পৌরাণিক ইতিহাস

পৌরাণিক ইতিহাস IN THE HISTORY AND THE UNKNOWN WORLD OF HINDU MYTHOLOGY mythic history
(1)

বিধিজায়া শারদা সরস্বতীর বিভিন্ন বাহন: পর্ব ৪• সিংহবাহিনী ব্রহ্মাপত্নী সরস্বতীব্রহ্মাপত্নী সরস্বতীর বাহন সিংহ তাঁহার অগ্র...
23/05/2026

বিধিজায়া শারদা সরস্বতীর বিভিন্ন বাহন: পর্ব ৪
• সিংহবাহিনী ব্রহ্মাপত্নী সরস্বতী

ব্রহ্মাপত্নী সরস্বতীর বাহন সিংহ তাঁহার অগ্রজ ভ্রাতা ভগবান শিব নিজেই কিন্তু ভগবান শিব কেন সিংহ রূপ ধরিয়া ব্রহ্মাপত্নী শারদাম্বার বাহন হইলেন? এই বিষয়ে শৃঙ্গেরী শ্রীজগদ্গুরু শ্রীসচ্চিদানন্দ শিবাভিনবনৃসিংহভারতী স্বামী বিরচিত শ্রীশারদাস্তোত্রে বলা হইয়াছে :-

ভক্তাজ্ঞানমহেন্ভা মদ্বাহনসন্নিবীক্ষণাদেব।
নির্যন্ত্বিতি সহসা কিং সিংহং বাহং করোষি মাতস্ত্বম্ ॥ ৪৭॥

হে মাতঃ! আপনি কি সিংহকে আপনার বাহন এইজন্য করিয়াছেন যাহাতে আপনার ভক্তগণের 'অজ্ঞান' রূপী মদমত্ত হস্তী আপনার বাহন সিংহকে দর্শন করিবামাত্রই ভীত হইয়া পলায়ন করে?

হস্তী সিংহকে ভয় পায়। কবি কল্পনা করিতেছেন যে আমাদের অন্তরে যে অজ্ঞানের অন্ধকার রহিয়াছে, তাহা এক বিশাল হস্তীর সমান। মা শারদা জ্ঞানের দেবী, এবং তাঁহার সিংহ সাক্ষাৎ তেজের প্রতীক, যাহা ভক্তের হৃদয় হইতে অজ্ঞান রূপী হস্তীকে অবিলম্বে বিতাড়িত করে।

লালয়তি বাণি কিং ত্বাং পঞ্চাস্যঃ স্কন্ধমারোপ্য।
যুক্তমিদং ভ্রাতৃণাং সোদর্যলালনং লোকে ॥ ৪৮॥

হে সরস্বতী! এই সিংহ কি আপনাকে স্বীয় স্কন্ধে আরোহণ করাইয়া আদর-সোহাগ করিতেছে? সংসারে ভ্রাতৃগণ কর্তৃক নিজ ভগিনীকে এইরূপ স্নেহ-লালন করা অত্যন্তই যুক্তিযুক্ত।

এখানে ‘পঞ্চাস্য’ (সিংহ)-কে প্রতীকি রূপে শিবের রূপ মানা হইয়াছে। শাস্ত্রানুসারে দেবী শারদাকে শিবের কনিষ্ঠা ভগিনী বলা হইয়াছে। কবি বলিতেছেন যে সিংহের উপর মাতার সওয়ার হওয়া এরূপ প্রতীত হইতেছে যেন এক শক্তিশালী ভ্রাতা আপন প্রিয় ভগিনীকে গৌরবের সহিত নিজের স্কন্ধে বসাইয়া রহিয়াছেন।

বিষ্ণ্বর্ধত্বাৎ পালকত্বং মমাস্তে সংহর্তৃত্বং নৈজমেবাস্তি কিং তু।
স্রষ্টুর্ভাবো বাণি নাস্তীতি মত্বা তৎপ্রাপ্ত্যৈ ত্বাং সেবতে পঞ্চবক্ত্রঃ ॥ ৪৯॥

(সিংহের মাধ্যমে ভগবান শিবের বিচার) "বিষ্ণুর অর্ধাংশ হওয়ার কারণে আমাতে জগতের 'পালন' শক্তি রহিয়াছে এবং 'সংহার' তো আমার নিজস্ব স্বভাবই, কিন্তু হে বাণী! আমাতে 'সৃজন' (নির্মাণ) কলা নাই।" —ইহা মনে করিয়াই কি সেই সৃজন-শক্তি প্রাপ্ত হইবার নিমিত্ত তিনি আপনার সেবা করিতেছেন?

এখানে গভীর দার্শনিক অর্থ নিহিত রহিয়াছে। হরিহর রূপে শিবের বাম অংশে বিষ্ণু বিরাজমান। শিব সংহারের দেবতা, কিন্তু সরস্বতী অর্থাৎ জ্ঞান ব্যতিরেকে সৃজন সম্ভব নহে। এইজন্য সাক্ষাৎ শিবও মায়ের শরণাপন্ন হইয়াছেন যাহাতে তিনি সৃষ্টি রচনার সামর্থ্য লাভ করিতে পারেন।

তবাম্বরাভাবশশীয়শ‍ৃঙ্গনীকাশমধ্যত্বময়ং নিশম্য।
বলগ্নকার্শ্যাধ্যয়নায় কিং বা পদাব্জসেবাং বিদধাতি সিংহঃ ॥ ৫০॥

আপনার বস্ত্রের (অম্বর) সূক্ষ্মতা এবং চন্দ্রকলার ন্যায় আপনার অত্যন্ত ক্ষীণ (তনু) কটিদেশ বিষয়ে শ্রবণ করিয়া, সেই সিংহ কি আপনার ঐ কটিদেশের সূক্ষ্মতা ‘অধ্যয়ন’ করিবার নিমিত্ত আপনার চরণ-কমলের সেবা করিতেছে?

কবিগণ সিংহের কটিদেশকে অতিশয় ক্ষীণ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। মা শারদার কটিও অত্যন্ত সূক্ষ্ম। কবি উপমা দিতেছেন যে সিংহ ইহা দেখিতে আসিয়াছে যে মাতার কটিদেশ কি তাহার অপেক্ষাও অধিক সূক্ষ্ম। ইহা সৌন্দর্য বর্ণনার এক বিশিষ্ট শৈলী।

নতায় পাদাম্বুজয়োর্জনায় রাজাধিরাজত্ববিধিৎসয়া কিম্।
সিংহাসনং ত্বং বদ দাতুমম্ব সিহং সদা সন্নিধিগং করোষি ॥ ৫১॥

হে মাতঃ! আপনার চরণে প্রণত সাধারণ ভক্তগণকে 'রাজাধিরাজ' (সম্রাট) বানাইবার ইচ্ছায়, তাঁহাদিগকে 'সিংহাসন' (সিংহ রূপী আসন) দান করিবার নিমিত্তই কি আপনি সিংহকে সর্বদা নিজের নিকটে রাখিয়াছেন?

যে মা শারদার শরণে আসে, সে জ্ঞানের সম্রাট হইয়া যায়। 'সিংহাসন' শব্দের অর্থ হইল সিংহের উপর স্থাপিত আসন। কবি বলিতেছেন যে মা নিজের নিকটে সিংহ এইজন্যই রাখেন যাহাতে ভক্তকে অবিলম্বে সম্রাট পদ (সিংহাসন) প্রদান করা সম্ভব হয়।

বনে জাতঃ সিংহঃ পুনরপি দরীবাসনিরতঃ স্বসাম্যং যত্র স্যাৎ সততবসতিং তৎপরিসরে।
চিকীর্ষনভ্রান্ত্যা কিং তব পদবনেজে নতমনো গুহাবাসে দৃষ্ট্বা বসতিমকরোত্তৎপরিসরে ॥ ৫২॥

বনে জাত এবং গুহায় (দরী) বাসের অভ্যস্ত এই সিংহ, নিজের সদৃশ পরিবেশ অন্বেষণ করিতে করিতে কি আপনার চরণ-কমলের সমীপে আসিয়া গিয়াছে? ভক্তের হৃদয় রূপী 'গুহায়' আপনার নিবাস দর্শন করিয়া কি সে ভ্রমবশত ইহাকেই নিজের গুহা মনে করিয়া লইয়াছে?

