সত্যের বাণী - সনাতন

সত্যের বাণী - সনাতন Joy sriram, joy srikrishna জয় শ্রীকৃষ্ণ জয় শ্রীরাম পেজে লাইক শেয়ার করে সাথে থাকুন।

https://joysanaton1.blogspot.com/জয় সনাতন হরে কৃষ্ণ 🙏 সকল সনাতনি দাদা ও দিদি এবং মিত্রগন সবাইকে জানাই স্বাগতম ও গৌরিক অ...
06/03/2022

https://joysanaton1.blogspot.com/
জয় সনাতন
হরে কৃষ্ণ 🙏 সকল সনাতনি দাদা ও দিদি এবং মিত্রগন সবাইকে জানাই স্বাগতম ও গৌরিক অভিনন্দন আমাদের জয় সনাতন ব্লগের পক্ষ থেকে। আমাদের প্রধান লক্ষ হলো সনাতন ধর্মের বাণী প্রচার ও প্রসার করা।

Asim Sarkar তুমি যদি মানুষ হও তাহলে আমিও মানুষ, তুমি যদি মুসলমান হও তাহলে আমি সনাতনী
12/02/2022

Asim Sarkar
তুমি যদি মানুষ হও তাহলে আমিও মানুষ, তুমি যদি মুসলমান হও তাহলে আমি সনাতনী

সনাতনী হিন্দুরা আর জাগবে কবে ।। Asim Sarkar ।। জাগো হিন্দু জাগোতুমি যদি মানুষ হও তাহলে আমিও মানুষ, তুমি যদি মুসলমান হও তাহ...

20/04/2021
 ,বিয়ের পর মেয়েদেরকেই কেনো শশুড় বাড়িতে গিয়ে থাকতে হবে, ছেলেদেরকেই কেনো বংশধর মনে করা হয়, মুখাগ্নির অগ্রাধিকার ছেলেদের কে...
29/12/2020

,
বিয়ের পর মেয়েদেরকেই কেনো শশুড় বাড়িতে গিয়ে থাকতে হবে, ছেলেদেরকেই কেনো বংশধর মনে করা হয়, মুখাগ্নির অগ্রাধিকার ছেলেদের কেনো, সংসারের দায়ভার কেনো ছেলেকেই বহন করতে হয়, ঋতুস্রাবকে কেনো লোকজন খারাপ চোখে দেখে, কেনো শুধু মেয়েদেরই সম্ভ্রমহানি হয়, লগ্নভ্রষ্টা কেনো শুধু মেয়েরাই হয়, বউভাত বা জামাই ষষ্ঠীর পরিবর্তে বরভাত বা মেয়েষষ্ঠী হয় না কেনো, কেনো বরপক্ষ, কনে পক্ষকে যৌতুক দেয় না ? আপনার এই সকল প্রশ্নের জবাব আপনি পেতে চলেছেন, আমার এই প্রবন্ধে-

নিশি,
আমি আপনার সমস্ত প্রশ্নের জবাব মাত্র একটা তথ্য দিয়ে দিতে পারি, যাতে আপনার মুখ এমনি ই বন্ধ হয়ে যাবে বা আপনার সমস্ত প্রশ্নের জবাব আপনি আমার ঐ একটা জবাবেই পেয়ে যাবেন, সেই কথাটি বলবো আমি এই প্রবন্ধের শেষে, তার আগে আপনার প্রতিটা প্রশ্নের জবাব শুনুন-

প্রথম প্রশ্নে আপনি বলেছেন- আজীবনই কেনো একটা মেয়েকে বিয়ে করে শশুড় বাড়িতে যেতে হবে !? ছেলে কেনো বিয়ে করে শশুড় বাড়িতে আসতে পারবে না্ ?

-এটা পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার ফল। যেখানে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা আছে, যেমন বাংলাদেশের কিছু উপজাতি পর্যায়ে, সেখানে আপনার পছন্দের এই ধরণের সিস্টেম আছে। কিন্তু পৃথিবীতে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন খুবই কম, কিছু বাস্তব কারণে। এই যেমন ধরুন- যদি কোনো মেয়ে চাকরি বা ব্যবসা করে, এজন্য তাকে বাড়ির বাইরে যেতেই হবে। কিন্তু সে যখন প্রকৃতির নিয়ম মেনে গর্ভধারণ করবে, তখন বেশ কয়েক মাস সে কিছুই করতে পারবে না, সেই সময় তাকে তার চাকরি বা ব্যবসা থেকে ছুটি নিতে হবে এবং বাচ্চার জন্মের পরও তাকে লালন পালনের জন্য তাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হবে। তার চাকরি তো বন্ধ করতেই হবে, যদি বিকল্প কেউ না থাকে, তাহলে তার ব্যবসাকেও বন্ধ করে দিতে হবে; সরকারি চাকরি হলে সে নির্দিষ্ট সময় হয়তো সবেতন ছুটি পাবে, কিন্তু বেসরকারি চাকরি হলে সে ছাঁটাই হবে। আর সেই নারী ব্যবসায়ী হলে, আর তার ব্যবসা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে, আর কোনো ব্যবসা একবার বন্ধ হয়ে গেলে, সেটাকে পুনরায় চালু করে আগের মতো চালানো প্রায় অসম্ভব। আর এই ব্যবসা বন্ধের ঘটনা বার বার ঘটলে সেই ব্যবসা তো চলবেই না।

এই আধুনিক যুগে জন্মনিয়ন্ত্রণের অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার ফলে গর্ভধারণকে নারীরা অনেকটাই নিজের কন্ট্রোলে নিতে পেরেছে, তারা একটি বা দুটো বাচ্চা নিয়েই পুরো সিস্টেমটাকেই অফ করে দিতে পারছে। কিন্তু সমাজ ব্যবস্থার যখন উদ্ভব, তখন এই ক্ষমতা মানুষের হাতে ছিলো না, তখন গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্মদান ছিলো মানুষের যৌনক্রিয়ার ফলে প্রকৃতির খেয়ালের অধীন, যে কারণে প্রাপ্ত বয়স্ক একটি মেয়েকে তার জীবনের প্রায় পুরো সময়ই গর্ভধারণ এবং সন্তান লালন পালনে ব্যয় করতে হতো। এখন আপনিই বলেন, প্রাপ্ত বয়স্ক এবং বিবাহিতা কোনো নারীর পক্ষে কি বাড়ির বাইরে গিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চাকরি বা ব্যবসা করা সম্ভব ? অথচ প্রাকৃতিক কারণে একজন পুরুষের এই সমস্যা নেই। একজন পুরুষ সারা বছর, এমনকি সারাজীবন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে তার চাকরি বা ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে এবং তার নিজের বা তার পরিবারের জন্য অর্থ রোজগার করতে পারে, যে অর্থ রোজগার বেঁচে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। পুরুষের এই সুবিধার কারণেই পুরুষরা অর্থ রোজগারের দায়িত্ব নিয়েছে বা পেয়েছে, যে কারণে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যেখানে পরিবার বা সমাজের কর্ণধার হলো পুরুষরা, তাই পুরুষরা নিজ বাড়িতেই থাকে, আর মেয়েদেরকে বিয়ের পর ছেলের বাড়িতে চলে যেতে হয়।

দ্বিতীয় প্রশ্নে আপনি বলেছেন- ছেলেদেরকেই কেনো বংশধর মনে করা হয়, কেনো মেয়েদেরকে মনে করা হয় না ?

-পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়, ছেলেরা যেহেতু সারাজীবন বাড়িতেই থাকে, পিতা মাতার দেখাশোনা করে এবং সন্তানের জন্ম দিয়ে বংশ রক্ষা করে, সেজন্যই তাদেরকে বংশধর মনে করা হয়। বিয়ের পর মেয়েরা যেহেতু অন্য বংশে চলে যায়, সেহেতু তাদেরকে পিতৃ বংশের বংশধর মনে করা হয় না, তবে তারা অবশ্যই শশুরকূলের বংশধর।

তৃতীয় প্রশ্নে আপনি বলেছেন- পিতা মাতার মুখাগ্নির অধিকার ছেলেরা কেনো পায়, মেয়েরা কেনো পায় না ?

