Gholarpara Satsang Kendra GSK

Gholarpara Satsang Kendra GSK পরমপিতার ভবন

🔵 #এক ভদ্রলোক শ্রী শ্রী ঠাকুরকে জিজ্ঞেস করলেন - আচ্ছা, ভগবানের কাছে তো সবাই সমান, তিনি তো সকলেরই পিতা। তা হলে তিনি জন্ম-...
16/05/2026

🔵 #এক ভদ্রলোক শ্রী শ্রী ঠাকুরকে জিজ্ঞেস করলেন - আচ্ছা, ভগবানের কাছে তো সবাই সমান, তিনি তো সকলেরই পিতা। তা হলে তিনি জন্ম-গ্রহণ করলে যারা তাঁর কাছে আসবে তারাই কি শুধু তাঁর দয়ার অধিকারী হবে? যারা আসবে না, তারা সেই দয়া পাবে না— এ কেমন?

⚪ শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—“মনে করুন, এক জন তার নিজের পুকুরের মাছ ধরতে গিয়ে জাল ফেলল।
এখন সবকটা মাছই তো জালে আটকাল না।
যে-কটা আটকে গেছে সেগুলো যেমন তার,
আর যেগুলো আটকাল না সেগুলোও তারই।
কিন্তু যে-কটা আটকে গেছে তাদের নিয়ে সে যেমন-খুশি তাই করতে পারে।
ভগবান যখন মূর্তি হয়ে আসেন আমাদের মাঝে, তখন আমরা তাঁর কাছে ধরা দিলে, যাতে আমাদের মঙ্গল হয়— এমন পথেই চালিত করেন তিনি।
তাতে আমরাও মঙ্গলের অধিকারী হই।
কিন্তু আমরা তাঁর কাছে না এলে, কীসে আমাদের মঙ্গল, তা আর আমরা জানতে পারি না।
তিনি যা দিতে আসেন, তা গ্রহণ না করলে, তাঁর দয়া পাব কেমন করে?
মানুষ চলে তার প্রবৃত্তির খেয়ালে।
প্রবৃত্তির বশে চলতে গিয়ে চলার পথে ভুল করে বসে, আর তাই দুঃখ ভোগে।”



~সংগৃহীত

⚪ #ডাক্তাররা বলবে, আপনার আর বেশিদিন আয়ু নাই, মারা যাবেন। ঘাবড়াবেন না তাতে। যদি একদিন আয়ুও থাকে, বলবেন – ঠাকুর! এই একটা দ...
15/05/2026

⚪ #ডাক্তাররা বলবে, আপনার আর বেশিদিন আয়ু নাই, মারা যাবেন। ঘাবড়াবেন না তাতে। যদি একদিন আয়ুও থাকে, বলবেন – ঠাকুর! এই একটা দিনও যেন তুমি থাকো আমার। দেখবেন, আর একটা দিন আয়ু বেড়ে যাবে। বলবেন, এই দিনটাও তোমাকে দিলাম ঠাকুর। এ দিনটাও তুমি আমার সাথে থাকো। আপনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঠাকুরের হয়ে থাকবেন। কখনো নিজের জন্য ভাবতে যাবেন না, বাড়ির পরিবার-পরিজন সবাইকে ঠাকুরমুখী করে রাখবেন। যদি আশা থাকে, তাহলে ঠাকুরই আশা। আর, কিছু নিয়ে চিন্তা করবেন না। তাঁকে নিয়ে ভাববেন, তাঁর দয়ার কথা বলতে থাকবেন।

~পরমপূজ্যপাদ
শ্রীশ্রীআচার্যদেব।।

(আলোচনা, পৌষ, ১৪২৯ / জানুয়ারি)




~সংগৃহীত

🔵 আচার্য্য-সান্নিধ্যে/২১৬১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩১, সোমবার (ইং ৩-৩-২৫)⚪বেলা ১২টার দিকে ফিলানথ্রপি-সমুখস্থ মণ্ডপে আচার্য্যদেবের স...
12/05/2026

🔵 আচার্য্য-সান্নিধ্যে/২১৬
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩১, সোমবার (ইং ৩-৩-২৫)