ভক্তের হৃদয় এক গুহার (হৃদয়-গুহা) সমান যেখানে ঈশ্বর বাস করেন। সিংহের মনে হইয়াছে যে মা যেখানে রহিয়াছেন, তাহাও কোনো দিব্য গুহা, এইজন্য সে সেখানেই বসবাস শুরু করিয়াছে।

নাথস্যাপি মমানিবেদ্য হরিণঃ সেবাং কথং প্রাতনোদ্-বাদ্দেব্যাশ্চরণাব্জয়োরিতি রুষা সারঙ্গবালং ভূশম্।
কৃত্বা শীঘ্রপলায়নোৎসবপরং সেবাং করোত্যাদরাদ্-দৃশ্যেশঃ স্বয়মিত্যবৈমি করুণাবারান্নিধে শারদে ॥ ৫৩॥

সিংহ ভাবিছে "আমার অধিপতি হওয়া সত্ত্বেও এই হরিণ আমাকে না জানাইয়া বাগদেবীর চরণের সেবা কিরূপে আরম্ভ করিল?" এই ক্রোধে আবিষ্ট হইয়া কি সেই সিংহ ঐ হরিণকে সেখান হইতে বিতাড়িত করিবার জন্য এবং স্বয়ং আপনার আদরের সহিত সেবা করিবার নিমিত্ত তথায় আসিয়াছে? হে করুণার সাগর শারদে! আমার নিকট এরূপই প্রতীত হইতেছে।

পূর্ববর্তী শ্লোকগুলিতে সরস্বতীর বাহন রূপে হরিণের বর্ণনা ছিল যাহার চর্চা আমরা পরে করিব। এখানে কবি বলিতেছেন যে সিংহ (বনের রাজা) ইহা দেখিতে আসিয়াছে যে তাহার প্রজা (হরিণ) তাহার পূর্বে মায়ের শরণে কিরূপে পৌঁছিল। ইহা ঈশ্বরের শরণ প্রাপ্তি লাভের এক সুন্দর প্রতিযোগিতার বর্ণনা।

ভজে শারদাম্বামজস্রং মদম্বাম্!

এই লীলা কথা ঠিক একটা নির্জন জায়গায় গিয়ে শ্রবণ করুন। একমন ও নিষ্ঠা দিয়ে যদি লীলা কথাটা পড়েন আমার মনে হয় রাধারানী ও ...
23/05/2026

এই লীলা কথা ঠিক একটা নির্জন জায়গায় গিয়ে শ্রবণ করুন। একমন ও নিষ্ঠা দিয়ে যদি লীলা কথাটা পড়েন আমার মনে হয় রাধারানী ও শ্রীকৃষ্ণ কে অনুভব করতে পারবেন।।
🙏♈♈♈♈
সূর্যগ্রহণের সেই মহামুহূর্ত…
সমস্ত ভারতবর্ষ তখন কুরুক্ষেত্রের দিকে ছুটে চলেছে। রাজা, ঋষি, যাদব, গোপ—সকলের হৃদয়ে এক অদ্ভুত আলোড়ন। কারণ সেখানে উপস্থিত হবেন শ্রীকৃষ্ণ।
কিন্তু সেই বাহ্যিক উৎসবের আড়ালে, দু’টি হৃদয়ে চলছিল এক শতাব্দীর দহন…
একদিকে দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণ, অন্যদিকে ব্রজধামে রাধারানী।
দ্বারকার রাজপ্রাসাদে সেদিন আর কোনও রাজকীয় জাঁকজমক যেন কৃষ্ণের মনে স্পর্শ করছিল না।
তিনি খবর পেয়েছেন—
ব্রজবাসীরা আসছেন…
গোপগোপীরা আসছেন…
আর তাদের সঙ্গে আসছেন তাঁর প্রাণপ্রিয়া, তাঁর হৃদয়েশ্বরী, রাধারানী।
এই সংবাদ শুনে কৃষ্ণের বুকের ভিতর যেন সমুদ্রের ঢেউ উঠল।
সেই যে বারো বছর বয়সে বৃন্দাবন ছেড়ে এসেছিলেন, তারপর আর কখনও দেখা হয়নি।
কত বছর কেটে গেছে…
মানুষের হিসাবে প্রায় একশো বছর।
সেই রাতে কৃষ্ণ ঘুমোতে পারলেন না।
রাজপ্রাসাদের জানালার ধারে বসে শুধু ভাবতেই লাগলেন—
“রাধা কেমন আছে এখন?
সে কি এখনও সেই কিশোরী?
তার মুখে কি বয়সের রেখা পড়েছে?
সে কি এখনও আমায় মনে রেখেছে?”
এদিকে রুক্মিণী, সত্যভামা এবং অন্যান্য মহিষীরা নানা রকম অলঙ্কার, চন্দন, প্রসাদ নিয়ে কৃষ্ণকে সাজাতে এলেন।
কিন্তু কৃষ্ণের মন কোথাও নেই।
তাঁর চোখে শুধু এক মুখ…
শুধু এক নাম…
রাধা…
ওদিকে বৃন্দাবনেও একই অবস্থা।
রাধারানী অষ্টসখীদের মাঝে বসে আছেন, অথচ তাঁর হৃদয় যেন কাঁপছে অবিরাম।
তিনি মনে মনে ভাবছেন—
“আমার কৃষ্ণ…
সে কি আমায় চিনতে পারবে?
আমি কি তার চোখের দিকে তাকাতে পারব?”
লজ্জায় তিনি বারবার নিজের মুখ দু’হাতে ঢেকে ফেলছেন।
কিন্তু তাঁর হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর গোপন কথা কেউ জানত না—
কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে যাওয়ার দিন রাধাকে বলেছিলেন
“রাধে, তুমি কেঁদো না…”
আর সেই দিন থেকে রাধারানী এক ফোঁটা চোখের জলও ফেলেননি।
কারণ তিনি ব্রহ্মাণ্ডেশ্বরী।
তিনি যদি কাঁদেন, তবে জগৎ কাঁদবে।
অবশেষে সূর্যোদয় হল।
সূর্যগ্রহণের পবিত্র দিন।
দ্বারকার বাইরে সুবর্ণ রথ প্রস্তুত।
ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি, অসংখ্য যাদব সেনা—সবাই অপেক্ষায়।
রুক্মিণী নিজের হাতে কৃষ্ণকে সাজিয়ে রথ পর্যন্ত নিয়ে এলেন।
পাশে বলরাম।
আর কৃষ্ণ রওনা দিলেন কুরুক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে।
ওদিকে ব্রজ থেকেও রওনা দিলেন রাধারানী ও তাঁর গোপীগণ।
দুই দিক থেকে দুই স্রোত এগিয়ে চলল…
দুই হৃদয় ধীরে ধীরে কাছে আসতে লাগল…
কুরুক্ষেত্রে পৌঁছে সবাই কৃষ্ণের দর্শনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
কিন্তু রাধারানী কারও সঙ্গে দেখা করলেন না।
তিনি একটি সুগন্ধি ফুলে সাজানো তাবুর ভিতরে অষ্টসখীদের সঙ্গে নীরবে বসে রইলেন।
বুকের ভিতর তাঁর ধপধপ করছে।
শত বছরের অপেক্ষা আজ শেষ হতে চলেছে।
এদিকে কৃষ্ণও যেন উন্মাদের মতো চারদিকে শুধু একজনকেই খুঁজছেন।
হঠাৎ কেউ এসে বলল—
“প্রভু… রাধারানী ওই তাবুর ভিতরে আছেন…”
এই কথা শুনে কৃষ্ণ আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করলেন না।
তিনি দ্রুত সেই তাবুর দিকে এগিয়ে গেলেন।
তাঁর বুক কাঁপছে…
শ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে…
প্রথমে তিনি ললিতা সখী ও বিশাখা সখী-র সঙ্গে দেখা করলেন।
তাঁদের অনুমতি নিয়ে ধীরে ধীরে তাবুর পর্দা সরালেন।
আর তারপর…
তিনি দেখলেন—
রাধারানী মুখ ফিরিয়ে বসে আছেন।
ঘোমটার আড়ালেও তাঁর শরীর থেকে যেন কোটি সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে।
কৃষ্ণের চোখ প্রথমে গিয়ে পড়ল রাধার চরণে।
সেই চরণ…
যে চরণে বৃন্দাবনের ধূলিও ধন্য হয়…
আর সেই চরণ দেখামাত্রই কৃষ্ণের চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরতে লাগল।
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন…
কাঁপা হাতে রাধার চরণ দু’টি নিজের হাতে তুলে নিলেন…
তারপর শিশুর মতো কাঁদতে লাগলেন।
মনে হচ্ছিল—
তিনি যেন নিজেকেই ক্ষমা করতে পারছেন না।
যেন রাধাকে একা ফেলে যাওয়ার অপরাধে তাঁর হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে।
তখন ধীরে ধীরে রাধারানী পিছন ফিরে তাকালেন।
দু’জনের চোখে চোখ পড়ল।
সেই মুহূর্তে যেন সময় থেমে গেল।
বাতাস থেমে গেল।
পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেল।
শুধু দু’টি চোখ কথা বলতে লাগল…
রাধা মৃদু কণ্ঠে বললেন—
“কানহা…
তুমি যা বলেছিলে, আমি তা পালন করেছি।
একশো বছর আমি কাঁদিনি…
আজ কি আমাকে অনুমতি দেবে?
আমি একটু কাঁদতে চাই…
একটু চোখের জল ফেলতে চাই…
আমার বুকের ভিতরটা হালকা করতে চাই…”
এই কথা শুনে কৃষ্ণ আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।
তিনি রাধাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
আর তারপর—
দু’জনেই কাঁদতে লাগলেন।
শত বছরের বিরহ,
অসংখ্য না বলা কথা,
অশেষ প্রেম—
সব মিলিয়ে সেই অশ্রু যেন সমগ্র সৃষ্টিকে ভাসিয়ে দিল।
সেদিন কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে যুদ্ধের ইতিহাস লেখা হয়নি…
সেদিন লেখা হয়েছিল প্রেমের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায়।
প্রেম সে বলো রাধে রাধে 🙏

