International Hindu Council

International Hindu Council Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from International Hindu Council, Medinipur.

 #চতুর্বর্গ_বা_চার_পুরুষার্থ_কী:হিন্দু দর্শনে মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্যকে বলা হয় “চতুর্বর্গ” বা চার পুরুষার্থ—ধর্ম...
04/12/2025

#চতুর্বর্গ_বা_চার_পুরুষার্থ_কী:
হিন্দু দর্শনে মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্যকে বলা হয় “চতুর্বর্গ” বা চার পুরুষার্থ—ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ। এগুলো জীবনের ভিন্ন ভিন্ন স্তর ও প্রয়োজনকে সামঞ্জস্য করে মানুষের পূর্ণতা অর্জনের পথ নির্দেশ করে।
---
১) ধর্ম (Dharma) — নৈতিকতা, কর্তব্য ও সঠিক পথ

ধর্ম হলো সমস্ত জীবনের ভিত্তি।
এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়; বরং নৈতিকতা, সত্য, ন্যায়, কর্তব্য, সামাজিক দায়িত্ব ইত্যাদির সম্মিলিত রূপ।

ধর্মের মূল দিকগুলো

* সৎ আচরণ
* অন্যের প্রতি দায়িত্ব
* পরিবার ও সমাজের প্রতি কর্তব্য
* সত্যবাদিতা, সহানুভূতি, অহিংসা
* মানুষের চরিত্র গঠন ও নৈতিক বোধ

কেন ধর্ম প্রথম?

কারণ ধর্ম ছাড়া অর্থ বা কামের pursuit ভুল পথে চলে যেতে পারে।
ধর্ম মানুষকে সঠিক দিশা দেয়—কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়।

---

২) অর্থ (Artha) — জীবিকা ও সমৃদ্ধি

অর্থ মানে শুধু টাকা-পয়সা নয়; জীবিকা অর্জনের সমস্ত উপায়—সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা, সম্মান, প্রভাব, কাজের দক্ষতা ইত্যাদি।

অর্থের উদ্দেশ্য

* নিজে ও পরিবারকে নিরাপদ ও স্বচ্ছল রাখা
* সমাজে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হওয়া
* ধর্ম ও কামপূরণকে সহায়তা করা

অর্থের সঠিক ব্যবহার

* ন্যায়সংগত পথে অর্থ অর্জন
* ধর্মের নির্দেশ মেনে অর্থ ব্যয়
* অর্থকে উদ্দেশ্য নয়—উপায় হিসেবে ব্যবহার

---

৩) কাম (Kāma) — ইচ্ছা, সৌন্দর্য ও আনন্দ

কাম মানে শুধু যৌন আকাঙ্ক্ষা নয়;
এটি মানুষের আনন্দ, অনুভূতি, প্রেম, রুচি, সৌন্দর্যবোধ, শিল্প–সংস্কৃতি, মানসিক পূর্ণতা
এসবের প্রতীক।

কাম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

* এটি মানসিক পরিতৃপ্তি দেয়
* জীবনকে আনন্দময় করে
* মানবীয় সম্পর্ক রক্ষা করে
* শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত, প্রেম—সবকিছু কাম তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত

কিন্তু: কামকে ধর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হয়—নয়তো এটি লোভ, আসক্তি ও কষ্ট এনে দেয়।

---

৪) মোক্ষ (Moksha) — মুক্তি ও চিরশান্তি

মোক্ষ হলো জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য:
জন্ম–মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি, আত্মার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি।

মোক্ষ কী?

* আত্মাকে ঈশ্বর/পরমাত্মার সঙ্গে একাত্মবোধ
* দুঃখ ও বন্ধন থেকে মুক্তি
* লোভ, ক্রোধ, অহংকার থেকে উত্তরণ
* জ্ঞান, ভক্তি বা যোগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা

কেন এটি সর্বোচ্চ পুরুষার্থ?

