হরে কৃষ্ণ

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ ��

শ্রী গুরু আজ্ঞা - ব্যাসপূজা নির্দেশনা "আমরা চাই মানুষেরা যেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান হয় এবং মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আম...
16/06/2026

শ্রী গুরু আজ্ঞা - ব্যাসপূজা নির্দেশনা

"আমরা চাই মানুষেরা যেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান হয় এবং মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আমরা ভগবানের দিব্যনাম জপ-কীর্তন করতে চাই এবং আমরা ভক্তিযোগ অনুশীলন করতে চাই। আমরা যমদূতদের ছুটিতে পাঠাতে চাই। ”

~শ্রীল জয়পতাকা স্বামী,
২৯শে মার্চ, ২০২৬
শ্রীধাম মায়াপুর

নরোত্তম দাস ঠাকুরের সম্পূর্ণ কালানুক্রমিক জীবনকাহিনী (গল্পের আকারে)নরোত্তম দাস ঠাকুর গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাসের এক উজ্জ্বল ...
15/06/2026

নরোত্তম দাস ঠাকুরের সম্পূর্ণ কালানুক্রমিক জীবনকাহিনী (গল্পের আকারে)

নরোত্তম দাস ঠাকুর গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জীবন ভক্তি, ত্যাগ, গুরুসেবা এবং শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নিচে তাঁর জীবনের ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে গল্পের আকারে তুলে ধরা হলো। উল্লেখ্য, এর অনেক ঘটনাই গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্য ও সাধু-জীবনীগ্রন্থে বর্ণিত অলৌকিক লীলাকথার অংশ।

১. খেতুরীতে শুভ আবির্ভাব

বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলের খেতুরীতে রাজা কৃষ্ণানন্দ দত্ত ও রানী নারায়ণী দেবীর ঘরে মাঘী পূর্ণিমার পবিত্র তিথিতে এক পুত্রের জন্ম হলো। জ্যোতিষীরা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন—

> “এই শিশু হয় এক মহান রাজা হবে, নয়তো সমগ্র পৃথিবীতে ভক্তির প্রচারক হবে।”

শিশুটির নাম রাখা হলো নরোত্তম—অর্থাৎ “মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ”।

২. শৈশব থেকেই ভগবদ্ভক্তি

অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলায় তাঁর খুব একটা মন বসত না। তিনি ভগবানের নাম শুনতে, সাধুদের কথা শুনতে এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কাহিনী শুনে অশ্রুসিক্ত হতে ভালোবাসতেন।

রাজপ্রাসাদের ঐশ্বর্য তাঁর হৃদয়কে আকর্ষণ করতে পারেনি। বরং তাঁর মনে সবসময় প্রশ্ন জাগত—

> “কীভাবে ভগবানকে পাওয়া যায়?”

৩. পদ্মা নদীতে প্রেমপ্রাপ্তির অলৌকিক ঘটনা

গৌড়ীয় বৈষ্ণব পরম্পরায় বলা হয়, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পূর্বেই পদ্মা নদীর তীরে তাঁর প্রেমভক্তি রেখে গিয়েছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন যে একদিন নরোত্তম এসে তা লাভ করবেন।

এক রাতে নরোত্তম স্বপ্নে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর দর্শন পান। তিনি বলেন—

> “ভোরে পদ্মা নদীতে স্নান করো।”

ভোরে স্নান করতেই তিনি গভীর কৃষ্ণপ্রেমে অভিভূত হয়ে যান। তাঁর হৃদয়ে এমন প্রেমের জাগরণ ঘটে যে সংসারের সমস্ত আকর্ষণ তুচ্ছ মনে হতে থাকে।

৪. রাজপ্রাসাদ ত্যাগ

মাত্র কৈশোরেই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন—রাজ্য, ধন-সম্পদ, বিলাস সব ছেড়ে দেবেন।

পরিবারের অজান্তে তিনি একদিন গোপনে বেরিয়ে পড়লেন।

তাঁর একমাত্র লক্ষ্য—

বৃন্দাবনে গিয়ে ভগবানের প্রকৃত ভক্তদের সান্নিধ্য লাভ করা।

৫. বৃন্দাবনে আগমন

দীর্ঘ কষ্টকর পথ অতিক্রম করে তিনি বৃন্দাবনে পৌঁছান।

সেখানে তিনি মহান বৈষ্ণব আচার্যদের সান্নিধ্যে আসেন এবং বিশেষভাবে শাস্ত্রজ্ঞানের জন্য শ্রীজীব গোস্বামীর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

৬. লোকনাথ গোস্বামীর কাছে দীক্ষার আকাঙ্ক্ষা

নরোত্তমের ইচ্ছা ছিল লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্য হওয়ার।

কিন্তু লোকনাথ গোস্বামী প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—

> “আমি কোনো শিষ্য গ্রহণ করব না।”

নরোত্তম বারবার অনুরোধ করেও প্রত্যাখ্যাত হলেন।

৭. গোপন গুরুসেবার অসাধারণ লীলা

তিনি ভাবলেন—

> “অনুরোধে যদি না হয়, তবে সেবার মাধ্যমে গুরুকে সন্তুষ্ট করব।”

প্রতিদিন গভীর রাতে তিনি গোপনে আশ্রম পরিষ্কার করতেন এবং যেখানে গুরুদেব প্রাতঃকৃত্য করতেন সেই স্থানও নিজ হাতে পরিষ্কার করতেন।

প্রায় এক বছর ধরে কেউ জানতেই পারল না কে এই সেবা করছে।

অবশেষে লোকনাথ গোস্বামী একদিন বিষয়টি জানতে পেরে বিস্মিত হলেন।

তিনি নরোত্তমকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন—

> “আজ থেকে তুমি-ই আমার শিষ্য।”

গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মে এটি গুরুসেবার সর্বোচ্চ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৮. কঠোর সাধনা

দীক্ষার পর নরোত্তম দাস ঠাকুর কঠোর ভজন, জপ, কীর্তন ও শাস্ত্র অধ্যয়নে নিজেকে নিবেদিত করেন।