-আপনার এই জানার মধ্যে একটু ভুল আছে। পিতা মাতার মুখাগ্নির অধিকার মেয়েরাও পায়, তবে সেটা মৃত ব্যক্তির পুত্র ও পৌত্রের পর। বিয়ের পর মেয়েরা যেহেতু শশুড় বাড়িতে গিয়ে থাকতে বাধ্য হয় এবং সেটা দূর দূরান্তে হতে পারে, পিতা মাতা মারা গেলে যেখান থেকে তাদের আসতে অনেক সময় লাগতে পারে বা অনেক ক্ষেত্রে আসা সম্ভব নাও হতে পারে, এই সব বিষয় বিবেচনা করে, মৃত ব্যক্তির বাড়িতেই যারা থাকে, তাদেরকেই প্রথমে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে পিতা মাতার মুখাগ্নি করার জন্য, তাদের অভাবে প্রথমে অবিবাহিতা কন্যা এবং তার পর বিবাহিতা কন্যাদের অধিকার দেওয়া হয়েছে পিতা মাতার মুখাগ্নি করতে, সুতরাং বাস্তবতা বিবেচনা করলে এটা নিয়ে ক্ষোভের কিছু নেই।

চতুর্থ প্রশ্নে আপনি বলেছেন- একটা সংসারের দায়ভার সব সময় কেনো ছেলেদেরকেই বহন করতে হবে, কেনো এই দায়ভার মেয়েরা বহন করতে পারবে না ?

-আপনার এই প্রশ্নের জবাব প্রথম প্রশ্নের আলোচনাতেই দিয়েছি, নারী ও পুরুষের প্রকৃতিগত সুবিধার জন্যই পুরুষেরা বাড়ির বাইরে গিয়ে চাকরি বা ব্যবসা করার জন্য বেশি যোগ্য, একারণেই তাদের উপর সংসার চালানোর মতো অর্থ রোজগারের ভার পড়েছে, আর নারীর উপর ভার পড়েছে বাড়ি ও সন্তান সামলানোর।

পঞ্চম প্রশ্নে আপনি বলেছেন- ঋতুস্রাব তো ভগবানেরই সৃষ্টি, তবে সেটা নিয়ে কেনো একটি নারীকে ছোটো করে দেখা হয় ?

-প্রাচীন থেকে বর্তমান, সব সময়েই একজন নারীকে দেবী দুর্গার মতো দশহাতে একটি বাড়ির সকল কাজকর্ম করে সংসারকে সামাল দিতে হয়। চাইলেই নারীরা এ থেকে ছুটি নেয় না বা নিতে পারে না। নারীরা যাতে মাসে অন্তত কয়েকদিন সকল প্রকার কাজকর্ম থেকে বিশ্রাম পায়, সেজন্য প্রাচীনকালে ঋতুস্রাবের সময় নারীদেরকে সকল প্রকার কাজকর্ম থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে, রেগুলার কাজ থেকে বিশ্রাম বা এই ছুটিই কালক্রমে নিষিদ্ধ হয়ে উঠেছে এবং যেহেতু সেই সময় মেয়েরা কোনো ধরণের কাজে অংশ নিতো না, তাই এক সময় এই ভাবনা গড়ে উঠে যে ঋতুস্রাবকালীন মেয়েরা কোনো শুভ বা পবিত্র কাজ করতে পারবে না, তাই ঋতুস্রাবকালীন কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজে অংশগ্রহন এক সময় সমাজে নিন্দনীয় হয়ে উঠে। মূলত এটা প্রকৃত ঘটনা না বোঝার ফল এবং সমাজের মূর্খ মানুষদের মনোভাব। কিন্তু বাস্তবে ঋতুস্রাব অপবিত্র বা অশুচি নয়, এটা নারী শরীরের একটা সাধারণ ঘটনা। আপনি ঋতুস্রাব নিয়ে এই ধরণের প্রশ্ন তুলেছেন, এর কারণ আপনার পিতা মাতা আপনাকে এ সম্পর্কে সঠিক শিক্ষাটা দেন নি বা না জানার কারণে দিতে পারেন নি। কিন্তু এখন আপনি তো প্রকৃত বিষয়টা জানলেন, এর পর আপনি আপনার জুনিয়রদেরকে বা আপনার সন্তানদেরকে সঠিক শিক্ষাটা দিয়েন, তারা এটাকে আর ছোট করে দেখবে না। বরং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তার জন্ম বলে, সে এটা নিয়ে গর্ববোধ করবে।

ষষ্ঠ প্রশ্নে আপনি বলেছেন- সম্মানহানির টপিক এলে কেনো বলা হয় মেয়েটার সম্মানহানি হয়েছে, মেয়ের ভার্জিনিটি নষ্ট হয়েছে, কেনো ছেলেদের ক্ষেত্রে এমন বলা হয় না ?

-এটাও আসলে পুরুষের প্রকৃতিগত দৈহিক সুবিধা। কারণ, বিয়ের আগে কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীর সাথে সেক্স করে, তাহলে তার কোনো চিহ্ন তার পুংলিঙ্গে থাকে না, কিন্তু বিয়ের আগে কোনো নারী যদি সেটা করে, তাহলে তার চিহ্ন তার শরীরে থেকে যায়। শুধু তাই নয়, বিয়ের পূর্বে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত যৌনমিলনের ফলে একজন নারী গর্ভধারণও করে ফেলতে পারে, যার দায় পুরোটাই বহন করতে হয় সেই নারীকে, তাই নারীকে সব সময় কোনো প্রকার ভুল করা থেকে সাবধান থাকতে হয়, নারীদেরকে যে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে মহাভারতের কুন্তী এবং রামায়ণে বর্ণিত অহল্যার ঘটনার মাধ্যমে।

সপ্তম প্রশ্নে আপনি বলেছেন- লগ্নভ্রষ্টা হলে কি শুধু মেয়েরই হয়, ছেলের হয় না ?

-বিয়ের লগ্ন হলো বিবাহের জন্য একটি শুভ সময়, এই শুভ সময়ে বিয়ে হলে কন্যার দাম্পত্য জীবন ভালো ও সুখী-সমৃদ্ধ হয়, যেটা সব পিতা মাতাই কামনা করে। শুধু নির্দিষ্ট দিনের লগ্ন নয়, বিয়ের জন্য শুভ বার এবং শুভ মাসও রয়েছে। যে কন্যার কর্ম ভালো, অটোমেটিক্যালি সে কন্যার সব কিছু শুভ মাস, শুভ বার বা শুভ সময়ে হবে। আর যার কর্ম খারাপ, শত চেষ্টার পরেও তার কোনো কিছু শুভ সময়ে হবে না, এমন মেয়েই শুধু লগ্নভ্রষ্টা হতে পারে। এই লগ্নভ্রষ্টা নারীকে যে পুরুষ বিবাহ করতে বাধ্য হবে, তার কর্ম যদি ভালো হতো, তাহলে তার বিবাহে এমন ঘটনাই ঘটতো না। সুতরাং লগ্নভ্রষ্টা হওয়ার জন্য কন্যা তো অবশ্যই দায়ী, তার সাথে দায়ী বরও। কারণ, দুই জনের কর্ম মিলেই তাদের ভাগ্য তৈরি করেছে। কিন্তু সমাজ পুরুষ শাসিত বলে, পুরুষের দোষ কম দেখা হয়; কারণ, এই দোষটা নির্ধারণ করবে তো পুরুষই। এজন্য পুরুষরা নিজেদের অপকর্ম বা কুকর্মের ফল যখন পায়, তখন তা নিজেদের ঘাড়ে না নিয়ে, মেয়েদের ঘাড়ে দিতে স্বস্তি বোধ করে, মূলত এই কারণেই লগ্নভ্রষ্টা হলে নারী নিন্দিত হয়, যদিও তাতে নারী ও পুরুষ, উভয়ের দোষ সমান।

অষ্টম প্রশ্নে আপনি বলেছেন- আজীবন কি ছেলেদেরকেই পরিবার ও স্ত্রীর দায়িত্ব নিতে হবে, মেয়েরা কি পারে না পরিবার ও স্বামীর দায়িত্ব নিতে ?

