Sri Ramakrishna Temple of Hori Ghosh Street Das Family

রথযাত্রার শুভেচ্ছা
27/06/2025

রথযাত্রার শুভেচ্ছা

মহাপ্রভুর নবযৌবন দর্শন
26/06/2025

মহাপ্রভুর নবযৌবন দর্শন

ঠাকুর বলতেন, "আমড়া--আঁঠি আর চামড়া। এরমধ্যে কোন সার পদার্থ নেই, খেলে অম্লশূল হয়। কিন্তু এতে একটা আকর্ষণীয় স্বাদ আছে। এ জগ...
20/06/2025

ঠাকুর বলতেন, "আমড়া--আঁঠি আর চামড়া। এরমধ্যে কোন সার পদার্থ নেই, খেলে অম্লশূল হয়। কিন্তু এতে একটা আকর্ষণীয় স্বাদ আছে। এ জগৎটা ঐরূপ।" এ জগতে সুখ কোথায়? এ কেবল দুঃখপূর্ণ ও যন্ত্রণার আগার। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, "যারা আমার শরণ নেয়, আমি তাদের মায়ার সমুদ্র পার করে দি।"

স্বামী তুরীয়ানন্দজী মহারাজ (শ্রীরামকৃষ্ণকে যেরূপ দেখিয়াছি, পৃ:-১৭৯)

মনোমোহন মিত্র সস্ত্রীক পুরী ধামে যান। তীর্থদর্শন মানসে পুরী ধামে পৌঁছিয়াই মনোমোহন যখন ধূলা পায়েসরাসরি জগন্নাথ দেবের দর...
19/06/2025

মনোমোহন মিত্র সস্ত্রীক পুরী ধামে যান। তীর্থদর্শন মানসে
পুরী ধামে পৌঁছিয়াই মনোমোহন যখন ধূলা পায়ে
সরাসরি জগন্নাথ দেবের দর্শন মানসে মন্দিরে প্রবেশ করেন, তখন তিনি মন্দির মধ্যে জগন্নাথ দেবের মূর্তির পরিবর্তে
শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের মূর্তি দেখিলেন। যতবার ভাল করিয়া দেখিবার চেষ্টা করিলেন, ততবারই শ্রীরামকৃষ্ণদেবের
মূর্তি তাঁহার নয়ন গোচর হইল। তখন তিনি উচ্চৈস্বরে বলিয়া উঠিলেন, “জয় জগন্নাথ রামকৃষ্ণ রূপধারী”।
(শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে, পূ. ২০)

দেবী সুভদ্রা যখন হ্লাদিনীশক্তি শ্রীরাধা__________________________________স্কন্দপুরাণের পুরুষোত্তমক্ষেত্রমাহাত্ম্যে বলা হ...
18/06/2025

দেবী সুভদ্রা যখন হ্লাদিনীশক্তি শ্রীরাধা
__________________________________

স্কন্দপুরাণের পুরুষোত্তমক্ষেত্রমাহাত্ম্যে বলা হয়েছে, সুভদ্রা বলদেবের ভগ্নী — লৌকিক ব্যবহারে পৌরাণিকী কথায় এইরূপ প্রসিদ্ধ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সুভদ্রা সাক্ষাৎ মহালক্ষ্মী। তিনি লোকানুরোধে জগন্নাথের ভগিনী হলেও বস্তুতঃ তাঁর শক্তিস্বরূপা—

তস্য শক্তি স্বরূপেয়ং ভগিনী স্ত্রী প্রকীর্তিতা॥

শ্রীসম্প্রদায়ের প্রচলিত কর্পূরারতি তথা 'জগন্নাথমঙ্গল' পুঁথিতে জগন্নাথকে স্তুতি করে বলা হয়েছে 'সুভদ্রাপ্রাণনাথ'—

নীলাচলনিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে।
সুভদ্রাপ্রাণনাথায় জগন্নাথায় মঙ্গলম্॥
সুভদ্রাপ্রাণনাথায় সুভদ্রাহ্বয়শালিনে।
বলভদ্রসমেতায় জগন্নাথায় মঙ্গলম্॥

