21/08/2026
★ অমৃতকথা ★
**************
বেলুড় মঠ, ১৩৩৮-৩৯, বিভিন্ন সময়ে–১৯৩২।
মঠে দুর্গাপূজা হইতেছে। মহানবমীর রাত্রি। অন্য অন্য বৎসর এই রাত্রিতে কত ভজন-কীর্তনাদিতে মঠপ্রাঙ্গণ মুখরিত থাকিত; কিন্তু এবার মহাপুরুষজীর শরীরের সঙ্কটাপন্ন অবস্থা। তাই আজ মঠভূমি নীরব। একটু অধিক রাত্রে মহাপুরুষজী ভজনাদির শব্দ না পাইয়া মঠের সাধুবৃন্দকে নিকটে ডাকাইয়া বলিলেন; "আজ মহানবমীরাত্রি, মহা আনন্দের সময়, ভজনাদি কিছু না করে তোমরা চুপচাপ আছ যে? কি ব্যাপার?"
জনৈক সাধু বলিলেন; মহারাজ, আপনার শরীরের এই অবস্থা। আমরা কেমন করে ভজন করি? গোলমালে আপনার হার্টের অবস্থা আরো খারাপ হবে। তাই ভজনাদি কিছু করছিনে।
মহারাজ বলিলেন; "কেন, তাতে হয়েছে কি? আমি বেশ আছি। ভজন শুনলে আমি বেশ ভাল থাকি। এ দেহের অসুখ বলে তোমরা আমার আনন্দময়ী মাকে ভজন শোনাবে না, আনন্দ করবে না? আমার কোনও কষ্ট হবে না। যাও, তোমরা ভজন করগে।"
সকালবেলা মঠের সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারীদের মধ্যে অনেকেই মহাপুরুষ মহারাজকে প্রণাম করিয়া চলিয়া গিয়াছেন। জনৈক সন্ন্যাসী প্রণামান্তে নিজের প্রাণের মহা অশান্তি ও বৈরাগ্যের কথা অতি কাতরভাবে নিবেদন করাতে মহাপুরুষজী বলিলেন; "ভয় কি, বাবা। শরণাগত হয়ে পড়ে থাক তাঁর দুয়ারে। তিনি কাউকে বিমুখ করেন না।"
সন্ন্যাসী বলিলেন; এতদিন বৃথা কেটে গেল; এখনো ভগবান লাভ হলো না, শান্তিলাভ হলো না। এক এক সময় দারুণ অবিশ্বাস মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এতকাল আপনাদের যে-সব উপদেশ বাক্য শুনেছি, সে-সবেও সন্দেহ এসে যায়।
এ কথা শুনিয়া মহাপুরুষ মহারাজের মুখমণ্ডল একেবারে রক্তিম হইয়া উঠিল।
তিনি একটু উত্তেজিত হইয়া বলিলেন; "দেখ, বাবা, ঠাকুর যদি সত্য হন তো আমরাও সত্য। যা বলছি, ঠিক ঠিক বলছি; আমরা লোক ঠকাতে আসিনি। যদি আমরা ডুবি তো তোমরাও ডুববে; কিন্তু তাঁর কৃপায় জেনেছি যে, আমরা ডুবব না, আর তোমরাও ডুববে না।"
মহাপুরুষ মহারাজ বেশি চলাফেরা করিতে পারেন না। সেজন্য একজন সেবকের উপর ভার ছিল যে, রোজ বিকালে ঘণ্টা দেড়েক সারা মঠ ঘুরিয়া অসুস্থ সাধুব্রহ্মচারীদের, গরুবাছুরগুলির এবং মঠের অন্যান্য বিষয়ের যাবতীয় খবর লইয়া সব তাঁহাকে বিস্তারিতভাবে জানাইবে। একদিন যথারীতি সারা মঠ ঘুরিয়া সব খবরাদি জানিয়া সেবক উপরে গিয়া দেখে যে, মহাপুরুষজী একা খুব গম্ভীরভাবে বসিয়া আছেন। চক্ষু অর্ধনিমীলিত, যেন জোর করিয়া বাহিরের দিকে দৃষ্টিপাত করিতেছেন। সেবক সামনে গিয়ে দাঁড়াইলেও অন্যদিনের ন্যায় কোন প্রশ্নই তিনি করিলেন না। মনে হইল যেন সেবকের উপস্থিতি তিনি আদৌ জানিতে পারেন নাই। তাঁহার এই প্রকার ভাবান্তর দেখিয়া সেবক স্তম্ভিত হইয়া একপাশে সরিয়া গেল। এইভাবে অনেকক্ষণ অতিবাহিত হইবার পরে যখন তিনি এদিকে সেদিকে একটু চাহিতে লাগিলেন, তখন সেবক সামনে গিয়া অন্য দিনের মতন সব খবর বলিতে আরম্ভ করামাত্রই মহাপুরুষজী ধীরভাবে বলিলেন; "দেখ, আমার কাছে এ জগৎটার কোন অস্তিত্বই নেই; একমাত্র ব্রহ্মই রয়েছেন। নেহাত মনটা নিচে নামিয়ে রাখবার জন্য কথাবার্তা বলি এবং পাঁচরকম খবরাখবরও নিই।" এইমাত্র বলিয়া পুনরায় গম্ভীর হইয়া বসিয়া রহিলেন। সেইদিন আর কোন খবরই শুনিলেন না।
