প্রতিষ্ঠার জন্য
لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ
যাতে মানুষ বুঝে—
এই পশু, এই সম্পদ, এই জীবন—সব আল্লাহর দান।

--+++++++++
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের রব।”
— (সূরা আল-আন‘আম ৬:১৬২)
১. কুরবানির প্রারম্ভিক ইতিহাস
(ক) মানব ইতিহাসের প্রথম কুরবানি — হাবিল ও কাবিল
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কুরবানির ঘটনা ঘটে হযরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের মাধ্যমে।
আল্লাহ বলেন:
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ ۘ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ
“তাদের কাছে আদমের দুই পুত্রের সত্য ঘটনা পাঠ করুন; যখন তারা উভয়ে কুরবানি পেশ করল, তখন একজনের কুরবানি কবুল করা হলো এবং অন্যজনেরটি কবুল করা হলো না।”
— (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:২৭)
শিক্ষা
কুরবানির মূল বিষয় পশু নয়, নিয়ত ও তাকওয়া
আল্লাহ বাহ্যিক রূপ নয়, অন্তরের অবস্থা দেখেন
(খ) ইবরাহীম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.) — কুরবানির মূল ঐতিহ্য
বর্তমান ঈদুল আযহার কুরবানির মূল ভিত্তি হলো হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক পরীক্ষা।
আল্লাহ বলেন:
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَىٰ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ
“যখন সে (ইসমাঈল) তার সঙ্গে চলাফেরার বয়সে পৌঁছল, তখন ইবরাহীম বললেন—হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখছি যে, আমি তোমাকে জবাই করছি।”
— (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০২)
ইসমাঈল (আ.) বললেন:
يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ
“হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা-ই করুন।”
এরপর আল্লাহ বলেন:
وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
“আমি তার পরিবর্তে দিলাম এক মহান কুরবানি।”
— (সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১০৭)
শিক্ষা
আল্লাহর আদেশের সামনে সর্বোচ্চ আত্মসমর্পণ
প্রিয়তম জিনিসও আল্লাহর পথে ত্যাগ করার মানসিকতা
পিতা-পুত্র উভয়ের ঈমানি পরীক্ষা
২. ইসলামে কুরবানির বিধান
রাসূলুল্লাহ ﷺ মদীনায় হিজরতের পর নিয়মিত কুরবানি করেছেন।
হাদিসে এসেছে:
أَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ بِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي
“নবী ﷺ মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন এবং প্রতি বছর কুরবানি করেছেন।”
— সুনান তিরমিযী (১৫০৭)
আরও এসেছে:
مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
“যার সামর্থ্য আছে অথচ সে কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে।”
— ইবন মাজাহ (৩১২৩)
৩. কুরবানির উদ্দেশ্য
(১) তাকওয়া অর্জন
আল্লাহ বলেন:
لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنْكُمْ
“আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের গোশত, না তাদের রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
— (সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩৭)
অর্থ
আল্লাহ পশুর মাংস চান না—চান হৃদয়ের খাঁটি ঈমান।
(২) আল্লাহর আনুগত্যের প্রকাশ
কুরবানি হলো ঘোষণা—
“হে আল্লাহ! আপনি যা চান, আমি তাই করব।”
এটি নিছক সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি ‘ইবাদত’।
(৩) ত্যাগের শিক্ষা
মানুষ সম্পদ ভালোবাসে। কুরবানি শেখায়—
সম্পদ আল্লাহর আমানত
প্রয়োজনে আল্লাহর জন্য তা ব্যয় করতে হবে
(৪) দরিদ্রদের সহায়তা
কুরবানির গোশত গরিব, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মাঝে বণ্টন ইসলামী ভ্রাতৃত্বকে শক্তিশালী করে।
আল্লাহ বলেন:
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ
“তোমরা তা থেকে খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রকে খাওয়াও।”
— (সূরা আল-হাজ্জ ২২:২৮)
(৫) সুন্নাহ জীবিত রাখা
কুরবানি ইবরাহীমী সুন্নাহ এবং মুহাম্মদী আমল—উভয়ই।
রাসূল ﷺ বলেন:
سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ
“এটি তোমাদের পিতা ইবরাহীমের সুন্নাহ।”
— মুসনাদ আহমাদ
৪. কুরবানির সংস্কৃতি: আজকের সমাজে ভুল ধারণা
বর্তমানে অনেকে কুরবানিকে বানিয়ে ফেলেছে—
সামাজিক মর্যাদার প্রতিযোগিতা
বড় পশু দেখানোর অহংকার
লোক দেখানো অনুষ্ঠান
রেওয়াজ মাত্র
এগুলো কুরবানির রূহ নষ্ট করে।
রাসূল ﷺ বলেন:
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ
“সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।”
— সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম
৫. প্রকৃত কুরবানি কী?
প্রকৃত কুরবানি হলো—
গুনাহ ত্যাগ করা
অহংকার জবাই করা
হিংসা হত্যা করা
হারাম থেকে ফিরে আসা
নফসকে আল্লাহর সামনে সমর্পণ করা
শুধু পশু জবাই নয়—নিজেকেও সংশোধন করা।
উপসংহার
কুরবানি ইসলামের একটি গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা। এটি আমাদের শেখায়—
আল্লাহর জন্য বাঁচতে
আল্লাহর জন্য ত্যাগ করতে
আল্লাহর জন্য ভালোবাসতে
আল্লাহর জন্য দান করতে
যে কুরবানি আমাদের চরিত্র পরিবর্তন করে না, তা শুধু গোশতের অনুষ্ঠান হয়ে যায়।
আল্লাহ আমাদের কুরবানিকে কবুল করুন এবং ইবরাহীম (আ.)-এর মতো ঈমান, ইসমাঈল (আ.)-এর মতো আনুগত্য এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মতো ইখলাস দান করুন।
آمين يا رب العالمين

