Hafizur Rahaman

Hafizur Rahaman Islam is the best religion in the world.

19/12/2023

ইসলামের যে পথে অর্থ উপার্জনে নিষেধাজ্ঞা

সাধারণভাবে, অর্থ হলো কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় বা সেবা গ্রহণ বা ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের উপাদান। অর্থ প্রধানত বিনিময়ের মাধ্যম, আয়-ব্যয়ের একক, মজুত দ্রব্যর মূল্য এবং বিভিন্ন সেবার পরিশোধের মান হিসেবে কাজ করে। যে কোনো উপাদান বা যাচাইযোগ্য স্মারক এ কাজগুলো করে থাকলে তা অর্থ হিসেবে বিবেচিত হবে। পৃথীবির সব দেশেই অর্থের প্রচলন আছে। যদিও বিভিন্ন দেশ অর্থ লেনদেন এর মাধ্যম হিসাবে বিভিন্ন মুদ্রা ব্যাবহার করে থাকে। ভারতবর্ষ রুপি, বাংলাদেশ টকা, আমেরিকা ডলার ইত্যাদি ইত্যাদি।
আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে মুদ্রার ব্যাবহার ছিল না। তখন বিনিময় প্রথা চালু ছিল। দ্রব্যের বিনিময়ে দ্রব্য লেনদেন হত। তুলনামূলক অর্থমূল্য নির্ধারণ করে মানুষ লেনদেন ক্রিয়া সম্পন্ন করত। আস্তে আস্তে সভ্যতার উন্নতি ও মানুষের দৈনন্দিন চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে মুদ্রার প্রচলন হয়। আধুনিক পণ্ডিতদের মতে, ৬৫০-৬০০ খ্রিষ্ট পূর্বে আবিষ্কৃত হয় প্রথম স্ট্যাম্প কয়েন। ভ্রমণকারী মারকো পোলো এবং উইলিয়াম অব রাবরাকের হিসাবের মাধ্যমে ইউরোপে কাগজের মুদ্রা পরিচিতি পায়। স্টকহোলমস্ ব্যানকো ১৬৬১ সালে ইউরোপে প্রথম ব্যাংক নোট ইস্যু করে। সেখানে একই সাথে কয়েনের ব্যবহারও ছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বের প্রায় সব দেশ সোনার মান গ্রহণ করে। নির্ধারিত পরিমাণ সোনার সাথে তারা তাদের বৈধ মূল্যবেদন পত্র নোট সমর্থন করে ।
ইসলামে অর্থ উপার্জনে কিছু বিধিনিষেধ বেধে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ কার্যকর। নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমরা ইচ্ছা করলেই যেমন খুশি অর্থ উপার্জন করতে পারিনা। অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হতে হবে বৈধ। কর্মক্ষমতা ও উপায় থাকলেই অর্থ উপার্জনের সমস্ত ক্ষেত্রে আপনি বিচরণ করতে পারেন না। একই ভাবে উপার্জিত অর্থ ও যে কোন খাতে খরচ করা যাবে না। "আমার টাকা আমি যেখানে খুশি ব্যাবহার করব কেউ কিছু বলতে পারবে না" এই অধিকার ইসলাম আমাকে আপনাকে দেই নি। কারণ যেমন খুশি অর্থ উপার্জন এবং যেমন খুশি অর্থ ব্যাবহার সমাজে অসম বণ্টনের সৃষ্টি হয় ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয় । কিন্তু ইসলাম সব সময় ভারসাম্যপূর্ন সমাজ গঠনে গুরুত্ব আরোপ করে।
বর্তমান বিশ্বে সম্পদের অসম বণ্টনের ফলে এমন ভাবে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে যে ধনী আরো ধনী হয়ে যাচ্ছে এবং গরীব আরো গরীব হয়ে যাচ্ছে। ৪% মানুষ ৬৪% সম্পদের মালিক এবং ৬৯% মানুষ ৩.৪% সম্পদের মালিক। দেখা যাচ্ছে আমেরিকার দশ জন ধনীর অর্থ সম্পদ তৃতীয় বিশ্বের তিনটি দেশের মোট জিডিপির চাইতে বেশি। ধনী ব্যাক্তিরা বিভিন্ন উপায়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন । সুকৌশলে রাষ্ট্রীয় মদতে গরীবের সম্পদ কুক্ষিগত করছেন। এক দিকে বিলাশিতার সয়লাব তো অন্যদিকে দারিদ্রতার হাহাকার। একদিকে হাজার টাকার মদের ফোয়ারা অন্যদিকে একটু পানীয় জলের জন্য কত মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছে। ইসলাম এই বেপরোয়া অর্থনীতিকে সমর্থন করে না।
যে যে ক্ষেত্রে ইসলাম অর্থ উপার্জনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তার কয়েকটি তুলে ধরা হল।
1. উৎকোচ: অর্থাৎ কাজের ক্ষেত্রে উপরি পাওনা নেয়া যাবে না। কারো সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বিপদে ফেলে নির্ধারিত অর্থের বেশি নিয়ে কাজ করে দেওয়া বা প্রচলিত অর্থে ঘুষ নেওয়া যাবে না।
وَ لَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَكُمْ بَیْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَ تُدْلُوْا بِهَاۤ اِلَى الْحُكَّامِ لِتَاْكُلُوْا فَرِیْقًا مِّنْ اَمْوَالِ النَّاسِ بِالْاِثْمِ وَ اَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ۠

আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে খেয়ো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোন উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও। ২ আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১৮৮
হাদীসে বিবৃত হয়েছে, নবী ﷺ বলেছেনঃانما انا بشر وانتم تختصمون الى ولعل بعضكم يكون الحن بحجته من بعض فاقضى له على نحو ما اسمع منه- فمن قضيت له بشئ من حق اخيه فانما اقضى له قطعة من النار“
আমি তো একজন মানুষ। হতে পারে, তোমরা একটি মামলা আমার কাছে আনলে। এক্ষেত্রে দেখা গেলো তোমাদের এক পক্ষ অন্য পক্ষের তুলনায় বেশী বাকপটু এবং তাদের যুক্তি-আলোচনা শুনে আমি তাদের পক্ষে রায় দিতে পারি। কিন্তু জেনে রাখো, তোমার ভাইয়ের অধিকারভুক্ত কোন জিনিস যদি তুমি এভাবে আমার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লাভ করো, তাহলে, আসলে তুমি দোজখের একটি টুকরা লাভ করলে।” বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী
এখন অফিস আদালত প্রত্যেকটা জায়গায় ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। মাস মাইনের চাইতে ঘুষের টাকা বেশি আয় করতে সকলে সচেষ্ট। অফিসের ছোট বাবু থেকে নিয়ে বড় বাবু কেউ বাদ যাচ্ছেন না। এমন কি পবিত্র হজ্জ পালন করতে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনও ঘুষ না দিলে হয় না।
2. সম্পদ আত্মসাৎ: ব্যাক্তি বা সমষ্টির সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া খেয়ানত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
وَ مَا كَانَ لِنَبِیٍّ اَنْ یَّغُلَّ١ؕ وَ مَنْ یَّغْلُلْ یَاْتِ بِمَا غَلَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ١ۚ ثُمَّ تُوَفّٰى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ
খেয়ানত করা কোন নবীর কাজ হতে পারে না। যে ব্যক্তি খেয়ানত করবে কিয়ামতের দিন সে নিজের খেয়ানত করা জিনিস সহকারে হাজির হয়ে যাবে। তারপর প্রত্যেকেই তার উপার্জনের পুরোপুরি প্রতিদান পেয়ে যাবে এবং কারো প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।৩ আলে-ইমরান, আয়াত: ১৬১
3. চুরি: অর্থাৎ অন্যের সম্পদ না বলে নেওয়া যাবে না, নিলে চুরি বলে গণ্য হবে।
وَ السَّارِقُ وَ السَّارِقَةُ فَاقْطَعُوْۤا اَیْدِیَهُمَا جَزَآءًۢ بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِّنَ اللّٰهِ١ؕ وَ اللّٰهُ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ
চোর-পুরুষ বা নারী যেই হোক না কেন, উভয়ের হাত কেটে দাও। এটা তাদের কর্মফল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আল্লাহর শক্তি সবার ওপর বিজয়ী এবং তিনি জ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ। ৫ আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩৮
4. এতিমের অর্থ অন্যায় ভাবে তসরুফ: পিতা মাতা নেই এমন শিশুর পিতা বা মাতার রেখে যাওয়া সম্পদ তাদের বুদ্ধি না থাকার কারণে তসরুফ করা যাবে না।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَاْكُلُوْنَ اَمْوَالَ الْیَتٰمٰى ظُلْمًا اِنَّمَا یَاْكُلُوْنَ فِیْ بُطُوْنِهِمْ نَارًا١ؕ وَ سَیَصْلَوْنَ سَعِیْرًا۠
যারা এতিমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা আগুন দিয়ে নিজেদের পেট পূর্ণ করে এবং তাদেরকে অবশ্যি জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে ফেলে দেয়া হবে। ৪ আন-নিসা, আয়াত: ১০
"তোমরা ইয়াতিমদের প্রতি এরূপই খেয়াল রাখ যেমন তুমি তোমার মৃত্যুর পর তোমার ছোট সন্তানদের প্রতি অন্য লোকদের খেয়াল রাখার কামনা কর। তুমি যেমন চাও না যে, তাদের মাল অন্যেরা অন্যায়ভাবে খেয়ে নিক এবং তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে দরিদ্র থেকে যাক, তদ্রুপ তুমিও অন্যদের সন্তানগণের মাল খেয়ো না।'
5. ওজনে কম করা: ওজনে কম দেওয়া বা বেশি করে নেওয়া ঠিক নয়। আমরা ইতিহাস দেখলে দেখব এই কারণে একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
وَ اِذَا كَالُوْهُمْ اَوْ وَّ زَنُوْهُمْ یُخْسِرُوْنَ

