Debadyuti Bhattacharya

Debadyuti Bhattacharya " You are for the lord
Not for others . You are for the lord
And so for others ."

 #একদিন কথায় কথায় কেষ্টদা শ্রীশ্রীঠাকুরকে বললেন, - “আপনার বাণীগুলি ইংরেজি ভাষায় তর্জমা করতে গিয়ে দেখেছি তা’তে তার মৌ...
03/01/2024

#একদিন কথায় কথায় কেষ্টদা শ্রীশ্রীঠাকুরকে বললেন, - “আপনার বাণীগুলি ইংরেজি ভাষায় তর্জমা করতে গিয়ে দেখেছি তা’তে তার মৌলিক ভাবটা বজায় রাখা কঠিন। তাই আপনি যদি সরাসরি ইংরেজি ভাষায় কিছু বাণী দেন তা’ ভালো হয়।”

তাঁর কথা শুনে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন --- “আপনারা এতদিন আমার সঙ্গে আছেন, আমাকে একটা সম্পূর্ণ ইংরেজি বাক্য কখনো বলতে শুনেছেন কি? ভাষা না জানলে, তার দ্বারা ভাব প্রকাশ করা কি সম্ভব?”

তাঁর এ প্রতিবাদ সত্ত্বেও কেষ্টদা বললেন, --- “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনি ইচ্ছা করলে ইংরেজী ভাষাতেও বাণী দিতে পারেন।”

এই ঘটনার কয়েকদিন পরে হঠাৎ এক সময় কেষ্টদাকে ডেকে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন,--- “শীগ্গীর কাগজ-পেন্সিল নিয়ে আসুন!” ...... তারপর অনর্গল ইংরেজিতে বলে যেতে লাগলেন, ---কি ক’রে সৃষ্টি, অব্যক্ত থেকে ব্যক্ত হয়ে উঠল,---

“The booming commotion of Existence,
that rolls in the bosom of the Beyond,
evolves into a thrilling rhyme
and upheaves
into a shooting becoming of the Being,
with echoes thet float
with an embodiment of Energy:---
that is Logos, the Word, the Beginning.

..... এই ভাবে তিনি ব’লে যেতে লাগলেন, দিনের পর দিন! ----
এই বাণীগুলির পান্ডুলিপি নিয়ে প্রথমে শ্রদ্ধেয় কেষ্টদা ও শুশীলদা স্কটিশচার্চ কলেজের প্রিন্সিপাল ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলার Dr. W. S. Arquhart (M.A. D. Litt) এর নিকট যায়। তিনি এর কয়েক পাতা প’ড়ে বিষ্ময়ে অভিভূত হয়ে বললেন, --- “শ্রীশ্রীঠাকুরকে আমি আপনাদের উৎসব উপলক্ষ্যে পাবনা গিয়ে দেখে এসেছি। কিন্তু আমি ত’ জানতাম তিনি মোটেই ইংরেজী জানেন না। এখন এই লেখা প’ড়ে দেখছি যে এতে কতগুলি word এমন archaic sense এ ব্যবহার করা হয়েছে, --- যা’ একজন perfect master of the English tongue ছাড়া আর কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়। it is something like a revelation to me!”

শ্রীশ্রীঠাকুরের ইংরেজী dictation শেষ হলে একদিন তাকে প্রশ্ন করা হল,--- “আপনি ইংরেজী না জেনেও এ-ভাষায় এমন সুন্দর বাণী দিলেন কি ক’রে?”

উত্তরে তিনি বললেন --- “আপনারা ধরে পড়লেন,- আমিও ভাবতে লাগলাম। ..... দেখলাম, নদীর জলে যেমন মাছের ঝাঁক বেরিয়ে যায়, সেইরকম ভাব-রাজি ইংরাজী ভাষায় ভূষিত হয়ে ভেসে চ’লে যাচ্ছে। আমি তাদের ধরে-ধরে আপনাদের কাছে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। ..... ওসব কথার মানে যদি এখন আমায় জিজ্ঞাসা করেন, তা’হলে হয়তো’ আর তা’ বলতে পারব না।”

----“তাই যদি হয়, তবে ত’ আপনি শুধু ইংরেজি কেন, অন্য যে কোনও ভাষাতে,--- যেমন ধরুন জার্মান ভাষাতেও, এ-রকম অনর্গল বাণী দিতে পারেন?”