⚪বেলা ১২টার দিকে ফিলানথ্রপি-সমুখস্থ মণ্ডপে আচার্য্যদেবের সাথে নাগাল্যাণ্ডের এমস-এর ডীন জনৈকা মহিলার এক উদ্দীপনী আলাপ হলো, মহোদয়া চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যাপারে নেপাল সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বহু উন্নয়নের কাজ করেছেন, আচার্য্যদেব তাকে দেওঘর এমস-এ কর্ম্মসূত্রে আসার কথা জানালে বললেন, এখানে আসার ব্যাপারে processing চলছে।
আমি সংক্ষেপে লিখছি, কারণ কত যে জীবনীয় আলাপ হলো তা বোধে বোধ করার বিষয়। মহোদয়া এতই কর্ম্মঠ ও গুণবতী যে তিনি যে-যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন তার সবগুলি আচার্য্যদেবের ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যথা Rain water harvesting-এর রূপায়ন, চিকিৎসা-সম্বন্ধীয় ব্যাপারে স্থানীয় ভেষজ গাছগাছড়া দিয়ে ঔষধের প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহারের উপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি নানাবিধ।
কথায় কথায় আচার্য্যদেব তাকে বললেন—আপনি এই মানবীয় কর্ম্মে লিপ্ত থাকায় আপনার শারীরিক অসুবিধাগুলিকে কত সহজে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এতদপ্রসঙ্গে আচার্য্যদেবের নিজের শরীরে একবার led poisoning-এর আক্রমণ কিভাবে মানসিক শক্তির প্রাবল্যে নিরাকৃত করেছিলেন, তা সবিস্তার বললেন। বলছেন—আমি নীলকণ্ঠের চেলা হয়ে এটুকু হজম করতে পারব না! যেখানে ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছিলেন chelation tharaphy করার ব্যাপারে।
তিনি তাঁর সাম্প্রতিক ঘটনাতে বলছেন—কয়দিন আগে গলার কাছে rash বেরোল, ডাক্তাররা ওষুধ দিলেন, আমি তা ব্যবহার না করে নিজের মানসিক শক্তিতে ভাল করে নিয়েছি, এখন একটু কালো দাগ হয়ে আছে মাত্র, ওষুধ যা দিয়েছিল ফেরৎ দিয়ে দিয়েছি।
কত মহনীয় পারস্পরিক হৃদ্য উষ্ণতার গল্প—বলছেন, আমি বৌকে বলেছি, আমি আগে গেলে (দেহ রাখলে) তুমি কষ্ট পাবে, তাই আমি ভেবেছি তুমি আগে যাবে, আমি পরে।
আবার বলছেন—করোণায় সময় বয়স-অনুযায়ী (যেহেতু আমি ওর চেয়ে ১৪ বছরের বড়)আমার ভ্যাকসিন নেওয়ার দিন আগে এল, কিন্তু আমি তখন ভ্যাকসিন নিলাম না, পরে যখন ওর ভ্যাকসিনের সময় হল, একসাথে দুজনে নিলাম। বলি, তোমার কিছু হলে আমারও হবে, আমার কিছু হলে তোমারও হবে। আমরা একসাথে থাকব। এটাই ভালবাসা।
সহাস্যে তাঁর দাম্পত্য-প্রণয়ের কথাও বলছেন, ওরা রাণী ভবানীর বংশধর, পাবনা ওদের অধীনে। তাই কোন ব্যাপারে ওকে বলি, আমরা তো তোমাদের প্রজা, যা বলবে তা শুনতে হবে।
আবার পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি, প্রীতির সম্পর্ক কত মজবুত ও সহজিয়া! বলছেন—একদিন ও মা-র সাথে কি কথা বলছে, আমি বলছি, কী দজ্জাল শাশুড়ীর সাথে কথা বলছ, আস!
প্রীতির ফাগ ছড়িয়ে বলে চলছেন—মা এখনও আমাদের ভাইদের বকাবকি করলে মাকে বলি, কুমারটুলিতে মূর্ত্তি গড়ে, তো মূর্ত্তিটা খারাপ হলে, যে মূর্ত্তিটা গড়ে তার দোষ, না মূর্ত্তিটার দোষ দেখা দরকার।
কখনও মা বললেন—তোর এই দোষ। বলি, বাবার তো এই দোষটা ছিল না, তাহলে এটা কোথা থেকে এল দেখা দরকার।
শোক-অতিক্রমী হাতিয়ার তাঁর বড়ই মজবুত, পাশে বসা পূজনীয় সিপাইদাকে দেখিয়ে বলছেন— যদি আমাদের দুজনের মধ্যে কেউ মারা যাই, তখন যে থাকল সে কি করবে? আমাদের দুজনে যে ভাল সময়গুলো কাটিয়েছি, তার স্মৃতিগুলোকে স্মরণ করে সে তখন এগিয়ে যাবে। আশ্রমের এক মেয়ে (বৌ) তার মায়ের অসুখের কথা জানিয়ে কাঁদতে থাকলে আমি তাকে বলছি, তুই হিসাব করে দেখ্, সারাজীবনে কতটা সময় মায়ের কাছে কাটিয়েছিস্! এখন দেখছিস্ না, তখনও যে খুব দেখতিস্ তা নয়। আমি তাকে প্রথমেই একটা বকুনি দিয়ে obsession অবস্থাটা কাটিয়ে দিলাম, সে কেঁপে উঠল, তারপর এভাবে বললাম। যেমন, কেউ কানাডায়, আমেরিকায় আছে, আমার পাসপোর্ট না থাকলে সেখানে যেতে পারি না, সেরকম। বাবার (শ্রীশ্রীদাদার) গত হওয়ার সময় আমি শোক করিনি। আমি জানি তুমি আমাকে তৈরী করেছ, তুমি আমার সাথেই থাকবে, আমার হয়ে তুমিই কথা বলবে। তুমি থাক আমার সাথে।
কথায়-কথায় বললেন—আমি এখন অফিস, সংগঠন নিয়ে বেশী মাথা ঢোকাই না। কখনও বলে, এটা হবে না। আমি বলি, হবে না কেন? সব হবে। যেটা তোমার কাজে লাগবে, সব হবে। হবে না বলে কিছু হয় না।
এইভাবে কথার তোড়ে বলে চলেন তাঁর ছোটকালের ঘটনা, আমি খুব পিছনে লাগতাম, বলে না, খুড়তুতো দিদি? দিদিকে বলতাম, কি রে খুড়তুতো দিদি, ও বলত, কি রে জেঠতুতো ভাই! তখন দিদির বিয়ে হয়েছে, মাম্ (মেজকাকীমা) দিদিকে বলছেন, এখন বিয়ে হয়েছে, বাইরে যাবি না। আর আমি দিদিকে বুঝিয়েছি, তোর বিয়ে হয়েছে, বড় হয়েছিস্, স্বাধীন, এখনও মা-র আঁচল ধরে থাকবি! এইভাবে যাজন করে ভাইরা মিলে দিদিকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। ফিরলে মাম্ বকাবকি করছেন, আমাকে বলছেন, এইটা যত culprit! আমি উপভোগ করতাম এ-সব। ভাবিনি উনি আমার মা নন বা কিছু।
সেজকাকীমার ঘরে গিয়ে সব জিনিসপত্র অগোছালো করে দিয়ে আসতাম। বলতেন, নিশ্চয়ই বাবাই এসেছিল!

সংকলক— সুভাষ মুসিব।


~সংগৃহীত

🔵 “অপেক্ষার আশীর্বাদ”🔵⚪ দেওঘরের আশ্রমে…দুপুরের নীরবতা, গাছের ছায়ায় হালকা বাতাস, আর দূরে মন্দির থেকে ভেসে আসছে— “জয়গুর...
26/04/2026

🔵 “অপেক্ষার আশীর্বাদ”🔵

⚪ দেওঘরের আশ্রমে…
দুপুরের নীরবতা, গাছের ছায়ায় হালকা বাতাস, আর দূরে মন্দির থেকে ভেসে আসছে— “জয়গুরু… জয়গুরু…”

এই সময় আশ্রমে এল অভিষেক নামে এক যুবক।

তার চোখে ছিল অস্থিরতা…
মনে হতাশা।

সে অনেকদিন ধরে একটা কাজের জন্য চেষ্টা করছে—
চাকরি, সুযোগ, স্থিরতা—কিছুই ঠিকমতো পাচ্ছে না।

সে বারবার চেষ্টা করছে…
কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থতা।

সে ভাবছে—
“আমি কি যোগ্য নই?”
“কেন আমার জীবনে কিছুই সময়মতো আসে না?”

