Ramakrishna Ashrama Thakurbari রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ী

  • Home
  • India
  • Medinipur
  • Ramakrishna Ashrama Thakurbari রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ী

Ramakrishna Ashrama Thakurbari রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ী Ramakrishna Ashrama Thakurbari is a social, charitable, welfare, and religious organization in Medinipur Town, Paschim Medinipur.

Inspired by Shri Ramakrishna, Maa Sarada Devi, and Swami Vivekananda, its motto; “Atmano Mokshartham Jagat Hitaya Cha.”

★ অমৃতকথা ★**************বেলুড় মঠ, ২ ভাদ্র, রবিবার, ১৩৩৬—১৮ অগস্ট, ১৯২৯।তীর্থাদি-ভ্রমণের কথা উঠিয়াছে। একজন সন্ন্যাসী সম্...
21/06/2026

★ অমৃতকথা ★
**************

বেলুড় মঠ, ২ ভাদ্র, রবিবার, ১৩৩৬—১৮ অগস্ট, ১৯২৯।
তীর্থাদি-ভ্রমণের কথা উঠিয়াছে। একজন সন্ন্যাসী সম্প্রতি ৺বদরীনারায়ণ প্রভৃতি তীর্থ পর্যটন করিয়া আসিয়াছেন। সেই সম্বন্ধে কথা হইতেছিল।
মহাপুরুষজী বলিলেন; "তীর্থাদি-ভ্রমণ– ও তো সোজা কথা। একটু কঠোরতা করতে পারলেই হলো। কিন্তু ভগবানে ভক্তি, বিশ্বাস লাভ করা–সে অতি দুর্লভ। অনেক অনেক সব সাধু দেখতে পাবে, যারা হেঁটে চার ধাম ঘুরেছে, আরো কত কি করেছে। কিন্তু ঠিক ঠিক অনুরাগী সাধু–ঠিক ঠিক বিবেকী সাধু–কজন? অবশ্য একেবারে যে নেই, তা নয়; আছে, তবে তাদের সংখ্যা খুব কম। ভগবানের দিকে এগুনো খুব কঠিন। প্রথমত যাদের জীবনে কোন living ideal (জীবন্ত আদর্শ) নেই, তাদের পক্ষে তা তো মহা দুরূহ ব্যাপার। ভাগ্যক্রমে কোন ideal personality–র (আদর্শ মানবের) touch–এ (সংস্পর্শে) যদি আসে তো কতকটা সোজা হয়, নইলে জীবনের লক্ষ্য স্থির করে সেদিকে এগুতে লোক বড় একটা পারে না। জীবনের ideal (আদর্শ) ঠিক করতে পারলে তখন আস্তে আস্তে ভগবৎ–কৃপায় সেদিকে এগুতে পারে। অবশ্য সবই নির্ভর করে তাঁর কৃপার ওপর। আমরা, খুব fortunate (ভাগ্যবান) যে, অত বড় এক personality–র (মহামানবের) touch–এ (সংস্পর্শে) এসেছিলুম। ভগবান লাভ করতে