পৌরাণিক ইতিহাস

পৌরাণিক ইতিহাস IN THE HISTORY AND THE UNKNOWN WORLD OF HINDU MYTHOLOGY mythic history
(2)

শ্রাবনের বর্ষামুখর সন্ধ্যাতেই বসে শ্রী শ্রী কৃষ্ণ রাধার হিন্দোল যাত্রা বা ঝুলনযাত্রা । এই ঝুলনযাত্রার পুন্যলগ্নে বাংলার ...
24/08/2026

শ্রাবনের বর্ষামুখর সন্ধ্যাতেই বসে শ্রী শ্রী কৃষ্ণ রাধার হিন্দোল যাত্রা বা ঝুলনযাত্রা । এই ঝুলনযাত্রার পুন্যলগ্নে বাংলার পুণ্যভূমির এই বৈষ্ণব তীর্থের ইতিহাস ও মাহাত্ম্য আমাদের আলোচ্য । গঙ্গাতীরের ঐতিহাসিক জনপদ হল আগরপাড়া, সেখানেই রয়েছে শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ জীউর কুঞ্জ মন্দির। বিটি রোড বা ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোডের উপর আগরপাড়ার মোল্লার হাটে নামতে হবে। সেখান থেকে হলধর বসু রোড ধরে গঙ্গার দিকে এগোলেই পথে পড়বে গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি। দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে নির্মিত এই দেবস্থান । দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী মন্দিরের সঙ্গে এই মন্দিরের এতটাই মিল যে অনেকেই, এই মন্দিরকে ছোট দক্ষিণেশ্বরও বলে থাকেন । গঙ্গার তীরে অবস্থিত দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রধান দেবী হলেন দক্ষিণকালী তেমনি গঙ্গার তীরবর্তী এই মন্দিরের প্রধান দেবতা হলেন শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ জিউ । এই মন্দিরের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে। এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রানি রাসমণির নাত বৌ । জানবাজারের জমিদার রাজা শ্রী গোপালকৃষ্ণ দাসের বিধবা স্ত্রী ছিলেন শ্রীমতী গিরিবালা দাসী। প্রয়াত স্বামী শ্রী গোপালকৃষ্ণ দাস ও তিন পুত্রের স্মৃতিতে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। গিরিবালা দাসীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বলে এই মন্দিরটি গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি নামেই পরিচিত।বাংলার ১৩১৮ সনের ১৮ জ্যৈষ্ঠ, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলে গিরিবালা দাসী। প্রাচীর দিয়ে ঘেরা প্রাঙ্গণের মধ্যে ৭ ফুট উঁচু বেদীর উপর মন্দির অবস্থিত। মন্দিরের প্রবেশপথটি তিন খিলানযুক্ত, প্রবেশ দ্বারের মাথায় রয়েছে সিদ্ধিদাতা শ্রী গণেশের মূর্তি । প্রবেশপথের সিঁড়ির দুপাশে পাথরের শ্রী শ্রী গৌর ও নিতাইয়ের মূর্তি রয়েছে। মন্দিরটি দক্ষিণমুখী। মন্দিরের পশ্চিম দিকে রয়েছে গিরিবালা ঘাট। এছাড়াও রয়েছে নহবতখানা এবং নাটমন্দির। তদানিন্তন সময়ে, মন্দির নির্মাণে খরচ হয়েছিল সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার গগনচন্দ্র বিশ্বাস এবং এস এম ঘোষ অ্যান্ড কোং। গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি অর্থাৎ মূল মন্দির, নহবতখানা, ছ’টি শিবমন্দির ও সুদৃশ্য নাটমন্দির নিয়ে নির্মিত। গিরিবালা দাসীর উত্তরসূরিদের ইচ্ছায় ১৯৮৫ সালের ২৩ জানুয়ারি মহামণ্ডলেশ্বর শ্রী শ্রী শিবানন্দ গিরি মহারাজজির তত্ত্বাবধানে হরিদ্বারের ভোলানন্দ সন্ন্যাস আশ্রম এই মন্দিরের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এখন গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি ভোলাগিরি স্নেহনীড় নামেও পরিচিত।মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে কষ্টিপাথরের বংশীধারী শ্রী শ্রী গোবিন্দ জিউ ও অষ্টধাতুর শ্রী শ্রী রাধারানীর বিগ্রহ । সঙ্গে রয়েছেন গণেশ, শালগ্রাম নারায়ণ শিলা ও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি। এই মন্দির তৈরির সময় শ্রী শ্রী রাধারানির বিগ্রহটি চুরি হয়ে গেলে স্বামী শিবানন্দ গিরি বৃন্দাবন থেকে অষ্টধাতুর শ্রী শ্রী রাধারানীর বিগ্রহ নিয়ে আসেন এবং সেই বিগ্রহটিই বর্তমানে পূজিত হচ্ছেন । মন্দিরের সামনেই রয়েছে বাঁধানো প্রাঙ্গণ। তারপরেই নাটমন্দির, উত্তর দিকে মূল মন্দির। নাটমন্দিরটি লম্বায় প্রায় পঞ্চাশ ফুট এবং প্রায় চল্লিশ ফুট চওড়া, মেঝে শ্বেতপাথরে বাঁধানো। নাটমন্দিরের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে রয়েছে স্তম্ভ বোধিকা। গঙ্গার তীরে ছয়টি শিব মন্দির প্রতিষ্ঠিত । ছয়টি শিব মন্দিরে লিঙ্গ স্বরূপ যথাক্রমে শ্রী শ্রী কামেশ্বর, রাজেশ্বর, গোপেশ্বর, তারকেশ্বর, ভুবনেশ্বর ও গিরিশ্বর নামে মহাদেব অধিষ্ঠান করছেন । প্রতিটি মন্দিরের দরজায় খিলানের ওপর শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার অলঙ্করণ স্থান পেয়েছে, যেমন কামেশ্বর মন্দিরে রয়েছে রাধাকৃষ্ণের যুগল মিলন, রাজেশ্বর মন্দিরে স্থান পেয়েছে মথুরানাথ, গোপেশ্বর মন্দিরে খোদিত রয়েছে গোষ্ঠলীলা, অনন্তশয্যা রয়েছে তারকেশ্বর মন্দিরে, ভুবনেশ্বর মন্দিরে রাই রাজার কাহিনী স্থান পেয়েছে এবং গিরিশ্বর মন্দিরে কালিয়াদমনের দৃশ্য রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব দিকের দরজার উপরে যেমন কৃষ্ণের লীলা তেমন পশ্চিমদিকেও রয়েছে নানান দৃশ্য কৃষ্ণ-বলরাম মূর্তি, রামরাজার মূর্তি, নন্দীর পিঠে হরপার্বতী মূর্তি, সঙ্গে শিঙ্গাবাদক ও শঙ্খবাদক, শিব ও অন্নপূর্ণার মূর্তি, নন্দীর পিঠে শিব-গণেশজননী ও ইন্দ্রের বাহন ঐরাবতের পিঠে ইন্দ্র-শচি। মূল মন্দিরের পূর্ব দিক বরাবর রয়েছে অজস্র ঘর। একটিতে ভোগ রান্না হয়, রয়েছে অফিস, ভাঁড়ার ঘর, ভক্ত ও সেবকদের জন্যও রয়েছে কিছু ঘর। এই শিব মন্দির গুলিতে শিবরাত্রি ও নীলষষ্ঠীর দিন সারারাত মহাদেবের বিশেষ পুজো হয়। এছাড়া মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশেষ উৎসব হয় এবং বিভিন্ন বৈষ্ণব উৎসব যেমন জন্মাষ্টমী, রাধাষ্টমী, দোলযাত্রা, স্নানযাত্রা, ঝুলনযাত্রা ও রাসযাত্রার উৎসব মহাসমারোহে পালিত হয়। এই মন্দিরের নাটমন্দিরে প্রতিমা এনে অন্নপূর্ণা পুজো ও দুর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গা অষ্টমীতে ও অন্নপূর্ণা পুজোয় বছরের এই দুদিনে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এই মন্দির খোলে সকাল ছয় টা তে তারপরে সকাল ৮ টা তে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর ফল মিষ্টি মাখন মিছরি দিয়ে বাল্যভোগ হয়। এরপরে দুপুরে ১২ টার সময় অন্ন, ডাল, নানা পদের ব্যঞ্জন, চাটনী, পায়েস সহযোগে মধ্যাহ্ন ভোগ হয় প্রভুর তবে বিশেষ পূজা পার্বনের দিনে অন্নের সাথে পুষ্পান্ন, ছানার কালিয়া, ধোঁকার কালিয়া, পনিরের তরকারী ইত্যাদি নানা রকমের বিশেষ পদ প্রভুকে নিবেদন করা হয় । মধ্যাহ্ন ভোগের পরে মন্দির বন্ধ হয়ে যায় আবার বিকাল চার টা তে মন্দির খোলে সন্ধ্যা সাত টায় সন্ধ্যারতির পরে লুচি, তরকারী , সুজির হালুয়া ও মিষ্টি সহযোগে শীতলভোগের পরে রাত আট টায় মন্দির বন্ধ হয়। মন্দিরে দুপুরে দেড়শো টাকার কুপন কেটে প্রভুর অন্ন ভোগ গ্রহণের সুবন্দোব্যস্ত আছে মন্দিরে। এই মন্দিরে আসতে গেলে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে আগরপাড়া স্টেশনে নেমে, এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে থেকে অটো ধরে গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি ঘাট নেমে সামান্য হেঁটে গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি বা শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দের কুঞ্জ মন্দির।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
শুভ ঝুলনযাত্রা ১৪৩৩
শুভ ঝুলনযাত্রা ১৪৩৩ উপলক্ষে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর হিন্দোল যাত্রার দর্শন
স্থান ঃ শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দের কুঞ্জ মন্দির ( গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি )
©Koushick Banerjee
Do not post these picture without prior permission