কারণ ধর্ম, অর্থ ও কাম—সবই জীবনের সাময়িক প্রয়োজন।
কিন্তু মোক্ষ চিরস্থায়ী শান্তি ও সত্যজ্ঞান প্রদান করে।

হিন্দু ধর্মে ব্রহ্ম, ঈশ্বর ও বহু দেবতা – একটি দার্শনিক বিশ্লেষণহিন্দু ধর্ম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বহুবর্ণ চিন্তাধারা। ...
03/12/2025

হিন্দু ধর্মে ব্রহ্ম, ঈশ্বর ও বহু দেবতা – একটি দার্শনিক বিশ্লেষণ

হিন্দু ধর্ম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বহুবর্ণ চিন্তাধারা। এখানে একইসাথে একঈশ্বরবাদ, বহুঈশ্বরবাদ, প্যান্থেইজম (সবকিছুই ঈশ্বর) স্বীকৃত। এর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে—ব্রহ্ম (Brahman) ধারণায়।

---

# 🔶 **১. ব্রহ্ম: সর্বোচ্চ চৈতন্য বা পরম সত্য**

হিন্দু দর্শনে **ব্রহ্ম** হলো—

* নিরাকার, অনন্ত, সর্বব্যাপী
* সমস্ত অস্তিত্ব ও শক্তির উৎস
* কোনো ব্যক্তিগত দেবতা নয়; বরং *অস্তিত্বের নিজস্ব ভিত্তি*

**উপনিষদে বলা হয় :**
👉 *“একং সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্তি”— সত্য এক, জ্ঞানীরা তাকে নানা নামে ডাকেন।*

অর্থাৎ, ব্রহ্ম এক — কিন্তু তার প্রকাশ বহু রূপে।

# # # উদাহরণ:

* সূর্যের আলো এক, কিন্তু প্রিজমে বহু রঙে বিভক্ত হয়।
* ব্রহ্মকে এক “সূর্য”, আর দেবতাদের রূপকে সেই সূর্যের নানা “রঙ” বলা যায়।

---

# 🔶 **২. একেশ্বরবাদ (Monotheism): ঈশ্বর এক, রূপ বহু**

হিন্দু ধর্মের বড় অংশ একেশ্বরবাদী, কারণ শেষ সত্য বা চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক একজনই — ব্রহ্ম।
তবে সাধারণ মানুষের উপাসনায় ব্রহ্মকে তারা ব্যক্তিরূপে গ্রহণ করে—বিষ্ণু, শিব, দেবী ইত্যাদি।

# # # একেশ্বরবাদী ধারার উদাহরণ:

ভগবদ্গীতা: কৃষ্ণ বলেন— “আমি সকল দেবতার উৎস”।
শৈব দর্শন: শিবই আদ্য সত্য
বৈষ্ণব দর্শন: বিষ্ণুই পরম ঈশ্বর

এখানে ঈশ্বর একজন, কিন্তু তাঁর প্রকাশ নানা রূপে — যেটা **একেশ্বরবাদ + বহুরূপবাদ**।

---

# 🔶 **৩. বহুঈশ্বরবাদ (Polytheism): বহু দেবতা, বহু শক্তি**

হিন্দু ধর্মের জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে অসংখ্য দেব-দেবী আছে:

* ইন্দ্র – শক্তির দেবতা
* অগ্নি – আগুনের দেবতা
* সরস্বতী – জ্ঞানদেবী
* লক্ষ্মী – সমৃদ্ধির দেবী
* গণেশ – সাফল্যের দেবতা

**কেন এত দেবতা?**
কারণ প্রতিটি দেবতা হলো প্রকৃতির একেকটি শক্তির প্রতীক।

# # # দার্শনিক ব্যাখা:

যেমন—

* বিদ্যুৎ, আলো, শব্দ – আলাদা শক্তি হলেও উৎস একই
তেমনি বহু দেবতা হলেও মূলসত্য ব্রহ্ম।