নৌমী ভবা-বিলোচনাম্ মহিষোত্তমাঙ্গ-নিষেদুষীম্ ॥শঙ্খ-চক্র-কৃপাণ-খেটক-বাণ-কার্মুক-শূলকান্ ।তর্জনীম্ অপি বিভ্রতীং নিজ-বাহুভিঃ...
22/05/2026

নৌমী ভবা-বিলোচনাম্ মহিষোত্তমাঙ্গ-নিষেদুষীম্ ॥
শঙ্খ-চক্র-কৃপাণ-খেটক-বাণ-কার্মুক-শূলকান্ ।
তর্জনীম্ অপি বিভ্রতীং নিজ-বাহুভিঃ শশি-শেখরাম্ ॥ "আমি সেই দেবীকে প্রণাম করি যিনি অতসী পুষ্পের মতো উজ্জ্বল কান্তিবিশিষ্টা, রত্নখচিত কুণ্ডলে ভূষিতা, যাঁর কপালে জ্যোতির্ময় তৃতীয় নয়ন বিদ্যমান এবং যিনি মহিষাসুরের মস্তকের ওপর দণ্ডায়মান। তিনি তাঁর হস্তসমূহে শঙ্খ, চক্র, খড়্গ, ঢাল, ধনুক, বাণ এবং ত্রিশূল ধারণ করে আছেন এবং তর্জনী মুদ্রার মাধ্যমে সতর্কবাণী প্রদান করছেন—তিনি শশীশেখর মহাদেবের প্রিয়তমা পত্নী।"
দেবী হরচণ্ডীর মাহাত্ম্য:
দেবী হরচণ্ডী ওড়িশার (উৎকল) অন্যতম প্রধান শক্তি এবং শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সাথে যুক্ত অষ্টচণ্ডীর অন্যতম হিসেবে পূজিতা। তিনি অষ্টভূজা মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পরিচিত। পুরীর বালি সাহির নিকটে তাঁর মন্দির অবস্থিত এবং তাঁর প্রধান পীঠস্থান হলো ব্রহ্মগিরি।
এছাড়া শ্রীজগন্নাথ মন্দির চত্বরের ভোগমণ্ডপে এবং সিংহদ্বারের নিকটে ফতে হনুমানের সাথেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পীতবর্ণা , ত্রিনয়নী এই দেবী তাঁর হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক, বাণ, খড়্গ ও নাগপাশ ধারণ করেন। শিবপ্রিয়া বা হরপ্রিয়া নামে পরিচিত এই দেবী দৈব শক্তির প্রতীক। বিশেষ করে রজ সংক্রান্তি এবং শারদীয়া ষোড়শ পূজার সময় তাঁর আরাধনা অত্যন্ত সাড়ম্বরে আয়োজিত হয় ।

।। মঙ্গল চন্ডী ।।🔴♦মা মঙ্গলচণ্ডীর ধ্যান: যৈষা ললিতকান্তাখ্যা দেবী মঙ্গলচণ্ডিকা ।বরদাভয়হস্তা চ দ্বিভুজা গৌরদেহিকা ।রক্তপদ...
19/05/2026

।। মঙ্গল চন্ডী ।।
🔴♦মা মঙ্গলচণ্ডীর ধ্যান:
যৈষা ললিতকান্তাখ্যা দেবী মঙ্গলচণ্ডিকা ।
বরদাভয়হস্তা চ দ্বিভুজা গৌরদেহিকা ।
রক্তপদ্মাসনস্থা চ মুকুটোজ্জ্বলমণ্ডিতা ।
রক্তকৌষেয়বসনা স্মিতবক্ত্রা শুভাননা ।
নবযৌবনসম্পন্না চার্ব্বঙ্গী ললিতপ্রভা ।।
🔴 অর্থ - যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই দেবী মঙ্গলচণ্ডী।
🔴 দেবীমায়ের প্রণাম মন্ত্র :
ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বাথসাধিকে । শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে||
🔴 অর্থ :
ॐ আপনিসর্বমঙ্গলস্বরূপা,সর্বাভীষ্টসাধিকা,একমাত্র স্মরণযোগ্য ,ত্রিভুবন জননী বা ত্রিনয়না (সূর্যচন্দ্রাগ্নিলোচনা ) ও গৌরবর্ণা | হে নারায়ণী ,আপনাকে প্রণাম করি ||

"সোনার মঙ্গলচণ্ডী রূপোর বালা।
কেন মা মঙ্গলচণ্ডী এতো বেলা?
হাসতে খেলতে–পাটের শাড়ী পরতে,
তেল-হলুদ মাথাতে—আঘাটায় ঘাট করণীতে,
অসহ্য সহ্য করতে–রাজ্যহীনকে রাজ্য দিতে,
আইবুড়োর বিয়ে দিতে—হা-পুতির পুত্র দিতে,
নির্ধনেরে ধন দিতে—কানার চক্ষু দিতে
অন্ধেরে নড়ী দিতে তাই এতো বেলা।"

শুভ জয় মঙ্গলবারের উপলক্ষে শ্রী শ্রী ঁ মঙ্গলচণ্ডী মাতার দর্শন
স্থান ঃ বৌ বাজার শ্রী শ্রী ঁ জোড়া শীতলা মাতার মন্দির ১৪৩১
Pc - Koushick Banerjee
শেয়ার করুন 🙏🏻
আর নিজের বন্ধুদের এই পেজে Invite করুন।
পরিবার কে বড় করার ছোট পদক্ষেপ।
ধন্যবাদ

🔴🌺।। মঙ্গল চন্ডী ।।🌺🔴গৃহে গৃহে যিঁনি মঙ্গল প্রদান করেন, দেবীর সেই স্বরূপ ভক্তের কাছে "মঙ্গলচণ্ডিকা"। বৈশাখ মাসের সমস্ত ম...
19/05/2026

