13/01/2026
কাল পৌষ সংক্রান্তী বা মকর সংক্রান্তি....
মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ সংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পিতৃপুরুষ ও বাস্তুদেবতার জন্য তিল কিংবা খেজুর গুড় দিয়ে তিলুয়া তৈরি করত। নতুন চালে তৈরি করা পিঠার অর্ঘ্য দান করত। এ কারণে পৌষ সংক্রান্তির আরেক নাম তিলুয়া সংক্রান্তি বা পিঠা সংক্রান্তি। এ দিন বিভিন্ন অঞ্চলে শিশু-কিশোররা বাস্তুর গান, কুলাইর ছড়া, হোলবোলের গান, বাঘাইর বয়াত গেয়ে চাল ও অর্থ সংগ্রহ করে পৌষপালা, চড়ুইভাতি ইত্যাদির আয়োজন করে। একই দিন দধি সংক্রান্তির ব্রতের শুরু হয়। এই ব্রতে প্রতি সংক্রান্তিতে লক্ষ্মীনারায়ণকে দধি দ্বারা স্নান করিয়ে ব্রাহ্মণকে দধি ও ভোজদান করা হয়। তাই বলে পৌষ সংক্রান্তিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিশেষ সুযোগ নেই।
এ সময় গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরি হয় ভাপা, পাটিসাপটা, দুধ চিতই, মুগ পুলি, ছিট পিঠা ইত্যাদি। মায়েরা-মেয়েরা রাত জেগে পিঠার গায়ে অলঙ্করণ করেন- ফুল, লতাপাতা, পাখি, মাছের চোখ। সারারাত ধরে চলে এ আয়োজন। একদিকে চুলা থেকে পিঠা ওঠে। অন্য দিকে চলে গরম গরম খাওয়া। মায়ের হাতে তৈরি এসব পিঠার স্বাদ অতুলনীয়।
পৌষ সংক্রান্তিতে আত্মীয়-স্বজনদেরও নিমন্ত্রণ করে পিঠা খাওয়ানো হয়। বাংলা এই মাসের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন পৌষমেলা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তি নিকেতনে পৌষমেলার আয়োজন করতেন। এখনও পৌষমেলায় লোকজ সংস্কৃতির নানা পণ্য দিয়ে স্টল সাজান দোকানিরা। রাখা হয় পিঠা-পায়েস, খেজুরের রস।
তবে পুরানো ঢাকার পাড়া-মহল্লায় এইদিনে ঘুড়ি উৎসব বেশ প্রসিদ্ধ। বাড়ির ছাদে, মাঠে সকাল থেকে দিনজুড়ে চলে ঘুড়ি উড়ানো, গান-বাজনা আর খাওয়া-দাওয়া। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় আতশবাজি, ফানুস উড়ানো এবং বাজি-পটকা ফোটানো।
আর রাজধানীর সংস্কৃতিকর্মীরা আয়োজন করে বাংলার শাশ্বত পৌষমেলার। মেলায় পিঠা-পুলির স্টল বসে। চোখের সামনেই চলে পিঠা তৈরি ও বিক্রি। একই সময় লোক আয়োজন থাকে অনুষ্ঠান মঞ্চে। মঞ্চ থেকে জারি, সারি, ভাটিয়ালী গানে তুলে ধরা লোকায়ত সংস্কৃতি। পুঁথি পাঠ, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে প্রজন্মকে আহ্বান জানানো হয় মাটির কাছাকাছি আসার।