হলে কি কি করতে হয়, ভগবান লাভ হলে মানুষ কেমন হয়, এ-সব নিজ জীবনে দেখেছি। তিনি যুগাবতার হয়ে এসেছিলেন এবং কৃপা করে আমাদের সঙ্গে করে এনেছিলেন। একি কম সৌভাগ্যের কথা? আমরা স্বয়ং ভগবানের direct touch–এ (সাক্ষাৎ সংস্পর্শে) এসেছি। আমরা তাঁকে দেখেছি, তাঁর আদর্শে জীবন গঠন করেছি। আমাদের পক্ষে ভগবানলাভের রাস্তা খুব সোজা হয়ে গেছে। আমরা ধন্য। আবার যারা ঠাকুরকে দেখেনি, তাঁর পূতসঙ্গ লাভ করতে পারেনি, কিন্তু আমাদের দেখছে, আমাদের ভেতর দিয়ে ঠাকুরকে ধরবার ও বোঝবার চেষ্টা করছে, তারাও জগতের কোটি কোটি নরনারীর চেয়ে বেশি ভাগ্যবান। কি বলছো হে! স্বয়ং ভগবান নরদেহ ধারণ করে এসেছিলেন–এই তো সেদিনের কথা। আমাদের চোখের উপর সব কাণ্ডটা হয়ে গেল। কি কঠোর সাধনার অগ্নিই না তিনি প্রজ্বলিত করেছিলেন। এখনো তার আঁচ লোকের গায়ে লাগছে। একি কম যুগ! এ মহাপুণ্য সময়। এ যুগে যেই রামকৃষ্ণ নাম নেবে, তাঁর জীবনকে আদর্শ করে ভগবান লাভের রাস্তায় এগুবে, তাঁর পক্ষেই সব সহজ হয়ে যাবে। এখন রামকৃষ্ণের জীবনাদর্শে যদি কেউ নিজ নিজ জীবন গড়ে তোলে, তাঁর জীবন ছাঁচে যদি নিজেদের জীবন ঢালাই করে নেয়, তবে তো তার পক্ষে ভগবান লাভ করা অতি সোজা। কিন্তু তা লোক পারছে কোথায়?"
সন্ন্যাসী বলিলেন; মহারাজ, ভগবান লাভ করা কি খুব সোজা?
মহারাজ বলিলেন; "খুব সোজা নয়।
এই বলিয়া গান ধরিলেন—
'শ্যামা মা উড়াচ্ছেন ঘুড়ি।
ঘুড়ি লক্ষের দুটা একটা কাটে, হেঁসে দাও মা হাত চাপড়ি।'
'মনুষ্যাণাং সহস্রেষু কশ্চিদ্‌ যততি সিদ্ধয়ে।
যততামপি সিদ্ধানাং কশ্চিন্মাং বেত্তি তত্ত্বতঃ।।'
—সহস্র লোকের মধ্যে এক-আধ জনই সিদ্ধিলাভের জন্য চেষ্টা করে। আবার প্রযত্নশীল সাধকগণের মধ্যেও এক-আধ জনই আমাকে যথার্থভাবে জানিতে পারে। ভগবান লাভ করা খুব কঠিন ব্যাপার এবং ভগবানের বিশেষ কৃপা না হলে তা হবারও জো নেই। তাঁর কৃপা হলো তো সহস্র সহস্র বৎসরের অন্ধকার ঘরেও দপ করে আলো জ্বলে উঠতে পারে। তিনি কৃপাসিন্ধু। জীবের দুঃখে কাতর হয়েই তো জীব উদ্ধারের জন্য তিনি নরদেহ ধারণ করে এসেছিলেন। নইলে তাঁর কি প্রয়োজন? বল না? তিনি তো পূর্ণ, তাঁর কিসের অভাব?"