এই প্রশ্ন নিয়েই সে দেওঘরের আশ্রমে এল।

সে মন্দিরে গিয়ে ঠাকুরের সামনে দাঁড়াল।

তার চোখ ভিজে উঠল।

~ “আমি এত অপেক্ষা করছি…
আর কতদিন?”

তার কণ্ঠে ছিল ক্লান্তি।

ঠিক তখন একজন ভক্ত বললেন—
“বড়মার কাছে যাও…”

অভিষেক বড়মার কাছে গেল।

বড়মা তার দিকে তাকিয়ে মৃদু বললেন—

“তুমি অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত… তাই না?”

অভিষেক অবাক—

“হ্যাঁ মা… আমি আর পারছি না…”

বড়মা শান্তভাবে বললেন—

“তুমি কি জানো—
অপেক্ষাও এক ধরনের সাধনা?”

অভিষেক চমকে গেল—

“অপেক্ষা… সাধনা?”

“হ্যাঁ…

যখন তুমি ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করো—
তখন তুমি ভিতর থেকে শক্তিশালী হচ্ছো…”

অভিষেক চুপ করে গেল।

সেই দিন থেকে সে আশ্রমে থাকতে শুরু করল।

প্রতিদিন ভোরে সে মন্দিরে যেত।

চোখ বন্ধ করে নামজপ করত—

প্রথমে তার মন অস্থির —

“কবে পাবো?”
“কেন দেরি হচ্ছে?”

কিন্তু ধীরে ধীরে—
তার মন একটু একটু করে শান্ত হতে লাগল।

একদিন সে দেখল—
একজন মালী গাছের যত্ন নিচ্ছে।

সে জিজ্ঞেস করল—

“এই গাছগুলো বড় হতে কতদিন লাগে?”

মালী হেসে বলল—

“সময় লাগে…
প্রতিদিন একটু একটু করে…”

“তাড়াহুড়ো করলে গাছ বড় হয় না…”

এই কথাটা অভিষেকের মনে দাগ কাটল।

সে বুঝতে শুরু করল—

“আমার জীবনও হয়তো এই গাছের মতো…”

“সময় লাগছে… কিন্তু ভিতরে ভিতরে কিছু তৈরি হচ্ছে…”

সেই দিন সে বড়মার কাছে গিয়ে বলল—

“মা, আমি কি ধীরে ধীরে বুঝতে পারছি?”

বড়মা মৃদু হেসে বললেন—

“যে অপেক্ষা করতে শেখে—
সে পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে…”

অভিষেকের মনে নতুন আশা জাগল।

সে আর তাড়াহুড়ো করল না।

সে নিজের কাজ চালিয়ে গেল—
ধৈর্য নিয়ে, বিশ্বাস নিয়ে।

প্রতিদিন নামজপ করত—

একদিন সন্ধ্যায় সে মন্দিরে বসে ছিল।

সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে…

সে চোখ বন্ধ করে অনুভব করল—

“আমি আগের মতো অস্থির নই…”

“আমি অপেক্ষা করতে পারছি…”

তার মনে এক অদ্ভুত শান্তি এল।

সে ধীরে বলল—

“ঠাকুর… আমি বুঝতে পারছি…
সবকিছুর একটা সময় আছে…”

কিছুদিন পর—
অভিষেক একটা ভালো সুযোগ পেল।

সে অবাক হয়ে গেল।

“এটা কি সত্যিই আমার জন্য?”

সে বুঝল—

“যা সময়মতো আসে…
তা সঠিক সময়েই আসে…”

সে বড়মার কাছে গিয়ে প্রণাম করল।

বলল—

“মা, আমি পেয়ে গেছি…”

বড়মা মৃদু হেসে বললেন—

“তুমি শুধু সুযোগ পাওনি…
তুমি ধৈর্য শিখেছো…”

অভিষেকের চোখে আনন্দের জল।

সে বুঝল—

“অপেক্ষা শুধু দেরি নয়…
অপেক্ষা—আমাকে তৈরি করছিল…”

সেই দিন থেকে—
সে আর দেরিকে ভয় পায় না।

কারণ সে জানে—

“যা আমার জন্য…
তা ঠিক সময়ে আসবেই…”

প্রতিদিন সে নামজপ করে—

আর তার জীবন এগিয়ে চলে—
ধৈর্য, বিশ্বাস আর শান্তির পথে।

🟣 শিক্ষা (Moral):

~ “অপেক্ষা দেরি নয়—প্রস্তুতি।”

~ “যা সময়মতো আসে—তাই সঠিক হয়।”

~ “ধৈর্য ও বিশ্বাস—জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

~ সংগৃহীত

🔵  #একটি ১৬ বছরের মেয়ে তার মায়ের সাথে এসে প্রণাম করে উচ্ছসিতভাবে কেঁদে উঠলো এবং মাথা নিচু করে সে শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। আচা...
24/04/2026

🔵 #একটি ১৬ বছরের মেয়ে তার মায়ের সাথে এসে প্রণাম করে উচ্ছসিতভাবে কেঁদে উঠলো এবং মাথা নিচু করে সে শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। আচার্য্যদেব মেয়েটিকে দরদের সাথে জিজ্ঞাসা করলেন—কী হয়েছে রে?

জানা গেল যে, সে একটি ছেলেকে ভালোবেসে আঘাত পেয়েছে। সকলের চোখে এখন সে খারাপ হয়ে উঠেছে। এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল সে, পরীক্ষাতেও ফেল করেছে।