তিনি অতি অল্প আহার করতেন এবং অধিকাংশ সময় কৃষ্ণস্মরণে নিমগ্ন থাকতেন।

৯. শ্রীনিবাস আচার্য ও শ্যামানন্দের সঙ্গে প্রচার

পরে শ্রীজীব গোস্বামীর নির্দেশে নরোত্তম দাস ঠাকুর, শ্রীনিবাস আচার্য ও শ্যামানন্দ প্রভু বাংলায় ফিরে আসেন।

তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল—

বৃন্দাবনের গোস্বামীদের রচিত শাস্ত্র প্রচার,

হরিনাম সংকীর্তনের প্রসার,

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেমধর্ম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

১০. খেতুরী মহোৎসব

নরোত্তম দাস ঠাকুরের জীবনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ঘটনা হলো খেতুরী মহোৎসব।

তিনি অসংখ্য বৈষ্ণবকে আমন্ত্রণ জানান।

সেখানে বিশাল কীর্তন, ভোগ, পূজা ও ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্যে বিশ্বাস করা হয় যে, সেই মহাসংকীর্তনের সময় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও পঞ্চতত্ত্ব অলৌকিকভাবে আবির্ভূত হয়ে নৃত্য করেছিলেন।

১১. তাঁর অমর পদাবলী

তিনি ভক্তদের জন্য অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী গান রচনা করেন।

“হরি হরি! বিফলে জনম গোইনু”

এখানে তিনি আক্ষেপ করে বলেন—

> “মানবজন্ম পেয়েও যদি রাধাকৃষ্ণের ভজন না করি, তবে এই জন্ম বৃথা।”

“গৌরাঙ্গ বলিতে হবে”

এই গানে তিনি বোঝান—

শ্রীগৌরাঙ্গের নাম করতে করতে হৃদয়ে প্রেম জাগ্রত হবে এবং চোখে অশ্রু প্রবাহিত হবে।

“নিতাই পদকমল”

এখানে তিনি শেখান—

শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর চরণই পতিত জীবের একমাত্র আশ্রয়।

“শ্রী গুরু চরণ পদ্ম”

এই পদে তিনি বলেন—

গুরুর চরণপদ্মই ভক্তির মূল ভিত্তি; গুরু-অনুগ্রহ ছাড়া ভগবৎপ্রেম লাভ করা কঠিন।

১২. শেষ জীবনের বিরহ

জীবনের শেষ দিকে তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ প্রভু এবং বৃন্দাবনের গোস্বামীদের বিরহে গভীরভাবে কাতর হয়ে পড়েন।

তাঁর বহু গানে এই বিরহের ব্যথা প্রকাশ পেয়েছে।

১৩. তিরোভাব (অন্তর্ধান লীলা)

তাঁর তিরোভাব সম্পর্কে বিভিন্ন বৈষ্ণব গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।

একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্যগত কাহিনিতে বলা হয়, তিনি পদ্মা নদীর তীরে গভীর কৃষ্ণবিরহে ভগবানের নামসংকীর্তন করতে করতে নিত্যলীলায় প্রবেশ করেন। অন্য কিছু বর্ণনায় তাঁর অন্তিম সময়ের বিবরণ ভিন্নভাবে এসেছে। তাই এ ঘটনাকে ঐতিহ্যগত বৈষ্ণব বিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

নরোত্তম দাস ঠাকুরের জীবন থেকে মূল শিক্ষা

গুরুর প্রতি নিঃস্বার্থ সেবাই প্রকৃত ভক্তির ভিত্তি।

হরিনাম সংকীর্তন জীবনের সর্বোচ্চ সম্পদ।।

অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী হওয়া ভক্তির অন্যতম লক্ষণ।

ভগবৎপ্রেম অর্জনের জন্য ত্যাগ, অধ্যবসায় ও আন্তরিকতা অপরিহার্য।

ভক্তির আসল পরিচয় বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, হৃদয়ের বিশুদ্ধতা।

যারা যারা পুরুষোত্তম মাস ব্রত করেছেন তাদের জন্য পারন মন্ত্র
13/06/2026

যারা যারা পুরুষোত্তম মাস ব্রত করেছেন তাদের জন্য পারন মন্ত্র

10/06/2026
⁉⁉*নববিধা ভক্তি বলতে কি বোঝায়?** #উত্তর: নয় রকমের ভজন* *অনুশীলন। যেমন*:-___১)  #শ্রবণ: ভগবদগীতা, ভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত প...
02/06/2026

⁉⁉*নববিধা ভক্তি বলতে কি বোঝায়?*
* #উত্তর: নয় রকমের ভজন* *অনুশীলন। যেমন*:-___

১) #শ্রবণ: ভগবদগীতা, ভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত প্রভৃতি শাস্ত্র শ্রবণ করতে হয়। বৈষ্ণবের জীবন-চরিত, ভগবানের নাম, ভগবৎ বিষয়ক সঙ্গীত শ্রবণ করতে হয়।

২) #কীর্তন: ভগবানের নাম গান করতে হয়। ভগবানের কথা ব্যাখ্যা করতে হয়। ভাগবত কথা অন্যকে শোনাতে হয়। ভগবানের কাছে প্রার্থনা স্তব করতে হয়।

৩) #স্মরণঃ কৃষ্ণের নাম রূপ গুণ লীলা স্মরণ করতে হয়। কৃষ্ণের নাম জপ করতে হয়।

যদি এ জীবনে শ্রীকৃষ্ণকথা শ্রবণ কীর্তন স্মরণ না অনুশীলন করা হয়, তবে জড় জাগতিক বিষয়ে মন যুক্ত হয়ে দুঃখময় জন্ম-মৃত্যুর আবর্তে পতিত থাকতে হবে

৪) #পাদসেবন: শ্রীবিগ্রহ দর্শন করা, স্পর্শ করা, মন্দির পরিক্রমা করা, ধাম পরিদর্শন করা, তুলসীসেবা, সাধু সেবা করা প্রভৃতি ভক্তি-অঙ্গ পাদ সেবনের অন্তর্ভুক্ত।

৫) #অর্চন: ভগবৎ বিগ্রহ পূজা করা, গুরু পূজা, ভগবৎ-আবির্ভাব তিথি পালন করা, কার্তিক ব্রত, একাদশী ব্রত, মাঘস্নান প্রভৃতি অর্চনের অন্তর্গত।

