Lumding Kalibari

Lumding Kalibari One of the oldest temple in the state of Assam, established in the year 1885 (British Era.) Guest House facilities for the devotees.

|| মঙ্গলচণ্ডিকা ||বঙ্গে বহুকাল ধরেই পূজিতা হচ্ছেন মঙ্গল চণ্ডী। কেবলমাত্র বঙ্গ বলে নয় আসাম , ত্রিপুরা , ওড়িশ্যাতেও তার ...
28/05/2026

|| মঙ্গলচণ্ডিকা ||

বঙ্গে বহুকাল ধরেই পূজিতা হচ্ছেন মঙ্গল চণ্ডী। কেবলমাত্র বঙ্গ বলে নয় আসাম , ত্রিপুরা , ওড়িশ্যাতেও তার পূজা লক্ষিত হয়। তিনি মঙ্গলকারিনী তথা মঙ্গলের আরাধ্যা তাই মঙ্গলচণ্ডিকা নামে বিখ্যাতা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যও এনাকে আধার করেই রচিত। সারাবছর প্রতি মঙ্গলবারে দেবীর পূজাদি হলেও জৈষ্ঠ্য মাসে তার পূজা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। সাধারণত মনসা , শীতলার মতোন এনাকেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লৌকিক অনার্য দেবী বলা হয়ে থাকলেও আদতে ইনি তা নন। ইনি সম্পুর্ণ একজন শাস্ত্রীয় দেবী। দেবী_ভাগবত_মহাপুরাণ , ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে তাঁর উল্লেখ আছে। এনার কৃপাতেই করেই মহেশ্বর ত্রিপুরাসুর বধ করে ত্রিপুরারি নামে বিখ্যাত হয়েছিলেন। মূলত লৌকিকভাবে পূজিতা হলেও আদতে ইনি তন্ত্রাচারে পূজ্যা তথা বলিপ্রিয়া। স্বরূপগতভাবে এনাকে অতিসৌম্যা বলে মনে হলেও ইনি অসুরনাশিনী।

দেবী ভাগবতে আমরা পাই ,

দক্ষা যা বর্ত্ততে চণ্ডী কল্যাণেষু চ মঙ্গলা।
মঙ্গলেষু চ যা দক্ষা সা চ মঙ্গলচণ্ডিকা।।
পূজ্যা যা বর্ত্ততে চণ্ডী মঙ্গলোহপি মহীসুতঃ।
মঙ্গলাভীষ্টদেবী যা সা বা মঙ্গলচণ্ডিকা।।
মঙ্গলো মনুবংশশশ্চ সপ্তদ্বীপধরাপতিঃ।
তস্য পূজ্যাভীষ্টদেবী তেন মঙ্গলচণ্ডিকা।।
মূর্ত্তিভেদেন সা দুর্গা মূলপ্রকৃতিরীশ্বরী।
কৃপারূপাতিপ্রত্যক্ষা যোযিতামিষ্টদেবতা।।
প্রথমে পূজিতা সা চ শঙ্করেণ পরাৎপরা।
ত্রিপুরস্য বধে ঘোরে বিষ্ণুনা প্রেরিতেন চ।।
ব্রহ্মণ্ ব্রহ্মোপদেশেন দুর্গতেন চ সঙ্কটে।
আকাশাৎ পতিতে যানে দৈত্যেন পাতিতে রুষা।।
ব্রহ্মবিষ্ণুপদিষ্টশ্চ দুর্গাং তুষ্টাব শঙ্করঃ।
সা চ মঙ্গলচণ্ডী যা বভূব রূপভেদতঃ।।
উবাচ পুরতঃ শম্ভোর্ভয়ং নাস্তীতি তে প্রভো।
ভগবান্ বৃষরূপশ্চ সর্ব্বেশস্তে ভবিষ্যতি।।
যুদ্ধশক্তিস্বরূপাহং ভবিষ্যামি ন সংশয়ঃ।
মায়াত্মনা চ হরিণা সহায়েন বৃষধ্বজ।।
জহি দৈত্যং স্বশত্রুঞ্চ সূরাণাং পদঘাতকম্।
ইত্যুক্ত্বান্তর্হিতা দেবী শম্ভোঃ শক্তির্বভূব সা।।
ব্রহ্মবিষ্ণুশ্চ সন্তুষ্টো দদৌ তস্মৈ শুভাশিষম্।
ব্রহ্মবিষ্ণুপদিষ্টশ্চ সুস্নাতঃ শঙ্করস্তদা।।
পূজয়ামাস তাং ভক্ত্যা দেবীং মঙ্গলচণ্ডিকাম্।
পাদ্যার্ঘ্যাচমনীয়ৈশ্চ বস্ত্রৈশ্চ বিবিধৈরপি।।
পুষ্পরক্তচন্দননৈবেদ্য-র্ভক্ত্যা নানাবিধৈর্মুনে।
ছাগৈর্মেষৈশ্চ মহিষৈ-র্গবয়ৈঃ পক্ষিভিস্তথা।।
বস্ত্রালঙ্কারমাল্যৈশ্চ পায়সৈঃ পিষ্টকৈরপি।
মধুভিশ্চ সুধাভিশ্চ ফলৈর্নানাবিধৈরপি।।
সঙ্গীতের্নর্ত্তকৈর্ব্বাদ্যৈ-রুৎসবৈর্নামকীর্ত্তনৈঃ।
ধ্যাত্বা মাধ্যন্দিনোক্তেন ধ্যানেন ভক্তিপূর্ব্বকম্।।