🙏🌺🌿🌼🕉️ ঝুলন যাত্রা 🕉️🌼🌿🌺🙏°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°🌺 রাধাকৃষ্ণের লীলা হল ঝুলনযাত্রা । এদিন নব...
24/08/2026

🙏🌺🌿🌼🕉️ ঝুলন যাত্রা 🕉️🌼🌿🌺🙏
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
🌺 রাধাকৃষ্ণের লীলা হল ঝুলনযাত্রা । এদিন নবদ্বীপ, মায়াপুর, মথুরা, বৃন্দাবন সহ গোটা দেশের বিভিন্ন স্থানে জাক জমকপূর্ণভাবে পালিত হয় এই উৎসব। সুপ্রাচীন এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা সামাজিক ও পৌরাণিক তাৎপর্য।

🙏🌺🌿 রাধাকৃষ্ণের লীলা হল ঝুলনযাত্রা 🌿🌺🙏

🌹 শ্রাবণ মাসের একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে ঝুলনযাত্রা।

🌿 সুপ্রাচীন এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে
নানা সামাজিক ও পৌরাণিক তাৎপর্য।

🌼 হিন্দু ধর্মে বারো মাসে তেরো পার্বণ। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হল ঝুলনযাত্রা। শ্রাবণ মাসের একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে বৈষ্ণব ধর্মের এই শ্রেষ্ঠ উৎসব । মনে করা হয় রাধা -কৃষ্ণের লীলা হল ঝুলনযাত্রা। এদিন নবদ্বীপ, মায়াপুর, মথুরা, বৃন্দাবন সহ গোটা দেশের বিভিন্ন স্থানে জাক-জমকপূর্ণভাবে পালিত হয় এই উৎসব। সুপ্রাচীন এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা সামাজিক ও পৌরাণিক তাৎপর্য।

🍀 'ঝুলন' শব্দটি মূলত এসেছে 'দোলনা' শব্দটি থেকে। রাধা-কৃষ্ণের ভক্তেরা এই বিশেষ দিন দোলনা সাজিয়ে যুগলবিগ্রহ স্থাপন করে পুজো করেন। শুধু মন্দির বা বনেদিবাড়িতে নয়, বহু হিন্দু বাড়িতেই আয়োজন করা হয় ঝুলন উৎসবের । দোলনার ওপর দেব-দেবীকে বসিয়ে, নানা রকমের মাটির পুতুল, গাছপালা, ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয় ।