৬) #বন্দন: শ্রীভগবানের উদ্দেশ্যে প্রণতি নিবেদন করতে হয়।

৭) #দাস্যঃ আমি কৃষ্ণদাস - মনে মনে এই অভিমান থাকবে। সমস্ত কর্ম শ্রীকৃষ্ণকে অর্পণ করতে হবে।

৮) #সখ্য: কৃষ্ণের প্রতি বন্ধুভাব লক্ষণ। আমার নানা অসুবিধা হচ্ছে এই ভেবে এটা চাই ওটা চাই। শীতে কাপড় চাই। গরমে পাখা চাই। তা হলে কৃষ্ণেরও সেগুলি চাই। সেজন্য ব্যবস্থা করা হয়। এই খাবার সৌ খাবার আমার চাই, তবে কৃষ্ণেরও তা আগে চাই।

৯) #আত্মনিবেদন: কায় মন বাক্য শ্রীকৃষ্ণে অর্পণ করার নামে আত্মনিবেদন। নিজের জন্য চেষ্টাশূন্য হয়ে কৃষ্ণের জন্য চেষ্টাময় হওয়া আত্মনিবেদনের লক্ষণ। কৃষ্ণের ইচ্ছার অনুগত থাকা এবং নি ইচ্ছাকে কৃষ্ণের ইচ্ছার অধীন করা।

🌿🦋🌹🌿🦋💖🌿💓🎆🌿💞🌻🧡🍒🌻🎆💓🌿💖🦋💚🌿🌹🦋💖🌿💓🎆🌟💐🧡💓🌻🌿💖🌿💚🦋🌿💓🌻🧡🎆💞🌿💖🦋🌿💚🌹🦋💖🌿💞🎆🧡🍒💓💞💖🌿💚🦋🌿💖🦋🌿💚🦋🌹🌿💖🦋🌹🌿

⁉⁉ শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর গান করেছেন-ওহে! বৈষ্ণব ঠাকুর,—

ছয় বেগ দমি ছয় দোষ শোখি'

*ছয় গুণ দেহ দাসে।
ছয় সৎসঙ্গ, দেহ হে আমারে,
বসেছি সঙ্গের আশে ॥

-এই কথাগুলির অর্থ কি?

#উত্তর: হে বৈষ্ণব ঠাকুর! আমার এই মিনতি যে, এই দাসের ছয় বেগ দমন করবার শক্তি দিন। আমার ছয় দোষ যাতে সংশোধন করতে পারি, ছয় গুণ এই দাসকে দান করুন এবং ছয় সৎসঙ্গ যাতে হয় সেই জন্য আমি আপনার শরণাগত হয়েছি।

#প্রথমতঃ, ছয় বেগ-ছয় রকমের প্রবল গতি দমন করতে হবে।

বাচো বেগং মনসঃ ক্রোধবেগং জিহ্বাবেগমুদরোপস্থবেগম্।
এতান্ বেগান্ যো বিষহেত ধীর
সর্বামপীমাং পৃথিবীং স শিষ্যাৎ।

(উপদেশামৃত)

১) #বাক্যবেগ: কৃষ্ণ সম্বন্ধীয় কথা ছাড়া জড়জাগতিক কথা, বৃথা গালগল্প, প্রজল্প, অপরের উদ্বেগ ও দুঃখকর বচন প্রয়োগ।

২) #মনোবেগ: নানা রকমের মনগড়া কার্যকলাপ। সংযমহীন মন যা চায় তাই করা।

৩) #ক্রোধ বেগ: ইন্দ্রিয় ভোগে ব্যাঘাত হচ্ছে, এই কারণে রূঢ় আচরণ ও বিক্ষুব্ধ হওয়া।

৪) #জিহ্বা বেগ: নানা রকমের সুস্বাদু খাদ্যের জন্য লালসা।

৫) #উদর বেগ: অতিরিক্ত ভোজন করা।

৬) #উপস্থ বেগঃ স্ত্রী পুরুষ সঙ্গ লালসা।

এই ছয় প্রকার বেগ যিনি দমন করতে সমর্থ, তিনি সমগ্র পৃথিবীকে শাসন করতে পারেন।

#দ্বিতীয়তঃ, ছয় দোষঃ ছয় রকমের দোষ শোধন করতে হবে।

অত্যাহারঃ প্রয়াসশ্চ
প্রজল্পো নিয়মাগ্রহঃ।
জনসঙ্গশ্চ লৌল্যঞ্চ
ষডুভির্ভক্তিবিনশ্যতি ॥

_(উপদেশামৃত)

১) #অত্যাহার: প্রয়োজনের অতিরিক্ত দ্রব্যের সংগ্রহ ও সঞ্চয়।

২) #প্রয়াসঃ পার্থিব সম্পদ লাভের জন্য অত্যধিক প্রচেষ্টা।

৩) #প্রজল্প: বৃথা বাক্যালাপ, অনাবশ্যক গ্রাম্য কথা।

৪) #নিয়মাগ্রহ: নিয়মের প্রতি অত্যধিক আগ্রহ (নিয়ম + আগ্রহ), কিংবা নিয়মকে অবহেলা (নিয়ম + অগ্রহ)

৫) #জনসঙ্গ: কৃষ্ণভাবনাবিমুখ জড়বিষয়ী লোকের সঙ্গ।

৬) #লৌল্য: চিত্তের চঞ্চলতা, পার্থিব সুখ লাভের বাসনায় ব্যাকুলতা।

কোনও ব্যক্তি যখন এই ছয়টি দোষের দ্বারা আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তাল পারমার্থিক জীবন বিনাশ প্রাপ্ত হয়।

#তৃতীয়তঃ, ছয় গুণ: ছয় রকমের গুণ ধারণ করতে হবে।

উৎসাহান্ নিশ্চয়াদ ধৈর্যাৎ তত্তৎকর্ম প্রবর্তনাৎ। সঙ্গত্যাগাৎ সতোবৃত্তেঃ ষডুভির্ভক্তিঃ প্রসিধ্যতি ॥
💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓

(উপদেশামৃত
💚**********💚

১) #উৎসাহঃ ভজন সাধনে অর্থাৎ, ভগবৎ সেবা অনুশীলনে উৎসাহ।

২) #নিশ্চয়তা: পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ আমাকে অবশ্যই রক্ষা করবেন এই দা বিশ্বাসে কৃষ্ণভক্তি অনুশীলন।