( হর্ষমঙ্গলচণ্ডী উপাখ্যান - দেবীভাগবতম্ )

অর্থাৎ-

দক্ষ অর্থে চন্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল, মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষা বলিয়া তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ হইয়াছেন!
যিনি ভুমিপুত্র মঙ্গলের পূজনীয়া ইষ্টদেবী, তিনিই মঙ্গলচন্ডিকা।
সপ্তদ্বীপা পৃথিবীর পতি মনুবংশসম্ভূত মঙ্গলের অভীষ্টদায়িনী এবং আরাধ্যা বলিয়াই তাঁহার নাম মঙ্গলচন্ডী হইয়াছে।
কৃপারূপিনী দুর্গাদেবীর মূর্তিভেদ মূলপ্রকৃতি ঈশ্বরী মঙ্গলচণ্ডী রমণীগণের প্রত্যক্ষ অভীষ্টদেবতা। পূর্বে পরমেশ্বর বিষ্ণু কর্তৃক প্রেরিত মহাদেব ত্রিপুরবধের নিমিত্ত তাঁহার পূজা করিয়াছিলেন। হে ব্রহ্মকুমার! পূর্ব্বে অসুরসমরে আকাশ হইতে বাহন নিপতিত হইলে দুঃখতচিত্ত মহাদেব, ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুর আদেশে দুর্গার স্তব করিয়াছিলেন।
দুর্গাদেবী সেইকালে মঙ্গলচন্ডী রূপে প্রকটিত হইয়া মহাদেবকে সম্বোধনপূর্ব্বক বলিলেন,- হে শঙ্কর ! আপনার ভয় নাই।
স্বয়ং জনার্দন বিষ্ণু বৃষরূপ ধারণ করিয়া আপনার বাহন হইবেন।
আমিও আপনার যুদ্ধে শক্তিস্বরূপা হইব। হে বৃষবাহন! মূলপ্রকৃতির অংশভূত বিষ্ণু ও আপনার সাহায্য করিবেন। আপনি আমাদের আনুকূল্যে দেবগনের অধিকারনাশক শত্রুকে হনন করুন- এই বাক্য বলিয়া দেবী স্থান হইতে অন্তর্হিতা হইলেন এবং শক্তিরূপে শম্ভুর সাহায্য করিতে লাগিলেন।

অতঃপর, অসুর বধের পর ব্রহ্মা এবং বিষ্ণু সন্তুষ্ট হইয়া মহাদেবকে শুভাশীর্ব্বাদ করিতে লাগিলেন।
মহাদেব ও, - ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুর উপদেশে স্নান দ্বারা শুদ্ধ হইয়া পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয়, নানাপ্রকার পুজোপহার, পুষ্পরক্তচন্দন, ভক্তি- পূর্ব্বক প্রদত্ত নানাপ্রকার নৈবেদ্য, ছাগ, মেষ, মহিষ, গবয়, পক্ষী প্রভৃতি পশুবলি, বস্ত্রালংকার মাল্য, পায়েস, পিষ্টক, মধু, সুধা, নানা প্রকার ফল, নিত্য গীত বাদ্য, নামকীর্তন প্রভৃতির দ্বারা মহোৎসব মঙ্গলচন্ডী দেবীর পূজা করিয়াছিলেন এবং মধ্যন্দিনোক্ত মন্ত্র দ্বারা ভক্তিপূর্বক ধ্যান করিয়াছিলেন।