এটাকে বলা যায়:
👉 **সমন্বিত বহুঈশ্বরবাদ (Inclusive Polytheism)**

---

# 🔶 **৪. সহজ উদাহরণে পুরো বিষয়টি**

ধরো—সমুদ্র এক।
কিন্তু তার—

* ঢেউ
* ফেনা
* তরঙ্গ
* স্রোত

সব আলাদা মনে হয়।
তবুও তারা সমুদ্র ছাড়া কিছুই নয়।

হিন্দু দর্শন বলবে:

* ব্রহ্ম = সমুদ্র
* দেবতা = ঢেউ, ফেনা, স্রোত
---

# 🌺 **উপসংহার**

হিন্দু ধর্ম কোনো একক কাঠামোর মধ্যে বন্দী নয়।
এটি এমন একটি চিন্তাজগৎ যেখানে—

ঈশ্বর একও হতে পারেন,
অসংখ্য রূপেও প্রকাশ পেতে পারেন,

হিন্দু ধর্মের দার্শনিক শক্তি এখানেই—
👉 **সত্যকে খুঁজতে স্বাধীনতা।**

---

**দ্বৈত, অদ্বৈত ও বিশিষ্টাদ্বৈত—হিন্দু দর্শনের তিন মহাশাখা | বিস্তারিত সহজ ব্যাখ্যা**ভারতীয় দর্শনের সবচেয়ে গভীর ও প্রাচী...
02/12/2025

**দ্বৈত, অদ্বৈত ও বিশিষ্টাদ্বৈত—হিন্দু দর্শনের তিন মহাশাখা | বিস্তারিত সহজ ব্যাখ্যা**

ভারতীয় দর্শনের সবচেয়ে গভীর ও প্রাচীন ধারাবাহিকতা হলো **বেদান্ত**। আর এই বেদান্ত থেকেই জন্ম তিনটি মহান দর্শন—
🔹 **অদ্বৈত বেদান্ত (Advaita Vedanta)**
🔹 **বিশিষ্টাদ্বৈত বেদান্ত (Vishishtadvaita Vedanta)**
🔹 **দ্বৈত বেদান্ত (Dvaita Vedanta)**

তিনটিই ঈশ্বর, জগৎ এবং জীবের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
চলুন সহজ উদাহরণ, গল্প, তুলনা দিয়ে বুঝে নিই।

---

১️ **অদ্বৈত বেদান্ত — “সত্য এক, ব্রহ্ম”**

**প্রবর্তক:** আদিশংকরাচার্য
**মূল ভাব:**
“আত্মা আর ব্রহ্ম আলাদা নয়।”
“জগৎ আপাত সত্য, কিন্তু পরম সত্যে মায়া।”

# # 🔸 দর্শন কী বলে?

অদ্বৈত বলে—
যেমন একটিই সোনা দিয়ে গহনা, মূর্তি, কয়েন বানানো যায়
👉 তেমনি এই জগত, জীব, ভেদাভেদ—সবই ব্রহ্মের রূপ।
ভিন্নতা শুধু নাম-রূপের ভ্রম।

মানুষের দুঃখ, ভয়, অশান্তি আসছে—
কারণ সে নিজেকে শরীর/মনের মধ্যে বাঁধা মনে করছে।
কিন্তু জ্ঞান লাভ হলে বোঝা যায়—
“আমি ব্রহ্ম”
“আমি অসীম চৈতন্য”
“আমি সীমাবদ্ধ দেহ নই”

এটাই মোক্ষ।

# # 🔸 গল্পে বোঝা:

রাতে অন্ধকারে দড়িকে দেখে তুমি সাপ ভেবেছো—
ভয়, দৌড়, আতঙ্ক—সবই সত্যি অনুভূত হলেও
বাস্তবে ছিল শুধু *দড়ি*।

জগতের বহুত্ব, ভিন্নতা ঠিক এমনই—
দেখায় বাস্তব, কিন্তু পরম সত্যে একটাই ব্রহ্ম।

# # 🔸 অদ্বৈতের সারকথা:

👉 “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা;
আত্মা ব্রহ্ম ব্যতীত অন্য কিছু নয়।”