শ্রীশ্রীঠাকুর একটু ভেবে বললেন, “হয়ত’ তা’ সম্ভব,--- কিন্তু একটা impulse দরকার।”

----Impulse বলতে আপনি কী mean করছেন?
----“ধরুন একজন জার্মান ভাষা জানা লোক যদি আমার কাছে থাকে আর মাঝে-মাঝে ঐ ভাষায় দু’-একটা কথা বলতে শুরু করে, তা’হলে সেটা sufficient impulse হতে পারে আমার কাছে, --- হয়ত’ ঐ ভাষায় বাণী দেওয়ার পক্ষে।”

সুশীলদা অবাক হয়ে বললেন --- “বলেন কী ঠাকুর! আমরা ছেলেবেলা থেকেই ইংরেজী লিখতে-পড়তে আরম্ভ করেছি, তবু এত বয়সেও ইংরেজী লিখতে বা বলতে গেলে বেশ যেন একটু বেগ পেতে হয়। আর আপনি বলছেন --- দু'-চারটা কথা শোনার পরেই আপনি যে-কোন বিদেশী ভাষায় বিশুদ্ধভাবে উত্তর দিতে পারেন? এ-কথা ত’ আমরা ভাবতেও পারি না!”

শ্রীশ্রীঠাকুর শুধু বললেন,--- “তা’ কেন, ওরকম ত’ সবারই হতে পারে।”

তাঁর এই ইংরেজী বাণীগুলি ১৯৩৫ সালে, ‘The Message’ নাম দিয়ে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হলে, তার এক কপি ল’-কলেজের তদানীন্তন অধ্যক্ষ ও পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলার শ্রীপ্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে পড়ে। তাঁর Stenographer শ্রীভূষণ মিত্র তাঁকে বইটি পড়তে দিয়েছিলেন।

বইখানি প’ড়ে তিনি ভূষণদাকে জিজ্ঞাসা করেন,--- আশ্রমে শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে থাকেন, এমন কোন ব্যক্তি এখানে এখন আছেন কি?

ভূষণদা সুশীলদাকে প্রমথবাবুর কাছে নিয়ে গেলে তিনি বললেন,--- “শুনেছিলাম আপনাদের ঠাকুর নাকি লেখাপড়া জানেন না। তারপরে যখন কানে এলো যে তিনি ইংরেজীতে বই লিখেছেন, তখন মনে করলাম, তাঁর কাছে উচ্চ-শিক্ষিত ব্যক্তি যাঁরা আছেন তাঁরাই হয়তো’ বই লিখে তাঁর নামে চালিয়ে যাচ্ছেন। আমার নিজেরও একটু গর্ব আছে যে আমি ইংরেজী বেশ ভালই জানি, কিন্তু বইখানা প’ড়ে বুঝলাম, শুধু আমি কেন, কোনও University product এর পক্ষে এ লেখা সম্ভব নয়। কাজেই মেনে নিতে বাধ্য হলাম যে এ-সব শ্রীশ্রীঠাকুরেরই লেখা--- and so wonderful!”

‘The Message’--- প্রকাশিত হওয়ার পরেও শ্রীশ্রীঠাকুর মাঝে-মাঝে ইংরেজীতে যে সব বাণী দিয়েছেন, সেগুলি বিষয়ানুক্রমে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আরও ৮ খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে।

‘The Message’ প্রকাশিত হলে শ্রদ্ধেয় কেষ্টদা শ্রীশ্রীঠাকুরকে এবার ধরে বসলেন,--- ছড়ায় বা কবিতায় কিছু বলতে,--- যা’ সকলেই, এমনকি মেয়েরাও সহজে বুঝতে পারে।

শ্রীশ্রীঠাকুর হেসে বললেন,--- “আমি কি কবি, যে ছড়ায় বা কবিতায় কিছু বলব?”