সুভদ্রার স্বরূপবৈচিত্র্য এখানেই শেষ নয়। ব্রহ্মপুরাণের মতে তিনি একানংশা কাত্যায়নী। 'বামদেবসংহিতা 'নীলাদ্রিমহোদয়' ইত্যাদি শাস্ত্রের মতে তিনি পাশাঙ্কুশবরাভয়া মহামায়া ভুবনেশ্বরী। আবার জগন্নাথ-সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওড়িয়া সাহিত্যে সুভদ্রার বিবিধ পরিচয় — কোথাও তিনি পদ্মযোনি ব্রহ্মা, কোথাও যোগমায়া, কোথাও বা স্বয়ং রাসেশ্বরী রাধা।

সুভদ্রার এই শেষোক্ত পরিচয়টি আমাদের বিস্মিত করে। লোকানুরোধে যিনি ভগিনী বলে পরিচিতা, জগন্নাথ-বিষয়ক আঞ্চলিক সাহিত্যে তাঁকেই বলা হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের পরকীয়া নায়িকা। সংস্কৃত স্কন্দপুরাণ সুভদ্রাকে লক্ষ্মী বলে সম্পর্কের সমীকরণ সম্বন্ধে আমাদের চিরাচরিত সামাজিক বোধকে এমনিতেই প্রশ্নায়িত করেছিলেন, এখন তাঁকে রাধা বলে উৎকলীয় বৈষ্ণব-কবিরা বুঝিয়ে দিলেন লীলাপুরুষোত্তমের লীলা আমাদের মানবীয় সংস্কারের অগোচর।

কবি শিবদাস তাঁর 'রাধারসামৃতগীতা'-এ বলেছেন—

জ্যেষ্ঠ বলরাম যে কনিষ্ঠ জগন্নাথ।
যেউ রাধা সুভদ্রাটি নাম তার খ্যাত॥

ওড়িয়া পঞ্চসখার অন্যতম অচ্যুতানন্দ দাস 'মন্মথচন্দ্রিকা'-এ লিখেছেন—

সুভদ্রাটি রঙ্গদেবী রাধা রঙ্গেশ্বরী।
মধ্যরে বিজয়মাতা শূন্যরূপধারী॥

আবার অন্যত্র তিনি বলেছেন—

সেহি বলভদ্র মূরতি নীলাচলে শোভন।
রসানন্দ বলি কহুচি সেহি রাধাকুঁ চিহ্ন॥
রাধিকা সুভদ্রা শীয়া য়ে এক মূরতি তিনি।
রমা বীজ ঠারে দেখা গো সেহি রস দায়িনী॥

অর্থাৎ, নীলাচলে শোভিত বলভদ্র রসানন্দস্বরূপ। মাঝখানে যে মূর্তি অবস্থান করছেন, তিনি একাধারে রাধিকা, সুভদ্রা ও শ্রী। সেই রসদায়িনী রমাবীজ দ্বারা প্রকাশিতা হন।

পঞ্চসখার আরেক কবি যশোবন্ত দাস তাঁর 'প্রেমভক্তি ব্রহ্মগীতা'-এ বলেছেন—

মধ্য সুভদ্রা ব্রহ্মা রূপ রাধাঙ্ক অংগে তহিঁ গোপ্য
অকারু ব্রহ্মা রূপ হই সকারু রাধা অংগ সেই

অর্থাৎ, মধ্যে সুভদ্রা ব্রহ্মস্বরূপা; তাঁর দেহের অন্তরে রাধা গুপ্তভাবে বিরাজ করছেন। অকারে তিনি ব্রহ্মরূপ এবং সকারে তিনি রাধাস্বরূপিণী।