⚪ আচার্য্যদের মেয়েটিকে বলতে লাগলেন—তুই কাঁদছিস যে, তুই বোকা মেয়ে নাকি। যা কিছু হয়েছে, যত খারাপই হোক এটাকে মেনে নে। এরপর এটার থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যা। কখনো মনের মধ্যে গ্লানি বোধ করতে নেই। আমাদের জীবনটা একটা প্রবাহ। নদীকে দেখেছিস না—পাহাড় থেকে সাগরের দিকে যাচ্ছে। কখনো কি দেখেছিস যে, নদী সাগর থেকে উল্টোদিকে পাহাড়ের অভিমুখে যাচ্ছে? তাহলে জীবনটাও এরকম। যেটা বেরিয়ে গেছে, বেরিয়ে গেছে। এবার এগিয়ে চল। যত পেছনে পড়ে থাকবি, তত মন খারাপ হবে। আমার হাতের মধ্যে যা কিছু আছে, যেগুলো যাওয়ার নয়, সেগুলোও একসময় চলে যাবে। যা আমার বলে আছে, সেটা আমি যোগ্য হয়ে উঠলে, আপনি আসবে। এখন কী হয়েছে—এখন আবেগ আছে, এই সময় শরীর-মনে নতুন রকম স্পন্দন তৈরী হয় তো, এটার জন্য এই আবেগটা এলোমেলো হয়। এখন মনের মর্জিমাফিক যদি চলা হয়, তাহলে সেই decision-টাই ভুল হবে। তাহলে কীভাবে আমি decision নেব? মনে যেটা এলো সেটাকে আমি বিচার করব। এটা ভালো, না ওটা ভালো, এটা আমার জন্য মন্দ, না ওটা মন্দ এই কাজটা করলে আমার ভবিষ্যত কী হতে পারে, এই যে বিচারগুলো— সেগুলোকে বলে বিবেক। এটার অনুসরণ করতে হয়। তাহলে দেখবি আর কোনো ভুল হবে না। দুঃখকষ্ট এগুলো হবেই। এগুলোকে পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হয় কিন্তু এই যে ধরে রাখছিস, এটার নাম হলো অহং। 'আমার সাথে এরকম হল।' এইটা যত ভাববি, এই মূহুর্তের কষ্টটা থেকে বেরোতে পারবি না। বাবা-মায়ের এই ঘেরাটোপের মধ্যে আছিস মানে এখন তো নিজেকে তৈরি করে নেওয়ার সময়। আগে নিজেকে উপযুক্ত করে নিতে হবে, নিজের যোগ্যতাকে অর্জন করতে হবে।

কিন্তু তুই যাকে নিয়ে প্রলুব্ধ হলি, দেখ সে অযোগ্য এখনও‌। সে সাবলম্বী নয়।— তুই এখন একটা কাজ কর, তুই উপযুক্ত হ'। একটা পরীক্ষায় ফেল হয়েছিস্, আরেকটা পরীক্ষা দে। আমরা একটা একটা করে পরীক্ষা পাস করি। নিজেকে শক্তপোক্ত কর্, দেখবি তার একটা আলাদা আনন্দ। জীবনটাকে আগে বুঝে নে, তোর জীবনটা যোগ্য কিনা। তুই নিজেকে বহন করতে পারবি কি না। দ্রৌপদী উপযুক্ত ছিল, তাই তার স্বয়ম্বর সভা বসেছিল। সীতা উপযুক্ত ছিল, তাই তার স্বয়ম্বর সভা বসেছিল। উপযুক্ত না হলে হবে? আর একটা কথা ভেবে দেখ তো, যে বাবা-মা এত কষ্ট করে তোকে ছোটবেলা থেকে বড় করলো, তাদের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করলি না। এই যে নিজের মনের ইচ্ছায় প্রলুব্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তুই জড়িয়ে গেলি, তার মানে তুই স্বার্থপর। স্বার্থপর কারা হয়? মশারা। যেখানে বসে সেখানেই শোষণ করে। তার মানে তুই মশার মতন হয়ে আছিস্। বাবা-মাকে শোষণ করলি। যারা তোর সমস্ত শখ, আহ্লাদ সব পূরণ করল, কই বাবা-মার মনের কথাটা তো একবারও ভাবলি না। ডিসিশন নেওয়ার সময় নিজের ইচ্ছা মতন নিয়ে নিলি। এই আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপরতাকে বলে অকৃতজ্ঞতা। অন্তত এইটুকু কৃতজ্ঞতা তো থাকতে হয় যে, আজ এই হচ্ছে মনের মধ্যে, মনে হয় ভুল পথে চলছি, মা কী করা উচিত? এইটুকু তো সাহস থাকা উচিত। যার সাহস নেই, সে প্রেম করার অধিকারী হয় কী করে? ভেবে দেখেছিস্ কখনও মনে এই কথাগুলো?

আচার্য্যদেবের সরল প্রশ্নের জবাবে মেয়েটি মাথা নেড়ে জানালো না।

আচার্য্যদেব বললেন- তাহলে এবার এগুলোকে ভালো করে ভাব। যে যে কথাগুলো বললাম এবার থেকে যদি ভেবে নিয়ে চলতে পারিস আর এমন কষ্টের মধ্যে পড়তে হবে না। মেয়েটি চোখ মুছতে মুছতে প্রণাম করে মাথা নীচু করে চলে গেল।

আলোচনা, ফাল্গুন—১৪৩২

~সংগৃহীত

 #মেয়ের_বৈধব্য_দোষ_এক_মা_নিবেদন_করলেন #পরমপূজ্যপাদ_শ্রীশ্রী_আচার্য্যদেবের_কাছে_নিবেদন_চলছে_এক_মা_এসে_বলছেন_আমার মেয়ের ...
22/04/2026

#মেয়ের_বৈধব্য_দোষ_এক_মা_নিবেদন_করলেন
#পরমপূজ্যপাদ_শ্রীশ্রী_আচার্য্যদেবের_কাছে_নিবেদন_চলছে_এক_মা_এসে_বলছেন_আমার মেয়ের বৈধব্য দোষ আছে।কি করে বিয়ে দেব? নাটমান্ডপে বসে ছিলাম তখন আমিও ....

#তিনি শুনা মাত্র বলছেন ইষ্ট কাজে লেগে যেতে বলো।মা টি র মনে হয় মন ভরলো না... ভেবেছিল হয়ত কোন নিদান দেবেন...আবার প্রশ্ন করল আমি বৈধব্য দোষের মেয়ে কে নিয়ে কি করি ওর সব গ্রহ এত খারাপ.. এই মেয়ের কি হবে?

#এবারে তিনি বলছেন শুনেন ঠাকুর থেকে বড়ো এই দুনিয়ায় কেউ নেই এগুলো কিছু আমাদের হাতে নেই কিন্তু পরমপিতা যদি চান তাহলে সব সম্ভব এমন অনেক ঘটনা ই আছে... আপনি গ্রহের চিন্তা পরে করবেন ঠাকুরের চিন্তা নিজে করুন মেয়েকে করতে বলুন.... মেয়েটা কে দেখেছেন...ওর মনে কি চলছে? ওর যত্ন নিন...মেয়েটা যেন খুব শক্তি পেল... এত সময় মেয়েটা খুব কাচুমাচু হয়ে মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে ছিল।

#কি অসাধারণ অভয় বানী... বসে বসে ভাবছিলাম তখন তিনি ই পারেন এভাবে বুঝিয়ে বলতে। এত ভালোবাসা উনার।মা হয়ে মেয়ের কষ্ট বুঝতে পারছে না তিনি এক পলকে বুঝে গেলেন....