হাফিয মোহাঃ অলিউল্লাহ আলিয়াবী।
১৩/০৫/২০২৬ , বুধবার রাত্রি ৯:০০ ।

05/05/2026

মুনাফিক ও কাফির — সংক্ষিপ্ত পরিচয়, তাদের পার্থক্য, এবং কে বেশি ক্ষতিকর?
ইসলাম মানুষের আকীদা (বিশ্বাস) ও চরিত্রের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণি বর্ণনা করেছে। এর মধ্যে কাফির ও মুনাফিক—উভয়ই এমন ব্যক্তি, যাদের কারণে দ্বীন ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এদের বাস্তবতা ও ক্ষতির ধরন এক নয়।
১. কাফিরের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
কাফির হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ তাআলা, রাসূল ﷺ, ইসলাম ধর্ম বা দ্বীনের অপরিহার্য কোনো বিষয়কে অস্বীকার করে।
অর্থাৎ, সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তা গ্রহণ করে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
অর্থ:
“নিশ্চয় যারা কুফর করেছে, তাদের জন্য সমান—আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন, তারা ঈমান আনবে না।”
(সূরা আল-বাকারা: ৬)
কাফিরের পরিচয়
ইসলামের প্রকাশ্য অস্বীকার
দ্বীনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতা
মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা বা অনাগ্রহ
বাতিল মতবাদ অনুসরণ
সে একজন প্রকাশ্য শত্রু, তাই তাকে চেনা তুলনামূলক সহজ।
২. মুনাফিকের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
মুনাফিক হলো সেই ব্যক্তি, যে মুখে নিজেকে মুসলমান বলে প্রকাশ করে, কিন্তু অন্তরে ঈমান রাখে না।
বাহ্যিকভাবে দ্বীনদার, কিন্তু ভিতরে অবিশ্বাসী।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ
অর্থ:
“যখন মুনাফিকরা আপনার কাছে আসে, তখন বলে—আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ জানেন যে আপনি তাঁর রাসূল, আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।”
(সূরা আল-মুনাফিকূন: ১)
৩. মুনাফিকের লক্ষণ
নবী করীম ﷺ বলেছেন—
آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ:
إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ،
وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ،
وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ
অর্থ:
“মুনাফিকের তিনটি চিহ্ন—
যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে
যখন প্রতিশ্রুতি দেয়, তা ভঙ্গ করে
যখন আমানত রাখা হয়, খিয়ানত করে”
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
আরেক বর্ণনায় এসেছে—
وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ
অর্থাৎ—
“ঝগড়া করলে সীমা লঙ্ঘন করে।”
৪. কে বেশি ভয়ংকর?
মুনাফিক কাফিরের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক
কারণ—
কাফির
সামনে থেকে শত্রুতা করে
তার থেকে বাঁচা সহজ
তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকে
মুনাফিক
বন্ধু সেজে ক্ষতি করে
ভিতর থেকে ইসলামকে দুর্বল করে
মুসলমানদের গোপন কথা শত্রুর কাছে পৌঁছে দেয়
জামাআতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে
দ্বীনের নামে প্রতারণা করে
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ
অর্থ:
“নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।”
(সূরা আন-নিসা: ১৪৫)
এটি অত্যন্ত কঠিন সতর্কবার্তা, যা প্রমাণ করে—নিফাক কত বড় অপরাধ।
৫. সমাজের জন্য ক্ষতি
কাফিরের ক্ষতি
প্রকাশ্য বিরোধিতা
দ্বীনের ওপর আক্রমণ
ফিতনা ও জুলুম
ঈমানদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি
মুনাফিকের ক্ষতি
বিশ্বাস ভঙ্গ করে
জামাআতকে বিভক্ত করে
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান দুর্বল করে
হক ও বাতিলকে মিশিয়ে দেয়
যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করে
ভালো কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করে
তাই অভ্যন্তরীণ শত্রু অনেক সময় বাহ্যিক শত্রুর চেয়েও বেশি ভয়ংকর।
৬. উপদেশমূলক বার্তা
আমাদের শুধু কাফিরদের থেকেই নয়, নিজের ভিতরের নিফাক থেকেও ভয় করা উচিত।
অনেক মানুষ নামায পড়ে, কিন্তু অন্তরে হিংসা রাখে; মুখে ভালো কথা বলে, কিন্তু পিছনে ফিতনা ছড়ায়—এগুলো আমলী নিফাক (কর্মগত মুনাফিকি)।
হযরত উমর (রাঃ)-এর মতো মহান সাহাবিও নিফাককে ভয় করতেন।
তাই আমাদের উচিত—
নিজের অন্তর পরীক্ষা করা
কথা, প্রতিশ্রুতি ও আমানতের হিসাব নেওয়া
চরিত্রকে বিশুদ্ধ করা
সমাপনী উপদেশ
মনে রাখবেন—
প্রকাশ্য শত্রু ততটা ক্ষতি করতে পারে না, যতটা গোপন শত্রু করতে পারে।
আর সবচেয়ে ভয়ংকর সেই ব্যক্তি—
যে মুসলমানদের মাঝে থেকে
মুসলমানদের শিকড় কেটে দেয়।
অতএব—
সত্যিকারের ঈমান অর্জন করুন
ইখলাস (নিষ্ঠা) গ্রহণ করুন
মিথ্যা, খিয়ানত ও প্রতারণা ত্যাগ করুন
অন্তর ও জবানকে পবিত্র রাখুন
যাতে আমরা মুনাফিকি থেকে বাঁচতে পারি এবং আল্লাহর সত্যিকারের বান্দা হতে পারি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সংশোধনের তাওফীক দান করুন। আমীন।

