22/09/2026
বিজয়া মহাদ্বাদশী, শ্রবণা দ্বাদশী ও শ্রীশ্রীবামন দ্বাদশী ব্রতের উপবাস
তারিখ – ২৩শে সেপ্টেম্বর (২০২৬ খৃঃ), ৫ই আশ্বিন (১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) বুধবার।
পারণের সময় – পরদিবস প্রাতঃ ০৫/২৯ হইতে পূর্ব্বাহ্ণ ০৯/৩০ মধ্যে বিজয়া মহাদ্বাদশী, শ্রবণা দ্বাদশী ও শ্রীশ্রীবামন দ্বাদশী ব্রতের পারণ।
“বিজয়া মহাদ্বাদশী, শ্রবণা দ্বাদশী ও শ্রীশ্রীবামন দ্বাদশী ব্রতের মাহাত্ম্য”
*******************************
*বিজয়া মহাদ্বাদশী*
বিষ্ণুধর্ম্মোত্তরে এই ব্রতের মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে বলা হইয়াছে,—
শুক্লপক্ষের দ্বাদশী-তিথিতে শ্রবণা নক্ষত্রের যোগ হইলে সেই মহাপূণ্যা দ্বাদশীকে ‘বিজয়া’ বলা হয়। ভাদ্রমাসের বুধবারে বিজয়া ব্রত হইলে যাবতীয় ব্রত হইতে এই ব্রতের মাহাত্ম্য অধিক হয়। এই তিথিতে স্নানে সর্ব্বতীর্থ-স্নান-জনিত ফল লাভ হয়, পূজায় বর্ষকৃত পূজার ফল পাওয়া যায়। বারেকমাত্র জপে সহস্র জপের ফল অর্জ্জিত হয়। এই তিথিতে অনুষ্ঠিত দান, ব্রাহ্মণ-ভোজন, হোম, তপ ও উপবাস সহস্রগুণ ফলদায়ক হইয়া থাকে।
*******************************
*শ্রবণা দ্বাদশী*
ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষীয়া দ্বাদশী-তিথিতে ‘শ্রবণা’ নক্ষত্রের যোগ হইলে তাহাকে শ্রবণা দ্বাদশী বলা হয়। এই তিথি আবার ‘বিজয়া দ্বাদশী’-নামেও কথিতা হইয়া থাকে। পুনরায় একই দিনে একাদশী, দ্বাদশী ও শ্রবণা-নক্ষত্র—এই তিনটীর সংযোগ ঘটিলে তাহাই ‘বিষ্ণুশৃঙ্খল-যোগ’ বলিয়া কীর্ত্তিত হয়।
স্কন্দপুরাণে এতৎপ্রসঙ্গে উল্লিখিত আছে যে, শ্রবণা দ্বাদশীতে ভক্তি-সহকারে শ্রীহরিপূজা করিলে দশবর্ষকৃত পূজার ফল লাভ হয় এবং দান, হোম বা যে-কোন কর্ম্মের অনুষ্ঠানে লক্ষগুণ ফলপ্রদ হইয়া থাকে। ব্রহ্মবৈবর্ত্ত-পুরাণে দেখা যায় যে, ভাদ্রমাসের বুধবারে যদি ঐ শ্রবণা দ্বাদশী উপস্থিত হন, তাহা হইলে তাঁহার মহিমা অবর্ণনীয়া। ঐ দিনে শ্রীবামনদেবের পূজায় অভীপ্সিত সকল শুভকামনা পূরণ হইয়া থাকে। ঐ দিন নদীসঙ্গমে সর্ব্বতীর্থের সমাগম হয়। শ্রবণা দ্বাদশীতে স্নান ও হরিপূজাপূর্ব্বক ব্রতোপবাসে অনায়াসে দ্বাদশ-দ্বাদশীর ফল প্রাপ্ত হওয়া যায়।
