Durga Bhakti Tarangini

Directions Website

Durga Bhakti Tarangini � Śakti Upāsaka �
Krama Darśana

🌺 ॥ শ্রীরামচন্দ্রকৃত দুর্গাপূজা — শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ॥ 🌺 #দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী    #তৃতীয়_পর্ব ভৃঙ্গীশ সংহিতার মহারাজ্ঞী...
05/10/2026

🌺 ॥ শ্রীরামচন্দ্রকৃত দুর্গাপূজা — শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ॥ 🌺
#দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী

#তৃতীয়_পর্ব

ভৃঙ্গীশ সংহিতার মহারাজ্ঞী প্রাদুর্ভাব অংশে কাশ্মীরের #ক্ষীরভবানী-র কাহিনী আলোচিত হয়েছে। তিনি রাবণোপাসিতা শ্রীবিদ্যা, দশাননের ইষ্টদেবী। উক্ত গ্রন্থে তাঁকে মহাসংকর্ষিণী, নিকুম্ভিলা, ভদ্রকালী নামেও অভিহিত করা হয়েছে। তাঁকে শ্রীরামচন্দ্র পূজা করেছিলেন । আবার এখানে বলা হয়েছে শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধও হয়েছিল আশ্বিনের শুক্ল সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত, যা দুর্গাপূজার সঙ্গে সঙ্গতপূর্ণ।

🌷 কিরূপে দেবী #ভবানী লঙ্কা ত্যাগ করে কাশ্মীরে এলেন, সেই কাহিনীটি নিম্নরূপ—

মহর্ষি পুলস্ত্যের পুত্র রাক্ষসরাজ রাবণ বাল্যকালেই একবার কুবেরের রত্নখচিত লঙ্কাপুরী দেখে সেটি পাওয়ার লোভে কাঁদতে শুরু করেন।
​ভগবান শিব তখন মহর্ষি পুলস্ত্যকে জানান যে এই বালক ভবিষ্যতে ত্রিলোকের জন্য অত্যন্ত দুঃখের কারণ হবে। ভগবান শিব রাবণকে উপদেশ দেন প্রথমে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য। এরপর রাবণ বিন্ধ্য পর্বতে গিয়ে দশ হাজার বছর ধরে অত্যন্ত কঠোর তপস্যা করেন।
​তাঁর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা তাঁকে লঙ্কার রাজত্ব এবং অজেয় হওয়ার বর প্রদান করেন। তবে ব্রহ্মা তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ভগবান বিষ্ণুর অন্তরঙ্গা শক্তি 'সীতা' রূপে জন্মগ্রহণ না করা পর্যন্তই তাঁর এই অজেয়ত্ব বজায় থাকবে।
লঙ্কা লাভ করার পর রাবণ অহংকারী হয়ে ওঠেন এবং দেবতাদের নানাভাবে অত্যাচার করতে শুরু করেন।
​তিনি মলয় পর্বতে ভৈরবভট্টারকের আরাধনায় মগ্ন হন এবং নিজের মস্তক ছিন্ন করে পরমেশ্বর শিবের চরণে অর্পণ করলেও শিব প্রসন্ন হননি।
​তখন দেবর্ষি নারদ সেখানে এসে রাবণকে উপদেশ দেন যে, মহাদেব ভূতেশ্বর কেবল শরীর ছেদনে বা স্তুতিপাঠে প্রসন্ন হন না, তিনি নন্দী ও তুম্বুরুর মতো 'নাদ' বা মধুর ধ্বনিতে সন্তুষ্ট হন।
​নারদের উপদেশে দশানন রাবণ তাঁর অবশিষ্ট একটি মাত্র মাথা দিয়ে অত্যন্ত মধুর ও প্রবোধক 'ভৈরব নাদ' সৃষ্টি করেন।
​এই নাদে মহাদেবের ধ্যানভঙ্গ হয় এবং তিনি রাবণের প্রতি তুষ্ট হয়ে তাঁকে তিনটি বর দেন: রাবণ রাগ-অনুরাগের রাজা হবেন, তাঁর দশটি মাথা আগের মতোই ফিরে আসবে এবং তিনি দানবদের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হবেন।
শিবের বর পেয়ে বলদর্পী রাবণ ত্রিলোকের মুনি-ঋষি, দেবতা ও মানবদের ওপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার শুরু করেন।
একদা ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করার জন্য এক লক্ষ বছর ধরে কঠোর তপস্যা শুরু করেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ আহার ত্যাগ করে, ইন্দ্রিয় সংযম করে এবং একটি মাত্র পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এই ঘোর তপস্যা করছিলেন।
​একদিন তাঁর আশ্রমে হঠাৎ একদল শিকারী সিংহ ও বন্য শূকর তাড়া করতে করতে প্রবেশ করে। শিকারীদের বাণে বিদ্ধ ও ভীত পশুদের কোলাহলে রাবণের ধ্যানে বিঘ্ন ঘটে। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে রাবণ এক তীরের আঘাতেই সব শিকারী ও পশুদের হত্যা করার কথা চিন্তা করেন। ঠিক এই ধ্যানের সময়ই তিনি মহাদেবের প্রলয়ংকরী, ত্রিনেত্রধারী ও তামসী রূপের দর্শন পান।
ভক্তিভরে রাবণ ভগবান শিবের স্তুতি ও সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করলে, শিব সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বর চাইতে বলেন। কিন্তু শিব বুঝতে পেরেছিলেন যে রাবণের মন তখনও হত্যাক্রিয়ার তামসিক প্রবৃত্তিতে পূর্ণ। তাই তিনি রাবণকে উপদেশ দেন তাঁর মহাশক্তি 'তামসী' রূপের আরাধনা করতে, যিনি ত্রিগুণের অতীত, তরুণী এবং দ্বাবিংশাক্ষর মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্যামা।
​শিবের নির্দেশে রাবণ পুনরায় দশ হাজার বছর ধরে মধ্যাহ্ন-সূর্যের মতো তেজস্বিনী দেবী #শ্যামা-র আরাধনা করেন। রাবণের কঠোর সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে মহামায়া দেবী আবির্ভূত হন এবং তাঁকে তিন যুগ পর্যন্ত ত্রিলোকের নিষ্কণ্টক রাজা হওয়ার বর প্রদান করেন। রাবণের বিনীত প্রার্থনায় দেবী তাঁর লঙ্কাপুরীতে অবস্থান করতেও সম্মত হন।
দেবী লঙ্কায় ঈশান কোণে অনন্ত নাগের আসনে বিরাজমান হন।
​ধর্ম সংস্থাপনের জন্য স্বয়ং ঈশ্বর দশরথের পুত্র শ্রী #রামচন্দ্র রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
​রাবণ সীতাকে হরণ করার পর শ্রী রাম বানর সেনা নিয়ে লঙ্কা আক্রমণ করেন এবং আশ্বিন মাসের শুক্ল সপ্তমী তিথিতে ঘোর যুদ্ধ শুরু হয়।
​যুদ্ধে মেঘনাদ নিহত হলে রাবণ অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েন।
​এই সময় তাঁর পতিব্রতা স্ত্রী মন্দোদরী তাঁকে দেবর্ষি নারদের পূর্বকথিত সতর্কবাণী স্মরণ করিয়ে দেন।
​মন্দোদরী রাবণকে অনুরোধ করেন সীতাকে সসম্মানে রামের হাতে তুলে দিতে, বিভীষণকে লঙ্কার রাজ্যভার দিতে এবং নিজেরা শিবের তপস্যায় মনোনিবেশ করতে।
রাবণ মন্দোদরীর এই হিতোপদেশ ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করেন।

🌸 তিনি অত্যন্ত অহংকারের সাথে নিকুম্ভিলা ( #ভদ্রকালী) মণ্ডপে যান, —
ইতি শ্রুত্বা বচস্তস্যা মন্দোদর্যা মুখাম্বুজাৎ । নিরাদৃত্য গতঃ স্থানং যত্র দেবী নিকুম্ভিলা ॥৪৮॥
~ ভৃঙ্গীশ সংহিতা, মহারাজ্ঞী মাহাত্ম্য, অধ্যায় ২
🔴 অর্থ — "মন্দোদরীর মুখপদ্ম নিঃসৃত সেই বাক্য শুনে সেটিকে উপেক্ষা করে, সে (রাবণ) সেই স্থানে গমন করলেন যেখানে দেবী #নিকুম্ভিলা অবস্থিতা।"