---

২️ **বিশিষ্টাদ্বৈত বেদান্ত — “একত্ব, তবে বিশেষ সহ”**

**প্রবর্তক:** রামানুজাচার্য
**মূল ভাব:**
ঈশ্বর এক, কিন্তু তাঁর দেহ হিসেবে রয়েছে জগত ও জীব।
একত্ব আছে, তবে সেই একত্ব “বিশিষ্ট” (Qualified non-dualism)।

# # 🔸 দর্শন কী বলে?

যেমন—
**শরীর** হাত, পা, চোখ, নাক নিয়ে গঠিত—
সব আলাদা, কিন্তু সবই **এক দেহের অংশ**।

রামানুজ বলেন—
ঈশ্বর (নারায়ণ) = আত্মা
জগৎ + জীব = তাঁর দেহ/অঙ্গ

জীব আলাদা সত্তা হলেও সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ঈশ্বরে।
মোক্ষ মানে—
**ঈশ্বরের চিরসঙ্গ লাভ।**
মিশে যাওয়া নয়, বরং ঘনিষ্ঠ ঐক্য।

# # 🔸 গল্পে বোঝা:

একজন রাজা আছেন। তাঁর রাজ্য, প্রজা, ভূখণ্ড, অস্তিত্ব—সব তাঁরই দেহের মতো।
রাজা থেকে আলাদা হলেও তাঁর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।

বিশিষ্টাদ্বৈত ঠিক এটাই বলে।

# # 🔸 বিশিষ্টাদ্বৈতের সারকথা:

👉 “ব্রহ্ম এক, তবে তাঁর মধ্যে জীব ও জগতের বহুত্ব আছে।”

---

৩️ **দ্বৈত বেদান্ত — “ঈশ্বর, জগৎ, জীব—চিরকাল আলাদা”**

**প্রবর্তক:** মাধ্বাচার্য
**মূল ভাব:**
ভেদই চিরন্তন।
ঈশ্বর (বিষ্ণু) সর্বোচ্চ, জীব তার সৃষ্টি—কখনোই ঈশ্বর হতে পারে না।

# # 🔸 দর্শন কী বলে?

মাধ্বাচার্য বলেন—
জগত মায়া নয়;
জীব ঈশ্বরের সঙ্গে এক হতে পারবে না;
ঈশ্বর চিরকাল সর্বোচ্চ।

জীবেরা ঈশ্বরের কৃপায় মুক্তি পায়,
কিন্তু ঈশ্বরের সমান বা একই হয়ে যায় না।

# # 🔸 গল্পে বোঝা:

সূর্য আর আলো—
আলো সূর্যের উপর নির্ভরশীল, সূর্যের মতো শক্তিশালী নয়।
কখনই সূর্য হয়ে উঠতে পারে না।

জীব ও ঈশ্বরের সম্পর্ক ঠিক এমনই।

# # 🔸 দ্বৈতের সারকথা:

👉 “ঈশ্বর–জীব–জগৎ পৃথক, এবং এ ভেদ শাশ্বত।”

---

# 🟨 **তিন দর্শনকে একসাথে সহজ উদাহরণে বোঝা**

ধরো, **সমুদ্র, তরঙ্গ ও ফেনা**—

**অদ্বৈত:**

সবই সমুদ্র—
তরঙ্গ বা ফেনা বলে আলাদা করলে ভুল হবে।
বাস্তবে সবই “জল”।

**বিশিষ্টাদ্বৈত:**

সমুদ্র = ঈশ্বর
তরঙ্গ = জীব
ফেনা = জগৎ
সবই সমুদ্রের অংশ, সমুদ্র ছাড়া কিছুই নেই—
কিন্তু তরঙ্গ ও ফেনা নিজস্ব অস্তিত্ব রাখে।

**দ্বৈত:**

সমুদ্র, তরঙ্গ, ফেনা—তিনটি আলাদা।
সমুদ্র শক্তিশালী, তবে তরঙ্গ বা ফেনা কখনোই সমুদ্র হয়ে যেতে পারে না।
|
# 🌟 **উপসংহার**