🟠 শাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণের দ্বাদশ যাত্রার উল্লেখ থাকলেও, সবকটা পালন করা হয় না, সাধারণত। তবে যেগুলি নিয়মিত পালন হয় তার মধ্যে- রথযাত্রা, রাসযাত্রা, দোলযাত্রা, স্নানযাত্রা ও ঝুলনযাত্রা উল্লেকযোগ্য।

🟢 শাস্ত্র মতে, বৃন্দাবনে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে সূচনা হয়েছিল ঝুলন উৎসবের।

🔵 ঝুলন উৎসবের দিন রাধা -কৃষ্ণের বিগ্রহ পূর্ব -পশ্চিম দিকে দোলানো হয়। আসলে সূর্যের উদয় ও অস্ত এবং উত্তরায়ন - দক্ষিণায়নের ওপর নির্ভর করেই এই অবস্থানের দিক নির্দিষ্ট করা হয়েছে বলে জানা যায়।


🌺 ঝুলনযাত্রার নিয়ম কানুন

🟢 মনে করা হয় ঝুলন উৎসবে রাধা-কৃষ্ণের পুজো করলে সংসারে সুখ -সমৃদ্ধি ভরে ওঠে।

🟠 এদিন রাধা-কৃষ্ণকে হলুদ বস্ত্র দিয়ে সাজিয়ে, হলুদ ফুল উৎসর্গ করা শুভ।

🔵 কৃষ্ণকে ময়ূরের পালক দিয়ে সাজিয়ে, ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানোর রীতি আছে এদিন।

🟣 পুজোর আগে রাধা-কৃষ্ণের পায়ে তুলসি পাতা অর্পণ করা নিয়ম।

🟠 ঝুলনের সময় প্রতিদিন ২৫-৩০ রকমের ফলের নৈবেদ্য, লুচি -সুজি ইত্যাদি নিবেদন করা হয়।

🟢 পুজো শেষ হলে, গীতা পাঠ ও গায়ত্রীমন্ত্র জপ করলে সংসারে শান্তি বজায় থাকে।

🕉️ সনাতন ধর্মের এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় নামসংকীর্তন হয়। এমনকি মেলাও বসে পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতিটি রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে ভিড় জমান ভক্তেরা।

এরূপ আরও অনেক ব্যাখামূলক ধর্মীয় পোস্ট পেতে 👉 শেয়ার করুন 👈

 #শ্রীরামের_মৃগয়া ও  #দুর্গাপূজাআগে শ্রীমদ্ ভুশুণ্ডি রামায়ণের শ্রীরাম-সহস্রনাম থেকে একটা অংশ উদ্ধৃত করি, ব্যাখ্যায় পর...
23/08/2026

#শ্রীরামের_মৃগয়া ও #দুর্গাপূজা
আগে শ্রীমদ্ ভুশুণ্ডি রামায়ণের শ্রীরাম-সহস্রনাম থেকে একটা অংশ উদ্ধৃত করি, ব্যাখ্যায় পরে আসব।

কৈকেয়ীপ্রণনির্মাতা বীতরাজ্যো বনালয়ঃ ।
চিত্রকূটপ্রিয়স্থানো মৃগয়াচারতৎপরঃ ॥ ৩১॥

কিরাতবেষঃ ক্রূরাত্মা পশুমাংসৈকভোজনঃ ।
ফলপুষ্পকৃতাহারঃ কন্দমূলনিষেবণঃ ॥ ৩২॥

পয়োব্রতো বিধানজ্ঞঃ সদ্ধর্মপ্রতিপালকঃ ।
গদাধরো যজ্ঞকর্ত্তা শ্রাদ্ধকর্তা দ্বিজার্চকঃ ॥ ৩৩॥

পিতৃভক্তো মাতৃভক্তো বন্ধুঃ স্বজনতোষকৃৎ ।
মৎস্যঃ কূর্মো নৃসিংহশ্চ বরাহো বামনস্তথা ॥ ৩৪॥

রঘুরামঃ পরশুরামো বলরামো রমাপতিঃ ।
রামলিঙ্গস্থাপয়িতা শিবভক্তিপরায়ণঃ/ পাঠান্তরে রুদ্রমাহাত্ম্যবর্ধনঃ ॥ ৩৫॥

চণ্ডিকার্চনকৃত্যজ্ঞঃ চণ্ডীপাঠবিধানবিৎ ।
অষ্টমীব্রতকর্মজ্ঞো বিজয়াদশমীপ্রিয়ঃ ॥ ৩৬॥

(অংশটি শ্রীমদ্ ভুশুণ্ডি রামায়ণের মূদ্রিত সংস্করণের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া)

প্রথম কথা পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং তিন-গুণের অতীত তথা তিন-গুণের আধার। সহস্রনামে ভগবান কে মৃগয়াচারতৎপর ও পশুমাংসৈকভোজন বলার মধ্যে কিরাতবেষ ও ক্রুরাত্মা বলা হয়েছে। সর্বময় তথা সর্বাতীত ভগবান কিরাতবেশ ধারণ করে ক্রুরাত্মা হতেই পারেন, কারণ সৃষ্টি-স্থিতি-লয় সমস্ত কিছুর কর্তাই তিনি। আবার মনুষ্যলীলায় ক্ষত্রিয়-রূপে তদনুরূপ ধর্মের পালনও তিনিই করেন। এই ধর্ম পালনে তিনি অশেষ কষ্টও বরণ করেন, ভীষণ যুদ্ধে রাবণ সংহারও করেন। তাঁর সমস্ত লীলা কি অন্যের অনুকরণীয়???? তা তো নয়। আবার আমি নিজে নির্দিষ্ট গুণে আবদ্ধ বলে অনন্তলীল ভগবান তা হবেন, তেমনটাও নয়।

অতএব, দক্ষিণ-বাম-অতিবাম সব পথই তাঁর পথ, যিনি যে পথে তাঁর লীলামাধুরী আস্বাদন করবেন, তিনি তদনুরূপ স্বাদ পাবেন।