দশানন আস্ফালন করে বলেন যে তিনি শ্রী রামকে সেখানে আকর্ষণ করে এনে দেবীর চরণে বলি দেবেন।
​রাবণের আহ্বানে শ্রী রামচন্দ্র সত্যিই সেই মণ্ডপে আবির্ভূত হন।

🌸 ​রাবণ রামকে সীতা ত্যাগ করে পালিয়ে যেতে বললে, শ্রী রামচন্দ্র দেবী শ্যামার পাদুকা স্পর্শ করে শপথ নেন যে, —
শ্রীশ্যামায়াঃ পাদুকায়াং প্রাহ রাজীবলোচনঃ ॥
ভো ভো দুষ্ট দুরাচার কিং ব্রজাম গৃহং প্রতি । সোতাং গৃহ্ণামি শ্রী শ্যামাং গৃহীত্বা ত্বাংনিপাত্যচ । লঙ্কাং দাস্যামি তে ভ্রাত্রে ভক্তায় সুহৃদায় মে॥
~ ভৃঙ্গীশ সংহিতা, মহারাজ্ঞী মাহাত্ম্য, অধ্যায়২
🔴 অর্থ — "শ্রীশ্যামার পাদুকাস্পর্শ করে রাজীবলোচন শ্রীরামচন্দ্র বললেন:
"হে দুষ্ট দুরাচার, তুমি কেন গৃহের দিকে যাচ্ছ? আমি সীতাকে উদ্ধার করব, শ্রীশ্যামাকে নিয়ে যাব এবং তোমাকে নিপাত করে লঙ্কা আমার সেই ভক্ত ও সুহৃদ ভ্রাতাকে (বিভীষণকে) প্রদান করব।"

​এই কথা শুনে আশ্বিন মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথির মধ্যরাত্রে রাবণ খড়্গ নিয়ে রামকে আক্রমণ করতে যান।
​ঠিক সেই মুহূর্তে দেবী শ্যামা #মহারাজ্ঞী আবির্ভূতা হয়ে রাবণের দুষ্কর্মের জন্য তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং জানান যে তিনি লঙ্কা ত্যাগ করে সতীসর বা কাশ্মীর উপত্যকায় চলে যাচ্ছেন।
​
রাবণবধের পর ​শ্রী রামচন্দ্রের আজ্ঞাবহ ও প্রিয় দূত মহাবলী হনুমানের কাঁধে চড়ে দেবী ভবানী সতীদেশ বা কাশ্মীর অভিমুখে যাত্রা করেন। তাঁর সাথে ছিল অনন্ত নাগ এবং আরও ৩৬০টি বিশেষ জলসর্প। তাঁদের এই যাত্রাপথটি ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর:
সর্বপ্রথম তাঁরা পীর পঞ্চাল পর্বতমালা অতিক্রম করে পাথরময় 'বিষ্ণুপাদ' নামক পবিত্র তীর্থে পৌঁছান।
এরপর তাঁরা 'মধ্যগ্রাম' এবং বিষ্ণুগঙ্গা নদীর তীরে 'দিব্যস্থলী' হয়ে 'খল্বারণী' নামক সুন্দর বনে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে জলাভাব দেখে দেবী আরও উত্তরের দিকে অগ্রসর হন।
তাঁরা মার্তণ্ড তীর্থের কাছে 'লঘুপুর', তারপর 'লোকপুর', 'রায়স্থল', 'বাদিপুর', বরাহমূলের 'কোটিতীর্থ' এবং 'চণ্ডুপুর' ও 'টক্কর' (টুক্কর) গ্রাম ভ্রমণ করেন। অবশেষে 'শারদা' তীর্থ হয়ে তাঁরা সতীদেশে সিন্ধু ও বিতস্তা নদীর সঙ্গমস্থলের (শাদিপুর) কাছে উপস্থিত হন।
সঙ্গমস্থলের চারপাশটি পবিত্র নদীর জলবেষ্টিত কাদা ও জলাভূমিতে পূর্ণ থাকায়, দেবী এটিকে তাঁর অনুচর সাপেদের বসবাসের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত মনে করেন। তিনি হনুমানকে নির্দেশ দেন সাপেদের তুলার মতো নরম কাদা মাটিতে ছেড়ে দিতে এবং নিজে সেখানকার সুবিশাল ছায়াঘেরা স্থানে বিশ্রাম নেন। এই মনোরম স্থানটি হরিমুকুট পর্বত দ্বারা বেষ্টিত ছিল। এখানকার মাটি তুলার (তুল) মতো নরম এবং জমি অত্যন্ত সুলভ (মূল্য) হওয়ায় এই স্থান কালক্রমে 'তুলমূল্য' বা বর্তমানে 'তুলমূল' নামে বিখ্যাত হয়।
​দেবী #হনুমান-কে বিদায় জানিয়ে নিজেই এই স্থানে সম্পূর্ণ শান্ত ও সাত্ত্বিক রূপ ধারণ করেন।

সেই সময়ে দেবী ভবানীকে শ্রীরামচন্দ্র, সীতা, হনুমান ও সমগ্র বানরসেনা পূজা করেছিলেন,
তদা প্রভৃতি শ্রী রামঃ পূর্ণিমায়াং দিবা নিশম্ ॥৭০॥ যাত্রাং করোতি বিধিবৎ স সীতাং সানুজঃ হরিঃ ।
মন্দোদর্যাথ চাষ্টম্যাং নবম্যাং বা বিভীষণঃ ॥৭১॥
হনূমাস্তু সদৈবাত্র বর্ততে দ্বারপো বলী ।
পর্বস্বেতেষু সম্পূজ্য জনৈঃ সর্বার্থসিদ্ধয়ে ॥ ৭২॥
~ ভৃঙ্গীশ সংহিতা, মহারাজ্ঞী প্রাদুর্ভাব, তৃতীয় পটল

লঙ্কায় যিনি ছিলেন ঘোর তামসী 'শ্যামা', তুলমূলে এসে তিনি দুধ, চিনি ও ঘি-এর নৈবেদ্য গ্রহণকারী পরম শান্ত 'মহারাজ্ঞী' নামে পরিচিতা হলেন। তামসিক দ্বাবিংশাক্ষর মন্ত্রের বদলে তিনি এখানে পঞ্চদশাক্ষরী শান্ত মহামন্ত্র দ্বারা পূজিতা হতে লাগলেন।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, কাশ্মীরের শাস্ত্রেও শ্রীরামচন্দ্রের দুর্গা-উপাসনার বর্ণনা রয়েছে।

জয় মা ভবানী 🙏🏻🌺

#দুর্গোৎসব #শারদীয়া #দুর্গাপূজা **ra #তন্ত্র #পার্বতী #কালীকুল

🔴 ॥ শ্রীরামচন্দ্রকৃত দুর্গাপূজা — শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ॥ 🔴 #দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী    #দ্বিতীয়_পর্ব পূর্বেকার পোস্টে আমরা স...
04/10/2026

🔴 ॥ শ্রীরামচন্দ্রকৃত দুর্গাপূজা — শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ॥ 🔴
#দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী

#দ্বিতীয়_পর্ব

পূর্বেকার পোস্টে আমরা স্কন্দপুরাণের সেতুমাহাত্ম্য খণ্ড থেকে দেখিয়েছি যে ধনুষ্কোটিতে #শ্রীরামচন্দ্র ভগবতী দুর্গার উপাসনা করেছিলেন। সেটির আধারেই বাংলার কৃত্তিবাসী রামায়ণের কাহিনীর প্রেক্ষাপট রচিত। তবে, অপরাপর সংস্কৃত শাস্ত্রে শ্রীরামচন্দ্র বিভিন্ন সময়ে মহামায়ার পূজা করেছিলেন। ভবানীক্রম অনুযায়ী, শ্রীরামচন্দ্রের ইষ্টদেবতা ভগবতী #পার্বতী-ই। স্কন্দপুরাণের সহ্যাদ্রিখণ্ডের ভবানী মাহাত্ম্যে শ্রীরামচন্দ্রের শারদীয় নবরাত্রোৎসবে গিরিজা পূজার বর্ণনা রয়েছে।

🌺 ভবানী মাহাত্ম্যের পঞ্চম অধ্যায়ে বলা হয়েছে,
বরিষ্ঠ মুনি ভগবান শঙ্করকে প্রণাম করে জিজ্ঞাসা করেন যে, যমুনাচল পর্বতে শ্রীরামচন্দ্রের সাথে দেবী পার্বতীর সাক্ষাৎ ঠিক কোন সময়ে এবং কীভাবে হয়েছিল, তা তিনি বিস্তারিতভাবে জানতে চান। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন,
বরিষ্ঠ উবাচ
কথং রামেণ সা দেবী স্তুতা দেব বরোত্তমম্ ।
সহস্রনামভিশ্চৈব পূজিতা তদ্বদস্ব মে ॥
~ ভবানী মাহাত্ম্য, পঞ্চম অধ্যায়