ভগবতীর কৃপাতে সকলের অমঙ্গল দুর্ভোগাদি কেটে জীবন মঙ্গলময় হয়ে উঠুক ❤

জয়তু মঙ্গলচণ্ডিকা । 🌺

‎ভক্তের হৃদয়ে ভয় থাকে না… কারণ সে জানে— মা সব জানেন।‎যেখানে সরল ভক্তি আছে, সেখানেই মনের শান্তি, সেখানেই নিঃশব্দ আশ্রয়।
27/05/2026

‎ভক্তের হৃদয়ে ভয় থাকে না… কারণ সে জানে— মা সব জানেন।
‎যেখানে সরল ভক্তি আছে, সেখানেই মনের শান্তি, সেখানেই নিঃশব্দ আশ্রয়।

শুভ জন্মদিন কালীপুত্র কাজী নজরুল ইসলাম! 🌺সুফি কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর সাধনা, সাহিত্য ও সংগীতজগতের একটি গভীর ও শক্তিশালী ...
24/05/2026

শুভ জন্মদিন কালীপুত্র কাজী নজরুল ইসলাম! 🌺

সুফি কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর সাধনা, সাহিত্য ও সংগীতজগতের একটি গভীর ও শক্তিশালী ধারা হলো তাঁর শাক্তভাবনা এবং বিশেষ করে কালী ভক্তি। তিনি কেবল একজন বিদ্রোহী কবি ছিলেন না, তার অন্তরের আরেকটি বৃহৎ পরিচয় ছিল মাতৃসাধক। তাঁর কাছে কালী ছিলেন শুধু ভয়ংকরী দেবী নন, বরং মহামায়া, আদ্যাশক্তি, বিশ্বজননী এবং মুক্তির চেতনা ও নিজের মেয়ে। বাংলার শাক্তধারার সঙ্গে নজরুলের পরিচয় শৈশব থেকেই। গ্রামবাংলার শ্যামাসঙ্গীত, কীর্তন, পুরাণকথা ও তান্ত্রিক আবহ তাঁর কল্পনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরবর্তীতে তিনি যখন জীবনের দুঃখ, দারিদ্র্য, সংগ্রাম ও মৃত্যুর মুখোমুখি হন, তখন তাঁর চেতনায় কালী হয়ে ওঠেন একদিকে ধ্বংসের শক্তি, অন্যদিকে সৃষ্টির মহাশক্তি। তাই তাঁর কালীচেতনায় ভয় ও প্রেম, মৃত্যু ও মুক্তি, রুদ্রতা ও করুণা সব একাকার হয়ে যায়। নজরুলের বহু শ্যামাসঙ্গীতে এই মাতৃভক্তির অসাধারণ প্রকাশ দেখা যায়। যেমন
“বল রে জবা বল,
কোন সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণতল।”
এই গানে তিনি প্রকৃতপক্ষে মাতৃসাধনার রহস্য জানতে চেয়েছেন। আবার তাঁর বিখ্যাত গান
“মহাকালের কোলে এসে গৌরী হল মহাকালী”
এখানে তিনি কালীকে সময়, মৃত্যু ও বিশ্বপরিবর্তনের চিরন্তন শক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন। নজরুলের কালীভাবনার একটি বিশেষ দিক হলো তিনি কালীকে কেবল শ্মশানের দেবী হিসেবে দেখেননি, তিনি তাঁকে দরিদ্র, নিপীড়িত ও বিদ্রোহী মানুষের শক্তির প্রতীক করেছেন। তাঁর বিদ্রোহী চেতনার মধ্যেও শাক্তভাব প্রবাহিত। “আমি চির বিদ্রোহী বীর” এই ঘোষণা শুধু রাজনৈতিক বিদ্রোহ নয়, এটি অনেকাংশে মহাশক্তির রুদ্ররূপেরও প্রকাশ। যেন তিনি নিজের মধ্যে কালীর অগ্নিশক্তিকে অনুভব করেছিলেন।
নজরুল ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর আঘাত পেয়েছিলেন সন্তানহানি, আর্থিক কষ্ট, অসুস্থতা ইত্যাদি। এসব বেদনার সময়ে তার কালীসাধনা আরও অন্তর্মুখী হয়ে ওঠে। তিনি মাকে কখনও অভিমান করে ডাকেন, কখনও প্রেমিক সন্তানের মতো আকুল হয়ে কাঁদেন। তার শ্যামাসঙ্গীতগুলোতে তাই ভক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও হৃদয়বিদারক।যেমন তাঁর গানে পাওয়া যায় “আমার কালো মেয়ের পায়ের তলায়
দেখে যা আলোর নাচন।” এখানে কালী আর অন্ধকারের প্রতীক নন, বরং অন্ধকারের অন্তরেই তিনি পরম জ্যোতি। এই দৃষ্টিভঙ্গি গভীর তান্ত্রিক ও দার্শনিক তাৎপর্য বহন করে। শাক্ততত্ত্বে যেমন বলা হয় সৃষ্টি ও প্রলয় একই মহাশক্তির দুই রূপ, নজরুলও তেমনই কালীর মধ্যে ভয়ংকর ও মঙ্গলময় উভয় রূপ উপলব্ধি করেছিলেন। নজরুলের কালীভক্তির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল সাম্প্রদায়িক ভেদরেখার ঊর্ধ্বে ওঠা। মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি এমন আন্তরিকতা ও প্রেমে শ্যামাসঙ্গীত রচনা করেন যে বাংলার শাক্তসমাজ আজও তাঁকে নিজেদের কবি বলে মনে করে। তাঁর কাছে ধর্মের বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে বড় ছিল ভক্তি ও মানবতা। তাই তিনি যেমন ইসলামী গান লিখেছেন, তেমনি শ্যামাসঙ্গীতেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতগুলো বাংলা ভক্তিগীতির ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। অনেক সাধক ও সংগীতশিল্পী আজও নজরুলের শ্যামাসঙ্গীতকে সাধনার অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেন। কারণ তাঁর গানে শুধু কাব্যিক সৌন্দর্য নয়, এক ধরনের অন্তর্জাগতিক আর্তি ও শক্তির স্পর্শ অনুভূত হয়। তার লেখা শ্যামাসংগীত দেখলে বোঝা যায় কিভাবে তিনি একজন মুসলিম ঘরের সন্তান হয়েও কালী নিয়ে এতটা গভীর চিন্তাশীল ছিলেন যা আজও আমাদের মাতৃভক্তদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। এই মহান কবির জন্মদিবসে তার বিদেহী আত্মার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। 🌺🙏