৩) #ধৈর্য: ভগবৎ প্রেম লাভের জন্য ধৈর্য। বিধিনিষেধ পালনে শৈথিল্য ন করা।

৪) #তত্তৎকর্ম প্রবর্তন : শ্রবণ, কীর্তন ইত্যাদি ভক্তি-অনুকুল ক সম্পাদন করা।

৫)সঙ্গ ত্যাগ: ভণ্ড, নাস্তিক, মায়াবাদী, স্ত্রৈণ, অভক্ত ও বিষয়ীর সা ত্যাগ।

৬) সতোবৃত্তি: পূর্বতন মহান বৈষ্ণব আচার্য গণের পদাঙ্ক অনুসরণ।

এই ছয়টি বিধি অনুসারে পারমার্থিক জীবন যাপন করলে ভক্তিযোে অবশ্যই সিদ্ধি লাভ করা যাবে।

🌹🙏 হরে কৃষ্ণ রাধে রাধে 🙏🌹

🌷 *আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে আত্মসমর্পণের অর্থ কেবল একজন ব্যক্তির কাছে আত্মসমর্পণ নয় - এটিই শুরু। আমরা যত এগিয়ে যাই, তত আম...
02/06/2026

🌷 *আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে আত্মসমর্পণের অর্থ কেবল একজন ব্যক্তির কাছে আত্মসমর্পণ নয় - এটিই শুরু। আমরা যত এগিয়ে যাই, তত আমাদের আত্মসমর্পণ ক্রমবর্ধমান হয়। নবদীক্ষিত পর্যায়ে, আমরা আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে আত্মসমর্পণ করি, কিন্তু তারপরে আমরা দেখতে পাই যে অন্যরাও আমাদের আধ্যাত্মিক গুরু। এবং আমরা যত বেশি অগ্রগতি করি, আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুদের সংখ্যা এবং মাত্রা প্রসারিত হয়। একজন উত্তম-অধিকারী হচ্ছেন তিনি যিনি সকলের মধ্যে কৃষ্ণকে দেখেন, যিনি সকলের মধ্যে আধ্যাত্মিক গুরুকে দেখেন, তিনি মনে করেন যে, "আমিই কেবল শিষ্য এবং বাকি সবাই আমার আধ্যাত্মিক গুরু।"*

_শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী গুরুমহারাজ_
*শ্রীমদ্ভাগবতম ৮.৫.২১, বৃন্দাবন ১২ এপ্রিল ৯৮*

🌼কৃষ্ণ সুদামার বন্ধুত্ব🌸🌼 কৃষ্ণের অভিশাপ থেকে বাঁচতে, সুদামা নিজেই একজন দরিদ্র মানুষের জীবন বেছে নিয়েছিলেন। যদিও শ্রীকৃ...
30/05/2026

🌼কৃষ্ণ সুদামার বন্ধুত্ব🌸

🌼 কৃষ্ণের অভিশাপ থেকে বাঁচতে, সুদামা নিজেই একজন দরিদ্র মানুষের জীবন বেছে নিয়েছিলেন।


যদিও শ্রীকৃষ্ণের পরম বন্ধু সুদামার চিত্রের সাথে সকলেই পরিচিত, কিন্তু খুব কমই কেউ জানেন যে সুদামা নিজেই পরম অবতার শ্রীকৃষ্ণের অভিশাপ এড়াতে একজন দরিদ্রের জীবন বেছে নিয়েছিলেন। এই কারণেই সুদামা, ঈশ্বরের একজন পরম বন্ধু এবং ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও, এত দরিদ্র ছিলেন।

কিংবদন্তি অনুসারে, একজন অত্যন্ত দরিদ্র ব্রাহ্মণ ছিলেন। তিনি ভিক্ষা চেয়ে সম্পূর্ণ জীবনযাপন করতেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এমন একটি সময় এসেছিল যখন তিনি পাঁচ দিনও ভিক্ষা পেতেন না।

প্রতিদিন সে ঈশ্বরকে স্মরণ করত এবং ঘুমাত কিন্তু ষষ্ঠ দিনে সে মাত্র দুই মুঠো ছোলা পেত। ছোলা পেয়ে সে খুব খুশি হয়েছিল কিন্তু যখন সে কুঁড়েঘরে পৌঁছাল তখন রাত হয়ে গিয়েছিল।

সেই ব্রাহ্মণী ভেবেছিল যে আমি রাতে এই ছোলা খাব না, সকালে কানহাইয়া খাওয়ার পরেই আমি এগুলি গ্রহণ করব। এই ভেবে ব্রাহ্মণ ছোলাগুলি একটি কাপড়ে বেঁধে দেওয়া হল।
কানহাইয়ার নাম মনে করে সে গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণ যখন ঘুমাচ্ছিলেন তখন কিছু চোর তার কুঁড়েঘরে চুরি করতে এসেছিল। কিন্তু সেই দরিদ্র ব্রাহ্মণের কাছে ছোলার প্যাকেট ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

চোরেরা সেই ছোলার বান্ডিলটি পেল, চোরেরা বুঝতে পারল যে এতে কিছু মূল্যবান হীরার রত্ন আছে, তাই ব্রাহ্মণী জেগে উঠল এবং শব্দ করতে লাগল।

ব্রাহ্মণের আওয়াজ শুনে গ্রামের সকলে চোরদের ধরতে দৌড়ে গেল, চোরেরা ছোলার প্যাকেট নিয়ে পালিয়ে গেল। ধরা পড়ার ভয়ে সকল চোর সন্দীপন মুনির আশ্রমে লুকিয়ে রইল। যেখানে ভগবান কৃষ্ণ ও সুদামা শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

গুরুমাতা অনুভব করলেন যে আশ্রমের ভেতরে কেউ এসেছে, গুরুমাতা দেখতে এগিয়ে গেলেন, চোর ভাবল কেউ আসছে, চোরেরা ভয় পেয়ে আশ্রম থেকে দৌড়াতে শুরু করল।