***************************************

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ও আনন্দে থাকুন ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর কাছে আন্তরিক —এই প্রার্থনা করি।
জয় মা
জয় ঠাকুর।

হরি ওঁ রামকৃষ্ণ।
সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।।

—স্বামী জয়ানন্দ মহারাজ।

********************************

#রামকৃষ্ণ_আশ্রম_ঠাকুরবাড়ীRamakrishnaAshramaThakurbariMedinipurরামকৃষ্ণআশ্রমঠাকুরবাড়ীমেদিনীপুর
#রামকৃষ্ণ_আশ্রম_ঠাকুরবাড়ী


#স্বামী_জয়ানন্দ_মহারাজ
#মেদিনীপুর

#পশ্চিম_মেদিনীপুর


★ অমৃতকথা ★***************বেলুড় মঠ, ৩০ শ্রাবণ, বৃহস্পতিবার ১৩৩৬–১৫ অগস্ট, ১৯২৯।একজন ভক্ত ওকালতি করেন। পুজনীয় মহাপুরুষজী ...
20/06/2026

★ অমৃতকথা ★
***************

বেলুড় মঠ, ৩০ শ্রাবণ, বৃহস্পতিবার ১৩৩৬–১৫ অগস্ট, ১৯২৯।
একজন ভক্ত ওকালতি করেন। পুজনীয় মহাপুরুষজী তাঁহাকে খুবই স্নেহ করেন।
ভক্তটি আসিয়া প্রণামান্তে কুশল প্রশ্নাদি জিজ্ঞাসা করিয়া মহাপুরুষজীর চরণপ্রান্তে উপবেশন করিলেন এবং নিজ সাধন-ভজন সম্বন্ধে কথাবার্তা কহিতে লাগিলেন।
ভক্তটি বলিলেন; মহারাজ, প্রাণে শান্তি তো হচ্ছে না, সর্বদা ভেতরটা যেন হু-হু করছে।
মহারাজ বলিলেন; "তাঁর নাম করে যাও, বাবা, ক্রমে শান্তি পাবে। আর বেশি না পারো, সকাল-সন্ধ্যায় নিয়ম করে জপ করতে বসবে।"
ভক্ত বলিলেন; তা তো করি, কিন্তু তাতে তো আর প্রাণের আশা মেটে না। ইচ্ছে হয় আরো করি, কিন্তু সময় করে উঠতে পারি নে। সকাল-সন্ধ্যায় যখন জপধ্যান করতে বসি, তখন খুবই আনন্দ পাই। এত আনন্দ পাই যে, আর ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে হয় না। কিন্তু কি করি, কাজের তাড়ায় উঠতে হয়।
মহারাজ বলিলেন; "তার আর কি করবে বল? তখন মনে মনে তাঁর স্মরণ মনন করবে। তিনি তো অন্তর্যামী, তিনি তোমার প্রাণের ব্যাকুলতা টের পাচ্ছেন। তিনি তোমায় কৃপা করছেন, এবং আরো করবেন। তোমার প্রাণের অতৃপ্ত বাসনা পূরণ করবেন। তিনি বাঞ্ছাকল্পতরু। তাঁর কাছে যে যা চায়, তিনি তাকে তাই দেন। তুমি প্রাণভরে তাঁর নাম করে যাও। তাঁর নাম, তাঁর ধ্যান কর খুব প্রাণভরে। যখনই সময় পাবে, তখনই স্মরণ মনন করবে। তাঁর স্মরণ-মননের আর সময় অসময়, কালাকাল, স্থান অস্থান নেই। আর প্রার্থনা করবে খুব ব্যাকুলভাবে– 'প্রভু, দয়া কর, দয়া কর, দয়া কর। তুমি কত লোককে দেশ বিদেশে কৃপা করছ আর আমায় করবে না? তোমারই এক সন্তান (নিজকে উদ্দেশ করিয়া) তোমায় ডাকতে শিখিয়ে দিয়েছেন। আমি তো সেই ভাবেই তোমায় ডাকছি তোমার কৃপা পাবার জন্য। তোমারই সন্তান এই ভাবে ডাকতে বলে দিয়েছেন।' এই ভাবে ডেকে যাও, নিশ্চয়ই তিনি কৃপা করবেন। আমরা তাঁর দাস। দেহ, মন, প্রাণ তাঁর চরণে বিকিয়ে দিয়েছি। আমি বলছি, তিনি তোমায় কৃপা করবেন।"