আমরা সবাই কিছু না কিছু নিয়ে মগ্ন—‎ধন, মান, যশ, সম্পর্ক, চাওয়া, পাওয়ার ছোট ছোট খেলনা নিয়ে…‎‎মনে হয়, এগুলোই আনন্দ… এটাই জী...
22/05/2026

আমরা সবাই কিছু না কিছু নিয়ে মগ্ন—
‎ধন, মান, যশ, সম্পর্ক, চাওয়া, পাওয়ার ছোট ছোট খেলনা নিয়ে…

‎মনে হয়, এগুলোই আনন্দ… এটাই জীবন।

‎কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুর শেখান—
‎যেমন ছোট শিশু পুতুল নিয়ে খেলতে খেলতে
‎মা-কে দেখামাত্র সব ফেলে দিয়ে ছুটে যায়— “মা, মা!” বলে…

‎তেমনই মানুষও একদিন
‎যদি সত্যিই দিব্যজননীর স্পর্শ পায়,
‎তবে এই জগতের খেলনা আর তাকে বেঁধে রাখতে পারে না।

‎ধন, মান, যশ—
‎সব মায়া এক মুহূর্তে ফিকে হয়ে যায়…

‎কারণ তখন হৃদয় শুধু মায়ের দিকেই ছুটতে চায়।

‎আজ শুধু একটা প্রশ্ন—
‎আমরা কি এখনও খেলনায় মগ্ন…
‎নাকি সত্যিই “মা”-কে খুঁজছি?

আমরা কত কিছু নিয়েই বাঁচি—কিছু স্বপ্ন, কিছু ভয়, কিছু চাওয়া, কিছু অভিমান। দিন কেটে যায়, বছর কেটে যায়, আর আমরা ভাবি এটাই জী...
22/05/2026

আমরা কত কিছু নিয়েই বাঁচি—কিছু স্বপ্ন, কিছু ভয়, কিছু চাওয়া, কিছু অভিমান। দিন কেটে যায়, বছর কেটে যায়, আর আমরা ভাবি এটাই জীবন। কিন্তু কখনও কি থেমে নিজেকে প্রশ্ন করেছি—এই জীবনটুকু সত্যিই কিসের জন্য?