বিষ্ণুশৃঙ্খলযোগে বিধিবৎ ব্রতোপবাস করিলে নিখিল পাপরাশি হইতে উত্তীর্ণ হইয়া অপুনর্ভবা পরমসিদ্ধি লাভ হয় অর্থাৎ তাহাকে সংসারে পুনরায় শরীর ধারণ করিতে হয় না। এই ব্রতোপবাসে নিশ্চয়ই শ্বেতদ্বীপে গমন হইয়া থাকে।
*******************************
"শ্রীশ্রীবামন দ্বাদশী"
শ্রীমদ্ভাগবতে ভগবান্ শ্রীবামনদেবের আবির্ভাব-প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে,---
“শ্রোণায়াং শ্রবণদ্বাদশ্যাং মুহূর্তেহভিজিতি প্রভুঃ।
সর্বে নক্ষত্রতারাদ্যাশ্চক্রুস্তজ্জন্ম দক্ষিণম্।।
দ্বাদশ্যাং সবিতাতিষ্ঠন্মধ্যন্দিন-গতো নৃপ।
বিজয়া নাম সা প্রোক্তা যস্যাং জন্ম বিদুর্হরেঃ।।”। (ভাঃ ৮।১৮।৫,৬)
'শ্রবণ দ্বাদশীতে চন্দ্র শ্রবণস্থ হইলে, অভিজিৎ-মুহূর্তে পরম শুভলগ্নে প্রভু অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। সেই সময় সমস্ত নক্ষত্র এবং গ্রহগণ তাঁহার জন্মবাসরকে প্রশস্ত করিয়াছিলেন। উক্ত দ্বাদশী-তিথিতে সেইকালে সূর্য্যদেব মধ্যন্দিন গত ছিলেন; এই দ্বাদশীকে “বিজয়া দ্বাদশী” বলা হইয়া থাকে। সুতরাং ভাদ্রমাসের শুক্লা দ্বাদশী তিথিতে শ্রবণা নক্ষত্রের যোগ হইলে, উক্ত দিনে উপবাসী থাকিয়া শ্রীবামনদেবকে পূজা করণীয়। কিন্তু দ্বাদশীতে কোন সময়েই শ্রবণার যোগ না হইলে কিংবা একাদশী ও দ্বাদশী—এই উভয়দিনেই শ্রবণার অপ্রাপ্তি ঘটিলে একাদশীতে উপবাসী থাকিয়া দ্বাদশীতে শ্রীবামনদেবের পূজা করিতে হইবে।
শ্রীবামন দ্বাদশী-ব্রত সাধনে ভগবান্ অভীষ্ট সকল শুভকামনা পরিপূর্ণ করিয়া দেন। শ্রীবরাহপুরাণে এই ব্রতমাহাত্ম্য-প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, পুত্রহীন রাজা হর্য্যশ্ব পুত্রকামনায় এই ব্রতের অনুষ্ঠান করিলে তিনি উগ্রাশ্ব-নামে মহাবল-পরাক্রান্ত এক পুত্র লাভ করিয়াছিলেন, যিনি পরবর্তীকালে রাজচক্রবর্তী হইয়াছিলেন। এই ব্রতানুষ্ঠানে অপুত্রকের পুত্র, ধনার্থীর ধন, রাজ্যচ্যুতের রাজ্যসুখ লাভ হইয়া চরমে বিষ্ণুলোকে গতি হইয়া থাকে। কিন্তু শুদ্ধভক্তগণ কোনপ্রকার জাগতিক প্রাপ্তির আশা কিংবা অপেক্ষা না করিয়াই কেবল হরি-প্রীতির জন্যই এই সকল হরিবাসর ব্রতের অনুষ্ঠান করেন।
উপবাসের নিয়ম মন্ত্র—
একাদশ্যাং নিরাহারঃ স্থিত্বা চৈবাপরেহনি।
ভোক্ষ্যে শ্রীবামনানন্ত শরণাগতবৎসল।।
[অর্থাৎ হে শ্রীবামনদেব, হে অনন্ত, হে শরণাগত-বৎসল, একাদশীতে উপবাস থাকিয়া পরদিন ভোজন করিব, আপনি আমার আশ্রয় হউন।]
゚