ভগবান মহাদেব উত্তরে বলেন যে, ত্রেতাযুগে রাবণ বধের উদ্দেশ্যে ভগবান নারায়ণ দশরথের পুত্র শ্রীরামচন্দ্র রূপে অবতীর্ণ হন। কৈকয়ীর কারণে শ্রীরামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের বনবাস গ্রহণ করেন এবং সীতা ও লক্ষ্মণকে সাথে নিয়ে দণ্ডকারণ্যে ভ্রমণ করতে করতে অগস্ত্য মুনির আদেশে গোদাবরীর তীরে পঞ্চবটীতে অবস্থান করেন। সেখানে কপট রাবণ সীতাকে হরণ করে নিয়ে যায়। সীতাবিরহে দুঃখিত রাম ও লক্ষ্মণ জটায়ুর কথা শুনে দক্ষিণ দিকে যাত্রা করেন এবং যমুনা পর্বতে এসে পৌঁছান। তৃষ্ণার্ত শ্রীরাম তখন বাণ নিক্ষেপ করে পাতালে ছিদ্র তৈরি করেন এবং ভোগবতী নদীর জল নিয়ে আসেন। ঠিক সেই সময়েই দেবী জগদম্বা সেখানে অবতীর্ণ হয়ে তাঁদের দর্শন দেন। শ্রীরাম তাঁকে নিজের পূর্বজন্মের (পরশুরাম অবতারের) মাতা রেণুকা রূপে চিনতে পেরে লক্ষ্মণসহ তাঁকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন।
শাস্ত্রাদিতে সিদ্ধ যে ভগবতী রেণুকা ও ঋষি জমদগ্নি যথাক্রমে গিরিজা ও শিবের অবতার।
জমদগ্নিঃ শিবভাগঃ ভাগস্ত্বং দেবি শৈলকন্যায়াঃ ।
এবং জ্ঞাত্বা যস্ত্বাং ভজতি স ধন্যো মহাভাগঃ ॥
~ গণপতিমুনিবিরচিত রেণুকাসপ্তকম্
🔴 অর্থ — "জমদগ্নি ঋষি শিবের অবতার ও তুমি( #রেণুকা) শৈলপুত্রীর স্বরূপ। যে ব্যক্তি এই সত্য জেনে তোমার উপাসনা করে, সে সত্যিই ধন্য ও মহাভাগ্যবান।"

বশিষ্ঠ মুনির প্রশ্নের উত্তরে শঙ্কর জানান যে, শ্রীরামচন্দ্র হাত জোড় করে পরম ভক্তিভরে দেবীর স্তুতি করেছিলেন। শ্রীরাম স্তবের মাধ্যমে দেবীর বন্দনা করেন,
রামোবাচ
নমামি ত্বরিতাং দেবীং সুন্দরাং সুভগাং সুখাম্ ।
নানারূপধরাং ভিল্লীং সর্বপ্রাণিহিতেরতাম্ ॥
ষট্চক্রপত্রনিলয়াং সহস্রাখ্যাং পরাম্ ।
নাগরূপাং কুণ্ডলিনীমম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
সোহংমন্ত্রময়াং ধীরাং অজপাজপরূপিণীম্ ।
সর্ববীজময়াং শক্তিং অম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
ঐংবীজাং বাগ্ভবাং বাণীং বাগগোচরমণ্ডলাম্ ।
বাচস্পতিনুতাং শক্তিং অম্বাদেবীং নমাম্যহং ॥
ক্লীংকামবীজচলনীং চাতুবর্ণকৃতালয়াম্ ।
কামৈঃ কল্পিত কন্দর্পাং অম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
সৌধিসর্বস্যজননীং সকলাগমসেবিতাম্ ।
সামীপ্যদায়িনীং শক্তিং অম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
নবাক্ষরপরাং শান্তাং ষোডশাক্ষরমীরিতাম্ ।
দ্বিপঞ্চাশন্মাতৃকারূপামম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
কল্পান্তিতাং বিষ্ণুমায়াং বিন্দুত্র্যস্ত্রিকৃতালয়াম্ ।
ষট্কোণকোণমধ্যস্থাং অম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
বৰ্তুলাং ভৈরবযুতাং অষ্টবর্ণৈশযুগ্ম​কাম্ ।
শূলবর্গাষ্টকযুতামম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
চক্ররাজময়ীং মন্ত্রাং সর্বচক্রনিষেবিতাম্ ।
বেদাক্ষরনুতাং নীলামম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
সপ্তস্বরৈর্গীয়মানাং মূর্চ্ছায়ামৈর্নিষেবিতাম্ ।
তালনাট্যকৃতাহ্লাদামম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
রজোরূপময়ীং কালীং কালনিদ্রাপ্রবর্ত্তিতাম্ ।
বিষ্ণুনেত্রাস্যনিলয়ামম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
সত্ত্বস্থাং সত্ত্বসম্পন্নাং সর্বলোকমেনোরমাম্ ।
লক্ষ্মীং কমলহস্তাং তাং অম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
তমোস্বরূপাং কালীঞ্চ সর্বকার্যবিনাশিনীম্ ।
কলাকাষ্ঠাদিকলনামম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
অজরূপাং বালরূপাং দীর্ঘরূপাং কৃশাঙ্গিকাম্ ।
স্থূলস্বরূপামপরামম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
যমুনাদ্রিকৃতাবাসাং যোগিনীবৃন্দসেবিতাম্ ।
ভক্তোল্লাদকরীং শক্তিমম্বাদেবীং নমাম্যহম্ ॥
~ স্কন্দপুরাণ, সহ্যাদ্রিখণ্ড, ভবানী মাহাত্ম্য, অধ্যায় ৫

দেবাদিদেব বলেন, এই দেবীকথা অত্যন্ত পবিত্র এবং এটি শ্রবণ করলে পুণ্য ও শান্তি লাভ হয়। স্তুতি শেষে শ্রীরামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ দেবীর সামনে কৃতাঞ্জলি হয়ে দাঁড়ান। এরপর শ্রীরামচন্দ্র পরমমঙ্গলময়ী ভবানীর সহস্রনাম পূজার প্রস্তুতি নেন। শ্রীরামচন্দ্র দেবীর প্রতিটি নাম উচ্চারণ করে তাঁকে প্রণাম নিবেদন করেন এবং পরম ভক্তিভরে এই পূজা সম্পন্ন করেন। শ্রীরামচন্দ্রের এই আরাধনায় ও পূজায় দেবী তুলজা ভবানী অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং রাম ও লক্ষ্মণকে আশীর্বাদ করেন।
​দেবী শ্রীরামকে দক্ষিণ দিকে ঋষ্যমুক পর্বতে পম্পা সরোবরের তীরে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যেখানে তাঁর সাথে বানররাজ সুগ্রীব এবং হনুমানের সাক্ষাৎ ও মিত্রতা হবে।
​দেবী বর দেন যে, শ্রীরামচন্দ্র রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করবেন এবং বিভীষণকে লঙ্কার রাজত্ব প্রদান করবেন।

গিরিজা শৈলসংস্থা চ দুর্গজা দুর্গবাসিনী ।
সিদ্ধিমার্গা মণ্ডলিনী উত্তরা তরলা সমা ॥

ভগবতী ভবানী জয়যুক্তা হউন! 🌺

#দুর্গা #দুর্গাপূজা #সনাতন #হিন্দুত্ব **ra #শাক্ত #দশমহাবিদ্যা #মহাদেব #শিব #তন্ত্র

🌺 ॥ উৎকলদুর্গা – কলিঙ্গের দুর্গোৎসব ॥ 🌺 #দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী   শুরু হয়ে গেলো তৃতীয় কল্পের দুর্গোৎসব। আশ্বিনের কৃষ্ণাষ্...
03/10/2026

🌺 ॥ উৎকলদুর্গা – কলিঙ্গের দুর্গোৎসব ॥ 🌺
#দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী

শুরু হয়ে গেলো তৃতীয় কল্পের দুর্গোৎসব। আশ্বিনের কৃষ্ণাষ্টমী থেকে ষোড়শদিন ব্যাপী ওড়িশায় পালিত হয় দুর্গোৎসব। এই সময় দেবী #জয়দুর্গা-র পূজা হয়। এই উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য দুর্গা-মাধব যাত্রা। এই জয়দুর্গা জগন্নাথভগিনী একানংশা #সুভদ্রা-রই রূপবিশেষ। পূর্বেকার পোস্টেই আলোচিত হয়েছে দেবী সুভদ্রা ভগবতী #পার্বতী-রই রূপবিশেষ। দুর্গামাধব যাত্রা আসলে দিব্যভ্রাতাভগিনীর উৎসব।

🏵 এতদ্বিষয়ে বামদেব সংহিতা বলেছে,
দেবং স্বস্থানকে রক্ষেদাশ্বিনস্য বিধিং শৃণু ॥
শ্রীবামদেব উবাচ
ইষকৃষ্ণেঽপি সপ্তম্যাং প্রাতঃ পূজাবসানতঃ । জয়দুর্গা সমানীয় তস্যাঃ কুম্ভাভিষেচনম্ ॥
জগন্নাথো রাজবর্যো যতোঽপ্যেতস্য কর্মকম্ । দিনং দেব্যুত্থাপনকং যতস্তৎ স্নানমাচরেৎ ॥
পূজাং কৃত্বা নয়েৎস্থানেঽপ্যষ্টম্যাং প্রথমার্চনম্ । কৃত্বা দুর্গামাধবং চ সমানীয় প্রপূজয়েৎ ॥
তয়োর্বন্দাপনাং কৃত্বা দেবস্য চণ্ডিকাগৃহম্ । নীত্বা রক্ষেৎ ক্বচিদ্দেশে বিমলাপূজনং শুভম্ ॥
কৃত্বা ত্রিকালপূজান্তে উভাবানীয় স্বস্থলে । রক্ষেত্তু চাবধির্দেবি হ্যষ্টদিবসপূর্বকম্ ॥
নবমে বাহ্যপূজাং চ কৃত্বা পূজাং তৃতীয়কাম্ । ততোঽপ্যানীয় স্বস্থানং সংরক্ষেত্তু পুনঃ শৃণু ॥
বিমলায়াং বৃহৎপূজাং কৃত্বা শাস্ত্রবিধির্যথা । দশম্যাং প্রথমার্চান্তে দেবানপি সুভূষয়েৎ ॥
মঙ্গলারোপণং কৃত্বা রামচন্দ্রং চ কৃষ্ণকম্ । মাধবং জয়দুর্গা চ নয়েদ্দেবস্য সন্নিধৌ ॥
আয়ুধানি সমারক্ষেদ্দেবাঙ্গান্মাল্যমানয়েৎ । তেষাং গলেষু তে দদ্যুর্যানেষু চোপবেশয়েৎ ॥
মহোৎসবৈঃ সমানীয় প্রাসাদভ্রমণং চরেৎ । মরীচিকাসমীপং তু নীত্বা পূজাদিকং চরেৎ ॥
ততো বন্দাপনাং কৃত্বা দেবান্ স্বপদমানয়েৎ । এতস্মিন্ সময়ে দেবি ! পশ্যন্তি যে জনার্দ্দনম্ ॥
তে সর্বে সুখমাভুজ্য গচ্ছন্ত্যন্তে হরেঃ পদম্ ।
~ বামদেব সংহিতা, অধ্যায় ২৬, শ্লোক ৩১-৪৩খ

🔴 অর্থ — "আশ্বিন মাসের বিধি শ্রবণ করো।
​শ্রী বামদেব বললেন—
আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমী তিথিতে প্রাতঃকালীন পূজা সমাপ্ত হওয়ার পর জয়দুর্গাকে এনে তাঁর কুম্ভাভিষেক সম্পন্ন করবে।
​যেহেতু #শ্রীজগন্নাথ রাজাধিরাজ, তাই এটি তাঁরই কর্ম। যেহেতু এই দিনটি দেবীর উত্থাপন দিবস, তাই সেই স্নান সম্পন্ন করবে।
​পূজা করে তাঁকে নিজ স্থানে নিয়ে যাবে। এরপর অষ্টমী তিথিতে প্রথম পূজা সম্পন্ন করার পর দুর্গা ও মাধবকে একসঙ্গে এনে উত্তমরূপে পূজা করবে।
​ তাঁদের উভয়ের বন্দনা (আরতি) করে দেবতার #চণ্ডিকা-গৃহে বা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গিয়ে রক্ষা করবে এবং দেবী বিমলার শুভ পূজা সম্পন্ন করবে।
​ত্রিকালীন পূজা শেষে তাঁদের উভয়কে পুনরায় নিজ স্থানে এনে রক্ষা করবে। হে দেবী! এই বিধি আট দিন পর্যন্ত চলবে।
​নবম দিনে বাইরে তৃতীয় পূজা সম্পন্ন করে, তারপর তাঁদের নিজ স্থানে এনে রক্ষা করবে। পুনরায় শ্রবণ করো।
​শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী দেবী #বিমলা-র বৃহৎ পূজা সম্পন্ন করে, দশমী তিথিতে প্রথম পূজার শেষে দেবতাদের উত্তমরূপে ভূষিত করবে ।
​মঙ্গলারোপণ সম্পন্ন করে রামচন্দ্র, কৃষ্ণ, মাধব এবং জয়দুর্গাকে মূল দেবতার (শ্রীজগন্নাথের) সন্নিধানে বা নিকটে নিয়ে যাবে।
​তাঁদের অস্ত্রসমূহ রক্ষা করবে এবং দেবতার শ্রীঅঙ্গ থেকে মালা আনবে। সেই মালা তাঁদের গলায় পরিয়ে দেবে এবং তাঁদের যানে (বাহনে বা পালকিতে) উপবেশন করাবে।
​মহোৎসব সহকারে তাঁদের নিয়ে এসে মন্দির প্রদক্ষিণ করাবে। তারপর মরীচিকার (বা নির্দিষ্ট মন্দিরের) নিকটে নিয়ে গিয়ে পূজাদি সম্পন্ন করবে।
​তারপর বন্দনা (আরতি) করে দেবতাদের নিজ স্থানে ফিরিয়ে আনবে। হে দেবী! এই সময়ে যাঁরা ভগবান জনার্দনকে দর্শন করেন, তাঁরা সকলে ইহকালে সমস্ত সুখ ভোগ করে অন্তিমকালে শ্রীহরির পরম পদ লাভ করেন।"

সুতরাং স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে দেবী জয়দুর্গা আসলে ভগবতী বিমলা-রই রূপভেদ। আর বামদেব সংহিতার মতে স্পষ্টতই দেবী #গৌরী বিমলাদি অষ্টরূপ ধারণপূর্বক শিবের অষ্ট রূপের সঙ্গে শঙ্খক্ষেত্রে নিবাস করেন।

🏵 দেবী জয়দুর্গার ধ্যানটি নিম্নরূপ —
ধ্যায়েৎ সুবর্ণবর্ণাভাং ত্রিনেত্রাং চারুহাসিনীম্।
সর্বলক্ষণসম্পন্নামর্দ্ধেন্দু কৃতশেখরাম্ ॥
চতুর্ভুজাং শঙ্খচক্রধরাং বালস্বরূপিণীম্ ।
উদ্যৎত্রিশূলনির্ভিন্নাং মহিষাং সিংহবাহিনীম্ ॥
মুক্তাদামলসৎকণ্ঠং মুনিভিস্তুতিপাঠকৈ ।
সিদ্ধদেবগণে যুষ্ঠং কুমারীভিশ্চ সেবিতাম্ ॥
সর্বকামপ্রদাং দুর্গাং বরদা ভক্তবৎসলা ॥

🔴 অর্থাৎ, যাঁর গাত্রবর্ণ স্বর্ণের ন্যায় উজ্জ্বল, যিনি ত্রিনয়নী ও সুন্দর হাস্যময়ী; যিনি সমস্ত সুলক্ষণযুক্তা এবং যাঁর মস্তকে অর্ধচন্দ্র শোভা পায়; যিনি চতুর্ভুজা, শঙ্খ ও চক্র ধারিণী এবং বালারূপিণী; যিনি উত্তোলিত ত্রিশূল দ্বারা মহিষাসুরকে বিদ্ধ করেছেন এবং যিনি সিংহবাহিনী; যাঁর কণ্ঠদেশ মুক্তামালায় সুশোভিত, স্তুতিপাঠক মুনিগণ যাঁর আরাধনা করেন; যিনি সিদ্ধ ও দেবগণ কর্তৃক পূজিতা এবং কুমারীগণ দ্বারা সেবিতা; যিনি সকল মনস্কামনা পূরণকারিণী, বরদায়িনী এবং ভক্তদের প্রতি স্নেহময়ী—সেই দেবী দুর্গাকে ধ্যান করা উচিত।