‎স্বামীজীর এই বাণী যেন সেই প্রশ্নটাই আমাদের হৃদয়ের দরজায় এসে নীরবে কড়া নাড়ে। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই দেহ, এই সময়, এই পৃথিবীর সব আয়োজন একদিন থেমে যাবে। জীবন ক্ষণস্থায়ী—এই সত্য আমরা জানি, কিন্তু খুব কম মানুষই সেই সত্যকে হৃদয়ে অনুভব করি।

‎তবু মানুষের ভিতরে যা সত্য, তা কখনও মরে না। আমাদের অন্তরের আত্মা ক্ষয় হয় না, হারিয়ে যায় না, শেষ হয়ে যায় না। সেই অনন্ত সত্তার স্পর্শ নিয়েই মানুষ এই পৃথিবীতে আসে। তাই শুধু দিন কাটানো, শুধু ছোট ছোট চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে জীবনকে হারিয়ে ফেলা—এ কি সত্যিই মানুষের জন্য?

‎স্বামীজী তাই আমাদের বড় হতে ডাক দেন। তিনি বলেন, যখন মৃত্যু নিশ্চিত, তখন এই ছোট জীবনটুকুকে তুচ্ছতায় নষ্ট না করে একটি মহান আদর্শের কাছে সমর্পণ করো। সত্যের জন্য, প্রেমের জন্য, সেবার জন্য, ঈশ্বরের জন্য—যে আদর্শ মানুষকে নিজের ছোট সীমানা ছাড়িয়ে বড় করে তোলে, সেই আদর্শেই জীবন তার প্রকৃত মহিমা খুঁজে পায়।

‎আমাদের অনেক ব্যস্ততা আছে, অনেক দায়িত্ব আছে, অনেক টানাপোড়েনও আছে। কিন্তু তার মাঝেও যদি হৃদয়ের ভিতরে কোনো উচ্চ সত্য জেগে থাকে, তবে জীবন আর শুধু কেটে যায় না—জীবন আলোকিত হতে শুরু করে। তখন ছোট কাজও পূজার মতো হয়ে ওঠে, ছোট ত্যাগও গভীর অর্থ পায়।

‎হয়তো জীবন দীর্ঘ নয়। কিন্তু একটি মহান আদর্শে নিবেদিত জীবন কখনও ছোট হয় না। সময় ফুরিয়ে গেলেও তার আলো ফুরোয় না।

‎হয়তো আজ আমাদেরও নীরবে নিজেকে জিজ্ঞেস করা দরকার—এই জীবন শুধু কাটবে, না কি কোনো মহান সত্যের জন্য সত্যিই জ্বলবে?

‎হয়তো উত্তর বাইরে কোথাও নেই… সেই উত্তর নীরবে জেগে উঠুক আপনার নিজের হৃদয়ের ভিতর।

কেউ কিছু বলল, আর সঙ্গে সঙ্গে মন অশান্ত হয়ে গেল— রাগ, কষ্ট, অভিমান এসে ভিতরটা নাড়িয়ে দিল। তখন মনে হয়, অন্যের কথায় আঘাত পে...
21/05/2026

কেউ কিছু বলল, আর সঙ্গে সঙ্গে মন অশান্ত হয়ে গেল— রাগ, কষ্ট, অভিমান এসে ভিতরটা নাড়িয়ে দিল। তখন মনে হয়, অন্যের কথায় আঘাত পেয়েছি। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়— সেই মুহূর্তে আমরা নিজের শান্তিটাই অন্যের হাতে তুলে দিয়েছি।

যেখানে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া, সেখানে মন নিজের অধীনে থাকে না। কেউ একটি কথা বলল, আর ভিতরে রাগ জেগে উঠল— তার মানে সে শুধু কথা বলেনি, আমার মনকেও নাড়িয়ে দিল। এই নাড়াচাড়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য দাসত্ব।

কিন্তু যে স্থির থাকতে শেখে, যে প্রতিটি কথার উত্তরে সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে না, সে নিজের ভিতরের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে শেখে। স্থিরতা মানে চুপ করে থাকা নয়— স্থিরতা মানে নিজের মনকে অন্যের হাতে না তুলে দেওয়া।

সব কথা উত্তর চায় না। সব আঘাত প্রতিক্রিয়া চায় না। কখনও কখনও নীরব স্থিরতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

স্বামীজী বলতেন, যে নিজের মনকে জয় করতে পারে, সে-ই সত্যিকারের স্বাধীন। তাই আজ একটু দেখুন— আমি কি অন্যের কথায় চলছি, নাকি নিজের অন্তরের শান্তিতে স্থির আছি?