🔴🌺।। মঙ্গল চন্ডী ।।🌺🔴
গৃহে গৃহে যিঁনি মঙ্গল প্রদান করেন, দেবীর সেই স্বরূপ ভক্তের কাছে "মঙ্গলচণ্ডিকা"। বৈশাখ মাসের সমস্ত মঙ্গল ও শণিবারে দেবীর এই রূপের পূজা হয় । দেবী মঙ্গল চণ্ডীর দুটি রূপে পূজা হয়, এক কমলে বিরাজিতা মূর্তি, অপরটি সিংহাসীনা মূর্তি। দেবী মঙ্গলচণ্ডী "চণ্ডীমঙ্গল" কাব্যের বর্ণিত সেই দেবী। পাঁচালীতে সেই কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান পাঠ করা হয় । মঙ্গলকাব্যের সেই দেবী চণ্ডী আজ গৃহে গৃহে মঙ্গলচণ্ডী নামে পূজিতা ।।
বাংলা মায়ের বারো মাসে তেরো পার্বণ৷ আর সেই তেরো পার্বণে হাজারও বারব্রত৷ পূর্ববঙ্গে এই রীতির কিছুটা ছাড়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মায়েরা নাছোড় এই বারব্রত পালনে৷ ঋতুর হাওয়াবদলের সঙ্গে সঙ্গে বর্ধমানের ঘরে ঘরে এই বাঙালিয়ানাটুকুকে সম্বল করে এখানকার মহিলারা বেশ হুল্লোড়ে থাকেন ওই দিনগুলোতে৷ যারা অফিস করেন তাঁরাও শুনি উপোসটুকুনি ছাড়তে নারাজ৷ ভোরবেলা ব্রতকথার বইখানিতে পেন্নাম ঠুকে কথকতায় চোখ বুলিয়ে তার পর দশটা -পাঁচটায় সামিল হন৷ সে দিন শিকেয় তোলা মাছের ঝোলভাত -ডাল -চচ্চড়ি৷ দুপুরে ফলাহার , রাতে ময়দার ভাজা সব সুস্বাদু৷
কাউকে আবার বলতে শুনেছি , মায়েদের মুখ বদলানোর সব উপায় করে দেওয়া হয়ে আসছে অনন্তকাল ধরে৷ কিন্ত্ত সত্যি কি তাই ? আসলে প্রতিটি ব্রতকথার আড়ালে যে ছোটো উপাখ্যানগুলি আছে সেগুলি প্রচলিত হলেও লোকশিক্ষার মোড়কে হাজির করা হয় আমাদের সামনে৷ আর বিশেষ দিনগুলি পালনের অর্থ হল সেগুলিকে বারবার নিজেদের সাংসারিক টানাপোড়েনে ঝালিয়ে নেওয়া৷ মনে মনে তাঁরা বলেন " বারব্রত নিষ্ফল হয় না , ধর্মকর্ম যাই কর ঈশ্বরে বিশ্বাস চাই " ।
জ্যৈষ্ঠের প্রতি মঙ্গলবারে কুমারী ও সধবারা সংসারের মঙ্গলকামনায় স্মরণ করেন মা মঙ্গলচণ্ডীকে৷ বর্ধমানের মায়েরা এই দিন কাঁঠালপাতায় দুব্বোঘাস , ধান , যব ও মুগকলাই রেখে খিলি বানিয়ে মা চণ্ডীকে নিবেদন করেন ও পরে কলার মধ্যে সেই ধান -যব পুরে ‘গদ ’ গিলে খান৷ আমলা বাটা আর হলুদ দিয়ে স্নান করানো হয় মা ’কে এবং পাঁচটি ফল দান করতে হয়৷
মঙ্গলচণ্ডীর এই ব্রতকথায় আছে , জয়দেব ও জয়াবতীর কথা৷ দেবীমাহাত্ম্য বিস্তারের জন্য স্বয়ং মা দুর্গাই বুড়ী ব্রাহ্মণীর বা দেবী ক্ষেমঙ্করীর বেশ ধরে মর্ত্যে চলেন৷ মহাবিদ্যা ধূমাবতীর ধনাত্মক রূপ দেবী ক্ষেমঙ্করী,এই দেবী গৃহী পুজ্য।
‘ মায়া করি ধরে মাতা জরাতীর বেশ ,
হাতে লাঠি কাঁধে ঝুলি উড়ি পড়ে কেশ ’ ৷
উজানীনগরে এক সওদাগরের বাড়িতে তিনি হাজির হন৷ প্রখর রোদে হঠাত্ গিয়ে ভিক্ষা চাইলেন৷ বেনেবউ থালায় করে চাল আর টাকা দিয়ে সিধে দিলেন৷ কিন্ত্ত ব্রাহ্মণীর সাতটি মেয়ে , একটিও পুত্র নেই৷ বুড়ি সেই শুনে আর ভিক্ষে নিলেন না৷ দিনে দুপুরে ভিক্ষা না নিয়ে চলে যাওয়ায় সংসারের অকল্যাণ হবে জেনে বেনেবউ কান্নায় ফেটে পড়লেন৷ এ দিকে সওদাগর খোঁজ করে সেই বুড়ির কাছে গেলেন৷ বুড়ি তার হাতে একটি ফুল দিয়ে বললে , সেই ফুলটি যদি তার বউ ধুয়ে জল খায় তবে সে সুপুত্রের জননী হবে৷ বুড়ো বয়সে বেনেবউ আবার গর্ভবতী হল৷ ফুটফুটে ছেলে হল তার৷ তার নাম রাখা হল জয়দেব৷ এ বার সেই ব্রাহ্মণী হাজির হল আর এক সওদাগরের গৃহে৷ তার সাতটি পুত্র, কন্যা নেই৷ তাই ভিক্ষে নিলেন না তাঁর ঘরে৷ এ বারে কারণ হল কন্যাসন্তানকে প্রাধান্য দেওয়া৷ ঠিক আগের মতোই এই গৃহেও ফুল ধোয়া জলপান করে গৃহিণীর কন্যাসন্তান হল৷ তার নাম রাখা হল জয়াবতী৷ পাশাপাশি দু’টি গ্রামে জয়দেব আর জয়াবতী বড়ো হয়৷
তারা খেলে বেড়ায় , আপনমনে ছেলেখেলার ছলে মঙ্গলচণ্ডীর পুজো করে৷ জয়দেবের বিশ্বাস নেই কিন্ত্ত জয়াবাতীর অগাধ বিশ্বাস৷ এ ভাবেই একদিন জয়দেবের পায়রা এসে বসে জয়াবতীর কোলে৷ জয়াবতী দিতে নারাজ৷ জয়দেব প্রশ্ন করে , সে কি পুজো করছে ? জয়াবতী বলে এই চণ্ডীপুজো করলে ‘হারালে পায় , মলে জিওয় খাঁড়ায় কাটে না৷ আগুনে জলে ফেলে দিলে মরণ ঘটে না৷ সতীন মেরে ঘর পায় , রাজা মেরে রাজ্য পায় ’৷
জয়দেবের তা শুনে ভালো লাগে৷ জয়াবতীকে সে বিয়ে করতে চায় , মা ’কে জানায়৷ জৈষ্ঠ্যমাসের মঙ্গলবারে তাদের বিয়ে হয়৷ সে দিন জয়াবতী আঁচল থেকে গদ বের করে গিলে খায়৷ এ বার জয়দেবের জয়াবতীকে পরখ করার পালা৷ অঢেল ধনরত্ন , গয়নাগাটি নিয়ে জয়াবতী জলপথে শ্বশুরঘরে যাত্রা করে৷ মাঝপথে জয়দেব জয়াবতীকে বলে ডাকাতের উপদ্রবের কথা৷ কাপড়ের পুঁটুলিতে সব গয়নাগাটি বেঁধে জয়দেব সেটিকে জলে ফেলে দেয়৷ জয়াবতী তা দেখে মা চণ্ডীকে স্মরণ করে৷ শ্বশুরবাড়ি গিয়ে পর দিন বউভাতে অতিথি আপ্যায়নের জন্য নদীতে জাল ফেলে যে মাছ ধরে আনা হয় সেই মাছ কাটতে গিয়ে লোকজন হিমশিম৷ বঁটি , দা , কুড়ুল কিছু দিয়েই সেই বোয়ালমাছটি কাটা যায় না৷ তখন জয়াবতীর ডাক পড়ে৷ জয়াবতী মা মঙ্গলচণ্ডীকে স্মরণ করে অতি অনায়াসেই বঁটিতে মাছের পেট কেটে ফেলে আর তার গয়নাশুদ্ধ পুঁটুলিটা পায়৷ তখন জয়দেবও বুঝতে পারে দেবী মাহাত্ম্য৷ তাই বুঝি মঙ্গলচণ্ডীর পুজোয় এখনও মেয়েরা আওড়ায় এই মন্ত্র ,
" আটকাটি ,
আটমুঠি সোনার মঙ্গলচণ্ডী রুপোর পা ,
কেন মাগো মঙ্গলচণ্ডী হল এত বেলা ?
হাসতে খেলতে ,
তেলহলুদ মাখতে ,
আঘাটায় ঘাট করতে ,
আইবুড়োর বিয়ে দিতে ,
অন্ধের চক্ষু দিতে ,
বোবার বোল ফোটাতে ,
ঘরের ঝি বৌ রাখতে ঢাকতে হল এত বেলা৷ " -
এ ভাবেই সংসারের রমণীটি সংসারের সার্বিক সুখ শান্তি কামনা করে থাকে৷ আর একটা কারণ হল , গ্রীষ্মের দাবদাহে ফুটিফাটা বাংলার মাঠঘাট৷ মা চণ্ডীর পুজোয় যদি সময়মতো বর্ষা নামে , তবে বাংলার কৃষিপ্রধান বর্ধমান জেলাটির শস্যভাণ্ডারটিও ফুলে ফেঁপে উঠবে সেই আশায় বুঝি মা চণ্ডীর শরণাপন্ন হওয়া৷
মা মঙ্গলচণ্ডী -
" বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতিদেবীর মুখ হ'তে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হয়েছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন। " -
দেবীভা-৯স্ক-১।
" দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষ বলে তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন। " -
দেবীভা-৯স্ক-৪৭।
-
🔴 মঙ্গলচণ্ডী ব্রত :
জৈষ্ঠ্যমাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এ ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এসে ধরা দেয়।।
🔴 যথা :
সোনার মা ঘট বামনী।
রূপোর মা মঙ্গলচণ্ডী।।
এতক্ষণ গিয়েছিলেন না
কাহার বাড়ি?
হাসতে খেলতে তেল সিন্দুর মাখতে
পাটের শাড়ি পরতে সোনার দোলায় দুলতে
হয়েছে এত দেরী।
নির্ধনের ধন দিতে
কানায় নয়ন দিতে
নিপুত্রের পুত্র দিতে
খোঁড়ায় চলতে দিতে
হয়েছে এত দেরী।।
অভীষ্ট সিদ্ধিমানসে হিন্দু মহিলা মঙ্গলবারে মঙ্গলচণ্ডী দেবীর অর্চনা ও ব্রত উপসাবাদি করে থাকেন। ধনপতি সওদাগরের পত্নী খুল্লনা প্রথম মঙ্গলচণ্ডীদেবীর পূজার প্রবর্তন করেন। এই খুল্লনার নামানুসারেই বাংলাদেশের 'খুলনা' জেলার নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি।।
দেবীর করুণাশক্তি অমোঘ। তাঁর শরণাগত হলে নির্ধন ধনী হয়, অন্ধ নয়ন পায়, বন্ধ্যা পুত্র লাভ করে, খঞ্জ চরণযুক্ত হয়। সংসারজীবনে এই মঙ্গলময়ীর আরাধনা তাই একান্তই প্রয়োজন। কুমারীজীবন থেকেই তারা আরাধনা শুরু করে এবং সমগ্র জীবনব্যাপী তা চলতে থাকে।।