-আপনার এই প্রশ্নের উত্তরও লুকিয়ে আছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে, যার উত্তর অনেকটা আপনার প্রথম প্রশ্নের আলোচনায় দিয়ে দিয়েছি। অর্থ রোজগারে পুরুষের সুবিধা ছাড়াও, দৈহিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও পুরুষ, নারীদের চেয়ে প্রকৃতিগতভাবে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত, এটা শুধু ঋতুস্রাব, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান, এবং স্তন্য পান করানো বা লালন পালননের দিক থেকেই নয়, শারীরিক শক্তির দিক থেকেও। সাধারণভাবে নারীরা পুরুষের তুলনায় কম উচ্চতা সম্পন্ন এবং কম দৈহিক শক্তি সম্পন্ন। দৈহিক শক্তির এই তারতম্যের কারণেই প্রায় সব নারী নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, তারা পুরুষদের দ্বারা ধর্ষণ বা নির্যাতনের শিকার হয়, আর একারণেই নারীর হাতে অর্থ সম্পদ রাখাকে আমাদের শাস্ত্রকারগণ নিরাপদ মনে করেন নি, তাই তাদেরকে পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার করা হয় নি। তুলনামূলকভাবে নারীর কম দৈহিক শক্তির কারণেই, তাকে রক্ষার ভার পড়েছে পুরুষের উপর এবং অর্থ রোজগারের সুবিধার কারণেও স্ত্রীর ভরণপোষণের দায় পড়েছে পুরুষেরই উপর। তাই ছেলেদেরকেই আজীবন পরিবার ও স্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে নারীরা যে এ দায়িত্ব নিতে পারবে না, তা নয়; এখন সময় বদলেছে, নারীরা চাইলে, পুরুষের পাশাপাশি পরিবারের অনেক দায়িত্ব নিতে পারে, যে দায়িত্ব অনেক নারী পালন করছেও, কিন্তু বাস্তব কারণেই কোনো নারীর পক্ষে তার স্বামীর ও পরিবারের পুরো দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, তার গর্ভধারণ ও বাচ্চা প্রসবকালে তাকে তার চাকরি বা ব্যবসা থেকে ছুটি নিতেই হবে, সেই সময় তার স্বামীকেই সংসার চালনোর মতো অর্থ উপার্জন করতে হবে, এভাবে অটোমেটিক্যালি তার স্বামীর হাতে সংসার চালানোর সব রকম ম্যাকানিজম এক সময় চলে যাবে।

দশম প্রশ্নে আপনি বলেছেন- আজীবন বউ ভাত বা জামাই ষষ্ঠী কেনো হতে হবে ? বর ভাত বা বউ ষষ্ঠী হলে সমস্যা কী ?

-পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়, মেয়েকে বিয়ের পর তার শশুড় বাড়িতে যেতে হয়। বিয়ের পর, বউ ভাত হলো, সেই মেয়ের শশুড়বাড়ির এলাকায় তার পরিচিতি অনুষ্ঠান। যদি মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্খা কোনো দিন চালু হয়, যখন ছেলেরা বিয়ের পর তার শশুড় বাড়িতে গিয়ে থাকতে বাধ্য হবে, তখন অবশ্যই বিয়ের পর বর ভাত হবে। আর জামাই ষষ্ঠী হলো- জামাইকে বা জামাইয়ের বাড়ির লোকজনকে কনের বাড়ির লোকজন কর্তৃক ঘুষ প্রদান, যাতে, তাদের মেয়েকে, তারা কোনো কষ্ট না দেয় এবং সুখে শান্তিতে রাখে। জামাই ষষ্ঠীর আরো কিছু বাস্তব কারণ আছে, সে সম্পর্কে আমার- "জামাই ষষ্ঠী কী ও কেনো" নামে একটি প্রবন্ধ আছে, সেটা পড়লে বিস্তারিত বুঝতে পারবেন। শুধু তাই নয়, আপনি আমার পোস্টগুলো রেগুলার বছর খানেক পড়লে আপনার মনের সকল প্রশ্নের জবাবই পেয়ে যাবেন, তারপর একজন সনাতনী হিসেবে নিজে গর্ববোধ করতে বাধ্য হবেন।

১১ তম অর্থাৎ শেষ প্রশ্নে আপনি বলেছেন- বিয়ের সময় ছেলেদেরকেই কি মেয়ের বাপকে যৌতুক দেওয়া উচিত নয়, যেহেতু মেয়ের বাপ, মেয়েকে জন্ম দিয়েছে, বড় করতে টাকা পয়সা খরচ করেছে ?

-আপনি যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটা কেমন জানেন, সেটা হলো মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়া, যেটা আরবীয় দেশগুলোতে প্রচলিত। ঐসব দেশে বিয়ের সময় মেয়ের পিতাকে, ছেলে পক্ষকে মোহরানার নামে মেয়ের দাম দিয়ে দিতে হয়, যেটা একপ্রকারে কন্যাকে কিনে নিয়ে যাওয়া, এরপর ছেলেপক্ষ, সেই কন্যাকে নিয়ে যা খুশি করতে পারে, যেহেতু তারা উপযুক্ত দামে সেই মেয়েকে কিনেছে ? যে ছেলে মনে করে যে, সে তার বউকে কিনেছে, সেই ছেলের সংসারে সেই মেয়ে কি কখনো সুখে শান্তিতে থাকতে পারে ? সেই মেয়ে তো ঐ ছেলের জাস্ট ভোগের বস্তু, আর বাড়ির দাসী।

অপরপক্ষে সনাতনীমতের বিয়েতে, কন্যাকে যথেষ্ট উপহার সামগ্রী দিয়ে শশুড়বাড়িতে পাঠানোর যে বিধান, (কন্যার পিতার অবিবেচনায় এবং সুযোগসন্ধানী মনোভাবের কারণে যেটা বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক যৌতুক প্রথায় পরিণত হয়েছে) সেই বিধানে কন্যাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় না, তাই সেই কন্যার সাথে শশুড় বাড়ির লোকজনের যা খুশি তা করার অধিকার থাকে না। এছাড়াও বিয়ের পর থেকে নতুন বউয়ের পেছনে বরের বাড়ির লোকজনের অর্থ খরচ করতে হয়, তার- প্রয়োজন, শখ ও বিলাস অর্থাৎ ভরণ-পোষণের জন্য। যাতে ধনীর দুলালীরা তো নয়ই, এমনকি ভিখারী ঘরের কোনো মেয়ে, যাকে দয়া করে বিয়ে করে একটি সংসার দেওয়া হয়েছে, সেও ছাড় দেয় না। বিয়ের পূর্বে মেয়ে যখন বাপের বাড়িতে ছিলো, তখন তো সেই মেয়ের ভরণ-পোষণের জন্য মেয়ের বাপের তো অর্থ খরচ হতো, তাহলে বিয়ের সময় সেই মেয়েকে খালি হাতে শশুড় বাড়িতে পাঠিয়ে মেয়ের বাপ মা সারাজীবনের মতো তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেয় কিভাবে ? মেয়ে কি শশুড় বাড়িতে এসে বা গিয়ে শুধু জল বাতাস খেয়ে থাকে ? থাকে না । বরং তার চাহিদা আরো বাড়তে থাকে, বাপের বাড়িতে থাকতে তার যে চাহিদা বা স্বপ্ন পূরণ হয় নি, স্বামীর বাড়িতে এসে সেই চাহিদাগুলো পূরণ করতে চায়, আর সেটা ঠিক ঠাক পূরণ না হলেই শুরু করে অশান্তি; একজন আমাকে বলেছিলো- বউ কিছু চাইলে, সেটা দিতে না পারলে রাতে বিছানায় উল্টো হয়ে শুয়ে থাকে, বুঝে নেন, কী বলতে চাইছি।

আমি জানি সব মেয়ে এমন নয়, কিন্তু বেশির ভাগ মেয়ের মনের অবস্থায় এমন; যা হোক, এই যখন বেশিরভাগ মেয়েদের মনের অবস্থা, তখন তারা খালি হাতে শশুড় বাড়িতে আসবে বা যাবে কেনো বা নিজেদের কর্মের ফলে জন্ম দেওয়া মেয়েকে, মেয়ের জনক পিতা মাতা, খালি হাতে মেয়েকে শশুড় বাড়িতে পাঠিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করবে কেনো ?

শেষ প্যারায় আপনি বলেছেন- আমি মনে করি সবই এই সমাজ সৃষ্ট কুসংস্কার।

-কিন্তু আসলে এগুলোর কোনো কিছুই কুসংস্কার নয়, সবই সামাজিক বাস্তবতা। সনাতনী মতের বিয়েতে বর ও কনে উভয় পক্ষকেই তিন দিন ব্যাপী নানা ধরণের নিয়ম-কানুন মানতে হয়, অহিন্দুদের কাছে এগুলোকে কুসংস্কার বলে তো মনে হয় ই, অনেক হিন্দুর কাছেও এগুলোকে কুসংস্কার বলে মনে হয়। কিন্তু সনাতনী পদ্ধতির বিয়ের প্রতিটা আচার বৈজ্ঞানিক যুক্তিসম্পন্ন, যেগুলো পালন করে বিয়ে করলে বাসর রাতে কোনো মেয়ে ধর্ষিতা হবে না, তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো যাবে, সুন্দর যাবে। আর সনাতনী পদ্ধতিতে যে মেয়ে বিয়ে করবে এবং বিয়ের পর শাঁখা সিঁদুর খারু পলা পরিধানসহ সৎ জীবন যাপন করবে, কোনোদিন সেই মেয়ের কোনো কষ্ট হবে না, তার স্বামী পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে তাকে কষ্ট দেবে না বা আরেকটা বিয়ে করে তাকে সতীনের সংসারের কষ্টে ফেলবে না বা তাকে ডিভোর্স দিয়ে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দেবে না।