সাবিত্রীচতুর্দশীব্রত । বেদান্তকেশরী স্বামী বিবেকানন্দ বারংবার বলেছেন এই দেশ সাবিত্রী- সীতা- অরুন্ধতীর দেশ। এখানে স্ত্রীল...
17/05/2026

সাবিত্রীচতুর্দশীব্রত ।

বেদান্তকেশরী স্বামী বিবেকানন্দ বারংবার বলেছেন এই দেশ সাবিত্রী- সীতা- অরুন্ধতীর দেশ। এখানে স্ত্রীলোক আপন মহিমায় দেবীত্বে মহিমাণ্ডিত । কোথাও লোপামুদ্রা- গার্গী- ভারতীদেবীর মত বিদূষী শাস্ত্রজ্ঞানী , কোথাও আবার রাণী লক্ষ্মীবাঈ রূপে স্বদেশ উদ্ধারে রত । এই ভারতভূমির মাহাত্ম্য এমনই । মহাভারত মতে, মদ্রদেশের রাজা অশ্বপতি দেবীর কৃপায় এক আসামান্যা কন্যার জনক হন। কন্যাটির নাম সাবিত্রী। অপরদিকে সে সময় শাল্বদেশের রাজা দুমতসেন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে অন্ধ হয়ে রাজপাট হারিয়ে অরণ্যবাসী হন। তাদের গৃহে সত্যবান নামক এক পুত্র ছিল। সাবিত্রীদেবী বয়োঃপ্রাপ্তা হলে একদা সত্যবানকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকেই বিবাহ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। কিন্তু দেবর্ষি নারদমুনি জ্যোতিষবিচার করে জানান, সত্যবানের আয়ু এক বছর । কিন্তু সাবিত্রীদেবী তবুও সত্যবানকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর দেবী সাবিত্রী যিনি রাজকন্যা- শত শত দাসী যার সেবা করত, তিনি সামান্য বনবাসীর ন্যায় স্বামীর গৃহে চলে আসেন। শ্বশুর- শাশুড়ি- স্বামীর সেবা ও কৃচ্ছসাধনা করে জীবনযাপন করতে লাগলেন।

দিন পার হতে হতে একসময় এল সেই অশুভ দিন। সত্যবান বনে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন, সাথে ছিলেন সাবিত্রী। এক উঁচু গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারান। ধর্মরাজ যম , চিত্রগুপ্তের কাছে নিধনবার্তা পেয়ে যমদূতদের পাঠান। কিন্তু সতী স্ত্রীর সিঁদুর মুছতে কে পারে! যমদূতেরা ব্যর্থ হলে স্বয়ং যমরাজ পাশ হস্তে আবির্ভূত হন। দেবী সাবিত্রীকে যম অনেক বোঝালেন-কাল পূর্ণ হলে সকলকে এই নশ্বর দেহ ছেড়ে যেতে হয়। পাল্টা সাবিত্রীদেবীও যমকে সতীধর্মের উপদেশ দিলেন। যমের পেছন পেছন চললেন। যমরাজ সাবিত্রীকে আশীর্বাদ দিলেন তাঁর শ্বশুর অর্থাৎ রাজা দুমতসেন চোখের দৃষ্টি ফিরে পাবেন, রাজ্য ফিরে পাবেন। শেষে অজান্তে আশীর্বাদ করলেন- সাবিত্রীর গর্ভে সত্যবানের ঔরসে সন্তান হবে। এবার আশীর্বাদ করে যমরাজ পড়লেন ফ্যাসাদে, কারণ সাবিত্রী দেবীর পতি মৃত। বাধ্য হয়ে প্রাণ ফিরিয়ে দিলেন। এভাবে সাবিত্রীদেবী সতীত্ব বলে যমের মুখ থেকে স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে নিয়ে এলেন ।