***************************************
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ও আনন্দে থাকুন ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর কাছে আন্তরিক —এই প্রার্থনা করি।
জয় মা
জয় ঠাকুর।
হরি ওঁ রামকৃষ্ণ।
সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ
সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।।
******************************************
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণো জয়তি
প্রিয়ভাজনেষু,
পরমারাধ্য ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ীতে 'চিন্ময় বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা তিথি' উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ই ভাদ্র (সাধারণ পঞ্জিকা মতে ১৭ই ভাদ্র), ১৪৩৩ (ইং-৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬) শুক্রবার জন্মাষ্টমী তিথিতে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ীর শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরে বিশেষ পূজানুষ্ঠান এবং হোম-যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হইবে।
অত্যন্ত শুভ এই মহতী আনন্দ-যজ্ঞানুষ্ঠানে আপনাকে সপরিবারে এবং সবান্ধবে যোগদান করিয়া আনন্দবর্ধন করিবার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হইতেছে।
বিনীত -
স্বামী জয়ানন্দ
অধ্যক্ষ
রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ী
রবীন্দ্রনগর, ডাকঘর-মেদিনীপুর
জেলা- পশ্চিম মেদিনীপুর, পিন-৭২১১০১
দূরভাষঃ (০৩২২২) ২৬৪৫৯৭
*****************************************
অনুষ্ঠান সূচী:-
মঙ্গলারতি: ভোর ০৪.০০ টায়
বিশেষ পূজা: সকাল ০৭.৩০ টায় আরম্ভ
হোম: সকাল ১০.০০ টায়
অঞ্জলি: সকাল ১১.০০ টায়
ভোগ আরতি: সকাল ১১.৪৫ টায়
প্রসাদ বিতরণ: দুপুর ১২ .০০টায়
সন্ধ্যারতি: সন্ধ্যা ০৬.২০ টায়
সভামণ্ডপে:-
সকাল ০৮.০০ টায় - হরিনাম সংকীর্তন
দুপুর ১২.০০ টায় - লীলা কীর্তন - গোরা কুমোর
বিকেল: ০৪.০০ টায়- ভক্তিগীতি পরিবেশনায়- দেবাশীষ গিরি, তবলা সঙ্গতে- বিশ্বনাথ দত্ত
বিকেল: ০৫.০০ টায়- ভক্তিগীতি পরিবেশনায়- সুনন্দা দাস তবলা সঙ্গতে- বিদ্যুৎ বিকাশ দাস
সন্ধ্যা ০৭.৩০ টায় - পালা কীর্তন - গয়াসুরে হরিসাধনা
• ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের 'চিন্ময় বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা তিথি' উপলক্ষ্যে যে কোন প্রকার দান সাদরে গৃহীত ও স্বীকৃত হইবে।
• ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রণামী দিতে চাইলে আশ্রমের এ্যাকাউন্ট ডিটেলস:-
Account Name- RAMAKRISHNA ASHRAMA THAKURBARI
SBI Account Numbur : 30637509613
IFS CODE : SBIN0000132
• আশ্রমের UPI ID এর মাধ্যমে প্রণামী দিতে চাইলে দিতে পারেন-
RKMTHAKURBARI@SBI
• Online - এ আশ্রমের Bank Account-এ Donation পাঠাইলে আপনার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, PAN নাম্বার ও Aadhaar নাম্বার আশ্রমের Whatsapp নম্বরে - 9432904900 বা ইমেলে- [email protected] অবশ্যই পাঠাইবেন।
• রামকৃষ্ণ আশ্রম ঠাকুরবাড়ী'র জন্য সকল আর্থিক দান আয়কর আইনের ৮০জি ধারা অনুসারে আয়কর মুক্ত।
*****************************************