সনাতনী পদ্ধতির বিয়ের এত ঝামেলা সহ্য করার ফল আসলে এটাই- একটা সুন্দর সুখময় দাম্পত্য জীবন। এর বিপরীতে যেকোনো অসনাতনী বিয়ে হলো পতিতাবৃত্তির একটি চুক্তি, যে চুক্তি যেকোনো সময় কারণে বা অকারনে ভেঙ্গে দেওয়া যায়, যার ফলে পুরুষ কিছু না হারালেও নারী হারায় সব। এই সব হারাতে চান বলেই বিয়ের সময় বাপের বাড়ি থেকে শশুড় বাড়িতে কিছু অর্থ সম্পত্তি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে আপনার চাপিয়ে দেওয়া মনে হচ্ছে। আগেই বলেছি, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত উপহার সামগ্রী দিয়ে কন্যাকে তার শশুড় বাড়িতে পাঠাতে হবে, কিন্তু মেয়ের বাপের অবিবেচনা এবং সুযোগ সন্ধানী মনোভাবের কারণে বর্তমানে যেটা চুক্তি ভিত্তিক যৌতুক প্রথায় পরিণত হয়েছে; কারণ, সুযোগ পেলেই মেয়ের বাপেরা চায় বিনা খরচে কন্যার দায়কে মাথা থেকে নামাতে। তাই ভদ্রতার খাতিরে যেসব বর পক্ষ বিয়ের আগে কোনো রকম যৌতুক চায় না, সেসব ক্ষেত্রে মেয়ের বাপেরা সুযোগ নিয়ে মেয়েকে এক প্রকার খালি হাতেই শশুড় বাড়িতে পাঠায় এবং ছেলের যোগ্যতার কোনো মূল্য দেয় না। খেয়াল করে দেখবেন, যে বাপ, তার মেয়ের বিয়েতে সুযোগ পেয়ে এই ধরণের অবিবেচনাপ্রসূত কাজ করে, সেই মেয়ের সংসারই সুখের হয় না, কারো কারো তো সংসারই ভেঙ্গে যায়; কারণ, এখানে মুনি ঋষিদের যে শাস্ত্রীয় বিধান, বিয়ের সময় মেয়েকে পর্যাপ্ত উপহার সামগ্রী দিয়ে শশুড় বাড়িতে পাঠাতে হবে, সেটা ফলো করা হয় না।

আমার ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচিত একজন হিন্দু ছেলে একদিন কথা প্রসঙ্গে আমার কাছে দুঃখ করে বললো- পরিবারের মতে দেখে শুনে বিয়ে করলে, আমার যে যোগ্যতা, তাতে আমি ৮/১০ লাখ টাকা পেতাম, কিন্তু প্রেম করে বিয়ে করেছি বলে বিয়ের খরচের জন্য আমার শশুড় আমাকে যে টাকা দিয়েছে, তাতে বিয়ের খরচই উঠে নি, তার চেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়ে গেছে, আর এর ফলে আমার যে ক্যাশ ছিলো তা নিঃশেষ হয়ে গেছে, এখন চাকরির টাকায় কোনো রকমে খেয়ে পরে দিন চলে, আমাকে একটা পরামর্শ দেন, কিভাবে আরো বেশি টাকা পয়সা আয় করতে পারবো ?

আমি বললাম- এই যে প্রেম করে বিয়ে করেছেন, এটাই আপনার জীবনের ঐতিহাসিক ভুল। এই ভুলের মাশুলই আপনি দিচ্ছেন এবং আরো দিতে হবে। কারণ, কর্মের ফল মানুষ পাবেই, কর্ম কখনো কাউকে ক্ষমা করে না।
বিয়ের পূর্বের প্রেম সনাতন ধর্মে স্বীকৃত নয়; কারণ, প্রেম প্রতিটা মানুষের জীবনে কোনো না কোনোভাবে বিপর্যয় নিয়ে আসে। প্রেম, বিয়ে পর্যন্ত গড়ালেও ম্যাক্সিমাম দম্পতি তাতে সুখী হয় না। যারা প্রেমের আবেগে পালিয়ে বিয়ে করে তাদের তো সুখী হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই, তিন মাসের মধ্যে এদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি মারপিট মাস্ট। আর যে প্রেমের বিয়ে লোক দেখানো এ্যারেঞ্জে হয়, সেখানে মেয়ের বাপ সুযোগ নেয় ই, এতে ছেলের পরিবার বঞ্চিত হয়, প্রথমে মুখে কিছু না বললেও, ছেলের পরিবারের লোকজনের মনে একটা কষ্ট থাকে, যে কষ্ট একদিন না একদিন মুখ ফুটে বের হয়ে পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি করেই বা করবে। তাই আমার মতে যে ছেলেরা প্রেম করে বিয়ে করে তারা নির্বোধ; কারণ, এখানে পাওয়ার চেয়ে বঞ্চনার পরিমাণই বেশি, যে বঞ্চনা দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে দেয় না।

সনাতন ধর্মের যাবতীয় বিধি বিধান বিজ্ঞানসম্মত এবং বাস্তব, তাই জীবন যাত্রার যেখানেই আপনি সনাতন ধর্মকে পাশ কাটিয়ে যাবেন, সেখানেই সমস্যায় পড়বেন। আর সনাতন ধর্মে কোনো কুসংস্কার নেই, সবই সংস্কার; যেটাকে আপনার কু সংস্কার বলে মনে হবে, ধরে নিতে হবে যে সেই ব্যাপারে আপনার জ্ঞান পর্যাপ্ত নয়, তাই বিষয়টি আপনি বোঝেন নি, যে কারণে সেটা আপনার কাছে কুসংস্কার বলে মনে হচ্ছে। অর্থাৎ জ্ঞানের অপর্যাপ্ততা বা বোধের উপলব্ধির অভাবই সনাতন ধর্মের বিধি বিধানকে কুসংস্কার বলে মনে হওয়ার কারণ।

যা হোক, প্রথমে আপনাকে যে কথাটি বলবো বলে বলেছিলাম, এখন সেই কথাটি বলছি-

আপনার মতো যারাই নারীবাদী চিন্তা-ভাবনা করে, তারা ইসলাম-খ্রিষ্টান-ইহুদিদের মতো অসনাতনী মতবাদ বা তথাকথিত ধর্ম দ্বারা আক্রান্ত বা প্রভাবিত, যে মতবাদগুলো জগত ও জীবনের সকল রহস্যকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। এই সব মতবাদ অনুযায়ী সকল প্রাণীর একবারই মাত্র জন্ম হয়, আর একবারই মৃত্যু হয়। এদের কাছে জীবন একটাই, তাই এরা ভাবে- আমাকে নারী হিসেবে জন্ম নিয়ে কেনো এত কষ্ট ভোগ করতে হবে, পুরুষের তুলনায় কেনো এত বঞ্চনা সহ্য করতে হবে, কেনো নারী শরীরের এত সমস্যা সহ্য হবে। যেহেতু এরা ভাবে জীবন একটাই এবং এই এক জীবনে পুরুষেরা, নারীদের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন এবং সুখী, তাই এদের ভাবনা হলো- নারীদেরকে কেনো এরকম সমস্যাশঙ্কুল জীবন যাপন করতে হবে ?

এই ভাবনার মূল কারণ- সনাতনী জ্ঞানের অভাব। যে জ্ঞান বলে- জীবন হলো আত্মার ভ্রমণ এবং সেই ভ্রমণে প্রতিটি আত্মাকে জগতের সকল প্রাণীর সুখ দুঃখকে ভোগ করতে হয়। আজ আমি পুরুষ, কিন্তু গত জন্মে যে আমি নারী ছিলাম না, এমনটা নয়; আবার আগামী জন্মে যে আমি নারী হয়ে জন্ম নিয়ে নারীর সুখ দুঃখকে ভোগ করবো না, এমনটাও নয়। শুধু তাই নয়, আমি এটাও ভাবি যে গত কোনো জন্মে হয়তো আমি কুকুর, বিড়াল বা গরু রূপে কষ্ট করেছি, তাই আমি ইতর শ্রেণীর প্রাণীদের কষ্টকে ফিল করি, যে কারণে আমার আয়ত্বের মধ্যে যারা, তারা যেন যতটা সম্ভব সুখে থাকে, ভালো থাকে, ক্ষুধায় তারা যেন কোনো কষ্ট না পায়, সেই চেষ্টা করি।
এবং আমি আমার স্ত্রীর প্রতিও খুবই সহানুভূতিশীল, নারী হিসেবে জন্ম নেওয়ায়- ঋতুস্রাব, গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব এবং সন্তানদের লালন পালনে তার যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে আমি সর্বোচ্চ খেয়াল রাখি, এই ভাবনা থেকে যে গত জন্মে আমিও হয়তো নারী ছিলাম, তখন এই কষ্টগুলো আমি ভোগ করেছি, আবার আগামী জন্মে যদি নারী হিসেবে জন্ম নিই, তখনও এই কষ্টগুলো আমাকেও ভোগ করতে হবে, আর পূর্ব জন্মের কর্মফল যেহেতু মানুষ পরের জন্মেও ভোগ করে, সেহেতু পরের জন্মে নারী হিসেবে জন্ম নিলেও আমার যাতে ওরকম কষ্ট না হয়, আমার স্বামী যেন আমার প্রতি সর্বোচ্চ যত্নশীল হয়, তার জন্য এ জন্মে পুরুষ হয়ে আমি সেই কাজ করে রাখছি, এজন্য পুরুষ হিসেবে জন্ম নিয়েও আমার বিশেষ কোনো গর্ব নেই এবং শুধু পুরুষ হওয়ার কারণে নারীদের প্রতি আমার বিশেষ কোনো অবহেলা বা বঞ্চনা নেই, পথ ঘাটে নারীদেরকে আমি শিকার এবং নিজেকে শিকারী মনে করি না; কারণ, আমি জানি- আগামী জন্মেই হয়তো আমাকে নারী হিসেবে জন্ম নিয়ে নারীদের সুখ দুঃখকে ভোগ করতে হবে।