কেষ্টদা নাছোড়বান্দা হয়ে ধরাতে শ্রীশ্রীঠাকুর ছড়ায় বা ছন্দে বলতে শুরু করলেন। .....প্রকৃতপক্ষে শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছ থেকে এই সব অমৃতময়ী বাণী বের ক’রে নেওয়ার কৃতিত্ব, শ্রদ্ধেয় কেষ্টদার। বাছুরে যেমন ঠুকরে-ঠুকরে গাভীর দুধ বের ক’রে, কেষ্টদা সেই রকম নিরন্তর লেগে থেকে, শ্রীশ্রীঠাকুরের ভান্ডার থেকে এই রত্নগুলি আহরণ করেছেন। পরে এইসব ছাড়া বা কবিতা ‘অনুশ্রুতি’ নামে বইয়ে কয়েক খন্ডে ছাপা হয়েছে।

“মাতৃভক্তি অটুট যতঃ
সেই ছেলে হয় কৃতী তত।”

“ধর্মে সবাই বাঁচে-বাড়ে
সাম্প্রদায়টা ধর্ম না রে।”

----ইত্যাদি slogan সৎসঙ্গে প্রচলিত আছে, যা’ শ্রদ্ধেয় কেষ্টদাই চেষ্টা ক’রে শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছ থেকে বের ক’রে নিয়েছিলেন।

✓ সংগ্রহীত......

• মানসতীর্থ পরিক্রমা (পৃঃ- ২৫৫-২৫৬)।
• সুশীলচন্দ্র বসু।

একদিন গভীর অমাবস্যার রাত্রে কিশোরীমোহন একাকী নির্জন শ্মশানে সাধনায় বসে আকুল ভাবে ভগবানকে ডাকছেন-- দয়াল, কোথায় তুমি, একটি...
02/01/2024