অতএব, যিনি দয়াধর্মাশ্রয়ী সাত্ত্বিক সাধন পথ অবলম্বন করবেন, শ্রীভগবান তাঁর ও সেই পথের জন্য অবশ্যই তদ্রূপ। তা ছাড়া এমনিতেও দয়া পরম ধর্ম, সকলেরই পালনীয় শ্রেষ্ঠতম গুণ। কিন্তু বিচারে অপরম ধর্ম বা দোষ যদি কিছু থাকেও বা, ভগবান তারও আধার, তারও উৎস। কারণ তিনিই সব।

এবার আসি দ্বিতীয় প্রসঙ্গে। নরলীলায় সর্বজীবের পিতা স্বয়ং ভগবান যেমন নিত্য নিজ-পিতার পুত্রত্ব স্বীকার করেন, তেমনই নরলীলা-বিলাসী ভগবানের আরাধ্য দেবতাও থাকেন (নইলে আর তা নরলীলা হয় কি করে?)। এখন ভগবানের আরাধ্য কে হবেন??? ভগবান হরির সাক্ষাৎ আত্মস্বরূপ হর‌ ব্যতীত অন্য কে হবেন??? তাই হরি ও হর উভয়েরই পরস্পরের আরাধনা, উপাসনা শাস্ত্রে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রেও ঠিক তাই। শ্রীরামের শিবারাধনার কথা রয়েছে এই সহস্রনামে।

একই ভাবে শ্রীরামের দুর্গাপূজার উল্লেখও রয়েছে ৩৬তম শ্লোকে, তাতে শ্রীরামের পরত্বের কোনরূপ হানি হয় না। জগৎপিতা তো নিজেই আবার পিতা দশরথ মহারাজের প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র। ভুললে চলবে না যে শাস্ত্র টি কিন্তু ভুশুণ্ডি রামায়ণ, সম্পূর্ণরূপেই সীতারাম-পারম্যের শাস্ত্র। তাই ভগবান শিব বা ভগবতী দুর্গার (চণ্ডীর) অর্চনে পরমেশ্বর প্রভুর নরলীলার মাধুর্য নষ্ট নয়, বরং পুষ্ট হয়। তবে এই লীলায় যদি কারুর মনে পরমেশ্বরের‌ ঐশ্বর্য-বিষয়ে সংশয় জন্মায়, তবে সম্পূর্ণ ভুশুণ্ডি রামায়ণ রইলই তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য।

নারায়ণ যদি নর হতে না পারেন, তবে কি আর তাঁকে 'সর্ব'-শক্তিমান বলা যায়??? তবে কি আর তাঁকে এত আপন ভাবা যায়???

(প্রসঙ্গতঃ একটা কথা, শ্রীমদ্ বাল্মীকীয় রামায়ণের কোন কোন শ্লোক বিচ্ছিন্ন ভাবে না পড়ে সেই অংশটি সম্পূর্ণ নিজে পড়বেন।
এবং আশেপাশের তদ্সম্বন্ধীয় অন্যান্য তথ্যও সম্পূর্ণ রূপে পড়বেন।
দেখবেন অনেক বিষয়ের, অনেক অপব্যাখ্যার সঠিক উত্তর নিজেই পেয়ে যাবেন।)

শ্রীচিত্র : সংগৃহীত

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ যদুমল্লিকের বাটিতে আসিয়াছেন। আজ আষাঢ় কৃষ্ণ প্রতিপদ, রাত্রি জ্যোৎস্নাময়ী। যে ঘরে সিংহবাহিনী নিত্যসে...
22/08/2026

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ যদুমল্লিকের বাটিতে আসিয়াছেন। আজ আষাঢ় কৃষ্ণ প্রতিপদ, রাত্রি জ্যোৎস্নাময়ী। যে ঘরে সিংহবাহিনী নিত্যসেবা হচ্ছে ঠাকুর সেই ঘরে ভক্তসঙ্গে উপস্থিত হলেন। মা সচন্দন পূষ্প পুষ্পমালা দ্বারা অর্চিত হইয়া অপূর্ব শ্রী ধারণ করেছেন। সন্মূখে পুরোহিত উপবিষ্ট। প্রতিমার সন্মূখে ঘরে আলো জ্বলছে। সাঙ্গোপাঙ্গোদের মধ্যে একজনকে ঠাকুর টাকা দিয়ে প্রনাম করতে বললেন ; কেননা ঠাকুরের কাছে আসলেই কিছু প্রনামী দিতে হয়।

ঠাকুর সিংহবাহিনী সন্মূখে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। পশ্চাতে ভক্তগন হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। ঠাকুর অনেকক্ষণ ধরে দর্শন করছেন।

কি আশ্চর্য দর্শন করতে করতে একবারে সমাধিস্থ। প্রস্তরমূর্তির ন্যায় নিস্তব্ধভাবে দন্ডায়মান। নয়ন পলকশূন্য !

অনেকক্ষণ পর দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন। সমাধি ভঙ্গ হলো। যেন নেশায় মাতোয়ারা হয়ে বলছেন, মা আসি গো ! কিন্তু চলতে পারছেন না - সে একইভাবে দাঁড়িয়ে আছেন তখন রামলালকে বললেন তুমি ঐটি গাও - তবে আমি ভালো হব।

রামলাল গাইছেন, ভূবন ভুলাইলি মা হরমোহিনী । গান সমাপ্ত হলো২২। এইবার ঠাকুর বৈঠাকখানা ঘরে দিকে আসছেন ভক্তসঙ্গে। আসবার সময় মাঝে একবার বলছেন মা, আমার হৃদয়ে থাক মা।

শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত

শিরোনাম - 🕉️ এক নামের অপেক্ষায় ছিল মায়ের পরিচয়, শ্রাবণের শেষ সোমবারে পেলেন নতুন নাম—‘চ্যাটার্জী বাড়ির কালী মা’বাঁকুড়ার...
22/08/2026

শিরোনাম - 🕉️ এক নামের অপেক্ষায় ছিল মায়ের পরিচয়, শ্রাবণের শেষ সোমবারে পেলেন নতুন নাম—‘চ্যাটার্জী বাড়ির কালী মা’