সনাতন ধর্মের প্রকৃত জ্ঞান আমাকে এই রকম চিন্তা-ভাবনা করতে শিখিয়েছে, যার কারণে আমার এরকম মহান ও উচ্চ চিন্তাভাবনা এবং যার কারণে নিজের বহু সময় ব্যয় করে আমি প্রতিদিন ফেসবুকে উত্থাপিত শত শত প্রশ্ন বা রহস্যের সমাধান দেওয়ার জন্য লিখি। কারণ, আমি এটাও জানি যে- ঈশ্বর আমাকে এই জন্মে যে জ্ঞান দিয়েছেন, আমি যদি তার সদ্ব্যবহার না ক'রে, লোকজনকে সেগুলো না জানাই বা তাদেরকে সেই জ্ঞান না দিই, পরের জন্মে ঈশ্বর আমাকে মূর্খ করে সৃষ্টি করবেন; পরের জন্মে আমি মূর্খ হয়ে জন্ম নিতে চাই না, তার জন্য এ জন্মে কাজ করছি। আসলে অনেকে অপরের জন্য কাজ করলেও, পরোক্ষভাবে সেটা নিজের জন্যই করে, আমিও তার ব্যতিক্রম নই।

যদি আপনার মধ্যে সনাতনের এই সব জ্ঞান থাকতো, তাহলে নারী হিসেবে জন্ম নিয়ে আপনার মনে এত ক্ষোভ বা এতসব প্রশ্নের উদ্ভব হতো না। সনাতন ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব ই আপনার মনে এই সব প্রশ্নের উদ্ভাবক। তাই আপনার কাছে আমার অনুরোধ, নিজের এই জন্মে নারী হিসেবে জন্ম নেওয়াকে পূর্বজন্মের কর্মফল হিসেবে মেনে নিয়ে, আগামী জন্মে যাতে পুরুষ হিসেবে জন্ম নেন, সেজন্য পুরুষদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন, পুরুষের ব্যাপারে পজিটিভ মনোভাব রাখুন, পুরুষদেরকে নিজের শত্রু হিসেবে নয়, নিজেকে পুরুষদের মিত্র হিসেবে ভাবতে শিখুন; কারণ, এ জন্মে যারা পুরুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছে, সেটা তাদের পূর্বজন্মের কর্মফলের অর্জন, তাদের সেই অর্জনকে আপনার সম্মান করতে হবে, যদি সেই সম্মান আপনি না করেন, পরের জন্মে আপনি বর্তমান জন্মের চেয়ে আরো বেশি খারাপ অবস্থার নারী হিসেবে জন্ম নিয়ে এই জন্মে পুরুষ বিদ্বেষী হওয়ার ফল ভোগ করবেন। কারণ, এটা চিরসত্য যে- যে সব গরীব ব্যক্তি, ধনীদেরকে পছন্দ করে না, কারণে অকারণে ধনীদের সমালোচনা করে, ধনীদেরকে গালি দেয়, তারা কিন্তু কখনো ধনী হতে পারে না, তারা গরীব হয়ে জন্ম নিয়ে গরীব হয়েই মরে। তাই পুরুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে পুরুষের সুখকে ভোগ করতে চাইলে পুরুষকে শ্রদ্ধা করুন। এটাই যে আপনার শেষ বা একমাত্র জন্ম, আর নারী হিসেবে জন্ম নেওয়াই আপনি বঞ্চিত, দুঃখ-যন্ত্রণা-কষ্ট স্বীকার করতে বাধ্য- এই আব্রাহামিক বা সেমেটিক চিন্তা-ভাবনাকে ত্যাগ করুন; কারণ, সেটা সত্য নয়; শুধু এই জন্মই নয়, আপনাকে অনেক জন্ম ভোগ করতে হতে পারে, সে জন্মগুলো যাতে সুন্দর হয়, উন্নত হয়, তার জন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করুন।

আপনার এই জন্মসহ, পরের সকল জন্মকে সুন্দর করতে আমি আমার দায়িত্ব পালন করলাম, বাকিটা আপনার হাতে, সনাতন ধর্মে আপনার মতি স্থির হোক, এই কামনায় বলছি-

জয় হিন্দ।

কুতুবুদ্দিনের- হিন্দু হত্যা, মন্দির ধ্বংস এবং কুতুবমিনার এর প্রকৃত ইতিহাস : ইসলামে সমকাম প্রথা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও মুস...
28/12/2020

কুতুবুদ্দিনের- হিন্দু হত্যা, মন্দির ধ্বংস এবং কুতুবমিনার এর প্রকৃত ইতিহাস :

ইসলামে সমকাম প্রথা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও মুসলমান শাসকরা তার থোড়াই কেয়ার করতো। ইতিহাস বলছে কুতুবুদ্দিন ছিলো দাস এবং তার শাসন শুরু হওয়ার মধ্যে দিয়ে দিল্লিতে দাস বংশের শাসন শুরু হয়। কিন্তু ইসলামে, গনিমতের মাল হিসেবে অমুসলিম নারীদেরকে বন্দী করে ক্রীতদাসী হিসেবে তাদেরকে বিক্রি করা হতো মূলত যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করার জন্য; তাই ক্রীতদাসের বাজারে পুরুষদের তেমন কোনো চাহিদা ই ছিলো না, কিন্তু কুতুবুদ্দিনকে দাস হিসেবেই মুহম্মদ ঘোরী কিনে, ব্যাপারটা আসলে কী ?

বর্তমান আফগানিস্তানের একটি কালচার হচ্ছে ‘বাচা বাজী’। এই বাচারা হলো ১০ থেকে ১৮ বছরের সুদর্শন বালক বা কিশোর। আফগানিস্তানের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের গ্রাম এলাকা পশতুন এবং উত্তরাঞ্চলে তাজিক নামের একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে 'বাচা বাজী'র চর্চা বেশি । প্রভাবশালী যোদ্ধা, যুদ্ধবাজ নেতা, রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিত্তশালীদের মধ্যে বাচা রাখার বিষয়টি হলো বিত্তবৈভবের প্রতীক। মেয়েদের পোশাক পরিয়ে সাজিয়ে-গুছিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাচাদের দিয়ে নাচগান করানো হলেও এখানে যৌনতা ই হলো প্রধান বিষয়।

আফগানিস্তানের এই যে সমকাম চর্চা, এটা কিন্তু এক সুদীর্ঘ উত্তরাধিকার। মুহম্মদ ঘোরী ছিলো আফগান এবং সে পায়ুকাম চর্চার জন্যই কুতুবকে বাজার থেকে ক্রীতদাস হিসেবে কিনে, আস্তে আস্তে তার প্রতি খুবই আসক্ত এবং বাধ্য হয়ে পড়ে। কুতুবও, ঘোরীর এই দুর্বলতাকে খুব ভালো ভাবে কাজে লাগায়, মুহম্মদ ঘোরী কর্তৃক হিন্দুহত্যা, মন্দির ধ্বংস ও লুঠপাটের অভিযানে সে অংশ নিয়ে নিজের যোগ্যতাকে খুব ভালোভাবে প্রমান করে, এজন্য ঘোরী, ভারত অভিযান শেষে আফগানিস্তান ফিরে যাবার আগে কুতুবকে তার বিজিত অঞ্চলের শাসনকর্তা নিয়োগ করে যায়। এরপর ১২০৬ সালে ঘোরীর মৃত্যু হলে কুতুব নিজেকে দিল্লির সুলতান হিসেবে ঘোষণা করে।

