29/01/2026
মা বললেন মেয়ে প্রেম করেছে,
বাবা--- মা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন এক নাবালিকা কন্যাকে। তারা #আচার্য্যদেবের উদ্দেশ্যে প্রণাম নিবেদন করলেন। মা বললেন— মেয়ে প্রেম করেছে। এখন দিন-রাত অশান্তি। দুই-তিনবার ব্লেড দিয়ে হাত কেটেছে। বাবা-মা, কারও কথা সে শোনে না।
#আচার্য্যদেব মেয়েটিকে বললেন— তুই আগে বল্, তোর বুদ্ধি আছে ? না তুই একদম বোকা, কোনটা! ধর, তুই হাত কেটে জেদ করে এই ছেলেটাকেই বিয়ে করলি। এখন যদি সে তোর সাথে সংসার করব বলে এগিয়ে গিয়ে কিছু বছর পর না করে, তখন তুই কী করবি ?
এখনও তোর মাথার ওপর একটা ছাদ আছে। বাবা-মায়ের এই ঘেরাটোপটার মধ্যে তুই নিজেকে তৈরি কর্। তুই বোকার মতন নিজের কথা ভাবলি না, বাবা-মায়ের কথা ভাবলি না, নিজে একজনের ওপর প্রলুব্ধ হয়ে তার প্রবৃত্তির মনোরঞ্জনে ভেসে গেলি। প্রেম করার আগে একবারও মনে হল না যার সাথে প্রেম করছি তার যোগ্যতাটা বিচার করি। সে স্বাবলম্বী কি না। এখনও বাবার হোটেলে খায় !
মেয়েটি মৃদস্বরে জানায়— সে শুধু ক্রিকেট খেলে।
#আচার্য্যদেব— তাহলে ক্রিকেট খেলে, নেশা-ভাঙ করে, এরকম একটা ছেলে আজকে তোকে ধরেছে, অন্যদিন আরেকজনকে ধরে প্রবৃত্তি চরিতার্থ করবে।
মেয়েটি বলে— আজ্ঞে হ্যাঁ, এর আগে ওর আরও তিনটে বান্ধবী ছিল।
#আচার্য্যদেব— তাহলে তুই দেখ, সব জেনেও তুই ওর ফাঁদে পা দিয়ে কষ্ট পেয়ে হাত-পা কাটছিলিস্। তাহলে তুই বল্, তোকে কি বুদ্ধিমতী বলা যায়, না বোকা বলা যায় ?
যে আগে তিনজনকে ছাড়ে, তাহলে তোকেও ছাড়তে পারে। তুই নিজের জীবনের জন্য এমন কিছুকে ধর্, যার জন্য তুই তুষ্ট হতে পারিস্।
গাছকে নির্বাচন করতে হবে এমন কিছুকে যে গাছটাকে তুষ্ট করে। গাছ যদি কুড়ুলকে নির্বাচন করে, আর মনে মনে ভাবে কুড়ুলের মধ্যেও কাঠ আছে, তাহলে গাছ কিন্তু গাছকেই কাটতে শুরু করে। তাহলে কী হবে ?
গাছকে বাড়তে হলে কী নির্বাচন করবে ? সূর্য্যের আলোকে নির্বাচন করবে, সারকে নির্বাচন করবে,জল-আবহাওয়াকে নির্বাচন করবে, তাইতো ?
#আচার্য্যদেব অতি সহজ-সরলভাবে বিভিন্ন উদাহরণের মধ্য দিয়েই দিকভ্রান্ত মেয়েটাকে দিশাদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সমস্যাটি মেয়েটির একার নয়।
তিনি মেয়েটিকে বলে চলেছেন— তাহলে তুই ভেবে দেখ্ যে নিজে স্বাবলম্বী নয়, নিজে বাপের হোটেলে খায়, বাপের তৈরী বাড়িতেই থাকে, বাপের টাকায় ঘুরে বেড়ায় সে কি আদৌও যোগ্য ? বুঝতে পারছিস্ তো ? তুই যদি বুঝতে পারিস্ তবেই বেরোবি। যদি বুঝতে না পারিস্, তবে ওই কুড়ুলকে আঁকড়ে ধরে নিজের জীবনটাকে ছারখার করে তুলবি। এইরকম করে নিজের জীবনটা অকালে যাবে।
মেয়েটি মাথা নিচু করে শুনছিল, কখন সে আচার্য্যদেবের দিকে সোজা তাকিয়েছে তা সে জানেনা। কথক ও কথাগুলো তার ভাল লেগেছে, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। সে তাঁর প্রতি ভরসা করতে শুরু করেছে, যে ভরসা হয়তো তার বাবা-মায়ের কাছেও পায়নি। আচার্য্যদেবের স্নেহঝরা কণ্ঠে সে জীবনকে সাজানোর শক্তি পাচ্ছে।
#আচার্য্যদেব আবার বলতে লাগলেন— যেটা হয়ে গেছে, সেটা থেকে বেরোবার চেষ্টা কর্। এটা থেকে বেরোবার জন্য লড়াই করে যাবি।
ঝগড়াঝাটি কিছু না। ওসব করলেই মন অশান্ত হবে, আর অশান্ত মন হলে তখন যা সিদ্ধান্ত নিবি সব ভুল হবে। তুই চুপ করে যা। শান্ত হয়ে দেখ ও কী করে।
দু'দিন তিনদিন তোর জন্য লাফালাফি করবে, এটা-ওটা বলবে, তারপর দেখবি তোকে দিব্যি ভুলে আছে; এটাকে বলে টেস্ট করা।
দোকানে গিয়ে অনেক মিষ্টি কেনার আগে একটা খেয়ে পরখ করে নিস্ না ? ভালো হলে তবে অনেকগুলো কিনিস্।
তেমন করে তোর জীবন টাকে ভবিষ্যতে সে তুষ্ট করবে কি করবে না সেটা টেস্ট করে নিবি না ! শুধু মোহের পিছনেই ছুটবি?
তুই তো মেয়ে ,তোদের অনেক দায়িত্ব। তোর মতন মেয়েদের থেকেই আমাদের জন্ম হয়। দেশ ভবিষ্যত নাগরিক পায়। তাহলে তুই যদি এলোমেলো করে চলিস্ তাহলে সমাজের কী হবে ? তাহলে তুই বল্, তুই বোকা থাকতে চাস্ না বুদ্ধিমতী হতে চাস্ ? নিজেকে আয়নায় দেখ্ তাহলেই তুই সবটা বুঝে যাবি।
কী অপরিসীম মমত্বভরা কণ্ঠে #আচার্য্যদেব বোঝাচ্ছিলেন তরুণীটিকে। পারিবারিক কুসংস্কার আর বয়সোচিত সুশিক্ষার প্রতি অনীহা ও অজ্ঞনতার কারণে আজ সমাজ থেকে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য কিশোর-কিশোরী, যার দায় সমাজের আমাদের মতো প্রতি-প্রত্যেকের।
" অজি হাম কি পেখলুঁ "
***********************
সম্রাট দাস
***********
(আলোচনা/পৌষ/১৪৩২)
 ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄
~সংগৃহীত
_______________________________________