দৌড়াতে দৌড়াতে চোরদের সাথে সেই ছোলার প্যাকেট টি সেখানে পড়ে গেল। আর সব চোর পালিয়ে গেল। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণী যখন জানতে পারলেন যে চোরেরা তার ছোলার প্যাকেটটি নিয়ে গেছে, তখন ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি।

তিনি অত্যন্ত দুঃখিত হৃদয়ে অভিশাপ দিলেন যে, দরিদ্র অসহায়দের যে ছোলা খাবে সে দরিদ্র হবে। তার ঘরে জীবনে কোনদিন‌ও লক্ষীদেবী প্রবেশ করবে না। আশ্রমে, সকালে, তিনি গুরু মাতা আশ্রমে ঝাড়ু দিতে শুরু করলেন।

পরিষ্কার করার সময়, গুরু মাতা একই ছোলার প্যাকেটটি পেয়েছিলেন। গুরু মাতা যখন বান্ডিলের খোসাটি দেখলেন, তখন তাতে ছোলা বেরিয়ে এলো।

সুদামাজি এবং কৃষ্ণ প্রতিদিনের মতো বন থেকে কাঠ আনতে যাচ্ছিলেন, তখন গুরুমাতা তাদের একই ছোলার প্যাকেটটি দিলেন এবং বললেন যে খিদে পেলে দুটোই নিয়ে যাও তোমারা খাবে।

সুদামাজি ছোলার প্যাকেট টি নেওয়ার সাথে সাথেই তিনি পুরো রহস্যটি বুঝতে পারলেন। সুদামা ভেবেছিলেন যে শ্রীকৃষ্ণ যদি এই ছোলা গ্রহণ করেন, তাহলে সমগ্র সৃষ্টি দরিদ্র থেকে দরিদ্র হয়ে যাবে। এই ধারণা নিয়ে তিনি নিজেই এই সমস্ত ছোলা খেয়ে ফেললেন।

সুদামা জি দারিদ্র্যের অভিশাপ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর বন্ধু শ্রীকৃষ্ণকে এক দানাও ছোলা দেননি। সুদামা নিজেই সত্যি কারের বন্ধুত্ব বাঁচাতে তাঁর পুরো জীবন দারিদ্র্যের মধ্যে কাটিয়েছিলেন। আপনারা জানেন যে সুদাম যখন দ্বারকায় গিয়েছিলেন, তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপনে তাঁর কুঁড়েঘরটিকে তাঁর নিজের মতো একটি প্রাসাদে রূপান্তরিত করেছিলেন, কিন্তু সুদামা তিনি কখনও সেই প্রাসাদে যাননি, তিনি তাঁর বাকি জীবন তাঁর কৃষ্ণের পায়ের কাছে কানহে মন্দিরে কাটিয়েছিলেন,

তাই বন্ধুরা, এই গল্প থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব ঠিক কি রকম হতে পারে। সুদামা চাইলে সেটি অন্য কোথাও ফেলেও দিতে পারতেন কিন্তু তাতে ও জগৎ এর কারোর না কারোর ক্ষতি হতো।তাই তিনি নিজেই সেই অভিশাপ গ্রহন করলেন ।
হরেকৃষ্ণ 🙏
হরিবোল 🙌🙏

24/05/2026

*শুকদেব গোস্বামীর আবির্ভাব বৃত্তান্ত* :-
🌹🙏🌹🙏🌹🙏🌹🙏🌹
একবার মহাদেব পাৰ্বতীদেবীকে নিয়ে নিৰ্জন স্থানে দিকবন্ধন করে বসে শ্ৰীমদ্ভাগবতম কীৰ্তন করছিলেন। ভাগবত কথার প্রারম্ভে মহাদেব পাৰ্বতীকে শর্ত দিলেন যে, ভাগবত কথা চলাকালে পাৰ্বতীদেবী যে গভীর মনোযোগ সহকারে শুনছেন, তার প্রমাণস্বরপ তিনি যেনো ''হু'' বলে সায় দেন।

যথারীতি ভাগবত কথা শুরু হলো। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হলে পাৰ্বতীদেবী ভাগবত কথা শুনতে শুনতেখনিদ্ৰাচ্ছন্ন হলেন। যে বৃক্ষের নিচে মহাদেব ভাগবত কথা বলছিলেন, সে বৃক্ষে অবস্থান করে একটি শুকপাখিও ভাগবত কথা শ্ৰবণ করছিলো। পাখিটি দেখলো যে, পাৰ্বতী দেবী ঘুমিয়ে গেছেন। তখন ভাগবত কথা বন্ধ হয়ে যাবে ভেবে পাৰ্বতীদেবীর বদলে পাখিটিই ''হু'' দিতে থাকলো।

এদিকে মহাদেব তন্ময় হয়ে সম্পূৰ্ণ ভাগবত কথা শ্ৰবণ করালেন। চোখ খুলে দেখতে পেলেন, দেবী পাৰ্বতী ঘুমিয়ে পড়েছেন। তখন মহাদেবের মনে প্রশ্নের উদয় হলো, 'তাহলে ‘হু’ দিলো কে?' চারদিকে তাকিয়ে তিনি বৃক্ষের ডালে ঐ পাখিটিকে দেখতে পেলেন। পাৰ্বতীদেবীর পরিবর্তে পাখিটি ‘হু’ দিছিলো। তাছাড়া ভাগবতের অতি গুহ্য লীলাকথা সাধারণ একটি শুকপাখি শ্ৰবণ করেছে ভেবে মহাদেব অত্যন্ত ক্রদ্ধ হয়ে ত্ৰিশুল হাতে পাখিটিকে তাড়া করলেন। প্রাণভয়ে পাখিটি দিকবিদিক শূন্য হয়ে পলায়ন করতে লাগলো।

মহাদেবও তার পেছনে পেছনে ধাবিত হলেন। এদিকে ব্যাসদেবও তাঁর স্ত্ৰীকে ভাগবত কথা শ্ৰবণ করাচ্ছিলেন। তিনিও তখন ভাগবত কথা শুনতে শুনতে হা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঠিক তখনই শুকপাখিটি প্ৰাণ বাঁচানোর কোনো উপায় না পেয়ে ব্যাসদেবের স্ত্রীর মুখে প্ৰবেশ করলো।