১১৯৪ সালে মুহম্মদ ঘোরী, কুতুবকে সঙ্গে নিয়ে রাজা জয় চাঁদের বিরুদ্ধে বেনারস
অভিযানে বের হয়। পথে তারা কোলা নামক স্থান দখল করে এবং লুঠপাট চালায় এবং তারপর জয়চাঁদের সাথে কুতুবের যুদ্ধ হয় এবং জয়চাঁদ পরাজিত হলে কুতুব বেনারস দখল করে।

এইসব বর্বরতা বর্ণনা করতে হাসান নিজাম তার ‘তাজ-উল-মাসির’ গ্রন্থে লিখেছে,

“তার তরবারির ধার সমস্ত হিন্দুকে নরকের আগুনে নিক্ষেপ করলো। তাদের কাটা মুণ্ডু দিয়ে আকাশ সমান উঁচু তিনখানা বুরুজ নির্মান করা হলো এবং দেহগুলো বন্য পশুর খাদ্যে পরিণত হলো।”

একই প্রসঙ্গে মিনহাজ তার ‘তাবাকত-ই-নাসিরি’ গ্রন্থে বলেছে, “তাদের মধ্যে জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান লোকেরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলো এবং যারা সনাতন ধর্ম ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালো, তাদের সবাইকে হত্যা করা হলো”।

বেনারস থেকে কুতুবুদ্দিন ১ হাজার ঘোড়সওয়ার বিশিষ্ট বাহিনী নিয়ে কাশীর দিকে রওনা হয় এবং পথে অসনি দুর্গ অধিকার করে লুঠপাট চালায়। এ প্রসঙ্গে মিনহাজ লিখেছে,

“সেখানে এত লুটের মাল পাওয়া গেলো যে তা দেখতে দেখতে দর্শনকারীর চোখা ক্লান্ত হয়ে পড়লো।”

কাশী দখল করেই কুতুব মুসলমানদের আদেশ দেয় সমস্ত হিন্দু মন্দির ধ্বংস করতে, এ প্রসঙ্গে মিনহাজ লিখেছে, “তারা প্রায় এক হাজার মন্দির ধ্বংস করলো এবং সেই সব মন্দিরের ভিতের উপর মসজিদ নির্মান করলো।"

এরপর কুতুব যায় আজমীরে। সেখানকার ধ্বংসলীলা বর্ণনা করে মিনহাজ লিখেছে, “সেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলো, বিদ্রোহের পথ বন্ধ হলো, বিধর্মী কাফেরদের প্রাধান্য রুদ্ধ হলো, মূর্তিপূজার সমস্ত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ মন্দির নির্মমভাবে ধ্বংস করা হলো।”

এরপর কুতুব ১১৯৬ সালে গোয়ালিয়র দুর্গ আক্রমন করে, সে প্রসঙ্গে মিনহাজ লিখেছে, “কোরানে বর্ণিত পবিত্র জিহাদের বাণী অনুসরণ করে তারা তাদের রক্ত পিপাসু ইসলামের তরবারী খাপ থেকে বের করে ধর্মের শত্রু অর্থাৎ হিন্দুদের সামনে তুলে ধরলো।” এই একই ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে হাসান নিজামী তার ‘তাজ-উল-মাসির’ গ্রন্থে লিখেছে, “ইসলামের সেনারা সম্পূর্ণভাবে বিজয়ী হলো এবং ১ লক্ষ কাফের হিন্দুকে তৎক্ষনাৎ নরকের আগুনে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। সে মূর্তি পূজার সমস্ত কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করলো এবং সেখানে ইসলামের নিদর্শন স্বরূপ মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মান করলো।”

১১৯৭ সালে কুতুব ও ঘোরী, গুজরাট অভিযানে বের হয় এবং পথে নাহরওয়ালা দুর্গ আক্রমন করে। মাউন্ট আবুর এক গিরিপথে রাজা করন সিং ও মুসলমানদের মধ্যে যুদ্ধ হয়। এই যু্দ্ধ সম্পর্কে মিনহাজ লিখেছে,

“প্রায় ৫০ হাজার বিধর্মী কাফেরকে তরবারির সাহা্য্যে নরকের আগুনে চালান করা হলো এবং তাদের শবদেহের স্তুপ পাহাড়ের সমান উঁচু হয়ে গেলো। ২০ হাজারেরও বেশি ক্রীতদাস, কুড়িটি হাতি সহ এত লুটের মাল বিজয়ীদের হাতে এলো যে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারে নি।”

কুতুব যেমন ছিলো মুহম্মদ ঘোরীর যৌনক্রীতদাস, তেমনি কুতুবের ও ছিলো একজন যৌনক্রীতদাস, নাম আলতামস বা ইলতুৎমিশ। এই ইলতুৎমিশ, কুতুবের এতই প্রিয় ছিলো যে, নিজের মেয়ের সাথে কুতুব তার বিয়ে দেয় এবং যেহেতু কুতুবের কোনো ছেলে ছিলো না, সেহেতু নিজের পর যৌনক্রীতদাস কাম জামাই ইলতুৎমিশকে সিংহাসনে বসায়। এজন্যই দিল্লির সিংহাসনের এই ধারাকে বলে দাস বংশ, আসলে এটা যৌনক্রীতদাস বংশ।

যা হোক, ১২০২ সালে কুতুব, ইলতুৎমিশকে সাথে নিয়ে কালিঞ্জর দুর্গ আক্রমন করে। রাজা 'অজদেও' এবং মুসলমানদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয় এবং তারপর কুতুব দুর্গ অবরোধ করে রাখে। কিন্তু দুর্গে খাদ্যাভাব দেখা দিলে হিন্দু সৈন্যরা দুর্গ থেকে বেরিয়ে এসে যুদ্ধ শুরু করে কিন্তু পরাজিত হয়। এই যুদ্ধের ফলাফল হিসেবে মিনহাজ লিখেছে, “সমস্ত মন্দিরকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হলো, ৫০ হাজার হিন্দুকে ক্রীতদাস হিসেবে পাওয়া গেলো এবং পুরুষ হিন্দুর রক্তে মাটি পিচের মতো কালো হয়ে গেলো।”

কুতুব কর্তৃক হিন্দু হত্যা ও মন্দির ধ্বংসের ইতিহাসের পর, এবার নজর দেওয়া যাক কুতুব মিনারের দিকে।

আমাদের ইতিহাস রচয়িতারা আমাদেরকে শিখিয়েছে, দিল্লির সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক দিল্লিতে কুতুব মিনার নির্মান করেছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য কি তাই ?

কুতুব মিনার বলে যাকে চালানো হচ্ছে, সেটা দিল্লির যে জায়গায় অবস্থিত, তার নাম মেহেরৌলী। এই মেহরৌলী শব্দটি এসেছে ‘মিহিরওয়ালী’ শব্দ থেকে, আর এই মিহির হলেন সম্রাট বিক্রমাদিত্যের রাজসভার নবরত্নের এক রত্ন জ্যোতির্বিদ বরাহ মিহির।

মিনারটি যেখানেদাঁড়িয়ে আছে, তার আশে পাশে অনেকটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক দালান কোঠা, যেগুলো বর্তমানে অর্ধভগ্ন। প্রকৃতপক্ষে এই মিনারটির নাম ছিলো মেরুস্তম্ভ এবং এটি ছিলো বরাহ মিহিরের আকাশ পর্যবেক্ষণের টাওয়ার এবং মিনারের আশে পাশের দালানগুলো ছিলো মিহির এবং তার ছাত্রদের থাকার এবং জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার ঘর। শুধু তাই নয়, এই মেরুস্তম্ভের আশে পাশে ২৭ টি নক্ষত্রের নামে ২৭ মন্দির ছিলো এবং এই মন্দিরগুলোতে নক্ষত্ররূপী দেব-দেবীর মূর্তিও ছিলো। মিনারটির আশেপাশে এখনও ভরা জঙ্গল, আর সেই সময় যে এটি গভীর জঙ্গলের ভেতরে ছিলো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

মূর্তি হলো মুসলমানদের প্রধান শত্রু; তাই দিল্লির সিংহাসনে বসার পর, কুতুব যখন জানতে পারে যে দিল্লির ভেতরেই এখনও মন্দির এবং সেই মন্দিরে মূর্তি আছে তখন সেটা নিজ হস্তে ভেঙ্গে নবীর সুন্নত পালন করতে যায় এবং মেরুস্তম্ভে থাকা সকল হিন্দুকে হত্যা করে সমস্ত মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে। কিন্তু বিশাল টাওয়ারটি আসলে কী ? এটা যখন জিজ্ঞেস করে তখন ক্রীতদাস হিসেবে বন্দী হওয়া কোনো নারী বা পুরুষ তাদের বলে যে এর নাম মেরুস্তম্ভ। মুসলিম সৈন্যদের কাছে কুতুব আবার জিজ্ঞেস করে, এর মানে কী ? তখন কোনো মুসলিম সৈন্য তাকে বলে যে, আরবিতে এর অর্থ হলো ‘কুৎব মিনার’। এই ঘটনা এখানেই শেষ। এরপর কুতুব, মন্দির ভাঙার মাল মসলা দিয়ে ঐ মিনার থেকে বেশ কিছু দূরে একটি মসজিদ নির্মান করে, যার নাম ‘কুতুব-উল-ইসলাম’ মসজিদ। এরপর কুতুব এবং তার জামাই ইলতুতমিশ বিভিন্ন সময় মিনারটির সংস্কার ক’রে তার গায়ে আরবী হরফে লিখা প্লেট বসিয়ে মিনারটিকে আস্তে আস্তে ইসলামিক করে তোলে।