একদিন গভীর অমাবস্যার রাত্রে কিশোরীমোহন একাকী নির্জন শ্মশানে সাধনায় বসে আকুল ভাবে ভগবানকে ডাকছেন-- দয়াল, কোথায় তুমি, একটিবার দেখা দাও, অভাগার তাপিত প্রাণ শীতল কর । ঠিক এই সময়ে শুনতে পেলেন অনুকূলচন্দ্রের কন্ঠের ‘ডাক্তার, ডাক্তার’--- এই ডাক । জনহীন শ্মশানে ভূতপ্রেত ছাড়া আর কিছু নয় ভেবে কিশোরী উচ্চৈঃস্বরে রাম রাম উচ্চারণ করতে থাকেন । আবার শুনতে পেলেন, ‘রাম নাম করছ কেনৎ আমি ভূত নই, আমি অনকূল ।’ এবার কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে কিশোরীমোহন বলেন---- তুমি যদি অনুকূল হও তবে এমন অসময়ে এখানে এসেছ কেন? সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এল---তোমার জন্যই এখানে এসেছি, চল, বাড়ি চল। ইতিমধ্যে অনুকূচন্দ্র কিশোরীমোহনের কাছে এসে তাঁর হাত ধরে বাড়ির দিকে অগ্রসর হলেন । অনুকূলচন্দ্র চলেছেন আগে আগে, কিশোরীমোহন তাঁর পিছনে । কিশোরীমোহনের সন্দেহ তখনও যায়নি; তিনি শুনেছিলেন ভূপ্রেতের পা মাটিতে পড়ে না,তাঁর সহযাত্রীর পা মাটিতে পড়ছে কিনা, তা বিশেষভাবে লক্ষ করতে থাকেন । অমনি সহযাত্রীটি বলে উঠলেন, ডাক্তার, পা ঠিক মাটিতে পড়ছে, আমি ভূত নই, তুমি নির্ভয়ে চল । কিশোরীমোহন অবাক বিস্ময়ে ভাবেন--- তবে কি ঠাকুর হরনাথের কথাই ঠিক?
কিশোরীমোহনের সন্দেহ তবুও যায়না । আরও পরীক্ষা করার বুদ্ধিতে মনে চিন্তা এল ------ ও যদি এখন পদ্মায় একটা ডুব দিয়ে আসে তবে আমার মনে কোন সংশয় থাকবে না । যেমনি ভাবা অমনি অনুকূলচন্দ্র বলে উঠলেন--ডাক্তার, দাঁড়াও, জুতোয় ময়লা লেগেছে মনে হচ্ছে, পদ্মায় একটা ডুব দিয়ে আসি । গভীর রাতে মাঘ মাসের শীতে অনুকূলচন্দ্র গায়ের জামাকাপড়সুদ্ধ পদ্মায় নেমে স্নান করে এলেন এবং উভয়েই বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে থাকলেন । কিছুটা এগোনোর পর কিশোরীমোহনের সন্দিগ্ধ মন ভাবতে লাগল---এমনও তো হতে পারে যে সত্যিই ওর পায়ে ময়লা লেগেছে আর তাই স্নান করে এল । যদি আরেকবার স্নান করে আসে তবেই পুরোপুরি নিঃসন্দেহ হওয়া যায় । এর পরে অনুকূলচন্দ্র বাড়ি পৌঁছেই স্নানের ঘাটের দিকে অগ্রসর হতে হতে বললেন---- ডাক্তার, দেহের ময়লা ধুলেই যায়, মনের ময়ল কিন্তু সহজে দুর হয় না । তাহলে আর একবার স্নান করে আসি, কি বল ? এই বলে আর একবার স্নান করে এলেন ।
বিস্ময়ে অভিভূত কিশোরীমোহনের ইচ্ছা হল তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়তে । কিন্তু পরক্ষণেই অহংবোধ মাথা চাড়া দেয়, ভাবেন---অনুকূল যদি কাল কারও কাছে বলে দেয় যে কিশোরী ভগবান বলে পা ধরেছিল, তবে যে লোকে লজ্জা দেবে । কিন্তু অনুকূলচন্দ্র হাসতে হাসতে বলেন----- এই যে ডাক্তার ভগবান বলে আমার পায়ে পড়লে, কাল সকল লোককে বলে দেব । কিশোরী বুঝলেন, অনকূল প্রকৃতই অন্তর্যামী । তখনকার মত দ্বিধাহীন হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে জিজ্ঞাসা করেন, -----ঠাকুর, তুমি শ্মশানে এলে কি করে ? শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বলেন, দেখ, সেতার বা এসরাজে অনেক তার থাকে, তার একটাতে ঝঙ্কার দিলে অন্যগুলিতেও ঝঙ্কার ওঠে । তেমনই ভাই, তোমার কান্না, তোমার আকুল আহ্বান আমার মনে বড় বাজে । আর শ্মশানে কাজ কী ভাই ? যা পাবার তা তো পেয়েছ । মনে রেখো, ধ্যান করবে মনে, বনে আর কোণে ।...............{ভক্তবলয়-- পৃষ্ঠা ২ ও ৩ হতে}
( জয়গুরু )

 #একযোগে_দুটি_প্রভুর_সেবা_করা_যায়_না     তুমি দুটি প্রিয়           বা দুটি প্রভুকে                একযোগে সেবা করতে পার...
17/03/2023