ভক্ত বলিলেন (সাশ্রুনয়নে); আপনি কৃপা করুন, আপনি ঠাকুরকে একটু বলুন, তবেই হবে।
মহারাজ বলিলেন; "আমার কৃপা তো আছেই বাবা, নইলে এত বলছি কেন? ঠাকুর এসেছেন জীব উদ্ধারের জন্য। আমরা তাঁর দাস, আমাদেরও তা ছাড়া অন্য কামনা নেই। সাধন-ভজন যা কিছু বল, সবই জগতের কল্যাণের জন্য করছি। নইলে নিজের জন্য আর কি দরকার। তিনি তো আমাদের পূর্ণ করে দিয়েছেন সব রকমে। কিছুই তো আর অপূর্ণ রাখেননি। তবু জীবের কল্যাণের জন্য সাধন-ভজন করিয়ে নিচ্ছেন।"
ভক্তটি বলিলে; ধ্যান কি করে করব? ঠাকুরের পুরোপুরি মূর্তি তো ধ্যান করতে পারি নে।
মহারাজ বলিলেন; "তা না পারো, ঠাকুরের এক এক অঙ্গ ধ্যান করবে। প্রথমত শ্রীচরণ ধ্যান করলে, ক্রমে ক্রমে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। পরে ঠাকুরের মূর্তি সমস্তটা একেবারে ধ্যানে আনবার চেষ্টা করবে। পুরোপুরি সমস্ত মূর্তি ধ্যান করতে পারলেই ভাল।"
ভক্ত বলিলেন; মার মূর্তি ধ্যান করতে পারি নে–কেমন যেন ভয় হয়। ঠাকুরকে ধ্যান তবু কতকটা হয়।
মহারাজ বলিলেন; "তা বেশ তো। ঠাকুরের ধ্যান করতে পারো তো? তাতেই হবে। মার ধ্যান আলাদা না করতে পারলেও দোষ নেই, কারণ ঠাকুরের ভেতরই সব আছেন। মাও আছেন। ঠাকুর হলেন সমস্ত দেবদেবীর ভাবঘন মূর্তি। এ যাবৎ যত দেবদেবী হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরো যত দেবদেবী হবেন, সে-সমস্তই ঠাকুরের ভেতর রয়েছেন। অতএব ঠাকুরকে ধ্যান করলেই সকলকে ধ্যান করা হলো। অবশ্য এই consciousness (জ্ঞান) ভেতরে থাকা চাই।"
ভক্ত বলিলেন; জপ কিভাবে করব, মহারাজ?
মহারাজ বলিলেন; "জপ মনে মনে করাই সর্বশ্রেষ্ঠ। 'মালা জপে শালা, কর জপে ভাই। মন মন জপে তো বলিহারি যাই।' এই 'মন মন জপ'ই সর্বোৎকৃষ্ট। মালাজপ বা করজপ করতে গেলে, সংখ্যা রাখবার দিকে একটু নজর থাকে। তাতে ষোল আনা মন জপের দিকে দেওয়া যায় না, concentration-এর (একাগ্রতার) একটু ব্যাঘাত হয়। খুব প্রেমের সঙ্গে নাম করবে, সংখ্যায় কি আসে যায়? একি বাজারের জিনিস যে এত টাকা, এত দাম– সেই টাকা গুণে দিয়ে জিনিস কিনে নিয়ে এলুম? ভগবান দেখেন ভাব। তিনি দেখেন প্রাণের টান। তাঁর উপর যদি প্রেম হলো, তবে আর কিছুরই দরকার নেই। প্রেমের সঙ্গে যদি একটিবারও তাঁর নাম করা যায়, তাতে মনপ্রাণ আনন্দে ভরে যাবে। প্রেমের সহিত একবার নাম করলেই তা লক্ষ জপের চেয়ে বেশি হলো। একবার ঠাকুরঘরে গিয়েছিলে?"
ভক্ত বলিলেন; না, মহারাজ, এবার যাব।
মহারাজ বলিলেন; "নিশ্চয় যাবে। তাঁর স্থানে এসেছ, আগে তাঁর দর্শন করতে হয়। যাও, ঠাকুরঘরে যাও। ওখানে বসে একটু জপ কর, আনন্দ পাবে। আমাদের ঠাকুর বড় জীবন্ত ঠাকুর। এখানে তাঁর বিশেষ প্রকাশ। অবশ্য তিনি সর্বত্রই আছেন, তবু এস্থানে ও তাঁর ভক্তদের ভেতর তাঁর বিশেষ প্রকাশ। একটু প্রসাদ নিতে ভুলো না।"