অনসর পট স্নানযাত্রার পরের ১৫ দিন শ্রীমন্দিরে এই পটেই প্রভুর পুজো হয়
17/06/2025

অনসর পট

স্নানযাত্রার পরের ১৫ দিন শ্রীমন্দিরে এই পটেই প্রভুর পুজো হয়

শ্রীমন্দিরে অনসরা পঞ্চমী ও ফুলুরি তেল লাগিশ্রীজগন্নাথদেব যখন অনসরে থাকেন, তখন তাঁর চিকিৎসা যা আদতে শ্রীঅঙ্গ পরিচর্যা করা...
16/06/2025

শ্রীমন্দিরে অনসরা পঞ্চমী ও ফুলুরি তেল লাগি

শ্রীজগন্নাথদেব যখন অনসরে থাকেন, তখন তাঁর চিকিৎসা যা আদতে শ্রীঅঙ্গ পরিচর্যা করা হয় । প্রথম চারদিন করাল চন্দন ওলাগি’ হয়ে থাকে, যাতে শ্রীবিগ্রহ থেকে সারাবছরের চন্দন এবং ভিতর পট্ট অপসারণ করা হয়। এরপর শুরু হয় নতুন করে তাঁর গঠন ও চিকিৎসা—যাকে অঙ্গ উপাচার সেবা বলা হয়।
পঞ্চমী তিথিতে শ্রীজিউকে একটি বিশেষ ঔষধীয় তেল, ফুলুরি তেল, শ্রী অঙ্গে মর্দন।করা হয়। এই তেল বড়ওড়িয়া মঠ প্রস্তুত করে থাকে, এবং চতুর্থীতে শোভাযাত্রার মাধ্যমে তা মন্দিরে আনা হয়। দৈতাপতি সেবকদের তত্বাবধানে এই তেল অনসর পিণ্ডিতে শ্রীজিউর দেহে প্রয়োগ করা হয।

ফুলুরি তেল কীভাবে তৈরি হয়?

ফুলুরি তেল তৈরি হয় বহু প্রাকৃতিক ও ঔষধীয় উপাদানে—যেমন:
চন্দন কাঠ, কেতকী, চম্পা, মল্লিকা, মালতী, বেলফুলের পাতা, কৃষ্ণপর্ণী, লবঙ্গ, গোখর, দেশি ঘি, মধু, নবনী, খোয়া ইত্যাদি। এই সব উপাদান তিনটি মাটির হাঁড়িতে রেখে পূর্ব বৎসর হেরা পঞ্চমী থেকে এক বছর ধরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়।
এক বছর পর রজ সংক্রান্তিতে এই ‘ঘুমন্ত’ তৈল কে উত্তোলন করে পরিশোধন করে ব্যবহারযোগ্য করা হয়। মাটিতে সংরক্ষন করা হয় বলে এই সেবা ভুদেবীর সেবা হিসাবেও ধরা হয়।
ফুলুরি তেল প্রয়োগ পদ্ধতি
তিনটি রূপার পাত্রে এই তেল নিয়ে পতি মহাপাত্র সেবক সংস্কার করেন। এরপর দইতাপতি সেবকরা তা শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা ও সুদর্শনের বিগ্রহে মালিশ করে দেন।
বিশ্বাস করা হয়, এই ফুলুরি তেল মহৌষধির মতো কাজ করে। মূলত দারু সংরক্ষন করা হয় এবং প্রয়োগের পর মহাপ্রভু আবার নবযৌবন লাভ করেন। এটি অনসরের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও গোপনীয় ধর্মীয় আচারের অংশ।
বাড়িতে কিভাবে ফুলুরি তেল বানাবেন:
শ্রীমন্দিরের অনুকরণ করা সম্ভব সবার ক্ষেত্রে নয় । তবুও চাইলে আপনারা এই বছর থেকেই পরের বছরের জন্য তেল বানাতে পারেন । হেরা পঞ্চমীর দিন প্রাতে দেবী ভূ লক্ষী কে স্মরণ করে তিনটি মাটির পাত্রে রাশি তেল চন্দন কাঠ, কেতকী, চম্পা, মল্লিকা, মালতী, বেলফুলের পাতা, কৃষ্ণপর্ণী, লবঙ্গ, গোখর, দেশি ঘি, মধু,ইত্যাদি ভালোভাবে মিশিয়ে কলাপাতায় মুড়ে মাটির নিচে সংরক্ষণ করতে পারেন । তবে এমন দীর্ঘমেয়াদী কাজ সবার পক্ষে সম্ভব নয় সে ক্ষেত্রে সুগন্ধি তেল বা রাশি তেল বা তিলতেলে কর্পূর,চন্দন,বিভিন্ন ঠান্ডা ফুলের নির্যাস মিশিয়ে সবার অলক্ষ্যে মহাপ্রভুর শ্রী অঙ্গ মর্দন করতে পারেন । এখন ব্যাপার হলো আমাদের ঘরের সবার ঠাকুর তো শ্রীমন্দিরের ন্যায় বিগ্রহ নয় তাই সংরক্ষনের আক্ষরিক প্রয়োজন নেই বললেই চলে তবুও ভক্তের মন কি মানে?? তাদের কাছে জগন্নাথ তাদেরই পরিবারের অংশ সেই ভাব গ্রাহী জনার্দনের জ্বর হয়েছে তবে ভাবের বশে আবার তাকে প্যারাসিটামল দিয়ে বসবেন না দশমুল মোদকের সাবষ্টিউট কী হয় জানাবো শীঘ্রই । আজ হতে মহাপ্রভু সামান্য সুস্থ অনুভব করবেন। অপেক্ষার আর এগারো দিন নীলাদ্রি সিংহ পুনরায় দর্শন দেবেন নন্দীঘোষ এ।