#একযোগে_দুটি_প্রভুর_সেবা_করা_যায়_না

তুমি দুটি প্রিয়
বা দুটি প্রভুকে
একযোগে সেবা করতে পার না,
একটিকে প্রধান ক'রে রাখতেই হবে ---
যাঁ'কে তোমার অন্তরের যা’-কিছু দিয়ে
সেবায় উচ্ছল ক'রে তুলতে চাও,
তুমি অমনতর একের পাশেই দাঁড়াও,
আর, তাঁ'কেই তোমার যষ্টি করে নিয়ে চল ---
তাঁ'রই মনোজ্ঞ হওয়ার তপতাপনা নিয়ে ;
তুমি ঈশ্বর বা প্রিয়পরম
এবং ধনদেবতাকে
একযোগে কি ক'রে উপাসনা করবে ?
বরং সব-কিছু দিয়ে
তোমার প্রিয়পরম-সেবায় নিরত হ'য়ে ওঠ ---
সক্রিয় উপচয়ী তৎপরতায়, ---
সৰ্ব্বার্থই সার্থক হ'য়ে উঠবে তাঁ’তে,
আর, প্রিয়পরমই ঈশ্বরের ব্যক্ত বিকাশ ।।

#শ্রীশ্রীঠাকুর
( প্রীতি-বিনায়ক, ২য় খন্ড, ৪২ )
( তপতাপনা = তপস্যাজনিত তাপের বিকিরণ )

 #খোঁচা_মেরে_কথা_বললেতোমাকে যদি কেউ    খোঁচা মেরে কথা বলে,          তা' যেমন পছন্দ কর না,               বিরক্ত হও,      ...
14/03/2023

#খোঁচা_মেরে_কথা_বললে

তোমাকে যদি কেউ
খোঁচা মেরে কথা বলে,
তা' যেমন পছন্দ কর না,
বিরক্ত হও,
যে অমনতর বলে
তা' হ'তে বিচ্ছিন্ন হও,
তেমন তুমিও যদি কা’রও প্রতি
অমনতর ব্যবহার কর,
তা'র ফলে সেও কিন্তু
অমনই হয়ে থাকে ;
তোমার দ্বারা তাঁর
বা তা' হ'তে তোমার শুভ পরিচর্য্যা
বিপর্য্যস্ত ও উদ্ভটই
ক'রে ফেলা হয় তা’তে,
কেউ কা'রও কাছে
হৃদ্য আনতিসম্পন্ন হয় না,
বরং শত্রুভাবাপন্নই হ'য়ে থাকে ।।

#শ্রীশ্রীঠাকুর
( সদবিধায়না, ১ম খন্ড, ১৪৯ )

 #যদি_ভাল‌ই_চাওযদি ভালই চাও,      নিজের তালে আর নাচতে যেও না,            আদর্শ যিনি তোমার,                  প্রিয়পরম যি...
06/03/2023

#যদি_ভাল‌ই_চাও

যদি ভালই চাও,
নিজের তালে আর নাচতে যেও না,
আদর্শ যিনি তোমার,
প্রিয়পরম যিনি তোমার,
শ্রেয় যিনি তোমার,
ঐ তালেই নেচে চল ;
আর, ঐ নাচনের ভিতর-দিয়ে
তাঁ'রই উপচয়ী কৰ্ম্মে
নিজেকে নিয়োজিত কর ---
নিষ্পন্নতায় সমাধান ক’রে তা’কে,
আর, ঐ হ’চ্ছে বিপাক-উত্তারণী আশ্রয় ।।

#শ্রীশ্রীঠাকুর
( ধৃতি-বিধায়না, ১ম‌, ৩৮ )