এবং তাদেরকে ওজন করে বা মেপে দেবার সময় কম করে দেয়। ৮৩ আল-মুতাফফিফীন, আয়াত: ৩
6. নৈতিক অধঃপতন সৃষ্টিকারী ব্যবসা: এমন ব্যবসা করা যাবে না যাতে করে সমাজে অধঃপতন সৃষ্টি হয়। তা যতই মুনাফা অর্জনে সহায়তা করুক না কেন।নারী পুরুষের অশ্লীল নৃত্যের উপকরণ, খেলা ধুলার উপর বাজি ধরা ইত্যাদি।

اِنَّ الَّذِیْنَ یُحِبُّوْنَ اَنْ تَشِیْعَ الْفَاحِشَةُ فِی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ١ۙ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ١ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ
যারা চায় মু’মিনদের সমাজে অশ্লীলতার প্রসার ঘটুক তারা দুনিয়ায় ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না।২৪ আন্-নূর, আয়াত: ১৯
7. বেশ্যাবৃত্তি ও দেহ ব্যবসা কৃত অর্থ: বর্তমানে বিভিন্ন উপায়ে এই ব্যবসায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক মহিলা, পুরুষ জড়িত। পতিতালয়, ক্লাব, বডি ম্যাসাজ সেন্টার নাম দিয়ে এই ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন ক্লাব, বডি ম্যাসাজ সেন্টার যেখানে মহিলাদের ভাড়া খাটানো হয়। এখান থেকে যৌণ রোগের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সূত্রপাত হয়। ইসলামে এই ব্যবসা কে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