|| মেধাশক্তির সঙ্গে সম্মিলিত হয়েছিল জপধ্যানময় জীবন ||[পূজনীয় শিবময়ানন্দজী] মহারাজ ছিলেন একজন শাস্ত্রজ্ঞ। তাঁর মেধা ছিল অ...
16/06/2025

|| মেধাশক্তির সঙ্গে সম্মিলিত হয়েছিল জপধ্যানময় জীবন ||

[পূজনীয় শিবময়ানন্দজী] মহারাজ ছিলেন একজন শাস্ত্রজ্ঞ। তাঁর মেধা ছিল অনেকের চেয়ে বেশি। মেধাশক্তির সঙ্গে সম্মিলিত হয়েছিল জপধ্যানময় জীবন। তাই তিনি শাস্ত্রের মর্মস্থানকে ভেদ করে আসল রসে টইটুম্বর ছিলেন। দেখেছি, বেলুড় মঠে পূজনীয় স্বামী ভূতেশানন্দজী মহারাজের সকালের প্রণামের সময় শাস্ত্রের কূট দিক তুলে দিয়ে তিনি চুপ করে থাকতেন। আর পূজনীয় ভূতেশানন্দজী মহারাজ অনর্গল সরল ব্যাখ্যায় সবাইকে মোহিত করতেন। আর বলতেন: 'রণেনই পারে এসব প্রশ্ন করতে। ও (ব্রঃ Training centre-এ) আমার ক্লাসের ভালো ছাত্র ছিল'।

তপস্যার দিকে প্রবল ঝোঁক ছিল পূজনীয় শিবময়ানন্দজীর। তখন মিশনের রহড়া কলেজের অধ্যক্ষ তিনি। অধ্যাপকদের গুরুতর অপমান অম্লানবদনে স্মিত হাস্যে সহ্য করেছেন। ছাত্র-অধ্যাপকরা ঘণ্টার পর ঘন্টা ঘেরাও করে রাখলেও তিনি বিন্দুমাত্র ধৈর্য্যচ্যুত হতেন না। বরং ওদেরকে চা'য়ে আপ্যায়িত করতেন। এরকম ছিল মহারাজের অসীম ধৈর্য। তিনি কিন্তু অধ্যাত্মজীবন বিঘ্নিত হচ্ছে মনে করে একবার এক পোস্টকার্ডে লিখে, ডাকবাক্সে ফেলে দিয়ে উত্তরাখণ্ডে তপস্যা করতে চলে গেলেন। এত ছিল তপস্যার প্রতি তাঁর প্রগাঢ় অনুরক্তি।