অতি প্রাচীন কাল থেকেই বাংলায় সংসারের মঙ্গল কামনায় মহিলাগণ মঙ্গলচণ্ডীর পূজো করে থাকেন। পুরাণের দেবী চণ্ডী অস্ত্রধারিনী, অসুর মর্দিনী। কিন্তু মঙ্গলচণ্ডী দেবীর যে পট ছবি আমরা দেখি তাতে তিনি দ্বিভুজা, হাতে পদ্ম পুস্প, পদ্মাসীনা। সমগ্র মাতৃত্বের রূপ দেবীর মধ্যে প্রস্ফুটিত। চণ্ডীদেবীর কথা বৃহধর্ম পুরাণে পাওয়া যায়। ভবিষ্যপুরাণে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের উল্লেখ আছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে ইনি কেবল স্ত্রীলোকের দ্বারা পূজিতা বলা হয়েছে। চণ্ডীমঙ্গল কাব্য অনুসারে চন্ডীদেবীর আবির্ভাবের প্রথম পর্বে দেখি কালকেতু ও ফুল্লরার কথা। কালকেতু জাতিতে শবর ব্যাধ, তার পত্নী ফুল্লরা এক শবরী । কালকেতু বনে শিকার করে মাংস হাটে বিক্রি করে সংসার চালাতো। একদা দেবী চণ্ডী তাদের গৃহে ছদ্দবেশে এসে পরীক্ষা নেন। কালকেতু ও ফুল্লরাকে শেষে দশভুজা রূপে দর্শন দিয়ে তাঁদের গুজরাট প্রদেশের অধিপতি করেন।
🔴♦মা মঙ্গলচণ্ডীর ধ্যান:
যৈষা ললিতকান্তাখ্যা দেবী মঙ্গলচণ্ডিকা ।
বরদাভয়হস্তা চ দ্বিভুজা গৌরদেহিকা ।
রক্তপদ্মাসনস্থা চ মুকুটোজ্জ্বলমণ্ডিতা ।
রক্তকৌষেয়বসনা স্মিতবক্ত্রা শুভাননা ।
নবযৌবনসম্পন্না চার্ব্বঙ্গী ললিতপ্রভা ।।
🔴 অর্থ - যাঁহার নাম মধুর ও মনোহর, যাঁহার হস্তে বর ও অভয় মুদ্রা, যিনি দ্বিভুজা ও গৌরবর্ণা, যিনি রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্টা ও মুকুট দ্বারা উজ্জ্বলরূপে ভূষিতা, যিনি রক্তবর্ণ কৌষেয় (চেলির) বস্ত্র পরিধান করিয়া আছেন, যিনি সহাস্যবদনা, সুন্দরাননা ও নবযৌবনা, যিনি সুন্দরাঙ্গী ও মধুর লাবণ্যযুক্তা, তিনিই দেবী মঙ্গলচণ্ডী।
🔴 দেবীমায়ের প্রণাম মন্ত্র :
ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বাথসাধিকে । শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে||
🔴 অর্থ :
ॐ আপনিসর্বমঙ্গলস্বরূপা,সর্বাভীষ্টসাধিকা,একমাত্র স্মরণযোগ্য ,ত্রিভুবন জননী বা ত্রিনয়না (সূর্যচন্দ্রাগ্নিলোচনা ) ও গৌরবর্ণা | হে নারায়ণী ,আপনাকে প্রণাম করি ||
🔴 শিবশম্ভুপাঠকৃত মঙ্গলচণ্ডিকা স্তোত্র :
রক্ষ রক্ষ জগন্মাতর্দেবী মঙ্গলচণ্ডিকে ।
হারিকে বিপদাং রাশের্হর্ষমঙ্গলদায়িকে ।।
হর্ষমঙ্গলদক্ষে চ হর্ষমঙ্গলদায়িকে ।
শুভে মঙ্গলদক্ষে চ শুভে মঙ্গলচণ্ডিকে ।।
মঙ্গলে মঙ্গলার্হে চ সর্বমঙ্গলমঙ্গলে ।
সতাং মঙ্গলদে দেবী সর্বেষাং মঙ্গলালয়ে ।।
পূজ্যে মঙ্গলবারে চ মঙ্গলাভীষ্টদেবতে ।
পূজ্যে মঙ্গলবংশস্য মনুবংশস্য সন্ততম্ ।।
মঙ্গলাধিষ্ঠাতৃদেবী মঙ্গলানাঞ্চ মঙ্গলে ।
সংসারমঙ্গলাধারে মোক্ষমঙ্গলদায়িনী ।।
সারে চ মঙ্গলাধারে পারে চ সর্বকর্মণাম্ ।
প্রতিমঙ্গলবারে চ পূজ্যে মঙ্গলসুখপ্রদে ।।
🔴 বঙ্গানুবাদ-
হে জগজ্জননী ! বিপদবারিণি ! হর্ষমঙ্গলপ্রদায়িনী ! দেবী! মঙ্গলচণ্ডিকে ! রক্ষা কর, রক্ষা কর। তুমি হর্ষ এবং মঙ্গলদানে দক্ষা – তুমি হর্ষ এবং মঙ্গল দান করিয়া থাক । তুমি শুভ এবং মঙ্গল বিষয়ে নিপুণা বলিয়া শুভা এবং মঙ্গলচণ্ডিকা নামে প্রসিদ্ধা হইয়াছ । হে মঙ্গলে ! মঙ্গলার্হে ! সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে ! সাধুগণের মঙ্গলদায়িনী! হে দেবী! তুমি সকলের মঙ্গল দান কর। হে মঙ্গলরাজের অভীষ্ট দেবী! মঙ্গলবারেই তোমার পূজা বিধেয় এবং মণুবংশজাত মঙ্গল রাজা নিরন্তর তোমার অর্চনা করেন । হে মঙ্গলাধিষ্ঠাতৃদেবি। পৃথিবীতে যত প্রকার মঙ্গলকর বস্তু আছে , তুমি সেই সকলের স্বরূপা । হে সংসারমঙ্গলাধারে । তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ মোক্ষ দান করিতে পার । হে মঙ্গলজনয়িত্রি । হে সাররূপিনী ! তুমি সকল কর্মের অগোচর এবং প্রতি মঙ্গলবারে পূজিতা হইয়া বহু সুখ প্রদান কর।
শ্রী ব্রহ্মবৈবর্তপূরাণে(প্রকৃতিকাণ্ডের ৪৪/২০-৩২ শ্লোক) মঙ্গলচণ্ডিকা স্তোত্র সম্পূর্ণম্।।
(শ্রী ব্রহ্মবৈবর্তপূরাণের প্রকৃতিকাণ্ডের ৪৪/২০-৩২ শ্লোক)
🔴 উজ্জয়নী মঙ্গলচণ্ডী শক্তিপীঠ :-
পীঠনির্ণয়তন্ত্র মতে ত্রয়োদশ শক্তিপীঠ হল উজ্জয়নী । এখানে দেবীর কর্পূর/ কনুই পতিত হয়েছিল। দেবীর নাম মঙ্গলচণ্ডীকা আর ভৈরব হলেন কপিলাম্বর । উজ্জয়নী হল পশ্চিম মালবের রাজধানী । তবে এই উজ্জয়নীতে দেবীর ভৈরব ও দেবীপীঠ নিয়ে মতান্তর দেখা যায় । দ্বাদশ জ্যোতি লিঙ্গের একটি লিঙ্গ মহাকাল এখানেই অবস্থিত । অনেকে মনে করেন এই মহাকাল মন্দিরেই সতী পীঠ অবস্থিত । দেবীর ভৈরব হলেন মহাকাল । আবার উজ্জয়নীর শাসক দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্য হরসিদ্ধি নামক এক দেবীর পূজা করতেন । তান্ত্রিকদের মতে তিনিই সতী পীঠের দেবী মঙ্গলচণ্ডীকা ।
আবার পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার কোগ্রাম বা উজানী গ্রামকেও এই পীঠ বলে ধরা হয় । লোকশ্রুতি অনুসারে এখানেই ভগবতী মা সতীর কনুই পতিত হয়েছিল। দেবীর নাম মঙ্গলচণ্ডী আর ভৈরব হলেন কপিলেশ্বর । তবে বহু যুগ থেকে সাধু সন্ন্যাসীরা ভারতবর্ষের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নীকেই শক্তিপীঠ মেনে এসে সেখানেই সাধনার জন্য যান । পীঠনির্ণয়তন্ত্র বলে-
" উজ্জয়িন্যাং কূপারশ্চ মাঙ্গল্য কপিলাম্বর ।
ভৈরবঃ সিদ্ধিদঃ সাক্ষাদ্দেবী মঙ্গলচণ্ডীকা ।।"
উজ্জয়নী সতী পীঠ। সনাতনী সংস্কৃতি ও মিলনের আবহাওয়া এখানে । এখনও এখানে কুম্ভ মেলা বসে। শাস্ত্রে বলে-
" মেষরাশিগতে সূর্য্যে সিংহরাশ্যাং বৃহস্পতৌ ।
উজ্জয়িন্যাং ভবেৎ কুম্ভঃ সর্বসৌখ্যবিবর্ধনঃ ।।"
এর অর্থ- সূর্য মেষ রাশিতে এবং বৃহস্পতি সিংহ রাশিতে অবস্থান কালে উজ্জয়নী তে সকলের সুখ দায়ক কুম্ভযোগ হয় । বৃহস্পতি সিংহ রাশিতে থাকেন বলে ইহা সিংহস্থ কুম্ভ যোগ নামে খ্যাত ।
" ঘটে সুরিঃ শশিসূর্য্যাঃ কুহবাং দামোদরে যদা ।
ধারায়শ্চ তদা কুম্ভো জায়তে খলু মুক্তিদঃ ।।"
এর অর্থ- তুলারাশিতে বৃহস্পতি, চন্দ্র ও সূর্য অবস্থান করিলে অমাবস্যা তিথিতে ধারায় ( উজ্জয়নীতে) শিপ্রা তটে মুক্তিপ্রদ কুম্ভ যোগ হয় । কুম্ভ মেলার সময় অসংখ্য যোগী, মহারাজ, সাধু, সিদ্ধ, সন্ত, মহাত্মা এই কুম্ভে আসেন।
অন্য দিকে বছরের এই সময়টা জুড়ে রোগভোগের প্রকোপও নিদারুণ, তাই সংসারে যাতে সেই প্রাদুর্ভাব না হয় তার খেয়ালও রাখেন গৃহকর্ত্রী৷ বাকিটুকু মায়ের কৃপা৷ আসলে ঘরে ঘরে এই শীতলা , ষষ্ঠী , চণ্ডীর প্রতি মাসে পূজো তো আর কিছুই নয়৷ মা দুর্গা বা কালীর শরণ নেওয়া৷ মহাযানী বৌদ্ধধর্মের অবলোকিতেশ্বর কোয়াননের মধ্যে একটি দেবীমূর্তির পূজা হয়৷ জাপানি ভাষায় এই দেবীর নাম ‘চনষ্টী ’৷ এই চনষ্টী শব্দটি সংস্কৃত শব্দ চণ্ডীর অনুরূপ৷ সুকুমার সেনের মতে চণ্ডী শব্দটি এসেছে চাণ্ডী থেকে৷ চাণ্ডী একজন অনার্যা দেবী , যিনি ওঁরাও , বীর , হোড়দের দ্বারা পূজিতা৷ আর তাই বুঝি বিরচিত চণ্ডীমঙ্গলে আমরা ওঁরাও উপজাতিদের দ্বারা পূজিতা দেবীদুর্গার এই চাণ্ডী রূপটিই পাই৷ কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর এই চণ্ডীমঙ্গল সর্বজনবিদিত৷ তাঁর জন্ম বর্ধমানের দামুন্যা গ্রামে৷ চণ্ডীমঙ্গলে আমরা যে উজানী গ্রামের কথা পাই সেখানে একটি চণ্ডীমন্দির আজও আছে৷ এ ছাড়া অজয় নদীর তীরে কোগ্রামেও রয়েছে বর্ধমানের পল্লিপ্রেমী কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের বিখ্যাত চণ্ডীমন্দিরটি৷
🌺 সংগৃহীত 🌺

