02/06/2026
⁉⁉*নববিধা ভক্তি বলতে কি বোঝায়?*
* #উত্তর: নয় রকমের ভজন* *অনুশীলন। যেমন*:-___
১) #শ্রবণ: ভগবদগীতা, ভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত প্রভৃতি শাস্ত্র শ্রবণ করতে হয়। বৈষ্ণবের জীবন-চরিত, ভগবানের নাম, ভগবৎ বিষয়ক সঙ্গীত শ্রবণ করতে হয়।
২) #কীর্তন: ভগবানের নাম গান করতে হয়। ভগবানের কথা ব্যাখ্যা করতে হয়। ভাগবত কথা অন্যকে শোনাতে হয়। ভগবানের কাছে প্রার্থনা স্তব করতে হয়।
৩) #স্মরণঃ কৃষ্ণের নাম রূপ গুণ লীলা স্মরণ করতে হয়। কৃষ্ণের নাম জপ করতে হয়।
যদি এ জীবনে শ্রীকৃষ্ণকথা শ্রবণ কীর্তন স্মরণ না অনুশীলন করা হয়, তবে জড় জাগতিক বিষয়ে মন যুক্ত হয়ে দুঃখময় জন্ম-মৃত্যুর আবর্তে পতিত থাকতে হবে
৪) #পাদসেবন: শ্রীবিগ্রহ দর্শন করা, স্পর্শ করা, মন্দির পরিক্রমা করা, ধাম পরিদর্শন করা, তুলসীসেবা, সাধু সেবা করা প্রভৃতি ভক্তি-অঙ্গ পাদ সেবনের অন্তর্ভুক্ত।
৫) #অর্চন: ভগবৎ বিগ্রহ পূজা করা, গুরু পূজা, ভগবৎ-আবির্ভাব তিথি পালন করা, কার্তিক ব্রত, একাদশী ব্রত, মাঘস্নান প্রভৃতি অর্চনের অন্তর্গত।
৬) #বন্দন: শ্রীভগবানের উদ্দেশ্যে প্রণতি নিবেদন করতে হয়।
৭) #দাস্যঃ আমি কৃষ্ণদাস - মনে মনে এই অভিমান থাকবে। সমস্ত কর্ম শ্রীকৃষ্ণকে অর্পণ করতে হবে।
৮) #সখ্য: কৃষ্ণের প্রতি বন্ধুভাব লক্ষণ। আমার নানা অসুবিধা হচ্ছে এই ভেবে এটা চাই ওটা চাই। শীতে কাপড় চাই। গরমে পাখা চাই। তা হলে কৃষ্ণেরও সেগুলি চাই। সেজন্য ব্যবস্থা করা হয়। এই খাবার সৌ খাবার আমার চাই, তবে কৃষ্ণেরও তা আগে চাই।
৯) #আত্মনিবেদন: কায় মন বাক্য শ্রীকৃষ্ণে অর্পণ করার নামে আত্মনিবেদন। নিজের জন্য চেষ্টাশূন্য হয়ে কৃষ্ণের জন্য চেষ্টাময় হওয়া আত্মনিবেদনের লক্ষণ। কৃষ্ণের ইচ্ছার অনুগত থাকা এবং নি ইচ্ছাকে কৃষ্ণের ইচ্ছার অধীন করা।
🌿🦋🌹🌿🦋💖🌿💓🎆🌿💞🌻🧡🍒🌻🎆💓🌿💖🦋💚🌿🌹🦋💖🌿💓🎆🌟💐🧡💓🌻🌿💖🌿💚🦋🌿💓🌻🧡🎆💞🌿💖🦋🌿💚🌹🦋💖🌿💞🎆🧡🍒💓💞💖🌿💚🦋🌿💖🦋🌿💚🦋🌹🌿💖🦋🌹🌿
⁉⁉ শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর গান করেছেন-ওহে! বৈষ্ণব ঠাকুর,—
ছয় বেগ দমি ছয় দোষ শোখি'
*ছয় গুণ দেহ দাসে।
ছয় সৎসঙ্গ, দেহ হে আমারে,
বসেছি সঙ্গের আশে ॥
-এই কথাগুলির অর্থ কি?
