16/06/2025
শ্রীমন্দিরে অনসরা পঞ্চমী ও ফুলুরি তেল লাগি
শ্রীজগন্নাথদেব যখন অনসরে থাকেন, তখন তাঁর চিকিৎসা যা আদতে শ্রীঅঙ্গ পরিচর্যা করা হয় । প্রথম চারদিন করাল চন্দন ওলাগি’ হয়ে থাকে, যাতে শ্রীবিগ্রহ থেকে সারাবছরের চন্দন এবং ভিতর পট্ট অপসারণ করা হয়। এরপর শুরু হয় নতুন করে তাঁর গঠন ও চিকিৎসা—যাকে অঙ্গ উপাচার সেবা বলা হয়।
পঞ্চমী তিথিতে শ্রীজিউকে একটি বিশেষ ঔষধীয় তেল, ফুলুরি তেল, শ্রী অঙ্গে মর্দন।করা হয়। এই তেল বড়ওড়িয়া মঠ প্রস্তুত করে থাকে, এবং চতুর্থীতে শোভাযাত্রার মাধ্যমে তা মন্দিরে আনা হয়। দৈতাপতি সেবকদের তত্বাবধানে এই তেল অনসর পিণ্ডিতে শ্রীজিউর দেহে প্রয়োগ করা হয।
ফুলুরি তেল কীভাবে তৈরি হয়?
ফুলুরি তেল তৈরি হয় বহু প্রাকৃতিক ও ঔষধীয় উপাদানে—যেমন:
চন্দন কাঠ, কেতকী, চম্পা, মল্লিকা, মালতী, বেলফুলের পাতা, কৃষ্ণপর্ণী, লবঙ্গ, গোখর, দেশি ঘি, মধু, নবনী, খোয়া ইত্যাদি। এই সব উপাদান তিনটি মাটির হাঁড়িতে রেখে পূর্ব বৎসর হেরা পঞ্চমী থেকে এক বছর ধরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়।
এক বছর পর রজ সংক্রান্তিতে এই ‘ঘুমন্ত’ তৈল কে উত্তোলন করে পরিশোধন করে ব্যবহারযোগ্য করা হয়। মাটিতে সংরক্ষন করা হয় বলে এই সেবা ভুদেবীর সেবা হিসাবেও ধরা হয়।
ফুলুরি তেল প্রয়োগ পদ্ধতি
তিনটি রূপার পাত্রে এই তেল নিয়ে পতি মহাপাত্র সেবক সংস্কার করেন। এরপর দইতাপতি সেবকরা তা শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা ও সুদর্শনের বিগ্রহে মালিশ করে দেন।
বিশ্বাস করা হয়, এই ফুলুরি তেল মহৌষধির মতো কাজ করে। মূলত দারু সংরক্ষন করা হয় এবং প্রয়োগের পর মহাপ্রভু আবার নবযৌবন লাভ করেন। এটি অনসরের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও গোপনীয় ধর্মীয় আচারের অংশ।
বাড়িতে কিভাবে ফুলুরি তেল বানাবেন:
শ্রীমন্দিরের অনুকরণ করা সম্ভব সবার ক্ষেত্রে নয় । তবুও চাইলে আপনারা এই বছর থেকেই পরের বছরের জন্য তেল বানাতে পারেন । হেরা পঞ্চমীর দিন প্রাতে দেবী ভূ লক্ষী কে স্মরণ করে তিনটি মাটির পাত্রে রাশি তেল চন্দন কাঠ, কেতকী, চম্পা, মল্লিকা, মালতী, বেলফুলের পাতা, কৃষ্ণপর্ণী, লবঙ্গ, গোখর, দেশি ঘি, মধু,ইত্যাদি ভালোভাবে মিশিয়ে কলাপাতায় মুড়ে মাটির নিচে সংরক্ষণ করতে পারেন । তবে এমন দীর্ঘমেয়াদী কাজ সবার পক্ষে সম্ভব নয় সে ক্ষেত্রে সুগন্ধি তেল বা রাশি তেল বা তিলতেলে কর্পূর,চন্দন,বিভিন্ন ঠান্ডা ফুলের নির্যাস মিশিয়ে সবার অলক্ষ্যে মহাপ্রভুর শ্রী অঙ্গ মর্দন করতে পারেন । এখন ব্যাপার হলো আমাদের ঘরের সবার ঠাকুর তো শ্রীমন্দিরের ন্যায় বিগ্রহ নয় তাই সংরক্ষনের আক্ষরিক প্রয়োজন নেই বললেই চলে তবুও ভক্তের মন কি মানে?? তাদের কাছে জগন্নাথ তাদেরই পরিবারের অংশ সেই ভাব গ্রাহী জনার্দনের জ্বর হয়েছে তবে ভাবের বশে আবার তাকে প্যারাসিটামল দিয়ে বসবেন না দশমুল মোদকের সাবষ্টিউট কী হয় জানাবো শীঘ্রই । আজ হতে মহাপ্রভু সামান্য সুস্থ অনুভব করবেন। অপেক্ষার আর এগারো দিন নীলাদ্রি সিংহ পুনরায় দর্শন দেবেন নন্দীঘোষ এ।