শেয়ার করুন 🙏🏻
আর নিজের বন্ধুদের এই পেজে Invite করুন।
পরিবার কে বড় করার ছোট পদক্ষেপ।
ধন্যবাদ

চণ্ডীদেবীর কথা বৃহধর্ম পুরানে পাওয়া যায় ।  ভবিষ্য পুরানে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের উল্লেখ আছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে ইনি কেবল স...
19/05/2026

চণ্ডীদেবীর কথা বৃহধর্ম পুরানে পাওয়া যায় । ভবিষ্য পুরানে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের উল্লেখ আছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে ইনি কেবল স্ত্রীলোকের দ্বারা পূজিতা বলা হয়েছে । চণ্ডীমঙ্গল কাব্য অনুসারে চন্ডী দেবীর আবির্ভাবের প্রথম পর্বে দেখি কালকেতু ও ফুল্লরার কথা। কালকেতু জাতিতে শবর ব্যাধ, তার পত্নী ফুল্লরা এক শবরী । কালকেতু বনে শিকার করে মাংস হাটে বিক্রি করে সংসার চালাতো। একদা দেবী চণ্ডী তাঁদের গৃহে ছদ্দবেশে এসে পরীক্ষা নেন। কালকেতু ও ফুল্লরাকে শেষে দশভুজা রূপে দর্শন দিয়ে তাঁদের গুজরাট প্রদেশের অধিপতি করেন ।