#উত্তর: হে বৈষ্ণব ঠাকুর! আমার এই মিনতি যে, এই দাসের ছয় বেগ দমন করবার শক্তি দিন। আমার ছয় দোষ যাতে সংশোধন করতে পারি, ছয় গুণ এই দাসকে দান করুন এবং ছয় সৎসঙ্গ যাতে হয় সেই জন্য আমি আপনার শরণাগত হয়েছি।
#প্রথমতঃ, ছয় বেগ-ছয় রকমের প্রবল গতি দমন করতে হবে।
বাচো বেগং মনসঃ ক্রোধবেগং জিহ্বাবেগমুদরোপস্থবেগম্।
এতান্ বেগান্ যো বিষহেত ধীর
সর্বামপীমাং পৃথিবীং স শিষ্যাৎ।
(উপদেশামৃত)
১) #বাক্যবেগ: কৃষ্ণ সম্বন্ধীয় কথা ছাড়া জড়জাগতিক কথা, বৃথা গালগল্প, প্রজল্প, অপরের উদ্বেগ ও দুঃখকর বচন প্রয়োগ।
২) #মনোবেগ: নানা রকমের মনগড়া কার্যকলাপ। সংযমহীন মন যা চায় তাই করা।
৩) #ক্রোধ বেগ: ইন্দ্রিয় ভোগে ব্যাঘাত হচ্ছে, এই কারণে রূঢ় আচরণ ও বিক্ষুব্ধ হওয়া।
৪) #জিহ্বা বেগ: নানা রকমের সুস্বাদু খাদ্যের জন্য লালসা।
৫) #উদর বেগ: অতিরিক্ত ভোজন করা।
৬) #উপস্থ বেগঃ স্ত্রী পুরুষ সঙ্গ লালসা।
এই ছয় প্রকার বেগ যিনি দমন করতে সমর্থ, তিনি সমগ্র পৃথিবীকে শাসন করতে পারেন।
#দ্বিতীয়তঃ, ছয় দোষঃ ছয় রকমের দোষ শোধন করতে হবে।
অত্যাহারঃ প্রয়াসশ্চ
প্রজল্পো নিয়মাগ্রহঃ।
জনসঙ্গশ্চ লৌল্যঞ্চ
ষডুভির্ভক্তিবিনশ্যতি ॥
_(উপদেশামৃত)
১) #অত্যাহার: প্রয়োজনের অতিরিক্ত দ্রব্যের সংগ্রহ ও সঞ্চয়।
২) #প্রয়াসঃ পার্থিব সম্পদ লাভের জন্য অত্যধিক প্রচেষ্টা।
৩) #প্রজল্প: বৃথা বাক্যালাপ, অনাবশ্যক গ্রাম্য কথা।
৪) #নিয়মাগ্রহ: নিয়মের প্রতি অত্যধিক আগ্রহ (নিয়ম + আগ্রহ), কিংবা নিয়মকে অবহেলা (নিয়ম + অগ্রহ)
৫) #জনসঙ্গ: কৃষ্ণভাবনাবিমুখ জড়বিষয়ী লোকের সঙ্গ।
৬) #লৌল্য: চিত্তের চঞ্চলতা, পার্থিব সুখ লাভের বাসনায় ব্যাকুলতা।
কোনও ব্যক্তি যখন এই ছয়টি দোষের দ্বারা আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তাল পারমার্থিক জীবন বিনাশ প্রাপ্ত হয়।
#তৃতীয়তঃ, ছয় গুণ: ছয় রকমের গুণ ধারণ করতে হবে।
উৎসাহান্ নিশ্চয়াদ ধৈর্যাৎ তত্তৎকর্ম প্রবর্তনাৎ। সঙ্গত্যাগাৎ সতোবৃত্তেঃ ষডুভির্ভক্তিঃ প্রসিধ্যতি ॥
💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓💓
(উপদেশামৃত
💚**********💚
১) #উৎসাহঃ ভজন সাধনে অর্থাৎ, ভগবৎ সেবা অনুশীলনে উৎসাহ।
২) #নিশ্চয়তা: পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ আমাকে অবশ্যই রক্ষা করবেন এই দা বিশ্বাসে কৃষ্ণভক্তি অনুশীলন।
৩) #ধৈর্য: ভগবৎ প্রেম লাভের জন্য ধৈর্য। বিধিনিষেধ পালনে শৈথিল্য ন করা।
৪) #তত্তৎকর্ম প্রবর্তন : শ্রবণ, কীর্তন ইত্যাদি ভক্তি-অনুকুল ক সম্পাদন করা।
৫)সঙ্গ ত্যাগ: ভণ্ড, নাস্তিক, মায়াবাদী, স্ত্রৈণ, অভক্ত ও বিষয়ীর সা ত্যাগ।
৬) সতোবৃত্তি: পূর্বতন মহান বৈষ্ণব আচার্য গণের পদাঙ্ক অনুসরণ।
এই ছয়টি বিধি অনুসারে পারমার্থিক জীবন যাপন করলে ভক্তিযোে অবশ্যই সিদ্ধি লাভ করা যাবে।
🌹🙏 হরে কৃষ্ণ রাধে রাধে 🙏🌹