বাঁকুড়ার খাঁড়ারী গ্রামের মাটিতে বহু বছর ধরে চলে আসছে এক পারিবারিক কালী আরাধনার ধারা। এই পুজোর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক প্রজন্মের স্মৃতি।

পরিবারের প্রবীণদের কাছ থেকে জানা যায়, তাঁদের প্রথম পুরুষের হাত ধরে একসময় এই কালীপুজোর সূচনা হয়েছিল। প্রথম পুরুষ তিন বছর পুজো করার পর পরবর্তী প্রজন্মের হাতে সেই দায়িত্ব যায়। তাঁরাও তিন বছর করে মায়ের আরাধনা করেন। এইভাবে কয়েক প্রজন্ম ধরে পুজো চলার পর একসময় নানা কারণে সেই পুজো বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৭ সালে আবার নতুন করে শুরু হয় এই কালীপুজো। তারপর থেকে নিয়মিতভাবেই চলে আসছে মায়ের আরাধনা।

কিন্তু এতদিন একটি প্রশ্ন থেকেই গিয়েছিল—এই মাকে মানুষ কোন নামে চিনবে?

দীর্ঘদিনের সেই ভাবনার অবসান ঘটিয়ে শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার, পূর্ণ তিথিতে মায়ের নামকরণ করা হয়েছে—

🕉️ ‘চ্যাটার্জী বাড়ির কালী মা’ 🕉️

পরিবারের বক্তব্য, এই নামের মধ্যে রয়েছে তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি, পারিবারিক পুজোর ঐতিহ্য এবং খাঁড়ারী গ্রামের সঙ্গে মায়ের দীর্ঘ সম্পর্ক।

মাকে ঘিরে স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে বেশ কিছু বিশেষ অভিজ্ঞতার কথাও প্রচলিত রয়েছে। বলিদানের সময় মায়ের বাম দিকের উপরের হাতে থাকা খড়্গকে ঘিরে কম্পন অনুভূত হওয়ার দাবি যেমন রয়েছে, তেমনই অমাবস্যার রাতে নূপুরের মতো শব্দ শোনার কথাও কেউ কেউ জানিয়েছেন। আবার চণ্ডীপাঠের সময় মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে এক বিশেষ অনুভূতি হওয়ার কথাও ভক্তদের মুখে শোনা যায়।

এসব অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রত্যেকের নিজস্ব মত থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই মাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভক্তি, বিশ্বাস এবং আবেগ দীর্ঘদিনের।

আজ সেই পারিবারিক ঐতিহ্যই পেল একটি নির্দিষ্ট পরিচয়।

‘চ্যাটার্জী বাড়ির কালী মা’—খাঁড়ারী গ্রাম, বাঁকুড়া।

একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের পুজো থেকে একটি নতুন পরিচয়ের পথচলা—আজ থেকে সেই নামেই মাকে চিনুক আগামী প্রজন্ম।

🙏 জয় মা কালী। 🙏
স্থান: খাঁড়ারী গ্রাম, বাঁকুড়া
পুনরায় পুজোর সূচনা: ২০০৭ সাল
নামকরণ: শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার, পূর্ণ তিথি

~   #মন্ত্রসিদ্ধিপ্রদ_মহাদুর্গা_শতনামস্তোত্রম্ ~( মুণ্ডমালাতন্ত্রান্তর্গতম্ চতুর্থে পটলে শ্লোকাঃ ১০-২৪ )ওঁ দুর্গা ভবানী ...
21/08/2026

~ #মন্ত্রসিদ্ধিপ্রদ_মহাদুর্গা_শতনামস্তোত্রম্ ~

( মুণ্ডমালাতন্ত্রান্তর্গতম্ চতুর্থে পটলে শ্লোকাঃ ১০-২৪ )

ওঁ দুর্গা ভবানী দেবেশী বিশ্বনাথপ্রিয়া শিবা ।
ঘোরদংষ্ট্রাকরালাস্যা মুণ্ডমালাবিভূষিতা ॥ ১॥

রুদ্রাণী তারিণী তারা মাহেশী ভববল্লভা ।
নারায়ণী জগদ্ধাত্রী মহাদেবপ্রিয়া জয়া ॥ ২॥

বিজয়া চ জয়ারাধ্যা শর্বাণী হরবল্লভা ।
অসিতা চাণিমাদেবী লঘিমা গরিমা তথা ॥ ৩॥

মহেশশক্তির্বিশ্বেশী গৌরী পর্বতনন্দিনী ।
নিত্যা চ নিষ্কলঙ্কা চ নিরীহা নিত্যনূতনা ॥ ৪॥

রক্তা রক্তমুখী বাণী বস্তুয়ুক্তাসমপ্রভা ।
যশোদা রাধিকা চণ্ডী দ্রৌপদী রুক্মিণী তথা ॥ ৫॥

গুহপ্রিয়া গুহরতা গুহবংশবিলাসিনী ।
গণেশজননী মাতা বিশ্বরূপা চ জাহ্নবী ॥ ৬॥

গঙ্গা কালী চ কাশী চ ভৈরবী ভুবনেশ্বরী ।
নির্মলা চ সুগন্ধা চ দেবকী দেবপূজিতা ॥ ৭॥

দক্ষজা দক্ষিণা দক্ষা দক্ষয়জ্ঞবিনাশিনী ।
সুশীলা সুন্দরী সৌম্যা মাতঙ্গী কমলাত্মিকা ॥ ৮॥

নিশুম্ভনাশিনী শুম্ভনাশিনী চণ্ডনাশিনী ।
ধূম্রলোচনসংহারী মহিষাসুরমর্দিনী ॥ ৯॥

উমা গৌরী করালা চ কামিনী বিশ্বমোহিনী ।
জগদীশপ্রিয়া জন্মনাশিনী ভবনাশিনী ॥ ১০॥

ঘোরবক্ত্রা ললজ্জিহ্বা অট্টহাসা দিগম্বরা ।
ভারতী স্বরগতা দেবী ভোগদা মোক্ষদায়িনী ॥ ১১॥