তৎক্ষণাৎ মহাদেবও সেখানে উপস্থিত হয়ে, পাখিটিকে ব্যাসদেবের স্ত্রীর মুখে প্ৰবেশ করতে দেখে অভিশাপ দিলেন যে, পাখিটি যেখানে প্ৰবেশ করেছে, সেখানে তাকে ষোল বছর মতান্তরে বারো বছর, থাকতে হবে। শ্রীল ব্যাসদেব মহাদেবকে দেখামাত্ৰই ব্যাসদেব প্ৰণাম নিবেদন করলেন এবং তাঁকে ক্ৰোধান্বিত দেখে ক্রোধের কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তখন মহাদেব সমস্ত বৃত্তান্ত খুলে বললেন। ব্যাসদেব মহাদেবের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য বললেন, “ হে দেবাদিদেব, যিনি আপনার শ্ৰীমুখ থেকে ভাগবত কথা শ্ৰবণ করেছেন, তিনি তো মহাভাগ্যবান এবং আপনার আশীৰ্বাদের যোগ্য।"

আশুতোষ মহাদেব প্ৰসন্ন হয়ে, সেই শুকপাখিটিকে আশীৰ্ব্বাদ করলেন, “পাখিটি আমার কাছ থেকে যে ভাগবতকথা শ্ৰবণ করেছে, তা সম্পূৰ্ণরপে তার হৃদয়ে অক্ষত থাকুক।" এই বলে তিনি প্ৰস্থান করলেন।

মহাদেবের অভিশাপে ষোলো বছর সেই শুকপাখিটি ব্যাসদেবের স্ত্রীর গর্ভে অবস্থান করছিলো। ভাগবতের বীর্যবতী কথা শ্ৰবণ করার ফলে, সেই শুকপাখি মহাভাগবত শুকদেব গোস্বামীতে রুপান্তরিত হলেন। মাতৃগৰ্ভে অবস্থানকালেও তিনি নিত্য তার পিতা ব্যাসদেবের কাছ থেকে ভাগবত শ্ৰবণ করতেন।

ইতোমধ্যে ষোল বছর অতিক্ৰান্ত হলেও শুকদেব গোস্বামী এ জড়জগতের মায়ায় প্ৰবেশ করতে অনিচ্ছা প্ৰকাশ করলেন। এমতাবস্থায় ব্যাসদেব তাকে বুঝিয়ে বললেন, “বৎস, তুমি ভূমিষ্ট হও নতুবা তোমার মাতৃহত্যা জনিত পাপ হবে।"

তাতেও শুকদেব গোস্বামীর কোনো প্ৰতিক্ৰিয়া না হলে, ব্যাসদেব উপায়ান্তর না দেখে ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণের কাছে গেলেন। তখন ভগবান স্বয়ং শুকদেব গোস্বামীকে প্ৰবোধ দিলেন, “এ জগতে আবির্ভাব হলেও আমার মায়া কখনোই তোমাকে স্পৰ্শ করতে পারবে না।"

শুকদেব গোস্বামী ভগবানের আশীৰ্বাদ প্ৰাপ্ত হয়ে বললেন, “এ জগতে ভূমিষ্ট হলেও আমি এ জগতের কোনো বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে বনে গমন করবো।"

যথারীতি আবিস্তৃত হয়ে, ষোড়শ বৰ্ষীয় যুবক শুকদেব গোস্বামী দিগম্বর বেশে অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে বনে গমন করেন। তখন ব্যাসদেব হা পুত্ৰ! হা পুত্ৰ! বলে শুকদেব গোস্বামীর পেছন পেছন ধাবিত
হলেন।
''যং প্ৰজন্তমনুপেতমপেতকৃত্যং
দ্বৈপায়নো বিরহকাতর আজুহাব।
পুত্ৰেতি তনুয়াতিয়া তরবোেহভিনেদু
স্তং সৰ্বভূতহদয়ং মুনিমানতোহম্মি'।।"

পুত্ৰকে ধরতে না পেরে বিরহকাতর পিতা ব্যাসদেব বনের ব্যাধদের ভাগবতের দুটি শ্লোক শিখিয়ে দিলেন। যা শুকদেব গোস্বামীকে শ্ৰবণ করানোর মাধ্যমে পুনরায় তাকে ফিরিয়ে আনা হলো। তারপর তিনি তার পিতা ব্যাসদেবের আনুগত্যে পুনরায় ভাগবত অধ্যয়ন করলেন। এর পর কলিযুগে মহারাজ পরিক্ষিতকে তিনি সাতদিন ব্যাপী শ্রীমদ্ভাগবতম শ্রবন করান এবং বলেন, শ্রীমদ্ভাগবতে নির্দেশখরয়েছে,
"কলের্দোষনিধে রাজন্ অস্তি হ্যেকো মহান্ গুণঃ।
কীর্তনাদেব কৃষ্ণস্য মুক্তসঙ্গ পরং ব্রজেৎ॥"

অর্থাৎ, “হে রাজন্! কলিযুগ সমস্ত দোষের আকর। কিন্তু এই কলিযুগে একটি মাত্র মহান গুণ রয়েছে। তা হলো কেবলমাত্র শ্রীকৃষ্ণের নাম কীর্তন করে জীব সংসার-বন্ধন মুক্ত হয়ে ভগবানকে লাভ করতে পারে।"

শ্রীমদ্ভাগবতে (১২/৩/৫১-৫২) বলা হয়েছে,
"কৃতে যৎ ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজতো মখৈঃ।
দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ হরিকীর্তনাৎ॥"

অর্থাৎ, “সত্যযুগে ধ্যান, ত্রেতাযুগে যজ্ঞ, আর দ্বাপরযুগে অর্চন দ্বারা যা লাভ হয়, কলিযুগে কেবলমাত্র শ্রীকৃষ্ণনাম সংকীর্তন দ্বারা তা লাভ হয়ে থাকে। তাই প্রত্যেকের উচিত ভগবানের দিব্য নাম কীর্ত্তণ ও জপ করা।"
“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে।।”