ডঃ মহানামব্রত ব্রহ্মচারী তাঁর লিখিত “চণ্ডীচিন্তা” গ্রন্থে ‘চণ্ডী’ দেবীর ব্যাখা এই ভাবে করেছেন- “বেদান্ত দর্শনের প্রথম অধ্যায়ের একটি সূত্র আছে “কম্পনাৎ” । পরমব্রহ্ম শ্রীহরিপুরুষের ভয়ে বিশ্বজগৎ প্রকম্পিত । কঠ শ্রুতিতে আছে, “ মহদ্ভয়ং বজ্রমুদ্যতম্” , উদ্যত বজ্রের মত তিনি মহাভয়ঙ্কর । তাঁহার ভয়ে সূর্য উঠে, অগ্নি জ্বলে , বাতাস বহে , যম পর্যন্ত কাঁপে। ব্রহ্মের এই ভয়ঙ্করী শক্তিই চণ্ডী । চড়ি ধাতুর অর্থে কোপ করা। চণ্ডী অর্থ কোপময়ী । শরণাগত ভক্তকে আসুরিক আঘাত হইতে রক্ষার জন্য ব্রহ্মশক্তি যখন ভয়ঙ্করী মূর্তি ধরেন তখন তিনি চণ্ডিকা।”

চণ্ডীমঙ্গল কাব্য বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্যের মধ্যে একটি স্থান অধিকার করে আছে । এই কাব্য “ভবানীমঙ্গল” নামেও উল্লেখিত। এথেকে বোঝা যায় বাংলায় একসময় চণ্ডী আরাধনার ব্যপক প্রচলন ছিলো, বর্তমানে তিনিই মঙ্গলচণ্ডী নামে গৃহে গৃহে আরাধিতা । যতগুলি লেখকের লিখিত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য পাওয়া যায়- সবটিতেই দুটি কাহানীর উল্লেখ পাওয়া যায়- ১) আক্ষেটি খণ্ড ( কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান ), ২) বণিক খণ্ড ( ধনপতি বণিকের উপাখ্যান, কমলেকামিনী মূর্তি দর্শন ) । এছাড়া গ্রন্থের পূর্বে “দেবখণ্ড” নামক একটি অধ্যায় দেখা যায় যেখানে শিব পার্বতীর কাহানী ও দেবতাদের বন্দনা । চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি রচয়িতা মানিক দত্ত । গবেষক দের মতে মাণিক দত্ত মালদহ এর কবি। কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম তাঁর রচিত চণ্ডীমঙ্গলে বারংবার শ্রদ্ধার সহিত মাণিক দত্তের নাম উল্লেখ করেছেন । চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্য কবি দ্বিজমাধব বা মাধব আচার্য । গবেষক দের মতে ১৫৭৯ শকাব্দে ইনি গ্রন্থ রচনা সমাপ্ত করেন , তিনি প্রথমে নবদ্বীপের বাসিন্দা ছিলেন, পড়ে চট্টগ্রামে চলে যান।

“চণ্ডীমঙ্গল” কাব্যের সবচেয়ে উল্লেখ্য কবি হলেন কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী । বর্ধমানের দামিন্যা গ্রামে এঁনার জন্ম । পড়ে ইনি পরিবার এর সাথে জন্মভূমি ছেড়ে মেদিনীপুরের ব্রাহ্মণভূমির জমিদার বাঁকুড়া রায়ের আশ্রয়ে আসেন । এইসময় একদা দেবী চণ্ডী স্বপ্নে মুকুন্দরামকে দর্শন দিয়ে তাঁর মহিমা বিষয়ক গ্রন্থ লেখতে আদেশ করেন । মুকুন্দরাম একসময় জমিদার বাঁকুড়া রায়ের সন্তানের গৃহশিক্ষক ছিলেন । পরবর্তীতে মুকুন্দরামের সেই ছাত্র জমিদার হয়ে মুকুন্দরামকে চণ্ডীকাব্য লিখতে অনুরোধ জানান। স্বপ্নাদেশ ও জমিদারের ইচ্ছা মেনে মুকুন্দরাম “চণ্ডীমঙ্গল” কাব্য রচনা করতে বসলেন । আনুমানিক ১৫৮৪ সনে তাঁর গ্রন্থ লেখা সমাপ্ত হয় । এই কাব্য “চণ্ডীমঙ্গল” কাব্যের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় । কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান চণ্ডীমঙ্গলের সবথেকে জনপ্রিয় উপাখ্যান । দেবাদিদেব মহাদেবের অভিশাপে ইন্দ্রপুত্র নীলাম্বর শাপিত হয়ে মর্তে ব্যাধ হয়ে জন্ম নেন, তাঁর নাম কালকেতু , অপরদিকে নীলাম্বরের স্ত্রী ছায়া স্বামীকে অনুসরণ করে মর্তে ব্যাধিনী হয়ে জন্মান- এঁর নাম ফুল্লরা। দরিদ্র পরিবারের ব্যাধ আর ব্যাধিনী দম্পতি কে দিয়েই দেবী চণ্ডী তাঁর লীলা আরম্ভ করেন । ব্যাধ কালকেতু দেবীর কৃপায় গুজরাট নগরীর রাজা হন । আজোও দেবী মঙ্গলচণ্ডীর পূজায় পাঁচালীতে দেবীর এই লীলামাহাত্ম্য পাঠ হয় ।

( কপি নিষিদ্ধ। শেয়ার করুন।)

এমনই আধ্যাত্মিক পোষ্ট পেতে আমদের পেজে যুক্ত হয়ে লাইক করুন।

ভোজশালা সরস্বতীধারিণীমণ্ডলের ঐতিহ্যমণ্ডিত মালবরাজ্যের ধারানগরীতে পরমপ্রাজ্ঞ বিদ্যাবিলাসী মহারাজ ভোজরাজ একাদশ শতাব্দীতে এ...
18/05/2026