ইত্যেবং শতনামানি কথিতানি বরাননে ।
নামস্মরণমাত্রেণ জীবন্মুক্তো ন সংশয়ঃ ।
পঠিত্বা শতনামানি মন্ত্রসিদ্ধিং লভেৎ ধৃবম্ ॥ ১২॥

ইতি মন্ত্রসিদ্ধিপ্রদমহাদুর্গাশতনামস্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ।

21/08/2026

ভাদ্র মাস ও মনসার পূজার মাস
নাগমাতা, বিষহরি, দেবী তুমি মনসা,
তোমার ওই শান্ত রূপেই জাগে মনে ভরসা।
মাথায় তোমার সাপের ছত্র, পায়ে হংসের ভেলা,
সখীদের মাঝে হাসিমুখে করছ মাগো খেলা।

ওঁ আগচ্ছ মনসে দেবি গৌরি ত্বং সর্পরূপিণি ।
গৃহাণ মে পূজামেতাং কৃপয়া সুস্থিরা ভব ॥
ওঁ বিষহরি ইহাগচ্ছ সান্নিধ্যমিহ কল্পয় ।
যজ্ঞভাগান্ গৃহাণ ত্বং যোগিনীকোটিভিঃ সহ ॥

শ্রীকৃষ্ণভগিনী ভগবতী শ্রীশ্রী একানংশা 🪷জগামাথ ততো বিষ্ণুঃ পাতালং যত্র তক্ষকঃ।ষড়্গর্ভাঃ সংযতাঃ সন্তি জলে গর্ভগৃহেষ্বয়াঃ...
20/08/2026

শ্রীকৃষ্ণভগিনী ভগবতী শ্রীশ্রী একানংশা 🪷
জগামাথ ততো বিষ্ণুঃ পাতালং যত্র তক্ষকঃ।
ষড়্গর্ভাঃ সংযতাঃ সন্তি জলে গর্ভগৃহেষ্বয়াঃ॥
সন্দদর্শ জলে সুপ্তান্ ষড়্গর্ভান্ গর্ভসংস্থিতান্।
নিদ্রয়া কালরূপিণ্যা সর্বানন্তর্হিতান্ স বৈ॥
স্বপ্নরূপেণ তেষাং বৈ বিষ্ণুর্দেহানথাবিশৎ।
প্রাণেশ্বরাংশ্চ নিষ্কৃষ্য নিদ্রায়ৈ প্রদদৌ তদা॥
তাং চোবাচ ততো নিদ্রাং বিষ্ণুঃ সত্যপরাক্রমঃ।
গচ্ছ নিদ্রে ময়োৎসৃষ্টা দেবকীভবনান্তিকম্॥
ইমান্ প্রাণেশ্বরান্ গৃহ্য ষড়্গর্ভান্ দানবোত্তমান্।
ষড়্গর্ভান্ দেবকীগর্ভে যোজয়স্ব যথাক্রমম্॥
জাতেষ্বেতেষু গর্ভেষু নীতেষু চ যমক্ষয়ম্।
কংসস্য বিফলে যত্বে দেবক্যাঃ সফলশ্রমে॥
প্রসাদং তে করিষ্যামি মৎপ্রভাবসমং ভুবি।
যেন সর্বস্য লোকস্য দেবি দেবী ভবিষ্যসি॥
সপ্তমো দেবকীগর্ভো যোগীশঃ সৌম্যো মমাগ্রজঃ।
সংসংক্রাময়িতব্যস্তে সপ্তমে মাসি রোহিণীম্॥
সঙ্কর্ষণাত্তু গর্ভস্য স তু সঙ্কর্ষণো যুবা।
ভবিষ্যত্যগ্রজো ভ্রাতা মম শীতাংশুদর্শনঃ॥
পতিতো দেবকীগর্ভঃ সম্মোদয়ং ভয়াদিতি।
অষ্টমে ময়ি গর্ভস্থে কংসো যত্নং করিষ্যতি॥
যা তু সা নন্দগোপস্য দয়িতা ভুবি বিশ্রুতা।
যশোদা নাম ভদ্রং তে ভার্যা গোপকুলোদ্বহা॥
তস্যাস্ত্বং নবমো গর্ভঃ কুলে’স্মাকং ভবিষ্যসি।
নবম্যামেব সঞ্জাতা কৃষ্ণপক্ষস্য বৈ তিথৌ॥
অহং ত্বভিজিতো যোগে নিশায়াং যৌবনে স্থিতে।
অর্ধরাত্রে করিষ্যামি গর্ভমোক্ষং যথাসুখম্॥
অষ্টমস্য তু মাসস্য জাতাবাবাং ততঃ সমম্।
প্রাপ্স্যাবো গর্ভব্যত্যাসং প্রাপ্তে কংসস্য নাশনে॥
অহং যশোদাং যাস্যামি ত্বং দেবি ভজ দেবকীম্।
আবয়োরর্ভিসংযোগে কংসো গচ্ছতু মূঢ়তাম্॥
ততস্ত্বাং গৃহ্য চরণে শিলায়াং পাতয়িষ্যতি।
নিরস্যমানা গগনে স্থানং প্রাপ্যসি শাশ্বতম্॥
মচ্ছবীসদৃশী কৃষ্ণা সঙ্কর্ষণসমাননা।
বিভ্রতী বিপুলৌ বাহূ মম বাহূপমৌ দিবি॥
ত্রিশিখং শূলমুদ্যম্য খড়্গং চ কনকৎসরম্।
পাত্রিং চ পূর্ণাং মধুনা পঙ্কজং চ সুনির্মলম্॥
নীলকৌশেয়সংবীতা পীতেনোত্তরবাসসা।
শশিরশ্মিপ্রকাশেন হারেণোরসি রাজতা॥
দিব্যকুণ্ডলপূর্ণাভ্যাং শ্রবণাভ্যাং বিভূষিতা।
চন্দ্রসাপত্নভূতেন মুখেন ত্বং বিরাজিতা॥