হাফিয আবু আয়েশা আলিয়াবী।
০৫/০৫/২০২৬ ।

05/05/2026

منافق اور کافر — مختصر تعارف، ان کا فرق، اور کون زیادہ نقصان دہ ہے؟
اسلام نے انسانوں کے عقیدہ و کردار کے اعتبار سے مختلف قسمیں بیان کی ہیں۔ ان میں کافر اور منافق دونوں ایسے لوگ ہیں جن سے دین اور معاشرہ متاثر ہوتا ہے، لیکن ان دونوں کی حقیقت اور نقصان کی نوعیت الگ الگ ہے۔
1. کافر کا مختصر تعارف
کافر وہ شخص ہے جو اللہ تعالیٰ، رسول ﷺ، دینِ اسلام یا ضروریاتِ دین میں سے کسی چیز کا انکار کرے۔
یعنی حق واضح ہونے کے باوجود اسے قبول نہ کرے۔
قرآن میں ارشاد ہے:
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
ترجمہ:
بیشک جن لوگوں نے کفر کیا، ان کے لیے برابر ہے کہ آپ انہیں ڈرائیں یا نہ ڈرائیں، وہ ایمان نہیں لائیں گے۔
(سورۃ البقرہ: 6)
کافر کی پہچان
اسلام کا کھلا انکار
دین کے خلاف ظاہر میں مخالفت
مسلمانوں سے دشمنی یا بے رغبتی
باطل نظریات کی پیروی
یہ ایک ظاہری دشمن ہوتا ہے، اس کی پہچان نسبتاً آسان ہوتی ہے۔
2. منافق کا مختصر تعارف
منافق وہ شخص ہے جو زبان سے اپنے آپ کو مسلمان ظاہر کرے، مگر دل میں ایمان نہ رکھے۔
ظاہر میں دین دار، باطن میں بے ایمان۔
قرآن میں ارشاد ہے:
إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ
ترجمہ:
جب منافق آپ کے پاس آتے ہیں تو کہتے ہیں: ہم گواہی دیتے ہیں کہ آپ یقیناً اللہ کے رسول ہیں، اور اللہ جانتا ہے کہ آپ اس کے رسول ہیں، مگر اللہ گواہی دیتا ہے کہ منافق جھوٹے ہیں۔
(سورۃ المنافقون: 1)
3. منافق کی نشانیاں
نبی کریم ﷺ نے فرمایا:
آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ:
إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ،
وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ،
وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ
ترجمہ:
منافق کی تین نشانیاں ہیں:
جب بات کرے تو جھوٹ بولے
وعدہ کرے تو خلاف ورزی کرے
امانت دی جائے تو خیانت کرے
(صحیح البخاری، صحیح مسلم)