***************************************

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ও আনন্দে থাকুন ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর কাছে আন্তরিক —এই প্রার্থনা করি।
জয় মা
জয় ঠাকুর।

হরি ওঁ রামকৃষ্ণ।
সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।।

—স্বামী জয়ানন্দ মহারাজ।

********************************

#রামকৃষ্ণ_আশ্রম_ঠাকুরবাড়ীRamakrishnaAshramaThakurbariMedinipurরামকৃষ্ণআশ্রমঠাকুরবাড়ীমেদিনীপুর
#রামকৃষ্ণ_আশ্রম_ঠাকুরবাড়ী


#স্বামী_জয়ানন্দ_মহারাজ
#মেদিনীপুর

#পশ্চিম_মেদিনীপুর


★ অমৃতকথা ★***************বেলুড় মঠ, ২৪ শ্রাবণ, শুক্রবার, ১৩৩৬-৯ অগস্ট, ১৯২৯।আজ স্বামী যতীশ্বরানন্দ মাদ্রাজে ফিরিয়া যাইবে...
19/06/2026

★ অমৃতকথা ★
***************

বেলুড় মঠ, ২৪ শ্রাবণ, শুক্রবার, ১৩৩৬-৯ অগস্ট, ১৯২৯।
আজ স্বামী যতীশ্বরানন্দ মাদ্রাজে ফিরিয়া যাইবেন। তিনি সকালে আসিয়া প্রণাম করিতেই মহাপুরুষজী সস্নেহে বলিলেন; "আজ তো যতীশ্বর চলল। এ-যাত্রায় অনেক দিন মঠে ছিলে ঠাকুরে স্থানে। আমি আশীর্বাদ করছি, যেখানেই যাবে ঠাকুর তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকবেন।"
অন্য সময় উক্ত সন্ন্যাসীর সঙ্গে মঠ ও মিশন-সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা হইতে হইতে ক্রমে ঠাকুরের সঙ্ঘশক্তির সম্বন্ধে মহাপুরুষজী বলিয়াছিলেন; "সত্যমেব জয়তে নানৃতম্। সত্যের জয় চিরকাল হয়ে আসছে, হবেও বাবা। এ-সব ঐশী শক্তির খেলা। ঠাকুর স্থূল শরীর ত্যাগ করে এখন এই সঙ্ঘের ভেতর রয়েছেন। এখন ঠাকুর আছেন সঙ্ঘরূপে– এ হলো স্বামীজীর কথা। এই যে তোমরা সব ভক্তেরা দূর দূর শাখাকেন্দ্র হতে এসে একত্র হয়েছ, এর ফল অতি শুভ হবে। ঠাকুর যে এখনো সঙ্ঘকে রক্ষা করছেন এবং ভবিষ্যতেও রক্ষা করবেন, তা কখনো বা একটু নাড়াচাড়া দিয়ে তিনি জানিয়ে দেন। স্বামীজী নিজে ঠাকুরের নির্দেশ মতো এই সঙ্ঘ সংগঠন করেছেন; আর তাঁর উদার ধর্মভাব সমগ্র জগতে প্রচারের বিরাট দায়িত্ব এ-সঙ্ঘের উপর ন্যস্ত করে গেছেন। কেউ এই সঙ্ঘের অনিষ্ট করতে পারবে না, নিশ্চিত জেনো। যদি কেউ কখন অন্যরকম মতলব নিয়েও আসে, তা হলে ঠাকুর তাদের মনের গতি ফিরিয়ে দেবেন, সকলকে তিনি বুঝিয়ে দেবেন–এমনকি নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে ফেলেও। ক্ষুদ্রবুদ্ধি মানুষ তো ভুল করবেই, কিন্তু তিনি সকলকেই কৃপা করেন। পাপী, তাপী কেউ তাঁর কৃপা হতে বঞ্চিত হয় না। স্বামীজী বলেছেন না— 'আচণ্ডালাপ্রতিহতরয়ো যস্য প্রেমপ্রবাহঃ' ইত্যাদি? তিনি সকলকেই ক্ষমা করেন। আচণ্ডালে কৃপা করার জন্যই তো তিনি এই রামকৃষ্ণরূপ ধারণ করে এসেছিলেন। তোমরা তো পড়েছ যীশুখ্রীস্টের