ভগবান বিষ্ণু পাতাললোকে গমন করলেন, যেখানে ‘ষড়গর্ভ’ নামক অসুরেরা সংযমী হয়ে জলের ভেতরে গর্ভগৃহে শয়ন করছিলেন। তিনি দেখলেন, সমস্ত ‘ষড়গর্ভ’ নামক দৈত্যেরা কালরূপিণী নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে জলের ভেতরের গর্ভগৃহে ঘুমিয়ে রয়েছে। তখন ভগবান বিষ্ণু সূক্ষ্ম রূপে তাঁদের শরীরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁদের জীবাত্মাগুলিকে আকর্ষণ করে নিদ্রার অধিষ্ঠাত্রী দেবীর হাতে তুলে দিলেন।
​অতঃপর সত্যপরাক্রমশালী ভগবান বিষ্ণু সেই নিদ্রাদেবীকে বললেন—‘হে নিদ্রে! তুমি আমার প্রেরণায় এই জীবগুলোকে নিয়ে দেবকীর গৃহের নিকট গমন করো। এরা সকলেই ‘ষড়গর্ভ’ নামের শ্রেষ্ঠ দানব। এই সমস্ত ষড়গর্ভদের তুমি পর পর দেবকীর গর্ভে সংস্থাপিত করতে থাকো। যখন এরা জন্ম লাভ করে কংসের দ্বারা যমলোকে প্রেরিত হবে—অর্থাৎ যখন কংসের প্রচেষ্টা বিফল হবে এবং দেবকীর পরিশ্রম সফল হবে, তখন আমি তোমার ওপর বিশেষ কৃপা করব। হে দেবী! সেই সময় থেকে মর্ত্যলোকে তোমার প্রভাব আমার প্রভাবের সমানই হয়ে যাবে, যার ফলে তুমি সমগ্র জগতের আরাধ্য দেবী হয়ে উঠবে।
​দেবকীর যে সপ্তম গর্ভ হবে, তা আমারই এক সৌম্য অংশ হবে এবং আমার আগে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে সে হবে আমার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। সেই গর্ভ যখন সাত মাসের হবে, তখন সেই সপ্তম মাসেই তুমি তাকে আকর্ষণ করে রোহিণীদেবীর গর্ভে সংস্থাপিত করে দেবে। গর্ভ আকর্ষিত হওয়ার কারণে সেই তরুণ বীর ‘সংকর্ষণ’ নামে প্রসিদ্ধ হবেন; তিনি চন্দ্রের মতো সুশোভিত হবেন এবং আমার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হবেন।’ সেই সময় সবাই এটাই বলবে যে, ‘দেবকীর সপ্তম গর্ভ কংসের ভয়ে নষ্ট হয়ে গেছে ।’ তারপর অষ্টম শিশু হিসেবে আমি যখন গর্ভে আসব, তখন কংস আমাকেও মারার চেষ্টা করবে। হে দেবী! তোমার কল্যাণ হোক; এই মুহূর্তে মর্ত্যলোকে ‘যশোদা’ নামে বিখ্যাত নন্দগোপের প্রিয় পত্নীই হলেন গোপকুলের স্বামিনী । তুমি তাঁরই নবম গর্ভ হিসেবে আমাদের কুলে জন্মগ্রহণ করবে। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতেই তোমার জন্ম হবে।
রাত্রি যখন গভীর হবে, সেই মধ্যরাতে অভিজিৎ মুহূর্তের শুভ যোগে আমি অত্যন্ত সুখে গর্ভবাস ত্যাগ করব । আমরা ভাই-বোন দুজনেই গর্ভের অষ্টম মাসে জন্ম নেব। তারপর কংসের ভাবী বিনাশের হেতু উপস্থিত হলে, আমরা উভয়ে একই সাথে স্থানান্তরিত বা পরিবর্তিত হয়ে যাব। হে দেবী! আমি মাতা যশোদার কাছে পৌঁছে যাব এবং তুমি দেবকীর আশ্রয় গ্রহণ করবে। আমাদের এই পারস্পরিক পরিবর্তনের রহস্য সম্পর্কে কংস যেন সম্পূর্ণ মূঢ় বা অজ্ঞই থেকে যায়।
এরপর কংস তোমার পা দুটি ধরে তোমাকে শিলাতলে আছড়ে মারতে চাইবে, কিন্তু তুমি তার হাত থেকে ফস্কে উঠে আকাশে নিজের স্থান লাভ করবে। তোমার অঙ্গকান্তি আমারই রূপের মতো শ্যামবর্ণের হবে, কিন্তু মুখমণ্ডল দাদা সংকর্ষণের মতো হবে। তুমি আকাশে আমার বাহুর মতোই উভয় পাশে দুটি করে মোট চারটি বলশালী বাহু ধারণ করবে। চার হাতে তিনটি ত্রিশূল, সোনার হাতলযুক্ত খড়্গ, মধিপূর্ণ পাত্র এবং অত্যন্ত নির্মল পদ্ম ধারণ করে সুশোভিত হবে।
তোমার শ্রীঅঙ্গে নীল রঙের রেশমি বস্ত্র শোভা পাবে এবং তুমি রেশমি পীতাম্বরি চাদর জড়িয়ে থাকবে। তোমার বক্ষস্থলে চন্দ্রকিরণের মতো উজ্জ্বল শুভ্র হার শোভা পেতে থাকবে। দিব্য কুণ্ডলে মণ্ডিত কান দুটি তোমাকে অলঙ্কৃত করবে এবং চাঁদের শোভাকেও হরণকারী তোমার মনোরম মুখমণ্ডলের মাধ্যমে তুমি অত্যন্ত শোভাময়ী হয়ে উঠবে।