ایک روایت میں:
وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ
یعنی: جھگڑا کرے تو حد سے بڑھ جائے۔
4. کون زیادہ خطرناک ہے؟
منافق کافر سے زیادہ خطرناک ہے
کیونکہ:
کافر
سامنے سے دشمنی کرتا ہے
اس سے بچاؤ آسان ہوتا ہے
اس کی نیت ظاہر ہوتی ہے
منافق
دوست بن کر نقصان پہنچاتا ہے
اندر سے اسلام کو کھوکھلا کرتا ہے
مسلمانوں کے راز دشمنوں تک پہنچاتا ہے
صفوں میں انتشار پیدا کرتا ہے
دین کے نام پر دھوکہ دیتا ہے
اسی لیے اللہ تعالیٰ نے فرمایا:
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ
ترجمہ:
بیشک منافق جہنم کے سب سے نچلے درجے میں ہوں گے۔
(سورۃ النساء: 145)
یہ بہت سخت وعید ہے، جو اس بات کی دلیل ہے کہ نفاق کتنا خطرناک جرم ہے۔
5. معاشرے کے لیے نقصان
کافر کا نقصان
کھلی مخالفت
دین پر حملہ
فتنہ اور ظلم
ایمان والوں پر دباؤ
منافق کا نقصان
اعتماد توڑتا ہے
جماعت کو تقسیم کرتا ہے
دینی اداروں کو کمزور کرتا ہے
حق کو باطل سے ملا دیتا ہے
نوجوانوں کو گمراہ کرتا ہے
خیر کے کاموں میں رکاوٹ بنتا ہے
اسی لیے داخلی دشمن اکثر خارجی دشمن سے زیادہ خطرناک ہوتا ہے۔
6. نصیحت آموز پیغام
ہمیں صرف کافروں سے نہیں بلکہ اپنے اندر کے نفاق سے بھی ڈرنا چاہیے۔
بعض لوگ نماز پڑھتے ہیں مگر دل میں حسد رکھتے ہیں، زبان سے خیر کی بات کرتے ہیں مگر پیٹھ پیچھے فساد پھیلاتے ہیں — یہ عملی نفاق ہے۔
حضرت عمر رضی اللہ عنہ جیسے عظیم صحابی بھی نفاق سے ڈرتے تھے۔
تو ہمیں بھی اپنے دل، زبان، وعدے، امانت اور کردار کا محاسبہ کرنا چاہیے۔
اختتامی نصیحت
یاد رکھو!
کھلا دشمن اتنا نقصان نہیں پہنچاتا جتنا چھپا ہوا دشمن پہنچاتا ہے۔
اور سب سے خطرناک وہ شخص ہے جو
مسلمانوں کے درمیان رہ کر
مسلمانوں ہی کی جڑ کاٹتا ہے۔
لہٰذا:
سچا ایمان پیدا کرو
اخلاص اختیار کرو
جھوٹ، خیانت اور دھوکہ چھوڑو
دل و زبان کو پاک رکھو
تاکہ ہم منافقت سے بچ سکیں اور اللہ کے سچے بندے بن سکیں۔
اللہ تعالیٰ ہم سب کو ظاہر و باطن کی اصلاح نصیب فرمائے۔ آمین۔