ভোজশালা সরস্বতী
ধারিণীমণ্ডলের ঐতিহ্যমণ্ডিত মালবরাজ্যের ধারানগরীতে পরমপ্রাজ্ঞ বিদ্যাবিলাসী মহারাজ ভোজরাজ একাদশ শতাব্দীতে এই পরমপবিত্র শ্রীভোজশালা সরস্বতী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন, যাহা সুদীর্ঘকাল ধরিয়া সনাতন জ্ঞান-সাধনা, সংস্কৃত শিক্ষা ও মননশীলতার এক অনন্য মহাপীঠরূপে বিরাজমান ছিল; কিন্তু কালক্রমে বৈদেশিক আক্রমণকারী ও ধর্মান্ধ সুলতানগণের পাশবিক অত্যাচারে এই সারস্বত মণ্ডপের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয় এবং সুদীর্ঘকাল ধরিয়া ইহার অধিকার লইয়া বিবিধ বিবাদ চলিতে থাকে। অতঃপর ঐতিহাসিক সত্য ও সনাতন সংস্কৃতির মর্যাদাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করিয়া বিগত ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দের ১১ই মার্চ ভারতের মহামান্য মধ্যপ্রদেশ উচ্চ আদালত (Indore Bench of Madhya Pradesh High Court) এক যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব আদেশ প্রদান করেন, যাহার দ্বারা প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগের (ASI) বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দানপূর্বক এই পবিত্র ভোজশালাকে সামগ্রিক ও চূড়ান্তরূপে একটি খাঁটি সনাতন হিন্দু মন্দির বলিয়া ঘোষণা করা হয়। এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্টাক্ষরে উক্ত জ্ঞানপীঠের উপর মুসলিম সম্প্রদায়ের নমাজ পাঠের দাবি এবং জৈন সম্প্রদায়ের বাগ্দেবীর মূর্তি সংক্রান্ত যে কোনো প্রকার অলীক স্বত্ব বা অধিকারের দাবিকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য ও খণ্ডন করিয়া দেন; ফলত এই পবিত্র সারস্বত ক্ষেত্রটি আজ সর্বপ্রকার বিজাতীয় ও ভ্রান্ত অধিকারের শৃঙ্খল হইতে মুক্ত হইয়া আপনার আদি সনাতন গৌরব ও পরম পবিত্রতা পুনরুদ্ধার করিয়াছে এবং মহামান্য আদালতের এই ন্যায়নিষ্ঠ দণ্ডাজ্ঞা বিশ্বনিন্দিত তস্কর ও অনধিকারীদের কবল হইতে মা বাণীনন্দিনীর এই মহাপীঠকে মুক্ত করিয়া সনাতনীদের অন্তরে এক পরম আনন্দের হিল্লোল প্রবাহিত করিয়াছে। অতএব, এই পরমপবিত্র শুভ অবসরে আইস, আমরা ভগবতী সরস্বতীর এক দিব্য স্তোত্রটি স্মরণ করি, যেখানে কীর্তিত হইয়াছে "কিঞ্চিৎকুঞ্চিতকেশবদ্য জযতি স্রষ্টুর্ভুবিষ্ঠং মহঃ"। এই পরমার্থিক চরণের নিগূঢ় অর্থ এই যে, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা বা বিধাতার সেই অলৌকিক মহাজ্যোতি ও পরম চৈতন্যের প্রকাশ আজ এই মর্ত্যধামে সর্বশ্রেষ্ঠ রূপে জয়যুক্ত ও বিরাজমান হইতেছে। যাঁহার ললাটের অগ্রভাগের অলকগুচ্ছ বা কেশপাশ ঈষৎ কুঞ্চিত অর্থাৎ কোঁকড়ানো। ইহার গূঢ় তাৎপর্য হইল, যে পরম জ্ঞানজ্যোতি প্রাকৃত জগতের অতীত, তাহা আজ এই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হইয়া সনাতন জ্ঞান ও সংস্কৃতির আশ্রয়রূপে প্রকাশিত হইয়াছে; এবং দেবীর সেই কুঞ্চিত কেশপাশের দিব্য বর্ণনাটি ইহাই প্রতিপাদন করে যে, সেই পরম জ্ঞান শুষ্ক বা কঠিন নহে, তাহা অনবদ্য নান্দনিক মাধুর্য, রস ও পরমানন্দে পরিপূর্ণ। নিম্নে রইল সম্পূর্ণ স্তোত্রটি।
কুন্দালিদ্যুতিমন্দহাসসুমুখী রাকেন্দুবিন্বাননা
মল্লীতল্লজমালতীসুমনসাং সৌভাগ্যপাটচ্চরী ।
ফুল্লেন্দীবর বৃন্দষ ট্পদতমঃসন্দোহসন্দেহকৃ-
দ্বেণীকা বিধিসুন্দরী মম ভবেদানন্দসন্দোহিনী ॥ ১॥
যৎপাদাম্বুজসেবযৈব সসুরো লোকঃ সমর্ত্যাসুরো
বাগৌন্নত্যমগাহত শ্রুতিবচোবীথীষু যা গীযতে ।
যা শ্বেতাম্বুজমধ্যবাসরসিকা যা নম্ররক্ষামণিঃ
ধাতুঃ কাপি কুটুম্বিনী বিতরতাৎ সা নির্বৃতিং নোঽতুলাম্ ॥ ২॥
কস্তূরীঘনসারগন্ধলহরীসংবাসিতোরঃস্থলা
সংবীতা স্ফুটকাশপুষ্পসদৃশক্ষৌমাংশুকেনানিশম্ ।
পুস্তং হস্তচতুষ্টযে জপবটীং শস্তাং শুকীং বল্লকীং
বিভ্রাণা গৃহিণী বিধাতুরবতান্নঃ সেবযা তোষিতা ॥ ৩॥
শুভ্রং দভ্রবলগ্নমভ্রতনু তেঽদভ্রপ্রমোদপ্রদং
বিভ্রান্তে ভ্রমদন্ধপরয সততং তৈস্তৈর্নিজৈর্বিভ্রমৈঃ ।
শব্দব্রহ্মমযে জগত্যনিতরাপেক্ষাধিকারক্রিযং
কিঞ্চিৎকুঞ্চিতকেশবদ্য জযতি স্রষ্টুর্ভুবিষ্ঠং মহঃ ॥ ৪॥
যাঁহার মন্দ হাস্য কুন্দকলিকার ন্যায় দীপ্তিমতী এবং যিনি পরম সুমুখী, যাঁহার মুখমণ্ডল পূর্ণচন্দ্রবিম্বের সদৃশ জাজ্বল্যমান, যিনি আপনার অনুপম লাবণ্য দ্বারা শ্রেষ্ঠ মল্লিকা ও মালতী কুসুমের নিখিল সৌভাগ্য হরণ করেন অর্থাৎ তদপেক্ষা অধিক সুষমাময়ী এবং যাঁহার অলকগুচ্ছ প্রফুল্ল নীলপদ্মসমূহের উপরি পরিভ্রমণশীল ভ্রমরকুলের ন্যায় নিবিড় অন্ধকারের সংশয় উৎপাদন করে, বিধাতার সেই পরমা সুন্দরী পত্নী দেবী সরস্বতী আমার হৃদয়ে পূর্ণ আনন্দের বর্ষণ করুন। যাঁহার চরণকমলের সেবাপ্রভাবেই দেবতা, মনুষ্য ও অসুরসহ সমগ্র বিশ্বজগৎ পরম বাগ্মিতা লাভ করে, নিখিল শ্রুতি ও বেদবাক্যের বীথিকায় যাঁহার মহিমা সতত গীত হইয়া থাকে, যিনি শ্বেতপদ্মের মধ্যস্থলে সমুপবেশনপূর্বক পরম রস আস্বাদন করেন এবং প্রণত ভক্তবৃন্দের রক্ষাকল্পে যিনি সাক্ষাৎ চিন্তামণিস্বরূপা, ব্রহ্মার সেই অনির্বচনীয়া ভার্যা আমাদিগকে অতুলনীয়া আত্মিক শান্তি ও পরম মোক্ষ প্রদান করুন। যাঁহার বক্ষঃস্থল কস্তূরী ও কর্পূরের সুগন্ধি তরঙ্গমালায় সর্বদা সুবাসিত, যিনি অনবরত প্রস্ফুটিত কাশপুষ্পের ন্যায় পরম শুভ্র রেশমি বস্ত্র পরিধান করিয়া থাকেন এবং আপনার চতুর্হস্তে যিনি পরম জ্ঞানময়ী পুস্তক, উত্তম জপমালা, বিজ্ঞানের প্রতীক শুকপক্ষী ও সুমধুর বল্লকী বীণা ধারণ করেন, সাধককুলের সেবা ও ভক্তিতে পরমানন্দিতা বিধাতার সেই গৃহিণী আমাদিগকে সর্বতোভাবে রক্ষা করুন। যিনি পরম শুভ্রবর্ণা, যাঁহার কটিদেশ অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং যাঁহার পবিত্র বিগ্রহ আকাশের ন্যায় ব্যাপক অথচ মেঘমালার ন্যায় কমনীয় ও ভক্তগণের নিমিত্ত প্রচুর আনন্দপ্রদ, যিনি জাগতিক মায়ারূপ ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত অজ্ঞান জীবসমূহকে আপনার বিবিধ দিব্য লীলাবিলাসের দ্বারা সতত আনন্দিত ও সৎপথে অনুপ্রাণিত করেন এবং এই সমগ্র শব্দব্রহ্মময় নিখিল ব্রহ্মাণ্ডে যাঁহার আধিপত্য ও ক্রিয়াশক্তি অন্য কোনো আধার বা সহায়তার অপেক্ষা রাখে না অর্থাৎ যিনি সর্বসমর্থ এবং যাঁহার কেশপাশ অগ্রভাগে কিঞ্চিৎ কুঞ্চিত, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার সেই ভূতলস্থিত অলৌকিক মহাজ্যোতিরূপা তেজ অর্থাৎ সরস্বতী আজ সর্বত্র জয়যুক্ত হইতেছে।
জয় ভোজশালা!
জয় ভোজরাজ!
জয সরস্বতীব্রহ্মাণৌ!
চিত্রে ব্রহ্মা সমত অঙ্কুশ, কমণ্ডলু, পুস্তক, অক্ষমালা হস্তা চতুর্ভূজা সিংহবাহিনী ভোজশালা সরস্বতী
চিত্র সৌজন্যে: পিন্ট্রেস্ট

Address

Krishnagar City
741101

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পৌরাণিক ইতিহাস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share