09/01/2023
09/11/2022

#বিবাহে_কন্যা_নির্ণয়

তুমি যত বড়ই বিহিত পরিশুদ্ধ কুল-সম্ভূত
হও না কেন,
তোমার জৈবী-সংহতি যেমনতরই
সমঞ্জস ও সুসঙ্গত থাকুক না কেন,
তুমি যদি এমন কোন কন্যাকে গ্রহণ কর ---
যে বাহ্যত সমান, অথবা
অনুলোমক্রমিক বিহিত বিশুদ্ধ-কুলসম্ভূতা,
অথচ তা’র কুল-সংস্কৃতি ও প্রকৃতি
যদি তোমার কুলসংস্কৃতি ও প্রকৃতির
অনুপোষক না হয়,
এবং প্রকৃতপ্রস্তাবে সে যদি
অসঙ্গত জৈবী-সংস্থিতিসম্পন্না
বা অবৈধ-বিবাহ-উৎসৃষ্ট হবার দরুন
ক্ষীণ-মস্তিষ্ক, অবৈধ-যৌনবৃত্তিপরবশ,
মদ্যপ, অপস্মারী, ছন্ন, উন্মাদ
বা দুষ্কৰ্ম্মা হয়,
তা'র ফল কিন্তু সাংঘাতিক হ'য়ে
পৰ্যায়ক্রমে চলবে,
তা'তে ক্ষীণ-মস্তিষ্ক, শ্লথচিত্ত,
অবৈধ-যৌনবৃত্তিপরবশ, মদ্যপ, অপস্মারী, ছন্ন,
উন্মাদ, দুষ্কৰ্ম্মা, অবৈধ সংস্কৃতির
জনয়িতাই হ'য়ে উঠবে,
অমনতর যৌন-সংস্রবের দরুন
তুমি তো নষ্ট পাবেই ---
তোমার কুল-বিশুদ্ধিও
ওখানেই খতম হ'য়ে যাবে,
কারণ, তোমার জৈবী-সংহিত সংস্থিতি
যে-স্ত্রীকে অবলম্বন ক'রে
সন্তানে উদ্ভিন্ন হ'য়ে উঠবে ---
তা'র প্রকৃতিগত ভালমন্দ যা’-কিছুও
ঐ সন্তানে প্রকটিত হবে,
এর ফলে, তোমার পরিবার,
তোমার সম্প্রদায়,
তোমার সমাজ ও রাষ্ট্র
ক্রম-সংক্রমণে আক্রান্ত হ'য়ে উঠবে,
প্রবৃত্তিপরবশতায় শুধু নিজের ক্ষতি ক’রেই
থেমে যাবে না,
এ-ক্ষতি গজিয়েই চলবে ক্রমশঃ,
এবং তা'তে
ক্ষতিগ্রস্ত হবে কালে-কালে অনেকেই ;
কুৎসিত আচার
বা অন্তঃক্ষেপিত প্রতিলোম-সংস্রবের ফলে
ধারাবাহিকতায়
এমনতর‌ই হ'য়ে চলে সাধারণতঃ
বুঝে সাবধান হ‌ও ।।

#শ্রীশ্রীঠাকুর
( বিবাহ-বিধায়না, ৫৩ )
( অন্তঃক্ষেপিত = Interpoleted, গুপ্ত-ব্যতিক্রমদুষ্ট )

 #বিগ্রহ_কে ?তিনিই বিগ্রহ ---        যিনিবৈশিষ্ট্যপালী আপূরয়মাণ আদর্শকে        বিহিতভাবে               গ্রহণ করেন,      ...
04/11/2022

#বিগ্রহ_কে ?

তিনিই বিগ্রহ ---
যিনি
বৈশিষ্ট্যপালী আপূরয়মাণ আদর্শকে
বিহিতভাবে
গ্রহণ করেন,
স্বীকার করেন,
অর্থাৎ আপনার ক'রে নেন ----
সার্থক সঙ্গতিশীল বিনায়নে,
সুযুক্ত সেবা-সমীক্ষায়
তাঁ'কে ধারণ ও অবলম্বন করেন,
আশ্রয় ও সেবা করেন ---
তাঁ'র গুণগুলিকে
নিজ ব্যক্তিত্বে বিকাশ ক'রে নিয়ে
ঐতিহ্যের
পবিত্র নিষ্ঠাবেদীতে দাঁড়িয়ে
ব্যক্তিত্বের বিভূতি বিকশিত ক'রে,
এক-কথায় ----
নিজে তঁদগুণান্বিত হ'য়ে
বাস্তব তাৎপর্য্যে ;
তাঁ'র পূজাই
বিগ্রহের পূজা ।