কথা। যারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে মেরেছিল, তাদের জন্যও তিনি ভগবানের নিকট কাতরপ্রাণে ক্ষমাভিক্ষা চেয়েছিলেন– 'প্রভু, এদের ক্ষমা কর। এরা কি অন্যায় করেছে তা জানে না।' সেই পরব্রহ্মই ইদানীং রামকৃষ্ণরূপে এসেছেন। আমরা তো স্বচক্ষে দেখেছি তাঁর কী অসীম দয়া, কি অদ্ভুত ক্ষমা! আর মা–তাঁর তো তুলনাই হয় না–সাক্ষাৎ জগদম্বা। এমনো শুনেছি, একজন এসে মায়ের কাছে এক ছেলের নামে বলেছিল যে, সে অশ্রাব্য ও মহাঘৃণ্য অপরাধ করেছে। মা খুব গম্ভীরভাবে সব শুনলেন। তারপর সে লোকটি মাকে অনুরোধ করে যখন বলল– 'আপনি যদি তাকে ডেকে একটু বলে দেন তা হলে ভাল হয়।' তাতে মা বলেছিলেন– 'বাবা, তোমরা ও-রকম বলতে পার, কিন্তু আমি যে মা। আমার কাছে সকলেই সমান। সে তোমাদের কাছে মহা অপরাধী ও ঘৃণ্য হতে পারে, কিন্তু তার মার কাছে নয়। আমি মা হয়ে কি করে ছেলেকে ঘৃণা করব?' এমন ক্ষমা ছিল মায়ের! এ-সব তো আমাদের চোখের উপরেই হয়ে গেছে। আমরাও ঐ শিখেছি। ঠাকুর, মা, স্বামীজী–এঁদের জীবন দেখেই তো আমাদের শিখতে হবে। বলিতে বলিতে মহাপুরুষজীর কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হইল; তিনি আর কিছুই বলিতে পারিলেন না। খানিকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া আপন মনে গান ধরিলেন—
'গাওরে জগপতি জগ-বন্দন,
ব্রহ্ম সনাতন পাতকনাশন।
একদেব ত্রিভুবন-পরিপালক,
কৃপাসিন্ধু সুন্দর ভব-নায়ক।।
সেবক-মনোমদ মঙ্গল-দাতা, বিদ্যা-সম্পদ-বুদ্ধি-বিধাতা।
যাচে চরণ ভকত করজোড়ে,
বিতর প্রেম-সুধা চিত্ত-চকোরে।।"

***************************************

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ও আনন্দে থাকুন ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর কাছে আন্তরিক —এই প্রার্থনা করি।
জয় মা
জয় ঠাকুর।

হরি ওঁ রামকৃষ্ণ।
সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।।

—স্বামী জয়ানন্দ মহারাজ।

********************************

#রামকৃষ্ণ_আশ্রম_ঠাকুরবাড়ীRamakrishnaAshramaThakurbariMedinipurরামকৃষ্ণআশ্রমঠাকুরবাড়ীমেদিনীপুর
#রামকৃষ্ণ_আশ্রম_ঠাকুরবাড়ী


#স্বামী_জয়ানন্দ_মহারাজ
#মেদিনীপুর

#পশ্চিম_মেদিনীপুর


Address

Medinipur

Opening Hours

Monday 8:30am - 8:30pm
Tuesday 8:30am - 8:30pm
Wednesday 8:30am - 8:30pm
Thursday 8:30am - 8:30pm
Friday 8:30am - 8:30pm
Saturday 8:30am - 8:30pm
Sunday 8:30am - 8:30pm

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ramakrishna Ashrama Thakurbari রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Ramakrishna Ashrama Thakurbari রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ী:

Share