পূঃ মহারাজকে দেখেছি মঠে রাত্রে কালীপূজার সময় সাধু-ব্রহ্মচারিদের সঙ্গে কালীকীর্তন গাইতে। গান তাঁর ছিল মুখস্থ। গান গাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি খঞ্জনী বাজাতেন। তিনি দীক্ষাগুরু, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, ভক্তেরা কী বলবে, না বলবে — তা তিনি কিছুই মনে করতেন না। ভজন-প্রীতির সঙ্গে সাধন-প্রীতি ছিল তাঁর অসাধারণ। যখনই সময় পেতেন জপ করতেন। মন্দিরের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জপে বসে থাকতে দেখেছি। মহারাজ ছিলেন জাপক সাধু। তাঁর জীবন চর্যা ছিল খুবই অনাড়ম্বর। মহারাজের ছিল শিবপ্রীতি। খুবই স্বাভাবিক, তাঁর সন্ন্যাস নামের সঙ্গে খুব খাটে। প্রতি সোমবার যেখানেই থাকুন না কেন-কোন শিবমন্দিরে গিয়ে শিবকে প্রণাম ও শিবের মাথায় জল দেওয়া চাই-ই। শিবমন্দিরে যাবার সময় সেবকদের সঙ্গে শিবমহিম্নস্তোত্র পাঠ করতে করতে যেতেন — কোনদিন বন্ধ হয়নি। সোমবারে গাড়িতে গেলে গাড়িতে বসে শিবমহিম্নস্তোত্র পাঠ করতেন। সকাল-বিকাল হাঁটার সময় গীতাপাঠ করতেন। সর্বদা তিনি তাঁর মনকে উচ্চতানে তুলে রাখার চেষ্টা করতেন।

পূজনীয় মহারাজ রামকৃষ্ণ মঠ-মিশনের অন্তর্গত রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ ভাবপ্রচার পরিষদের Convener বহুবছর ছিলেন, এজন্য তাঁকে বিভিন্ন স্থানে যেতে হতো। কোন প্রাইভেট আশ্রম হোক বা আমাদের আশ্রমই হোক সর্বাবস্থায় তিনি নিজেকে মানিয়ে চলতেন। ভাবপ্রচারের Convener হিসাবে প্রাইভেট আশ্রমের ভক্ত ও বাইরে সন্ন্যাস নেওয়া সাধুদের সঙ্গে তাঁর ছিল আলাদা সম্পর্ক। তাঁদের জন্য তাঁর দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত। বহু সময় তাঁদের জন্য ব্যয় করতেন। তাঁদেরকে তিনি সবরকম সাহায্য করতেন। নিজের শিষ্য-শিষ্যাদের সঙ্গে তাঁদের কোন ভেদ রাখতেন না। সকলকে সব বিষয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতেন, করতেনও। কাউকে পড়ার ব্যবস্থা করছেন, কাউকে চিকিৎসার জন্য ভর্তির ব্যবস্থা করছেন, সংসার চালাবার জন্য কাউকে আর্থিক সাহায্য করছেন। মহারাজের লোক-প্রীতি, ভক্ত-প্রীতির জন্য কোন কোন সময় তাঁর খাওয়া-দাওয়া অসময়ে হতো। কিন্তু এদিকে তিনি একেবারে খেয়ালও দিতেন না, আমলও দিতেন না। তিনি তাঁর নিজের পথে চলতেন।