🏵 নীলাদ্রিমহোদয় গ্রন্থেও আমরা দুর্গা-মাধব যাত্রার বিবরণ পাই, —
আশ্বিনস্য চ মাসস্য বিধিং শৃণু নৃপোত্তম । আশ্বিনস্যাসিতে পক্ষেঽষ্টম্যাং চ সুমুহূর্ত্তকে ॥
প্রাতঃ কালার্চনং কৃত্বা ক্ষালয়েদ্দেবতাপুরঃ । জয়দুর্গা সুবর্ণেন রচিতাং সুমনোহরাম্ ॥
ভদ্রান্তিকেঽপি সংন্যস্য সুভদ্রাং প্রার্থয়েদ্বিজঃ । ভদ্রে দেবী নমস্তুভ্যমাজ্ঞাপয় সুরেশ্বরি ॥
দুর্গোৎসবাঙ্গভূতায় সহস্রকুম্ভকেন তু । অভিষেকায় গিরিজাং জগদানন্দকারিণীম্ ॥
ইতি সম্প্রার্থ্য রাজেন্দ্র সুভদ্রাঙ্গাৎ স্রজং পুনঃ । আনীয় দুর্গাদেব্যৈ তৎ প্রাসাদস্য চ পূর্বতঃ ॥
~ নীলাদ্রিমহোদয়, অধ্যায় ২৮, শ্লোক ১৩-১৭
🔴 অর্থ — "হে নৃপশ্রেষ্ঠ! আশ্বিন মাসের বিধি শ্রবণ করুন। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শুভ মুহূর্তে প্রাতঃকালীন পূজা সম্পন্ন করে দেবতাদের সম্মুখে সুবর্ণ-নির্মিতা অতি মনোহরা জয়দুর্গার মূর্তিকে প্রক্ষালন বা ধৌত করবেন।
তারপর সেই মূর্তিকে দেবী সুভদ্রার নিকটে স্থাপন করে পুরোহিত দেবী সুভদ্রার কাছে প্রার্থনা করবেন— "হে দেবী ভদ্রে! আপনাকে নমস্কার। হে সুরেশ্বরী! দুর্গোৎসবের অঙ্গস্বরূপ সহস্র কুম্ভের জল দ্বারা জগদানন্দদায়িনী #গিরিজা-র (দেবী পার্বতীর) অভিষেকের জন্য আপনি আজ্ঞা প্রদান করুন।"
হে রাজেন্দ্র! এইভাবে প্রার্থনা করে দেবী সুভদ্রার শ্রীঅঙ্গ থেকে একটি মালা এনে তা দেবী দুর্গাকে প্রদান করবেন এবং মন্দিরের পূর্বদিকে নানা সাজসজ্জায় সজ্জিত, চতুষ্কোণ, চারদ্বার যুক্ত এবং চাঁদোয়া দ্বারা সুশোভিত এক মনোরম মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে ভদ্রাসনে স্থাপন করে আচার্য পঞ্চোপচার বিধানে বরুণ দেবের পূজা করবেন।"

জগন্মাতা উমার আগমনে সকলের কল্যাণ হউক!

ভগবতী শম্ভুবনিতা মাধবসহোদরী যোগমায়া জয়দুর্গা জয়যুক্তা হউন 🙏🏻

#দুর্গা #জগন্নাথ #দুর্গোৎসব #দুর্গাপূজা #দুর্গাপূজা #পুরী **ra #দশমহাবিদ্যা # #শিব #তন্ত্র #কালীকুল #যোগমায়া

🌺 ॥ শ্রীরামচন্দ্রকৃত দুর্গাপূজা — শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ॥ 🌺 #দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী    #প্রথম_পর্ব 🔴শারদীয় নবরাত্রোৎসব এবং চ...
03/10/2026

🌺 ॥ শ্রীরামচন্দ্রকৃত দুর্গাপূজা — শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ॥ 🌺
#দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী

#প্রথম_পর্ব 🔴

শারদীয় নবরাত্রোৎসব এবং চারদিন ব্যাপী কাত্যায়নী পূজার ভিত্তি হিসেবে যে কাহিনীটি সর্বাধিক প্রচলিত, তা হলো ভগবান #শ্রীরামচন্দ্র রাবণবধের উদ্দেশ্যে দেবী #ভবানী-র অর্চনা করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের নিরিখে দেখলে, কৃত্তিবাসী রামায়ণে এটির বর্ণনা আমরা দেখতে পাই। সেখানে কৃত্তিবাস নিজের কল্পনার তুলিতে আপন মাধুরী মিশিয়ে সেই কাহিনীটি উপস্থাপন করেছিলেন। অনেকেই শ্রীরামচন্দ্রের দুর্গা আরাধনার ব্যাপারটিকে অশাস্ত্রীয় লোককাহিনী বলে উড়িয়ে দেন। এ ধারণা অনুচিত। অবশ্যই বাল্মিকী রামায়ণে এর উল্লেখ না থাকলেও পুরাণ তন্ত্রাদি শাস্ত্রে এই কাহিনীর বিভিন্ন রকম ভাবে বর্ণনা রয়েছে। একজন নিষ্ঠাবান সনাতনী হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সকল শাস্ত্রকে মর্যাদা দেন। পুরাণ তন্ত্রাদিতে বর্ণিত এই কাহিনীকে অস্বীকার করা মানে হিন্দুত্বকে অপমান করা, মর্যাদা পুরুষোত্তম রামচন্দ্রকে অপমান করা। বাল্মিকী রামায়ণে তো অনেক কিছুই নেই, শ্রীরামচন্দ্রের পূজা পদ্ধতি নেই, নেই হনুমান চালিসাও। তাই বলে সেগুলি নিশ্চয়ই যেমন ফেলনা নয়, তেমনই রামচন্দ্র কর্তৃক দুর্গা আরাধনাকে অশাস্ত্রীয় বলাও অপরাধ। শ্রীরামের দুর্গাপূজা বাঙালির নিজস্ব ধারণা নয়। সেইটিই এই আলোচনায় আমরা দেখে নেবো পর্বে পর্বে —

স্কন্দপুরাণের #সেতুমাহাত্ম্য খণ্ডটি দক্ষিণ ভারতের তীর্থমাহাত্ম্যবিষয়ক প্রধান শাস্ত্রসমূহের মধ্যে অন্যতম। রামসেতু বা ধনুষ্কোডি অঞ্চলের তীর্থগুলির বর্ণনা এতে রয়েছে। ধনুষ্কোডি অঞ্চলের দেবীপট্টন নামক তীর্থে দেবী #মহিষমর্দিনী অবস্থিতা। সেতুখণ্ডের ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ে সেই তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।