22/05/2026

**প্রশ্ন:- স্ত্রী দীক্ষিতা কিন্তু স্বামী অদীক্ষিত ও আমিশাষী। নিরামিশাষী স্ত্রীর পক্ষে আমিষ রান্না করা উচিত কিনা ❓️লোকে বলে স্বামী হচ্ছেন দেবতা, তাই স্ত্রীর পক্ষে আমিষভোজী স্বামীর উচ্ছিষ্ট ভোজন করা উচিত কিনা❓️শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এই ধরনের প্রশ্নের কোন সৎ উত্তর দিয়েছেন ❓*

*উত্তর:-* শ্রীল প্রভুপাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে দীক্ষিত স্ত্রীর জন্য আমিষ রান্না ও স্বামীর উচ্ছিষ্ট গ্রহণ..... আপনার এ ধরনের প্রশ্নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের শিক্ষার আলোকে এর উত্তর দেওয়া যেতে পারে। প্রভুপাদ তাঁর শিষ্যদের জন্য অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা রেখে গেছেন, যা আধ্যাত্মিক জীবনযাপনে সাহায্য করে।

নিরামিষাশী স্ত্রীর আমিষ রান্না করা উচিত কিনা?
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
শ্রীল প্রভুপাদ সবসময় নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস বা বৈষ্ণব আহার (প্রসাদ) গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, জীবহত্যা থেকে বিরত থাকা এবং কৃষ্ণকে নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করা আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

১) একজন দীক্ষিত স্ত্রীর জন্য আমিষ রান্না করা নীতিগতভাবে অনুচিত। কারণ:

* কর্মফল: আমিষ রান্না করা জীবহত্যার সাথে জড়িত কর্ম বিরূপফল সৃষ্টি করে, যা আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা। যদিও স্ত্রী সরাসরি আমিষ ভোজন করছেন না, তবুও তিনি পরোক্ষভাবে এই কার্যকলাপে অংশ নিচ্ছেন।

* সত্ত্বগুণ বৃদ্ধি: বৈষ্ণব জীবনযাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো সত্ত্বগুণ বৃদ্ধি করা এবং রজ ও তমোগুণ ত্যাগ করা। আমিষ খাদ্য তমোগুণের অন্তর্ভুক্ত।

* আদর্শ স্থাপন: একজন দীক্ষিত স্ত্রী হিসেবে তাঁর উচিত পরিবারের মধ্যে এবং স্বামীর কাছে নিরামিষ খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং নিজে তা পালন করে একটি আদর্শ স্থাপন করা।

প্রভুপাদ এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও স্বামী উভয়েরই আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য ধৈর্যের সাথে কাজ করার পরামর্শ দিতেন। স্ত্রী স্বামীকে বোঝাতে পারেন যে, নিরামিষ আহার (কৃষ্ণপ্রসাদ)কেবল আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যেও অতি গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্বামী এখনই আমিষ ত্যাগ করতে না পারেন, তবে স্ত্রী চেষ্টা করতে পারেন যে, রান্না যেন তিনি নিজে না করেন, বরং স্বামী নিজের ব্যবস্থা নিজে করে নেন আর ভবিষ্যতে যেন তৈরি থাকেন পাটকেল খেতে। তবে, যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে স্ত্রীর উপর রান্না করার প্রবল চাপ আসে এবং কোনো বিকল্প না থাকে, তাহলে এটি একটি জটিল পরিস্থিতি। সেক্ষেত্রে স্ত্রী এমনভাবে রান্না করতে পারেন যাতে তাঁর ব্যক্তিগত ভক্তির ক্ষতি না হয়, এবং একই সাথে স্বামীকে নিরামিষ ভোজনের দিকে উৎসাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

২)আমিষভোজী স্বামীর উচ্ছিষ্ট ভোজন করা উচিত কিনা?
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
শ্রীল প্রভুপাদের শিক্ষায় উচ্ছিষ্ট ভোজন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তবে এর প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বৈষ্ণব মতে গুরু বা শুদ্ধ ভক্তদের উচ্ছিষ্ট (মহাপ্রসাদ) গ্রহণ করা অত্যন্ত সুকৃতিজনক বলে মনে করা হয়, কারণ এটি ভগবানের প্রতি নিবেদিত এবং অতিপবিত্র।

তবে, আমিষভোজী স্বামীর উচ্ছিষ্ট ভোজন করার ক্ষেত্রে প্রভুপাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ–

* আমিষের প্রভাব: আমিষ খাদ্য আধ্যাত্মিকভাবে অপবিত্র বলে বিবেচিত হয়। সুতরাং এই ধরনের উচ্ছিষ্ট খাদ্য গ্রহণ আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অনুকূল নয়।

* দেহ ও মন: বৈষ্ণব দর্শনে দেহ ও মনের শুদ্ধতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমিষ খাদ্যের সংস্পর্শে আসা উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করলে তা মনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভক্তিমূলক জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রভুপাদ অবশ্যই একজন নিরামিষাশী দীক্ষিত স্ত্রীকে আমিষভোজী স্বামীর উচ্ছিষ্ট ভোজন করতে বলতেন না। বরং তিনি স্ত্রীকে তাঁর নিজের আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য উৎসাহিত করতেন।

#সারসংক্ষেপ
""""""""""""""""
শ্রীল প্রভুপাদের শিক্ষার মূল কথা হলো কৃষ্ণভাবনামৃত। এই ভাবনামৃতের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য শুদ্ধ আহার, শুদ্ধ আচরণ এবং শুদ্ধ চিন্তাধারা অপরিহার্য।

* দীক্ষিত স্ত্রীর জন্য আমিষ রান্না না করাই উচিত। তিনি স্বামীকে নিরামিষ ভোজনের দিকে উৎসাহিত করতে পারেন এবং পরিস্থিতি অনুকূল না হলে বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা করতে পারেন।

* আমিষভোজী স্বামীর উচ্ছিষ্ট ভোজন করা একজন নিরামিষাশী দীক্ষিত স্ত্রীর জন্য একেবারেই উচিত নয়। এটি তাঁর আধ্যাত্মিক পথে প্রচন্ড বাধা।

প্রভুপাদ সর্বদা সম্পর্কগুলোকে কৃষ্ণভাবনার কেন্দ্রে রেখে সমাধানের পরামর্শ দিতেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং উভয়কে আধ্যাত্মিক পথে সাহায্য করার উপর জোর দিতেন। স্ত্রী তাঁর ভক্তি ও উদাহরণের মাধ্যমে স্বামীকে নিরামিষ আহার এবং কৃষ্ণভাবনার দিকে আকৃষ্ট করতে পারেন।