حافظ ابو عائشہ عالیاوی ۔
٠٥/٠٥/٢٠٢٦

📌 नसीहत भरा पैग़ाम (बंगाल के हालात के संदर्भ में)दुनिया के हर दौर में दो तरह के रवैये सामने आते हैं: एक वह जो खुलकर विरो...
05/05/2026

📌 नसीहत भरा पैग़ाम (बंगाल के हालात के संदर्भ में)
दुनिया के हर दौर में दो तरह के रवैये सामने आते हैं: एक वह जो खुलकर विरोध करता है, और दूसरा वह जो दोस्ती का लिबास ओढ़कर नुकसान पहुँचाता है।
क़ुरआन हमें यह सबक देता है कि: “और जब वे वादा करते हैं तो उसे तोड़ देते हैं, और जब उन्हें अमानत सौंपी जाती है तो उसमें ख़ियानत करते हैं।”
ये वे गुण हैं जिनसे हर मुसलमान को बचना भी है और पहचानना भी है।
आज के हालात में मुसलमानों को सबसे ज़्यादा ज़रूरत है:
जागरूकता (Awareness)
हर नारा, हर वादा, हर बात को आँख बंद करके स्वीकार न करें।
सोचें, परखें, और सच्चाई को समझें।
एकता (Unity)
सबसे बड़ा नुकसान आपसी मतभेद से होता है।
जब हम बंट जाते हैं, तो दूसरों के लिए हमें कमज़ोर करना आसान हो जाता है।
राजनीतिक समझ (Political Awareness)
वोट एक अमानत है।
इसे भावनाओं में बहकर नहीं, बल्कि सोच-समझकर इस्तेमाल करें।
अपनी इस्लाह (Self-Reform)
हमें सिर्फ दूसरों की कमियों पर नज़र नहीं रखनी चाहिए, बल्कि अपने अंदर भी झाँकना चाहिए:
क्या हम सच्चे हैं?
क्या हम अपना वादा पूरा करते हैं?
क्या हम अमानतदार हैं?
अगर हम खुद मज़बूत होंगे, तो कोई हमें आसानी से नुकसान नहीं पहुँचा सकेगा।
⚖️ एक संतुलित बात
याद रखें:
जो खुलकर विरोध करता है, उससे बचाव आसान होता है,
लेकिन जो साथ रहकर नुकसान पहुँचाए, उससे होशियार रहना ज़रूरी होता है।
मगर फैसला हमेशा इंसाफ, हिकमत और तहक़ीक़ के साथ होना चाहिए, सिर्फ भावनाओं से नहीं।
✨ अंतिम नसीहत
मुसलमानों को चाहिए कि:
भावनात्मक नारों से बचें
अपने हित और दीन—दोनों को समझकर फैसला करें
और सबसे बढ़कर अल्लाह पर भरोसा रखें
क्योंकि इज़्ज़त, ताक़त और कामयाबी सिर्फ अल्लाह के हाथ में है, किसी पार्टी या नेता के हाथ में नहीं।