কাহিনী অনুসারে, —
ঋষিগণ বললেন, "হে ব্যাসশিষ্য, পুরাণবিদ শ্রেষ্ঠ সূত! আপনি এর আগে আমাদের কাছে বলেছিলেন যে, চক্রতীর্থের বিস্তার দেবীপত্তন পর্যন্ত। আমরা এ বিষয়ে কিছু জানতে চাই। চক্রতীর্থের সীমানা যে দেবীপুর পর্যন্ত, সেই দেবীপুর আসলে কোথায়? ওই জায়গার নাম 'দেবীপত্তন'ই বা হলো কীভাবে? শ্রীরামচন্দ্রের সেতুবন্ধনের স্থানে এবং চক্রতীর্থে স্নান করলে পাপীদের কী পুণ্য লাভ হয়?"
​উত্তরে সূত বললেন, "সীতাপতি শ্রীরামচন্দ্র সমুদ্রের যে অংশে প্রথমে ন'টি পাথর বসিয়ে সেতুবন্ধনের সূচনা করেছিলেন, সেই স্থানটির নামই দেবীপুর। এই দেবীপুর পর্যন্তই চক্রতীর্থ বিস্তৃত। হে মুনিগণ, ওই স্থানের নাম কীভাবে #দেবীপত্তন হলো, তা আমি বলছি, আপনারা শ্রদ্ধার সঙ্গে শুনুন।
​প্রাচীনকালে দেবাসুর যুদ্ধে দেবতাদের হাতে দিতির পুত্ররা নিহত হলে দিতি শোকে ভেঙে পড়েন। তিনি তাঁর কন্যাকে বললেন, 'হে কন্যা! তুমি পুত্রলাভের আশায় কোনো এক পবিত্র তপোবনে গিয়ে কঠোর তপস্যা করো। সেখানে গিয়ে নিজের ইন্দ্রিয় সংযত করে এমন এক পুত্র কামনা করবে, যাকে ইন্দ্রাদি দেবতারাও কখনো হারাতে বা হত্যা করতে পারবে না।'
​মায়ের কথা শুনে কন্যা তাঁকে প্রণাম করল। এরপর সে মহিষের রূপ ধারণ করে বনে গিয়ে পঞ্চাগ্নির মধ্যে বসে কঠোর তপস্যা শুরু করল। তার সেই ঘোর তপস্যার প্রভাবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কেঁপে উঠল এবং তিন লোক ভয়ে বিহ্বল হয়ে পড়ল।
​দিতিকন্যার এমন কঠোর তপস্যা দেখে ইন্দ্রসহ অন্য দেবতারাও দিশেহারা হয়ে পড়লেন। এরপর সুপার্শ্ব নামের এক মুনি তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বললেন, 'হে সুন্দরী! আমি তোমার তপস্যায় প্রীত হয়েছি। আমার আশীর্বাদে তোমার একটি পুত্র হবে। সেই পুত্রের মুখ হবে মহিষের মতো আর বাকি শরীর হবে মানুষের মতো। তার নাম হবে মহিষ। সে অত্যন্ত বীর ও শক্তিশালী হবে এবং সসৈন্যে স্বর্গরাজ্য আক্রমণ করে দেবরাজ ইন্দ্রকে পর্যুদস্ত করবে।'
​এই কথা বলে সুপার্শ্ব মুনি দিতিকন্যাকে তপস্যা থেকে নিবৃত্ত করলেন এবং নিজের স্থানে ফিরে গেলেন। এরপর মুনির আশীর্বাদে মহিষাসুরের জন্ম হলো। পূর্ণিমার সময় সমুদ্র যেমন ফুলে-ফেঁপে ওঠে, সেই মহাবীর্যবান মহিষাসুরও তেমনি দ্রুত বেড়ে উঠতে লাগল।
​হে ব্রাহ্মণগণ! একদিন বিপ্রচিত্তির পুত্র অসুরনেতা বিদ্যুন্মালী এবং পৃথিবীর অন্যান্য প্রধান অসুরেরা মহিষাসুরের এই বরলাভের কথা জানতে পারল। তারা আনন্দিত হয়ে মহিষাসুরের কাছে এসে বলল, 'হে মহামতি! একসময় স্বর্গে আমাদেরই আধিপত্য ছিল, কিন্তু বিষ্ণুর সাহায্য নিয়ে দেবতারা জোর করে আমাদের সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তাই হে মহিষাসুর! এবার তুমি তোমার বাহুবলে আমাদের সেই হারানো রাজ্য উদ্ধার করো। ​তুমি ব্রহ্মার বরে বলীয়ান ও উদ্ধত হয়ে অসাধারণ শক্তির অধিকারী হয়েছ, তাই আজ তোমার পরাক্রম প্রদর্শন করো। তুমি দেবতাদের সঙ্গে শচীপতি ইন্দ্রকেও বিনাশ করো।"
​অসুরদের এই কথা শুনে মহাবীর্যবান মহিষাসুর দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে অমরাবতীর দিকে ছুটে গেল। হে ব্রাহ্মণগণ! এরপর দেবতা ও অসুরদের মধ্যে দীর্ঘ এক বছর ধরে এক তুমুল ও রোমহর্ষক যুদ্ধ চলল। অবশেষে দেবতারা দেবরাজ ইন্দ্রকে সামনে রেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ব্রহ্মার কাছে গেলেন। ব্রহ্মা তখন তাঁদের নিয়ে বিশ্বপালক বিষ্ণু ও মহাদেব শিবের কাছে উপস্থিত হলেন।
​সেখানে গিয়ে ব্রহ্মা তাঁদের প্রণাম ও নানাভাবে স্তুতি করে মহিষাসুরের সমস্ত কার্যকলাপ জানালেন। অসুররা যে দেবতাদের ওপর প্রবল অত্যাচার করছে, শিব ও বিষ্ণুর কাছে তিনি সে কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করলেন।
​ব্রহ্মা বলতে লাগলেন, "সেই মহিষাসুর ইন্দ্র, অগ্নি, যম, সূর্য, কুবের ও বরুণের মতো দেবতাদের তাড়িয়ে দিয়ে নিজেই তাঁদের অধিকার দখল করেছে। অন্যান্য দেবতাদের অধিকারও সে কেড়ে নিয়েছে। সে দেবতাদের স্বর্গ থেকে মর্ত্যে (পৃথিবীতে) তাড়িয়ে দিয়েছে। মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা এখন সাধারণ মানুষের মতো পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হে দেবদ্বয়! আপনাদের কাছে এই বিষয়গুলো জানানোর জন্যই আমি দেবতাদের নিয়ে এখানে এসেছি; অতএব, আপনারা এই সমবেত দেবতাদের রক্ষা করুন।"
​ব্রহ্মার এই কথা শুনে রমাপতি (বিষ্ণু) ও উমাপতি (শিব) দুজনেই প্রচণ্ড রাগে ভয়ানক রূপ ধারণ করলেন। তাঁদের চেহারা এমনই ভয়ংকর হয়ে উঠল যে তার দিকে তাকানোও কঠিন। হে ব্রাহ্মণগণ! এরপর বিষ্ণু, শিব ও ব্রহ্মার ক্রোধে প্রজ্বলিত মুখ থেকে এক বিশাল তেজ নির্গত হলো এবং ইন্দ্রসহ অন্যান্য দেবতাদের শরীর থেকেও তেজ বেরিয়ে এল। তারপর সেই আলাদা আলাদা অতি তীব্র তেজগুলো একসাথে মিলে এক জ্বলন্ত পর্বতের মতো আকার ধারণ করল। দেবতারা দেখলেন, সেই তেজরশ্মির আগুনের ছটায় চারদিক ভরে গেছে। এরপর সেই সম্মিলিত তেজ এক নারীর রূপ ধারণ করল।
​হে ব্রাহ্মণগণ! শিবের তেজে সেই নারীর মুখ, বিষ্ণুর তেজে তাঁর বাহু, ব্রহ্মার তেজে পা, ইন্দ্রের তেজে দেহের মধ্যভাগ, যমের তেজে মাথার চুল, চন্দ্রের তেজে স্তনযুগল, বরুণের তেজে জঙ্ঘা ও উরু, পৃথিবীর তেজে নিতম্ব, সূর্যের তেজে পায়ের আঙুল, বসুগণের তেজে হাতের আঙুল, কুবেরের তেজে নাক, প্রজাপতিদের তেজে দাঁতের সারি এবং অগ্নির তেজে তাঁর দুই চোখ সৃষ্টি হলো।