#শ্রীশ্রীঠাকুর
( আদর্শ-বিনায়ক, ২০৮ )

 #জীবনের_দুইটি_ধারাজীবনের ধৃতিদীপনায়      দুইটি ধারাই অব্যাহতগতিতে চলে ---            একটি  নিরোধ-ধারা,                ...
04/11/2022

#জীবনের_দুইটি_ধারা

জীবনের ধৃতিদীপনায়
দুইটি ধারাই অব্যাহতগতিতে চলে ---
একটি নিরোধ-ধারা,
আর একটা হ'চ্ছে ---
জীবনকে সচ্ছল ক'রে রাখবার ধারা ;
সচ্ছল করার বিরোধী যা'
সেটাকে যদি তুমি
উদ্দাম-উচ্ছল পরাক্রমে
বিহিত প্রস্তুতি নিয়ে
নিরোধতৎপর না হ'য়ে ওঠ ---
জীবনকে কি উচ্ছল ক'রে তুলতে পারবে ? ---
তা' তুমি হিন্দুই হ‌ও,
মুসলমান‌ই হ‌ও,
খ্রীষ্টান‌ই হ‌ও,
বা যে ধর্ম্মাবলম্বীই হ‌ও না কেন ।।

#শ্রীশ্রীঠাকুর
( স্বাস্থ ও সদাচার-সূত্র, ২৩ )

 #আচাৰ্য্যদেব! যেমন রসিক! তেমনি গম্ভীর, ঠাকুরের বিধান-প্রতিষ্ঠায় তেমনি অনড়! কোন ছাড় নেই! কারও কোন দুর্ব্বলতার প্রশ্রয...
04/11/2022

#আচাৰ্য্যদেব! যেমন রসিক! তেমনি গম্ভীর, ঠাকুরের বিধান-প্রতিষ্ঠায় তেমনি অনড়! কোন ছাড় নেই! কারও কোন দুর্ব্বলতার প্রশ্রয় নেই তাঁর কাছে! প্রিন্সিপাল বটে! তাঁর ছোট-ছোট গল্প কখনও হাসির ঢেউ তোলে, আবার কখনও তাঁর গুরুগম্ভীর আদরমাখা শক্ত-শাসনবাক্য বৃত্তির মোড় ঘুরিয়ে দেয়! তাঁর মুখে—“এই শোন” কথাটা বার-বার মনে করিয়ে দেয় তিঁনি কত কালের চেনা ও অতি আপনজন, স্হৃদ, শুভাকাঙ্খী!

২৮/১০/২০২২, বেলা ১১-টায় আচার্য্যদেবের পার্লারে অমৃতকথা শ্রবণ করছি। এক দাদা দুঃখ প্রকাশ করলেন, তার আপনজন চলে গেছে। তার শরীরও ভাল না।

পরম পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবঃ ওজন কমিয়ে রাখতে হবে। বিশেষ ক'রে মায়েরা—শেষে দেখে অনেক খাবার রয়ে গেছে, নষ্ট হবে, পয়সার জিনিস ফেলে দেব, বরং খাই! এভাবে অতিরিক্ত খায়! পাকস্থলীটা তো ডাষ্টবিন নয়! নুন, তেল, মিষ্টি একদম বাদ দিতে হবে। পৃথিবীর কোন ডাক্তার তোমাকে বাঁচাতে পারবে না। আমার এই গল্প একমাত্র তোমাকে বাঁচাতে পারে। যদি মেনে চল! করোনার সময় আমাদের এখানে অনেকের কানের পাশ দিয়ে তীর গেছে! (পার্লারে উপবিষ্ট এক যুবকের দিকে আঙ্গুল দিয়ে) এই উঠে দাঁড়া; মৃত্যুকে ও খুব কাছ থেকে দেখেছে! এখানে নীলকমল আছে! সে একদিন আমাকে বলল, আর বাঁচব না! সময় হয়ে গেছে। আমি শুনলাম ! করলাম যা করার! কিছুদিন পর দেখা হলে জিজ্ঞেস করলাম, নীলকমলদা কবে মরতে চান? দিন-তারিখ কি ঠিক হল? বললেন, না, না আর মরতে চাই না! শরীর এখন বেশ ভাল !