ভারতভূমিতে এই গাঁথা বহু মন্দিরে পাঠ হয়। নারীজাতির আদর্শ সাবিত্রী। স্বামীর কল্যাণে, স্ত্রীজাতির ভূমিকা অপরিসীম । ভারতবর্ষে স্ত্রীগন গুরু, আচার্য, সন্ন্যাসিনী , শাসক পদ অলঙ্কৃত করেছেন। শুধু প্রাচীন যুগে নয়, এই যুগেও মীরা বাঈ, মাতা বিষ্ণুপ্রিয়া, রাণী লক্ষ্মী বাঈ, শ্রীমা সারদা, শ্রীআনন্দময়ী মা উল্লেখিত । উড়িষ্যা- বিহার- পশ্চিমবঙ্গে সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রত পালন করেন স্ত্রীগণ। বট গাছের তলায় নতুন বস্ত্র ধারণ করে সাবিত্রী- সত্যবান- যমরাজের পূজো করেন। সতী স্ত্রীলোকদের দেবতারা অবধি প্রনাম করে থাকেন। আজকের যুগেও অনেক এমন নারী আছেন, যারা স্বামীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন। যমরাজও অসহায় সতী নারীর সতীধর্মের কাছে ।

ফলহারিণী কালীপূজা বঙ্গের শাক্ত সাধনার এক অত্যন্ত গুপ্ত ও মহিমান্বিত তিথি। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যায় এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়।...
16/05/2026

ফলহারিণী কালীপূজা বঙ্গের শাক্ত সাধনার এক অত্যন্ত গুপ্ত ও মহিমান্বিত তিথি। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যায় এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। “ফলহারিণী” শব্দের অর্থ— যিনি কর্মফল হরণ করেন। অর্থাৎ মা কালী ভক্তের পাপ, দুঃখ, অশুভ সংস্কার ও জন্মজন্মান্তরের কর্মবন্ধন দূর করে তাঁকে মুক্তির পথে পরিচালিত করেন। শাক্ত তন্ত্রে এই তিথিকে বিশেষ সিদ্ধিদায়িনী ও আত্মশুদ্ধির রাত্রি বলা হয়েছে।

শাস্ত্রমতে, দেবী কালী কেবল সংহারশক্তি নন; তিনিই আদ্যাশক্তি, মহামায়া এবং মোক্ষদাত্রী। দেবীমাহাত্ম্য-এ দেবীর যে রূপ বর্ণিত হয়েছে, সেখানে তিনি অসুরবিনাশিনী এবং ভক্তরক্ষাকারিণী। রক্তবীজ বধের সময় দেবীর ভয়ংকর কালীরূপ প্রকাশিত হয়, যা অশুভ শক্তির সম্পূর্ণ বিনাশের প্রতীক। 

তান্ত্রিক শাস্ত্র যেমন মহানির্বাণ তন্ত্র, কুলার্ণব তন্ত্র এবং কালিকা পুরাণ-এ অমাবস্যা তিথিতে কালীসাধনার বিশেষ মাহাত্ম্যের উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই রাত্রিতে সাধনা করলে অন্তরের তমোগুণ, ভয়, আসক্তি ও পাপবৃত্তি ক্ষয় হয়। ফলহারিণী কালীপূজায় তাই ভক্তেরা মায়ের কাছে কেবল পার্থিব সাফল্য নয়, আত্মশুদ্ধি ও মুক্তির প্রার্থনা করেন।

এই পূজার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ঘটনা। ১৮৭২ সালের ফলহারিণী কালীপূজার রাতে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দক্ষিণেশ্বরে শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী-কে “ষোড়শী” রূপে পূজা করেন। এই ঘটনাকে শাক্ত সাধনার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত বলা হয়। এখানে নারীকে জগজ্জননীর আসনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

ফলহারিণী কালীপূজার ফলদানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে লোকবিশ্বাস ও তান্ত্রিক মত উভয়ই অত্যন্ত গভীর। মনে করা হয়—

* পূর্বজন্ম ও বর্তমান জীবনের পাপকর্মের ক্ষয় হয়,
* সংসারের বাধা ও অশুভ শক্তি দূর হয়,
* মানসিক ভয়, দুশ্চিন্তা ও নেতিবাচক শক্তির নাশ ঘটে,
* সাধক আধ্যাত্মিক শক্তি ও অন্তরের শান্তি লাভ করেন।