#আমরা বুঝতে পারি না। ঠাকুর কে বড়ো করতে চাই না চাই গ্রহ বড় হোক আর চিৎকার করতে থাকি... লোভ করি। মেয়েটা বিয়ে দেব এই চিন্তা য় মগ্ন কিন্তু মেয়েটা কে যে এর আগেই বলে বলে শেষ করা হচ্ছে।

#তিনি বলেছেন মানে আমার সব কিছু তাঁর মনের মত করতে হবে। খাওয়া দাওয়া,চলা ফেরা, পোষাক পরিচ্ছদ সব তাঁর মনের মত তাহলে ঠাকুর মুখ্য হল আর যখন ঠাকুর আমার জীবনে মুখ্য হবেন তখন এসব গ্রহ ও কিছু করতে পারে না।যদি অছুত্য ঈষ্ট টান থাকে। লোভ করলেই মহা বিপদ।

#আমি চলব আমার মতো করে আর তাহলে গ্রহ তো দুর্ভোগ দেবেই। বিশ্বাস পাকা থাকতে লাগে..... অগাধ টান, ভালোবাসা শ্রদ্ধা ভক্তি যা আমাকে সব কিছু থেকে মুক্তি দেবে। তাই তিনি ঐ মেয়েটি কে এই কথা বলেছিলেন না হলে বিয়ে তো পরে এর আগে ই মেয়েটার বেঁচে থাকা দায় হয়ে উঠত। সব দুর্ভোগ নিরাময়ে র পথ দেখিয়ে দিলেন।

পায়েল ভট্টাচার্য্য
২১/১/২০২৬
ত্রিপুরা

~সংগৃহীত

⚪ ছোটোবেলা থেকে আজ অব্দি কখনও দেখিনি কোনো শয়তান আলসে । সে সবসময় সক্রিয় -হয় মাথা দিয়ে ,না হয় শরীর দিয়ে । শয়তান কখন...
09/04/2026

⚪ ছোটোবেলা থেকে আজ অব্দি কখনও দেখিনি কোনো শয়তান আলসে । সে সবসময় সক্রিয় -হয় মাথা দিয়ে ,না হয় শরীর দিয়ে । শয়তান কখনও আলসে হয় না । রামায়ণে পড়েছি ,রাম-রাবণে যুদ্ধ হচ্ছে । কুম্ভকর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে ।আসেপাসের শত্রুপক্ষের যাকে পাচ্ছে ,তাকেই হুড়মুড়িয়ে নশ্বাৎ করতে করতে । রামচন্দ্র তার হাত কেটে ফেললেন । তবু তার লক্ষ্য ভগবান রামচন্দ্রকে নস্যাৎ করা । শয়তান যদি এতখানি এগিয়ে যেতে পারে ,আমরা ভগবানের সৈনিক । আমরা কেনো হুড়মুড়িয়ে ঠাকুরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাব না? আমার হাত অশক্ত হতে পারে । পা অশক্ত হতে পারে । তাও সবল মস্তিষ্ক নিয়ে যেনো এগিয়ে যেতে পারি ।
————————পরমপুজ্জ্যপাদ শ্রী শ্রী আচার্য্যদেব 🙏🏻
১৬/০৭/২০১৭ ॥ঋত্বিক সম্মেলন


~সংগৃহীত

 #লোকের মুখে শুনে শুনে এক বুড়িমার খুব ইচ্ছা বাবাইদা কে দর্শন করবে/ খুব সকাল সকাল স্নান করে কষ্ট করে রাস্তায় বসলেন চলন্ত...
03/04/2026

#লোকের মুখে শুনে শুনে এক বুড়িমার খুব ইচ্ছা বাবাইদা কে দর্শন করবে/ খুব সকাল সকাল স্নান করে কষ্ট করে রাস্তায় বসলেন চলন্ত সব গাড়িকে হাত দেখান কোনো গাড়ি যদি নিয়ে যায় । বেলা যতই গড়াচ্ছে বুড়িমা ততই হতাশ হচ্ছেন /কোন গাড়ি বুড়ি মাকে সৎসঙ্গ মন্দিরের পৌঁছে দিতে রাজি নয়/ মনে মনে প্রভুকে স্মরণ ছাড়া আর কোন গতি নেই চোখের জলে ডেকে চলেছেন বাবাই দাদা গো আমি কি একটু তোমার দর্শন পাব না /এভাবেই হা হুতাশ করে চলেছেন শুনেছি ভক্তের ডাকে ভগবানেরও আসন টলে/ গোহাটি ভাঙ্গা ঘর মন্দিরে শ্রীশ্রী আচার্য্যদেব অবস্থান করছেন