16/02/2026
রাত বারোটা পেরোলেই নাকি জায়গাটা বদলে যায়।
দোকানের আলো নিভে যায়। ভিড় থামে। কিন্তু অশ্বত্থ গাছটার ছায়ায় নাকি তখনও কেউ বসে থাকে…
লোকেরা বলে—
ওটা মন্দির নয়, ওটা আদালত।
বড় আদালত। বড়কাছারি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটের অন্দরে ঝিকুরবেড়িয়া। আজ সাধারণ গ্রাম। কিন্তু একসময় এটি ছিল শ্ম'শান-জঙ্গল। সময়টা প্রায় ১৭৫৫। বাংলার নবাব Alivardi Khan-এর শাসনের শেষ পর্ব। মারাঠা বর্গীদের তাণ্ডবে গ্রামবাসীরা আশ্রয় নিত এই নির্জন স্থানে। অঞ্চলটি ছিল Sabarna Roy Choudhury-দের তালুকের অন্তর্গত। সেই ভ'য়াবহ সময়েই জন্ম নেয় এক বিশ্বাস— এই শ্ম'শানে নাকি স্বয়ং ভূতনাথ বিচারসভা বসান।
অন্যায়ের বিচার হয়।
নিরপরাধ রক্ষা পায়।
সেই থেকে নাম—ভূতকাছারি।
আর মানুষের মুখে মুখে—বড়কাছারি।
বহু বছর পরে এক বাকসিদ্ধ সাধু এই শ্ম'শানেই আশ্রয় নেন। তারপর থেকেই আশ্চর্য ঘটনা শুরু হয়। দীর্ঘদিনের মামলা মিটে যায়। অসুখ সেরে ওঠে। নিঃসন্তান দম্পতির কোল ভরে ওঠে। মানুষ বিশ্বাস করে—তিনি সাধু নন, তিনি ভূতনাথের প্রকাশ। হঠাৎ তাঁর দেহাবসান। দাহ করা হয়নি। সমাধিস্থ করা হয় সেই শ্ম'শানেই। আর লোকমুখে প্রচলিত আছে—
সেই সমাধিক্ষেত্র থেকেই জন্ম নেয় এক অশ্বত্থ গাছ। গাছের গোড়ায় স্থাপন করা হয় শিবলি'ঙ্গ। সেই গাছই আজকের বিশ্বাসের কেন্দ্র।
১৯৭৮ সালের ভ'য়াবহ বন্যা প্রাচীন অশ্বত্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। কিন্তু বিশ্বাস ভাঙেনি। ভক্তরা নতুন অশ্বত্থ রোপণ করেন। গড়ে ওঠে বেদী—সেটাই আজকের পূর্ণাঙ্গ মন্দির। এখানে আজও মানুষ ছোট কাগজে নিজের প্রার্থনা লিখে বেঁধে দেয়। এখানে পাণ্ডা প্রথা নেই—মানুষ নিজেই পূজা দেয়। দুধপুকুরে স্নান করে অনেকে দণ্ডি কেটে আসে। মঙ্গলবার ও শনিবার—অসংখ্য মানুষের ঢল নামে। জমিজমা বিবাদ, অসুখ, সন্তান কামনা, বিয়ে, প্রেম— সব সমস্যার শেষ ভরসা যেন এই বড় আদালত।
ইতিহাস একভাবে ব্যাখ্যা দেবে,
লোককথা আরেকভাবে বলবে।
কিন্তু যারা সন্ধ্যার পর অশ্বত্থের ছায়ায় দাঁড়িয়েছে,
তারা জানে—ওখানে বাতাসও আলাদা লাগে।
সব শব্দ থেমে গেলে, পাতার ফাঁকে ফাঁকে যেন কারও নীরব উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
হয়তো সেটা বিশ্বাস।
হয়তো ভয়।
হয়তো ভরসা।
কিন্তু একটা কথা আজও মানুষ বলে—
এই আদালতে অন্যায় টেকে না।
🔱 জয় বাবা বড়কাছারি
🔱 জয় বাবা ভূতনাথ 🙏