শাক্ত দর্শনে মা কালী হলেন “কাল” বা সময়েরও অতীত শক্তি। তাই তাঁর শরণ গ্রহণ মানে অহংকার, মায়া ও কর্মফলের বন্ধন থেকে মুক্তির পথে অগ্রসর হওয়া। ফলহারিণী কালীপূজা সেই মুক্তিরই এক মহারাত্রি— যেখানে ভক্ত মায়ের চরণে নিজের সমস্ত দুঃখ, পাপ ও অহংকার সমর্পণ করে আত্মিক কল্যাণের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

ফলহারিনী কালীপূজাফলহারিনী কালীপূজা : ১০ মহাবিদ্যার প্রথম দেবী হলেন মা কালী যিনি হলেন আদ্যা শক্তি। জ্যৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্...
15/05/2026

ফলহারিনী কালীপূজা

ফলহারিনী কালীপূজা : ১০ মহাবিদ্যার প্রথম দেবী হলেন মা কালী যিনি হলেন আদ্যা শক্তি। জ্যৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় ফলহারিনী কালীপূজা । মা কালীর আরাধনা হিন্দু ধর্মে সর্বজন বিধিত বিভিন্ন তিথিতে দেবের বিভিন্ন রূপের পূজো করা হয় ।

জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিনী কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। মানুষ সারা জীবন নানা রকম কর্ম করতে থাকেন। কিন্তু কর্ম সমূহের ফল দান করেন দেবী কালী। তিনি সমস্ত কিছুর শক্তি, জ্ঞান, ইচ্ছা এবং কর্মশক্তিরূপে বিরাজিতা হয়ে থাকেন।

কথিত আছে, রামকৃষ্ণদেব ফলহারিণী কালী পুজোর দিনই স্ত্রী সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য। এদিন শ্রীমা সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন বলে আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে এই পুজো 'ষোড়শী' পুজো নামে পরিচিত।

এছাড়া ১২৮০ বঙ্গাব্দে জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে তিনি দক্ষিণেশ্বরে আদ্যাশক্তি সগুণরূপের পুজো করেছিলেন। সেজন্যে এইদিনটি অত্যন্ত শুভ ও তাৎপর্যপূর্ণ। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর মোক্ষপ্রাপ্তির জন্য বিশেষ নিয়মে পুজো করলেও এই দিনটিতে হিন্দু ধর্মাবলাম্বীরা নানাবিধ মরসুমী ফল দিয়ে কালীর পুজো করে থাকেন।

অন্য দিকে কর্মফল হরণ করে ভক্তদের, তাদের অভীষ্টফল, মোক্ষফল প্রদান করেন। ফলহারিণী কালী পুজোর দিন মা কালী স্বয়ং, তার সন্তানদের শুভ ফল প্রদান করেন এবং সেই সঙ্গে তাদের অশুভ ফলও হরণ করে থাকেন।

মানুষ সারা জীবন কর্ম করে যান। কিন্তু মনে করা হয়, এই কর্মসমূহের ফল দান করেন দেবী কালিকা। তিনি সমস্ত কিছু শক্তি, জ্ঞান, ইচ্ছা ও কর্মশক্তিরূপে বিরাজিতা। আর ফলহারিণী কালী পুজো প্রত্যেকের বিদ্যা, কর্ম ও সেই সঙ্গে অর্থভাগ্যের উন্নতি ঘটে। প্রেম-প্রণয়ে সমস্ত বাধা দূর হয়। দাম্পত্য সাংসারিক জীবনেও সুখশান্তি লাভ হয়।

আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি রকমারি ফল জ্যৈষ্ঠ মাসে সহজে পাওয়া যায়। ভক্তেরা তাদের ইষ্টদেবীকে বিভিন্ন ফল দিয়ে প্রসাদ নিবেদন করে থাকেন। শাস্ত্রে বলা আছে, 'জীবনেয সর্বস্ব'। যার অর্থাৎ একদিকে ফলহারিণী, সাধকের কর্মফল হরণ করেন।

Address

Kalibari Road
Lumding
782447

Opening Hours

Monday 6am - 9pm
Tuesday 6am - 9pm
Wednesday 6am - 9pm
Thursday 6am - 9pm
Friday 6am - 9pm
Saturday 6am - 9pm
Sunday 6am - 9pm

Telephone

+917663943196

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lumding Kalibari posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category