এতক্ষণ কুতুব মিনার সম্পর্কে আমি যে কাহিনী শোনালাম তার পক্ষের প্রমান কী ? সব প্রমান ই আছে, জানার ইচ্ছা থাকলে পোস্টটা পড়তে থাকুন, সবই বুঝতে পারবেন।

যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কুতুব, ঐ মিনার কেনো তৈরি করেছিলো ? মুসলমানরা বলবে, ওখানে কুতুব যে মসজিদ বানিয়েছিলো, তার মিনার হিসেবে ওটি বানিয়েছিলো। সাধারণভাবে সবাইকে ধোকা দেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ যুক্তি; কারণ, সব মসজিদের সাথেই একটা করে মিনার থাকে। যারা কুতুব মিনার স্বচক্ষে দেখে নি বা ঐ জায়গায় যায় নি, তাদের পক্ষে বোঝাই সম্ভব নয় যে এই মিনার ও মসজিদের গল্পের মধ্যে আসলে ফাঁকিটা কোথায় ?

সাধারণভাবে মসজিদ হয় মূল স্থাপনা এবং মিনার হয় ঐ স্থাপনার একটি অংশ। কুতুবের মসজিদ এবং এই মিনারের মধ্যে, মিনার শুধু প্রধানই নয়, মিনারের তুলনায় মসজিদ কিছুই নয়। মিনারটি ২২৫ ফুট উঁচু, আর মসজিদটি সাধারণ একটি একতলা, মানে ৯/১০ ফুট। আর একটা ব্যাপার, সাধারণভাবে মিনার থাকে মসজিদের সাথে যুক্ত, কিন্তু এই মিনার থেকে কুতুবের ঐ মসজিদটি অনেক দূরে অবস্থিত।

কুতুব মনে হয় জানতো না যে, তার মৃত্যুর পর ঐতিহাসিকরা ঐ মিনারটিকে তার নামে চালিয়ে দেবে, তাহলে প্ল্যান করে ঐ মিনারের সাথে লাগিয়েই বড় একটা মসজিদ নির্মান করতো এবং এটা তার জন্য অসম্ভব কিছু ছিলো না।

কুতুব যে ঐ মিনার তৈরি করে নি, তার প্রধান প্রমান হলো কুতুবের বিভিন্ন যুদ্ধের ইতিহাস যারা সবিস্তারে বর্ণনা করে ইতিহাসের বই লিখে গেছে সেই ‘মিনহাজ’ এবং ‘তাজ-উল-মাসির’ তাদের গ্রন্থে কুতুব কর্তৃক মিনার নির্মানের ব্যাপারে কোনো কথা বলে নি। এতবড় একটি ঘটনা, অথচ তারা তাদের বইতে উল্লেখ করবে না, সেটা কি সম্ভব ? শুধু তাই নয়- ঘোরী, কুতুব এবং ইলতুতমিশের ইতিহাস যেসব বইয়ে লিখা আছে তার একটিতেও এই মিনার নির্মান সম্পর্কে কিছু লিখা নেই, এটা কি করে সম্ভব ?

আগেই বলেছি, এই মিনারটির নাম ছিলো মেরুস্তম্ভ এবং এর আরবি অর্থ ‘কুৎবমিনার’, আবার যেহেতু কুতুবের হাতেই এর পতন ঘটে এবং তার দ্বারা কিছু সংস্কার হয়, সেহেতু এই দুই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে এটাকে প্রথম কুতুবের দ্বারা নির্মিত কুতুবমিনার বলে দাবী করে, কুতুবের মৃত্যুর ২০০ বছর পর 'শামস-ই-সিরাজ' নামের এক ক্ষুদ্র ঐতিহাসিক। সেই থেকে এই মিনারটি চলছে কুতুবের নামে।

কুতুব মিনার তৈরির আরেকটি কারণ হিসেবে মুসলমানরা বলে যে, কুতুব তার সিংহাসনে বসার স্মারক হিসেবে এই মিনারটি তৈরি করে। এই মিনার সম্পর্কে যারা বেশি জানে না, তাদের কাছে এটাও এক অভ্রান্ত যুক্তি; কারণ ইতিহাস বলছে, কুতুব ১২০৬ সালে সিংহাসনে বসে আর মিনার তৈরি শুরুও হয় ১২০৬ সালে, কোনো ভুল নেই, একেবারে পয়েন্টে পয়েন্টে মিলে গিয়েছে। কিন্তু অনেকেই জানে না যে, কুতুব ১২০৬ সালে, ঘোরীর মৃত্যুর পর নিজেকে সুলতান হিসেবে ঘোষণা করলেও সে আসলে ১১৯৪ সাল থেকেই দিল্লির শাসন কর্তা; কারণ, ঘোরী, পৃথ্বীরাজকে পরাজিত করার পর কুতুবকে দিল্লি শাসন করার ভার দিয়ে আফগানিস্তান ফিরে যায়, যদিও মাঝে মাঝে লুঠপাট করার জন্য সে ভারতে আসতো ।

এখানে আরেক টা বিষয়, মুসলমান প্রভাবিত ইতিহাস আমাদেরকে জানাচ্ছে যে, মুসলমান শাসকরা দিল্লির লালকেল্লা, যেটা দিল্লির শাসকদের আবাসস্থল, সেটা নির্মান করেছে, তাহলে এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলমানদের আগে দিল্লি যারা শাসন করেছে, তারা থাকতো কোথায় ? তাদের দালান কোঠা কি মুসলমানরা ভারতে আসার সাথে সাথে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে ? প্রকৃত সত্য এই যে, লাল কেল্লা, যা বর্তমানে পুরান দিল্লিতে অবস্থিত, যেটা শুরু থেকেই ছিলো দিল্লির শাসকদের আবাসস্থল, সেটাও যুগ যুগ ধরে যেসব হিন্দু রাজারা দিল্লি শাসন করেছে, তাদের তৈরি, পরবর্তীতে মুসলমান শাসকদের দ্বারা যুগের প্রয়োজনে তাতে কিছু সংযোজন হয়েছে মাত্র। আমার এই কথার প্রমান পাবেন যদি কোনোদিন লালকেল্লায় ঘুরতে যান; দেখতে পাবেন, সেখানে শ্বেতপাথরের তৈরি এমন কিছু বিল্ডিং রয়েছে, যেটা দেখলেই আপনার মনে হবে, এটা মন্দির ছাড়া আর কিছুই নয়; কারণ, মন্দির ছাড়া অন্য কোনো কাজে সেগুলোর ব্যবহার সম্ভব ই নয়। কিন্তু মন্দিরগুলো যেহেতু অনিন্দ্যসুন্দর, তাই মুসলমান শাসকরাও সেগুলো ভাঙেনি। আমার নিজের ফোনে তোলা এরকম একটি শ্বেতপাথরের নির্মিত ইমারতের ছবি এই পোস্টের সাথে যুক্ত করে দিলাম, ভালো করে খেয়াল করে দেখবেন। এই লাল কেল্লা থেকে কুতুব মিনার কিন্তু অনেক দূর এবং আগেই বলেছি, এটার চারপাশ এখনও গভীর জঙ্গলে ভরা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কুতুব যদি তার সিংহাসনে বসার স্মারক হিসেবে ঐ মিনারটি নির্মান করে থাকে, তাহলে তা লালকেল্লার আশে পাশে না হয়ে ঐ জঙ্গলের মধ্যে হবে কেনো, যেটা লালকেল্লা থেকেও অনেক দূর; স্মারক তো মানুষকে দেখানোর জন্য এবং কিছু ইনফরমেশন জানানোর জন্যই হয়, তাহলে পাবলিক প্লেসে না হয়ে তা গভীর জঙ্গলের মধ্যে কেনো ? এই আধুনিক যুগেও ঐ মিনারের আশে পাশে যে পরিমান জঙ্গল, তাতে বোঝা যায়, শুধু্ ঐ মিনারটির জন্যই সরকারী উদ্যোগে জঙ্গল কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, তাহলে ১২০০ সালের দিকে ঐ স্থানে কী পরিমান জঙ্গল ছিলো সেটা একবার কল্পনা করুন। তাহলে ঐ জঙ্গলের মধ্যে কুতুব কেনো মিনার বানাতে যাবে ?