হঠাৎ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন গেইটের কাছে/ শ্রদ্ধেয় জীবন দাদা কে দেখতে পেলেন ডাক দিলেন জীবন দা কে দৌড়ে গাড়ির কাছে আসতে বললেন । আচার্য্যদেব বললেন গাড়িতে উঠুন/ জীবন দা কাচুমাচু করে গাড়িতে উঠে বসলেন তারপর গাড়ি চলছে কোথায় যাবেন কোথায় যেতে হবে জীবন দা কিছু বুঝতে পারছে না চলতে চলতে গাড়িটা হঠাৎ এক বুড়িমার সামনে হাজির । গাড়ি থেকে আচার্য্যদেব নেমেই বুড়ি মাকে জিজ্ঞাসা করলেন কি গো বুড়ি মা কোথায় যাবেন বুড়িমা বললেন বাবা গো আমি একটু ভাঙ্গা ঘর সৎসঙ্গ আশ্রমে যাব বাবাইদা কে দর্শন করতে/ বাবা আমাকে একটু পৌঁছে দিবে? সকাল থেকে অপেক্ষা করছি কোন গাড়িও নিতে চায় না তুমি বাবা আমাকে একটু পৌঁছে দিবে?/ জীবন দা তখন কিছুটা বুঝতে পারলেন ভক্ত ভগবানের লীলা কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারছেন না দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন /কেন নেব না বুড়ি মাকে চলুন আমার সঙ্গে আমি আপনাকে পৌঁছে দেব । বুড়িমা কষ্ট করে গাড়িতে উঠলেন গাড়ি আবার চলতে শুরু করল । গাড়িতে একবার আচার্য্যদেব জিজ্ঞাসা করলেন আপনি ইষ্টভৃতি করেন বুড়িমা বললেন না গো বাবা আমি প্রতিদিন পয়সা কোথায় পাবো /এবার শ্রীশ্রী আচার্যদেব চুপ হয়ে গেলেন মন্দিরে পৌঁছেই বুড়িমা তাড়াতাড়ি কিছু পয়সার একটা পুতলা বের করে আচার্য্যদেবের হাতে দিয়ে চলে গেলেন মন্দিরের দিকে । আচার্য দেব ডাক দিলেন বুড়িমা দাড়ান বুড়িমা বললেন হে গো বাবা আমার কাছে আর কোন পয়সা নেই সামান্য কিছু টাকা দিলাম এগুলা তুমি গাড়ি ভাড়া মনে করে রেখে দাও/ আচার্য্যদেব বললেন আমাকে কোন গাড়ি ভাড়া দিতে হবে না এই পয়সা দিয়ে আপনি প্রতিদিন ইষ্টভৃতি করবেন/ বুড়িমা পয়সার পুতলা টা হাতে নিলেন এরপর শ্রীশ্রী আচার্য্যদেব অন্যদিকে গাড়ি ঘুরিয়ে মন্দিরে ঢুকে পড়লেন । জীবন দা এতক্ষণ অবাক হয়ে সমস্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে গেলেন/ তার কৌতুহলী মন গাড়ি থেকে নেমে সেই বুড়ি মাকে আবার খুঁজতে বের হলেন তিনি দেখতে পেলেন ভক্তরা লাইন দিয়ে আচার্য্যদেবের দর্শনের জন্য অপেক্ষায় রত সেই লাইনে বুড়ি মাও দাঁড়িয়ে আছেন / কিছুক্ষণ পর শ্রী শ্রী আচার্য্যদেব নির্দিষ্ট আসনে বসলেন ভক্তরা লাইন দিয়ে ধীরে ধীরে দর্শন প্রণাম নিবেদন করে চলছেন বুড়িমা যখন আচার্য্যদেবের কাছে আসলেন দেখে চিনে ফেললেন বুড়িমা । বুড়িমা বলছেন তুমি বাবাই দাদা বলে দু চোখের অশ্রুধারায় হৃদয়ে প্লাবিত হল । এত এত ভক্ত সমাগমে ভক্ত ভগবানের এই অপূর্ব লীলা শ্রদ্ধেয় জীবন দাদা আদ্যপ্রান্ত পর্যবেক্ষন করে গেলেন । এই রকম কত কত লীলা অব লীলায় ঘটে যাচ্ছে সে সব লীলার খবর কে রাখে /সেদিন যদি জীবনদা উপস্থিত না থাকতেন এক ভক্ত ভগবানের লীলা কাহিনি জানার সৌভাগ্য হতো না ।