তিনটি দর্শন তিনটি ভিন্ন মানসিকতার মানুষের উপযোগী—

* **অদ্বৈত**—দর্শন ও দার্শনিক তত্ত্বে আগ্রহীদের জন্য।
* **বিশিষ্টাদ্বৈত**—ঈশ্বরভক্তি ও সমন্বিত ভাবনায় বিশ্বাসীদের জন্য।
* **দ্বৈত**—ঈশ্বরকে শ্রেষ্ঠ স্বামী ও নিজেকে ভক্ত হিসেবে মনে করা মনস্ক মানুষের জন্য।

---

হিন্দু ধর্ম কী? — পরিচয়, ইতিহাস ও মূল ভাবনাহিন্দু ধর্ম পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্মগুলোর একটি, যার শিকড় হাজার হাজার বছর পূর্বে...
01/12/2025

হিন্দু ধর্ম কী? — পরিচয়, ইতিহাস ও মূল ভাবনা

হিন্দু ধর্ম পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্মগুলোর একটি, যার শিকড় হাজার হাজার বছর পূর্বে ভারতীয় সভ্যতায় প্রোথিত। এটি কোনো একক “প্রতিষ্ঠাতা”, নির্দিষ্ট “শাস্ত্র”, বা কঠোর “ডগমা” ভিত্তিক নয়; বরং এটি সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত জীবন্ত এক জীবনদর্শন, যা আচরণ, আধ্যাত্মিকতা, দর্শন, সংস্কৃতি ও মানবকল্যাণের সমন্বয়ে গঠিত।

হিন্দু ধর্মকে অনেক সময় **“সনাতন ধর্ম”** বলা হয়, যার অর্থ—চিরন্তন ধর্ম। এই ধর্ম মানুষের স্বভাব, প্রকৃতি, মহাবিশ্ব, নৈতিকতা ও মুক্তির পথ নিয়ে গভীর অনুসন্ধান করে।

---

হিন্দু ধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য

১. বহুমাত্রিক ঈশ্বরভাবনা

হিন্দু ধর্মে একেশ্বরবাদ, বহুদেববাদ, প্রকৃতিবাদ ও নিরীশ্বরবাদ—সব ধরনের আধ্যাত্মিক ধারণা সহাবস্থান করে।
ব্রহ্ম বা পরমাত্মা হলো সর্বোচ্চ সত্য; দেবদেবীরা সেই ব্রহ্মের বিভিন্ন রূপ বা শক্তির প্রতীক।

২. শাস্ত্রসমূহের বৈচিত্র্য

হিন্দু ধর্মের জ্ঞানভাণ্ডার বিশাল। এর মূল শাস্ত্র:

* বেদ (ঋগ, সাম, যজুর, অথর্ব)
* উপনিষদ
* পুরাণ
* ভগবদ্গীতা
* রামায়ণ, মহাভারত
* স্মৃতিশাস্ত্র, তন্ত্র, আরণ্যক ইত্যাদি।

এই শাস্ত্রগুলো জীবন, কর্ম, নৈতিকতা ও পরমসত্য সম্পর্কে গভীর দিকনির্দেশ দেয়।

৩. ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ — জীবনের চার লক্ষ্য

হিন্দু দর্শন মানুষের জীবনে চারটি চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করে:

i. ধর্ম – নীতি, কর্তব্য, ন্যায়
ii. অর্থ – সমৃদ্ধি, জীবিকার ব্যবস্থা
iii. কাম – মনোবাসনা, সুখ
iv. মোক্ষ – জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি

৪. কর্ম ও পুনর্জন্ম

হিন্দু মতে:

* কর্ম (Karma): মানুষের প্রতিটি কর্মের ফল আছে
* সংসার (Rebirth): কর্মফল অনুসারে আত্মার
পুনর্জন্ম ঘটে
* মোক্ষ: সৎ পথে জীবনযাপন, জ্ঞান ও ভক্তির
মাধ্যমে পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি

---

**হিন্দু দর্শন—হিন্দু ধর্মের দার্শনিক ভিত্তি**

হিন্দু দর্শন মূলত ছয়টি শাস্ত্রীয় দর্শনে গঠিত, যেগুলোকে বলা হয় **“ষড়দর্শন”**:

**১. সাংখ্য (Sankhya)**

পুরুষ (চেতনা) ও প্রকৃতি (পদার্থ) এর দ্বৈততত্ত্ব ব্যাখ্যা করে। বিশ্ব কীভাবে গঠিত হলো তার একটি যৌক্তিক বিশ্লেষণ।

**২. যোগ (Yoga)**

মানুষের মন, দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে মুক্তির পথ নির্দেশ করে। পতঞ্জলির অষ্টাঙ্গ যোগ বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

**৩. ন্যায় (Nyāya)**

যুক্তি, তর্ক ও জ্ঞানতত্ত্বের দর্শন। সত্যে পৌঁছাতে যুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে।

**৪. বৈশেষিক (Vaiśeṣika)**

বিশ্বের মৌলিক উপাদানগুলো—পৃথিবী, জল, আগুন, বায়ু, আকাশ—এগুলো ও পরমাণুর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে।

**৫. মীমাংসা (Mīmāṃsā)**

বেদ অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান ও নৈতিক জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরে।

**৬. বেদান্ত (Vedānta)**

উপনিষদের শিক্ষা ভিত্তিক দর্শন। এখানে ব্রহ্ম, আত্মা, মায়া ও মোক্ষের ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়।
বেদান্তের মধ্যে আবার বহু শাখা আছে—অদ্বৈত, বিশিষ্টাদ্বৈত, দ্বৈত প্রভৃতি।

---

**হিন্দু ধর্মের প্রধান পথসমূহ**

হিন্দু ধর্ম মোক্ষপ্রাপ্তির জন্য চারটি আধ্যাত্মিক পথ নির্দেশ করে:

**১. জ্ঞানযোগ** — জ্ঞানের মাধ্যমে মুক্তি

**২. ভক্তিযোগ** — ভালোবাসা ও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরপ্রাপ্তি

**৩. কর্মযোগ** — নিঃস্বার্থ কর্মের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি

**৪. রাজযোগ** — ধ্যান ও যোগচর্চার মাধ্যমে চিত্তনিয়ন্ত্রণ

---

**হিন্দু ধর্মের সারকথা**

হিন্দু ধর্ম কোনো সংকীর্ণ ধর্ম নয়; এটি হলো—

* উদারমনা অনুসন্ধান
* স্ব-আবিষ্কারের পথ
* মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষাপদ্ধতি
* বিশ্বকে এক পরিবার হিসেবে দেখার দার্শনিক ধারনা (*“বসুধৈব কুটুম্বকম”*)

14/05/2020
হিন্দুধর্ম বুঝতে হলে বেদ ও দর্শন পড়তে হবে এবং সমুদয় ভারতের প্রধান প্রধান ধর্মাচার্য এবং তাদের শিষ্যগণের উপদেশ গুলি জানতে...
23/04/2019

হিন্দুধর্ম বুঝতে হলে বেদ ও দর্শন পড়তে হবে এবং সমুদয় ভারতের প্রধান প্রধান ধর্মাচার্য এবং তাদের শিষ্যগণের উপদেশ গুলি জানতে হবে।।
- স্বামী বিবেকানন্দ

 #হিন্দু_ধর্মে_দেব_দেবির_সংখ্যা_কততেত্রিশ কোটি দেবতাসংস্কৃতে কোটি শব্দের অর্থ হল 'প্রকার'। বেদে তেত্রিশ কোটি দেবতা বলতে ...
22/04/2019

#হিন্দু_ধর্মে_দেব_দেবির_সংখ্যা_কত

তেত্রিশ কোটি দেবতা
সংস্কৃতে কোটি শব্দের অর্থ হল 'প্রকার'। বেদে তেত্রিশ কোটি দেবতা বলতে বেদে তেত্রিশ রকমের দেবতার কথা বলা হয়েছে।
অথর্ব বেদের দশম অধ্যায় সপ্তম সুক্তের ত্রয়োদশ শ্লোকে বলা হয়েছে-