وَ لْیَسْتَعْفِفِ الَّذِیْنَ لَا یَجِدُوْنَ نِكَاحًا حَتّٰى یُغْنِیَهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ١ؕ وَ الَّذِیْنَ یَبْتَغُوْنَ الْكِتٰبَ مِمَّا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوْهُمْ اِنْ عَلِمْتُمْ فِیْهِمْ خَیْرًا١ۖۗ وَّ اٰتُوْهُمْ مِّنْ مَّالِ اللّٰهِ الَّذِیْۤ اٰتٰىكُمْ١ؕ وَ لَا تُكْرِهُوْا فَتَیٰتِكُمْ عَلَى الْبِغَآءِ اِنْ اَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِّتَبْتَغُوْا عَرَضَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا١ؕ وَ مَنْ یُّكْرِهْهُّنَّ فَاِنَّ اللّٰهَ مِنْۢ بَعْدِ اِكْرَاهِهِنَّ غَفُوْرٌ رَّحِیْم..........আর তোমাদের বাঁদীরা যখন নিজেরাই সতী সাধ্বী থাকতে চায় তখন দুনিয়াবী স্বার্থলাভের উদ্দেশ্যে তাদেরকে দেহ বিক্রয়ে বাধ্য করো না। আর যে তাদেরকে বাধ্য করে, তবে এ জোর-জবরদস্তির পর আল্লাহ‌ তাদের জন্য ক্ষমাশীল ও করুণাময়। ২৪ আন্-নূর, আয়াত: ৩৩

8. মদ, জুয়া, মূর্তিগড়া, ভাগ্যগণনা সম্পর্কিত ব্যবসা: মদ উৎপাদন, বিক্রয়, সরবরাহ জুয়া সে যে নামেই হোক না কেন (ড্রিম 11, রামি,যুপি) তা নিষিদ্ধ। পূজার বেদীতে মানত স্বরূপ অর্থ উপার্জন এবং দেব দেবীর নামে ভাগ্যগণনা করে অর্থ উপার্জন কে ইসলামে মান্যতা দেওয়া হয় নি। এখন এই পন্থায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলছে।

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنَّمَا الْخَمْرُ وَ الْمَیْسِرُ وَ الْاَنْصَابُ وَ الْاَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّیْطٰنِ فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ

হে ঈমানদারগণ! এ মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকলাপ। এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে। ৫ আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৯০
9. সুদ: ইসলামে সুদকে হারাম ও ব্যবসা কে হালাল করা হয়েছে। সুদ গরীবকে শোষণের হাতিয়ার। এর মাধ্যমে ধনী আরো ধনী হয় গরীব আরো গরীব হয়। এখানে অর্থের স্রোত দ্বিমুখী না হয়ে একমুখী হয়। অর্থ শুধু গরীব থেকে ধনীর দিকে প্রবাহিত হয়। গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করলে দেখা যাবে অর্থ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করার সব চেয়ে বড় মারণাস্ত্র হচ্ছে সুদ। পুঁজিবাদের মূল বিষয় বস্তু সুদ। একে অপরের পরিপূরক । সুদ ছাড়া পুঁজিবাদ কল্পনা করা যায় না। পুঁজিবাদ ছাড়া সুদ কল্পনা করা যায় না। কখনো কখনো মানুষের বিপদের মাত্রা কে মানদণ্ড করে সুদকে নির্ধারণ করা হয়। এখানে মানবিকতার পরিবর্তে সৈরাচারকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই সুদ কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণ ডেকে আনে। সেই জন্য সুদের ব্যবসা কে অবৈধ বলা হয়েছে।

اَلَّذِیْنَ یَاْكُلُوْنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوْمُوْنَ اِلَّا كَمَا یَقُوْمُ الَّذِیْ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیْطٰنُ مِنَ الْمَسِّ١ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْۤا اِنَّمَا الْبَیْعُ مِثْلُ الرِّبٰوا١ۘ وَ اَحَلَّ اللّٰهُ الْبَیْعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا١ؕ فَمَنْ جَآءَهٗ مَوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ فَانْتَهٰى فَلَهٗ مَا سَلَفَ١ؕ وَ اَمْرُهٗۤ اِلَى اللّٰهِ١ؕ وَ مَنْ عَادَ فَاُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ١ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ

কিন্তু যারা সুদ খায় তাদের অবস্থা হয় ঠিক সেই লোকটির মতো যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে। তাদের এই অবস্থায় উপনীত হবার কারণ হচ্ছে এই যে, তারা বলেঃ “ব্যবসা তো সুদেরই মতো।” অথচ আল্লাহ‌ ব্যবসাকে হালাল করে দিয়েছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। কাজেই যে ব্যক্তির কাছে তার রবের পক্ষ থেকে এই নসীহত পৌঁছে যায় এবং ভবিষ্যতে সুদখোরী থেকে সে বিরত হয়, সে ক্ষেত্রে যা কিছু সে খেয়েছে তাতো খেয়ে ফেলেছেই এবং এ ব্যাপারটি আল্লাহর কাছে সোপর্দ হয়ে গেছে। আর এই নির্দেশের পরও যে ব্যক্তি আবার এই কাজ করে, সে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে সে থাকবে চিরকাল। ২ আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৭৫/২৭৮/২৮০, আলে ইমরান ১৩০
সুদ হারাম বোঝাতে গিয়ে নবী করীম সাঃ বর্ণনা করেন " সুদ এমন একটি বিরাট গোনাহ যে, একে সত্তরটি ভাগে বিভক্ত করলে তার সব চাইতে হালকা অংশটিও নিজের মায়ের সাথে যীনা করার সমান গোনাহের শামিল।"-- ইবনে মাজাহ, বায়হাকি
এ ছাড়াও ধন সঞ্চয়ের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আমার সম্পদ আমি যত খুশি জমিয়ে রাখব এ অনুমতি ইসলাম দেয় না। কারণ ধনের আবর্তন বন্ধ হয়ে গেলে ধন বণ্টনে ভারসাম্য বজায় থাকে না। এর ফলে সমাজের বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করে।

وَ لَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ یَبْخَلُوْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ هُوَ خَیْرًا لَّهُمْ١ؕ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ١ؕ سَیُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهٖ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ١ؕ وَ لِلّٰهِ مِیْرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ١ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ۠

আল্লাহ যাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তারপরও তারা কার্পণ্য করে, তারা যেন এই কৃপণতাকে নিজেদের জন্য ভালো মনে না করে। না, এটা তাদের জন্য অত্যন্ত খারাপ। .................. ৩ আলে-ইমরান, আয়াত: ১৮০

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنَّ كَثِیْرًا مِّنَ الْاَحْبَارِ وَ الرُّهْبَانِ لَیَاْكُلُوْنَ اَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ١ؕ وَ الَّذِیْنَ یَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَ الْفِضَّةَ وَ لَا یُنْفِقُوْنَهَا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ١ۙ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ اَلِیْمٍۙ

হে ঈমানদারগণ! এ আহলে কিতাবদের অধিকাংশ আলেম ও দরবেশের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায় পদ্ধতিতে খায় এবং তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে। যারা সোনা রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে যন্ত্রণাময় আযাবের সুখবর দাও। ৯ আত-তওবা, আয়াত: ৩৪
এক কথায় এমন কোন পন্থা বা পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে না যার ফলে সমাজে কল্যাণ স্থগিত হয়ে যায়, সমাজে সম্পদের ভারসাম্য নষ্ট হয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যহত হয়, ধনী দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, সম্পদের আবর্তন বন্ধ হয়ে যায়, মানুষের মধ্যে কৃত্রিম খাদ্যাভাব তৈরি হয় ও সমাজ ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে যায় , সেই সব কিছু কে ইসলাম মান্যতা দেয় না।

28/03/2023

Hmm🤍

28/03/2023

Ji, Hmm 🤍

28/03/2023

❤️❤️❤️

28/03/2023

Inshaallah 🌼

28/03/2023

Hmm 🤍

28/03/2023

🤍🤍🤍

28/03/2023

🌼🤍🌼

28/03/2023

😇😇😇

Address

Naihati

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hafizur Rahaman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share