📌 নসীহতমূলক বার্তা (বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে)
পৃথিবীর প্রতিটি যুগে দুই ধরনের আচরণ দেখা যায়—
একটি হলো, যারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে;
আর অন্যটি হলো, যারা বন্ধুত্বের আবরণ পরে ভিতরে ভিতরে ক্ষতি সাধন করে।
পবিত্র কুরআন আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে—
“যখন তারা অঙ্গীকার করে, তখন তা ভঙ্গ করে;
আর যখন তাদের কাছে আমানত রাখা হয়, তখন তারা খিয়ানত করে।”
এগুলো এমন বৈশিষ্ট্য, যেগুলো থেকে প্রত্যেক মুসলমানের বাঁচাও জরুরি, এবং এগুলোকে চিনে নেওয়াও জরুরি।
আজকের পরিস্থিতিতে মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—
১. সচেতনতা (Awareness)
প্রত্যেক স্লোগান, প্রত্যেক প্রতিশ্রুতি, প্রত্যেক কথাকে চোখ বন্ধ করে গ্রহণ করবেন না।
ভাবুন, যাচাই করুন, এবং বাস্তবতা বুঝুন।
২. ঐক্য (Unity)
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় বিভেদ থেকে।
যখন আমরা বিভক্ত হয়ে যাই, তখন অন্যদের জন্য আমাদের দুর্বল করা সহজ হয়ে যায়।
৩. রাজনৈতিক সচেতনতা (Political Awareness)
ভোট একটি আমানত।
এটিকে আবেগে ভেসে নয়, বরং চিন্তা-ভাবনা করে ব্যবহার করুন।
৪. আত্মসংশোধন (Self-Reform)
আমাদের শুধু অন্যদের দোষ-ত্রুটির দিকে তাকালে চলবে না, বরং নিজের ভেতরেও তাকাতে হবে—
আমরা কি সত্যবাদী?
আমরা কি অঙ্গীকার পূরণ করি?
আমরা কি আমানতদার?
যদি আমরা নিজেরা শক্তিশালী হই, তাহলে কেউ সহজে আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।
⚖️ একটি ভারসাম্যপূর্ণ কথা
মনে রাখবেন—
যে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, তার থেকে বাঁচা সহজ হয়;
কিন্তু যে পাশে থেকে ক্ষতি করে, তার থেকে সতর্ক থাকা আরও বেশি জরুরি।
তবে সিদ্ধান্ত সবসময় ন্যায়, প্রজ্ঞা এবং যাচাই-বাছাইয়ের সঙ্গে হওয়া উচিত—
শুধু আবেগ দিয়ে নয়।
✨ শেষ নসীহত
মুসলমানদের উচিত—
আবেগী স্লোগান থেকে দূরে থাকা
নিজের স্বার্থ এবং দ্বীন—উভয়কে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া
এবং সর্বোপরি আল্লাহর উপর ভরসা রাখা
কারণ সম্মান, শক্তি এবং সফলতা শুধু আল্লাহর হাতেই—
কোনো দল বা নেতার হাতে নই।

#ব্যবস্থার_প্রশ্ন #গরিবের_কণ্ঠ #ন্যায়বিচার_কোথায় #দারিদ্র্যের_অসহায়ত্ব #মানবতা_লজ্জিত #তিক্ত_সত্য #শিক্ষারগুরুত্ব !

Address

Sitapahari Pakur
Pakur
816107

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Markazul Ihsan Lita'arufil Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share