যস্য ত্রয়স্ত্রিংশদ্ দেবা অঙ্গে সর্বে সমাহিতাঃ।
স্কম্মং তং ব্রুহি কতমঃ স্বিদেব সঃ।।

অর্থাৎ, পরম ঈশ্বরের প্রভাবে এই তেত্রিশ জন দেবতা বিশ্বকে বজায় রেখেছেন।।

এই তেত্রিশ দেবতা হলেন:
দ্বাদশ আদিত্য, একাদশ রুদ্র, অষ্ট বসু, ইন্দ্র ও প্রজাপতি।।

চৌষট্টি কোটি দেবতা:
শীর্ষ স্থানীয় দেবতার পরেই এঁদের অবস্থান। সমস্ত পৌরাণিক ও লৌকিক দেবতা মিলিত সংখ্যা ৬৪। এঁরা হলেন দূর্গা, কালী, লক্ষ্মী, মনসা, কার্তিক, গণেশ, ইত্যাদি।।

এর পর রয়েছে ত্রিলোকের তিন প্রধান..
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর।।

মোট = ১০০। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১০০ প্রকার।।

এই ১০০ প্রকার দেবতা পরমব্রহ্মরেই অংশ।।
তেত্রিশ বৈদিক দেবতা হল চৌষট্টি পৌরাণিক দেবতার অংশ। আর চৌষট্টি দেবতা হল ত্রিলোকের তিন প্রধান এর অংশ। আর ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর হল 'ॐ-কার' এর তিনটা গুণ (সত্, রজ,তম) এর তিন রুপ।।
অর্থাৎ ‘ॐ-কার’ই সবকিছু।।

 #প্রকৃত_গুরুপ্রকৃত গুরু সব সময় ভগবানের মধ্যে ও শিষ্যের মধ্যে সেতুর কাজ করে। গুরু কখনও নিজেকে ভগবান বলবেনি।।একজন প্রকৃত ...
19/04/2019

#প্রকৃত_গুরু
প্রকৃত গুরু সব সময় ভগবানের মধ্যে ও শিষ্যের মধ্যে সেতুর কাজ করে। গুরু কখনও নিজেকে ভগবান বলবেনি।।
একজন প্রকৃত গুরু তার শিষ্যদের মায়ার সংসার এবং জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে উপরে নিয়ে যায়।।
একজন প্রকৃত গুরু শাস্ত্র জ্ঞানী হবে এবং যথার্থ ধর্মাচার্য।।
গুরু নিষ্পাপ হওয়া আবশ্যক।।
ধর্মাচাযের সম্বন্ধে প্রথম তিনি কী চরিত্রের লোক, সেটা দেখা আবশ্যক, তারপর তিনি কী বলেন সেটা দেখা হবে।।
গুরুর উদ্দেশ্য কী সেটা দেখতে হবে। গুরু যেন অর্থ, নামযশ বা কোন স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ধর্ম শিক্ষা দান না করেন।।

 #হিন্দু_ধর্মে_সৃষ্টি_কর্তা_একজন  #তবে_আমরা_এতো_দেব_দেবীর_পূজাকরি_কেনতিনটা গুন নিয়ে মানুষের সৃষ্টি হয়েছে 'সত্ গুন', 'রজ ...
17/04/2019