সন্ধ্যার থেকে তাঁর হৃদয় এবং বায়ুর তেজ থেকে তাঁর দুই কান সৃষ্টি হলো। এছাড়া অন্যান্য দেবতাদের প্রবল তেজ থেকে সেই দেবীর শরীরের বাকি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হলো। তিনি পরম দীপ্তিময়ী দুর্গারূপে আবির্ভূত হলেন এবং দেবতা বা অসুর—সবার কাছেই অজেয় ও দুর্ধর্ষ হয়ে উঠলেন। সমস্ত দেবতাদের মিলিত তেজ থেকেই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হলো। মহিষাসুরের অত্যাচারে নিপীড়িত দেবতারা তাঁকে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। এরপর শিবসহ অন্য দেবতারা নিজেদের ত্রিশূল ও অন্যান্য অস্ত্র থেকে নতুন অস্ত্র তৈরি করে তাঁকে দান করলেন। তাঁরা দেবীকে অলংকার, বস্ত্র, ফুলের মালা ও চন্দন ইত্যাদি অর্পণ করলেন।
​বস্ত্র, অলংকার, চন্দন, ফুল ও অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দেবী দুর্গা এক ভয়ংকর অট্টহাসি হাসলেন। ভৈরবী দেবী আকাশ-পাতাল কাঁপিয়ে এক বিশাল সিংহনাদ করলেন। তাঁর সেই ভয়ংকর গর্জনে গোটা জগৎ কেঁপে উঠল। দেবতা, মুনি, সিদ্ধ ও গন্ধর্বরা তখন জয়ধ্বনি দিয়ে সেই সিংহবাহিনী দেবীর স্তুতি করতে লাগলেন।
​দেবীর সেই ভীষণ গর্জনে ত্রিভুবন আলোড়িত হতে দেখে দেবশত্রু অসুররা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রুখে দাঁড়াল। মহিষাসুর চরম ক্রোধে নিজের মহাশক্তিশালী অস্ত্র তুলে নিল এবং গর্জনের শব্দ লক্ষ্য করে অসুরবাহিনী নিয়ে সেই দিকে ছুটে গেল। সেখানে গিয়ে মহিষাসুর দেবীকে দেখতে পেল। সে দেখল, দেবী নিজের তেজে ত্রিভুবন ভরিয়ে তুলেছেন। তাঁর অসংখ্য হাত এবং তাতে অসংখ্য অস্ত্র। তাঁর গর্জনে পৃথিবী কাঁপছে এবং পাতালের শেষনাগ প্রমুখ মহানাগেরাও কষ্ট পাচ্ছে।
​দেবীর এই রূপ দেখে অসুররা অস্ত্রশস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলো। এরপর দেবীর সঙ্গে অসুরদের এক ভয়ংকর যুদ্ধ শুরু হলো। অসংখ্য হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতিক সেনা নিয়ে মহাবলশালী মহিষাসুর দেবীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগল। অসুরদের একেকটি সেনাদলে লক্ষ কোটি হাজার হাজার প্রধান অসুর সেনাপতি ছিল এবং তাদের প্রত্যেকের অধীনে এত সেনা ছিল যে, তা গণনা করা অসম্ভব। তারা সবাই একসঙ্গে দেবীকে আক্রমণ করল। সেই ভয়ঙ্করী দেবীও অবলীলায় নিজের ধনু থেকে তীর ছুড়ে দৈত্যদের সমস্ত অস্ত্র ব্যর্থ করে দিতে লাগলেন এবং তাদের শরীরে বৃষ্টির মতো তীর নিক্ষেপ করতে লাগলেন। দেবীর আশ্রয়ে থেকে দেবতারাও ভয়শূন্য হয়ে অসুর সেনাপতিদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগলেন এবং দেবীর শক্তিতে বলীয়ান হয়ে অস্ত্রাঘাতে অসুরদের সমূলে বিনাশ করতে লাগলেন।
​নিজের সেনাদল ধ্বংস হতে দেখে মহিষাসুর রেগে গিয়ে সজোরে এক বিশাল ধনুতে ছিলা পরিয়ে দেবতা-বাহিনীর ওপর তীরবৃষ্টি করতে লাগল। মহাবল মহিষাসুর ইন্দ্রের দিকে দশ হাজার, যমের দিকে পাঁচ হাজার, বরুণের দিকে আট হাজার, কুবেরের দিকে ছয় হাজার এবং সূর্য, চন্দ্র, অগ্নি, বায়ু, বসুগণ, অশ্বিনীকুমারদ্বয় ও অন্যান্য প্রত্যেক দেবতার দিকে দশ হাজার করে তীর ছুঁড়ল। দেবতারা মহিষাসুরের পরাক্রমে টিকতে না পেরে পালিয়ে গিয়ে দেবীর শরণাপন্ন হলেন এবং 'রক্ষা করো, রক্ষা করো' বলে চিৎকার করতে লাগলেন।
​দেবী তখন তাঁর ভূত-প্রেত অনুচরদের নির্দেশ দিলেন, "তোমরা অবিলম্বে অসুরদের বিনাশ করো। আমি নিজে এই বলগর্বিত মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করছি।" মুহূর্তের মধ্যে দেবীর অনুচরেরা সমস্ত অসুর বাহিনীকে ধ্বংস করে ফেলল। দেবীর অনুচরদের হাতে নিজের সেনাবাহিনী ধ্বংস হতে দেখে মহিষাসুর এবার তাদের সঙ্গেই যুদ্ধ করতে উদ্যত হলো। এই সুযোগে মহানাদ, সুচক্ষু, মহাহনু, মহাচণ্ড, মহাভক্ষ, মহোদর, মহোৎকট, পঞ্চাস্য, পঞ্চচূড়, বহুনেত্র, প্রবাহক, একাক্ষ, একপাদ, বহুপাদ ও অপাদকসহ মহিষাসুরের মন্ত্রী আরও বহু দৈত্য দেবীর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল।
​তখন দেবী মনের মতো দ্রুতগামী সিংহে চড়ে প্রলয়কালের মেঘের মতো গম্ভীর গর্জনকারী এক ভয়ংকর ধনু হাতে নিয়ে বজ্রের বেগে তীর নিক্ষেপ করতে লাগলেন। এই যুদ্ধে দশ লক্ষ হাতি, এক কোটি ঘোড়া, এক কোটি রথ এবং অযুত লক্ষ পদাতিক সেনাসহ দৈত্য মহাহনু দেবীর হাতে নিহত হলো।
​হে ব্রাহ্মণগণ! মহিষাসুরের লক্ষ কোটি হাজার হাজার অত্যন্ত শক্তিশালী প্রধান সেনাপতি ছিল। তাদের প্রত্যেকের অধীনে চতুরঙ্গ (হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতিক) বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকত। এই যুদ্ধে দেবীর তীরের আঘাতে সেই সমস্ত সৈন্যই নিহত হলো। হে বিপ্রগণ! দৈত্য মহাহনুর যে বিশাল সেনাবাহিনী ছিল, তার পুরোটাই দেবীর সোনার পালকযুক্ত তীরের আঘাতে মাত্র এক প্রহর (তিন ঘণ্টা) সময়ের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। হে শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণগণ! এই যুদ্ধের ঘটনাটি সত্যিই অত্যন্ত বিস্ময়কর ছিল।