কংসস্য পুরতো ন্যস্তা পৃথিবী্যাং পৃথিবীসমা।
স চৈনাং গৃহ্য পুরুষঃ খমাভিধ্যাবধূয় চ।।
উদ্যচ্ছন্নেব সহসা শিলায়াং সমপোথয়ৎ।
সাবধূতা শিলাপৃষ্ঠেঽনিষ্পিষ্টা দিবমুৎপতৎ।।
হিত্বা গর্ভতনুং সা তু সহসা মুক্তমূর্ধজা।
জগাম কসমাদিশ্য দিব্যস্রগনুলেপনা।।
হারশোভিতসর্বাঙ্গী মুকুটোজ্জ্বলভূষিতা।
কন্যৈব সাভবন্নিত্যং দিব্যা দেবৈরভিষ্টুতা।।
নীলপীতাম্বরধরা গজকুম্ভোপমস্তনী।
রথবিস্তীর্ণজঘনা চন্দ্রবক্ত্রা চতুর্ভূজা।।
বিদ্যুদ্বিস্পষ্টবর্ণাভা বালার্কসদৃশেক্ষণা।
পয়োধরস্তনবতী সংধ্যেব সপয়ো ধরা।।
সা বৈ নিশি তমোগ্রস্তে বভৌ ভূতগণাকুলে।
নৃত্যতী হসতী চৈব বিপরীতেন ভাস্বতী।।
বিহায়সি গতা রৌদ্রা পপৌ পানমনুত্তমম্।
জহাস চ মহাহাসং কংসং চ রুষিতাব্রবীৎ।।

কংসের সামনে মাটিতে ফেলে রাখা সেই কন্যা দেবী পৃথিবীর মতোই অচলা মনে হচ্ছিল। কিন্তু পুরুষশ্রেষ্ঠ কংস তাকে ধরে শূন্যে ঘুরিয়ে আছাড় দেওয়ার জন্য সজোরে হাত উঠাল।সে তাকে হঠাৎ শিলাখণ্ডে আছাড় মারল। কিন্তু শিলার ওপর আছাড় খেয়েও চূর্ণ-বিচূর্ণ না হয়ে দেবী অলৌকিকভাবে আকাশে উঠে গেলেন।দেবী স্বীয় গর্ভজ মানবদেহ ত্যাগ করে মুক্তকেশী রূপ ধারণ করলেন। দিব্য মালা ও অনুলেপনে ভূষিতা হয়ে কংসকে নির্দেশ দিয়ে আকাশে অবস্থান করলেন।তাঁর সর্বাঙ্গ রত্নহারে শোভিত এবং মাথা উজ্জ্বল মুকুটে অলঙ্কৃত ছিল। তিনি চিরকুমারী, অলৌকিক সৌন্দর্যময়ী দেবী হিসেবে প্রকটিত হলেন, যাঁকে দেবতারা স্তব করছিলেন।তিনি নীল ও পীত রঙের বস্ত্র পরিধান করেছিলেন। তিনি গজকুম্ভের ন্যায় স্তনযুক্তা, রথের মতো বিশাল নিতম্ববিশিষ্টা, চন্দ্রের ন্যায় সুন্দরী এবং চতুর্ভুজা দেবী রূপ ধারণ করেছিলেন।তাঁর দেহের কান্তি বিদ্যুতের মতো জ্বলজ্বলে এবং চোখ দুটি উদীয়মান সূর্যের মতো রক্তিম ও উজ্জ্বল ছিল। মেঘযুক্ত সন্ধ্যা গগনের মতো তিনি মহিমাময়ী রূপ ধারণ করেছিলেন।ভূত ও অলৌকিক সত্তায় আচ্ছন্ন সেই ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন রাতে দেবী অট্টহাস্য ও নৃত্য করতে করতে কংসের বিনাশকারী এক প্রচণ্ড তেজে দীপ্তি পাচ্ছিলেন।আকাশে অবস্থান করে সেই রৌদ্ররূপিণী দেবী উত্তম পানীয় পান করলেন। তিনি বিকট মহাহাস্যে হেসে উঠলেন এবং অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে কংসকে আদেশ জানিয়ে বাণী প্রদান করলেন।

তথ্যসূত্র: হরিবংশ পুরাণ
© Chandimandap - চণ্ডীমণ্ডপ

19/08/2026

কেমন লাগল মনসা পুজা মহাসপ্তাহ ?
বলুন comment এ

যিনি ভগবতী মনসা, তিনিই ভগবতী দুর্গা....পদ্মার সহিত বাদ করি বারেবার।সেই পদ্মা করিলেন বাদের উদ্ধার।। এতেক শুনিয়া চান্দর বি...
19/08/2026

যিনি ভগবতী মনসা, তিনিই ভগবতী দুর্গা....
পদ্মার সহিত বাদ করি বারেবার।
সেই পদ্মা করিলেন বাদের উদ্ধার।।
এতেক শুনিয়া চান্দর বিরস বদন।
চান্দরে ডাকিয়া চন্ডী বলিল তখন।।
পদ্মাবতী পূজা কর চান্দ সদাগর।
একই মূর্তি দেখ সব না ভাবিও পর।।
যেই জন দেখ বিষ্ণু সেই মহেশ্বর।
কুবের বরুণ দেখ চন্দ্র দিবাকর।।
যেই জন ভগবতী সেই বিষহরী।
পদ্মার প্রসাদে আমি ভবসিন্ধু তরি।।
দক্ষিণ হস্তে পূজি আমি ত্রিশ কোটি দেবা।
বাম হস্তে দিব পুষ্প মার্গে দিব সেবা।।
পদ্মা দুর্গা সম দেখি নয়ন গোচর।
তবে সে পূজিব পদ্মা বলিল সত্বর।।
এক রথে পদ্মা দুর্গা অন্তরীক্ষে স্থিতি।
দুইজন দেখে চান্দ একই মূরতি।।
দোঁহার সমান বেশ দেখিয়া তখন।
চিনিতে না পারে চান্দ পদ্মা কোন জন।।
দক্ষিণেতে দশভুজা বামে পদ্মাবতী।
করযোড় করি চান্দ করিলে মিনতি।।
এমন মূরতি আমি কভু দেখি নাই।
এতকাল মোরে কেন না বলিলা আই।।
যেই মুখে বলিয়াছি লঘুজাতি কানি।
সেই মুখে ভস্ম দেও জগত জননী।।
পূজিতে প্রতিজ্ঞা করে চান্দ সদাগর।
হরিষ হইল বড় পদ্মার অন্তর।। 🌺

শ্রী শ্রী পদ্মাপুরাণ উত্তর খন্ড।।
(বিজয় গুপ্ত)
Credit - আকাশ

Address

Krishnagar City
741101

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পৌরাণিক ইতিহাস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share