(মনে-মনে ভাবছিলাম তিঁনি কে? যিনি বলতে পারেন, পৃথিবীর কোন ডাক্তার তোমাকে বাঁচাতে পারবে না। আমার এই গল্প একমাত্র তোমাকে বাঁচাতে পারে।)

✍️অজয় সরকার - ( সহ-প্রতি ঋত্বীক ) ,
খুলনা, বাংলাদেশ।।
০২, নভেম্বর ২০২২ ইং

 #ঈশ্বর_বা_ভগবানকে_ডাক_বা_না_ডাক    #একনিষ্ঠ_শ্রেয়হারা_কখন‌ই_হয়ো_না ঈশ্বর ব’লে ডাকতে ইচ্ছা করে                        ...
04/11/2022

#ঈশ্বর_বা_ভগবানকে_ডাক_বা_না_ডাক
#একনিষ্ঠ_শ্রেয়হারা_কখন‌ই_হয়ো_না

ঈশ্বর ব’লে ডাকতে ইচ্ছা করে
ডাক,
না করে, ডেকো না,
ভগবান্ বলতে ইচ্ছা করে
‌‌ বল,
না করে, ব’লো না,
ঠাকুর-দেবতার ধার ধারতে ইচ্ছা করে
ধার,
নয়তো ধেরো না,
কিন্তু বৈশিষ্ট্যপালী-আপুরয়মাণ
শ্রেয়কেন্দ্রিক হও,
শুভপরিচর্য্যী হও,
ঐ শ্রেয়কেন্দ্রিক শুভ-চর্য্যার তালিমে
আপ্রাণ হ'য়ে ওঠ,
আর, তদনুক্রিয় তৎপরতায়
দুনিয়ার পরিচর্য্যানিরত হও ---
হৃদয়ের হৃদ্য-অনুকম্পার
বিতান বেদীতে
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ক'রে ;
অশুভ-নিরোধী হও,
শ্রেয়-প্রতিষ্ঠ হও,
যা' করবে
সর্ব্বসঙ্গতি নিয়ে
অন্বিত অর্থনায়
তা'র প্রভু হ'য়ে ওঠ ---
ধারণ-পালন-পরিচর্য্যায়
তা'র সব-কিছুকে বিনায়িত ক'রে ;
এই এমনতর ক'রে
শ্রেয়কেন্দ্ৰিক হ'য়ে চলাই হ'চ্ছে ---
ঈশ্বরকে ডাকা
--- তা’ ঈশ্বর ব'লে কিছু স্বীকার কর
বা নাই কর,
ভগবান ব’লে কাউকে
ভজনা কর আর নাই কর,
কিন্তু একনিষ্ঠ-শ্রেয়-হারা
কখনই হ'য়ো না ;
আর, সেই শ্রেয়কে
ভগবানই বল,
প্রেয়ই বল,
আর, ঠাকুর-দেবতাই বল
বা পরম বন্ধুই বল,
বা কিছুই না বল,
কিন্তু তাঁ’তে
নিজেকে বিনায়িত ক'রে ফেল,
সঙ্গত ক'রে ফেল,
অর্থান্বিত ক'রে ফেল ---
বাস্তব সক্রিয়তায় ;
বুঝতে পারবে ---
ঈশ্বরকে,
শিবকে
বা শুভকে
মূর্ত্ত শ্রেয়ের ভিতর-দিয়ে
কি ক'রে ডাকতে হয় ;
ঐ শ্রেয়ই হ'য়ে উঠবেন
তোমার আদি-বাক্ ।।

#শ্রীশ্রীঠাকুর
( ধৃতি-বিধায়না, ২য়, ২৭১ )

Address

Singarui ( Mohanpur)
Medinipur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Debadyuti Bhattacharya posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share