16/03/2026
🌑 বারুণী / চৈত্রী অমাবস্যার মাহাত্ম্য
হিন্দু লোকবিশ্বাস ও প্রাচীন আচার অনুযায়ী চৈত্র মাসের অমাবস্যা একটি অত্যন্ত পবিত্র তিথি। বাংলায় এই তিথিকে অনেক স্থানে বারুণী অমাবস্যা বলা হয়। “বারুণী” শব্দটি এসেছে জল ও সমুদ্রের অধিপতি দেবতা বরুণ থেকে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে পৃথিবীর নদী, হ্রদ ও পবিত্র জলে দেবশক্তির বিশেষ আশীর্বাদ বিরাজ করে।
লোককাহিনি অনুযায়ী, এক সময় পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে অন্যায় ও পাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন দেবতারা চিন্তিত হয়ে ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। ভগবান বিষ্ণু তখন বরুণ দেবকে নির্দেশ দেন—
চৈত্র মাসের অমাবস্যার দিনে পৃথিবীর পবিত্র জলে এমন শক্তি দাও, যাতে মানুষ ভক্তিভরে স্নান করে, ঈশ্বরকে স্মরণ করে এবং পূর্বপুরুষদের তর্পণ করলে তাদের পাপক্ষয় হয় ও জীবনে মঙ্গল আসে।
বরুণ দেব সেই আশীর্বাদ প্রদান করেন। সেই থেকেই বিশ্বাস করা হয়, চৈত্র মাসের অমাবস্যার দিনে নদী বা গঙ্গার জলে বিশেষ পবিত্রতা বিরাজ করে। বাংলার বিভিন্ন স্থানে এই দিন বারুণী স্নান নামে পরিচিত এবং বহু মানুষ গঙ্গা বা নদীতে পবিত্র স্নান করেন।
বাংলায় আবার একটি জনপ্রিয় লোককাহিনি প্রচলিত আছে। বলা হয়, প্রাচীন কালে এক নদীর ধারে একটি ছোট কালীমন্দিরে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ প্রতিদিন ভক্তিভরে মা কালীর পূজা করতেন। কিন্তু এক সময় গ্রামে দুর্ভিক্ষ ও রোগ দেখা দেয়। মানুষের দুঃখ দেখে সেই ব্রাহ্মণ এক রাতে মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন—
“মা, তোমার ভক্তদের রক্ষা করো।”
সেই রাতে স্বপ্নে মা কালী তাকে দর্শন দিয়ে বলেন—
“চৈত্র মাসের অমাবস্যার দিনে পবিত্র নদীতে স্নান করে আমাকে স্মরণ করো এবং ভক্তিভরে পূজা করো। তাতে আমার আশীর্বাদে মানুষের দুঃখ দূর হবে।”
পরদিন ব্রাহ্মণ এই কথা গ্রামবাসীদের জানালে সবাই চৈত্র অমাবস্যার দিন নদীতে স্নান করে মন্দিরে এসে মায়ের পূজা করেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এরপর ধীরে ধীরে গ্রামের দুর্ভিক্ষ ও রোগ দূর হয় এবং মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসে। তখন থেকেই বাংলার অনেক স্থানে চৈত্রী বা বারুণী অমাবস্যায় মা কালী ও শিবের বিশেষ পূজা করার রীতি প্রচলিত হয়।
এই পবিত্র তিথিতে ভক্তিভরে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করুন, পুণ্যকর্ম করুন এবং সকলের মঙ্গল কামনা করুন।
🙏 জয় মা কালী | হর হর মহাদেব 🙏
#বারুণী_অমাবস্যা #চৈত্রী_অমাবস্যা #বারুণী_স্নান #মা_কালী #জয়_মা_কালী াদেব