29/03/2025
একবার ঋষি ভৃগু ঠিক করলেন যে, ত্রিমূর্তির মধ্যে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব) কে সবচেয়ে সহনশীল ও পূজার যোগ্য, তা পরীক্ষা করবেন। তিনি যখন বৈকুণ্ঠে পৌঁছান, তখন দেখেন, ভগবান বিষ্ণু শয্যায় শায়িত, আর মা লক্ষ্মী তাঁর পদমূলে বসে আছেন। ভৃগু অনুভব করলেন যে বিষ্ণু তাঁকে উপেক্ষা করছেন, তাই রাগের বশে তিনি তাঁর পদাঘাত করেন বিষ্ণুর বুকে।
কিন্তু বিষ্ণু রাগ না করে বিনীতভাবে ভৃগুর পা ধরলেন, তাঁদের ম্যাসাজ করলেন এবং ক্ষমা চেয়ে বললেন, “আপনার পায়ে ব্যথা লাগল কি না, মহর্ষি?” তবে মা লক্ষ্মী এই অপমান সহ্য করতে পারলেন না। তিনি মনে করলেন, যে বুকে তিনি বসবাস করেন, সেই বুকে আঘাত হানা হল, আর তাঁর স্বামী কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখালেন না! এই অপমান ও দুঃখে তিনি বৈকুণ্ঠ ছেড়ে মর্ত্যে চলে গেলেন।
লক্ষ্মী পৃথিবীতে নেমে এলেন, ব্যথায় ও বেদনায় ভেসে গেলেন। তাঁর ছাড়া বৈকুণ্ঠ উজ্জ্বলতাহীন হয়ে পড়ল, সমস্ত সৌন্দর্য ও প্রাণশক্তি হারিয়ে গেল। বিষ্ণুও খুব দুঃখ পেলেন, কিন্তু তিনি নিয়তির পরিক্রমায় বাধ্য হয়ে কিছুই করতে পারলেন না।
সময়ের পরিক্রমায় লক্ষ্মী মর্ত্যে "বেদবতী" নামে জন্ম নিলেন, এবং কঠোর তপস্যা করলেন, যাতে তিনি আবার বিষ্ণুকে স্বামী হিসেবে পেতে পারেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, তিনি অনেক কষ্ট সহ্য করলেন, এমনকি রাবণের মতো অসুরদের দ্বারা হুমকির সম্মুখীন হলেন।
পরবর্তী জন্মে, লক্ষ্মী "সীতা" রূপে জন্ম নেন, আর ভগবান বিষ্ণু "রাম" রূপে অবতীর্ণ হন। কিন্তু এখানেও তাঁদের প্রেম পরীক্ষা দেওয়া হয়—সীতাকে রাবণ অপহরণ করেন, আবার পরে সীতাকে বনবাসেও যেতে হয়।
তবে, সমস্ত দুঃখ-কষ্টের পরেও, তাঁদের প্রেম ও ভক্তির বন্ধন অবিচ্ছেদ্য থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা আবার বৈকুণ্ঠে ফিরে যান, চিরকালের জন্য একত্রিত হন।
এই গল্পটি বোঝায় যে, প্রকৃত ভালোবাসা অনেক কষ্ট, বিচ্ছেদ ও দুঃখের মধ্যে দিয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত তা জয়ী হয়। ধৈর্য, নিষ্ঠা ও ভক্তিই প্রকৃত ভালোবাসার শক্তি।