12/05/2026
🔵 আচার্য্য-সান্নিধ্যে/২১৬
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩১, সোমবার (ইং ৩-৩-২৫)
⚪বেলা ১২টার দিকে ফিলানথ্রপি-সমুখস্থ মণ্ডপে আচার্য্যদেবের সাথে নাগাল্যাণ্ডের এমস-এর ডীন জনৈকা মহিলার এক উদ্দীপনী আলাপ হলো, মহোদয়া চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যাপারে নেপাল সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বহু উন্নয়নের কাজ করেছেন, আচার্য্যদেব তাকে দেওঘর এমস-এ কর্ম্মসূত্রে আসার কথা জানালে বললেন, এখানে আসার ব্যাপারে processing চলছে।
আমি সংক্ষেপে লিখছি, কারণ কত যে জীবনীয় আলাপ হলো তা বোধে বোধ করার বিষয়। মহোদয়া এতই কর্ম্মঠ ও গুণবতী যে তিনি যে-যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন তার সবগুলি আচার্য্যদেবের ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যথা Rain water harvesting-এর রূপায়ন, চিকিৎসা-সম্বন্ধীয় ব্যাপারে স্থানীয় ভেষজ গাছগাছড়া দিয়ে ঔষধের প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহারের উপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি নানাবিধ।
কথায় কথায় আচার্য্যদেব তাকে বললেন—আপনি এই মানবীয় কর্ম্মে লিপ্ত থাকায় আপনার শারীরিক অসুবিধাগুলিকে কত সহজে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এতদপ্রসঙ্গে আচার্য্যদেবের নিজের শরীরে একবার led poisoning-এর আক্রমণ কিভাবে মানসিক শক্তির প্রাবল্যে নিরাকৃত করেছিলেন, তা সবিস্তার বললেন। বলছেন—আমি নীলকণ্ঠের চেলা হয়ে এটুকু হজম করতে পারব না! যেখানে ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছিলেন chelation tharaphy করার ব্যাপারে।
তিনি তাঁর সাম্প্রতিক ঘটনাতে বলছেন—কয়দিন আগে গলার কাছে rash বেরোল, ডাক্তাররা ওষুধ দিলেন, আমি তা ব্যবহার না করে নিজের মানসিক শক্তিতে ভাল করে নিয়েছি, এখন একটু কালো দাগ হয়ে আছে মাত্র, ওষুধ যা দিয়েছিল ফেরৎ দিয়ে দিয়েছি।
কত মহনীয় পারস্পরিক হৃদ্য উষ্ণতার গল্প—বলছেন, আমি বৌকে বলেছি, আমি আগে গেলে (দেহ রাখলে) তুমি কষ্ট পাবে, তাই আমি ভেবেছি তুমি আগে যাবে, আমি পরে।
আবার বলছেন—করোণায় সময় বয়স-অনুযায়ী (যেহেতু আমি ওর চেয়ে ১৪ বছরের বড়)আমার ভ্যাকসিন নেওয়ার দিন আগে এল, কিন্তু আমি তখন ভ্যাকসিন নিলাম না, পরে যখন ওর ভ্যাকসিনের সময় হল, একসাথে দুজনে নিলাম। বলি, তোমার কিছু হলে আমারও হবে, আমার কিছু হলে তোমারও হবে। আমরা একসাথে থাকব। এটাই ভালবাসা।
সহাস্যে তাঁর দাম্পত্য-প্রণয়ের কথাও বলছেন, ওরা রাণী ভবানীর বংশধর, পাবনা ওদের অধীনে। তাই কোন ব্যাপারে ওকে বলি, আমরা তো তোমাদের প্রজা, যা বলবে তা শুনতে হবে।
আবার পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি, প্রীতির সম্পর্ক কত মজবুত ও সহজিয়া! বলছেন—একদিন ও মা-র সাথে কি কথা বলছে, আমি বলছি, কী দজ্জাল শাশুড়ীর সাথে কথা বলছ, আস!
প্রীতির ফাগ ছড়িয়ে বলে চলছেন—মা এখনও আমাদের ভাইদের বকাবকি করলে মাকে বলি, কুমারটুলিতে মূর্ত্তি গড়ে, তো মূর্ত্তিটা খারাপ হলে, যে মূর্ত্তিটা গড়ে তার দোষ, না মূর্ত্তিটার দোষ দেখা দরকার।
কখনও মা বললেন—তোর এই দোষ। বলি, বাবার তো এই দোষটা ছিল না, তাহলে এটা কোথা থেকে এল দেখা দরকার।
শোক-অতিক্রমী হাতিয়ার তাঁর বড়ই মজবুত, পাশে বসা পূজনীয় সিপাইদাকে দেখিয়ে বলছেন— যদি আমাদের দুজনের মধ্যে কেউ মারা যাই, তখন যে থাকল সে কি করবে? আমাদের দুজনে যে ভাল সময়গুলো কাটিয়েছি, তার স্মৃতিগুলোকে স্মরণ করে সে তখন এগিয়ে যাবে। আশ্রমের এক মেয়ে (বৌ) তার মায়ের অসুখের কথা জানিয়ে কাঁদতে থাকলে আমি তাকে বলছি, তুই হিসাব করে দেখ্, সারাজীবনে কতটা সময় মায়ের কাছে কাটিয়েছিস্! এখন দেখছিস্ না, তখনও যে খুব দেখতিস্ তা নয়। আমি তাকে প্রথমেই একটা বকুনি দিয়ে obsession অবস্থাটা কাটিয়ে দিলাম, সে কেঁপে উঠল, তারপর এভাবে বললাম। যেমন, কেউ কানাডায়, আমেরিকায় আছে, আমার পাসপোর্ট না থাকলে সেখানে যেতে পারি না, সেরকম। বাবার (শ্রীশ্রীদাদার) গত হওয়ার সময় আমি শোক করিনি। আমি জানি তুমি আমাকে তৈরী করেছ, তুমি আমার সাথেই থাকবে, আমার হয়ে তুমিই কথা বলবে। তুমি থাক আমার সাথে।
কথায়-কথায় বললেন—আমি এখন অফিস, সংগঠন নিয়ে বেশী মাথা ঢোকাই না। কখনও বলে, এটা হবে না। আমি বলি, হবে না কেন? সব হবে। যেটা তোমার কাজে লাগবে, সব হবে। হবে না বলে কিছু হয় না।
এইভাবে কথার তোড়ে বলে চলেন তাঁর ছোটকালের ঘটনা, আমি খুব পিছনে লাগতাম, বলে না, খুড়তুতো দিদি? দিদিকে বলতাম, কি রে খুড়তুতো দিদি, ও বলত, কি রে জেঠতুতো ভাই! তখন দিদির বিয়ে হয়েছে, মাম্ (মেজকাকীমা) দিদিকে বলছেন, এখন বিয়ে হয়েছে, বাইরে যাবি না। আর আমি দিদিকে বুঝিয়েছি, তোর বিয়ে হয়েছে, বড় হয়েছিস্, স্বাধীন, এখনও মা-র আঁচল ধরে থাকবি! এইভাবে যাজন করে ভাইরা মিলে দিদিকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। ফিরলে মাম্ বকাবকি করছেন, আমাকে বলছেন, এইটা যত culprit! আমি উপভোগ করতাম এ-সব। ভাবিনি উনি আমার মা নন বা কিছু।
সেজকাকীমার ঘরে গিয়ে সব জিনিসপত্র অগোছালো করে দিয়ে আসতাম। বলতেন, নিশ্চয়ই বাবাই এসেছিল!
সংকলক— সুভাষ মুসিব।
~সংগৃহীত