​সূত বললেন, দানবরাজ মহিষাসুর দেখল যে দেবী তার সৈন্যবাহিনীকে ধ্বংস করে ফেলেছেন। তখন সে প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তার সেনাপতি চণ্ডকোপকে বলল, "হে মহাবীর চণ্ডকোপ! তুমি এই উদ্ধত নারীর সঙ্গে যুদ্ধ করো।" প্রতাপশালী চণ্ডকোপ 'তাই হোক' বলে যুদ্ধক্ষেত্রে দেবীর ওপর বাণবর্ষণ করতে লাগল। অম্বিকা অবলীলায় অস্ত্রাঘাত করে চণ্ডকোপের বাণগুলো ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। তিনি তার ঘোড়া, সারথি, রথের ধ্বজা ও ধনুক কেটে ফেললেন, রথ ভেঙে চুরমার করে দিলেন এবং অসংখ্য বাণ ছুঁড়ে চণ্ডকোপকে পর্যুদস্ত করলেন। রথ, সারথি, ঘোড়া ও ধনুক হারিয়ে চণ্ডকোপ খড়গ ও ঢাল হাতে দেবীর দিকে ছুটে গেল। সেই মহাসুর খড়গ দিয়ে দেবীর বাহন সিংহকে এবং দেবীর বাঁ হাতে আঘাত করল। কিন্তু দেবীর হাতে লাগামাত্রই তার খড়গ হাজার টুকরো হয়ে ভেঙে গেল। এরপর #অম্বিকা মহাশূল দিয়ে চণ্ডকোপের বুকে আঘাত করলেন এবং সেই আঘাতেই তার মৃত্যু হলো।
​মহাবীর চণ্ডকোপ নিহত হলে, চিত্রভানু নামের আরেক সেনাপতি হাতির পিঠে চড়ে দেবীর দিকে ধেয়ে এল এবং বিকট ঘণ্টাধ্বনি করে দেবীর দিকে একটি দিব্য শক্তি (অস্ত্র) নিক্ষেপ করল। দেবী কেবল একটি হুঙ্কার দিয়েই সেই সুদৃঢ় শক্তিটিকে প্রতিহত করলেন। এরপর তিনি শূল দিয়ে চিত্রভানুকে বিদীর্ণ করে ফেললেন। চিত্রভানুর মৃত্যুর পর করাল নামের এক অসুর প্রবল বেগে যুদ্ধে প্রবেশ করল। দেবী তাকেও এক ঘুষিতে মাটিতে ফেলে দিলেন। এরপর দেবী মদোন্মত্ত নামের এক অসুরকে গদার আঘাতে এবং বাঙ্কলকে পট্টিশের আঘাতে যমালয়ে পাঠালেন। হে শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণগণ! #দুর্গাদেবী এভাবেই অন্ধক নামের অসুরকেও চক্রের আঘাতে যমপুরে পাঠালেন। মহিষাসুরের অন্যান্য বিশালদেহী মন্ত্রীদেরও তিনি শূলের আঘাতে বধ করে যমরাজের অতিথি বানালেন।
​এভাবে দেবীর হাতে নিজের সেনাবাহিনী ধ্বংস হতে দেখে মহিষাসুর মহিষের রূপ ধারণ করে দেবীর অনুচরদের আক্রমণ করল। সে ক্ষিপ্ত হয়ে কাউকে মুখের আঘাতে, কাউকে খুরের আঘাতে চিরে ফেলল, আবার কাউকে নিজের প্রবল নিশ্বাসের বাতাসে মাটিতে ফেলে দিল। মহিষাসুর দেবীর ভূতগণকে এভাবে হত্যা করে দেবীর বাহন সিংহকেও মারার জন্য ক্রোধে গর্জন করতে লাগল। এদিকে মহাবীর সিংহও রেগে গিয়ে খুরের আঘাতে মাটি ও পাহাড় ফালাফালা করে দিল এবং মহিষাসুরকে আসতে দেখে নখের আঁচড়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলল।
​চণ্ডিকাও ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে বধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি রাগে মহিষাসুরকে পাশাস্ত্র দিয়ে বেঁধে ফেললেন। তখন মহিষাসুর তার মহিষের রূপ ছেড়ে পাশবন্ধন থেকে মুক্ত হলো এবং এক শক্তিশালী সিংহের রূপ ধারণ করল। দেবী যখন তার মাথা কাটার জন্য মনস্থির করলেন, সে তখনই এক পুরুষ রূপ ধারণ করে হাতে খড়গ নিয়ে দাঁড়াল। দেবী তখন তীক্ষ্ণ তীর ছুঁড়ে সেই খড়গধারী পুরুষকে বধ করলেন। হে বিপ্রগণ! তখন সেই পুরুষ হাতির রূপ ধারণ করল এবং শুঁড় দিয়ে দুর্গার বাহন সিংহকে টেনে ধরতে লাগল। সিংহ নিজের নখ দিয়ে হাতির শুঁড় কেটে ফেলল। তখন সেই মহাসুর আবার মহিষের রূপ ধারণ করল।
​এরপর #ভদ্রকালী ক্রুদ্ধ হয়ে দিব্য মদিরা পান করলেন। নেশায় উন্মত্ত হয়ে তাঁর চোখ লাল হয়ে উঠল এবং তিনি হাসতে লাগলেন। মহিষাসুরও অহংকারভরে তার দুই শিং দিয়ে চণ্ডিকার দিকে পাহাড় ছুঁড়তে লাগল। দেবী তীরের আঘাতে সেগুলো গুঁড়িয়ে দিলেন। এরপর জগন্মাতা দেবী মহিষাসুরকে বললেন, "রে মূর্খ! যতক্ষণ আমি মধুপান করছি, ততক্ষণ তুই অহংকার করে নে। আমার পান করা শেষ হলেই আমি তোকে যমালয়ে পাঠাব। তোর মতো দেবতাদের শত্রু আমার হাতে নিহত হলে দেবতারা আবার নিজেদের হারানো স্থান ফিরে পাবেন।"
​এই কথা বলে দেবী মহিষাসুরকে প্রচণ্ড এক ঘুষি মারলেন। দেবীর ঘুষি খেয়ে মহিষাসুর দিশেহারা হয়ে দ্রুত দক্ষিণ সমুদ্রের তীরের দিকে ছুটে পালাল। দেবী তখন নিজের সিংহে চড়ে তার পিছু ধাওয়া করলেন। দেবীর তাড়া খেয়ে দানবরাজ মহিষাসুর দশ যোজন বিস্তৃত ধর্ম-পুষ্করিণীর (পুকুর) জলে লুকিয়ে পড়ল। দুর্গা সেই পুকুরপাড়ে এসে মহিষাসুরকে দেখতে পেলেন না। তখন এক দৈববাণী হলো, "হে মহাদেবী ভদ্রকালী! আপনার ঘুষি খেয়ে দানব মহিষাসুর ভয় পেয়ে এই ধর্ম-পুষ্করিণীর জলে লুকিয়ে আছে। আপনি তাকে দ্রুত বধ করুন; যেভাবেই হোক, তাকে হত্যা করুন।"
​এই দৈববাণী শুনে চণ্ডিকা তাকে বধ করার জন্য প্রস্তুত হলেন এবং নিজের সিংহকে বললেন, "হে পশুরাজ! তুমি এই পুকুরের সমস্ত জল পান করে ফেলো।" হে ব্রাহ্মণগণ! দেবীর কথা শুনে সিংহ সেই পুকুরের সব জল এমনভাবে শুষে খেল যে, পুকুরটি কাদাময় হয়ে গেল। তখন সেই পুকুরের গর্ত থেকে মহিষাসুর করুণভাবে বেরিয়ে এল। তাকে আসতে দেখে ক্রুদ্ধ দেবী নিজের পা দিয়ে তার মাথা চেপে ধরলেন এবং তীক্ষ্ণ শূল দিয়ে তার গলা বিদ্ধ করলেন। এরপর তিনি তাঁর বিশাল খড়গ দিয়ে মহিষাসুরের মাথা কেটে ফেললেন। হে ব্রাহ্মণগণ! এভাবেই সেনা ও বাহনসহ মহিষাসুর দেবী দুর্গার হাতে নিহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
​এরপর গন্ধর্ব, সিদ্ধ ও মহর্ষিরা দেবীর স্তুতি করতে লাগলেন। দেবী তাঁদের স্তবে সন্তুষ্ট হলেন এবং দেবতারাও আনন্দিত হলেন। দেবীর আদেশে দেবতারা নিজেদের স্থানে ফিরে গেলেন। পরে #জগন্মাতা দুর্গাদেবী দক্ষিণ সমুদ্রের উত্তর তীরে নিজের নামানুসারে একটি চমৎকার নগরী স্থাপন করলেন। দেবীর আদেশে ইন্দ্র ও অন্য দেবতারা সেখানকার ধর্ম-পুষ্করিণী অমৃত দিয়ে পূর্ণ করে দিলেন। তখন থেকে সেই তীর্থের নাম হলো 'অমৃততীর্থ'। দেবী সন্তুষ্ট হয়ে সেই নগরীকে বর দিলেন যে, এই নগরীতে পশুরা সুখে বিচরণ করবে এবং এটি সবাইকে রোগমুক্ত করবে। তীর্থ সম্পর্কে তিনি বর দিলেন যে, এই তীর্থে যারা স্নান করবে, তারা তাদের ইচ্ছামতো সিদ্ধি লাভ করবে। এই কথা বলে দেবী অন্তর্ধান করলেন।
​সূত বললেন, "দেবী নিজের নামে এই উত্তম নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে এর নাম হয়েছিল 'দেবীপত্তন' এবং সেই জন্যই এটি দেবীর পুরী বলে বিখ্যাত। হে ব্রাহ্মণগণ! পরম ধার্মিক রামচন্দ্র মহাদেবের আদেশে শুভ দিনে ও শুভ মুহূর্তে দেবীর পূজাপূর্বক এই দেবীপত্তন থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি বিঘ্নেশ্বর (গণেশ) ও সমুদ্রদেবকে প্রণাম করে অত্যন্ত ভক্তিভরে নিজের হাতে ন'টি পাথর স্থাপন করেছিলেন। এরপর তিনি লঙ্কা পর্যন্ত সযত্নে সেতুবন্ধন করেছিলেন। শ্রীরামচন্দ্র নলের তৈরি করা পবিত্র সিংহাসনে বসে নল প্রমুখ বানরদের দিয়ে সমুদ্রের ওপর সেই সেতু নির্মাণ করিয়েছিলেন।"

বর্তমান তামিলনাড়ুর দেবীপত্তিনাম (devipattinam) শহরই হচ্ছে পুরাণে উল্লেখিত দেবীপত্তন, যেখানে সেতু নির্মাণের পূর্বে শ্রীরাম দেবীর পূজা করেছিলেন।

#দুর্গাপূজা #দুর্গাপুজো #দুর্গোৎসব #নবরাত্রি #তন্ত্র #কালী #পার্বতী #দশমহাবিদ্যা #হিন্দুত্ব #সনাতনী #হরহরমহাদেব

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Durga Bhakti Tarangini posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share