21/06/2026
★ অমৃতকথা ★
**************
বেলুড় মঠ, ২ ভাদ্র, রবিবার, ১৩৩৬—১৮ অগস্ট, ১৯২৯।
তীর্থাদি-ভ্রমণের কথা উঠিয়াছে। একজন সন্ন্যাসী সম্প্রতি ৺বদরীনারায়ণ প্রভৃতি তীর্থ পর্যটন করিয়া আসিয়াছেন। সেই সম্বন্ধে কথা হইতেছিল।
মহাপুরুষজী বলিলেন; "তীর্থাদি-ভ্রমণ– ও তো সোজা কথা। একটু কঠোরতা করতে পারলেই হলো। কিন্তু ভগবানে ভক্তি, বিশ্বাস লাভ করা–সে অতি দুর্লভ। অনেক অনেক সব সাধু দেখতে পাবে, যারা হেঁটে চার ধাম ঘুরেছে, আরো কত কি করেছে। কিন্তু ঠিক ঠিক অনুরাগী সাধু–ঠিক ঠিক বিবেকী সাধু–কজন? অবশ্য একেবারে যে নেই, তা নয়; আছে, তবে তাদের সংখ্যা খুব কম। ভগবানের দিকে এগুনো খুব কঠিন। প্রথমত যাদের জীবনে কোন living ideal (জীবন্ত আদর্শ) নেই, তাদের পক্ষে তা তো মহা দুরূহ ব্যাপার। ভাগ্যক্রমে কোন ideal personality–র (আদর্শ মানবের) touch–এ (সংস্পর্শে) যদি আসে তো কতকটা সোজা হয়, নইলে জীবনের লক্ষ্য স্থির করে সেদিকে এগুতে লোক বড় একটা পারে না। জীবনের ideal (আদর্শ) ঠিক করতে পারলে তখন আস্তে আস্তে ভগবৎ–কৃপায় সেদিকে এগুতে পারে। অবশ্য সবই নির্ভর করে তাঁর কৃপার ওপর। আমরা, খুব fortunate (ভাগ্যবান) যে, অত বড় এক personality–র (মহামানবের) touch–এ (সংস্পর্শে) এসেছিলুম। ভগবান লাভ করতে হলে কি কি করতে হয়, ভগবান লাভ হলে মানুষ কেমন হয়, এ-সব নিজ জীবনে দেখেছি। তিনি যুগাবতার হয়ে এসেছিলেন এবং কৃপা করে আমাদের সঙ্গে করে এনেছিলেন। একি কম সৌভাগ্যের কথা? আমরা স্বয়ং ভগবানের direct touch–এ (সাক্ষাৎ সংস্পর্শে) এসেছি। আমরা তাঁকে দেখেছি, তাঁর আদর্শে জীবন গঠন করেছি। আমাদের পক্ষে ভগবানলাভের রাস্তা খুব সোজা হয়ে গেছে। আমরা ধন্য। আবার যারা ঠাকুরকে দেখেনি, তাঁর পূতসঙ্গ লাভ করতে পারেনি, কিন্তু আমাদের দেখছে, আমাদের ভেতর দিয়ে ঠাকুরকে ধরবার ও বোঝবার চেষ্টা করছে, তারাও জগতের কোটি কোটি নরনারীর চেয়ে বেশি ভাগ্যবান। কি বলছো হে! স্বয়ং ভগবান নরদেহ ধারণ করে এসেছিলেন–এই তো সেদিনের কথা। আমাদের চোখের উপর সব কাণ্ডটা হয়ে গেল। কি কঠোর সাধনার অগ্নিই না তিনি প্রজ্বলিত করেছিলেন। এখনো তার আঁচ লোকের গায়ে লাগছে। একি কম যুগ! এ মহাপুণ্য সময়। এ যুগে যেই রামকৃষ্ণ নাম নেবে, তাঁর জীবনকে আদর্শ করে ভগবান লাভের রাস্তায় এগুবে, তাঁর পক্ষেই সব সহজ হয়ে যাবে। এখন রামকৃষ্ণের জীবনাদর্শে যদি কেউ নিজ নিজ জীবন গড়ে তোলে, তাঁর জীবন ছাঁচে যদি নিজেদের জীবন ঢালাই করে নেয়, তবে তো তার পক্ষে ভগবান লাভ করা অতি সোজা। কিন্তু তা লোক পারছে কোথায়?"
সন্ন্যাসী বলিলেন; মহারাজ, ভগবান লাভ করা কি খুব সোজা?
মহারাজ বলিলেন; "খুব সোজা নয়।
এই বলিয়া গান ধরিলেন—
'শ্যামা মা উড়াচ্ছেন ঘুড়ি।
ঘুড়ি লক্ষের দুটা একটা কাটে, হেঁসে দাও মা হাত চাপড়ি।'
'মনুষ্যাণাং সহস্রেষু কশ্চিদ্ যততি সিদ্ধয়ে।
যততামপি সিদ্ধানাং কশ্চিন্মাং বেত্তি তত্ত্বতঃ।।'
—সহস্র লোকের মধ্যে এক-আধ জনই সিদ্ধিলাভের জন্য চেষ্টা করে। আবার প্রযত্নশীল সাধকগণের মধ্যেও এক-আধ জনই আমাকে যথার্থভাবে জানিতে পারে। ভগবান লাভ করা খুব কঠিন ব্যাপার এবং ভগবানের বিশেষ কৃপা না হলে তা হবারও জো নেই। তাঁর কৃপা হলো তো সহস্র সহস্র বৎসরের অন্ধকার ঘরেও দপ করে আলো জ্বলে উঠতে পারে। তিনি কৃপাসিন্ধু। জীবের দুঃখে কাতর হয়েই তো জীব উদ্ধারের জন্য তিনি নরদেহ ধারণ করে এসেছিলেন। নইলে তাঁর কি প্রয়োজন? বল না? তিনি তো পূর্ণ, তাঁর কিসের অভাব?"
***************************************
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ও আনন্দে থাকুন ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর কাছে আন্তরিক —এই প্রার্থনা করি।
জয় মা
জয় ঠাকুর।
হরি ওঁ রামকৃষ্ণ।
সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।।
—স্বামী জয়ানন্দ মহারাজ।
********************************
#রামকৃষ্ণ_আশ্রম_ঠাকুরবাড়ীRamakrishnaAshramaThakurbariMedinipurরামকৃষ্ণআশ্রমঠাকুরবাড়ীমেদিনীপুর
#রামকৃষ্ণ_আশ্রম_ঠাকুরবাড়ী
#স্বামী_জয়ানন্দ_মহারাজ
#মেদিনীপুর
#পশ্চিম_মেদিনীপুর