~সংগৃহীত

⚪ আচার্য্য-সান্নিধ্যে/১৯৩১৫ই মাঘ, ১৪৩১, বুধবার(ইং ২৯-০১-২০২৫)বেলা এগারটার দিকে ফিলানথ্রপি-সমুখস্থ মণ্ডপে আচার্য্যদেবের স...
29/03/2026

⚪ আচার্য্য-সান্নিধ্যে/১৯৩
১৫ই মাঘ, ১৪৩১, বুধবার(ইং ২৯-০১-২০২৫)
বেলা এগারটার দিকে ফিলানথ্রপি-সমুখস্থ মণ্ডপে আচার্য্যদেবের সান্নিধ্যে নিবেদনের সমাধান অব্যাহত। অমিত পই এক দাদার বিষয় জানিয়ে বলে, ডি-পি ওয়ার্কে বেরোনোর সময় খুব জোশ থাকে, পরে কারো সাথে কথায়-কথায় রাগ হয়ে আবার মিইয়ে যান।
শুনে আচার্য্যদেব বলছেন—তার মানে ঠাকুরকে ভালবাসাটা একাগ্র নয়। ফলে পরিস্থিতির দরুণ ভেঙে পড়েন।
ঠাকুর থলি হাতে বাজারে গেলে যেভাবে যেতেন, আমি কি সেভাবে যাই? পিতা হিসাবে ছেলের প্রতি কর্তব্য যা, তা কি আমি ঠাকুরের মতো ক’রে করি? এইভাবে আমার যা-কিছু সব কাজ ঠাকুরের মত ক’রে হচ্ছে কি? যদি না হয়, তাহলে আমার মধ্যে ঠাকুরত্ব জাগছে না। তাই ফলও পাচ্ছি না। ‘নাম চলছে তো?’ লিখে অনেকে টাঙিয়ে রাখে, এটা বলতে-শুনতে ভাল লাগে। কিন্তু আমি নিজে দেখেছি এই অভ্যাসটা করতে গেলে অনেক তপস্যা লাগে। প্রথম তপস্যা লাগে কি কি pending কাজ তোমার আছে সেগুলোকে নিষ্পন্ন কর। যতক্ষণ এগুলো hang করে রাখছ, ওগুলো তোমার মাথার মধ্যে থেকে তোমাকে কাবু করে ফেলবে। অনিষ্পাদিত কর্ম্ম কখনও মানুষকে শান্ত হতে দেয় না।
এ-প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীবড়দার জীবনের ঘটনার একটি চেয়ার যথাস্থানে তুলে না-রাখায় নাম না-হওয়া ও তুলে রাখার পরে নামে মন বসার কাহিনি বললেন, পরে আবার বলছেন, যে কাজগুলো করার ক’রে ফেল, ঝুলিয়ে রেখো না, আর যেটা তোমার সাধ্যের বাইরে তাকে যেতে দাও। বাতিল! বাতিলের খাতায় ফেলে দাও। ওটা নিয়ে চিন্তাও করো না। এইভাবে যদি কর, তোমার ‘নাম’ও হয়ে যাবে, ঠাকুরত্বও জেগে যাবে, ঠাকুরের সাথে কথাও চলবে। আর তখন কী হবে? ‘লালী মেরে লালকী—জিত দেখেঁ তিত লাল/লালী দেখন ম্যায় চলী, মৈ হী হো গঈ লাল’।/ প্রিয়ের ছটায় তুমি রাঙিয়ে গেছ, তখন দেখবে যে তোমাকে কেউ গালাগাল দিলে তোমার গায়ে আর লাগছে না। মনে হবে এ কি দেহটাকে গালাগাল দিচ্ছে? দেহ তো অনিত্যের আবর্জ্জনা! একে গালাগাল দিয়ে করবে কী! আর আত্মাকে দিচ্ছে? আত্মা তো আগেও ছিল, পরেও থাকবে, চির অনন্ত। তাহলে অনন্তকেও দেওয়া যাবে না, অনিত্যকেও দেওয়া যাবে না। তাহলে কাকে দিচ্ছে?
আমি যখন ছোট ছিলাম, স্কুলে একটা ঘটনা ঘটে, সেখানে একজন খুব গালাগাল দেয়। দেওঘরের একটা স্কুলে। আমি তাকে বলছি, আমি তো তোর নাম জানি, কেন আমাকে বলছিস্! (হেসে) তো, কিছুক্ষণ পরে সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। তারপর বুঝল আমি ওকেই return দিলাম ও যে গালাগালটা দিয়েছে। মাথা মোটা, প্রথমে বুঝতে পারে নাই। তারপর বুঝল গালাগালটা ওকে return দিলাম।
তিনি যুবকটিকে আরও বলে চলেন, গীতায় বলছে, কর্ম্ম করবে, ফলের আশা করো না।
এভাবে তিনি যীশুর জীবনে ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তার কাহিনি (‘ওরা জানে না কি করছে, ওদের ক্ষমা করো’), নাগাল্যাণ্ডে যীশুর প্রচার কার্য্যে একজন পাদ্রীর সহ্যগুণের বর্ণনা করলেন। তারপর যুবকটিকে জিজ্ঞেস করছেন, তুই কেমন হবি? তাতে যুবকটি বলে, আপনি যা বলবেন।
শুনে আচার্য্যদেব বলছেন, আমি কেন বলব? choice তো তোকে করতে হবে! তুই তোর জামার কাপড় নিজের choice-এ কিনিস, না আমাকে জিজ্ঞেস করে কিনিস্? এখন আমাকে জিজ্ঞেস করছিস্ কেন? তোকে আমি একটা ঠাকুরের মানুষের গল্প বললাম, একটা পাদ্রীর গল্প বললাম। এত শুনে এবার তুই বলছিস্ আমি যেমন বলব! ঠাকুরের মানুষটা যেরকম যা যা করেছিল, সেরকম করবি, না তোর মতন করবি?
যুবকটির বিষয়টি এখনও clear হয়নি। তাই আচার্য্যদেব খানিক ক্ষুব্ধতার সাথে বলছেন, তোর একটাও মাথায় ঢোকেনি, তাই বকবক করছিস্! ঠাঁঠিয়ে একটা চড় মারলে বকবকানি কমবে। একটা আস্ত idiot!
একজনকে যুবকটির সাথে কথা বলার নির্দেশ দিলেন।
এদিন সন্ধ্যারাত্রে ফিলানথ্রপি-সমুখস্থ মণ্ডপে আচার্য্যদেব গোরাদাকে (ঈশীপ্রসাদ ঘোষ) বলছেন—পরিচর্য্যা মানে সম্পূর্ণরূপে বোধে আনা। পরি মানে সম্পূর্ণ, ‘চর্য্যা’-র মধ্যে চর্ আছে, মানে বোধ করা।
মেদিনীপুর থেকে হোমিওপ্যাথ বোমকেশ বেরা-দা এসেছেন। তিনি সৎসঙ্গ হাসপাতালে রোগী দেখেন, আজও দেখবেন, এখন অনুমতি নিয়ে সেখানে যাওয়ার কথা বললেন। আচার্য্যদেব তার বাড়ির সদস্যদের কুশল নিলেন। বোমকেশদা জানালেন, কিছুদিন আগে তার বাড়ির অনেকেই আইসক্রিম খেতে গিয়ে দেখেন তা পচা, সাথে সাথে ফেলে দেয়। কিন্তু ঐ অবস্থাতেও যেটুকু পেটে গেছে, তাতেই পেট খারাপ হয়, এখন ভাল আছে।
শুনে আচার্য্যদেব বলছেন—আইসক্রীম শীতকালটায় খাওয়া ঠিক নয়। এ-সময়টায় বিক্রি কম হয়, অনেকদিনের স্টক থাকে, সেগুলো বিক্রি করে। আইসক্রীম খেতে হলে মে, জুন মাসে খেতে হয়। সংকলক—সুভাষ মুসিব।

~ সংগৃহীত

⚪" মা একটু সাহায্য করবেন আমাদের?"   -- পথশ্রান্ত কতিপয় যুবক তার দুয়ারের সমাগত । মুখমণ্ডলে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট । নিজ ঘ...
27/03/2026