আর একটি জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি। প্রাইভেট আশ্রমে তিনি মন্ত্রদীক্ষার জন্য যেতেন। ঐ আশ্রমগুলির ব্যবস্থাপনা যথোচিত থাকত না, কিন্তু তিনি সব অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও কষ্ট করে থেকে দীক্ষা দিতেন। এই ছিল তাঁর মানব দরদী প্রাণ। স্বামীজীর কথা, যে যেখানে আছে সেখান থেকে সাহায্য করা — এ আদর্শ সারাজীবন পালন করে গিয়েছেন।

রিলিফ করার ব্যাপারেও তাঁর ছিল অগ্রণী ভূমিকা। রিলিফ ক্যাম্পের সাধু-কর্মীদের জীবন-যাপন একেবারে অন্যরকম। আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে — এই আমাদের আদর্শ। সেজন্য অন্যান্যদের সঙ্গে পূজনীয় মহারাজ একাত্ম হয়ে যেতেন। অধ্যাত্মজীবনের স্বাদ না পেলে এই বোধ আসে না। কিন্তু মহারাজের এই অধ্যাত্মবোধ সহ বাস্তববোধ ছিল প্রখর। এভাবে তিনি সঙ্ঘের সেবা করে গেছেন।

পূজনীয় শিবময়ানন্দজী মহারাজ বেলুড় মঠে হেডকোয়ার্টরস্ অফিসে সহকারী সাধারণ সম্পাদকরূপে বেশ কয়েকবছর থেকেছেন। এক সময় তিনি মঠ ও মিশনের রিলিফ সচিবও ছিলেন। সে-সময়ে তাঁর সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁর জীবন আপন ভাবে চলত। কখনও কখনও তিনি বাসে করে কোথাও ঘুরে এলেন। পদমর্যাদাকে তিনি খুব একটা আমল দিতেন না। বহুবছর ধরে মহারাজ বিভিন্ন প্রাচীন সাধুদের ছোট জীবন-চরিতের তথ্য সংগ্রহ নিরলসভাবে করে গেছেন। অনেকগুলি ফাইলবন্দি আছে। সেগুলি একত্রিত করে উদ্বোধন কার্যালয় একটা বই প্রকাশে উদ্যোগী হয়েছে। আমি পুরানো ছবি পেলে না চিনতে পারলে মহারাজকে দেখাতুম — তিনি identify করে দিতেন।

তবে একটা বিষয় লক্ষ্য করার মত। তা হল, যত কিছু কাজ থাকুক, খাবার জুটুক বা না জুটুক সেদিকে নজর না দিয়ে জপ-ধ্যান করা, উৎসবে যোগ দেওয়া, রাতে কালীপূজায় গান করার প্রতি তাঁর প্রবল ঝোঁক ছিল। রামকৃষ্ণ-মুষায় তাঁর জীবন গঠিত হয়েছিল। সেবাকাজের সঙ্গে আধ্যাত্মিক জীবন একসুরে বাঁধা ছিল পূঃ শিবময়ানন্দজীর জীবনে। তিনি বহু প্রাচীন সন্ন্যাসীর পুণ্যসঙ্গ করেছেন আর সাধুজীবনের গোড়ায় পূঃ স্বামী প্রেমেশানন্দজী মহারাজের জীবন দেখেছেন। তাঁদের জীবন-পরশে নিজের জীবনকে রাঙিয়ে নিয়েছিলেন বলে পূঃ শিবময়ানন্দজী মহারাজের জীবন আমাদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

-স্বামী বিমলাত্মানন্দ
প্রবন্ধ : পরম পূজ্যপাদ স্বামী শিবময়ানন্দজী মহারাজের স্মরণে
গ্রন্থ : বিদ্যাতীর্থের স্মৃতিদীপ্তিতে স্বামী শিবময়ানন্দজী
পৃ.: ৭৮-৭৯

13/06/2025
শ্রীশ্রীজগন্নাথ মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথিতে স্নানযাত্রা উৎসব
11/06/2025

শ্রীশ্রীজগন্নাথ মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথিতে স্নানযাত্রা উৎসব

Address

Hori Ghosh Street
Kolkata
700006

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sri Ramakrishna Temple of Hori Ghosh Street Das Family posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share