হরে কৃষ্ণ

সনাতন ধর্মে মলমাস বা পুরুষোত্তম মাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র মাস। সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘অধিক মাস’ বা ‘লেংড়া...
18/05/2026

সনাতন ধর্মে মলমাস বা পুরুষোত্তম মাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র মাস। সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘অধিক মাস’ বা ‘লেংড়া মাস’ নামেও পরিচিত।
​চলুন জেনে নেওয়া যাক এই মাসটি কী, কীভাবে এর সৃষ্টি হলো এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে এর গুরুত্ব কেন এত বেশি।

​১. মলমাস বা পুরুষোত্তম মাস কী?
​সহজ কথায়, মলমাস হলো অতিরিক্ত একটি মাস (Extra Month), যা চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের মধ্যে সমতা বজায় রাখার জন্য প্রতি তিন বছর (정확히 বলতে গেলে ৩২ মাস ১৬ দিন ৪ ঘণ্টা) পর পর হিন্দু ক্যালেন্ডারে যুক্ত হয়।

​সৌরবর্ষ:
সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘুরতে সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড (প্রায় ৩৬৫ দিন)।

​চন্দ্রবর্ষ:
চাঁদের কলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি চন্দ্র মাস (১২টি মাস) মিলিয়ে মোট দিন হয় প্রায় ৩৫৪ দিন।

​পার্থক্য:
চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ১১ দিনের ব্যবধান তৈরি হয়। এই ব্যবধান ৩ বছরে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ মাসের সমান।
​যদি এই অতিরিক্ত মাসটি গণনা না করা হতো, তবে প্রতি বছর ঋতু ও উৎসবের সময় ওলটপালট হয়ে যেত (যেমন—বর্ষাকালের দুর্গাপূজা শীতে চলে যেত)। এই দুই গণনার সামঞ্জস্য রাখতেই প্রতি তৃতীয় বছরে একটি অতিরিক্ত মাস যোগ করা হয়, একেই অধিক মাস বা মলমাস বলে।

​২. কীভাবে সৃষ্টি হলো এই মাস? (পৌরাণিক কাহিনী):

​পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী, মলমাসের সৃষ্টির পেছনে একটি চমৎকার ইতিহাস রয়েছে।
​যখন চন্দ্র ও সূর্যের গতির সামঞ্জস্যের জন্য এই অতিরিক্ত মাসের সৃষ্টি হলো, তখন দেখা গেল এই মাসের কোনো অধিপতি দেবতা বা রাশি সংক্রান্ত কোনো সংক্রান্তি নেই। সনাতন ধর্মে প্রতিটি মাসের একজন করে অধিপতি দেবতা থাকেন (যেমন—কার্তিক মাসের কার্তিকেয়, মাঘ মাসের সূর্য ইত্যাদি)।
​অধিপতি দেবতা না থাকায় এই মাসটিকে সবাই অপবিত্র, শুভ কাজের অযোগ্য এবং ‘মলিন’ বা ‘মলমাস’ বলে অবহেলা করতে শুরু করল। এই মাসে বিয়ে, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশের মতো সব শুভ কাজ নিষিদ্ধ হয়ে গেল।

​পুরুষোত্তম নাম প্রাপ্তি:
​নিজের এই নিন্দিত ও অবহেলিত রূপ দেখে দুঃখিত হয়ে ‘অধিক মাস’ স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলেন এবং নিজের দুঃখের কথা জানালেন। ভক্তবৎসল ভগবান বিষ্ণু
তখন তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন:
​"আজ থেকে আমি তোমাকে আমার নিজের নাম ও গুণ প্রদান করলাম। জগতের কাছে তুমি আর নিন্দিত ‘মলমাস’ থাকবে না, বরং আমার নামানুসারে তোমার নাম হবে ‘পুরুষোত্তম মাস’। আমি নিজেই এই মাসের অধিপতি দেবতা হলাম।"
​ভগবান বিষ্ণু আরও বর দিলেন যে, অন্য সব মাসের চেয়ে এই মাসের মাহাত্ম্য ও পুণ্যফল অনেক বেশি হবে।

​৩. কেন এই মাসের এত গুরুত্ব?
​যদিও এই মাসে জাগতিক কোনো শুভ কাজ (বিয়ে, পৈতৃক শ্রাদ্ধ, নতুন ব্যবসা শুরু ইত্যাদি) করা নিষেধ, তবুও আধ্যাত্মিক ও পরমার্থিক দিক থেকে এই মাসটি বছরের সবচেয়ে সেরা মাস হিসেবে গণ্য হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
​অনন্ত পুণ্য লাভ:
শাস্ত্রানুযায়ী, অন্য মাসে যেকোনো পুণ্যকর্ম (যেমন—জপ, তপস্যা, দান) করলে যে ফল পাওয়া যায়, পুরুষোত্তম মাসে তা করলে হাজার গুণ বেশি ফল লাভ হয়।

​ভগবান বিষ্ণুর কৃপা:
যেহেতু স্বয়ং শ্রীহরি বা বিষ্ণু (পুরুষোত্তম) এই মাসের স্বামী, তাই এই মাসে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, বিষ্ণু সহস্রনাম জপ, শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও প্রদীপ দান করলে সরাসরি ভগবানের ধাম প্রাপ্তি হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

​পাপক্ষয় ও আত্মশুদ্ধি:
‘মল’ শব্দের অর্থ ময়লা বা আবর্জনা। আধ্যাত্মিক অর্থে, এই মাসটি মানুষের মনের অহংকার, কাম, ক্রোধের মতো ‘মল’ বা কলুষতা দূর করে আত্মশুদ্ধি করার মাস। তাই একে ব্রত, উপবাস ও নামকীর্তনের মাধ্যমে কাটানো হয়।

​সংক্ষেপে বলতে গেলে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিলতা দূর করতে সৃষ্ট এই মাসটি সনাতন ধর্মে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের এক মহত্তম সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

Address

মায়াপুর
Nadiad

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হরে কৃষ্ণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share