#হিন্দু_ধর্মে_সৃষ্টি_কর্তা_একজন #তবে_আমরা_এতো_দেব_দেবীর_পূজাকরি_কেন
তিনটা গুন নিয়ে মানুষের সৃষ্টি হয়েছে 'সত্ গুন', 'রজ গুন', 'তম গুন', প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে এই তিন গুণ থাকে তিন গুণ এর তিনটা দেবতা আছে, ব্রম্মা হচ্ছে satvik, বিষ্ণু হচ্ছে rajas, শিব হচ্ছে tamas..। গুন আর প্রকৃতি মিলিত হয়ে সমস্ত কিছু সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতি হচ্ছে জল, মাটি, আগুন, বাতাস ও আকাশ, এই পাঁচটা জিনিস মিলিত হয়ে প্রকৃতি সৃষ্টি হয় আর গুন বা পুরুষ হচ্ছে আত্মা। ব্রম্মা হচ্ছে সৃষ্টি কর্তা আর কোন কিছু সৃষ্টির জন্য জ্ঞান এর প্রয়োজন, জ্ঞান হচ্ছে সরস্বতী এখান থেকে বোঝাযায় যে ব্রম্মা সেই সরস্বতী। সৃষ্টি হয়ে গেলে সেটাকে পরিচালনা করতে হবে আর পরিচালনা করে বিষ্ণু, কোন কিছু চালানোর জন্য অর্থের প্রয়োজন, অর্থ হচ্ছে লক্ষী এটা থেকে বোঝাযায় যে বিষ্ণু সেই লক্ষী। সৃষ্টির মধ্যে পাপ বেড়ে গেলে সেটাকে ধ্বংস করতে হবে আর ধ্বংসের দেবতা শিব, কোন কিছু ধ্বংসের জন্য শক্তির প্রয়োজন শক্তি হচ্ছে পারর্বতী এটা থেকে বুঝাযায় যে শিব সেই পারর্বতী। প্রত্যেকটা পুরুষের মধ্যে আধা অংশ নারীর থাকে আর প্রত্যেকটা নারীর মধ্যে আধা অংশ পুরুষের থাকে যেটা অর্ধনারীশ্বর রূপে দেখানো হয়েছে। হিন্দু ধর্মে ঈশ্বর এক যেটা হল AUM(ॐ).... A হচ্ছে জন্ম(ব্রম্মা), U হচ্ছে জীবন(বিষ্ণু), M হচ্ছে মৃত্যু(শিব)। AUM(ॐ) এর তিন টা গুন এর রূপ হচ্ছে তিন দেবতা। গুন ও প্রকৃতি মিলে নিজের কাজ করছে যেমন satvik গুন আর প্রকৃতি মিলে সৃষ্টি, rajas গুন আর প্রকৃতি মিলে পালন, tamas গুন আর প্রকৃতি মিলে ধ্বংস। গুন আর প্রকৃতি মিলে যে দেবতা দের রূপ বোঝানো হয়েছে, সেই দেবতার female version হচ্ছে দেবী। এটা থেকে বোঝাযায় তিন জন দেবতা হচ্ছে AUM(ॐ) এর রূপ। আর যে লক্ষী সেই বিষ্ণু, আর যে সরস্বতী সেই ব্রম্মা, আর যে পারর্বতী সেই শিব। পূজা যারি করা হোকনা কেন পূজা হয় এক জনের যেটা ॐ।

আপনারা পোস্টগুলো pls. Share করুন..যাতে আমাদের সত্যের সন্ধানে page আরো বড়ো হতে পারে আরো মানুষজন এর কাছে পৌঁছতে পারে
11/04/2019

আপনারা পোস্টগুলো pls. Share করুন..যাতে আমাদের সত্যের সন্ধানে page আরো বড়ো হতে পারে আরো মানুষজন এর কাছে পৌঁছতে পারে

 #পবিত্রতা গঙ্গায় ডুব দিলে দেহ পবিত্র হয়।কিন্তু দেহের ভিতর আরো তিনটে জিনিস আছে, মন বুদ্ধি ও আত্মা সেখানে তো জল যায়নি।1- ...
11/04/2019

#পবিত্রতা
গঙ্গায় ডুব দিলে দেহ পবিত্র হয়।
কিন্তু দেহের ভিতর আরো তিনটে জিনিস আছে, মন বুদ্ধি ও আত্মা সেখানে তো জল যায়নি।
1- জ্ঞানের দ্বারা বুদ্ধি পবিত্র হয়।।
2- সত্যের দ্বারা মন পবিত্র হয়।।
3- মন ও বুদ্ধি পবিত্র হলে আত্মা পবিত্র হয়।।

Address

Medinipur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when International Hindu Council posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share