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, জঙ্গলের কারণে কুতুব যদি সেই মিনার না বানায় তাহলেই বা কেনো বরাহ মিহিরের জন্য সম্রাট বিক্রমাদিত্য ঐ জঙ্গলের মধ্যে ঐরকম একটি মিনার বানাতে গিয়েছিলো ?

আপনাদের হয়তো জানা থাকতে পারে যে, মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য বর্তমান যুগে যেসব টেলিস্কোপ স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো এমন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে যেটা পৃথিবীর সাধারন ভূমির মাপের তুলনায় অনেক উঁচু যাতে উঁচু জায়গায় থেকে মহাকাশের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যায়। যে স্থানে মিনারটি স্থাপন করা হয়েছে, সেই স্থানটিও দিল্লির অন্যান্য স্থানের তুলনায় উঁচু, যদি মেইনরোডে বাস থেকে নেমে প্রায় আধা কি.মির মতো হেঁটে মিনার দিকে এগিয়ে যান, এই উঁচুর ব্যাপারটি বুঝতে পারবেন।

ইতিহাসের তথ্য এবং অবস্থানগত কারণেই ঐ মিনারটি যে কুতুব তৈরি করে নি এতক্ষণ তার প্রমান দিলাম। একখন দেখুন এর প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমান :

মিনারের গায়ে বিক্রম সংবত ১৫০৪ লিখা একটি শিলালিপি আছে, যেটা নাগরী ভাষায় লিখা। বিক্রম সংবত ১৫০৪ মানে ১১৪৭ খ্রিষ্টাব্দ। তার মানে কুতুবের আগেও ঐ মিনারটি ওখানে ছিলো। এখানে আমাদের ঐতিহাসিকদের মত হলো, মিনারটি বানানোর সময় বিভিন্ন মন্দির ভেঙ্গে যে মাল মশলাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিলো, তার মধ্যে ঐ শিলালিপিটি এসে ঐখানে স্থাপিত হতে পারে। কিন্তু এসব আবালীয় যুক্তি, কারণ, মিনারটি লোহার তৈরি নয় আর ঐ শিলালিপিটি কোনো চুম্বক নয় যে, তা চট করে এসে লেগে গিয়ে ঐখানে ঐ অবস্থাতেই শত শত বছর ধরে আছে। শিলালিপিটি খুব যত্নসহকারে লাগানো হয়েছে এবং সেটা সেভাবেই আছে। এখানে আবার প্রশ্ন আসতে পারে, মিনারটি যদি আগে থেকেই থেকে থাকে, আর কুতুবের সময় যদি সেটি সংস্কার করে আরবি লিখা শিলালিপি স্থাপন করে সেটাকে ইসলামি রূপ দেওয়া হয়, তাহলে ঐ সময় ঐ বিক্রম সংবতের শিলালিপিটি তুলে ফেলা হলো না কেনো ? এর মূল কারণ হলো কুতুব এবং তার কারিগড়রা তো জানতো না যে, ভবিষ্যতে এটাকে কুতুব নির্মিত মিনার বলে ঐতিহাসিকরা চালানোর চেষ্টা করবে, তাহলে তারা ঠিকই ঐ শিলালিপি টি তুলে ঐখানে আরবিতে ১২০৬ লিখে দিতো। কিন্তু কুতুব এবং তার কারিগড়দের উদ্দেশ্য ছিলো মিনারটিকে জাস্ট সংস্কার করে ইসলামিক রূপ দেওয়া এবং তারা সেটাই করেছে।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে যে, বলা হলো সম্রাট বিক্রমাদিত্য বরাহ মিহিরের জন্য ঐ মিনারটি বানিয়ে দেন, কিন্তু এখানে আবার বলা হচ্ছে ১১৪৭ সাল, তাহলে ব্যাপারটি কি মিললো ? সম্রাট বিক্রমাদিত্যের সময় কি এটা ?

বিক্রমাদিত্যের সময় ৩৮০ থেকে ৪১৩ খ্রিষ্টাব্দ। সেই সময়ই এই মিনারটি তৈরি করা হয়। কিন্তু ১১৪৭ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে সংস্কার করা হয়, যার জন্য ঐ শিলালিপিটি বসানো হয়। এ এ প্রসঙ্গে ১৯৭৪ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে প্রকাশিত ‘বরাহমিহির স্মৃতিগ্রন্থ’ নামক একটি গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলা হয়েছে, ঐ সংস্কারের সময় যে যে রাজপুত কারিগর ঐ সংস্কারের কাজ করেন তাদের নাম পর্যন্ত ঐ শিলালিপিতে আছে। শুধু তাই নয়, ঐ মিনারের পাশে একটি ছোট লৌহস্তম্ভ আছে, সেই লৌহসম্ভে সংস্কৃত ও ব্রাহ্মীলিপিতে পাশের ঐ মিনারটি সম্পর্কে উল্লেখ আছে।

অনেকেই জানেন, মহাভারতের যুধিষ্ঠির কর্তৃক ইন্দ্রপ্রস্থ নামে যে নগরী স্থাপিত হয়, সেটাই আজকের দিল্লি। কিন্তু ইন্দ্রপ্রস্থের স্মৃতি এখনও বেঁচে আছে দিল্লির একটি এলাকার নাম হয়ে। এই ইন্দ্রপ্রস্থেই সম্রাট বিক্রমাদিত্য বরাহ মিহিরের জন্য একটি আশ্রম বানিয়ে দেন, যার নাম হয় মিহিরাবলী, যে নাম থেকেই কুতুব মিনারে জায়গাটার নাম মেহেরৌলী, যেটা শুরুতেই উল্লেখ করেছি। এই আশ্রমের অধীনে ২৭ নক্ষত্রের মন্দির ছাড়াও কালকাদেবীর মন্দির ছিলো, যে দেবীর নাম অনুসারে দিল্লির আরেকটি স্থানের নাম কালকা এবং এই নামে দিল্লিতে চলাচলকারী একটি ট্রেনও আছে।

আরেক টা মজার ব্যাপার হলো, মেহেরৌলীতে কুতুবের নামে যে মসজিদ আছে, তার একটা পাথরে লিখা আছে- “সূর্যমেরু পৃথ্বী যন্ত্রৈঃ মিহিরাবলী যন্ত্রৈণ” ।

লৌহস্তম্ভের গায়ে লেখা যে লিপিতে ব্রাহ্মী অক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে, এই পাথরের গায়ে সেই লিপিতেই এই কথাগুলো লিখা আছে। এ থেকে স্পষ্ট যে মন্দির ভেঙ্গে ওই মাল মশলা দিয়েই ঐ মসজিদটি বানানো হয়েছে। মসজিদের গায়ের পাথরে যে লিপিতে লিখা, সেই একই লিপি আছে লৌহস্তম্ভের গায়ে আর সেই লৌহস্তম্ভে আছে ঐ মিনারের উল্লেখ, এ থেকে কী প্রমান হয় না যে, কুতুব ওখানে যাওয়ার আগে থেকেই ঐ মিনারটি ওখানে ছিলো ? কুতুব যদি মিনারটি বানিয়ে থাকে, তাহলে তার পাশের লৌহস্তমম্ভে ঐ মিনারের উল্লেখ থাকতো না, আর কুতুব যদি সম্পূর্ণভাবেই তার ঐ মসজিদ এবং মিনারটি বানাতো, তাহলেও তো মসজিদের গায়ে ব্রাহ্মী লিপিতে লিখা ঐ পাথরটি থাকতো না। মসজিদের গায়ে ব্রাহ্মীলিপিতে লেখা পাথর এটা প্রমান করে যে, ঐ পাথরটি কোনো মন্দির ভেঙ্গে আনা হয়েছিলো, এর মানে ওখানে মন্দির ছিলো, আর ওখানে মন্দির ছিলো মানে সেখানে জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার কেন্দ্র ছিলো, কারণ আগেই বলা হয়েছে, ওখানে কোনো সাধারণ মূর্তি পূজা হতো না, হতো ২৭ নক্ষত্ররূপী মূর্তির পূজা, তো সেই নক্ষত্ররূপী দেব-দেবীকে পর্যবেক্ষণের জন্য এরকম একটি টাওয়ার যে আগে থেকেই থাকবে, এটা খুব অস্বাভাবিক ?

প্রকৃত সত্য জানুন এবং প্রচার করুন, এতে আপনার আগামী প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকবে।

জয় হিন্দ।

Address

Kolkata
700001

Telephone

+919761319855

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সত্যের বাণী - সনাতন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share