⚪" মা একটু সাহায্য করবেন আমাদের?"
-- পথশ্রান্ত কতিপয় যুবক তার দুয়ারের সমাগত । মুখমণ্ডলে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট । নিজ ঘর বাড়ি ফেলে সহস্র সহস্র মাইল পথ অতিক্রম করে মধ্যপ্রদেশের কোন অজপাড়াগাঁয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা । দিন নেই , রাত নেই ------ খোঁজ চলছে তার হারানো সন্তানদের ; সেই যেন রাখাল রাজার হারানো মেঘ শাবকদের।
একটি নামের তালিকা হাতে নিয়ে ঘুরছে তারা , সেখানে রয়েছে বহু পুরাতন দীক্ষিতদের নাম। তাদের ঠিকানা গুলো অত্যন্ত অস্পষ্ট। ভোপাল সেরে আজ গুনায় উপস্থিত ছেলেগুলো। খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত , কিন্তু উৎসাহ অদম্য। একটি চায়ের দোকানদার তাদের জানালো যে , এখানে মানুষ আসে চাকুরী সূত্রে ,পরিজয়ী শ্রমিকের ন্যায় ।কেবলমাত্র তিনখানা পরিবার রয়েছে , যারা দীর্ঘ ৩০ বৎসর যাবত অবস্থান করেছেন এখানে । মানুষ খুঁজে বের করার পথে এই তিনটি পরিবারের সহায় । তাই এখন সেই তালিকা ছেড়ে ওই তিন পরিবারকে খুঁজছে তারা।
" আপনি নারায়ণ সাহুদাকে চিনেন?" ------ প্রশ্ন করল আগত দলের একটি ছেলে।
" কেন? কী প্রয়োজন ? " পাল্টা প্রশ্ন করলেন মা'টি। কথাবার্তায় ওড়িয়া ভাষার টান স্পষ্ট।
ছেলেগুলোর মধ্যে একজন ছিল ওড়িয়া। সে এগিয়ে এলে জানা গেল যে , এই সেই বাড়ি যার খোঁজ করছিল এরা । বহুকাল পরে মাতৃভাষা শুনে মাটি অত্যন্ত প্রীত হলেন। স্বল্পশব্দে দীক্ষা পত্র সমীক্ষার বিষয়টি বুঝিয়ে বলল ছেলেরা । ঘরের অভ্যন্তরে সবাইকে বসিয়ে সেই মা তার স্বামীকে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার প্রয়াস চালালেন। কিন্তু স্বামী ফোন তুললেন না । তাই বিফল মনোরথ ছেলেরা পরে আবার ফিরে আসার কথা দিয়ে চলে গেল।
পরবর্তী দুইদিন অন্য কাউকে পেল না তারা। যথারীতি ছেলেরা জনসংযোগ আর যাজনকার্যে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছে । তৃতীয় দিন একজন বলল, সেদিনের বাড়িটায় আবার যাওয়া যায় না ? যেমন ভাবা , তেমনি কাজ। গাড়ি ঘুরিয়ে সেই গৃহ অভিমুখে চলল ছেলেরা । আজ বাড়িতে রয়েছেন সাহুদা । কিন্তু এ কী ? ওনার চোখে জল কেন ? তাদের দেখা মাত্র তিনি এতটাই ভাববিহ্বল হয়ে উঠলেন যে, মুখ ফুটে কথা বেরোচ্ছে না । সেই মা - ও স্বামীকে প্রশ্ন করে তারা কম্পিত কণ্ঠের মৃদু উত্তর শুনলেন , তাতে তারাও একরকম হতভম্ব । কিছু বুঝে উঠতে না পেরে এরা ওড়িয়া ছেলেটিকে এগিয়ে দিল। সাহুদার স্ত্রীকে প্রশ্ন করে যা' শুনলো , তাতে ছেলেটিও বিস্মিত । বহুক্ষণের প্রচেষ্টায় বিষয়টিকে বোধগম্য করে নিয়ে সে রহস্যের উন্মোচন করল।
জানা গেল যে, সাহুদার আদি বসতবাড়ি ওড়িশায়। ওনার পিতামহ ছিলেন একজন সৎসঙ্গী। শৈশবে পিতামহের হাত ধরে বহু সৎসঙ্গ, মন্দির ও উৎসবে যেতেন তিনি। কিন্তু স্বয়ং ইষ্টমুখী হয়েও পুত্র পৌত্রাদির কাউকে দীক্ষা গ্রহণ করাতে পারলেন না পিতামহ। সময়ের সাথে একদিন মধ্যপ্রদেশের গুনায় এসে পড়লেন সাহুদা। দীর্ঘ ৩০ বৎসর অতিবাহিত , না কোনো সৎসঙ্গীর সাথে পরিচয় , না কোথাও কারো কোনো সন্ধান। ইদানিং মাঝেমধ্যেই মনে পড়ে যায় শৈশবের স্বর্ণিম সে স্মৃতিগুলি। তিন দিন পূর্বের কথা। হঠাৎ রাত্রিবেলায় সুপ্তিমগ্ন সাহুদা একটি স্বপ্ন দেখলেন। কিছু শ্বেত- শুভ্র বসন পরিহিত যুবক তার বাড়িতে এসে ঠাকুর সম্পর্কে কথা বলছে। নিদ্রা ভঙ্গ হতে সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত খেয়ালিপনা ভেবে স্বপ্নটিকে উড়িয়ে দিলেন তিনি। এই দুর্গম অঞ্চলে কস্মিনকালে কেউ কি শুনেছে কখনো ঠাকুরের কথা ? কে আসবে তাকে খুঁজতে? কিন্তু একি ! আজ ঠিকই শ্বেত - শুভ্র ধুতি - পাঞ্জাবী পরিহিত দেবদূতেরা সমুপস্থিত তার দ্বারে!
দীর্ঘ কথোপকথন হলো। ভাববিহ্বল হয়ে বলে উঠলেন সাহুদা ------ কাল আমার কনিষ্ঠ পুত্র ফিরবে, কালই আমরা সপরিবার সদ্ দীক্ষায় দীক্ষিত হব। সমস্ত আয়োজন করে নিল ছেলেরা । এই অঞ্চলের কোন ঋত্বিক নেই ।তাই ২১৮ কিমি দূর গোয়ালিয়র থেকে আসলেন সহপ্রতিঋত্বিক সঞ্জিত চৌধুরী। ট্রেন না পেয়ে গাড়ি চালিয়েই চলে আসলেন তিনি। ছেলেরা তাকে নিয়ে আসে এবং পরিবারের সবার দীক্ষা সম্পন্ন হয়। যে জেলায় খুঁজে খুঁজেও কোনো দীক্ষিত মানুষ পাওয়া দূরূহ, সেখানে পাঁচ পাঁচটি নবীন প্রাণ তাঁর চরণে নিবেদিত হল।
সাহুদা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলেন । পিতামহ করেছেন ঠাকুরের কর্ম ; পুত্র করল না , কিন্তু পুত্র পৌত্র - প্রপৌত্রাদিকে এভাবেই ছেড়ে দেবেন না ঠাকুর ! হারানো মেষ শাবকদের খুঁজে নেওয়া যে তাঁর কাজ ! তাঁর দয়া দেখে অবাক সাহুদার গণ্ডদেশ বয়ে অশ্রুবর্ষণ হচ্ছে। মনের অন্দরে সুর মিলিয়ে কে যেন গান ধরেছে -----
" আলো জ্বেলে সজাগ হয়ে ,
এলেন বুঝি এই আশায়
থাকবি প্রতীক্ষায়।
প্রভুই যদি বলিস তাঁরে,
থাকবি প্রতীক্ষায় ।
আসেন প্রভু আপন মনে
যখন তখন তাঁর লগনে ।
সেই ঠিকানা তুই কি জানিস ?
তাও কি কভু জানা যায় ?
থাকবি প্রতীক্ষায়।"

থাকবি প্রতীক্ষায়
ঋদ্ধিদীপন দাশগুপ্ত
--------------------------
তথ্যসূত্রঃ - আলোচনা # ফাল্গুন, ১৪৩২, মার্চ / ২০২৬

~সংগৃহীত


Address

NH3
Krishnagar
741151

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Gholarpara Satsang Kendra GSK posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Gholarpara Satsang Kendra GSK:

Shortcuts

Share

Category